বাবা দিবসের শান্তনা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ২০০৭ সালের ২৩ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে প্যারামিলিটারি ফোর্সের লোকেরা যখন আমাকে আমার বাসা থেকে ধরে তখন আমাদের ছোট্র শিশু সন্তান ফিমান ছিল আমার কোলেই। ওর বয়স মাত্র চার মাস। কিছুই বোঝে না। দুই বছর বয়সে যখন জার্মানিতে চলে আসলাম তখন আমি ও ফারহানা তাকে আস্তে আস্তে সেই দু:সহ নির্মমতাগুলি গল্পের ছলে বলেছিলাম। সবকিছুই তার মনে আছে। শিশু মনতো একেবারেই পরিস্কার ও স্বচ্ছ, নিখাদ। আস্তে আস্তে ও স্পাইডারম্যানের ভালাবাসায় পড়ে। স্পাইডারম্যান ছাড়া এখন আর কিচ্ছু বোঝে না ও। জুতা, কিন্ডারগার্ডেনের ব‍্যাগ থেকে শুরু করে শাটর্ গেঞ্জি সবকিছুই ওর স্পাইডারম্যানের ছবিসমেত হওয়া চাই-ই চাই।

আজ সকালে পুলিশের একটি গাড়ি সাইরেন বাজতে বাজতে রাস্তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় তার স্বদেশের প্যারামিলিটারি ফোর্সের কথা মনে পড়েছে। ও বললো বাবা রেব (অনলাইনে এই বানানটি র এর পরে জফলা দিয়ে লেখা যায় না) যদি তোমাকে আবার ধরতে আসে তবে আমি স্পাইডারম্যান হয়ে ওদের সাথে “ফাইটিং” করে তোমাকে নিয়ে আসবো। ও ভালো করে বোঝে না এখনও মা দিবস কিংবা বাবা দিবসের মর্ম কী? কিন্তু আজ একটা বিশেষ দিনে ফিমান আমাকে এই উপহারটিই দিলো। মাঝে মধ্যে ফিমান আমাকে প্রশ্ন করে বলে, “বাবা রেব তোমাকে কেন ধরেছিল, কেন মেরেছিল?”

আমি বলি যে, আমি ওদের কাজ নিয়ে রিপোর্ট লিখেছিলাম, বাবা। পাল্টা প্রশ্ন ওর, তুমি কেন রিপোর্ট লিখেছো বাবা? আমি বলি, ওটা আমার পেশাগত দায় বাবা। তখন বলে তুমি আরও লিখো বাবা, রেব আর তোমকে ধরতে পারবে না। ফিমান বলে বাবা, রেব কী তাহলে ড. অক্টোপাসের (ফিল্মে অক্টোপাস স্পাইডারম্যানকে মারধোর করে তাই ওর ধারণা রেব ওদের মতো দুষ্টু) মতো দুষ্ট! আমি স্পাইডারম্যান হয়ে ওদেরকে মেরে দেবো!

আমি আবার বলি বাবা, কারণে কিংবা বিনা কারণে কোনভাবেই কাউকে মারতে হয় না। কাউকে মারা অন‍্যায় এবং অপরাধ। তখন ও আমাকে বলে তাহলে আমি ওদেরকে মারবো না, কিন্তু তোমাকে আমি ওদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসবো। ফিমান ১১ জুনে পাঁচ বছর পূর্ণ করেছে।

One response to “বাবা দিবসের শান্তনা!

  1. God bless Fimaan

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s