পুরস্কারের গ্লোবাল রাজনীতি আর স্বদেশে সাংবাদিক নির্যাতন!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশে এবার বুঝি পরিবেশ-সুশাসন নিশ্চিত হলো! তাইতো এক আইনজীবীকে মেগসেসে পুরস্কার দেয়া হলো। দেশে এখন পরিবেশ রক্ষা একশ’ভাগ নিশ্চিত হয়ে গেলো! যেন আর কোন পরিবেশ দূষণ হবে না, বিনষ্ট হবে না পরিবেশ, কেউ পরিবেশ ধ্বংসও করবে না! একেবারে সবজাতে উঠে গেলো আর কী? স্বাভাবিক কোন সুশাসন যেখানে সুদূর পরাহত ব‍্যাপার, সোনার হরিণ সেখানে পরিবেশ-সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে, ভাবখানা এমনই! পুরস্কার পাওয়া মানে স্বীকৃতি নাকি পুরস্কার পাওয়া বা দেয়ার ক্ষেত্রেও ইদানিংকালে গ্লোবাল রাজনীতির নানান ফ‍্যাক্টর যুক্ত হয়ে গেছে?
বিদেশি যত সংগঠন, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কোন পুরস্কার দেয় তার জন‍্য তারা মাঠপর্যায়ে কোন অনুসন্ধান করে কী? আর এসব পুরস্কারের জন‍্য রীতিমতো আবেদন-নিবদেন ও কাগুজে তথ‍্য-প্রমাণ হাজির করতে হয় বা দাখিল করতে হয় নাকি? আর কি বাঙ্গিটাই ফাটিয়েছে বাস্তবে বা কী পরিবর্তনই করেছে ওরা যারা পুরস্কার পাচ্ছে? এসবকিছুরই চুলচেরা বিশ্লেষণ হলে দেখা যাবে সবই ফাঁপা! প্রকল্প আর ফান্ড নির্ভর কর্ম কোন মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে কি? আর প্রকল্প ও ফান্ড মানেই যে দুর্নীতি তা কী কেউ অস্বীকার করতে পারি? দেশে পরিবেশের কী অবস্থা তাতো বাংলার প্রতিটি মানুষই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন, সেখানে আবার বিচার! হাসি পাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আমাদের দেশে শিক্ষা, চিকিৎসার উন্নয়ন ও দারিদ্রমুক্তির লক্ষে‍্য বহু সাধারণ মানুষ যাঁদের হাতে কোন প্রকল্প বা ফান্ড কোনদিনও পড়ে না বা যায় না তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন আপন মনে কোন পুরস্কার পাবার নু‍্যনতম প্রত‍্যাশা ছাড়াই। ওসব মানুষের গল্প মাঝে মাঝে দেশের বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা তুলে ধরছেন। সেইসব মহান মানুষদেরকে কোন দেশ, সংস্থা বা সংগঠন পুরস্কার দেয় না। পুরস্কারের জন‍্য তাঁদের পক্ষে মনোনয়ন বা আবেদন করার মতো কেউ নেই বলে! আর যেখানে প্রকল্প, ফান্ড, সুবিধা আর মিডিয়ার অতিশয় মাতামাতি (মানুষ ও কল‍্যাণের জন‍্য নয় বরং স্ব-স্ব ব‍্যবসাপাতি, আদর্শ, পছন্দ আর রাজনীতির হয়ে) তারাই দরখাস্ত আর মনোনয়ন দিয়ে, করে বা জানিয়ে পুরস্কার পাচ্ছে! যারা পুরস্কার দিচ্ছে তাদের স্বার্থতো আছেই! পুরস্কারতো পায় তারাই যাদের প্রচার আছে যারা নয়-ছয় করে প্রকল্প আর ফান্ডের কাগজপত্রে তারাইতো কামিয়াব হবে, তারা নয়তো কী ছলিমুদ্দি কলিমুদ্দি বা সকিনারা পুরস্কার পাবে?
আমি জানি কেউ কেউ বলতে পারে যে এধরণের লেখা ভূমিদু‍্যদের পক্ষাবলম্বন! আমার সাফ কথা, এমন সরলীকরণ করাটা কতটা সমীচীন তা বুঝতে পারি না আমি। তবে একটা প্রশ্ন রাখাই যেতে পারে, দেশে কী ভূমিদসু‍্যতা, পরিবেশ ধ্বংস বন্ধ হয়েছে নাকি অদূর ভবিষ‍্যতে হবে? নাকি সেখানে পরিবেশ-সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে প্রকৃত অর্থে? আর মতপ্রকাশ কারও পক্ষে বা কারও বিপক্ষে যেতেই পারে এবং যাবে, এমনটাই স্বাভাবিক। এর মানে কী কোন ভূমিদসু‍্যর পক্ষাবলম্বন করা বোঝায়? আমাকে মাফ করবেন, আমি অজ্ঞানী মানুষ, আমি আমজনতার কাতারেরর একজন ক্ষুদ্র মানুষ! আমার চিন্তার স্তর অতটা পাকাপোক্ত নয়, ছোট জ্ঞান, বুঝি কম। যা ভাবি, মাথায় আসে তাই লিখি। কে খুশি হলো, কে দু:খ পেলো তার পরোয়া করিনা।
এই লেখাটি যখন লিখছি তখন হঠাৎ টিভিপর্দায় আবার সাংবাদিক নির্খযাতনের খবর ভেসে এলো। ঢাকা মেডক‍্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক নামধারি দুবর্ৃত্ত-সন্ত্রাসীরা ফের হামলে পড়েছে সাংবাদিকদের ওপর। দেশে যেন সেনা শাসন চলছে! স্বদেশে কী কোন সরকার, রাজনীতি আছে নাকি সেখানে সেনাশাসন চলছে? নইলে একের পর এক সাংবাদিকরা মার খাচ্ছেন, বন্ধ হবার কোন পদক্ষেপই নেই কারও তরফে! সবকিছুই যেন নিন্দা প্রকাশ, উদ্বেগ জানানো, তদন্ত কমিটি গঠন, ব‍্যবস্থা নেয়া হবে আর সুমধুর চটকদার ও কৌশলী কথামালার ভেতরেই হারিয়ে যাচ্ছে ন‍্যায়বিচার, আইনের শাসন। এতো অসহিষ্ণুতা, এতো নির্যাতন, এতো হত‍্যা-খুন-গুম আর এতো মিথ‍্যাচার, চারিদিকে কেবল অন্ধকার, হাহাকার আর গভীর শূণ‍্যতা! কোথাও থেকে কোন আশা বা আলোর দেখা মিলছে না। ঢাকা মেডিক‍্যাল কেলজ হাসপাতালে চিকিৎসক নামধারী দুবর্ৃত্তরা একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করে যাচ্ছে বীরদর্পে আর আমাদের রাষ্ট্রনায়করা তা উপভোগ করছে! আবার হাসপাতালের ইন্টার্ণিরা সাংবাদিকদের ওপর বেপরোয়া নির্যাতন, হামলা চালাচ্ছে, সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন‍্য কী হাসপাতাল পরিচালক দায়ি নন? তার কী কোন নৈতিক দায় নেই এসব দুবর্ৃত্ত হামলার ঘটনায়? অথচ সাংবাদিকরা সেই মাথাটাকে বাদ রেখেই মামলা করলেন!
কেউ কেউ আবার নির্যাতকদের “জুতামারা” উচিত বলে মন্তব‍্য করছে। আমি বলবো, উনাদের মেরে লাভ কীরে ভাই? যত অনাচার-অনিয়ম, নির্যাতন, হত‍্যা-খুন বা গুম সবকিছুইতো আসছে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি-শাসন আর দুনর্ীতি থেকে যেখানে নেই কোন আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার, সহনশীলতা আর গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় প্রকৃতার্থে তার কোন চর্চা। সমাজের এই হ-য-ব-র-ল চেহারাটা বদলানোর জন‍্য চাই একটা আমূল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের জন‍্য অনেকে কাজ করছেন। আশা ছাড়িনি আমরা, পরিবর্তন একদিন আসতেই হবে, হয়ত আমার বা আপনার প্রজন্ম দেখবে না, পরের প্রজন্ম নিশ্চয়ই তা দেখতে পাবে এবং দেশটাকে এগিয়ে নেবে স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে যেই স্বপ্নটা নিয়ে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিলো আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হারালাম আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে! ছবি আমাদের সময় থেকে নেয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s