বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথ-অমর্ত্যের পাশে ইউনুসকে মানায় কী?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বিদেশভুমে আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব বলি আর বন্ধুত্ব বলি (সেটা শ্রদ্ধার জায়গাটাকে ঠিক অবস্থায় রেখেও বলা যায়) তার তালিকা লম্বা নয়। একেবারেই ছোট। র্জামানিতে আবদুল্লাহ আল-হারুণ, সুইডেনে মুন শেখ, অষ্ট্রিয়ায় সাঈদ, নরওয়েতে মুহাম্মদ বদরুল আর আমার খুবই ক্লোজ বন্ধু কার্টুনিষ্ট আরিফ বাদে আর তেমন কোন উদাহরণ দেবার মতো কেউ আছে কিনা তা এই মুহুর্তে মনে করতে পারছি না। হঠাৎ প্রিয় মুন আপার একটা স্টাটাসে নজর এলো। স্টাটাসটি ফেইসবুকে লিখেছেন তিনি। মন্তব্য না করে থাকতে পারছি না। ওই স্টাটাসের ওপর মন্তব্য করার আগে অনলাইন বিষয়ে আমার তেতো অভিজ্ঞতার একটি ক্ষুদ্র অংশ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। আশা করি আমাকে আপনারা ভুল বুঝবেন না। আমার ভেতরে চরম ক্ষোভ আর কষ্টের দাবানল জ্বলছে। কোনভাবেই নিজেকে আমি আর সামলাতে পারছি না। কারণ সন্তান যদি আক্স্মিকভাবে হারিয়ে যায় তাহলে সেই সন্তানের বাবা-মার যেমন কষ্ট লাগে, ব্যথা পান তারা হয়ত তার চেয়েও বেশি কষ্ট পাচ্ছি, ব্যথা লাগছে আমার। আমিও নিজ সন্তানের মতোই আমার সৃষ্টি ইউরো বাংলাকে আমি ভালবাসি। কিন্তু সেই ভালবাসাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে শয়তানের দল যারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হত্যা করতে এতটুকুও কার্পণ্য করে না কখনও।
আমার অনলাইন সংবাদপত্র “ইউরো বাংলা” হ্যাক করে দিয়েছে দুর্বৃত্ত, ভীরু ও কাপুরুষের দল। এর আগেও ওরা আমার হিউম্যান রাইটস টুডে’র ওপর আক্রমণ করে। ফলে ওটাও আমার হাত ছাড়া হয়ে যায়। মানবাধিকার বিষয়ক সর্বশেষ উদ্যোগটিকেও ওরা আমার কাছে থাকতে দিলো না। যাহোক সবমিলিয়ে এখন ভাবছি অনলাইনের লেখালেখি নিয়ে। মাঝে মাঝে অন্তরে এমন বিশ্বাসও জন্ম নেয় যে, অনলাইনে লেখালেখির কোন পজিটিভ ফল কেউই বোধহয় পায় না। এটা একটা অন্যরকমের বিতর্ক। সেদিকে যেতে চাই না। এখন মনে করছি অনলাইনে লেখালেখিটা ছেড়ে দেবো। সেজন্য মনটাকে প্রবোধ দেবার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইন্টারনেট আর অনলাইন একটা হেরোইনের মতো আসক্তি বলেই আমার মনে হয়, তাই শত সহস্র হাজার কোটি পণ করেও অনলাইনকে ছাড়তে পারছি না। জানি না এটা কী কোন ভালবাসা, প্রেম নাকি স্রেফ মাদকাসক্তির ন্যায় কোন একটা আকর্ষণ?
মুন আপা কেন যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর অর্মত্য সেনের মতো মহান মানুষদের সঙ্গে প্রঢফেসর ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসকে এক কাতারে দেখার মতো সাহস করলেন তা আমি ভেবে পাই না! শেষোক্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য তিনজনের কেউই কিন্তু ব্যবসায়ি ছিলেন না বা গরীব নারীদের কষ্ট ঘাম আর রক্ত ঝড়ানো অর্থে নিজেদের জীবনকে আরাম আর আয়েশের মধ্যে ডুবিয়ে রাখেননি। তাঁরা মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করে গেছেন। আর শেষজন ৪০ থেকে ১২৫ শতাংশ সুদ নিচ্ছেন বাংলার দরিদ্র সহজ ও সরল লেখাপড়া না জানা নারী মা-বোনদের কাছ থেকে। যেখানে সরকারি সুদের হার ২০ শতাংশের ওপরে নয়।
এভারেষ্ট বিজয় নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়া এখন বেশ সরগরম। সেই বিয়টিকেও মুন আপার স্টাটাসে স্থান দেয়া হয়েছে। যেখানে তিনি এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত আর ওয়াসিফার সাক্ষাৎকার বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসকে টেনেছেন। তাতে দোষের কিছু দেখি না। সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। মায়ের ভাষার জন্য রক্ত দান করার মতো ত্যাগ এই পৃথীবীতে একমাত্র বাঙালি জাতির ইতিহাসেই পাওয়া যায় অন্য কোন জাতির সেরকম কোন র্গবের জায়গা আছে কিনা তাও আমার জানা নেই। তবে বাঙালি জাতির রক্ত বৃথা যায়নি। সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ নাম না জানা অগণিত শহীদের আত্মত্যাগ আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আজ গোটা পৃথিবী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করছে। একই দিন বাংলাদেশ পালন করে শহীদ দিবস হিসেবেও।
আরেকটি বিষয়ে মুন আপার দৃষ্টি আর্কষণ করে বলতে চাই। তা হলো পৃথিবীতে এভারেস্ট বিজয়ী কেবল বাঙালি নারী নিশাত আর ওয়াসিফাই করেননি। পৃথিবীর বিভিন্শন প্রান্তত থেকে শত মানুষ এই এভারেস্ট জয় করছে ফি বছর। এইতো নিশাত ও ওয়াসিফার আগে বা পরে (সঠিক তারিখ ও সময়টা আমার মনে নেই বলে দু:খিত) ৭৪ বছর বয়সী এক নারী (যিনি বাংলাদেশের নন) এভারেস্ট জয় করলেন। নিশাত ও ওয়াসিফাকে নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ার যত চিৎকার ও মাতামাতি অন্য বিজয়ীদের বেলায় সেইসব সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে তেমন কোন হৈ-চৈ দেখা যায় না।
দেশে দুর্নীতি, হত্যা, গুম বিনা বিচারে মানুষ হত্যা, নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনসহ আরও কত হাজারো সমস্যায় মানুষ ক্রমশ: নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছেন। সেইসব বিষয়ে মাতামাতি নেই কিন্তু কেউ কোন এডভেঞ্চারে গেলে তা নিয়ে একেবারে শোরগোল ফেলে দেয়।
বাংলায় আরেকজন বঙ্গবন্ধু আর কখনও আসবে কিনা তা বলতে পারি না। সমস্যা, সংকট আর সংশয় সব অবস্থায় বাঙালি ছুটে যান রবীন্দ্রনাথের কাছে। কিন্তুৃ ইউনুসের কাছে নয়। বরং একবার যিনি ইউনুসের ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন নিজেদের ভাগ্য বদলানোর জন্য তার ভাগ্যতো ফেরেইনি উপরন্তু তিনি ঋণের জালে আটকা পড়েছেন!
কেউ কেউ আত্মহত্যা করেছেন, সুদের টাকা ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় অনেকের বাড়ি-ঘরের টিন খুলে নিয়ে গেছে গ্রামীণ ব্যাংক। তারা আবার কারও ঘরের ঘরু-বাছুরও নিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে। মমুন আপার স্টাটাসে এই মহাজন, সুদখোর ও দারিদ্রতা নিয়ে ব্যবসাকারির নাম কী করে বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ ও অমত্য সেনের নামের পাশাপাশি স্থান পেলো তা আমি কোনভাবেই মিলাতে পারছি না। আমার প্রত্যাশা এবিষয়ে মুন আপা খোলাসা করবেন পরবর্তী স্টাটাসে। ছবি নিউ এইজ, গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s