প্রধানমন্ত্রি বা সরকারের সমালোচনা মানে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচারণ নয়, হাসিনার পাশে মানুষ না চাটুকার!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সরকার, সরকারপ্রধান বা কোন ব‍্যক্তির সমালোচনা মানে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলা নয়। এই সাধারণ জ্ঞানটুকু যাদের থাকে না তাদেরকে দিয়ে আর যাই রাষ্ট্র চালানো যায় না! ফেইসবুকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রি সম্পকর্ে মন্তব‍্য করায় এক মেধাবি ছাত্রকে তথাকথিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে! এই খবরটি একটি অনলাইন সংবাদমাধ‍্যম প্রকাশ করেছে। আর তার একটা লিংক দিয়ে সুইডেনপ্রবাসী শেখ তসলিমা মুন স্ট‍্যাটাস লিখেছেন। তিনি যথার্থই মন্তব‍্য করেছেন। কিন্তু এসব কথা কী আর হাসিনার পরামর্শদাতাদের কাছে পৌঁছোয়, নাকি হাসিনা কারও কথা শোনেন?
ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রতিষ্ঠিত কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোহেল রানা রাজ। রাজ ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। তিনি কবি নজরুল বিশ্বিবদ‍্যালয়ে বর্ধিত ফি প্রত‍্যাহারের দাবিতে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই আন্দোলনে সফলও হয়েছিলেন, কতর্ৃপক্ষ বাধ‍্য হয়ে বর্ধিত ফি কমিয়েছিল বলে অনলাইন মাধ‍্যমটি লিখেছে।
প্রধানবিরোধীদল বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নিয়ে রাজ তার মতামত প্রকাশ করেছিলেন ফেইসবুকে। মন্তব‍্যটা এমন ‘প্রধানমন্ত্রীকে জঙ্গলের বাঘের চেয়ে হিংস্র এবং ক্ষুধার্ত। খেয়ে হজম করতে পারবেন না এবং জনগণ প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করবেন। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে বমি করে বের করে দিন।”এরপর ১৬ মে সকালে সোহেল রানাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্যাতন করে ক্ষমতাসিন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ‘গুন্ডা’রা। বিশ্বিবদ‍্যালয় কতর্ৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে পুলিশ আটক করে। পরদিন ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হুমায়ুন কবির বাদি হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২০(খ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন রাজের বিরুদ্ধে। ২২ মে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক লোকমান হোসেন রাজের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।
আমাদের সোনার বাংলায় বাক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কী বেহাল অবস্থা তা উপরোল্লিখিত ঘটনার মধ‍্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। আসলে হাসিনার পাশে অসংখ‍্য মানুষ যারা কেবল তোষামদ আর চাটুকারিতা করতে ভালোবাসেন, সম্ভবত হাসিনাও এমন তোষামদকারিদেরই চান যারা জ্বি-ম‍্যাডাম-নেত্রী বা আপা ছাড়া অন‍্য কিছু বলবেন না। ভুল-ত্রুটি বা কোন করলে ভালো কোনটা করলে খারাপ তার ধারেকাছেও যাবেন না ওই লোকগুলি যারা কেবল পদ আর পদবি ও তদবির নিয়েই ব‍্যস্ত। দেশ, জনগণ, দল, সরকারের ভাবমূর্তি যাক না কেন গল্লায় তাতে কার কী? পাঁচটাতো বছরই, পরবর্তী পাঁচটা বছর গেফ রেখে তারপরের পাঁচবছরতো আসবেই কাছে! সরকারের সমালোচনা বা ব‍্যক্তির সমালোচনা অর্থ রাষ্ট্রের সমালোচনা নয়-এই ছোট্র বিবেচনাবোধ বা জ্ঞান তাদের নেই তারাই আমাদের চলার পথের অবশম্ভাবি অবলম্বন! যাবো কোথায়? এতটুকুন ফাঁকা জায়গা নেই মায়ের ভূমিতে! ছবি গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s