Monthly Archives: নভেম্বর 2012

শ্রমিক বাঁচলে পোশাক কারখানা চলবে

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। চাই আরও দুর্নীতি, অনেক-অগণিত লাশ ও আগুন, হাজার তদন্ত কমিটি, প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে আসল সত‍্যটাকে ধামাচাপা দেয়ার অঙ্গিকার, দেশি-বিদেশি বিপুল অর্থের লুটপাট সর্বোপরি চাই আরও অনৈতিকতা, অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও গণতন্ত্রহীনতা! তাই পোশাক কারখানার মালিক ভাইয়েরা আপনারা শিল্পকারখানায় দুর্ঘটনা এড়াতে আরও বেশি সাবধান ও সতর্ক থাকুন।
প্রচন্ড মানসিক দহন ও পীড়ার প্রকাশ হিসেবে লেখার শুরুতেই হতাশামূলক কথাগুলি লিখেছি। কারণ সহজ-সরল কোমলমতি সোনার মানুষগুলির ঘামঝড়া শ্রমে যে হীরার ন‍্যায় বিবেচিত বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসেন যে সেক্টরটির মাধ‍্যমে সেই মণিমুক্তার মতো ক্ষেত্রটিকে শুধুমাত্র অবিচারে পূর্ণ দুবর্ৃত্ত শাসন ব‍্যবস্থা ও মুনাফালোভীদের অবহেলা-দায়িত্বহীনতার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই পোড়া মানুষগুলির কল্পিত ছবি মনের আয়নায় আঁকছি আর চোখের জল গড়ছে আমার অজান্তেই। ইন্টারনেটের বদৌলতে টিভিপর্দার মাধ‍্যমে স্বদেশ থেকে স্বজনহারা মা-বোন, ভাই-বাবাদের আহাজারিতে প্রচন্ড শীতের এই দেশটিতে যেখানে থেকে লিখছি তার বাতাসও যেন গরম হয়ে উঠছে। সবকিছুতেই “ষড়যন্ত্র” র ধোয়া তুলে রাষ্ট্রীয় ব‍্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা নতুন কিছু নয় আমার সোনার বাংলায়।
প্রিয় পাঠক উপরের প‍্যারাটির শেষ বাক‍্যটি বাংলাদেশের তথাকথিত গণতন্ত্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর “গণতান্ত্রিক” প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা পোশাক শিল্প মালিকদের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেছেন। সূত্র> এনটিভির দুপুর ১২টার সংবাদ (২৭ নভেম্বর ২০১২)। এটিএন বাংলার ২৭ নভেম্বরের এক রিপোটর্ মতে, ১৯৯০ সাল থেকে দেশের পোশাক কারখানায় বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকান্ডে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন অগনিত। প্রতে‍্যকটি ২৮ নভেম্বরের আমাদের সময় লিখেছে, দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার পোশাক কারখানা। হাসিনা এবং তাঁর সরকার ও সরকার সমর্থকদের ভাবখানা এমন যেন পোশাক কারখানায় এইবারই প্রথম আগুন লাগলো, আগে শ্রমিক মারা যায়নি একইভাবে! উনারা যেন অন্ধ, কিছুই দেখেন না, তাদের যেন জ্ঞান-বুদ্ধি কিছুই নেই। আসলে এরা জ্ঞানপাপী, মিথু‍্যক, ক্ষমতালোভী।
বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ। পোশাক কারখানাগুলিতে ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন। বৃহৎ এই পোশাক খাতই বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। আর এই সেক্টর আজ হুমকির মুখে। পোশাক শ্রমিকদের নেই জীবনের নিরাপত্তা, নেই কোন আর্থিক নিরাপত্তাও। কারখানাগুলিতে (অধিকাংশ) নেই কোন আগুন নেভানোর সুব‍্যবস্থা এমনকি জরুরি প্রয়োজনে নিরাপদ বহির্গমন ব‍্যবস্থাও। ফলে প্রতিবছরই আগুন লাগছে এবং কর্মজীবী মানুষ মারা যাচ্ছেন। মানুষ মারা গেলেই মাথাগুনে নামমাত্র ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ প্রদানের সেই প্রতিশ্রুতি পূরণও করা হয় না পুরোপুরি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেছেন যে, “আমাদের হাতে সব তথ‍্য উপাত্ত আছে কী করে এবং কারা পোশাক কারখানায় আগুন লাগিয়েছে”? উনি দেশে কোন ঘটনা ঘটলেই বিশেষত: আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট কোন ঘটনা ঘটামাত্রই এই “মখাআ” প্রায় একই বক্তব‍্য দিয়ে থাকেন মিডিয়ার সামনে। কিন্তু তাঁর বক্তবে‍্যর বাস্তবতা, সত‍্যতা কতটুকু, সাধারণ মানুষই বা কত শতাংশ বিশ্বাস করেন তাঁর বক্তব‍্য তা প্রশ্নসাপেক্ষ। সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকারিদের আজও জাতির সামনে তিনি হাজির করতে পারেননি। শ্রমিক নেতা আমিনুল হত‍্যাকান্ডেরও কোন কিনারা করতে পারেননি এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি। কিন্তু তারপরও তারা বলে চলেছেন, “সবকিছু বের করা হবে, অপরাধি শাস্তি পাবে, তদন্ত চলছে”। কিন্তু শেষতক খুনিদের নাগাল কখনই পায় না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি ও প্রশাসন!
নিশ্চিন্তপুরের পোশাক কারখানার গণহত‍্যার নায়কদের বাঁচাতে সুমি ও জাকির নামের দু’জনকে বলির পাঠা বানানোর নাটক মঞ্চায়ন ইতোমধে‍্য হয়ে গেছে। একশ্রেণীর মিডিয়া আবার সেটাকে ফলাও করে প্রচারও করছে। হায় সাংবাদিকতা! এই সাধারণ বিচারবুদ্ধি নেই যে সুমি এখানে ব‍্যবহৃত হয়েছে আগুন লাগানোর জন‍্য এবং ১১০ বা ১২৪ জন পোশাক শ্রমিকের গণহত‍্যার নায়কদের বাঁচাতে ও প্রকৃত ধামাচাপা দেবার জন‍্য। চাই অনুসন্ধানী ও এডভোকেসি সাংবাদিকতা মানুষের জন‍্য, সমাজে ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন‍্য এবং ঘাতকদের মুখোশ উন্মোচনের জন‍্য। সেই সাংবাদিকতা কোথায় পাবো? সব মিডিয়া মালিকও যে খালেদা নয়তো হাসিনা বা তাঁদের জোটভুক্তদের কট্রর সমর্থক কিংবা মিডিয়ামালিকদের আছে নিজ নিজ ব‍্যবসাপাতি ও স্বার্থ এবং কর ফাঁকির চেষ্টা, সাথে আরও আছে রাজনৈতিক দর্শন।
মিথ‍্যাবাদি, দুবৃত্ত শাসক, শোষক রাজনীতিক ও মিডিয়া নিপাত যাক, মানুষ জেগে ওঠুন নিজের মান-মর্যাদা, জীবন ও দেশ বাঁচাতে। দেশের মানুষ একদিন না একদিন জেগে ওঠবেনই, তখন কেউ কোন দিশা পাবে না পালানোর। সেই দিনটি না আসা পর্যন্ত নিশ্চিন্তপুরের মতো গণহত‍্যা ঘটতেই থাকবে! আমরা আমজনতা, হাসিনা-খালেদা বুঝি না। বুঝি দেশের স্বার্থ। শ্রমিক বাঁচলে, পোশাক কারখানা সচল থাকবে, বৈদেশিক মুদ্রা পাবে দেশ, সরকার। আর ঘুরবে অর্থনীতির চাকা। আর যাই হোক হাসিনা-খালেদারা অন্ত:ত এই সত‍্যটা বোঝার মতো বিবেক আছে। আর যদি নাই থাকে তবে দেশ শাসন করারও কোন অধিকার নেই তাঁদের।
কথা নয় কাজ দেখতে চাই আমরা। পোশাক কারখানাগুলিতে কাজের পরিবেশ, আট ঘন্টার বেশি সময়ের জন‍্য ওভারটাইম ভাতা প্রদান শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব‍্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন‍্যায‍্য মজুরি-ভাতা ও ছুটির ব‍্যবস্থাও করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে শ্রমিক যেন নিরাপদে কারখানার বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে তার ব‍্যবস্থা করাও অত‍্যন্ত জরুরি।
কাজেই ক্ষমতা, স্বার্থ ও পরিবারচিন্তা ভুলে মানুষ ও দেশকে বাঁচাতে এই দই নেত্রী সত‍্যচর্চা, গণতন্ত্রকে জিইয়ে রাখা ও বাস্তবে তার চর্চা এবং দেশে ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাবেন সেই প্রত‍্যাশাই করি সুদূর প্রবাস থেকে। জয় হোক মানুষ ও মানবতার, নিপাত যাক ষড়যন্ত্র, মিথ‍্যাচার আর স্বার্থপরতার সংস্কৃতি। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

এই পোড়া লাশের গন্ধ কী হাসিনা-খালেদার নাকে পৌঁছায়?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আগুনে পুড়ে ১১২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন ঢাকার সাভারের নিশ্চিন্তপুরের পোশাক কারখানা তাজরিন ফ্যাশনে। এমন অমানবিক মৃতু‍্য এর আগেও বহুবার ঘটেছে। কিন্তু কেন ঘটছে, কারা দায়ি এমনসব হৃদয়বিদারক মৃতু‍্যর জন‍্য তা জানা যাচ্ছে না। এমন সারি সারি লাশ শোকপ্রকাশের ঢল নামায়। এবারও কোন ব‍্যতর্‍্যয় ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রি, বিরোধীদলীয় নেত্রী ইতোমধে‍্যই শোক জানিয়েছেন। সরকার নাকি আবার জাতীয় শোক ঘোষণা করবে। ভাবখানা এমন যেন জাতীয় শোক ঘোষণা করলেই স্বজনহারা মানুষগুলি তাঁদের প্রিয়জনদের ফিরে পাবেন!
দেশের পোশাকশিল্প অর্থনীতিতে এক বিরাট ভূমিকা পালন করে। সেই সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকরা কী মানবেতর জীবন যাপন করে তা সবারই জানা। ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকার মাসিক বেতনে একটা পরিবার চলতে পারে না। পোশাক কারখানার মালিকদের বাড়ে জৌলুস, বাড়ে না দরিদ্র অসহায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা। একদিকে অর্থনৈতিক অনিরাপত্তা আরেকদিকে জীবনের অনিশ্চয়তা। পোশাক শ্রমিকদের জীবন আটকা পড়েছে এই দুই অনিশ্চয়তার জালে। কিন্তু তাতে হাসিনা বা খালেদার কী আসে যায়? উনারাতো শুধু ক্ষমতা চান, গদি রক্ষা আর গদিতে বসার লড়াই অটুট থাকলে কে মরলো, আর কে বাঁচলো ততে তাঁদের কোন আসে যায় কী?
পোশাক কারখানাগুলিতে আগুন লাগার মতো জরুরি সময়ে শ্রমিকদের বাইরে বেরিয়ে আসার মতো কোন সুব‍্যবস্থা আছে কিনা, আগুন নেভানোর মতো কোন ব‍্যবস্থা কিংবা কারখানার আশেপাশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বা জলাধার আছে কিনা এসব প্রশ্ন কখনও কী সরকার খতিয়ে দেখেছে বা দেখে? যেনতেন প্রকারে পোশাক কারখানা গড়ে তুলে সাধারণ শ্রমিকদের ঘামঝড়া পরিশ্রমের ফসলে মালিকরা বাহাদুরি করে, কিন্তু যাঁদের কারণে এই বাহাদুরি চলে তাঁদের জীবনের নিরাপত্তার ব‍্যবস্থা যারা করতে পারেনি বা পারে না তাদের বিরুদ্ধে কী কখনও সরকার ব‍্যবস্থা নেবে?
ফি-বছর পোশাক কারখানায় আগুন লাগে, মানুষ মরে। শ্রমিকদের আশা-ভরসা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিন্তু পোশাক কারখানার শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব‍্যবস্থা বাড়ে না। বাড়ে না অর্থনৈতিক অধিকারও। প্রতিবছর মানুষ পুড়বে আর আমরা শোকসভা ও শোকবাণী বা বিবৃতির মধ‍্য দিয়েই পোড়া মানুষগুলিকে সমাহিত করবো! আর কতো কান্না,যন্ত্রণা ও পোড়া লাশ পেলে ক্ষমতা ও গদিপ্রিয় মানুষগুলির হৃদয়ে ভালোবাসার জন্ম নেবে এইসব দরিদ্র মানুষগুলির জন‍্য?
এসব অভাগা, অসহায় ও দরিদ্র মানুষগুলির (প্রকৃতঅর্থে যাঁরা হাসিনা-খালেদাদের লাক্সারিয়াস জীবনের রসদ যোগান দেন) পোড়া লাশের গন্ধ কী হাসিনা-খালেদার নাক পর্যন্ত পৌঁছায়? নাকি উনাদের সেই অনুভূতিবোধ আছে? ছবি-বিডিনিউজ২৪ থেকে নেয়া।

জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ঠেকাতে নাকি গদি রক্ষার আহবান?

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশের চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে পড়ে চারজনের করুণ মুতু‍্য হয়েছে। নয়জন নিহত হয়েছেন রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় আগুনে পুড়ে। নিহতদের মধে‍্য সাতজন নারী। এসব অমানবিক হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কোন আহবান এখনও মিডিয়ায় আসেনি। তবে জামায়াত-শিবির ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসির প্রতি ঐকে‍্যর ডাক দেয়া হয়েছে।
শুধু জামায়াত ঠেকাতে নয় ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা এবং গণতন্ত্রের চর্চা ও দেশ রক্ষার ঐক‍্য জরুরি। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর জামায়াত ঠেকাতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও একতার আহবান জানিয়েছেন। অন‍্যদিকে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও আগ্রাসী কর্মকান্ড প্রতিরোধে চোরাগোপ্তা হামলার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ। ফুলবাড়ি, মানুষ ও পরিবেশ রক্ষার হরতালকে দেশে “অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির” হরতাল বলেও অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি। বিডিনিউজ২৪ আরও একটি খবর দিয়েছে। সেটি হলো আওয়ামী আইনজীবীদের মাঝে বিভেদ। হানিফ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি যখন দেশবাসিকে ঐক‍্যবদ্ধ হবার আহবান জানাচ্ছেন তখন নিজেদের ঘরের আইনজীবীরাই দুই শিবিরে বিভক্ত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একদিকে মৌলবাদিদের সন্ত্রাস মোকাবেলায় ঐকে‍্যর আহবান অন‍্যদিকে মানুষ, পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার হরতাল তথা গণতান্ত্রিক অধিকারকে অস্থিতিশীল বলে ধামকি দিয়ে স্ববিরোধী অবস্থান নিয়েছে।
প্রশ্ন জাগে, আওয়ামী লীগ জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ঠেকাতে ঐকে‍্যর ডাক দিয়েছে নাকি গদি রক্ষার জন‍্য সরকারের শেষ সময়ে মানুষকে পাশে চাইছে? বলা চলে নব্বইয়ের দশক থেকেই আওয়ামী লীগ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলিকে পাশে নেবার চেষ্টা করেছে যখনই তারা সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী ঘাতক জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও আক্রমণের শিকার হয়েছে। আবার ক্ষমতায় গিয়ে সতার্থ বন্ধুদের ভুলে গেছে! শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও অন‍্যান‍্য প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সুশিল সমাজের ঐক‍্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়েই সব ইতিহাস পেছনে ফেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নটি এড়িয়ে গিয়েছিল। অবশ‍্য জাতির জনক ও জাতীয় চার নেতার পৃথিবীর সবচাইতে বর্বরতম নৃশংস হত‍্যাকান্ডের বিচারের সব বাধা দূর করে খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করে।
সরকারি দল একদিকে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস মোকাবেলায় জনগণের সহযোগিতা চাইছে আরেকদিকে জামায়াত নেত্রীর পুত্রকে প্রতিমন্ত্রী বানাচ্ছে! আবার রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকেও বহাল রাখছে। বাহ্ চমৎকার নীতি! এই দলটি নির্বাচিত নেতাকে কোনরকমের কারণ ছাড়াই পদচু‍্যৎ করে জ্বি-হুজুরমার্কা ব‍্যক্তিদের রাতারাতি নেতার পদ দিয়ে পুরস্কৃত করছে। আওয়ামী লীগের কতিপয় মন্ত্রি-মেয়র ও এমপি নাকি টাকার বিনিময়ে জামায়াত-শিবিরের ক‍্যাডারদের পুলিশের চাকরিতেও বসিয়েছে। এধরণের অভিযোগ হরহামেশাই প্রকাশিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ‍্যমগুলিতে। গল্পের এখানেই শেষ নয়, জামায়াত-শিবিরের ক‍্যাডার ও কর্মীরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ও ছাত্রলীগেও ঢুকে পড়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। আবার ছাত্র ইউনিয়ন বা প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন করা সরকারি কর্মকর্তা বা পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্ষমতাসীন কারও অনৈতিক কাজে সায় না দেবার কারণে শাস্তিমূলক বদলি এমনকি ওইসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ‍্যা রটনাও ছড়ানোর খবর বেরিয়েছে ফেইসবুকে।
শেখ হাসিনা, তাঁর দল আওয়ামী লীগের কাছে আমার প্রশ্ন-সংসদে ব্রুট মেজরিটি থাকার পরও জামায়াত-শিবির তথা ধমর্ীয়-মৌলবাদি রাজনীতি নিষিদ্ধ করছেন না কেন? কেন দলের ভেতরে (মাঠ পর্যায়ে বা তৃণমূল পর্যায়ে) সংহতি ও ঐক‍্য গড়ে তুলতে পারছেন না? কেন দেশজুড়ে এমপিতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে? কেন ত‍্যাগি ও দীর্ঘদিনের পুরনো নেতাদের বাদ দিয়ে (প্রায় ১৬০ টি আসনে) নব‍্য ও কালো টাকার মালিকদের বিগত নির্বাচনে নমিনেশন দিয়ে দলের ভেতরের সংহতি ও একতাকে বিনষ্ট করা হয়েছে, এবং কে এরজন‍্য দায়ি? আওয়ামী লীগের ভাগ‍্য সুপ্রসন্ন এই জনে‍্য যে দেশে জনগণের কথা ভাবে (তবে ক্ষমতার কথা ভাবে তারা) এমন শক্ত বিরোধীদল নেই! দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সুবিধাবাদি-তোষামদকারিরা কেন বেশি প্রিয় দলীয় ত‍্যাগী নেতা-কর্মীদের চেয়ে?
বাহাত্তরের মূল সংবিধান মতে দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার সুযোগ ছিল না। শেখ হাসিনার দল কেন সেই মূল সংবিধানে ফেরার সাহস করছেন না? এখনও সময় ফুরোয়নি। নিজের ঘর সামলাতে পারলে, সুবিধাবাদী চক্রকে বিতাড়ন, দুর্নীতি ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করে, দেশে গণতন্ত্রের (প্রকৃতার্থে) চর্চা ও ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে পারলেই কেবল সাধারণ মানুষসহ সমমনা সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সমর্থন মিলবে পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড মোকাবেলা করা সম্ভব। নইলে সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদি শক্তিকে মোকাবেলা করাটা অত সহজ হবে বলে মনে করি না। কাজেই অন‍্যদের ঐকে‍্যর পথে ডাকার আগে নিজের ঘর ঠিক করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে আওয়ামী লীগের জন‍্য! ছবি গুগল থেকে নেয়া।

বুকে হাত দিয়ে বলুন আপনারা নাকি টিআইবি সঠিক!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)’র সাম্প্রতিক একটি জনমত জরিপ রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সংসদ সদস‍্যরা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। সংসদের স্পীকারও সংসদ সদস‍্যদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে টিআইবির প্রতি খেদোক্তি প্রকাশ করেছেন। বিক্ষুব্ধ সংসদ সদস‍্যদের কেউ কেউ টিআইবির বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। টিআইবির সমালোচনায় মুখর এসব সংসদ সদস‍্য। এমনকি তথ‍্যমন্ত্রি, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুও টিআইবির প্রতিবেদনকে প্রত‍্যাখ‍্যান করে জানান, সরকার এই সিদ্ধান্ত টিআইবির সদর দপ্তরে পাঠাবে।
এখন দেখা যাক রিপোর্টটির মূল বক্তব‍্যটা কী ছিল? টিআইবির রিপোর্টে বলা হয়, “সংসদ সদস্যদের ৯৭ শতাংশই বিভিন্ন ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত। প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন বরাদ্দের অপব্যবহার, অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত হওয়ায় সমর্থন, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্লট বরাদ্দ নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আসে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে।”
মাননীয় তথ‍্যমন্ত্রি ও সংসদ সদস‍্যরা যারা এই প্রতিবেদনের ওপর নাখোশ হয়েছেন তারা কী বুকে হাত দিয়ে বলার সাহস পাবেন যে টিআইবির রিপোর্ট ‘মিথ‍্যা’? আমার মনে হয় টিআইবির রিপোর্ট শত নয় হাজার নয় কোটি ভাগ সত‍্য। ওখানে জনগণের শাসন চলে না, চলে এমপিদের ব‍্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার শাসন। ৩০০ প্লাজ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস‍্যরা ছাড়া দেশে একটি মানুষও খঁজে পাওয়া যাবে না যিনি টিআইবির রিপোর্টকে মিথ‍্যা বলবেন! যারা এই বাস্তবসম্মত রিপোর্টটিকে মিথ‍্যা বলছেন তাদের কাছে প্রশ্ন-নির্বাচনে কত টাকা ব‍্যয় করেছেন এবং সেই টাকার উৎস কী? আল্লাহ-ভগবানে বিশ্বাস থাকলে বুকে হাত দিয়ে এই প্রশ্নটির উত্তর দিন এবং নিজেদের সততা ও স্বচ্ছতা প্রমাণ করুন, প্লিজ! তারপরে টিআইবির রিপোর্টকে সমালোচনা করুন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে টিআইবির চলমান সংগ্রামে সংহতি জানাই। একই সাথে ধিক্কার জানাই তাদের যারা জ্ঞানপাপীর ন‍্যায় সত‍্যকে মেনে নিতে ভয় পায়।
সংসদ সদস‍্যরা বিশেষ করে সরকার দলীয় সংসদ সদস‍্যরা টিআইবির রিপোর্ট নিয়ে ব‍্যস্ত। সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনের রহস‍্য উন্মোচন হয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করতে মন্থরগতি। এরই সুযোগে দেশে সাম্প্রদায়িকতার ডালপালা গজাতে শুরু করেছে। শক্ত হাতে সন্ত্রাস-মৌলবাদী তৎপরতাকে দমন করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করে দেশে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ও সমাজ ব‍্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে ঘাতক জামাত-শিবির চক্র যে কঠিন আঘাত হানবে প্রগতিশীল শক্তির ওপর তার মহড়া দেশবাসি ইতোমধে‍্য দেখতে শুরু করেছেন। রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ে এক ছাত্রের পায়ের রগ কাটা হয়েছে। কাজেই টিআইবির রিপোর্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা না করে সংসদ সদস‍‍্যরা নেতিবাচক কর্মকান্ড থেকে নিজেদের নিবৃত করে দেশ ও মানুষের কল‍্যাণে কাজ করবে এমনটাই আশা করি।
রাষ্ট্রযন্ত্রটাকে একটা লাঠিয়াল ও জঙ্গি রুপ দিয়েছে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি। রাষ্ট্র ও সমাজ ব‍্যস্থা এমপিতন্ত্র আর সুবিধাবাদ-তোষামদকারি-চাটুকারদের দখলে। আর সৎ ওসব আপেক্ষিক! সৎ আর ভালো মানুষ সেখানে বড় অসহায়। চার চারটা দশক চলে গেছে স্বাধীনতার পরে। কিন্তু রাজনীতি মানে শয়তানি রাজনীতি যা শুধু ক্ষমতা, গদি, দল ও পরিবারকেই ভালোবাসে দেশ ও মানুষকে নয় তার কারণে শত সহস্র সম্ভাবনার সোনার বাংলাদেশ হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। দেশের সিংহভাগ মানুষই ভালো এবং সৎ। কিন্তু অবিচার, অন‍্যায়, দুর্নীতি আর ক্ষুধার কাছে পরাজিত হচ্ছে মানুষ ও মানবতা। আর গুটিকতক দুবর্ৃত্ত, সুদখোর ও মুনাফালোভীরা অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে। এই রাষ্ট্র, দেশ কী চেয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ৩০লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোন যাঁরা নিজেদের সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন।
ঢাকায় তাহের মেলার আয়োজন। ফেইসবুকে সেই মেলায় আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নিজের অসহায়ত্ব ঢাকার পাশাপাশি আয়োজকদের প্রতি ধন‍্যবাদ ও উৎসাহ জানানোর মধ‍্য দিয়ে লেখার সমাপ্তি টানবো। জীবন মানে কী তা উপলব্ধি করার প্রচেষ্টায় আছি! থাকি অনেক দূরে। আয়োজন স্বদেশকোলে। সাধ থাকলেও উপায় নেই দেশমাতার কোলে ঘুমিয়ে পড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার। তাই মানসিক উপস্থিতির বাইরে অন‍্য কোন গত‍্যন্তর নেই ঠিক এই মুহুতর্ে প্রাচে‍্যর অক্সফোডর্ খ‍্যাত ঢাবির টিএসসিতে শারীরীক উপস্থিতির জানান দেবার। আয়োজন সফল হোক। দুই নেত্রীর কামড়াকামড়ি মনটা যেন ভালবাসায় ভরে উঠে। ক্ষমতা, গদি, পরিবারের জন‍্য নয় দেশ, মাটি, মা ও মানুষের জন‍্য এই দুই “মহান” নেত্রীকে প্রকৃতি যেন হেদায়েত করার শক্তি অর্জন করে! জয় হোক দেশপ্রেমিক তাহেরদের। নিপাত যাক দুর্নীতি, মিথ‍্যাচার, সুবিধাবাদ, লোভ-লালসা আর লুটপাটতন্ত্র। ছবি/নিউএইজ-গুগল থেকে সংগৃহীত।