স্বদেশ পরিস্থিতি: কে সত‍্য হাসিনা নাকি মিডিয়া?

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন‍্যা শেখ হাসিনা আবারও মিডিয়া ও সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই মূলত: তিনি সাংবাদিক ও মিডিয়ার নামে নানানরকম বক্তব‍্য দিয়ে আসছেন। বিশেষত: মিডিয়া নাকি মিথ‍্যা ও ভুয়া কথা লিখছে। মিডিয়া ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হাসিনার এটি প্রধান অভিযোগ। এছাড়া সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা আন্দোলন-সংগ্রামে নামলেই তিনি স্মরণ করিয়ে দেন বিএনপি-জামায়াতের আমলে সংঘটিত সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের কথা। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন হয়নি, এমন কথা কিন্তু কোন সাংবাদিক বা মিডিয়া কখনই বলেননি। অথচ তারপরও সরকার প্রধান হয়ে একতরফা বক্তব‍্য দিয়ে চলেছেন। এর রহস‍্য কী, কিংবা কি ভেবে হাসিনা আগের সরকারের ওপর দয় চাপানোর কৌশল নিচ্ছেন তাও আমাদের বোধগম‍্য নয়! হাসিনার বক্তবে‍্যর সুরটা মূলত: “ঠাকুর ঘরে কে রে কলা আমি খাই না” বা “যতদোষ… ” এর মতোই।
সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের বিষয়ে হাসিনার বক্তবে‍্যর ভেতরেই আরকেটি সত‍্য নিহিত সেটা হলো হাসিনার মহাজোটের আমলেও সাংবাদকরা হত‍্যা হচ্ছেন, নির্যাতিত হচ্ছেন! কারণ উনি কেবল বলছেন যে বিগত বিএনপি জামাতের আমলে ১৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আর উনার (হাসিনার বর্তমান আমলে) আমলে সাংবাদিক হত‍্যা ও নির্যাতন হচ্ছেন কিনা সেব‍্যাপারে বরাবরের মতোই নিরব থাকছেন। প্রবাদ আছে নিরবতা সম্মতিরই লক্ষণ! নিজের দোষ অনে‍্যর ঘাড়ে চাপানোর কিংবা নিজেদের ব‍্যর্থতা অপরের ওপর দেয়ার “কূ-সংস্কৃতি” বাংলার রাজনীতিতে আছে এটা কারও অজানা নয়। কাজেই হাসিনা যতই নিজের সরকারের ব‍্যর্থতা আঁড়াল করতে চাক না কেন জনগণ বা দেশের মানুষ প্রকৃত সত‍্যটাই জানেন। মহাজোটের আমলে কী সাগর-রিনির মতো জনপ্রিয় দুই টিভি সাংবাদিক একযোগে নৃশংসভাবে হত‍্যা হলেন না? সিলেটে প্রবীণ সাংবাদিক ফতেহ ওসমানি, খোদ রাজধানীতে আরেক প্রবীণ সাংবাদিক ফরহাদ খাঁর হত‍্যাকান্ডটিও নিশ্চয়ই হাসিনার ভুলে যাবার কথা ন। সারাদেশে সাংবাদিকরা কিভাবে সরকারি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি গুন্ডাপান্ডা ও “সন্ত্রাসী” এমপিদের হাতে নিপীড়িত-নিগৃহীত হচ্ছেন তাতো আর কারও অজানা নয়। আগের হাসিনার আমলে (১৯৯৬-২০০১) ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবলসহ অনেক সাংবাদিক হত‍্যার ঘটনা ঘটেছিল।
হাসিনা বলেছেন, “মিডিয়া এখন লিখছে। প্রতিদিন সরকারের বিরুদ্ধে না লিখেলে, তাদের পেটের ভাত হজম হয় না। সত্য, না মিথ্যা তা যাচাই করার দরকার নেই। তাদের লিখতেই হবে। আমি প্রতিদিন পত্রিকাগুলো দেখি। কিছু দাগ দিয়ে রাখি। সম্পূর্ণ ভুয়া নিউজ। মিডিয়া টক’শোতে এক চিত্র, আর গ্রামে গেলে আরেক চিত্র।” সূত্র বিডিনিউজ২৪। হাসিনা যদি তাঁর দাগানো তথাকথিত ভুয়া নিউজ বা রিপোর্টগুলির একটা তালিকা দিতেন। তাহলে সাংবাদিক ও দেশবাসি বুঝতে পারতেন যে আসলে হাসিনার বক্তব‍্য সত‍্য নাকি সাংবাদিকদের লেখনি সত‍্য? প্রকৃতঅর্থে হাসিনা যা বলছেন গ্রাম-গঞ্জের চিত্র আর সাধারণ মানুষের বক্তব‍্য একবারেই উল্টো!
হাসিনা আরও বলেছেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাদের পছন্দ নয়”। আসলে হাসিনা কী নিজেই গণতন্ত্র চর্চা করেন? যদি করতেন তবে কী তুণমূল নেতাদের মতামত ও ভোটকে পাশ কাটিয়ে তিনি বিগত নির্বাচনে কোটিপতি কালোটাকার মালিক ব‍্যবসায়িদের হাতে দলীয় মনোনয়ন তুলে দিতে পারতেন? তিনি যদি গণতন্ত্রই বিশ্বাস করবেন তবে কেন নির্বাচিত নেতাদের দল থেকে বিনা নোটিশে সরিয়ে দিচ্ছেন?
আর গণমাধ‍্যম যদি যাচাই-বাছাই না করে লিখতো তাহলে কী আপনার সোনার এমপি-মন্ত্রিরা সাংবাদিকদের আস্ত রাখতো? সত‍্য লিখলেই যা অবস্থা তাতে যদি কেউ ভুয়া খবর লিখতো তাহলে তাদের কী অবস্থা হতো তা প্রকৃতিও জানে না! হাসিনাকে বলবো চাটুকার ও তোষামদকারি নেতা বা মন্ত্রি এমপিদের কথা নয় গ্রামের আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারাই যদি আপনার কাছে নির্ভয়ে সব কথা বলতে পারতেন তবে আপনার ভ্রান্ত ধারণাগুলি সরে যেতো বলে আমার বিশ্বাস। আপনার তথাকথিত ডিজিটাল তরুণ মন্ত্রি-এমপিরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় একটা আতংকজনক পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছেন। প্রশাসন সেই মন্ত্রি ও এমপির কথার বাইরে একটি কাজও করে না। প্রধানমন্ত্রি হাসিনা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আপনাকে বলছি প্লিজ তৃণমূল নেতাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন দেশের প্রকৃত অবস্থাটা কী? তাহলে আর সাংবাদিকদের প্রতি আপনার কোন ক্ষোভ প্রকাশ করতে হবে না।
প্রধানমন্ত্রি আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ, প্লিজ মিথ‍্যা বলবেন না, অযথা সাংবাদিক ও গণমাধ‍্যমের ওপর চোটপাট নিবেন না। সত‍্যটাকে স্বীকার করার মতো সহনশীলতা অর্জন করুন, গণতন্ত্র চর্চা করুন, মনে-প্রাণে গণতান্ত্রিক হোন এবং দলে ও সরকারে সবর্ত্রই গণতান্ত্রিক আবহ গড়ে তুলুন। প্রধানমন্ত্রি হিসেবে আপনি শিশুসুলভ আচরণ ও মিথ‍্যা কথা বললে জাতি হিসেবে আমাদের মাথাটা বিশ্বদরবারে নিচু হয়ে যায়! নইলে সোনার বাংলার স্বপ্ন আমাদের দু:স্বপ্নে পরিণত হবে! ছবি গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s