Monthly Archives: সেপ্টেম্বর 2012

কালোটাকাযুক্ত অসৎ রাজনীতিকে নয়া তথ‍্যমন্ত্রি চ‍্যালেঞ্জ করবেন কী?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। কাজে নয় কথাতেই বড় হয়ে গেছি আমরা। না সবাই না, কেউ কেউ বড় বড় কথা বলি কিন্তু কাজের বেলায় সব শূণ‍্য। স্বদেশে বাস্তবে যা হয় হোক কিন্তু কারও কারও কথা আর বক্তৃতা শুনলে মনে হতে বাধ‍্য যে “দেশে দারিদ্র নেই, সমস‍্যা নেই, অন‍্যায় নেই, অবিচার নেই, ন‍্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের স্বর্গরাজে‍্য বাস করছেন বাংলাদেশের মানুষ”।
সভ‍্যতা আর সময় যতই আধুনিকতার দিকে টানছে সমাজকে; ততই যেন আমরা নীতিহীনতা, অনৈতিকতা আর কথামালার ভেতরেই আটকে পড়ছি। নয়া তথ‍্যমন্ত্রি এককালের বিপ্লবী আজকের মহাজোট নেতা হাসানুল হক ইনু বলেছেন, “সঠিক তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরা এবং খণ্ডিত তথ্য, মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন, তথ্য আড়াল করা, অসৎ তথ্য প্রচার ও অসৎ সাংবাদিকতাকে নিরুৎসাহিত করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করব।” সাহসী ও সময়উপযোগি এই বক্তব‍্য আর যাইহোক অন্তত: সৎ সাংবাদিকতা পক্ষে যারা লড়ছেন তাদের কাছে এক অমোঘ বাণী। জনগণের কাছে সঠিক তথ‍্য তুলে ধরাই সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ‍্য। কাজেই তথ‍্যমন্ত্রি মহোদয়কে ধন‍্যবাদ এমন বাস্তবসম্মত ও বিবেবচনাপ্রসূত বক্তব‍্য জাতির সামনে তুলে ধরার জন‍্য। দেশে অসৎ সাংবাদিকতা হয় না তাও কেউই বুকে হাত দিয়ে বলার সাহস রাখেন না। সৎ ও অসৎ উভয় সাংবাদিকতাই বলবৎ আছে বাংলার জমিনে। ব‍্যক্তিগতভাবে আমি নিজে হাসানুল হক ইনুর কাছে ঋণী এবং কৃতজ্ঞ। উনার এলাকার একজন লে. কর্ণেল রাজশাহী র‍্যাবের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন ২০০৭ সালে। র‍্যাব আমার ওপর কেন অন‍্যায় করছে তার জন‍্য তিনি সেই কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু র‍্যাবের সেই লে.ক. আমার সম্পর্কে মিথ‍্যা তথ‍্য তুলে ধরেছিলেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর কাছে।
এখন প্রশ্ন হলো মাননীয় তথ‍্যমন্ত্রি কী মিথ‍্যা তথ‍্য উপস্থাপনকারিদের কেবল নিরুৎসাহিত করার মধে‍্যই সীমাবদ্ধ থাকবেন নাকি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব‍্যবস্থাও নেবেন-সেটা পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে না। আশা করি জাসদ নেতা ইনু মুক্তিযুদ্ধের অন‍্যতম সংগঠক জাসদ নেতা কাজী আরেফ আহমেদ হত‍্যার নেপথে‍্যর নায়কদেরকেও জাতির সামনে পরিচিত করানোর উদে‍্যাগ নেবেন। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই। জনাব ইনু দেশে রাজনীতিতে যে কালো টাকার প্রভাব ও টাকাওয়ালাদের দলীয় মনোনয়ন দেয়ার জঘণ‍্য প্রতিযোগিতা এবং যে অসৎ রাজনীতি সেইসব দুবর্ৃত্তায়নকে তথা অসৎ রাজনীতিকে চ‍্যালেঞ্জ করবেন কিনা সেব‍্যাপারে নতুন তথ‍্যমন্ত্রি কিছু বলেননি। কালোটাকাযুক্ত অসৎ রাজনীতিকে তিনি মর্যাদার আসনে বসাবেন নাকি তাকেও চ‍্যালেঞ্জ করবেন সেটা বোঝার উপায় নেই!
বিডিনিউজ লিখেছে, জয়পুরহাটে অনে‍্যর জমি দখল করে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সাইনবোডর্ লাগানো হয়েছে। বিএনপি-জামাত জোটের আমলেও এমন দখলঘটনা ঘটেছে। কাজেই কার্যত বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধে‍্য পাথর্ক‍্য দেখা যায় না। “যেই যায় লংকা সেই হয় রাবণ” জাতীয় রাজনীতিকে তথ‍্যমন্ত্রি নিরুৎসাহিত করলে জাতি উপকৃত হতো।
বাংলাদেশের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি মহীউদ্দিন খান আলমগীর বলেছেন, ‘অপারেশন ক্লিনহার্টে হত্যারহস্যও উদঘাটিত হবে’ (সূত্র-বিডিনিউজ২৪)। আমরা জানি বিএনপি-জামায়াদত জোট সরকার ক্লিনহাটর্ অপারশেনর নামে ৫৮ জন মানুষকে হত‍্যা করেছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রির এই বক্তব‍্যও প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বিচার বহিভূর্ত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই বলেছিল যে ফখরু-মঈনের নেতৃত্বাধীন সেনা সরকারের আমলে নিপীড়ন-নির্যাতনকারি সকলের বিচার করা হবে। কিন্তু একজনেরও বিচার হয়নি আজও। কাজেই আমরা আমজনতা কথা শুনতে চাই না আর, অনেক শুনেছি। এবার কাজ করে দেখান প্লিজ! জনাব আলমগীর আরও বলেছেন, সব ঘটনা বিচার ‘বহির্ভূত হত্যার সংজ্ঞায়’ পড়ে না। অনুগ্রহ করে যদি আপনি বিচার বহিভূর্ত হত‍্যার সংজ্ঞাটি জাতি জানাতেন? বিএনপি-জামাত জোট করেছে ওদের সময় বেশি হয়েছে ইত‍্যাদি বলে পার পাবেন না। জনগণ “ভোটঅস্ত্র” দিয়ে আপনাদের বাগড়ম্বর ও মিথ‍্যাচারকে ধুলিস‍্যাৎ করে দেবে এতে কোন সন্দেহ নেই। কাজেই সাধু সাবধান! এখনও সময় আছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার। নইলে নিজামীরা আবার ক্ষমতায় আসবে!
রাজশাহী বিশ্ববিদ‍্যালয়ের তরুণ শিক্ষক কাজী জাহিদ অফিসিয়ালি বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস) এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাবার প্রাক্কালে ফেইসবুকে দেয়া এক স্টাটাসে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে আমার প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ‍্য দিয়েই লেখাটির ইতি টানবো।
দোয়া নেই, প্রত‍্যাশা আছে-সবাই ভালো করুন। তবে সততা, নীতিবোধ আর দল-মতের উদ্ধর্ে উঠে কাজ করার মতো পরিবেশ এখনও স্বদেশে গড়ে উঠেনি। আমি জানি সবাই বলবেন আমি হতাশাবাদি, মোটেই না। তাই বলে কী ভালো মানুষ, সৎ মানুষ নেই। আশি ভাগেরও বেশি মানুষ একেবারেই নির্ভেজাল-আমার বিশ্বাস। কিন্তু সেই ২০ ভাগের দাপট-ব‍্যবসা-বাণিজ‍্য, পরিবার, দলপ্রীতি আর ক্ষমতার অপব‍্যবহারই সবকিছুকে কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে সর্বনাশা সাইক্লোনের মতো! আমার চোখে দায়ি পচা ও দুর্গন্ধময় রাজনীতি। আর সেই রাজনীতির পরিশীলীত রুপ সদর্পে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত মানুষের মুক্তি নেই। ছবি-বিডিনিউজ২৪, গুগল থেকে নেয়া।

জামাতি সন্তান হাসিনা সরকারের প্রতিমন্ত্রি হচ্ছেন!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বঙ্গবন্ধু কন‍্যা হাসিনার মহাজোট কচি-কাঁচার আসর ছেড়ে বুড়োদের দিকে হাত বাড়াতে শুরু করেছে মনে হচ্ছে! সরকারের প্রায় শেষ সময়ে নব এই উদে‍্যাগকে হাসিনার আরেকদফায় নতুন চমক সৃষ্টি করার চেষ্টা বলে অনেকেই মনে করছে। তবে অন্তর্নিহিত লক্ষ‍্য হলো বেসামাল ঘর ও জোটের ভেতরের সব পক্ষকে খুশি রেখে আসন্ন নির্বাচনি বৈতরণী পার হবার প্রচেষ্টা। তাই মন্ত্রিসভার রদবদল বা সম্প্রসারণের নামে এবার পুরনোদের আবার কাছে টানার প্রবণতা বাড়ছে হাসিনা সরকারের ভেতরে। এবার নাকি মন্ত্রিসভায় কতিপয় ‘বুর্জোয়া’ বাম নেতা, ঐতিহাসিক ও সংগ্রামী আওয়ামী লীগ নেতা থেকে শুরু করে নব‍্য আওয়ামী লীগারদের মধ‍্য থেকেও কারও জায়গা হচ্ছে। নব‍্যদের মধে‍্য জামাতনেত্রীর সন্তানও আছে।
টাকাই বাংলাদেশের রাজনীতির এখন মূল নির্ভরতা, আদর্শ গৌন! এক জামাত নেত্রী (রোকন)’র সন্তান এবার হতে চলেছেন প্রতিমন্ত্রি! এই নব‍্য আওয়ামী লীগার টাকার বড়াই করেন অনেকটা প্রকাশে‍্য। তার কথা হলো “টাকা দিয়ে দলে ঢুকেছি, টাকা দিয়ে নেতা হয়েছি টাকা দিয়েই মন্ত্রিও হবো”। সুবিধাবাদ, তোষামদ, চাটুকারিতা আর তৈলমর্দন এবং টাকার ছড়াছড়িই রাজনীতিকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে, জনগণের ঘাড়ে সওয়ার করেছে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি ও সর্বনাশা দুর্নীতি। আর ওবায়দুলরা সেখানে সৎ মানুষদের রাজনীতিতে আসার স্বপ্নের গল্প বলে বেড়াচ্ছেন!
অনৈক‍্য, অবিচার, গণতন্ত্রহীনতা আর সুবিধাবাদিতার কবল থেকে বেরুনোর পথ পরিস্কার করতে না পারলে একাত্তরের ঘাতকচক্র আবার নিজ গাড়িতে পতাকা উড়াবে তাতে কী কারও সন্দেহ আছে? মাথার ওপরেতো সাম্রাজ‍্যবাদি মুরুব্বিদের খবরদারি এবং সুদখোর-ঘুষখোর ও মুনাফালোভী বণিকদের তৎপরতা আছেই। গণতন্ত্র, সাম‍্য ও সমাজবাদকে এগিয়ে নেয়ার জন‍্য কী আমরা জাগবো না কোনদিনও!!! ছবি দ‍্য হিন্দু, গুগল থেকে সংগৃহীত।

ভালো থাকুন মাহাতাব ভাই!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক মাহাতাব চৌধুরী। রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক সোনালী সংবাদ এর প্রধান প্রতিবেদক। আকস্মিকভাবেই শুক্রবার চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন নেতা, বন্ধু কমরেড এস এম চন্দনের ফেইসবুক স্টাটাস থেকে কয়েক ঘন্টা আগে জানতে পারলাম এই দু:খজনক খবরটি। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না বিয়োগান্তক খবরটিকে। ফোন করলাম রাজশাহী প্রেসক্লাবের কর্ণধার তথা সাধারণ সম্পাদক শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক সাইদুর রহমানকে। ফোন পেয়েই সাইদুর ভাই শিশুর মতো কেঁদে ওঠলেন। ঠিক যেন দু’ভাই ছিলেন উনারা উভয়ে! আমারও হৃদয়টা ভেঙ্গে যাচ্ছিল। সাইদুর ভাইয়ের সবচেয়ে কাছের অত‍্যন্ত‍ স্নেহভাজন ছিলেন মাহাতাব চৌধুরী। অনেক ঝড়, ঝঞ্জা, বিপদ মোকাবেলা করেছেন এই দুই স্বজ্জন ঐক‍্যবদ্ধভাবে। মাহাতাব ভাই যেমন সুন্দর লিখতেন ঠিক তেমনটাই ছিলেন একজন সুবক্তা। সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনবিরোধী সমাবেশগুলিতে তাঁর ভরাট গলার বক্তৃতা শুনতে যেমন ভালো লাগতো আমার তেমনি অনেকেই মুগ্ধ হতেন তাঁর ভাষণ শুনে।
আমি এটা হলফ করের বলতে পারি যে অনেকেই এখন শোকপ্রকাশ করবেন, সমবেদনা প্রকাশের ঢেউ তুলবেন মিডিয়ার পাতায় পাতায়। কত সুন্দর সুন্দর ও মধুর কথামালা গাঁথা হবে মাহাতাব চৌধুরীর নামের সঙ্গে তার হিসাব করাটাই দুস্কর হয়ে পড়বে। মানুষ চলে গেলে তার কদর বাড়ে শোকসভারমঞ্চে! এটাই সেখানে জনপ্রিয় রীতি বা রেওয়াজ। মাহাতাব চৌধুরীর বেলাতেও তার ব‍্যতিক্রম ঘটবে না এমনটাই স্বাভাবিক। “শোকসভা বা শোকাহতমিছিল” আয়োজনের চেয়ে সাংবাদিক মাহাতাব চৌধুরীর শিশুসন্তান ও পরিবার যাতে সামনে চলতে পারেন সুস্থ‍্য ও স্বাভাবিক গতিতে তার ব‍্যবস্থা করাটা জরুরি নয় কী? আশা করি এই বাস্তব অবস্থাটা অনুধাবন ও কার্যকর করতে সক্ষম হবে সেইসব প্রতিষ্মাঠান ও ব‍্যক্তি যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব‍্যক্তির জন‍্য নিরলসভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গেছেন অকুতোভয় নিষ্ঠাবান মাহাতাব! কোন কোন মহল বা ব‍্যক্তির তরফ থেকে “দূর থেকে বলা সহজ করে দেখাও না কেন” এমন বক্তব‍্য সম্বলিত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো হবে আমার এই লেখার বিরুদ্ধে সেটাও আমি জানি! আমি শোকাহত এমনটা বলতে চাই না। আমি একেবারে বাস্তবাদি। আমি ভাবি বাস্তব অবস্থা ও পরিস্থিতি নিয়ে। আমি কখনও সস্তা বাহবা বা মানুষের কাছ থেকে প্রশংসা পাবার আশায় কোন কিছু করি না বা লিখি না। কাজেই কে কী বললো বা ভাবলো তাতে কিচ্ছু আসে যায় না আমার!
যাহোক মানুষের চলে যাবার সময়টাতে বা কেউ যখন চলে যান আপন ঠিকানায় তখন ভাষার সমাপ্তি ঘটে। আমি নির্বাক! কত মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই সৎ ও সাহসী সাংবাদিক বন্ধুটির সঙ্গে। মিছিলে, মিটিংয়ে, সমাবেশে, পেশাগত কর্মসূচী সবখানেই বহুবার অসংখ‍্যবার অনুরোধ করেছি এই গম্ভীর ও বন্ধুবৎসল মানুষটিকে যে, “মাহাতাব ভাই” আপনি করে বলবেন না। কিন্তু তবুও তিনি সম্বোধন করতেন “আকাশ ভাই” বলেই। শিশুসন্তান, স্ত্রী, পিতা-মাতা ও বোনদের দায় থেকে চিরতরে নিজেকে লুকিয়ে নিলেন মাহাতাব ভাই! কিন্তু কেন, কী এমন বয়স হয়েছিল আপনার যে এভাবে চলে যাবেন আপনি? আমার বিশ্বাস শান্তি আপনার সঙ্গেই থাকবে অনন্তকাল কত কাল তা কেউই জানি না আমরা। ভালো থাকুন মাহাতাব ভাই। ছবিটি এসএম চন্দনের ফেইসবুক স্টাটাস থেকে নেয়া।