গুলতেকিনের আত্মসম্মানবোধ, শাওনের জেদ-মিথ‍্যাচার, হুমায়ুনের মৃতু‍্যর জন‍্য কী তবে শাওনই দায়ী!!!???


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “কর্ম বাঁচে মানুষ মরে। কবর হোক যথা তথা ভালোবাসা হোক নিখাদ! ভালোবাসার অত‍্যাচার নয় এ স্বার্থ ও জেদের অত‍্যাচার চলছে! দাফন নিয়ে টানাটানির পর যেন না আসে সম্পদ নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা ও দ্বন্দ্ব-ফ‍্যাসাদ!” নন্দিত লেখক, নাট‍্যকার, চলচিত্রনির্মাতা হুমায়ুন আহমেদ চলে গেলেন। তাঁর মৃতু‍্য ও তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মনের মধে‍্য যে এলোমেলো চিন্তাগুলি দানা বেঁধেছে নানা সময়ে নানাভাবে সেগুলির সমষ্টিগত রুপ দেবার প্রচেষ্টা আজকের এই লেখাটি।
মানুষ বাঁচে তাঁর সৃষ্টিশীলতার মধ‍্য দিয়ে। একজন মেধাবি, সৃষ্টিশীল মানুষ যাঁর সাহিত‍্যরস মানুষকে আনন্দিত, আলোড়িত, উদ্দীপ্ত, অনুপ্রাণিত করেছে, করবে অনন্তকাল ধরে সেই মানুষটিকে হারিয়ে বাংলা ভাষাভাষী বাঙালি মানুষ মাত্রই আজ শোকাতুর। বাংলা ভাষা ও সাহিত‍্য যতদিন বাঁচবে ততদিন থাকবেন হুমায়ুন মানুষের হৃদয়ে। মানুষমাত্রই মরণশীল, কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ’র সৃষ্টকর্ম অমর হয়েই রইবে! যদিও হুমায়ূন আহমেদের লেখালেখিকে অনেকে চটুল, হালকা ও সস্তা বলে অভিহিত করেন। সমালোচক মশিউল আলম লিখেছেন,”মায়ূন আহমেদ যেসব গল্প-উপন্যাস লিখেছেন, সেসবের মধ্যে রাজনৈতিক বা আর্থ-সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টি বা উপাদান খুঁজতে যাওয়া সম্ভবত অর্থহীন হবে। কারণ এই লেখকের তেমন কোনো দৃষ্টি ছিল না।”
সেযাইহোক বহুযুক্তি, নানামত। ফেইসবুক, ব্লগ, সোশ‍্যাল মিডিয়া কোনখানেই তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সব জায়গা দখল করে নিয়েছে হুমায়ুনের প্রতি ভালোবাসা আর তার প্রেক্ষিতেই চর্চিত আলোচনা। কোথায় চিরনিদ্রায় শায়ত হবেন বাংলা সাহিতে‍্যর কান্ডারি হুমায়ুন আহমেদ? এই নিয়েই শুরু হয়ে গেলো টানাপোড়েন! জাতি এমনটা আশা করেনি। হুমায়ুনও কোনদিনও এমন হবে তা ভাবেননি জীবদ্দশায়। কিন্তু কেন? একপক্ষ বলছেন, কবর হবে নুহাশপল্লীতেই। আরেকপক্ষের না। তাঁদের দাবি হুমায়ুনের নিথর দেহটাকে শোয়ানো হোক ঢাকায় যেখানে সাধারণ মানুষ ভক্ত, অনুরাগিদের আসাযাওয়া সহজ হয়! যে মানুষটি আর কোনপক্ষের হয়েই কোনদিন কথা বলতে পারবেন না, মতপ্রকাশ করার সুযোগ নেই যার তাকে নিয়ে আর অযথাই টানাহেঁচড়া কেন? আমরা আশা করবো, দুইপক্ষের মাঝে কোন জেদাজেদি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। হুমায়ুনের আত্মাকে আর কষ্ট দেবে না কোনপক্ষই এই প্রত‍্যাশাই আমার। হুমায়ুন আজকে যে গগণচুম্বি সফলতা ও জনপ্রিয়তায় এসে পৌঁছেছেন তার পেছনে যে নারীর অবদান অসামান‍্য সেই অভিমানী, আত্মসম্মানসচেতন নারীর কথা আজ আর কেউ বলছি না। এটা কী তাঁর সেই ত‍্যাগের প্রতি অবিচার নয়?
যে গুলতেকিন ছিলেন হুমায়ুনের কঠিন সময়গুলির প্রেরণার অকুস্থল সেই নারী, মহীয়সীকে বাংলার মিডিয়া ভুলে গেল! তিনি কী খুব বড় অপরাধ করেছিলেন? দৈনিক বাংলা, বিচিত্রা, আনন্দবিচিত্রার পুরনো কপি কারও সংগ্রহে থাকলে গুলতেকিন-হুমায়ুন বিষয়ক অসংখ‍্য লেখা পড়তে পারবেন। সুসময়ের সুযোগে যারা দু:সময়ের বন্ধুকে দূরে সরিয়ে ভালবাসার মাঝে চিড় ধরায় তাকে কী কোন কারণ আছে পুরস্কৃত করার?
শক্তিমান লেখক হুমায়ুন আহমেদ নিজেকে বুদ্ধিজীবী নয় “গর্তজীবী” বলেই অভিহিত করতেন। তিনি মৃতু‍্যকে ভয় পাননি কোনদিনও। এই প্রথাবিরোধী লেখক ভিক্ষাবৃত্তিকে পছন্দ করতেন না। তিনি জীবনসায়াহ্নে এসে আমেরিকান প‍্যাটার্ণে ভুতের গল্প লিখতে চেয়েছিলেন। তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা এই কথাসাহিতি‍্যক মৌলবাদ ও ধর্মব‍্যবসায়িদের ঘৃণা করতেন সরাসরি। আশাবাদি এই মানুষটি মনে করতেন, “বাংলাদেশের রাজনীতি সংঘাতের দিকে যাবে না। গণতন্ত্রে মাত্র আমরা সাঁতার কাটা শুরু করেছি। আমাদের প্রচুর রিসোর্স আছে। বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে ‘কিছু একটা করার’ প্রচেষ্টা বাড়ছে। তিনি আমেরিকা ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পাথর্কে‍্যর ব‍্যাপারে বলেন, গণতন্ত্র গণতন্ত্রই এর কোন পাথর্ক‍্য করা যায় না। তবে এর প্রাকটিসের মধে‍্য পাথর্ক‍্য থাকতে পারে।”
“আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। সববিষয়, সবদিকগুলি খতিয়ে দেখা হবে। এটা আর দশটি মামলার মতো নয়। একজন নয় রীতিমতো দুইজন প্রভাবশালী সাংবাদিককে একইসঙ্গে খুন। কম বড় ব্যাপার না। ৪৮ ঘন্টা, প্রণিধানযোগ্য, সবকিছু পরিস্কার, খুনিদের ধরার বিষয়টা এখন সময়ের ব্যাপার, খুনি যত শক্তিশালীই হোক আমরা তাকে ধরবো, শাস্তি হবেই হবে, আর বেডরুম পাহারা দেয়া”সহ কত কী শোনানো হলো টিভি সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনের পর থেকে। অবশ্য এসব শোনানোর নাটক নতুন কিছু নয়। একই কথা শুনছি আমরা মানিক সাহা কিংবা হুমায়ুন কবির বালু, বা শামছুর রহমান কেবল, নয়তো দীপংকর চক্রবর্ত্তী, বা গৌতম দাশ, অথবা সাইফুল আলম মুকুল নয়তো শ.ম.আলাউদ্দিন, নতুবা হারুন রশীদ খোকন কিংবা সাংবাদিক নিহত হলেই ওসব কথার কথা দেশবাসিকে শুনতেই হবে। নইলে আমাদের রাষ্ট্রনায়ক, প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিদের পেটের ভাতই হজম হবে না।
হুমায়ুনের প্রতি দেশবাসির গভীর ভালোবাসার ভীড়ে সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যা মামলাটির তদন্তের ভবিষ্যতও অন্ধকার হয়ে না যায় আবার! তাও বাঁচা যে খ্যাতিমান নাট্যকার, লেখক, চলচিত্রনির্মাতা, কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের কবর নিয়ে শাওন নাটকের যবনিকাপাত হয়েছে। কি কান্ডটাই না ঘটতে যাচ্ছিল। প্রকাশ্যে হুমায়ুন যেখানে বারংবার মিডিয়ার সামনে বলে গেছেন যে নুহাশপল্লীকে কবরস্থান বানাতে চাই না, সেখানে রাতের আঁধারে শাওনকে বলে গেলেন ওখানেই কবর দিতে! তবে কী হুমায়ুন নিজের কবর ও নুহাশপল্লী নিয়ে স্ববিরোধিতা জন্ম দিয়ে গেছেন, নাকি শাওন মিথ্যা বলছেন। এর প্রমাণ মিলতো যার কাছে সেইতো একেবারেই অন্যজগতে পাড়ি জমালেন। সুতরাং এই নশ্বর ধরাধামে শাওনবিনে সত্য আর কোথাও মিলবে কি? ত. আলীদের ক্ষমতার বাহাদুরিটাও শেষতক দেখা গেলো কবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রির হস্তক্ষেপ করানোর মধ্য দিয়ে! কে জানে হুমায়ুনের দাফন পর্ব শেষ হতে না হতেই তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ, নুহাশপল্লী ও বাড়ি নিয়ে কোন নতুন নাটকের মহড়া ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করছে কিনা?
অবশ‍্য এমন খবরও ইতোমধে‍্য চাউর হয়ে গেছে যে, “শাওন নিউইয়কর্ে বলেছেন মৃতু‍্যর আগে হুমায়ুন আহমেদ কোথায় কবর দেয়া হবে সেব‍্যাপারে কিছুই বলে যাননি।” অথচ দেশের মাটিতে পা রেখেই শাওন রীতিমতো বদলে গেলেন। কিন্তু কেন? শুধুমাত্র হুমায়ুনের পূর্বতন স্ত্রীর সন্তানদের (তারা হুমায়ুনেরও সন্তান) ইচ্ছে আর হুমায়ুনজননীর ইচ্ছেকে হত‍্যা করতেই শাওন কী জেলাসি আর হিংসা থেকেই এমন অনঢ় হয়ে গেলেন নুহাশেই হুমায়ুনকে সমাহিত করার জন‍্য! এমন খবরও ফেইসবুকে উঠেছে যে এই শাওন বিজনেস ক্লাস ছাড়া বিমানে উঠতে চানিন। যারজন‍্যই নাকি হুমায়ুনের নিথর দেহটাকে স্বদেশভুমিতে আনতে বিলম্ব ঘটেছে! আমি জানি না এটা সত‍্য কিনা। কিন্তু যদি সত‍্য হয় তবে তার প্রতি ঘৃণা ও ধিক্কার জানানোরও ভাষা আমার নেই।
কী নাটক, কী গল্প, কী উপন‍্যাস, কী সিনেমা, সাহিতে‍্যর এমন কোন শাখা নেই যেখানে হুমায়ুন আহমেদের বিচরণ ও ছোঁয়া ছিল না। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প ও বাংলা সাহিতে‍্য (সেটা হতে পারে কারও কাছে চটুল বা সস্তা) এক বৈপ্লবিক উদ্দীপনা আর প্রেরণার নাম হুমায়ুন আহমেদ। তরুণ সমাজের মধে‍্য পাঠ‍্যাভাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অসামান‍্য। তাঁর সৃষ্টাকর্মের অন‍্যতম ক্ষেত্র বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। হুমায়ুনের “হিমু” বা “মিসির আলী” নয়তো “বাকের ভাই” চরিত্রগুলি এক একটা দীপ্তিমান সৃষ্টি। সবকিছুই আমাদের তরুণ প্রজন্মকে উজ্জীবীত করেছে, করবে! চিরসবুজ, চিরনবীন, তরুণ এই মানুষটির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আর ভালবাসা। তাঁর স্বপ্নগুলিকে যদি এগিয়ে নেয়া যেতো। যাহোক শেষ পর্যন্ত জননী নয় জায়ারই জয় হলো! “না, এটা জননী কিংবা জাতির ইচ্ছে নয়। সন্তানরাও (দুই নাবালক সন্তান ছাড়া) চাইছিলেন না এমনটা হোক। জয় হলো শাওনজেদের। শ্রদ্ধায় মাথা নত হোক গুলতেকিনদের ত‍্যাগের কাছে। সবুজ নুহাশ পল্লীতে শান্তিতে শুয়ে থেকে হুমায়ুন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে উৎসাহ, প্রেম আর প্রেরণা যুগিয়ে যাবেন!
আর কোন দ্বন্দ্ব-ভিন্নতা দেখার ইচ্ছে নেই আমার। হুমায়ুন তুমি রবে বাংলার হ্রদয় মানসপটে। একটি ক‍্যান্সার হাসপাতাল বা ইনষ্টিটিউট কিংবা ক‍্যান্সার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ড়ে তোলার অঙ্গিকার ও বাস্তবায়নই হবে হুমায়ুনের প্রতি প্রকৃতার্থে শ্রদ্ধা নিবদেন। ফুল আর কথামালার গদবাধা ভালোবাসার চেয়েও কোন মহৎপ্রাণ মানুষের স্বপ্নকে সার্থক করে তোলাই হবে সেই মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।
হুমায়ূন-শাওন এর প্রেম এবং গুলতেকিনের সঙ্গে বিচ্ছেদের সূত্র ধরে অনেকে অনেক কথা বলছে, লিখছে, সোশ‍্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো যুদ্ধংদেহী অবস্থা এনিয়ে! শাওন আরও হাজারটা বিয়ে করতে পারেন, তাতে কার কী ওটা নিতান্তই উনার ব‍্যক্তিগত ব‍্যাপার। প্রশ্নটা ওখানে নেই। হুমায়ূন আহমেদ মৃতু‍্যর পর যেসব প্রশ্ন ওঠলো যেমন ধরুন বিজনেস ক্লাস ছাড়া বিমানে ওঠবো না, নুহাশপল্লীতে কবর দেয়ার কথা বলে গেছেন (অথচ আমেরিকায় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন শাওনকে তখন তিনি বলেছিলেন না কোথায় কবরস্থ করতে হবে সেব‍্যাপারে কিছু বলে যাননি মৃতু‍্যর আগে, অথচ ঢাকায় পা রেখেই শাওন বদলে গেলো) ইত‍্যাদি নাটকীয়তার কোন প্রয়োজন ছিল কিনা? বয়সের ক্ষেত্রে অসম প্রেম হয়েছেতো কী হলো, কার কী আসে যায় তাতে এটাও উনাদের একান্তই ব‍্যক্তিগত ব‍্যাপার। কিন্তু কথা হলো বাংলার যে সমাজ, সংস্কৃতি, প্রথা, রীতি তার সঙ্গে এটার সামঞ্জস‍্যতা কতটুকুন আছে বা ছিল? হুমায়ুন আহমেদ আর শাওনই যে এমনটা প্রথম করেছেন সেরকমও নয়। হুমায়ূনকে কবরস্থ করা নিয়ে টানাপোড়েনের ঘটনাটা কী ভালো লেগেছে জননন্দিত এই লেখকের আত্মার কাছে, নাকি জাতি ভালোচোখে দেখছে এটাকে? রত্নগভর্া জননী যেখানে বললেন যে ঢাকার কোথাও তাঁকে সমাহিত করা হোক, তারপরও যখন শাওন গো ধরলো, তাছাড়া হুমায়ূন আহমেদের নিজের মুখের কথাও প্রমাণ করে যে তিনি নিজেও নুহাশপল্লীকে কবরস্থান বানানোর পক্ষপাতি ছিলেন না। তারপরও কেন শাওনকে বোঝানো গেলো না, কেন বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রিকে সম্পৃক্ত করা হলো, কেনইবা গুলতেকিনের সন্তানদেরকে র‍্যাবের ভয় দেখানো হবে?
পরিশেষে একটা প্রশ্ন রেখে লেখার ইতি টানবো। আমেরিকায় সফল অস্ত্রোপচারের পর যে মানুষটি সুস্থ‍্য হয়ে উঠছিলেন হঠাৎ করেই কী এমন ঘটেছিল যে জাতি এই মানুষটিকে হারালো? সেখানে হুমায়ুনের প্রতি অযত্ন, অবহেলাসহ নানান কথাবার্তা এখন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে! কে দায়ি এরজন‍্য? কবর ও দাফনস্থান নিয়ে মা-মেয়ের অনঢ়তা আর রাজনৈতিক ক্ষমতাপ্রদর্শন শেষ পর্যন্ত নাকি হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের চার সন্তানের জীবনের প্রতিও হুমকি হয়ে উঠেছিল! এসবের অর্থ ও পেছনের কূট কারণ আর ষড়ডন্ত্র জাতির সামনে খোলাসা হওয়া জরুরি! আশা করি মিডিয়া এখানে ছাড় দেবে না! মিডিয়া কোনপক্ষে দাঁড়ায়, রাজনৈতিক ক্ষমতা নাকি সতে‍্যর পক্ষে? সময়ই বলবে এর উত্তরটা!
আরিফ জেপটিক নামে একজন শাওনের বিজনেস ক্লাশে আসার গোঁ ধরার পক্ষে সাফাই গেয়ে একটা লিখা ছেড়েছেন। তার প্রতিক্রিয়ায় লিখছি। উনার গুণধর ও ক্ষমতাধর মাতাও সঙ্গে ছিলেন। তামাম দুনিয়ার বহু শত সহস্র মানুষ শুধু ১৮ নয় ৩৫-৩৬ ঘন্টা এক নাগারে ভ্রমণ করছেন দু’টি নয় তিন থেকে চারটিও বাচ্চা থাকে সাথে। গাজাখুরি যুক্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের গালমন্দ করতে বেশ ভালো লাগে তাই না? আর এমিরেটস এর বিমানটাতে জড়সড় হয়ে বসতে লাগে না এই অভিজ্ঞতাটাও থাকার লাগে! শাওন যা করলো, দেখালো এটা কোন মহত্বের পরিচয় বহন করে কী? আর উনাকে বহন করার যে খরচ সরকার দিয়েছে সেটাও জনগণেরই পয়সা, কারও বাপের টাকা নয়।
এই লেখাটি যখন শেষ করবো ঠিক সেই মুহুর্তে মানবজমিনের একটি রিপোর্টের দিকে নজর পড়লো। “হুমায়ূনের মৃত্যু অবহেলায়!” শীর্ষক প্রতিবেদন বলছে, সাকসেসফুল অপারেশনের পর হুমায়ুনকে তড়িঘড়ি বাসায় নেয়া হয়। তাও আবার এক নতুন বাসায় ওঠানো হয় সেখানে। এরপর বাসায় পার্টি ও নানাধরণের খাবারের আয়োজন এমনকি পানীয়র আয়োজনও ছিল। সেখানে হুমায়ুন চেয়ার থেকে পড়ে যান। কিন্তু তারপরও তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়নি। এমনকি বেলেভু‍্য হাসপাতালের সেই চিকিৎসক যিনি হুমায়ুন আহমেদের অপারেশন করেছিলেন তাঁর টেলিফোন নম্বরটিও শাওন কিংবা মাজহারের জানা ছিল না। পরদিন যখন হুমায়ুনের ব‍্যথা বেড়ে ডযায় তখন তাঁকে নেয়া হয় অন‍্য একটি হাসপাতালে। সেখান থেকে বেলেভু‍্য হাসপাতালে। এসব থেকে কী এটা প্রমাণ হয় না যে হুমায়ুন আহমেদের মৃতু‍্যর জন‍্য শাওনই দায়ি? ছবিটা ফেইসবুক থেকে নেয়া, তবে ছবির মূল সোসর্ কী তার উল্লেখ না থাকায় সেটা আমি এখানে লিখতে পারলাম না বলে দু:খিত!

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s