সাগর-রুনির খুনিদের রক্ষার হাতিয়ার: চরিত্রের ওপর কালিমা লেপন!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। মাতৃভূমির রাজনীতিকদের কেউ কেউ ইদানিং হাত দিয়ে নিজের কানটা হাত দিয়ে না ধরেই বলে বলছেন কান চিলে নিয়ে গেলো! প্রবাসী কোন এক সাংবাদিক আবার লিখছেন যে “কচিকাচা মন্ত্রিদের ভালো কোচিং হয়নি”। হালআমলের গায়ক! সাজা একজন মিডিয়া মালিক আবোল-তাবোল বকতে শুরু করেছেন। হাইকোটর্ একের পর এক রুল জারি করেই চলেছে! কিন্তু রুল কার্যকর হচ্ছে কিনা তার খেয়াল রাখবে কে, সে হিসাব কী নিচ্ছে কেউ? সাংবাদিকরা ফিনিকস পাখির ন‍্যায় মাঝে মাঝে দেখা দিচ্ছেন এবং সাগর-রুনির হত‍্যাকারিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছেন! রিজভী নেওয়াজ নামে এক সাংবাদিক আবার নরওয়েতে এসে বলে গেলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক ও গণমাধ‍্যম নাকি শতভাগ স্বাধীন! দেশে আবার মার্কিন নৌ ঘাঁটি গড়ে তোলা এবং হিলারি ক্লিনটনরা সপ্তম নৌবহর পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে ভারতের এক মিডিয়া! রাষ্ট্রদ্রোহিতার জুজু মেধাবি ছাত্র রাজকে ছাপিয়ে এখন খোদ স্পীকার অ‍্যাডভোকেট আবদুল হামিদের ওপর ভর করেছে! সবমিলিয়ে পরিণামে কী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথটাই আটকে যাবে? নাকি আবার সেই ফখরু-মঈন মার্কা সরকারের কবলে পড়ে দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠতে যাচ্ছে? এমন নানান প্রশ্ন আমাদের মতো মুর্খদের মনে উদিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
মহান মুক্তিযুদ্ধে উনারা সপ্তম নৌবহর পাঠাতে পারেনি, কারণ উনাদের ‘দাদা’রা তখন অন‍্যতম পরাশক্তি ছিল। এবং তারাই নবম নৌবহর পাঠানোর হুমকি দিয়েছিল কেবল তাতেই কাপুরুষের দল কুপোকাত হয়ে গিয়েছিল। আর এখন সেই কাজটিই করছে তাও আবার বঙ্গবন্ধুর কন‍্যা যখন ক্ষমতায়! হায়রে রাজনীতি! আমরা কেবল টাকা আর ক্ষমতাকে ভালবাসি।! তাই দেশে সপ্তম নাকি নবম, ঘাঁটি নাকি নিয়ন্ত্রণসেন্টার কোনটাই আমাদের বিবেচ‍্য বিষয় নয়। ক্ষমতাটা নিশ্চিত বা পাকাপোক্ত করতে দেবে কিনা সেটাই বড় কথা!
একজন সজ্জ্বন মানুষ, অধ‍্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ কী বললেন না বললেন তা না জেনেই একদল রাজনীতিক রীতিমতো সংসদে দাঁড়িয়ে এই গুণি মানুষটির সম্পর্কে যাতা বলতে শুরু করে দিলেন। ব‍্যাপারটা এমন, “কেউ বললো আপনার কানটা চিলে নিয়ে গেলো। আর আপনি ওমনি চিলের পিছনে ছুটতে শুরু রলেন। একবারও হাতটা দিয়ে কানটা ধরে দেখার মতোও ধৈয‍্যর্ আপনার হলো না।” অথচ এই মহামানবতুল‍্য দেশপ্রেমিক মানুষটি কিছুই বলেননি মন্ত্রি-এমপিদের নামে। তিনি কেবল অত‍্যন্ত ভদ্র ও সুমার্জিত ভাষায় দুনর্ীতি নিয়ে কথা বলেছিলেন। উনার ভাষা বোঝার মতো ক্ষমতা কী আমাদের তথাকথিত সংসদ সদস‍্যদের (যারা উনার শাস্তি এবং উনাকে সংসদে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বলার মতো ঔদ্ধত‍্যর্ প্রকাশ করেছেন) আছে? আমাদের রাজনীতি কোন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে তা অধ‍্যাপক আবু সায়ীদ দেয়া বক্তবে‍্যর প্রেক্ষিতে কয়েকজন এমপির অর্বাচিন মন্তবে‍্যর পরই বোঝা গেলো আরও ভালো করে।
প্রধানমন্ত্রি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি, পুলিশের আইজি, র‍্যাব, ডিবি, হাইকোর্ট কত কথা বললো সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের ঘটনায়, কোন কোন ফলই পেলেননা না শিশু মেঘ। খুনিদের গ্রেফতারে আর কত দিন কত মাসের পর ২৪ ঘন্টা ফিরবে তা আর সাহারাও বলতে পারবেন না। যে রুনি তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার স্পর্শ আর ছোয়ায় এটিএনবাংলার খবরকে সমৃদ্ধ করেছিলেন সেই রুনির নামে উদ্ভট ও কাল্পনিক সব গল্প বানিয়ে দিলেন এটিএন বাংলাররই চেয়ারম‍্যান ড. মাহফুজুর রহমান। তাও আবার বিদেশে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক সম্পর্কে, যাঁকে এই ধরাধাম ছেড়ে যেতে বাধ‍্য করা হয়েছে যিসি আর কোনদিনও কোন কথারই জবাব দিতে পারবেন না একটা বানোয়াট কাহিনী তৈরী করলেন মাহফুজ। উনি যে কী মানসিকতার রুচির মানুষ তার জবাবতো জাতি পেয়েছেন এটিএন বাংলারই হেড অব নিউজ জ ই মামুনের কাছ থেকে। জ ই মামুন তথাকথিত ডক্টর মাহফুজকে রুচিহীন বলে আখ‍্যা দিয়েছেন।
সেযাইহোক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিতো অন্তত একটা ক্লু পেলেন ড.মাহফুজের বক্তবে‍্যর সূত্র ধরে! সাহারার পুলিশ বাহিনী কী এখন এই মাহফুজকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে যে কারা সাগর-রুনিকে খুন করেছে? সাংবাদিক সমাজ ইতোমধে‍্য দাবি জানিয়েছেন মাহফুজকে গ্রেফতার করার। সাহারা-টুকুরা এখনও হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবেন নাকি সাগর-রুনির খুনের রহস‍্যটা বের করার জন‍্য মাহফুজকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন? আশা করছি দেশের সাংবাদিকরা ড. মাহফুজ ও তার কর্মকান্ড নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করবেন শিগগিরই। দেশ ও জাতির সামনে এসব মানুষদের মুখোশ খুলে দেয়াটা সাংবাদিকদের নৈতিক দায়িত্ব! শুধু তাকে কুরুচিপূর্ণ আর তার গ্রেফতার দাবির মধে‍্য সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না।
আর আমাদের রুলপটু আদালত এখনও চুপচাপ কেন? তারাওতো একটা রুল জারি করে এই মাহফুজকে গ্রেফতারের জন‍্য সাহারা-টুকু, খন্দকার ও র‍্যাবদের নির্দেশ দিতে পারে? কেবলমাত্র তারাই কাউকে চরিত্রহীন বলতে পারে যাদের নিজেদেরই চরিত্র বলে কিছু থাকে না। মাহফুজ রহমান কোন পর্যায়ের তার বিচার দেশের মানুষই করবেন, আর সাংবাদিক সমাজ বিশেষ করে ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকরাতো সবই জানেন! আর একটি কথা আমাদের দেশে একটা প্রবণতা বেশ জনপ্রিয়। আর সেটা হলো যখন কাউকে কোনভাবে ঘায়েল করা যায় না তখন তার চরিত্র নিয়ে সত‍্য-মিথ‍্যা মিলিয়ে কিছু একটা দাঁড় করানোর একটা শয়তানি প্রচেষ্টা আছে অনেকের মধে‍্যই। এটা কেবল মাহফুজদেরই দোষ নয়, এমন আরও হাজারো-লাখো মানুষ বিশেষ করে তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের ভেতরেই এই ঝোকটা প্রবল। মাহফুজের বক্তব‍্য থেকেই একটা বিষয় পরিস্কার বোঝা যায় সাগর-রুনির খুনের সঙ্গে মাহফুজদের জড়িত থাকাটাও অসম্ভব কিছু নয়। এসবকিছুই সরকার এখন বিচার-বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করলে সাগর-রুনির খুনিদের শনাক্ত করতে কোন অসুবিধাই হবার কথা নয়। আর সরকার যদি তাতে আগ্রহি না হয় তবে সরকারেরও কোন কোন শক্তি সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যাকান্ডে জড়িত আছে বলে যদি কেউ কোন মন্তব‍্য করে তবে তার কী জবাব দেবে সরকার? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

One response to “সাগর-রুনির খুনিদের রক্ষার হাতিয়ার: চরিত্রের ওপর কালিমা লেপন!

  1. HI ALL ITS NICE TO MEET THIS KINDS OF COMMUNITY BLOG. AS A CITIZENS OF THE COUNTRY, CONSTITUTION GIVEN US RIGHT TO FELL FREE TALK ABOUT ANYTHINGS SO THIS BLOG MAY HELP THE COUNTRY. I WISH THIS BLOG WILL NOT TURN TO ANY P.P.S PLATFORM. THANKS

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s