হুমায়ূনকে নিয়ে তসলিমার লেখা: আপন সন্তানদের নদীতে ফেলছে অভাব।। সাগর-রুনি হত‍্যা মামলার অগ্রগতি জানে র‍্যাব!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। পুলিশ ব‍্যর্থ হলো,তার স্বীকারোক্তি আদালতে গিয়ে দিলো। আদালত বললো মামলাটির তদন্ত করতে পারবে প‍্যারামিলিটারি ফোর্স বা র‍্যাপিড একশান ব‍্যাটালিয়ান (র‍্যাব)। তাই তারা মামলাটিকে র‍্যাবের হাতে তুলে দিলো। এখন দেখা যাচ্ছে র‍্যাবও মামলার কোন কিনারা করতে পারছে না। তবে র‍্যাব এখনও বলেনি যে তারাও ব‍্যর্থ! টিভি সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যা মামলা নিয়ে বলছি। যাহোক হয়ত র‍্যাব কোনদিন এমনটা মানে তারা ব‍্যর্থ তা বলবে না। বরং তারা বলবে তারা সবসময় সব অপারেশনেই সফল! এই যেমন ধরুন,দরিদ্র পরিবারের সন্তান কলেজছাত্র লিমনের পা পঙ্গু করে দেয়া, সাংবাদিক এফএম মাসুম তার বাড়িতে গিয়ে পেটানো, দরগা শরীফের দুই কোটি টাকা মেরে দেয়া, কিংবা বিরোধী দলের নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করে ফেলা বা অমুককে ক্রস দিয়ে দাও ইত‍্যাদি আরও শত সহস্র উদাহরণ আছে।
সাগর-রুনির মামলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ‍্যম ফেইসবুকে একজন সাগর-রুনি হত‍্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন‍্যায়বিচারের নিশ্চয়তা চেয়ে স্টাটাস লিখেছেন। এমনসব স্টাটাস ও প্রত‍্যাশায় হাসবো নাকি কাঁদবো কিছু বোঝার উপায় নেই। আসলে আমাদের প্রত‍্যাশা আর প্রাপ্তি এই দুইয়ের মাঝেতো আকাশ-পাতাল ফারাক! যেখানে আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক মৃতু‍্যর নিশ্চয়তা নেই সেখানে আবার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার পাবার প্রত‍্যাশা?
বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থা ও কাঠামোয় মেঘেরা এমন নিশ্চয়তা কেয়ামতের পরেও পাবে না! এমন কথা এখানে লেখার জন্য মেঘের কাছেই ক্ষমা চাইছি। সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির নৃশংস হত্যাকান্ড নিয়ে ফেইসবুকে আর ব্লগে যত মাতামাতি, কান্নাকাটি আর মেঘের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতির ছড়াছড়ি দেখলাম আমরা তার চুল পরিমাণ করেও যদি প্রত‌্যেকে নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের নেতা-পছন্দের নেত্রী কিংবা সাংবাদিক বন্ধুদের সবার ওপরে যদি চাপ সৃষ্টি করতে পারতাম একজোট হয়ে তাহলেও হয়ত সেটা আশা করা যেতো। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা কবরে যাবার আগেও এক হতে পারবো না। শুধু সবাই আমরা (আমিও বাদ নেই) ফাল পাড়ছি মিছেমিছি সহানুভুতির জোয়ার ভাসায়ে! কেউ কেউ পুরস্কার পাচ্ছি, আর সেই পুরস্কার পাবার জন্য নামকাওয়াস্তে ছবি আঁকছি, কিংবা রাস্তার ধারে বুকে একটা কাগজ ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছি কয়েক মিনিট, অথবা বড় বড় জোরগলায় সাংবাদিক ও মিডিয়ার কাছে বাণী, সাক্ষাৎকার দিচ্ছি, ব্যস সব পেয়ে গেলাম! কিন্তু কাজের কাজ কিচ্ছু হচ্ছে না। ওখানেতো কোন ন্যায়বিচার-আইনের শাসনই নেই। সেখানে আবার নিশ্চয়তা!
নির্বাসিত বাঙালি লেখক তসলিমা নাসরিন সদ‍্যপ্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে একটি কলাম লিখেছেন। লেখাটি দারুণভাবে আলোড়িত হয়েছে বাঙালি সচতেন সমাজে। অসাধারণ সেই লেখা সম্পর্কে আমার শিক্ষক (সরাসরি আমি উনার ছাত্র ছিলাম না কিন্তু আমি যখন রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ে দর্শন বিভাগের ছাত্র তখন তিনি একই বিশ্বিবদ‍্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক) কাবেরী গায়েন ফেইসবুকে একটা স্টাটাস দিয়েছেন। সেটি এরকম, “তসলিমা ‘কোদাল’-কে কোদাল বলতে জানেন বলেই তিনি তসলিমা। তাকে অভিবাদন।” তারই প্রতিক্রিয়া জানাতে চাই স্বল্প পরিসরে।
কাবেরী ম‍্যাডাম ক্ষমা করবেন এই জন‍্য যে আপনার স্টাটাস নিয়ে মন্তব‍্য করছি বলে! আসলে নিজ ঘরে থেকে যা বলা যায় না অনে‍্যর ঘরে থেকে তা বলা যায়! কারণ পার্থক‍্যটা সমাজ ও রাষ্ট্রের অভ‍্যন্তরে গণতন্ত্র ও সহনশীলতা চর্চার। আর তসলিমা নাসরিন সেটা ঘরেও করেছেন, বাইরেও করছেন সমানতালে। এজন‍্যইতো উনাকে আমাদের রাষ্ট্র (আসলে রাষ্ট্র নয় সরকার এবং গুটিকতক ধর্মান্ধ ও বিবেকঅন্ধ উগ্র মানুষ) স্বভূমে ফিরতে দেয় না! এই যেমন ধরুন, বিচার বহির্ভূত হত‍্যা-নির্যাতন নিয়ে আমাদের বুদ্ধিজীবীরা খুব একটা মাথা ঘামান না, কারণ ওটা চালিয়ে নিতে চাইছেন আমাদের দুই পরম নির্ভরতম! নেতা খালেদা ও হাসিনা! আমরা বিভক্ত হয়ে গেছি এই দুই শিবিরে, হয় “খ” নয়তো “হ” এর তলে। তাই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই বলি আর গণমাধ‍্যমের স্বাধীনতাই বলি কিংবা মানবাধিকারের কথাই বলি সবকিছুই হারিয়ে যাচ্ছে “অন্ধভক্তিবাদমূলক (সবকিছুতে জ্বি ম‍্যাডাম/আপা নয়তো জ্বি নেত্রী)” রাজনীতির কবলে পড়ে। তাও বাঁচা যে আমাদের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম‍্যান ‘হতভাগ‍্য’ কলেজছাত্র লিমনের পা হারানোর পর নিজের চোখ থেকে জল মুছেছেন রুমাল দিয়ে, অনেক বড্ড বড্ড গালগল্প দিয়েছিলেন। অথচ এখন লিমনের পাতো গেছেই, তাঁর মায়ের করা মামলাটিরও ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে পুলিশ। অন‍্যদিকে লিমনের নামে ঠিকই ঝুলছে র‍্যাবের করা হযরাণিমূলক মামলাটি। তসলিমা নাসরিন অবশ‍্য এসব নিয়ে কিছু লিখেন বলে আমার জানা নেই। তবুও ধন‍্যবাদ তসলিমা নাসরিনদেরকে, সত‍্যটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নয় সোজাসুজি করে লিখে দেবার জন‍্য।
কুষ্টিয়ায় এক দরিদ্র পরিবারের দুই শিশু ঈদ উপলক্ষে বাবার কাছে নতুন জামা-কাপড় কিনে চাওয়ায় তাদের বাবা শিশু দুইটিকে পদ্মা নদীতে ফেলে দিয়ে হত‍্যা করেছে। লাশ এখনো মিলেনি। সেই পিতার বিরুদ্ধে শিশুদের মা হত‍্যা মামলা করেছেন। সেই মা অনে‍্যর বাসা-বাড়িতে কাজ করে কোনরকমে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন যোগাতেন। সূত্র প্রথম আলো।
ড. ইউনুস দারিদ্র‍্য বিমোচনের নামে নোবেল পুরস্কার পান। দারিদ্র‍্য দূর হচ্ছে এবং হ্রাস পাচ্ছে বলে সরকারপ্রধান হাসিনা প্রায়ই দেশে-বিদেশে গালগপ্প মারেন! খালেদাও ঠিক তাই বলতেন তাঁর সময়ে। আসলে দারিদ্র‍্যতা কতটুকু কমছে বা কমেছে বাস্তবে তা বলা কঠিন। হয়ত দলীয় বুদ্ধিজীবী ও গবেষকরা হাসিনা কিংবা খালেদাকে খুশি করাবার জন‍্য নতুন নতুন লেখা ও গবেষণা রিপোর্ট তৈরি করে দেন! কিন্তু গ্রাম-গঞ্জে তার ঠিক উল্টো চিত্রটাই ধরা পড়ে। যার প্রমাণ মিললো কুষ্টিয়ার সেই নির্মম ঘটনায়। আসলে ধনী-দরিদ্রের ফারাকটা ক্রমশ: উপরের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। একদল জৌলুসপূর্ণ জীবন-ডাপনের পাশাপাশি অপচয় করছে, আরকেদল সেখানে খাবারই পাচ্ছে না। দুর্নীতি, দলীয়করণ, হিংসা, বিদ্বেষ, অবিশ্বাস, অসহিষ্ণুতা আর ক্ষমতাপ্রিয়তার কাছে হারছে মানবতা!
আবার সোশ‍্যাল মিডিয়ায় ছোট্র সোনামণি “মেঘ”কে নিয়ে অনেকেই সহানুভুতি আর ভালোবাসার ছড়াছড়ি করবেন-এতে কোন সন্দেহ নেই আমার! গত ঈদে কতই না আনন্দ আর মজা করেছে মেঘ তার প্রিয় বাবা-মার সাথে। আর এবার সবই যেন শূণ‍্য তার! কবে সাগর-রুনির খুনি ধরা পড়বে কে জানে, বিচারতো অনেক দূরের পথ? আগে খুনিরা ধরাতো পড়ুক?
মায়ের ভূমিতে এমন হাজারো মেঘের ঈদআনন্দ কাটবে নিরানন্দে! অনেকের বাবা-মাকে সাগর-রুনির মতো হত‍্যা করা হয়েছে, কারও পিতা-মাতা স্বাভাবিক মুতৃ‍্যবরণ করেছেন আবার কারও বাবা বা সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মিডিয়া মেঘের কথা বলবে, লিখবে কিন্তু অন‍্য মেঘদের খবর কে রাখে বলুন?
এমন এক অমানবিক অবস্থায় আমরা একদল মানুষ ঈদ শুভেচ্ছা জানানোর উৎসবে মেতেছি। নিশীথসূযর্ে‍্যর দেশে থেকে ঈদআমেজ বোঝার কোন উপায় নেই। দেশে-বিদেশে থাকা সব বাঙালি শ্রদ্ধেয়-সুপ্রিয় বন্ধু আপনাদের সকলকে বলছি, ঈদ হোক সবার জন‍্য আনন্দের আর সুখের। দারিদ্র‍্যতার কারণে যেন কোন বাবা তার সন্তানদের পদ্মায় ফেলে হত‍্যা করতে না পারে, সেইরকম একটা পরিস্থিতি যেদিন স্বদেশে ফিরবে সেদিনই কেবল ঈদ হবে আনন্দময়, সর্বজনীন!!! সবাই ভালো থাকুন, শুভেচ্ছা। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s