সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ড নিয়ে মাহফুজ: মামুনকে বাহবা মুন্নীকে তিরস্কার, বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও সাংবাদিকতার স্বরুপ!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাংবাদিক সাগর ও রুনি হত‍্যাকান্ড নিয়ে নানান আলোচনা, কথাবার্তা চলছে। দেশে এবং দেশের বাইরে সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতারের দাবিটা জোরালো আছে এখনও। সাগর-রুনির খুনিদের বিচারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ‍্যমগুলি বিশেষ করে ফেইসবুকে রীতিমতো ঝড় বইছে! সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির শিশুপুত্র মেঘের সাক্ষাৎকার প্রচার করায় সাংবাদিকতার এক শিক্ষক “কালো সাংবাদিকতা” নামে গণমাধ‍্যমজগতে একটি নতুন শব্দ যুক্ত করেছেন। হলুদ সাংবাদিকতার কথা আমরা প্রায়ই শুনি। হলুদ বলি, কালো বলি, স্বার্থ ও ধান্দাবাজি সাংবাদিকতাই বলি কোনটাই কিন্তু মানুষের জন‍্য, কল‍্যাণের জন‍্য বা ভালোর জন‍্য নয়। সবই সুবিধাবাদি, দুর্নীতিবাজ, বড়লোক বিশেষ শ্রেণী-গোষ্ঠী স্বার্থ রক্ষাকারি সাংবাদিকতা! এমন কোন উদ্দেশ‍্যমূলক সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনী। তাই লোভী, স্বার্থান্ধ ও দুর্নীতিবাজ চক্র সাগর-রুনিকে হত‍্যা করেছে। এই খুনিদের হাত এতো লম্বা যে তাদেরকে হয়ত কোনদিনও ধরা হবে না, করা হবে না বিচারের মুখোমুখি!
সাগর-রুনির বর্বর হত‍্যাকান্ডের সাড়ে তিন মাস পর এটিএন বাংলার চেয়ারম‍্যান মাহফুজুর রহমান ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব‍্য দিলেন। তিনি রীতিমতো তারই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ প্রায় এক যুগ সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত থাকা সাহসী এক সাংবাদিক রুনির “চরিত্র হনন” করলেন বিদেশের মাটিতে। তথাকথিত ডক্টর মাহফুজ যে বক্তব‍্য দিয়েছেন তাকে সমাবেশে গিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অসৌজন‍্যমূলক বলা বলে সস্তা বাহবা নেয়ার কোন প্রয়োজন পড়ে না। মাহফুজের বক্তব‍্য চরম ঔদ্ধত‍্যপূর্ণ এবং ব‍্যক্তি মর্যাদার ওপর কুঠারাঘাত। জ. ই. মামুন মাহফুজের বক্তব‍্যকে কুরুচিপূর্ণ ও অসৌজন‍্যমূলক বলে গোটা মিডিয়া ও সুশিল সমাজের কাছে রীতিমতো “হিরো” বনে গেলেন! আর আজকের এই সর্বাধুনিক যুগে এসেও মুন্নী সাহারা নিজেকে নারী ভাবছেন। মানে কী দাঁড়ালো? আমাদের অগ্রসর সমাজের নারীরাও নিজেকে বন্দি করেই রাখতে চাইছেন নারী হিসেবেই, মানুষ হিসেবে নয়! মুন্নী সাহা বললেন “জ ই মামুন পুরুষ। তাই উনি যা বলতে পারেন তা আমি বলতে পারি না আমি একজন নারী!” সুতরাং নারীমুক্তি, মানবমুক্তি কী অত সহজ আমাদের ওই সোনার বাংলায়?
“ড” মাহফুজের বক্তব‍্যকে কুরুচিপূর্ণ বলা হলেও সাগর-রুনি খুনের পরপরই প্রধানমন্ত্রি যখন উপহাস করে বলেছিলেন যে, “সরকারের পক্ষে কারও বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব নয়” তখন কিন্তু বাহবাগ্রহণকারিদের মুখে কুলুপ লাগানো ছিল। মাহফুজ ব‍্যক্তিমর্যাদা ও মানহানিকর বক্তব‍্য দিয়েছেন। আর প্রধানমন্ত্রির বক্তব‍্য রীতিমতো খুনিদের আঁড়াল করাররই প্রচেষ্টা বলা চলে! প্রধানমন্ত্রির বক্তবে‍্যর পর চাঞ্চল‍্যকর সাগর-রুনি হত‍্যামামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় ভাটা পড়ে যায়, তা এখনও উজানমুখী হতে পারছে না। কারণ সরকারপ্রধান যখন অমন বক্তব‍্য দেন তখন মামলার তদন্তকারি ব‍্যক্তি ও সংস্থার প্রতি একটা প্রচ্ছন্ন হুমকিমূলক নেগেটিভ সিগন‍্যাল চলে যায়! তখন কিন্তু জ. ই. মামুনরা নিরব থেকেছেন। মাহফুজুর রহমানের বক্তব‍্যটা যে কুরুচিপূর্ণ তা কী আর ঢাক-ঢোল বাজিয়ে বলার দরকার আছে বা ছিল? নাকি মাহফুজুর রহমানকে দেশবাসি চেনেন না? মাহফুজ রহমান নামক এই লোকটির মাঝে কী বক্তিত্ব বা রুচির কোন লক্ষণ কখনও দেখতে পেয়েছেন কী দেশের মানুষ?
জ. ই মামুনরাতো প্রশাসন ও সরকারের মতোই ধৈয‍্যর্ ধরতে বলেছিলেন! কিন্তু আর কতদিন পরে সরকার সাগর-রুনির খুনিদের ধরবে সেটা কী জ ই মামুনরা বলতে পারবেন? রাজনীতিতে যে দুবর্ৃত্তায়ন ঢুকে পড়েছে তা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চার পথ পরিস্কার করতে না পারলে কী গণমাধ‍্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে স্বদেশে? মৌল সমস‍্যার সমাধান ছাড়া কী জনতা, গণমাধ‍্যম, গণতন্ত্র, দেশ এর কোন একটি নিরাপদ?
মাহফুজের প্রতিষ্ঠানেই কর্মরত আরেক খ‍্যাতিমান সাংবাদিক মুন্নী সাহা ড. মাহফুজের বক্তবে‍্যর ব‍্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে কোন মন্তব‍্য না করায় নিন্দুকেরা তার ওপর রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। কেন, কারও কী ব‍্যক্তি ইচ্ছা-অনিচ্ছা বলে কিছু নেই ওখানে? সব ঘটনার সব বক্তবে‍্যরই মন্তব‍্য বা মতামত দিতে হবে এমন কোন ধরাবাধা নিয়ম আছে নাকি কোন বিধানে? ব‍্যাপররটা এমন দাঁড়ায় মুন্নী সাহা মন্তব‍্য করলেই যেন সাগর-রুনির খুনিদের ধরবে সরকার!
কোন সমাজে বা রাষ্ট্রে যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে গ্রাস করে ফেলে দুবর্ৃত্তরা বা নষ্ট ও অকেজো করে দেয় তখন হত‍্যা-খুন, অপহরণ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির শেকড়গুলি অক্টোপাসের ন‍্যায় ডালপালা ছড়াতে থাকে। বাংলাদেশের অবস্থাটা কী সেরকম পর্যায়ে নেই? রাজনীতি যখন কালো টাকা, কালো টাকার মালিকদের দিকে ধাবিত হয় বা সেইপথে পরিকল্পিতভাবে নিয়ে যাওয়া হয় তখন সেখানে কোন ভালো কিছু কী আশা করা যায়? কোন পুরস্কার বা বাহবা পাবার আশায় দু’চারজনে মিলে দাঁড়িয়ে দু’চারটি মানববন্ধন বা ছবি আঁকলেই যদি সাগর-রুনির খুনিদের ধরানো যেতো তবে দেশে ন‍্যায়বিচারের এতো হাহাকার পড়তো কী?
এটিএন বাংলার চেয়ারম‍্যান ড. মাহফুজুর রহমান সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের বিষয়ে যে বক্তব‍্য দিয়েছেন তারসঙ্গে সরকার বা তদন্তকারি সংস্থা র‍্যাবের কোন প্রত‍্যাশার যোগসূত্র নেই তো? অনুগ্রহ করে ভাবুন, বিশ্লেষণ করুন। মতামত দিন। হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ, গণমাধ‍্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আসুন আমরা মানুষকে সংগঠিত ও জাগ্রত করি। দেশ মানে মা। আসুন সেই মাকে বাঁচাই, মাকে রক্ষা করি সকলে মিলে। নইলে সাগর-রুনিদের ওরা মারতেই থাকবে! ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s