Monthly Archives: অগাষ্ট 2012

হুমায়ূনকে নিয়ে তসলিমার লেখা: আপন সন্তানদের নদীতে ফেলছে অভাব।। সাগর-রুনি হত‍্যা মামলার অগ্রগতি জানে র‍্যাব!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। পুলিশ ব‍্যর্থ হলো,তার স্বীকারোক্তি আদালতে গিয়ে দিলো। আদালত বললো মামলাটির তদন্ত করতে পারবে প‍্যারামিলিটারি ফোর্স বা র‍্যাপিড একশান ব‍্যাটালিয়ান (র‍্যাব)। তাই তারা মামলাটিকে র‍্যাবের হাতে তুলে দিলো। এখন দেখা যাচ্ছে র‍্যাবও মামলার কোন কিনারা করতে পারছে না। তবে র‍্যাব এখনও বলেনি যে তারাও ব‍্যর্থ! টিভি সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যা মামলা নিয়ে বলছি। যাহোক হয়ত র‍্যাব কোনদিন এমনটা মানে তারা ব‍্যর্থ তা বলবে না। বরং তারা বলবে তারা সবসময় সব অপারেশনেই সফল! এই যেমন ধরুন,দরিদ্র পরিবারের সন্তান কলেজছাত্র লিমনের পা পঙ্গু করে দেয়া, সাংবাদিক এফএম মাসুম তার বাড়িতে গিয়ে পেটানো, দরগা শরীফের দুই কোটি টাকা মেরে দেয়া, কিংবা বিরোধী দলের নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করে ফেলা বা অমুককে ক্রস দিয়ে দাও ইত‍্যাদি আরও শত সহস্র উদাহরণ আছে।
সাগর-রুনির মামলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ‍্যম ফেইসবুকে একজন সাগর-রুনি হত‍্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন‍্যায়বিচারের নিশ্চয়তা চেয়ে স্টাটাস লিখেছেন। এমনসব স্টাটাস ও প্রত‍্যাশায় হাসবো নাকি কাঁদবো কিছু বোঝার উপায় নেই। আসলে আমাদের প্রত‍্যাশা আর প্রাপ্তি এই দুইয়ের মাঝেতো আকাশ-পাতাল ফারাক! যেখানে আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক মৃতু‍্যর নিশ্চয়তা নেই সেখানে আবার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার পাবার প্রত‍্যাশা?
বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থা ও কাঠামোয় মেঘেরা এমন নিশ্চয়তা কেয়ামতের পরেও পাবে না! এমন কথা এখানে লেখার জন্য মেঘের কাছেই ক্ষমা চাইছি। সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির নৃশংস হত্যাকান্ড নিয়ে ফেইসবুকে আর ব্লগে যত মাতামাতি, কান্নাকাটি আর মেঘের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতির ছড়াছড়ি দেখলাম আমরা তার চুল পরিমাণ করেও যদি প্রত‌্যেকে নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের নেতা-পছন্দের নেত্রী কিংবা সাংবাদিক বন্ধুদের সবার ওপরে যদি চাপ সৃষ্টি করতে পারতাম একজোট হয়ে তাহলেও হয়ত সেটা আশা করা যেতো। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা কবরে যাবার আগেও এক হতে পারবো না। শুধু সবাই আমরা (আমিও বাদ নেই) ফাল পাড়ছি মিছেমিছি সহানুভুতির জোয়ার ভাসায়ে! কেউ কেউ পুরস্কার পাচ্ছি, আর সেই পুরস্কার পাবার জন্য নামকাওয়াস্তে ছবি আঁকছি, কিংবা রাস্তার ধারে বুকে একটা কাগজ ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছি কয়েক মিনিট, অথবা বড় বড় জোরগলায় সাংবাদিক ও মিডিয়ার কাছে বাণী, সাক্ষাৎকার দিচ্ছি, ব্যস সব পেয়ে গেলাম! কিন্তু কাজের কাজ কিচ্ছু হচ্ছে না। ওখানেতো কোন ন্যায়বিচার-আইনের শাসনই নেই। সেখানে আবার নিশ্চয়তা!
নির্বাসিত বাঙালি লেখক তসলিমা নাসরিন সদ‍্যপ্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে একটি কলাম লিখেছেন। লেখাটি দারুণভাবে আলোড়িত হয়েছে বাঙালি সচতেন সমাজে। অসাধারণ সেই লেখা সম্পর্কে আমার শিক্ষক (সরাসরি আমি উনার ছাত্র ছিলাম না কিন্তু আমি যখন রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ে দর্শন বিভাগের ছাত্র তখন তিনি একই বিশ্বিবদ‍্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক) কাবেরী গায়েন ফেইসবুকে একটা স্টাটাস দিয়েছেন। সেটি এরকম, “তসলিমা ‘কোদাল’-কে কোদাল বলতে জানেন বলেই তিনি তসলিমা। তাকে অভিবাদন।” তারই প্রতিক্রিয়া জানাতে চাই স্বল্প পরিসরে।
কাবেরী ম‍্যাডাম ক্ষমা করবেন এই জন‍্য যে আপনার স্টাটাস নিয়ে মন্তব‍্য করছি বলে! আসলে নিজ ঘরে থেকে যা বলা যায় না অনে‍্যর ঘরে থেকে তা বলা যায়! কারণ পার্থক‍্যটা সমাজ ও রাষ্ট্রের অভ‍্যন্তরে গণতন্ত্র ও সহনশীলতা চর্চার। আর তসলিমা নাসরিন সেটা ঘরেও করেছেন, বাইরেও করছেন সমানতালে। এজন‍্যইতো উনাকে আমাদের রাষ্ট্র (আসলে রাষ্ট্র নয় সরকার এবং গুটিকতক ধর্মান্ধ ও বিবেকঅন্ধ উগ্র মানুষ) স্বভূমে ফিরতে দেয় না! এই যেমন ধরুন, বিচার বহির্ভূত হত‍্যা-নির্যাতন নিয়ে আমাদের বুদ্ধিজীবীরা খুব একটা মাথা ঘামান না, কারণ ওটা চালিয়ে নিতে চাইছেন আমাদের দুই পরম নির্ভরতম! নেতা খালেদা ও হাসিনা! আমরা বিভক্ত হয়ে গেছি এই দুই শিবিরে, হয় “খ” নয়তো “হ” এর তলে। তাই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই বলি আর গণমাধ‍্যমের স্বাধীনতাই বলি কিংবা মানবাধিকারের কথাই বলি সবকিছুই হারিয়ে যাচ্ছে “অন্ধভক্তিবাদমূলক (সবকিছুতে জ্বি ম‍্যাডাম/আপা নয়তো জ্বি নেত্রী)” রাজনীতির কবলে পড়ে। তাও বাঁচা যে আমাদের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম‍্যান ‘হতভাগ‍্য’ কলেজছাত্র লিমনের পা হারানোর পর নিজের চোখ থেকে জল মুছেছেন রুমাল দিয়ে, অনেক বড্ড বড্ড গালগল্প দিয়েছিলেন। অথচ এখন লিমনের পাতো গেছেই, তাঁর মায়ের করা মামলাটিরও ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে পুলিশ। অন‍্যদিকে লিমনের নামে ঠিকই ঝুলছে র‍্যাবের করা হযরাণিমূলক মামলাটি। তসলিমা নাসরিন অবশ‍্য এসব নিয়ে কিছু লিখেন বলে আমার জানা নেই। তবুও ধন‍্যবাদ তসলিমা নাসরিনদেরকে, সত‍্যটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নয় সোজাসুজি করে লিখে দেবার জন‍্য।
কুষ্টিয়ায় এক দরিদ্র পরিবারের দুই শিশু ঈদ উপলক্ষে বাবার কাছে নতুন জামা-কাপড় কিনে চাওয়ায় তাদের বাবা শিশু দুইটিকে পদ্মা নদীতে ফেলে দিয়ে হত‍্যা করেছে। লাশ এখনো মিলেনি। সেই পিতার বিরুদ্ধে শিশুদের মা হত‍্যা মামলা করেছেন। সেই মা অনে‍্যর বাসা-বাড়িতে কাজ করে কোনরকমে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন যোগাতেন। সূত্র প্রথম আলো।
ড. ইউনুস দারিদ্র‍্য বিমোচনের নামে নোবেল পুরস্কার পান। দারিদ্র‍্য দূর হচ্ছে এবং হ্রাস পাচ্ছে বলে সরকারপ্রধান হাসিনা প্রায়ই দেশে-বিদেশে গালগপ্প মারেন! খালেদাও ঠিক তাই বলতেন তাঁর সময়ে। আসলে দারিদ্র‍্যতা কতটুকু কমছে বা কমেছে বাস্তবে তা বলা কঠিন। হয়ত দলীয় বুদ্ধিজীবী ও গবেষকরা হাসিনা কিংবা খালেদাকে খুশি করাবার জন‍্য নতুন নতুন লেখা ও গবেষণা রিপোর্ট তৈরি করে দেন! কিন্তু গ্রাম-গঞ্জে তার ঠিক উল্টো চিত্রটাই ধরা পড়ে। যার প্রমাণ মিললো কুষ্টিয়ার সেই নির্মম ঘটনায়। আসলে ধনী-দরিদ্রের ফারাকটা ক্রমশ: উপরের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। একদল জৌলুসপূর্ণ জীবন-ডাপনের পাশাপাশি অপচয় করছে, আরকেদল সেখানে খাবারই পাচ্ছে না। দুর্নীতি, দলীয়করণ, হিংসা, বিদ্বেষ, অবিশ্বাস, অসহিষ্ণুতা আর ক্ষমতাপ্রিয়তার কাছে হারছে মানবতা!
আবার সোশ‍্যাল মিডিয়ায় ছোট্র সোনামণি “মেঘ”কে নিয়ে অনেকেই সহানুভুতি আর ভালোবাসার ছড়াছড়ি করবেন-এতে কোন সন্দেহ নেই আমার! গত ঈদে কতই না আনন্দ আর মজা করেছে মেঘ তার প্রিয় বাবা-মার সাথে। আর এবার সবই যেন শূণ‍্য তার! কবে সাগর-রুনির খুনি ধরা পড়বে কে জানে, বিচারতো অনেক দূরের পথ? আগে খুনিরা ধরাতো পড়ুক?
মায়ের ভূমিতে এমন হাজারো মেঘের ঈদআনন্দ কাটবে নিরানন্দে! অনেকের বাবা-মাকে সাগর-রুনির মতো হত‍্যা করা হয়েছে, কারও পিতা-মাতা স্বাভাবিক মুতৃ‍্যবরণ করেছেন আবার কারও বাবা বা সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মিডিয়া মেঘের কথা বলবে, লিখবে কিন্তু অন‍্য মেঘদের খবর কে রাখে বলুন?
এমন এক অমানবিক অবস্থায় আমরা একদল মানুষ ঈদ শুভেচ্ছা জানানোর উৎসবে মেতেছি। নিশীথসূযর্ে‍্যর দেশে থেকে ঈদআমেজ বোঝার কোন উপায় নেই। দেশে-বিদেশে থাকা সব বাঙালি শ্রদ্ধেয়-সুপ্রিয় বন্ধু আপনাদের সকলকে বলছি, ঈদ হোক সবার জন‍্য আনন্দের আর সুখের। দারিদ্র‍্যতার কারণে যেন কোন বাবা তার সন্তানদের পদ্মায় ফেলে হত‍্যা করতে না পারে, সেইরকম একটা পরিস্থিতি যেদিন স্বদেশে ফিরবে সেদিনই কেবল ঈদ হবে আনন্দময়, সর্বজনীন!!! সবাই ভালো থাকুন, শুভেচ্ছা। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

পা গেছে মামলাও গেলো!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। লিমনের পা গেলো। তার নামে মামলা ঝুলছে। এই পঙ্গু (প্রতিবন্ধি) ছেলেটার মায়ের করা মামলাটি থেকে রেহাই পেলো রাষ্ট্রীয় “খুনি” বাহিনী! কিন্তু লিমনের রেহাই নেই। সবাই দুষছেন র‍্যাবকে। আমিও তাই করি মাঝে মধে‍্য। কিন্তু আসলে র‍্যাব দায়ি নয়। দায়ি আমাদের দুবর্ৃত্ত রাজনীতি এবং হাসিনা, খালেদা এবং তাঁদের জোটভুক্ত সকল রাজনৈতিক দল এবং মিডিয়া আর দলীয় বুদ্ধিজীবীরা। কেউ দায় এড়াতে পারবে না। খালেদা জন্ম দিলো বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড আর নির্যাতনের, হাসিনা সেই পথই অনুসরণ করছেন। আগে গণহারে ক্রসফায়ারের নামে মানুষ হত‍্যা হতো। এখন এমন অবস্থা গুম হচ্ছে, লাশও মিলছে না! আইনের শাসন, গণতন্ত্র, সহনশীলতার অনুশীলন ছাড়া এসব হত‍্যা- নির্যাতন বন্ধ কিংবা সুশাসন কোনদিনও আসবে না স্বদেশে।
রাজশাহীতে মজনু যিনি ওয়ার্কাস পার্টির নেতা ছিলেন তাকে ২০০৭ এর ১৮ মে রাতে র‍্যাব পিটিয়ে হত‍্যা করে। সেই ঘটনায় মামলা হলো, কিন্তু পুলিশ আজও অভিযোগপত্র দিলো না, আদালতও কিছু বলে না। অন‍্যদিকে স্থানীয় মেয়র হাসিনার প্রিয় খায়রুজ্জামান লিটন র‍্যাবের হয়ে দুতিয়ালি করছেন র‍্যাবের নামে দায়ের করা মজনু হত‍্যা মামলাটি তুলে নেবার জন‍্য! আর মজনুর পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা এখন সদর আসনের সংসদ সদস‍্য। তাঁর মতো একজন নেতা ও এমপি থাকা সত্ত্বেও মজনু হত‍্যা মামরার কোন সুরাহা হলো না। উল্টো মজনুর পরিবারের সদস‍্যদেরই মিথ‍্যা মামলায় ফাঁসালো ও নির্যাতন করলো র‍্যাব। এই দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ, সুশিল সমাজ, মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতি যেন কারই কিছু করার নেই অবিচার ও হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ করার ক্ষেত্রে? কিই বা করার আছে সবাইতো ব‍্যস্ত আছি আপন আপন ব‍্যবসাপাতি ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে।
মানবতা, মনুষ‍্যত্ব, ন‍্যায়বিচার নিরবে নয় এখন সরবেই কাঁদছে বাংলার আকাশে-বাতাসে সেই কান্বানার সাথে কখনও আবার যুক্ত হচ্ছে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম‍্যান অধ‍্যাপক মিজানুর রহমানের চোখের জলও। তাঁর চোখমুজার দৃশ‍্য দেশবাসি দেখেছেন লিমন যখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন ঠিক তখন। ড। মিজানের গালগল্প আর মানবাধিকার নেতা-সংগঠনগুলির পেপারওয়ার্ক সর্বস্ব কর্মকান্ড কোনকিছুই লিমনদেরকে ন‍্যায়বিচারের আলো দেখাতে পারছে না। কেয়ামতের পরেও হয়ত সেই আলো দেখার সৌভাগ‍্য হবে না বাংলার মানুষের! কারণ সেখানে ন‍্যায়বিচার, আইনের শাসন, গণতন্ত্র চর্চা হয় না, হচ্ছে গালমন্দ আর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের সংস্কৃতির চাষ! বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ দলীয়করণ, সর্বনাশা দুর্নীতি, ঘুষখোর-সুদখোর-চাঁদাবাজ আর আয়ের সঙ্গে ব‍্যয়ের সঙ্গতিহীন জীবনের বেপরোয়া গতি সব ধ্বংস করে দিচ্ছে আশা-ভরসাগুলি।
দেশের অসুস্থ‍্য ও পচা-দুর্গন্ধময় রাজনীতি থেকে জাতি রেহাইল পেলেই কেবল লিমনরা ন‍্যায়বিচার পাবেন। সেই দিনটির জন‍্য হয়ত আরও অনেক কাল-যুগ আমাদের সংগ্রাম করতে হবে, সইতে হবে, ত‍্যাগ স্বীকার করতে হবে আরও অনেক, অনেক সময়! কার্টুন এই ছবিটি বিখ‍্যাত কার্টুনিষ্ট শিশির ভট্রাচার্যে‍্যর, গুগল থেকে নেয়া।

পুলিশের দোষ খোঁজা সহজ!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশে পুলিশের দুর্নীতি নিয়ে এশিয়ান হিউম‍্যান রাইটস কমিশন একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতির ওই রিপোর্টটা খুবই সঠিক। কিন্তু আমি মনে করি পুলিশের কোন দোষ নেই, কারণ আমাদের রাজনীতি যেভাবে চালাচ্ছে সেভাবেই চলছে সমস্ত প্রতিষ্ঠান। রাজনীতি আজ ঠিক তো কাল সবই ঠিক হয়ে যাবে! ঘুষ-দুনর্ীতিটাতো রাজনীতি থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে, সেই দুবর্ৃত্ত রাজনীতিকে রাজনীতির জায়গায় (যে রাজনীতির মূল লক্ষ‍্যই হবে জনগণের কল‍্যাণ) না আনতে পারলে এসব ঘুষ-দুর্নীতি চলতেই থাকবে। একইরকম ঘুষ-দুনর্ীতি চলছে আমাদের বিচারালয়, শিক্ষাদপ্তর, বোর্ড, করপোরেশন, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী এবং তাদের পরিবারের সদস‍্য এমনকি কোন কোন মিডিয়ার ভেতরেও। এনজিওগুলির ভেতরে তো আরও ভয়াবহ অবস্থা, কারণ তারা যে টাকা খরচ করে-বাজেট দেখায় কাগজপত্র তৈরী করে (কখনও আবার ভুয়া কাগজও বানানো হয়) সেই টাকাগুলি আসছে বিদেশ থেকে। ১০ টাকা আসলে মারিং-কাটিংয়ের পর তার মধ‍্য থেকে ১০ পয়সাও মূল প্রকল্পের টার্গেটগ্রুপের জন‍্য খরচ হচ্ছে না!
পুলিশ আর র‍্যাবের বেতন ও সুযোগ-সুবিধার যে বৈষম‍্য তাও তো দেখা দরকার? “সর্বাঙ্গে ঘা আর ওষুধ দেবো কোথা” এই অবস্থা আর কী? যেখানে আয়ের সঙ্গে ব‍্যয়ের কোন সঙ্গতি কী পাওয়া যায়, বিশেষত তথাকথিত অগ্রসর শ্রেণীর ভেতরে? গ্রামের কৃষক, মুটে-মুজুর-কুলি, রিকশাওয়ালা কিংবা মৎস‍্যজীবী তাঁরা কিন্তু দুর্নীতি করেন না। দুর্নীতিটা করছে, ঘুষ বাণিজ‍্যটা চালাচ্ছে আমার মতো শাটর্-প‍্যান্ট পরা কথিত ভদ্রলোকেরাই! শুধু শুধু পুলিশকে দোষ দিয়ে লাভ কী? ঘুষ আর দুর্নীতিইতো আজ ওপরে ওঠার সিঁড়ি ওখানে। সবখানে, সবজায়গায় সবর্ত্রই এর উৎসব চলছে, কোথাও নেই ন‍্যায়-নীতি ও ন‍্যায়বিচার, দু’একখানা ব‍্যতিক্রম ছাড়া! ফটো গার্ডিয়ান (গুগল থেকে নেয়া)।

নারীবাদ কিংবা পুরুষতন্ত্র নয়, চাই মানবতাবাদ!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “হুমায়ূন আহমেদ, শাওন এবং পরচর্চা…” এই শিরোনামে একটি লেখা বাংলাদেশের একটি অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। লেখাটির লেখক সীনা আক্তার, একজন গবেষক। এই লেখাটার সূত্র ধরেই একটা প্রতিক্রিয়া দেয়ার চেষ্টা করবো।
আসলে এখানে নারী কিংবা পুরুষ এমন জটিল বিতর্কে যাওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত তা প্রাজ্ঞজনেরাই বিবচার বিবেচনা করতে পারবেন। তবে হুয়ায়ূন আহমেদ এর মৃতু‍্যর পর বহু জ্ঞানী-গুণির লেখাই পড়লাম, পড়ছি হয়ত আরও অনেক পড়তে হবে। কিন্তু সবাইকেইতো পক্ষ নিয়েই লিখতে দেখছি। কেউ গুলতেকিনের ভালবাসা বা ত‍্যাগের কথা বলছেন। আবার কেউ শাওনের অভিনয়ের দিকগুলি নিয়ে লিখছেন। উভয়ই হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী।স্বামী হিসেবে তিনি কার প্রতি কতটা দায়িত্ব পালন করেছেন সেই বিচার করার আমি কেউ নই। ওটা নিতান্তই ব‍্যক্তিগত ব‍্যাপার এবং উনাদের এটা নিজস্ব। হুমায়ূন আহমেদের মৃতু‍্যর পর লেখালেখির মাত্রা কখনও কখনও যে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে যায় নি তাও বলা যাবে না। তবে আমি মনে করি, মতামত প্রকাশ কারও না কারও পক্ষে যাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সত‍্য-মিথ‍্যা বলে একটা ব‍্যাপারকেতো মাথায় রাখা প্রতে‍্যক লেখকেরই দায় হওয়া উচিৎ নয় কী?
আর সমাজ বলেতো একটা বিষয় আছে নাকি? আমাদের সমাজের একটা রীতি-নীতি, প্রথা আছে। সেই বিষয়গুলি চাইলেইতো আর ঝেড়ে ফেলা যায় না। বাংলায় বসে তো আর ইউরোপ আমেরিকার সংস্কৃতি অনুসরণ করা যায় কী? আমাদের সমাজ ‘সমকাম’ এখনও মেনে নেয়নি। আমাদের সমাজ এখনও অতটা উদার হয়ে ওঠতে পারেনি যে ৫০ বছরের নারীর সাথে কুড়ি বা ১৮ বছরের যুবকের বিয়ে কিংবা ৫৫ বছরের পুরুষের সঙ্গে কুড়ি বছরের নারীর বিয়েতে সমাজ নড়াচড়া করবে না। তারপরে যদি আবার হুমায়ূন ফরিদি, সুবর্ণা মুস্তাফা কিংবা শাওন-হুমায়ূন আহমেদদের মতো সেলিব্রেটিরা এমন কান্ড ঘটান তাহলেতো কথাই নেই। আপনি বা আমি এসব মানি বা না মানি-প্রসঙ্গ তা নয়। দু’একজনের মানা না মানাতে সমাজের কিছুই যায় আসে না। মানুষতো আর জন্তু বা জানোয়ার নয়। বিবেক বিচার বুদ্ধি এমনকি ষড়ঋপু নামে যারা আছে তাদেরকেও নিয়ন্ত্রণ করার মতো ক্ষমতা বা শক্তিও আছে মানুষ মাত্রই। কিন্তু কতজন এই ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি সেটাই একটা বড় প্রশ্ন! আর এই আত্মনিয়ন্ত্রণ ছাড়া কী কেউ কখনও নির্বাণ লাভ অন‍্যকথায় মহান হয়ে ওঠতে পারেন? নিশ্চয়ই না!
এটা মানি যে আমাদের দেশ বা সমাজে নারীকে দোষারোপ করার একটা বড় প্রবণতা ক্রিয়াশীল আছে, থাকে সবসময়। কিন্তু কোন ঘটনার পরম্পরা বিশ্লেষণে যদি দেখা যায়, বোঝা যায় বা জানা যায় কারও কোন অনৈতিকতা, স্বার্থপরতা, লোভের বিষয়গুলি কে, তখন কী কেউ কোন সমালোচনা করলেই তাকে কী নারীবিদ্বেষ বলা সংগত হবে? আমেরিকা থেকে বিমানের টিকিট এবং দাফনস্থান পর্যন্ত যে ঘটনাপ্রবাহ তা নিয়ে লেখক কিছুই বললেন না, লিখলেন না। অথচ একজনের পক্ষাবলম্বন স্পষ্ট করলেন পুরো লেখায়, এটা কী সমীচীন?
পুরুষতন্ত্র কিংবা নারীবাদ এভাবে বিভক্ত না হয়ে কিংবা বিভক্ত না করে নারী-পুরুষ নিবর্িশেষে সববাইকে মানুষ হিসেবে মানবিকতার পরিসরটাকে বাড়ানোর কাজটাকে এগিয়ে নিতে পারেন লেখকরা, মিডিয়া এবং প্রাগ্রসর জনগোষ্ঠী। ব‍্যক্তিগতভাবে আমি নারীবাদ বা পুরুষতন্ত্র কোনপক্ষেই নেই বা এই দুই পক্ষের মধে‍্য কোন দলভুক্ত হতে চাই না। মানুষ ও মানবতাবাদই আমার পক্ষ। তসলিমা নাসরিনের লেখা নিয়েও আমাদের সমাজে একদল মানুষ নারীবাদ ও পুরুষতন্ত্রকে সামনে নিয়ে আসে। কিন্তু তারা মানুষের ব‍্যক্তি অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চিন্তা করার বা বাক স্বাধীনতা ও অধিকার ইত‍্যাদিকে সামনে আনতে চায় না। তসলিমার লেখা ভালো লাগুক আর নাই লাগুক, তাতে কী? তিনি লিখছেন, লিখেছেন সেটাই বড় কথা। সবার লেখাই হাসান আজিজুল হক কিংবা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মতো হতে হবে বা হতে পারে এমনটা ভাবা কতটা বাস্তবসম্মত? সমাজ, রাষ্কট্র নিয়ে কঠিন জ্ঞানগর্ভ যেখানে কোন চটুলতা, তথাকথিত জনপ্রিয় ও সস্তা সাহিতে‍্যর বালাই নেই সেরকম সৃষ্টি কী সবার কলমে হয়? শেষে বলবো, একটা সমাজে যদি সবগুলি প্রতিষ্ঠান ঠিক ঠিক মতো চলে, বৈষম‍্য, দলবাজি ও দুনর্ীতির উদ্ধর্ে উঠে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সেই প্রতিষ্ঠানগুলি যেখানে আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার থাকবে তাহলে পুরুষতন্ত্র আর নারীবাদ নিয়ে চিৎকার করতে হবে না। একটা ভারসাম‍্যপূর্ণ মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে।

আদিবাসিদের অধিকার এবং বাংলাদেশ!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। স্বাধীনতার চার দশক চলে গেছে। আদিবাসিদের আজও স্বীকৃতি মেলেনি বাংলাদেশে। আজ ৯ আগষ্ট বিশ্ব আদিবাসি দিবস। কিন্তু আজও সেখানে আদিবাসিরা অধিকারহারা, তাদের নেই কোন পরিচয়। আদিবাসিদের নিজ ঘর-বাড়ি, সম্ভ্রম, প্রাণ সবকিছুই আজ হুমকির মুখে।
বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাত পার্বত‍্য শান্তিচুক্তি স্থাপনের মাধ‍্যমে একটা আলো জ্বলেছিল ১৯৯৮ সালে। কিন্তু সেই চুক্তি আজও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে সেখানে মাঝে মাঝেই অশান্তির দামামা বেজে উঠছে। পাহাড়ে বাড়ছে দ্বন্দ্ব-সংঘাত। নরওয়ে, কানাডা,অষ্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আদিবাসিদের অধিকার যখন পাকাপোক্ত হচ্ছে তখন বাংলাদেশে ঠিক উল্টো চিত্রটিই দেখা যাচ্ছে।
পাহাড়ি নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা নামেই বেশি পরিচিত) বর্তমান মহাজোট সরকারকে অগণতান্ত্রিক ও অপ্রগতিশীল আখ‍্যা দিয়ে আদিবাসিদের অধিকার আদায়ে লড়াইয়ে নামার আহবান জানিয়েছেন। এর আগে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার আদিবাসি দিবস উদযাপনেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে আবার অশান্তি নেমে আসবে!
আদিবাসি নেতা আলফ্রেড সরেন, চলেশ রিচিলসহ অন‍্যান‍্য আদিবাসি হত‍্যাকান্ডের বিচার হয়নি এখনও। আন্তর্জাতিক আদিবাসি দিবসের দু’দিন আগে রাঙ্গামাটিতে ২০ জন আদিবাসিকে অপহরণ করার খবর পাওয়া গেছে। ১৯৯৬ সালে আদিবাসি নেতা কল্পনা চাকমাকে আর্মি অপহরণ করে। আজও তাঁর খোঁজ মেলেনি। উত্তরাঞ্চলেও আদিবাসিদের ওপর অত‍্যাচার বন্ধ হয়নি।
রাষ্ট্রীয় অসহযোগিতা আর সংখ‍্যাগরিষ্টদের অব‍্যাহত হামলা-নির্যাতনের কারণে দেশে আদিবাসি জনগোষ্ঠী আজ হুমকির মুখে। আদিবাসিদের অধিকার রক্ষায় সরকার এগিয়ে আসবে, পার্বত‍্য শান্তুচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে অনতিবিলম্বে-এমনটাই প্রত‍্যাশা করি। আর কোন রক্তপাত নয়, অশান্তি ফিরে আসুক তাও কেউই চাই না আমরা। আদিবাসিদের অধিকার নিশ্চিত হোক-বিশ্ব আদিবাসি দিবসে এটাই বলতে চাই। ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রি কী জানেন?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাধারণ জালিয়াতি-প্রতারণা কিংবা চাঁদাবাজি। এটার সাথে সাধারণত: রাষ্ট্র বা সরকারের কোন সংশ্রব বা যোগসূত্র থাকে না। বরং রাষ্ট্র ও সরকার এসব দুবর্ৃত্তপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব‍্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে কঠোর হস্তে। মানুষের একটা আস্থা থাকে যে এসব অনৈতিক ও অ-আইনসম্মত বা বেআইনি কারবার বন্ধে সরকারের কাছে প্রতকার চাওয়ার। কিন্তু যখন রাষ্ট্র বা সরকারের ভেতর থেকেই এসব ঘটে তখন সাধারণ জনগণের কোন উপায় থাকে না কোথাও গিয়ে নালিশ করার। তারপরে যদি কোন সমাজে আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার কিংবা গণতন্ত্র এসব কিছু বাস্তবতার থেকে অনেক দূরে থাকে সেই সমাজে ভুক্তভোগী মানুষ একেবারেই অসহায়। “গণমাধ‍্যম” ও সেখানে হাত-পা ল‍্যাংড়া করে থাকে স্ব-উদ‍্যোগেই। এমন অবস্থায় চোখ বন্ধ করে, কানে তুলো দিয়ে সবকিছু মেনে নেয়া ছাড়া কোন বিকল্প থাকে না মানুষের।
আমি ভালো লিখি না। আমার লেখা পড়েন খুব অল্প সংখ‍্যক মানুষ। যা ভাবি তাই লিখি। কার পক্ষে গেলো আর কে অখুশি হলেন এমন কোন চিন্তা-ভাবনা থেকে কোন কিছু লিখি না আমি। আমি কখনই কোনদিনও ভালো কিছু লিখিনি বা লিখতে পারি না। আমার না আছে কোন সাহিত‍্য জ্ঞান, না আছে ভালো জানা-শোনা কিংবা পড়ালেখা। আমার ধর্ম মানবতা। রাজনৈতিক আদর্শ আমার সত‍্যবাদিতা, স্বচ্ছতা। কোন ব‍্যক্তি বা দলের প্রতি নেই কোন মোহ। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার, স্বপ্নের সোনার বাংলা আমার প্রত‍্যাশা। ঘৃণা করি রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী আর ধর্মান্ধ-উগ্রবাদকে। ধর্ম, মত, লিঙ্গ, জাতি, বর্ণ, গোষ্ঠী এসব কিছুর উদ্ধর্ে রাখি মানুষ আর মানবতাকে। সকল প্রকার অনাচার, বৈষম‍্য, অবিচার, হত‍্যা-নির্যাতন ও অমানবিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধেই আমার লড়াই। “জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো” এই নীতি আর “সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা” এই দর্শন যার শিক্ষাটা পেয়েছি পরিবার, সমাজ আর শিক্ষালয় থেকে। দারিদ্র‍্যতা কোন সমস‍্যা নয়। অনৈতিকতা আর অবিচারের জালটা বাড়ছে ক্রমশ”। সমাজে সংকট বাড়াচ্ছে দুর্নীতি আর দুবর্ৃত্তায়ন। এই বৃত্তকে ভাঙতে চাইলে রাজনীতির ভেতরে দুবর্ৃত্তপনার যে জাল বুনেছি আমরা, তাকে ছিন্ন করা চাই-ই চাই! নইলে যত কাজই করি, যে যাই বলি না কেন কোনই লাভ নেই।
পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির তথাকথিত অভিযোগ নিয়ে দেশ-বিদেশে ব‍্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশ্বব‍্যাংক এই গুরুতর অভিযোগ আনে। বিশ্বব‍্যাংক ঋণচুক্তি নবায়ন করবে না বলে বাংলাদেশকে জানিয়ে দিলো। ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও গ্রামীণ ব‍্যাংক এর মুহাম্মদ ইউনুস এর মধে‍্য স্নায়ুযুদ্ধ এর আগে থেকেই চলে আসছে। অনেকে মনে করেন, শেখ হাসিনা গ্রামীণ ব‍্যাংকের ইউনুসকে ভবিষ‍্যতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি মনে করছেন। তাছাড়া ইউনুসের সঙ্গে আমেরিকার ভালো সম্পর্ক। এর থেকেই প্রতিহিংসার বশে হাসিনার সরকার ইউনুসকে গ্রামীণ ব‍্যাংকের নির্বাহী প্রধানের পদ থেকে সরানোর উদ‍্যোগ নেয়। তবে সরকার এধরণের অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, ইউনুস ব‍্যাংকের গঠনতন্ত্র লংঘণ করে ওই পদে ছিলেন। এই নিয়ে ইউনুস-হাসিনার দ্বন্দ্ব অনেকটা চাউর হয়ে যায় দেশে এবং বিদেশে! তবে হাসিনার সঙ্গে যে ঝামেলা বা মনোমালিণ‍্যই থাক না কেন ইউনুস সাহেব যে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও শিক্ষার অধিকারহারা নারীদের কাছে অস্বাভাবিক উচ্চহারের ঋণ ব‍্যবসা করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন তা কেউই অস্বীকার করবে না বলে বিশ্বাস করি! কোন কোন ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব‍্যাংকের সুদের হার ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত (সূত্র দৈনিক সংবাদ)। ঋণগ্রহিতা নারীদের কেউ ঋণের কোন কিস্তি পরিশোধে ব‍্যর্থ হলে তার বাড়ির ঘরের টিন খুলে নেয়া, গরু নিয়ে যাওয়ার মতো অমানবিক ঘটনাগুলিও দেশবাসি পরখ করেছেন বিভিন্ন সময়ে মিডিয়ার বদৌলতে। আবার অনেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে ব‍্যর্থ হয়ে আত্মহত‍্যার পথও বেছে নিয়েছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে দারিদ্র‍্য বিমোচনের মাধ‍্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার তথাকথিক যুক্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় ২০০৬ সালে। আসলে বাঙালি সমাজে কতটুকু দারিদ্র নিরসন সম্ভব হয়েছে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পগুলির মাধ‍্যমে সেটাই একটা বড় প্রশ্ন?
ড. ইউনুস কিংবা গ্রামীণ ব‍্যাংক লেখার বিষয়বস্তু নয়। তাই মূলবিষয়ের দিকে নজর দেয়া যাক। গত জুনের শেষে মানবাধিকারবিষয়ক অনলাইন সংবাদপত্র ইউরো বাংলা নিজেদের দখলে নেয় হ‍্যাকাররা। এর একদিন পরে সপরিবারে চলে গিয়েছিলাম গ্রীস্মকালীন অবকাশ যাপনে। অবকাশের শেষ দিনগুলিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রি তাঁর ব‍্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল গণমাধ‍্যমে প্রকাশ করেন। উদ্দেশ‍্য দেশের মানুষ যাতে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। নি:সন্দেহে একটা ভালো ও যুগোপযোগি সিদ্ধান্ত। অনেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন। আমিও চেষ্টা করি ফোনে কথা বলার। কিন্তু কয়েকদিন যাবৎ চেষ্টা করেও আমি কানেক্ট করতে পারিনি। সবসময় ব‍্যস্ত, নতুবা রিং হয় কেউ রিসিফ করেন না…! পরে একটি ই-মেইল পাঠাই প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার ই-মেইলে। এর কয়েকদিন পর যে জবাব এলো তা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতেই আজকের লেখার অবতারণা।
গত ১৩ জুলাই বিডিনিউজ২৪ এ প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার টেলিফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশিত হয়। একইদিন আমি একটা মেইল পাঠাই উনার ই-মেইলে (sheikhhasina@hotmail.com)। এখন আমি আপনাদের সঙ্গে হুবহু শেয়ার করছি সেই মেইলটা যেটা আমি উনাকে পাঠিয়েছিলাম। Honorable Prime

Minister, Sheikh Hasina, Bangladesh,
I am Jahangir Alam Akash from Europe. I worked as a journalist for the daily Sangbad from Rajshahi. Just now I am living in exile in Europe only for the Mayor Liton, Rajshahi and RAB. But I am happy that I can write freely without any fear and I am living with security. I support your decision which you took to the Padma bridge. I have a proposal to build the Padma bridge, if you or your government could execute my proposal then it would be so easy to collect the money that need to build the bridge.
My proposal is that “Every Bengali” those living in abroad should donate at least 100 US Dollar to build the Padma bridge. You should urges to them on it. I think that it would be nice to develop or run Bangladesh by own herself.
I tried to call you, but I couldnt reached you. So I am writing you. I wish you and your government´s success!
Sincerely Yours,
Jahangir Alam Akash
Editor
Euro Bangla
Norway
Mobile: 004796989335
E-mail: jahangiralamakash@gmail.com
https://penakash.wordpress.com/
http://www.amazon.ca/Pain-Jahangir-Alam-Akash/dp/1456858025

অনেকে মনে করেন বিশ্বব‍্যাংক সাম্রাজ‍্যবাদি আমেরিকার কথায় উঠে আর বসে। মুহাম্মদ ইউনুস পেছনে থেকে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রি হিলারিকে দিয়ে বাংলাদেশের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করিয়েছেন বলেও অনেকের মনে একটা ধারণা জন্মেছে! আর বিশ্বব‍্যাংকতো হিলারিদেরই হাতের পুতুল। আমেরিকা যা চাইবে সেটাই ওরা করবে। সেই নিরিখে আমার মনে হয়েছে প্রধানমন্ত্রি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ করার তার সাথে আমি একমত। আমি এও মনে করি এরকম একটা দু’টা সেতু কা কোন ব‍্যাপারেই না, যদি দেশে বিদেশের সব বাঙালি একজোট হতে পারি এবং যার যা সামথর্‍্য আছে তা নিয়েই ঝাপিয়ে পড়তে পারি।
২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রির ই-মেইল থেকে একটি জবাব এলো। নিচে তা হুবহু আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি।
Asssala mu alakum,
Dear,
Thanks for your email.
I feel so much proud on you. You have taken a remarkable decision for the people of Bangladesh.
Today I am writing to you for a important task of Padma Bridge.

You know that Padma Bridge is my first choice, I can do anything for Padma Bridge, This project is a dream of mine and all Bangladeshi.
But some people working opposite of mine and they are creating lots of problem to get loan, donation and help from Banks and general people of Bangladesh.

Now the main reason of writhing this email is that:
I have a special and personal project to construct Padma Bridge successfully. I and two of my private investigation officer ( Mahabubr Rahma & Shahinur Rahman) working with me for this project. For the betterment of this project I didn’t share with others ( My members, Media ) about this project. I am just collecting fund personally people like you. I have already collected 70% fund for this project from the people like you. I have to finish this project within next 15 days. I have a important meeting in London for this project today.

I want that you will participate in this project by donating your donation as you have told in your email. This will be very much helpful for this project If you can send your donation within this week.
I am requesting you to send your first donation to the accounts given below

1. Dutch Bangla Bank Ltd.
Account Name: MD. SHAHINUR RAHMAN
Account Number: 108101185347
Shanti nagar Branch

2. Prime Bank.Limited.
A/c name: MD.MAHABUBUR RAHMAN
A/C NO: 18621010000510
JATRABARI BRANCH
If you need any help for funding just send email given below. If you help me to complete this great project Insallah I will help you personally.
After sending your donation just send me your contact details and National Id card number to pmsheikhhasina@ymail.com
Because I will include your details to padmabridge.org ( If you want) This website will be published after finishing this project.
So, I am just waiting for your urgent response.
May Allah Bless you.
P.M. Sk. Hasina
People’s Republication of Bangladesh

এই মেইলটি পাবার পর আমি ফেইসবুকে একটা স্টাটাস লিখেছিলাম যাতে কোন সাংবাদিক বিশেষত যারা সাহসী নৈতিক শক্তি যাদের পেশার ভিত্তি তারা যোগাযোগ করবেন খবরের তথ‍্য-প্রমাণ নেবার জন‍্য। কিন্তু আমার সে আশা ব‍্যর্থ। কেউ যোগাযোগ করেনি। ফেইসবুকে যা লিখেছিলাম সেটা এখন আপনাদের সামনে হুবহু তুলে ধরছি, “প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার ই-মেইল থেকে পদ্মা সেতু র্নিমাণের জন্য প্রবাসী বাঙালিদের কাছ থেকে টাকা পাঠাতে বলা হয়েছে দু’টি ব্যক্তিগত হিসাবে। এই চাঞ্চল্যকর খবরটি ফেইসবুকে স্টাটাস করে দিয়েছিলাম, আহবান করেছিলাম বাংলাদেশের সাহসী সাংবাদিক যাঁরা এই গুরুতর অনৈতিক কর্মটির তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে আগ্রহী চাইলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ধারণা ছিল অনেকেই হয়ত চাইবেন প্রমাণটি। কিন্তু আমার আশা নিরাশার চোরাবালিতে হারিয়ে গেলো! ডান-বাম, সরকারি-বেসরকারি, ভালো-মন্দ, চাঁদাবাজ (যারা করেন, সবাইন করেন না!) কেউই বা কারও আগ্রহ নেই। কারণ বিষয়টি দেশের সরকারপ্রধানের দপ্তর থেকে হচ্ছে। ভয় আছে না! চাকরি, জান সবকিছুই চলে যেতে পারে? তাই কেউই এক টুকরো রিপোর্ট করার মতোও ইচ্ছে প্রকাশ করলো না। তাছাড়া যাদের হাতে মিডিয়া তাদের যে নিজ নিজ ব্যবসাপাতি আছে তার পাশে আছে হয় হাসিনা নয়তো খালেদার প্রতি অনুরাগ! তাই যে যা পারছেন সুবিধাবাদি, তেলবাজি, ফটকাবাজি, চাঁদাবাজি আরও যত অনাচার-অনিয়ম-দুর্নীতি আছে সবই চালিয়ে যাচ্ছে বীর বিক্রমে! তাই ভাবছি শনিবার ও রোববারের সাপ্তাহিক ছুটিতে নিজেই লিখতে বসবো। কোন মিডিয়া ছাপুক আর না ছাপুক, তাতে কার কী, অন্তত: আমার কিচ্ছু আসে যায় না? আমি আমার ব্লগে ছাপবো, বাংলা, ইংরেজী দুই ভাষাই ব্যবহার করবো। আমার কোন স্বার্থ নেই, নেই হাসিনা বা খালেদা কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর কোন ফন্দি-ফিকির। দেশমাতা, জননীকে রক্ষায় প্রতিটি নাগরিকেরই কিছু না কিছু দায়-দায়িত্ব থাকে, সেই দায়ের যন্ত্রণা থেকেই আমি এটা করবো। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কাছে মিডিয়ার কাছে হয়ত এটা কোন খবরই নয়! তবে এমন কোন ঘটনা যদি ইউরোপের কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দপ্তর থেকে ঘটতো তাহলে বড় বড় হেডিং হতো মিডিয়ায়-এতে কোন সন্দেহ নেই। আর এমনটি হবার কোন সম্ভাবনাও নেই। কারণ এসব দেশে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার সবই আছে এবং বাস্তবেও তার চর্চা হয়। আর স্বদেশে এসবের অনুপস্থিতিরই প্রকাশ এমন সব চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকান্ডের।”
আমার মনে হয়েছে প্রধানমন্ত্রির দফতরের কোন একটি চক্র এমন জালিয়াতি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। যারা প্রধানমন্ত্রির নাম ভাঙিয়ে প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা তোলার একটা পাঁয়তারা করছে। আমি জানি না এমন চিঠি কী আমিই পেয়েছি নাকি অন‍্য আরও অনেকে পেয়েছেন? আমার এই সন্দেহের কথাটি বাংলদেশের প্রায় সব সংবাদপত্রে জানিয়েছি। কিন্তু কেউই বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়নি। তাদের কাছে হয়ত এটা কোন খবরই না! আবার খবর হলেও হয়ত নানাজনের বহুরুপী স্বার্থের কাছে হারিয়েছে এর খবরত্ব! কেউ ভয়ে ছাপবে না, কেউ স্বার্থের কারণে ছাপবে না, কেউ ছাপবে না রাজনৈতিক দলবাজির কারণে। এমন আরও কত কারণ জড়িয়ে আছে এই খবর বা অখবরের পেছনে।
এখন প্রশ্ন হলো কে বা কারা প্রধানমন্ত্রির এই ই-মেইলটি ব‍্যবহার করছেন বা করে থাকেন? এটা নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা জানেন। প্রধানমন্ত্রির ই-মেইল থেকে একজন ্রবাসীর কাছ থেকে টাকা পাঠাতে বলা হচ্ছে ব‍্যক্তিগত দু’টি ব‍্যাংক হিসাবে। কতবড় ধাপ্পাবাজি, প্রতারণা! মো. শাহিনুর রহমান ও মো. মাহবুবুর রহমান, এরা কারা? এই দুই ব‍্যক্তির ব‍্যাংক হিসাবে কেন টাকা পাঠাতে বলা হবে প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার ই-মেইল থেকে? প্রধানমন্ত্রির ই-মেইল যেটি এখন পাবলিকলি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই ই-মেইল থেকে কাউকে মেইল করার অর্থ হলো শেখ হাসিনা তথা প্রধানমন্ত্রির সায় আছে এবং কাকে-কেন মেইল করা হচ্ছে তা প্রধানমন্ত্রি জানবেন। এটাই স্বাভাবিক? আর দি নাও জেনে থাকেন, তবে কারা এই ই-মেইলটি ব‍্যবহার করেন বা করছেন প্রধানমন্ত্রির নামে সেটি নিশ্চয়ই উনি জানবেন। আশা করবো লেখাটি ছাপা হবার পর এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব‍্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির ব‍্যবস্থা করবেন প্রধানমন্ত্রি। নতুবা এটা ধরে নেয়া যায় যে প্রধানমন্ত্রি স্বয়ং প্রতারণা ও প্রতারকদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রির দফতর থেকে এই মেইলের বিষয়ে একটা স্বচ্ছ ব‍্যাখ‍্যা পাবো বলে প্রত‍্যাশা করি। সেই আশায় রইলাম। জবাবদিহিতায় নূ‍্যনতম বিশ্বাস বা চর্চা থাকলে নিশ্চয়ই উত্তর দেবেন প্রধানমন্ত্রির দফতর। ছবি-দ‍্য হিন্দু (গুগল থেকে নেয়া)।