Monthly Archives: জুলাই 2012

হুমায়ূন-গুলতেকিন নিয়ে ‘গাজী’র গল্প ‘হাজী’র গল্পও হয়ত আসছে!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। র‍্যাবের জন্ম খালেদা-নিজামীর ঘরে! ওরা পালন হচ্ছে এখন হাসিনা-ইনু ও মেননদের কোলে। হায়রে দেশ! বিরোধীদলে থাকলে র‍্যাব খারাপ, ক্ষমতার স্বাদ পেলে র‍্যাব ভালো। এই দ্বৈত নীতি বাংলার রাজনীতি থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত স্বদেশের মানুষের শান্তি নেই। আর আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সেতো সোনার হরিণ! চট্রগ্রামে চাঁদা দাবি করায় র‍্যাবের এক সোর্স গণপিটুনির শিকার হয়েছে। রাজধানী ঢাকার মিরপুরে র‍্যাবের গুলিতে এক যুবক নিহত হলো। সূত্র বিডিনিউজ২৪।
যিনি এই রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা জনগণের সেবকদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাবেন তিনি হয় :সন্ত্রাসী” নতুবা “ছিনতাইকারি” কিংবা “দুধর্ষ খুনি-চাঁদাবাজ”। নিহতের নামে ডজন ডজন মামলার ফর্দ ধরিয়ে দেবে সংশ্লিষ্টরা। আর জাতির বিবেক বলে খ‍্যাত মিডিয়াকর্মীরা সেই তথ‍্যকেই “কোরান-বাইবেল” ধরে নিয়ে কোনরকমের তথ‍্য যাচাই-বাছাই কিংবা ক্রসচেক ছাড়াই হুবহু মিডিয়ায় তুলে ধরবে! অনেকদিন এই ক্রসফায়ার নামক আপদটির নাম শোনা যাচ্ছিল না। বিনিময়ে গুম নামক আরেক ভয়ংকর বিপদ বাংলার বুকে চেপে বসলো। এখন দেখা যাচ্ছে আপদ-বিপদ দুই চলছে, চলবে! স্বয়ং দেশটির প্রধানমন্ত্রিইতো গুম, বিচারবহির্ভূত হত‍্যাকান্ডকে সমর্থন করে চলেছেন। সুদূর লন্ডনে সংবাদকর্মীদের কাছে প্রধানমন্ত্রি যে বক্তব‍্য দিয়েছেন তা প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে তুলে ধরতে চাই।
“গুম নিয়ে দেশ-বিদেশে উদ্বেগ আর সমালোচনার মধ্যেই একে কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিএনপির লোকেরাই চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতা জামালউদ্দিনকে হত্যা ও গুম করেছিল। বিএনপি চালু করে দিয়ে গেছে। এখন রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, যেভাবে উত্থান সেভাবেই পতন। লন্ডন সফরে প্রথম দিনে বুধবার সন্ধ্যায় সেন্ট্রাল লন্ডনে একটি হোটেলে বিলেতের বাংলা মিডিয়ার সঙ্গে ইফতার শেষে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। গুমের কালচার থেকে আমরা মুক্তি পাব কি না—যুগান্তরের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি গোলাম মোস্তফার এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। লন্ডনের সাপ্তাহিক জনমতের সম্পাদক নবাব উদ্দীন তখন জানতে চান, আপনি ইলিয়াস আলী সম্পর্কে এসব কথা বলছেন কি না। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কারও নাম বলতে চাই না। আপনি বুঝে নেন কার সম্পর্কে বলছি। যারা সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা যে কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সে কাজেই পতন হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে কত হত্যা ও গুমের ঘটনা ঘটেছিল, তা খুঁজে বের করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় মানবাধিকারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।” সূত্র-আমার দেশ।
শ্রদ্ধেয় পাঠক, এই হলো আমাদের প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার বক্তব‍্য। একজন দায়িত্বপূর্ণ ব‍্যক্তির মুখে এমন কথা শোভা পায় কী? আমরা যাবো কোথায়? দেশের মানুষের অসহায় হয়ে বসে থাকা, সবকিছুকে মেনে নেয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প আছে কী? এই প্রধানমন্ত্রিই যখন বিরোধী দলীয় নেত্রী তখন কিন্তু ঠিক উল্টো কথা বলেছিলেন। দাবি জানিয়েছিলেন র‍্যাবের হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ করার। তিনি খুবই মুখারু ছিলেন র‍্যাবের বিরুদ্ধে। আজ ঠিক তার উল্টো। তখন ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রি আজকের বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া র‍্যাবের জন‍্য জান কুরবান করে দিতেও প্রস্তুত ছিলেন। কারণ উনাদের হাতেই তো র‍্যাবের জন্ম। খালেদা আজ বিরোধী শিবিরে, এখন বলছেন র‍্যাব ভাল না!
প্রধানমন্ত্রি আরেকটি বোমা ফাটানোর মতো বক্তব‍্য দিয়েছেন লন্ডনে। তাঁর মতে, “বিশ্বব‍্যাংক কমিশন খায় আর সৈয়দ আবুল হোসেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক”। এই আবুলৈর বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু সংশ্লিষ্ট বিশ্বব‍্যাংকের অভিযোগ উত্থাপনের প্রায় বছর খানেক পর প্রধানমন্ত্রি এমন মন্তব‍্য করলেন। একজন প্রধানমন্ত্রি যাঁর রাজনৈতিক কারিশমার ফলেই একটা দেশ ভালভাবে চলতে পারে। অথচ সেই নেতার মুখে কূটনৈতিক কৌশল বা বুদ্ধি-সুদ্ধির কোন চিহ্নই পাওয়া যায় না! এজন‍্য অবশ‍্য অনেকে তাঁকে “বাচাল” বলৈন ইদানিংকালে। অবশ‍্য তোষামদকারি, চাটুকার আর দালালদের মুখে এমন সত‍্য উচ্চারণ কখনও শোনা যায় না। একদিকে হুংকার আরেকদিকে মাথানত-এমন দ্বৈত পন্থা অবলম্বনে আর যাইহোক চমক সৃষ্টি করানো যেতে পারে কিন্তু দেশের মঙ্গল আনা যায় কী? এইতো ক’দিন আগে প্রধানমন্ত্রি কটাক্ষ করে বলেছিলেন যে, আমিনুল ইসলাম যে শ্রমিক নেতা ছিলেন সেটা আগে প্রমাণ হোক। সারা দুনিয়ায় শ্রমিক নেতা আমিনুল হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠলো, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি আমিনুলের নৃশংস হত‍্যাকান্ডের বিচার ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি জানালো। অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেটা নিয়েও রসিকতা করলেন! কার্যকর তদন্ততো দূরের কথা। শ্রমিক নেতা আমিনুল পোশাকশিল্প শ্রমিকদের জীবন-মান উন্নয়নের জন‍্য সংগ্রাম করছিলেন। এটা করতে গিয়ে তাকে নৃশংসভাকবে খুন হতে হয়।
ঢাকা মেডিক‍্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক নামধারী দুবর্ৃত্তদের হামলায় অসংখ‍্য সাংবাদিক আহত হয়েছেন, অনেকর ক‍্যামেরা ভেঙ্গেছে। নাটোরের আরিফুল রিপনের ওপর অমানবিক নিষ্ঠুরতার ঘটনাকে আঁড়াল করতেই মেডিক‍্যালের গুন্ডারা মিডিয়াকর্মীদের ওপর হামলে পড়ে। হাসপাতালের পরিচালক সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হবার সুবাদে হামলাকারীর দল হয়ত ভাবছে যে দেশে সেনা শাসন চলছে! তাই যা খুশি তাই করা যায়। সাংবাদিকরাও মাঠে নামলেন। কিন্তু যা হবার তাহ হলো। শেষপর্যন্ত নাজিল হলো মধ‍্যস্থতাকারি। এবারের মিডিয়েটরের ভূমিকায় মাঠে এলেন প্রথানমন্ত্রির বিশেষ সহকারি আওয়ামী লীগের যুম্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। যখনই কোন ঘটনা ঘটে তখনই এমননিভাবেই দুবর্ৃত্তদের রক্ষা করার লক্ষ‍্য নিয়ে কেউ না কেউ নাজিল হয়ে যান। সংবাদ সম্মেলন করেন। গঠন করেন তদন্ত কমিটি। খুব জোরগলায় বলতে থাকেন, তদন্তরিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের ব‍্যবস্থা নেয়া হবে। হানিফও একই কথা বললেন। আমরা জানি এই বলা কোনদিনও ইহজনমে আর কার্যকর হবে না। তদন্ত কমিটির রিপোর্টও আলোর মুখ দেখবে না। এমনটা দেশবাসি দেখছেন বিগত চার দশক ধরে। মধ‍্যস্থতা বা সমঝোতার নামে সন্ত্রাসী-মস্তান বা দুবর্ৃত্তরা আঁড়াল হয়ে যাবে। সময় ও দিন যতই অতিবাহিত হতে থাকবে ঘটনা ততই বিস্মৃত হবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টও ধীরে ধীরে কবরস্থ হবে! হামলাকারিরা উৎসাহিত হবে। ফলে পরের হামলাটা চালাতে আর কোন বাধাই রবে না তাদের সামনে। আর আমাদের সাংবাদিক নেতারাও এমন সমঝোতার ফাঁদে বারবার পা দিচ্ছেন কেন, তা আমার বোধগম‍্য নয়।
একুশে টিভির একটি রিপোর্টে দেখা গেলো পুরান ঢাকায় পুলিশের চাঁদাবাজি ও নির্মমতার চিত্র। এক ক্ষুদ্র ফল দোকানদার চাঁদা না দেয়ায় পুলিশের এক কর্মী ফলের দোকানটি গুঁড়িয়ে দেয়। ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক যুবককে বেধড়ক পেটাচ্ছে সেই পুলিশ। প্রকাশ‍্য দিবালোকে অস্ত্র উঁচিয়ে একজন নিরীহ মানুষকে এভাবে মারধোর করছে জনগণেরই এ সেবক। এই দুবর্ৃত্তরা জনগণের রক্ষক হয়েই ভক্ষকের ভূমিকায় নাজিল হয়েছে। একটা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী যখন হত‍্যা-গুম, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে আইনের শাসন বলতে আর কিছু থাকে না। আজকের বাংলাদেশ কী সেই পর্যায়ে এসে পৌঁছেনি?
দেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটা বিশাল অংশ দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করছেন। তাদের দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোটে না। অথচ সেই দেশের প্রধানবিচারপতির জন‍্য ১২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কেনা হচ্ছে। এই চাঞ্চল‍্যকর খবরটি দিয়েছে দৈনিক যুগান্তর। যে দেশের সিংগভাগ মানুষের নুন আনতে পানতা ফুরায় সেই দেশের প্রধানমন্ত্রি অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে ৫৫ জনের এক বিরাট বহর নিয়ে গেছেন দগরীব জনগণের টাকা ব‍্যয় করে। দৈনিক আমার দেশ লিখেছে, এবারের অলিম্পিকে বাংলাদেশের মাত্র পাঁচজন ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন। সেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে আবার অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ২২ জন কর্মকর্তাও নাকি আছেন। “জনগণের মাল (টাকা) দরিয়া মে ঢাল” এই যেখানে বাস্তবতা সেখানে আবার দেশপ্রেমের বড়াই!
দৈনিক আমাদের সময়ে এক “গাজীর গল্প” পড়লাম! গল্পটা হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিন খানকে নিয়ে। গল্পটা যে শাওন ও তাঁর মাকে খুশি করার জন‍্যই তৈরী করা হয়েছে তাতে সন্দেহ করার মতো যথেষ্ট কারণ আছে। যাইহোক গাজীর গল্প পড়লাম আজ। কাল যে হাজীর গল্প পড়ানো হবে না তার কী কোন নিশ্চয়তা আছে? একই পত্রিকার আরেকটি শিরোনামে দৃষ্টি ড়েলো। শিরোনামটি হলো, “ধর্মপরায়ণ ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ”। এখনই দাবি উঠেছে নুহাশপল্লীতে নুহাশ মসজিদ স্থাপনের! জীবদ্দশায় হুমায়ূন নিজেও চাননি যেটা হয়ত অদূর ভবিষ‍্যতে নুহাশপল্লীতে সেটাই হবে! তবে আশা করবো হূমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের নুহাশপল্লী যে সতি‍্য সতি‍্য কবরস্থান বা মাজার হয়ে না ওঠে। নুহাশপল্লী হোক গবেষণার স্থান সেখান থেকে তৈরী হোক হাজারো-লাখো হুমায়ূন।
প্রাচীন বাংলা দৈনিক “সংবাদ” এর একটি রিপোর্টের শিরোনাম দিয়ে লেখাটির উপসংহার টানবো। দৈনিক সংবাদ’র ২৭ জুলাই সংখ‍্যার ওই শিরোনামটি এমন, “এমপি হোস্টেলে তরুণীর লাশ : তিন মাসেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ”। চলতি বছরের ৩ মে সুরক্ষিত নিরাপদ সংসদ ভবনে অজ্ঞাত পরিচয়ের এই নারীর ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। আজ পর্যন্ত খুনি শনাক্ত হলো না। সন্ত্রাস নির্মুলের নামে দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর বিরামহীন ক্রসফায়ার, বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড, গুম সত্ত্বেও দেশে হত‍্যা-নির্যাতন, খুন, চাঁদাবাজিসহ সবধরণের অপরাধ, অপকর্ম চলছেই। টিভি সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিদেরও ধরা হলো না সাড়ে পাঁচ মাসেও। এই হলো বাংলাদেশের আইনের শাসন! ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত।

Advertisements

পুরস্কারের গ্লোবাল রাজনীতি আর স্বদেশে সাংবাদিক নির্যাতন!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশে এবার বুঝি পরিবেশ-সুশাসন নিশ্চিত হলো! তাইতো এক আইনজীবীকে মেগসেসে পুরস্কার দেয়া হলো। দেশে এখন পরিবেশ রক্ষা একশ’ভাগ নিশ্চিত হয়ে গেলো! যেন আর কোন পরিবেশ দূষণ হবে না, বিনষ্ট হবে না পরিবেশ, কেউ পরিবেশ ধ্বংসও করবে না! একেবারে সবজাতে উঠে গেলো আর কী? স্বাভাবিক কোন সুশাসন যেখানে সুদূর পরাহত ব‍্যাপার, সোনার হরিণ সেখানে পরিবেশ-সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে, ভাবখানা এমনই! পুরস্কার পাওয়া মানে স্বীকৃতি নাকি পুরস্কার পাওয়া বা দেয়ার ক্ষেত্রেও ইদানিংকালে গ্লোবাল রাজনীতির নানান ফ‍্যাক্টর যুক্ত হয়ে গেছে?
বিদেশি যত সংগঠন, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কোন পুরস্কার দেয় তার জন‍্য তারা মাঠপর্যায়ে কোন অনুসন্ধান করে কী? আর এসব পুরস্কারের জন‍্য রীতিমতো আবেদন-নিবদেন ও কাগুজে তথ‍্য-প্রমাণ হাজির করতে হয় বা দাখিল করতে হয় নাকি? আর কি বাঙ্গিটাই ফাটিয়েছে বাস্তবে বা কী পরিবর্তনই করেছে ওরা যারা পুরস্কার পাচ্ছে? এসবকিছুরই চুলচেরা বিশ্লেষণ হলে দেখা যাবে সবই ফাঁপা! প্রকল্প আর ফান্ড নির্ভর কর্ম কোন মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে কি? আর প্রকল্প ও ফান্ড মানেই যে দুর্নীতি তা কী কেউ অস্বীকার করতে পারি? দেশে পরিবেশের কী অবস্থা তাতো বাংলার প্রতিটি মানুষই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন, সেখানে আবার বিচার! হাসি পাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আমাদের দেশে শিক্ষা, চিকিৎসার উন্নয়ন ও দারিদ্রমুক্তির লক্ষে‍্য বহু সাধারণ মানুষ যাঁদের হাতে কোন প্রকল্প বা ফান্ড কোনদিনও পড়ে না বা যায় না তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন আপন মনে কোন পুরস্কার পাবার নু‍্যনতম প্রত‍্যাশা ছাড়াই। ওসব মানুষের গল্প মাঝে মাঝে দেশের বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা তুলে ধরছেন। সেইসব মহান মানুষদেরকে কোন দেশ, সংস্থা বা সংগঠন পুরস্কার দেয় না। পুরস্কারের জন‍্য তাঁদের পক্ষে মনোনয়ন বা আবেদন করার মতো কেউ নেই বলে! আর যেখানে প্রকল্প, ফান্ড, সুবিধা আর মিডিয়ার অতিশয় মাতামাতি (মানুষ ও কল‍্যাণের জন‍্য নয় বরং স্ব-স্ব ব‍্যবসাপাতি, আদর্শ, পছন্দ আর রাজনীতির হয়ে) তারাই দরখাস্ত আর মনোনয়ন দিয়ে, করে বা জানিয়ে পুরস্কার পাচ্ছে! যারা পুরস্কার দিচ্ছে তাদের স্বার্থতো আছেই! পুরস্কারতো পায় তারাই যাদের প্রচার আছে যারা নয়-ছয় করে প্রকল্প আর ফান্ডের কাগজপত্রে তারাইতো কামিয়াব হবে, তারা নয়তো কী ছলিমুদ্দি কলিমুদ্দি বা সকিনারা পুরস্কার পাবে?
আমি জানি কেউ কেউ বলতে পারে যে এধরণের লেখা ভূমিদু‍্যদের পক্ষাবলম্বন! আমার সাফ কথা, এমন সরলীকরণ করাটা কতটা সমীচীন তা বুঝতে পারি না আমি। তবে একটা প্রশ্ন রাখাই যেতে পারে, দেশে কী ভূমিদসু‍্যতা, পরিবেশ ধ্বংস বন্ধ হয়েছে নাকি অদূর ভবিষ‍্যতে হবে? নাকি সেখানে পরিবেশ-সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে প্রকৃত অর্থে? আর মতপ্রকাশ কারও পক্ষে বা কারও বিপক্ষে যেতেই পারে এবং যাবে, এমনটাই স্বাভাবিক। এর মানে কী কোন ভূমিদসু‍্যর পক্ষাবলম্বন করা বোঝায়? আমাকে মাফ করবেন, আমি অজ্ঞানী মানুষ, আমি আমজনতার কাতারেরর একজন ক্ষুদ্র মানুষ! আমার চিন্তার স্তর অতটা পাকাপোক্ত নয়, ছোট জ্ঞান, বুঝি কম। যা ভাবি, মাথায় আসে তাই লিখি। কে খুশি হলো, কে দু:খ পেলো তার পরোয়া করিনা।
এই লেখাটি যখন লিখছি তখন হঠাৎ টিভিপর্দায় আবার সাংবাদিক নির্খযাতনের খবর ভেসে এলো। ঢাকা মেডক‍্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক নামধারি দুবর্ৃত্ত-সন্ত্রাসীরা ফের হামলে পড়েছে সাংবাদিকদের ওপর। দেশে যেন সেনা শাসন চলছে! স্বদেশে কী কোন সরকার, রাজনীতি আছে নাকি সেখানে সেনাশাসন চলছে? নইলে একের পর এক সাংবাদিকরা মার খাচ্ছেন, বন্ধ হবার কোন পদক্ষেপই নেই কারও তরফে! সবকিছুই যেন নিন্দা প্রকাশ, উদ্বেগ জানানো, তদন্ত কমিটি গঠন, ব‍্যবস্থা নেয়া হবে আর সুমধুর চটকদার ও কৌশলী কথামালার ভেতরেই হারিয়ে যাচ্ছে ন‍্যায়বিচার, আইনের শাসন। এতো অসহিষ্ণুতা, এতো নির্যাতন, এতো হত‍্যা-খুন-গুম আর এতো মিথ‍্যাচার, চারিদিকে কেবল অন্ধকার, হাহাকার আর গভীর শূণ‍্যতা! কোথাও থেকে কোন আশা বা আলোর দেখা মিলছে না। ঢাকা মেডিক‍্যাল কেলজ হাসপাতালে চিকিৎসক নামধারী দুবর্ৃত্তরা একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করে যাচ্ছে বীরদর্পে আর আমাদের রাষ্ট্রনায়করা তা উপভোগ করছে! আবার হাসপাতালের ইন্টার্ণিরা সাংবাদিকদের ওপর বেপরোয়া নির্যাতন, হামলা চালাচ্ছে, সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন‍্য কী হাসপাতাল পরিচালক দায়ি নন? তার কী কোন নৈতিক দায় নেই এসব দুবর্ৃত্ত হামলার ঘটনায়? অথচ সাংবাদিকরা সেই মাথাটাকে বাদ রেখেই মামলা করলেন!
কেউ কেউ আবার নির্যাতকদের “জুতামারা” উচিত বলে মন্তব‍্য করছে। আমি বলবো, উনাদের মেরে লাভ কীরে ভাই? যত অনাচার-অনিয়ম, নির্যাতন, হত‍্যা-খুন বা গুম সবকিছুইতো আসছে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি-শাসন আর দুনর্ীতি থেকে যেখানে নেই কোন আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার, সহনশীলতা আর গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় প্রকৃতার্থে তার কোন চর্চা। সমাজের এই হ-য-ব-র-ল চেহারাটা বদলানোর জন‍্য চাই একটা আমূল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের জন‍্য অনেকে কাজ করছেন। আশা ছাড়িনি আমরা, পরিবর্তন একদিন আসতেই হবে, হয়ত আমার বা আপনার প্রজন্ম দেখবে না, পরের প্রজন্ম নিশ্চয়ই তা দেখতে পাবে এবং দেশটাকে এগিয়ে নেবে স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে যেই স্বপ্নটা নিয়ে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিলো আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হারালাম আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে! ছবি আমাদের সময় থেকে নেয়া।

গুলতেকিনের আত্মসম্মানবোধ, শাওনের জেদ-মিথ‍্যাচার, হুমায়ুনের মৃতু‍্যর জন‍্য কী তবে শাওনই দায়ী!!!???


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “কর্ম বাঁচে মানুষ মরে। কবর হোক যথা তথা ভালোবাসা হোক নিখাদ! ভালোবাসার অত‍্যাচার নয় এ স্বার্থ ও জেদের অত‍্যাচার চলছে! দাফন নিয়ে টানাটানির পর যেন না আসে সম্পদ নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা ও দ্বন্দ্ব-ফ‍্যাসাদ!” নন্দিত লেখক, নাট‍্যকার, চলচিত্রনির্মাতা হুমায়ুন আহমেদ চলে গেলেন। তাঁর মৃতু‍্য ও তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মনের মধে‍্য যে এলোমেলো চিন্তাগুলি দানা বেঁধেছে নানা সময়ে নানাভাবে সেগুলির সমষ্টিগত রুপ দেবার প্রচেষ্টা আজকের এই লেখাটি।
মানুষ বাঁচে তাঁর সৃষ্টিশীলতার মধ‍্য দিয়ে। একজন মেধাবি, সৃষ্টিশীল মানুষ যাঁর সাহিত‍্যরস মানুষকে আনন্দিত, আলোড়িত, উদ্দীপ্ত, অনুপ্রাণিত করেছে, করবে অনন্তকাল ধরে সেই মানুষটিকে হারিয়ে বাংলা ভাষাভাষী বাঙালি মানুষ মাত্রই আজ শোকাতুর। বাংলা ভাষা ও সাহিত‍্য যতদিন বাঁচবে ততদিন থাকবেন হুমায়ুন মানুষের হৃদয়ে। মানুষমাত্রই মরণশীল, কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ’র সৃষ্টকর্ম অমর হয়েই রইবে! যদিও হুমায়ূন আহমেদের লেখালেখিকে অনেকে চটুল, হালকা ও সস্তা বলে অভিহিত করেন। সমালোচক মশিউল আলম লিখেছেন,”মায়ূন আহমেদ যেসব গল্প-উপন্যাস লিখেছেন, সেসবের মধ্যে রাজনৈতিক বা আর্থ-সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টি বা উপাদান খুঁজতে যাওয়া সম্ভবত অর্থহীন হবে। কারণ এই লেখকের তেমন কোনো দৃষ্টি ছিল না।”
সেযাইহোক বহুযুক্তি, নানামত। ফেইসবুক, ব্লগ, সোশ‍্যাল মিডিয়া কোনখানেই তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সব জায়গা দখল করে নিয়েছে হুমায়ুনের প্রতি ভালোবাসা আর তার প্রেক্ষিতেই চর্চিত আলোচনা। কোথায় চিরনিদ্রায় শায়ত হবেন বাংলা সাহিতে‍্যর কান্ডারি হুমায়ুন আহমেদ? এই নিয়েই শুরু হয়ে গেলো টানাপোড়েন! জাতি এমনটা আশা করেনি। হুমায়ুনও কোনদিনও এমন হবে তা ভাবেননি জীবদ্দশায়। কিন্তু কেন? একপক্ষ বলছেন, কবর হবে নুহাশপল্লীতেই। আরেকপক্ষের না। তাঁদের দাবি হুমায়ুনের নিথর দেহটাকে শোয়ানো হোক ঢাকায় যেখানে সাধারণ মানুষ ভক্ত, অনুরাগিদের আসাযাওয়া সহজ হয়! যে মানুষটি আর কোনপক্ষের হয়েই কোনদিন কথা বলতে পারবেন না, মতপ্রকাশ করার সুযোগ নেই যার তাকে নিয়ে আর অযথাই টানাহেঁচড়া কেন? আমরা আশা করবো, দুইপক্ষের মাঝে কোন জেদাজেদি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। হুমায়ুনের আত্মাকে আর কষ্ট দেবে না কোনপক্ষই এই প্রত‍্যাশাই আমার। হুমায়ুন আজকে যে গগণচুম্বি সফলতা ও জনপ্রিয়তায় এসে পৌঁছেছেন তার পেছনে যে নারীর অবদান অসামান‍্য সেই অভিমানী, আত্মসম্মানসচেতন নারীর কথা আজ আর কেউ বলছি না। এটা কী তাঁর সেই ত‍্যাগের প্রতি অবিচার নয়?
যে গুলতেকিন ছিলেন হুমায়ুনের কঠিন সময়গুলির প্রেরণার অকুস্থল সেই নারী, মহীয়সীকে বাংলার মিডিয়া ভুলে গেল! তিনি কী খুব বড় অপরাধ করেছিলেন? দৈনিক বাংলা, বিচিত্রা, আনন্দবিচিত্রার পুরনো কপি কারও সংগ্রহে থাকলে গুলতেকিন-হুমায়ুন বিষয়ক অসংখ‍্য লেখা পড়তে পারবেন। সুসময়ের সুযোগে যারা দু:সময়ের বন্ধুকে দূরে সরিয়ে ভালবাসার মাঝে চিড় ধরায় তাকে কী কোন কারণ আছে পুরস্কৃত করার?
শক্তিমান লেখক হুমায়ুন আহমেদ নিজেকে বুদ্ধিজীবী নয় “গর্তজীবী” বলেই অভিহিত করতেন। তিনি মৃতু‍্যকে ভয় পাননি কোনদিনও। এই প্রথাবিরোধী লেখক ভিক্ষাবৃত্তিকে পছন্দ করতেন না। তিনি জীবনসায়াহ্নে এসে আমেরিকান প‍্যাটার্ণে ভুতের গল্প লিখতে চেয়েছিলেন। তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা এই কথাসাহিতি‍্যক মৌলবাদ ও ধর্মব‍্যবসায়িদের ঘৃণা করতেন সরাসরি। আশাবাদি এই মানুষটি মনে করতেন, “বাংলাদেশের রাজনীতি সংঘাতের দিকে যাবে না। গণতন্ত্রে মাত্র আমরা সাঁতার কাটা শুরু করেছি। আমাদের প্রচুর রিসোর্স আছে। বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে ‘কিছু একটা করার’ প্রচেষ্টা বাড়ছে। তিনি আমেরিকা ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পাথর্কে‍্যর ব‍্যাপারে বলেন, গণতন্ত্র গণতন্ত্রই এর কোন পাথর্ক‍্য করা যায় না। তবে এর প্রাকটিসের মধে‍্য পাথর্ক‍্য থাকতে পারে।”
“আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। সববিষয়, সবদিকগুলি খতিয়ে দেখা হবে। এটা আর দশটি মামলার মতো নয়। একজন নয় রীতিমতো দুইজন প্রভাবশালী সাংবাদিককে একইসঙ্গে খুন। কম বড় ব্যাপার না। ৪৮ ঘন্টা, প্রণিধানযোগ্য, সবকিছু পরিস্কার, খুনিদের ধরার বিষয়টা এখন সময়ের ব্যাপার, খুনি যত শক্তিশালীই হোক আমরা তাকে ধরবো, শাস্তি হবেই হবে, আর বেডরুম পাহারা দেয়া”সহ কত কী শোনানো হলো টিভি সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনের পর থেকে। অবশ্য এসব শোনানোর নাটক নতুন কিছু নয়। একই কথা শুনছি আমরা মানিক সাহা কিংবা হুমায়ুন কবির বালু, বা শামছুর রহমান কেবল, নয়তো দীপংকর চক্রবর্ত্তী, বা গৌতম দাশ, অথবা সাইফুল আলম মুকুল নয়তো শ.ম.আলাউদ্দিন, নতুবা হারুন রশীদ খোকন কিংবা সাংবাদিক নিহত হলেই ওসব কথার কথা দেশবাসিকে শুনতেই হবে। নইলে আমাদের রাষ্ট্রনায়ক, প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিদের পেটের ভাতই হজম হবে না।
হুমায়ুনের প্রতি দেশবাসির গভীর ভালোবাসার ভীড়ে সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যা মামলাটির তদন্তের ভবিষ্যতও অন্ধকার হয়ে না যায় আবার! তাও বাঁচা যে খ্যাতিমান নাট্যকার, লেখক, চলচিত্রনির্মাতা, কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের কবর নিয়ে শাওন নাটকের যবনিকাপাত হয়েছে। কি কান্ডটাই না ঘটতে যাচ্ছিল। প্রকাশ্যে হুমায়ুন যেখানে বারংবার মিডিয়ার সামনে বলে গেছেন যে নুহাশপল্লীকে কবরস্থান বানাতে চাই না, সেখানে রাতের আঁধারে শাওনকে বলে গেলেন ওখানেই কবর দিতে! তবে কী হুমায়ুন নিজের কবর ও নুহাশপল্লী নিয়ে স্ববিরোধিতা জন্ম দিয়ে গেছেন, নাকি শাওন মিথ্যা বলছেন। এর প্রমাণ মিলতো যার কাছে সেইতো একেবারেই অন্যজগতে পাড়ি জমালেন। সুতরাং এই নশ্বর ধরাধামে শাওনবিনে সত্য আর কোথাও মিলবে কি? ত. আলীদের ক্ষমতার বাহাদুরিটাও শেষতক দেখা গেলো কবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রির হস্তক্ষেপ করানোর মধ্য দিয়ে! কে জানে হুমায়ুনের দাফন পর্ব শেষ হতে না হতেই তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ, নুহাশপল্লী ও বাড়ি নিয়ে কোন নতুন নাটকের মহড়া ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করছে কিনা?
অবশ‍্য এমন খবরও ইতোমধে‍্য চাউর হয়ে গেছে যে, “শাওন নিউইয়কর্ে বলেছেন মৃতু‍্যর আগে হুমায়ুন আহমেদ কোথায় কবর দেয়া হবে সেব‍্যাপারে কিছুই বলে যাননি।” অথচ দেশের মাটিতে পা রেখেই শাওন রীতিমতো বদলে গেলেন। কিন্তু কেন? শুধুমাত্র হুমায়ুনের পূর্বতন স্ত্রীর সন্তানদের (তারা হুমায়ুনেরও সন্তান) ইচ্ছে আর হুমায়ুনজননীর ইচ্ছেকে হত‍্যা করতেই শাওন কী জেলাসি আর হিংসা থেকেই এমন অনঢ় হয়ে গেলেন নুহাশেই হুমায়ুনকে সমাহিত করার জন‍্য! এমন খবরও ফেইসবুকে উঠেছে যে এই শাওন বিজনেস ক্লাস ছাড়া বিমানে উঠতে চানিন। যারজন‍্যই নাকি হুমায়ুনের নিথর দেহটাকে স্বদেশভুমিতে আনতে বিলম্ব ঘটেছে! আমি জানি না এটা সত‍্য কিনা। কিন্তু যদি সত‍্য হয় তবে তার প্রতি ঘৃণা ও ধিক্কার জানানোরও ভাষা আমার নেই।
কী নাটক, কী গল্প, কী উপন‍্যাস, কী সিনেমা, সাহিতে‍্যর এমন কোন শাখা নেই যেখানে হুমায়ুন আহমেদের বিচরণ ও ছোঁয়া ছিল না। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প ও বাংলা সাহিতে‍্য (সেটা হতে পারে কারও কাছে চটুল বা সস্তা) এক বৈপ্লবিক উদ্দীপনা আর প্রেরণার নাম হুমায়ুন আহমেদ। তরুণ সমাজের মধে‍্য পাঠ‍্যাভাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অসামান‍্য। তাঁর সৃষ্টাকর্মের অন‍্যতম ক্ষেত্র বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। হুমায়ুনের “হিমু” বা “মিসির আলী” নয়তো “বাকের ভাই” চরিত্রগুলি এক একটা দীপ্তিমান সৃষ্টি। সবকিছুই আমাদের তরুণ প্রজন্মকে উজ্জীবীত করেছে, করবে! চিরসবুজ, চিরনবীন, তরুণ এই মানুষটির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আর ভালবাসা। তাঁর স্বপ্নগুলিকে যদি এগিয়ে নেয়া যেতো। যাহোক শেষ পর্যন্ত জননী নয় জায়ারই জয় হলো! “না, এটা জননী কিংবা জাতির ইচ্ছে নয়। সন্তানরাও (দুই নাবালক সন্তান ছাড়া) চাইছিলেন না এমনটা হোক। জয় হলো শাওনজেদের। শ্রদ্ধায় মাথা নত হোক গুলতেকিনদের ত‍্যাগের কাছে। সবুজ নুহাশ পল্লীতে শান্তিতে শুয়ে থেকে হুমায়ুন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে উৎসাহ, প্রেম আর প্রেরণা যুগিয়ে যাবেন!
আর কোন দ্বন্দ্ব-ভিন্নতা দেখার ইচ্ছে নেই আমার। হুমায়ুন তুমি রবে বাংলার হ্রদয় মানসপটে। একটি ক‍্যান্সার হাসপাতাল বা ইনষ্টিটিউট কিংবা ক‍্যান্সার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ড়ে তোলার অঙ্গিকার ও বাস্তবায়নই হবে হুমায়ুনের প্রতি প্রকৃতার্থে শ্রদ্ধা নিবদেন। ফুল আর কথামালার গদবাধা ভালোবাসার চেয়েও কোন মহৎপ্রাণ মানুষের স্বপ্নকে সার্থক করে তোলাই হবে সেই মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।
হুমায়ূন-শাওন এর প্রেম এবং গুলতেকিনের সঙ্গে বিচ্ছেদের সূত্র ধরে অনেকে অনেক কথা বলছে, লিখছে, সোশ‍্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো যুদ্ধংদেহী অবস্থা এনিয়ে! শাওন আরও হাজারটা বিয়ে করতে পারেন, তাতে কার কী ওটা নিতান্তই উনার ব‍্যক্তিগত ব‍্যাপার। প্রশ্নটা ওখানে নেই। হুমায়ূন আহমেদ মৃতু‍্যর পর যেসব প্রশ্ন ওঠলো যেমন ধরুন বিজনেস ক্লাস ছাড়া বিমানে ওঠবো না, নুহাশপল্লীতে কবর দেয়ার কথা বলে গেছেন (অথচ আমেরিকায় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন শাওনকে তখন তিনি বলেছিলেন না কোথায় কবরস্থ করতে হবে সেব‍্যাপারে কিছু বলে যাননি মৃতু‍্যর আগে, অথচ ঢাকায় পা রেখেই শাওন বদলে গেলো) ইত‍্যাদি নাটকীয়তার কোন প্রয়োজন ছিল কিনা? বয়সের ক্ষেত্রে অসম প্রেম হয়েছেতো কী হলো, কার কী আসে যায় তাতে এটাও উনাদের একান্তই ব‍্যক্তিগত ব‍্যাপার। কিন্তু কথা হলো বাংলার যে সমাজ, সংস্কৃতি, প্রথা, রীতি তার সঙ্গে এটার সামঞ্জস‍্যতা কতটুকুন আছে বা ছিল? হুমায়ুন আহমেদ আর শাওনই যে এমনটা প্রথম করেছেন সেরকমও নয়। হুমায়ূনকে কবরস্থ করা নিয়ে টানাপোড়েনের ঘটনাটা কী ভালো লেগেছে জননন্দিত এই লেখকের আত্মার কাছে, নাকি জাতি ভালোচোখে দেখছে এটাকে? রত্নগভর্া জননী যেখানে বললেন যে ঢাকার কোথাও তাঁকে সমাহিত করা হোক, তারপরও যখন শাওন গো ধরলো, তাছাড়া হুমায়ূন আহমেদের নিজের মুখের কথাও প্রমাণ করে যে তিনি নিজেও নুহাশপল্লীকে কবরস্থান বানানোর পক্ষপাতি ছিলেন না। তারপরও কেন শাওনকে বোঝানো গেলো না, কেন বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রিকে সম্পৃক্ত করা হলো, কেনইবা গুলতেকিনের সন্তানদেরকে র‍্যাবের ভয় দেখানো হবে?
পরিশেষে একটা প্রশ্ন রেখে লেখার ইতি টানবো। আমেরিকায় সফল অস্ত্রোপচারের পর যে মানুষটি সুস্থ‍্য হয়ে উঠছিলেন হঠাৎ করেই কী এমন ঘটেছিল যে জাতি এই মানুষটিকে হারালো? সেখানে হুমায়ুনের প্রতি অযত্ন, অবহেলাসহ নানান কথাবার্তা এখন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে! কে দায়ি এরজন‍্য? কবর ও দাফনস্থান নিয়ে মা-মেয়ের অনঢ়তা আর রাজনৈতিক ক্ষমতাপ্রদর্শন শেষ পর্যন্ত নাকি হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের চার সন্তানের জীবনের প্রতিও হুমকি হয়ে উঠেছিল! এসবের অর্থ ও পেছনের কূট কারণ আর ষড়ডন্ত্র জাতির সামনে খোলাসা হওয়া জরুরি! আশা করি মিডিয়া এখানে ছাড় দেবে না! মিডিয়া কোনপক্ষে দাঁড়ায়, রাজনৈতিক ক্ষমতা নাকি সতে‍্যর পক্ষে? সময়ই বলবে এর উত্তরটা!
আরিফ জেপটিক নামে একজন শাওনের বিজনেস ক্লাশে আসার গোঁ ধরার পক্ষে সাফাই গেয়ে একটা লিখা ছেড়েছেন। তার প্রতিক্রিয়ায় লিখছি। উনার গুণধর ও ক্ষমতাধর মাতাও সঙ্গে ছিলেন। তামাম দুনিয়ার বহু শত সহস্র মানুষ শুধু ১৮ নয় ৩৫-৩৬ ঘন্টা এক নাগারে ভ্রমণ করছেন দু’টি নয় তিন থেকে চারটিও বাচ্চা থাকে সাথে। গাজাখুরি যুক্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের গালমন্দ করতে বেশ ভালো লাগে তাই না? আর এমিরেটস এর বিমানটাতে জড়সড় হয়ে বসতে লাগে না এই অভিজ্ঞতাটাও থাকার লাগে! শাওন যা করলো, দেখালো এটা কোন মহত্বের পরিচয় বহন করে কী? আর উনাকে বহন করার যে খরচ সরকার দিয়েছে সেটাও জনগণেরই পয়সা, কারও বাপের টাকা নয়।
এই লেখাটি যখন শেষ করবো ঠিক সেই মুহুর্তে মানবজমিনের একটি রিপোর্টের দিকে নজর পড়লো। “হুমায়ূনের মৃত্যু অবহেলায়!” শীর্ষক প্রতিবেদন বলছে, সাকসেসফুল অপারেশনের পর হুমায়ুনকে তড়িঘড়ি বাসায় নেয়া হয়। তাও আবার এক নতুন বাসায় ওঠানো হয় সেখানে। এরপর বাসায় পার্টি ও নানাধরণের খাবারের আয়োজন এমনকি পানীয়র আয়োজনও ছিল। সেখানে হুমায়ুন চেয়ার থেকে পড়ে যান। কিন্তু তারপরও তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়নি। এমনকি বেলেভু‍্য হাসপাতালের সেই চিকিৎসক যিনি হুমায়ুন আহমেদের অপারেশন করেছিলেন তাঁর টেলিফোন নম্বরটিও শাওন কিংবা মাজহারের জানা ছিল না। পরদিন যখন হুমায়ুনের ব‍্যথা বেড়ে ডযায় তখন তাঁকে নেয়া হয় অন‍্য একটি হাসপাতালে। সেখান থেকে বেলেভু‍্য হাসপাতালে। এসব থেকে কী এটা প্রমাণ হয় না যে হুমায়ুন আহমেদের মৃতু‍্যর জন‍্য শাওনই দায়ি? ছবিটা ফেইসবুক থেকে নেয়া, তবে ছবির মূল সোসর্ কী তার উল্লেখ না থাকায় সেটা আমি এখানে লিখতে পারলাম না বলে দু:খিত!

পদ্মা সেতু: বিশ্বব‍্যাংকের অভিযোগ হাসিনার টেলিফোন এবং জাইকার মাধ‍্যমে নতজানু নীতির বহি:প্রকাশ

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। কে না জানে, বিশ্বব‍্যাংক ও আইএমএফ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে একটা নিবিড় যোগসাজশ আছে সাম্রাজ‍্যবাদি শক্তিগুলির? ওই শক্তিগুলি কিংবা মার্কেল, ন‍্যাটো ও ওবামা-বুশ-ক্লিনটনরা খুশি থাকলেই হলো, যেকোন জাত ধরণ আর রকমের পুরস্কার পাওয়া যায়! এসবে নতুন কিছু নেই। সমাজটা পুরুষ শাসিত নাকি নারী শাসিত তাতেও কিছু আসে যায় কী? প্রশ্ন আর প্রয়োজনটা কিন্তু সার্বজনীন! সেটা হলো সমাজটা কতটা উদার, কতটা নৈতিক ও গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে? কোন বিশেষ সমাজে ন‍্যায়বিচার, আইনের শাসন, পরমত সহিষ্ণুতা আর ত‍্যাগের (কেবল ব‍্যক্তি, পরিবার বা নিজ দলের ভোগের জন‍্য নয়) মাত্রা কোন পর্যায়ে আছে তার ওপরও কী নির্ভর করে না সেই বিশেষ সমাজটা কোন পথে হাঁটবে? যাহোক যে কথাটি বলতে চাইছি সেইখানে আসা যাক। বিশ্বব‍্যাংক পদ্মা সেতু বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আনলো।
খোদ হাসিনাসহ মহাজোট সরকারের নানা পর্যায়ের নানাজনে বহুরুপী কথাবার্তা বললো। আর এখন আবার একটা নরম সুর বেরিয়ে এলো অর্থমন্ত্রি আবুল মালের মুখ থেকে। বিশ্বব‍্যাংক ও পদ্মা সেতৃ সম্পর্কিত সংকট সমাধানে তিনি অবশেষে জাইকার স্মরণাপন্ন হলেন। বিশ্বব‍্যাংকের অভিযোগ বিষয়ে সরকারের নৈতিক মেরুদন্ড যদি সোজাই থাকে তবে কেন তারা আবার নতজানু পথে পা বাড়াচ্ছেন? দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সব সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা-চাকুরে ব‍্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০০/৫০০/১০০০/৫০০০/১০০০০ (এছাড়া যাদের কালো টাকা ও ব‍্যবসা আছে তারা সবাই কমপক্ষে এক কোটি করে টাকা দেবে) টাকা করে দিলে এবং সারা দুনিয়ায় বাংলাদেশের যত বাঙালি বা বাংলাদেশি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন যার যা সামর্থ‍্য আছে তার ভেতর থেকেই নূ‍্যনতম ক্ষমতা নিয়ে সাহাযে‍্যর হাত বাড়ালেই ওরকম দু’একটি পদ্মা সেতু নির্মাণ কী খুব অসম্ভব কিছু? পরিশেষে একটা প্রশ্ন করবো, জাইকা বা বিশ্বব‍্যাংকের কাছে মাথানত না করে দুর্নীতির অভিযোগটির যথাযথ তদন্ত করার মুরোৎ সরকারের নেই কেন?
প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা মিডিয়ায় ইতিপূবর্ে যে দু’টি মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন সেইগুলিতে গত তিনদিন ধরে টেলিফোন করেও লাইন পাইনি। ইউরোপ থেকে ফোন করার চেষ্টা করছি। আজ আবার আরেকটি নম্বর পাওয়া গেলো প্রথম আলোতে। সেই নম্বরটিতেও রিং করার চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনটাতেই পাচ্ছি না। দেশের মানুষ কী তবে হাসিনার সঙ্গে সতি‍্য সতি‍্য কথা বলতে পারছেন? নাকি নতুন এই চমকও একটি ফাঁকা ও ফাঁপা আয়োজন! সংবাদপত্রে প্রকাশিত শেখ হাসিনার ই-মেইলেও একটা মেইল পাঠিয়েছি। কোন দিক থেকেই কোন সাড়া মিলছে না! আসলে ব‍্যাপারটা কী, জানতে ইচ্ছে করছে? ছবি গুগল থেকে নেয়া

শেষবিচারে রসুন-পেঁয়াজের মতোই মিলন ঘটে!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “শালা সাংবাদিক! তোদের জন্য ইচ্ছামতো কিছু করতে পারি না। আবার আন্দোলন করিস। এমন মামলায় ফাঁসাবো যে সারা জীবন জেলের ভাত খেতে হবে।” ঢাকায় ডিবি কার্যালয়ে এভাবে একটি অনলাইন সংবাদ সংস্থার অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে গালমন্দ করে তার ওপর শারীরীক নির্যাতন চালানো হয়।
র‍্যাব কর্মকর্তা (রাজশাহী-৫ এ কর্মরত ছিলেন, সম্ভবত এখন তিনি র‍্যাব-১ এর কমান্ডার) রাশীদুল হাসান ২০০৭ সালে আমাকে র‍্যাবের নির্যাতন ক‍্যাম্পে ঝুলিয়ে রেখে নির্যাতন করেন এবং “শালা শুয়োরের বাচ্চা, র‍্যাব দেখেছিস র‍্যাবের কাম দেখিসনি। খায়রুজ্জামান লিটনের নামে রিপোর্ট করার মজা বুঝিয়ে দেবো, তোর সাংবাদিকতাকে ‘পা…’ ঢুকিয়ে দেবো।” ইত‍্যাদি আরও কত অসভ‍্য ও অশ্রাব‍্য ভাষায় গালমন্দ করেছেন তিনি।
জামাতপন্থি রাশিদুল হাসানদের দাপট কোনদিনও কমবে না ওই দেশে যতদিন না সেখানে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না পাবে। আর সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন চলতেই থাকবে। নিজ রাজনীতি ও স্ব-ব‍্যবসা রক্ষা এবং মালিকপক্ষকেতুষ্টির নামে যে সাংবাদিকতা (ব‍্যতিক্রম অবশ‍্যই আছে কিন্তু তাকে উদাহরণ হিসেবে ধরা যাবে না) চলছে তারও অবসান হবে না কখনও! তাই এভাবে মার খেতে হবে, নতুবা কলমটাকে কারও না কারও পক্ষে (সতে‍্যর পক্ষে কিংবা প্রভাবশালী, ক্ষমতাবানদের বিপক্ষে নয়) নতজানু করে রাখতে হবে সারাক্ষণ।
একের পর এক, সাংবাদিকরা মার খাবেন কিংবা নিহত হবেন আর আমাদের সাংবাদিক সংগঠন ও নেতারা আন্দোলনের নামে মিডিয়ার শিরোনাম হবেন; বড় বড় চাপাবাজির (হেন করেঙ্গা তেন করেঙ্গা!) বক্তব‍্য দেবেন কিন্তু শেষবিচারে রসুন আর পেঁয়াজের মতো এক কাতারে (নির্যাতনকারি বা তাদের আশ্রয়দাতাদের) গিয়ে দাঁড়াবেন।

“গণভবন থেকে গণতন্ত্র বিলি!”

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “গণতন্ত্র যেন গণভবন আর হাসিনার কাছে আটকা পড়েছে! হাসিনা চাইলে নেতা হওয়া যায়। আবার উনি চাইলে নিবর্াচিত নেতাকেও বাদ দেয়াটা কোন ব‍্যাপারই না। গণভবন থেকে গণতন্ত্র বিলি হচ্ছে আজকাল!” আগে লিখেছি বাংলাদেশে গণতন্ত্র এক সোনার হরিণ! এখন মনে হচ্ছে না এটা ঠিক নয়। গণতন্ত্র পাওয়া যায় গণভবনেই! ক্ষমতাসিন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের নেতৃত্ব নিবর্াচনে গণতন্ত্রের এই নতুন কাঠামোটির চর্চা করলেন “গণতন্ত্রের মানসকন‍্যা” বলে খ‍্যাত শেখ হাসিনা। নিবর্াচনের মাধ‍্যমে নয় গণভবন থেকে যুবলীগের নতুন নেতার নাম চূড়ান্ত করা হয়। পরে তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। হাসিনা মুখে গণতন্ত্র, গণতন্ত্র বলে চিৎকার করলেও বাস্তবে তার কতটুকু চর্চা করেন সেটা এবার পরিস্কার হলো!
দেশের শীষর্স্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলো লিখেছে, “১৪ জুলাই রাত পৌনে নয়টায় গণভবন থেকে নতুন কমিটির নেতা হিসেবে এঁদের নাম চূড়ান্ত করা হয় এবং তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। এর আগে বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে যুবলীগের কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে চেয়ারম্যান পদে নেতা নির্বাচন নিয়ে হইচই, বিশৃঙ্খলা ও প্রচণ্ড হট্টগোল হয়। ফলে অধিবেশন মুলতবি করা হয়। পরে রাতে গণভবনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। যুগ্ম সম্পাদক হলেন মহিউদ্দিন আহমেদ। এ ক্ষেত্রে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের মতামত উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক উভয়ে ষাটোর্ধ্ব বলে সংগঠনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ওমর ফারুক চৌধুরী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ভগ্নিপতি। একইভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি পদে ইসমাইল চৌধুরী ওরফে সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক পদে ওয়াহিদুল আলম ওরফে আরিফ এবং মহানগর উত্তরের সভাপতি পদে মাইনুল হোসেন খান ওরফে নিখিল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ইসমাইল হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।”
একদিকে হাসিনা “গণতন্ত্র বিলি” করছেন, অন‍্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী ও সুবিধাবাদিরা ঢুকে পড়ছে তাঁর দল ও অঙ্গসংগঠনগুলিতে! বিডিনিউজ২৪ বলছে, রাজশাহী বিশ্বিদ‍্যালয়ে পদ্মা সেতুর টাকা উঠানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে। নিহত ছাত্রের গোটা পরিবার জামাতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দেশের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলিতে চলমান অবস্থার প্রেক্ষিতে হতাশা ব‍্যক্ত করে একজন লেখক ফেইসবুকে লিখেছেন, “আজ সবাইকে এই নিশ্চয়তা দেওয়া যায়-আমাদের যাহান্নাম যাত্রা কেউ ঠেকাতে পারবে না” যাহোক, কোন কোন মেয়র বা এমপি আবার পছন্দের জনকে উপাচাযর্ বা উপ-উপাচাযর্ পদে বসানোর জন‍্য বতর্মানদের অযোগ‍্য প্রমাণ করাতে ছাত্রলীগকেই লেলিয়ে দিচ্ছে গোলাগুলির মাঠে। এভাবে কারও প্রাণও যাচ্ছে। কতিপয় ক্ষমতালোভী ও সুবিধাবাদি ড’রা আবার সেইসব মেয়র ও এমপিদের ব‍্যবহার করছে পদ পদবির জন‍্য উপরে ওঠার লক্ষ‍্য নিয়ে! নিয়োগবাণিজ‍্য, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ সবই চলবে অনিয়ম আর অবিচারের ভেতরে। মেধা নয় দলীয় পরিচয়ই মুখ‍্য‍ হয়ে যায় এসব কু-মানুষদের কাছে! আমি এদের দোষ দেই না। বলবো রাজনীতি না দুবর্ৃত্ত রাজনীতিই সব নষ্টের মূলে! রাজনীতি যখন পচে তখন সমাজের কোন প্রতিষ্ঠানই সোজাপথে চলতে পারে না!
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ‍্যমে কেবল গণতন্ত্র চর্চাই নয় হাসিনার সরকার সাংবাদিক হত‍্যারও কোন কিনারা করতে পারছে না। বিশেষ করে সাগর-রুনির খুনিদেরতো ধরছেনই না। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের গলা টিপে ধরা হচ্ছে নতুবা রাজপথে পেটানো হচ্ছে। আবার কারও মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বোমার আঘাতে, যেমনটি করা হয়েছিল সাংবাদিক মানিক সাহাকে হত‍্যার সময়। কখনও র‍্যাব পেটাচ্ছে সাংবাদিকদের। আদালত অবমাননার জুজুর ভয়তো সাংবাদিক ও গণমাধ‍্যমের মাথার ওপরে খাড়া হয়েই আছে! সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনের সঙ্গে জড়িতরা নাকি বিজনেজ ম‍্যাগনেট! তাই খুনিদের ধরতে এত বিলম্ব। সাংবাদিক হত‍্যা-খুনের তালিকাটা দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। গত বুধবারে হবিগঞ্জে এক তরুণ সাংবাদিক দৈনিক বিবিয়ানার স্টাফ রিপোর্টার জুনাঈদ আহমদ জুনাঈদ এর লাশের কুড়িটা টুকরো উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিন্তু খুনি ধরতে পারেনি। ১৯৮৪ সাল থেকে আজ অবধি দেশে ৪৩ সাংবাদিক ও এক প্রথাবিরোধী লেখক নিহত হয়েছেন। যশোরে এক পুলিশ এবার এক সাংবাদিকের গলা টিপে ধরলো। সাংবাদিক সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের গোপন সুড়ঙ্গপথে বিকল্প পাইপলাইন ও কুইক রেন্টাল বিদু‍্যৎ এর যোগসূত্র আছে বলে কথা উঠেছে। যাহোক, তবুও মিডিয়াকর্মী নেওয়াজ ও মিডিয়ামালিক রহমান হয়ত বলবেন বাংলাদেশে মিডিয়া শতভাগ স্বাধীনতা ভোগ করছে! সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ আজও গ্রেফতার হয়নি। তবে রুনির চরিত্র হননকারি মাহফুজ অবশেষে দু:খপ্রকাশ করেছেন। এটিএন বাংলার চেয়ারম‍্যানকে ক্ষমা করা যায় কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনাব মাহফুজ সাংবাদিক মেহেরুন রুনির চরিত্র হনন বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছেন! ক্ষমাতো মহৎ গুণ। কিন্তু সাগর-রুনির আত্মা আর মেঘ ক্ষমা করবেন কিনা বলতে পারবো না। তবে মাহফুজুর রহমানকে পরিস্কার করতে হবে তিনি কেন রুনির চরিত্র হননের পথ বেছে নিয়েছিলেন? আরেকটি বিষয় সুরক্ষিত এটিএন বাংলার কাযর্ালয় থেকে বিবিয়ানা গ‍্যাসফিল্ড ও রুনির রিপোটর্িংয়ের তথ‍্য-ফাইল ও ভিজুয়াল ডকুমেন্টস চুরির সাথে কারা জড়িত তারও ব‍্যাখ‍্যা দেবেন মি. মাহফুজ-এমনটাই আশা করি। মামুন-মুন্নিরাই এখন কী বলবেন? দেখা যাক কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোয় কিনা!
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ‍্যমে চর্চিত গণতন্ত্র থেকে দেশ ও দেশের রাজনীতিকে প্রকৃত অর্থের যে গণতন্ত্র সেই ট্র‍্যাকে ফেরাতে না পারলে চলমান অরাজকতা, অনৈতিকতা, অধ:পতন বাড়বে বৈ কমবে না! ছবি-বিডিনিউজ২৪

“বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা আর র‍্যাবে ধরলে…!”


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা আর র‍্যাবে ধরলে মৃতু‍্য অবধারিত নয়তো পঙ্গু, কখনও গুম এবং লাশই মিলবে না কোনদিনও! ধরা পড়ার পর ওদের কাছ থেকে যারা বেঁচে ফিরে আসে তারা জগতের সবচেয়ে ভাগ্যবান!!! ওই স্বদেশে নেই কোন আইনের শাসন, ন্যায়বিচার কিংবা গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় সত্যিকার অর্থে তার কিছুই নেই কার্যকর। তাই যা হবার তাই হচ্ছে।
অথচ দেখুন বিডিনিউজ২৪ এ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান সাহেব ড. মিজানের লেখায় আস্ফালন। র‍্যাব ব্যাপারে এই মানুষটি দারুণভাবে স্ববিরোধী। শেষ পর্যন্ত কলেজ ছাত্র যে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শিক্ষিত হয়ে বাবা-মায়ের দু:খ ঘোচাতে চেয়ছিলেন তাকে পঙ্গু করে দিলো ওরা। বিচার বহির্ভূত সেই হত্যাপ্রচেষ্টার পর মেরুদন্ডহীন কমিশনের! চেয়ারম্যান ছুটে গেলেন হাসপাতালে। সেখানে কাঁদলেন, চোখের জল মুছলেন দামী রুমাল দিয়ে। কত কথাই না তিনি বলেছিলেন সেদিন? কিন্তু সবই যেন ফাঁপা!
মিডিয়া, মানবাধিকারপাড়া এবং প্রকল্প ও ফান্ডনির্ভর মানবাধিকার নেতৃত্ব কোথাও থেকেই কারও কোন উচ্চবাচ্য নেই আজ? লিমনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দাখিল হয়ে গেলো! অথচ ২০০৭ সালের ১৮ মে রেবের পিটুনিতে নিহত ওয়ার্কাস পার্টির নেতা মজনু শেখ রাজশাহীতে নিহত হয়েছিলেন, সেই ঘটনাটির নায়ক রেবের জামাতপন্থি কর্মকর্তা তৎকালিন মেজর বর্তমানে লে. কর্ণেল রাশিদুল হাসানসহ কয়েকজন। নিহত মজনুর ভাই পিয়ারুল রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছিলেন রেবের বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ পাঁচ বছরেও সেই মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত হলো না। সিএসবির রিপোর্টার হিসেবে ওই ঘটনায় একাধিক প্রতিবেদন তৈরী করেছিলাম যা সম্প্রচারিত হয়। এই ঘটনা ছাড়াও শিশুকন্যা ও স্ত্রীর সামনে নিজ শোবার ঘরে বেনজিরকে গুলি করে পঙ্গু করা, লিটনদের রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও পারিবারিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও লুটপাটসহ পুঠিয়ার শিউলি ধর্ষণ ও শিউলির বাবাকে হত্যার ঘটনায় প্রতিবেদন করায় সেই রাশিদুল ও রাজশাহীর মেয়র লিটনের যৌথ ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেন আমাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতন চালিয়ে। ওরা আমাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের জোরে আজও বেঁচে আছি!
মজনু যে পার্টি করতেন সেই পার্টির এক নেতা স্থানীয় এমপি এবং পলিটব্যুরোর সদস্য। শুনেছি মেয়র লিটন নাকি রাশীদুল ও র‍্যাবের হয়ে মজনু হত্যা মামলাটি মিটমাট করে নেবার জন্য দুতিয়ালি করছেন! আর ফজলে হোসেন বাদশার মতো একজন প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্য থাকার পরও তাঁরই পার্টির এক নেতা মজনু যাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে রেব সেই মামলাটির চার্জশিট দেয় না পুলিশ। কাজেই আইনের শাসন, ন্যায়বিচার বলতে কী আর কিছু আছে জন্মভূমিতে?