“বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা আর র‍্যাবে ধরলে…!”


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা আর র‍্যাবে ধরলে মৃতু‍্য অবধারিত নয়তো পঙ্গু, কখনও গুম এবং লাশই মিলবে না কোনদিনও! ধরা পড়ার পর ওদের কাছ থেকে যারা বেঁচে ফিরে আসে তারা জগতের সবচেয়ে ভাগ্যবান!!! ওই স্বদেশে নেই কোন আইনের শাসন, ন্যায়বিচার কিংবা গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় সত্যিকার অর্থে তার কিছুই নেই কার্যকর। তাই যা হবার তাই হচ্ছে।
অথচ দেখুন বিডিনিউজ২৪ এ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান সাহেব ড. মিজানের লেখায় আস্ফালন। র‍্যাব ব্যাপারে এই মানুষটি দারুণভাবে স্ববিরোধী। শেষ পর্যন্ত কলেজ ছাত্র যে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শিক্ষিত হয়ে বাবা-মায়ের দু:খ ঘোচাতে চেয়ছিলেন তাকে পঙ্গু করে দিলো ওরা। বিচার বহির্ভূত সেই হত্যাপ্রচেষ্টার পর মেরুদন্ডহীন কমিশনের! চেয়ারম্যান ছুটে গেলেন হাসপাতালে। সেখানে কাঁদলেন, চোখের জল মুছলেন দামী রুমাল দিয়ে। কত কথাই না তিনি বলেছিলেন সেদিন? কিন্তু সবই যেন ফাঁপা!
মিডিয়া, মানবাধিকারপাড়া এবং প্রকল্প ও ফান্ডনির্ভর মানবাধিকার নেতৃত্ব কোথাও থেকেই কারও কোন উচ্চবাচ্য নেই আজ? লিমনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দাখিল হয়ে গেলো! অথচ ২০০৭ সালের ১৮ মে রেবের পিটুনিতে নিহত ওয়ার্কাস পার্টির নেতা মজনু শেখ রাজশাহীতে নিহত হয়েছিলেন, সেই ঘটনাটির নায়ক রেবের জামাতপন্থি কর্মকর্তা তৎকালিন মেজর বর্তমানে লে. কর্ণেল রাশিদুল হাসানসহ কয়েকজন। নিহত মজনুর ভাই পিয়ারুল রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছিলেন রেবের বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ পাঁচ বছরেও সেই মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত হলো না। সিএসবির রিপোর্টার হিসেবে ওই ঘটনায় একাধিক প্রতিবেদন তৈরী করেছিলাম যা সম্প্রচারিত হয়। এই ঘটনা ছাড়াও শিশুকন্যা ও স্ত্রীর সামনে নিজ শোবার ঘরে বেনজিরকে গুলি করে পঙ্গু করা, লিটনদের রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও পারিবারিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও লুটপাটসহ পুঠিয়ার শিউলি ধর্ষণ ও শিউলির বাবাকে হত্যার ঘটনায় প্রতিবেদন করায় সেই রাশিদুল ও রাজশাহীর মেয়র লিটনের যৌথ ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেন আমাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতন চালিয়ে। ওরা আমাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের জোরে আজও বেঁচে আছি!
মজনু যে পার্টি করতেন সেই পার্টির এক নেতা স্থানীয় এমপি এবং পলিটব্যুরোর সদস্য। শুনেছি মেয়র লিটন নাকি রাশীদুল ও র‍্যাবের হয়ে মজনু হত্যা মামলাটি মিটমাট করে নেবার জন্য দুতিয়ালি করছেন! আর ফজলে হোসেন বাদশার মতো একজন প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্য থাকার পরও তাঁরই পার্টির এক নেতা মজনু যাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে রেব সেই মামলাটির চার্জশিট দেয় না পুলিশ। কাজেই আইনের শাসন, ন্যায়বিচার বলতে কী আর কিছু আছে জন্মভূমিতে?

One response to ““বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা আর র‍্যাবে ধরলে…!”

  1. বেশিরভাগ দেশের সরকার মুখে যতই গণতন্ত্রের কথা বলুক , মানবাধিকারের বুলি কপচাক আসলে ভেতরে ভেতরে সব্বাই চূড়ান্তভাবে আস্থা রাখে নির্দয় এবং চরম মানবাধিকার বিরোধী দমন পীড়ন নীতির উপর । এ বিষয়ে সব দেশে সব কালে সব রাজনৈতিক দলগুলোই ‘ চোরে চোরে মাসতুতো ভাই ‘ ! আকাশ , আপনিও জানেন ভারতে , পাকিস্তানে , শ্রী লঙ্কায় , বার্মায় , …… এমনকি খোদ আমেরিকায় র‍্যাব -এর ‘মাসতুতো ভাই’রা দিব্যি আছে !

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s