“গণভবন থেকে গণতন্ত্র বিলি!”

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “গণতন্ত্র যেন গণভবন আর হাসিনার কাছে আটকা পড়েছে! হাসিনা চাইলে নেতা হওয়া যায়। আবার উনি চাইলে নিবর্াচিত নেতাকেও বাদ দেয়াটা কোন ব‍্যাপারই না। গণভবন থেকে গণতন্ত্র বিলি হচ্ছে আজকাল!” আগে লিখেছি বাংলাদেশে গণতন্ত্র এক সোনার হরিণ! এখন মনে হচ্ছে না এটা ঠিক নয়। গণতন্ত্র পাওয়া যায় গণভবনেই! ক্ষমতাসিন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের নেতৃত্ব নিবর্াচনে গণতন্ত্রের এই নতুন কাঠামোটির চর্চা করলেন “গণতন্ত্রের মানসকন‍্যা” বলে খ‍্যাত শেখ হাসিনা। নিবর্াচনের মাধ‍্যমে নয় গণভবন থেকে যুবলীগের নতুন নেতার নাম চূড়ান্ত করা হয়। পরে তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। হাসিনা মুখে গণতন্ত্র, গণতন্ত্র বলে চিৎকার করলেও বাস্তবে তার কতটুকু চর্চা করেন সেটা এবার পরিস্কার হলো!
দেশের শীষর্স্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলো লিখেছে, “১৪ জুলাই রাত পৌনে নয়টায় গণভবন থেকে নতুন কমিটির নেতা হিসেবে এঁদের নাম চূড়ান্ত করা হয় এবং তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। এর আগে বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে যুবলীগের কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে চেয়ারম্যান পদে নেতা নির্বাচন নিয়ে হইচই, বিশৃঙ্খলা ও প্রচণ্ড হট্টগোল হয়। ফলে অধিবেশন মুলতবি করা হয়। পরে রাতে গণভবনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। যুগ্ম সম্পাদক হলেন মহিউদ্দিন আহমেদ। এ ক্ষেত্রে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের মতামত উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক উভয়ে ষাটোর্ধ্ব বলে সংগঠনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ওমর ফারুক চৌধুরী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ভগ্নিপতি। একইভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি পদে ইসমাইল চৌধুরী ওরফে সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক পদে ওয়াহিদুল আলম ওরফে আরিফ এবং মহানগর উত্তরের সভাপতি পদে মাইনুল হোসেন খান ওরফে নিখিল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ইসমাইল হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।”
একদিকে হাসিনা “গণতন্ত্র বিলি” করছেন, অন‍্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী ও সুবিধাবাদিরা ঢুকে পড়ছে তাঁর দল ও অঙ্গসংগঠনগুলিতে! বিডিনিউজ২৪ বলছে, রাজশাহী বিশ্বিদ‍্যালয়ে পদ্মা সেতুর টাকা উঠানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে। নিহত ছাত্রের গোটা পরিবার জামাতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দেশের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলিতে চলমান অবস্থার প্রেক্ষিতে হতাশা ব‍্যক্ত করে একজন লেখক ফেইসবুকে লিখেছেন, “আজ সবাইকে এই নিশ্চয়তা দেওয়া যায়-আমাদের যাহান্নাম যাত্রা কেউ ঠেকাতে পারবে না” যাহোক, কোন কোন মেয়র বা এমপি আবার পছন্দের জনকে উপাচাযর্ বা উপ-উপাচাযর্ পদে বসানোর জন‍্য বতর্মানদের অযোগ‍্য প্রমাণ করাতে ছাত্রলীগকেই লেলিয়ে দিচ্ছে গোলাগুলির মাঠে। এভাবে কারও প্রাণও যাচ্ছে। কতিপয় ক্ষমতালোভী ও সুবিধাবাদি ড’রা আবার সেইসব মেয়র ও এমপিদের ব‍্যবহার করছে পদ পদবির জন‍্য উপরে ওঠার লক্ষ‍্য নিয়ে! নিয়োগবাণিজ‍্য, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ সবই চলবে অনিয়ম আর অবিচারের ভেতরে। মেধা নয় দলীয় পরিচয়ই মুখ‍্য‍ হয়ে যায় এসব কু-মানুষদের কাছে! আমি এদের দোষ দেই না। বলবো রাজনীতি না দুবর্ৃত্ত রাজনীতিই সব নষ্টের মূলে! রাজনীতি যখন পচে তখন সমাজের কোন প্রতিষ্ঠানই সোজাপথে চলতে পারে না!
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ‍্যমে কেবল গণতন্ত্র চর্চাই নয় হাসিনার সরকার সাংবাদিক হত‍্যারও কোন কিনারা করতে পারছে না। বিশেষ করে সাগর-রুনির খুনিদেরতো ধরছেনই না। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের গলা টিপে ধরা হচ্ছে নতুবা রাজপথে পেটানো হচ্ছে। আবার কারও মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বোমার আঘাতে, যেমনটি করা হয়েছিল সাংবাদিক মানিক সাহাকে হত‍্যার সময়। কখনও র‍্যাব পেটাচ্ছে সাংবাদিকদের। আদালত অবমাননার জুজুর ভয়তো সাংবাদিক ও গণমাধ‍্যমের মাথার ওপরে খাড়া হয়েই আছে! সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনের সঙ্গে জড়িতরা নাকি বিজনেজ ম‍্যাগনেট! তাই খুনিদের ধরতে এত বিলম্ব। সাংবাদিক হত‍্যা-খুনের তালিকাটা দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। গত বুধবারে হবিগঞ্জে এক তরুণ সাংবাদিক দৈনিক বিবিয়ানার স্টাফ রিপোর্টার জুনাঈদ আহমদ জুনাঈদ এর লাশের কুড়িটা টুকরো উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিন্তু খুনি ধরতে পারেনি। ১৯৮৪ সাল থেকে আজ অবধি দেশে ৪৩ সাংবাদিক ও এক প্রথাবিরোধী লেখক নিহত হয়েছেন। যশোরে এক পুলিশ এবার এক সাংবাদিকের গলা টিপে ধরলো। সাংবাদিক সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের গোপন সুড়ঙ্গপথে বিকল্প পাইপলাইন ও কুইক রেন্টাল বিদু‍্যৎ এর যোগসূত্র আছে বলে কথা উঠেছে। যাহোক, তবুও মিডিয়াকর্মী নেওয়াজ ও মিডিয়ামালিক রহমান হয়ত বলবেন বাংলাদেশে মিডিয়া শতভাগ স্বাধীনতা ভোগ করছে! সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ আজও গ্রেফতার হয়নি। তবে রুনির চরিত্র হননকারি মাহফুজ অবশেষে দু:খপ্রকাশ করেছেন। এটিএন বাংলার চেয়ারম‍্যানকে ক্ষমা করা যায় কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনাব মাহফুজ সাংবাদিক মেহেরুন রুনির চরিত্র হনন বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছেন! ক্ষমাতো মহৎ গুণ। কিন্তু সাগর-রুনির আত্মা আর মেঘ ক্ষমা করবেন কিনা বলতে পারবো না। তবে মাহফুজুর রহমানকে পরিস্কার করতে হবে তিনি কেন রুনির চরিত্র হননের পথ বেছে নিয়েছিলেন? আরেকটি বিষয় সুরক্ষিত এটিএন বাংলার কাযর্ালয় থেকে বিবিয়ানা গ‍্যাসফিল্ড ও রুনির রিপোটর্িংয়ের তথ‍্য-ফাইল ও ভিজুয়াল ডকুমেন্টস চুরির সাথে কারা জড়িত তারও ব‍্যাখ‍্যা দেবেন মি. মাহফুজ-এমনটাই আশা করি। মামুন-মুন্নিরাই এখন কী বলবেন? দেখা যাক কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোয় কিনা!
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ‍্যমে চর্চিত গণতন্ত্র থেকে দেশ ও দেশের রাজনীতিকে প্রকৃত অর্থের যে গণতন্ত্র সেই ট্র‍্যাকে ফেরাতে না পারলে চলমান অরাজকতা, অনৈতিকতা, অধ:পতন বাড়বে বৈ কমবে না! ছবি-বিডিনিউজ২৪

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s