ভালো থাকুন মাহাতাব ভাই!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক মাহাতাব চৌধুরী। রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক সোনালী সংবাদ এর প্রধান প্রতিবেদক। আকস্মিকভাবেই শুক্রবার চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন নেতা, বন্ধু কমরেড এস এম চন্দনের ফেইসবুক স্টাটাস থেকে কয়েক ঘন্টা আগে জানতে পারলাম এই দু:খজনক খবরটি। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না বিয়োগান্তক খবরটিকে। ফোন করলাম রাজশাহী প্রেসক্লাবের কর্ণধার তথা সাধারণ সম্পাদক শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক সাইদুর রহমানকে। ফোন পেয়েই সাইদুর ভাই শিশুর মতো কেঁদে ওঠলেন। ঠিক যেন দু’ভাই ছিলেন উনারা উভয়ে! আমারও হৃদয়টা ভেঙ্গে যাচ্ছিল। সাইদুর ভাইয়ের সবচেয়ে কাছের অত‍্যন্ত‍ স্নেহভাজন ছিলেন মাহাতাব চৌধুরী। অনেক ঝড়, ঝঞ্জা, বিপদ মোকাবেলা করেছেন এই দুই স্বজ্জন ঐক‍্যবদ্ধভাবে। মাহাতাব ভাই যেমন সুন্দর লিখতেন ঠিক তেমনটাই ছিলেন একজন সুবক্তা। সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনবিরোধী সমাবেশগুলিতে তাঁর ভরাট গলার বক্তৃতা শুনতে যেমন ভালো লাগতো আমার তেমনি অনেকেই মুগ্ধ হতেন তাঁর ভাষণ শুনে।
আমি এটা হলফ করের বলতে পারি যে অনেকেই এখন শোকপ্রকাশ করবেন, সমবেদনা প্রকাশের ঢেউ তুলবেন মিডিয়ার পাতায় পাতায়। কত সুন্দর সুন্দর ও মধুর কথামালা গাঁথা হবে মাহাতাব চৌধুরীর নামের সঙ্গে তার হিসাব করাটাই দুস্কর হয়ে পড়বে। মানুষ চলে গেলে তার কদর বাড়ে শোকসভারমঞ্চে! এটাই সেখানে জনপ্রিয় রীতি বা রেওয়াজ। মাহাতাব চৌধুরীর বেলাতেও তার ব‍্যতিক্রম ঘটবে না এমনটাই স্বাভাবিক। “শোকসভা বা শোকাহতমিছিল” আয়োজনের চেয়ে সাংবাদিক মাহাতাব চৌধুরীর শিশুসন্তান ও পরিবার যাতে সামনে চলতে পারেন সুস্থ‍্য ও স্বাভাবিক গতিতে তার ব‍্যবস্থা করাটা জরুরি নয় কী? আশা করি এই বাস্তব অবস্থাটা অনুধাবন ও কার্যকর করতে সক্ষম হবে সেইসব প্রতিষ্মাঠান ও ব‍্যক্তি যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব‍্যক্তির জন‍্য নিরলসভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গেছেন অকুতোভয় নিষ্ঠাবান মাহাতাব! কোন কোন মহল বা ব‍্যক্তির তরফ থেকে “দূর থেকে বলা সহজ করে দেখাও না কেন” এমন বক্তব‍্য সম্বলিত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো হবে আমার এই লেখার বিরুদ্ধে সেটাও আমি জানি! আমি শোকাহত এমনটা বলতে চাই না। আমি একেবারে বাস্তবাদি। আমি ভাবি বাস্তব অবস্থা ও পরিস্থিতি নিয়ে। আমি কখনও সস্তা বাহবা বা মানুষের কাছ থেকে প্রশংসা পাবার আশায় কোন কিছু করি না বা লিখি না। কাজেই কে কী বললো বা ভাবলো তাতে কিচ্ছু আসে যায় না আমার!
যাহোক মানুষের চলে যাবার সময়টাতে বা কেউ যখন চলে যান আপন ঠিকানায় তখন ভাষার সমাপ্তি ঘটে। আমি নির্বাক! কত মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই সৎ ও সাহসী সাংবাদিক বন্ধুটির সঙ্গে। মিছিলে, মিটিংয়ে, সমাবেশে, পেশাগত কর্মসূচী সবখানেই বহুবার অসংখ‍্যবার অনুরোধ করেছি এই গম্ভীর ও বন্ধুবৎসল মানুষটিকে যে, “মাহাতাব ভাই” আপনি করে বলবেন না। কিন্তু তবুও তিনি সম্বোধন করতেন “আকাশ ভাই” বলেই। শিশুসন্তান, স্ত্রী, পিতা-মাতা ও বোনদের দায় থেকে চিরতরে নিজেকে লুকিয়ে নিলেন মাহাতাব ভাই! কিন্তু কেন, কী এমন বয়স হয়েছিল আপনার যে এভাবে চলে যাবেন আপনি? আমার বিশ্বাস শান্তি আপনার সঙ্গেই থাকবে অনন্তকাল কত কাল তা কেউই জানি না আমরা। ভালো থাকুন মাহাতাব ভাই। ছবিটি এসএম চন্দনের ফেইসবুক স্টাটাস থেকে নেয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s