বুকে হাত দিয়ে বলুন আপনারা নাকি টিআইবি সঠিক!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)’র সাম্প্রতিক একটি জনমত জরিপ রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সংসদ সদস‍্যরা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। সংসদের স্পীকারও সংসদ সদস‍্যদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে টিআইবির প্রতি খেদোক্তি প্রকাশ করেছেন। বিক্ষুব্ধ সংসদ সদস‍্যদের কেউ কেউ টিআইবির বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। টিআইবির সমালোচনায় মুখর এসব সংসদ সদস‍্য। এমনকি তথ‍্যমন্ত্রি, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুও টিআইবির প্রতিবেদনকে প্রত‍্যাখ‍্যান করে জানান, সরকার এই সিদ্ধান্ত টিআইবির সদর দপ্তরে পাঠাবে।
এখন দেখা যাক রিপোর্টটির মূল বক্তব‍্যটা কী ছিল? টিআইবির রিপোর্টে বলা হয়, “সংসদ সদস্যদের ৯৭ শতাংশই বিভিন্ন ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত। প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন বরাদ্দের অপব্যবহার, অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত হওয়ায় সমর্থন, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্লট বরাদ্দ নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আসে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে।”
মাননীয় তথ‍্যমন্ত্রি ও সংসদ সদস‍্যরা যারা এই প্রতিবেদনের ওপর নাখোশ হয়েছেন তারা কী বুকে হাত দিয়ে বলার সাহস পাবেন যে টিআইবির রিপোর্ট ‘মিথ‍্যা’? আমার মনে হয় টিআইবির রিপোর্ট শত নয় হাজার নয় কোটি ভাগ সত‍্য। ওখানে জনগণের শাসন চলে না, চলে এমপিদের ব‍্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার শাসন। ৩০০ প্লাজ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস‍্যরা ছাড়া দেশে একটি মানুষও খঁজে পাওয়া যাবে না যিনি টিআইবির রিপোর্টকে মিথ‍্যা বলবেন! যারা এই বাস্তবসম্মত রিপোর্টটিকে মিথ‍্যা বলছেন তাদের কাছে প্রশ্ন-নির্বাচনে কত টাকা ব‍্যয় করেছেন এবং সেই টাকার উৎস কী? আল্লাহ-ভগবানে বিশ্বাস থাকলে বুকে হাত দিয়ে এই প্রশ্নটির উত্তর দিন এবং নিজেদের সততা ও স্বচ্ছতা প্রমাণ করুন, প্লিজ! তারপরে টিআইবির রিপোর্টকে সমালোচনা করুন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে টিআইবির চলমান সংগ্রামে সংহতি জানাই। একই সাথে ধিক্কার জানাই তাদের যারা জ্ঞানপাপীর ন‍্যায় সত‍্যকে মেনে নিতে ভয় পায়।
সংসদ সদস‍্যরা বিশেষ করে সরকার দলীয় সংসদ সদস‍্যরা টিআইবির রিপোর্ট নিয়ে ব‍্যস্ত। সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনের রহস‍্য উন্মোচন হয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করতে মন্থরগতি। এরই সুযোগে দেশে সাম্প্রদায়িকতার ডালপালা গজাতে শুরু করেছে। শক্ত হাতে সন্ত্রাস-মৌলবাদী তৎপরতাকে দমন করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করে দেশে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ও সমাজ ব‍্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে ঘাতক জামাত-শিবির চক্র যে কঠিন আঘাত হানবে প্রগতিশীল শক্তির ওপর তার মহড়া দেশবাসি ইতোমধে‍্য দেখতে শুরু করেছেন। রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ে এক ছাত্রের পায়ের রগ কাটা হয়েছে। কাজেই টিআইবির রিপোর্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা না করে সংসদ সদস‍‍্যরা নেতিবাচক কর্মকান্ড থেকে নিজেদের নিবৃত করে দেশ ও মানুষের কল‍্যাণে কাজ করবে এমনটাই আশা করি।
রাষ্ট্রযন্ত্রটাকে একটা লাঠিয়াল ও জঙ্গি রুপ দিয়েছে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি। রাষ্ট্র ও সমাজ ব‍্যস্থা এমপিতন্ত্র আর সুবিধাবাদ-তোষামদকারি-চাটুকারদের দখলে। আর সৎ ওসব আপেক্ষিক! সৎ আর ভালো মানুষ সেখানে বড় অসহায়। চার চারটা দশক চলে গেছে স্বাধীনতার পরে। কিন্তু রাজনীতি মানে শয়তানি রাজনীতি যা শুধু ক্ষমতা, গদি, দল ও পরিবারকেই ভালোবাসে দেশ ও মানুষকে নয় তার কারণে শত সহস্র সম্ভাবনার সোনার বাংলাদেশ হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। দেশের সিংহভাগ মানুষই ভালো এবং সৎ। কিন্তু অবিচার, অন‍্যায়, দুর্নীতি আর ক্ষুধার কাছে পরাজিত হচ্ছে মানুষ ও মানবতা। আর গুটিকতক দুবর্ৃত্ত, সুদখোর ও মুনাফালোভীরা অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে। এই রাষ্ট্র, দেশ কী চেয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ৩০লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোন যাঁরা নিজেদের সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন।
ঢাকায় তাহের মেলার আয়োজন। ফেইসবুকে সেই মেলায় আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নিজের অসহায়ত্ব ঢাকার পাশাপাশি আয়োজকদের প্রতি ধন‍্যবাদ ও উৎসাহ জানানোর মধ‍্য দিয়ে লেখার সমাপ্তি টানবো। জীবন মানে কী তা উপলব্ধি করার প্রচেষ্টায় আছি! থাকি অনেক দূরে। আয়োজন স্বদেশকোলে। সাধ থাকলেও উপায় নেই দেশমাতার কোলে ঘুমিয়ে পড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার। তাই মানসিক উপস্থিতির বাইরে অন‍্য কোন গত‍্যন্তর নেই ঠিক এই মুহুতর্ে প্রাচে‍্যর অক্সফোডর্ খ‍্যাত ঢাবির টিএসসিতে শারীরীক উপস্থিতির জানান দেবার। আয়োজন সফল হোক। দুই নেত্রীর কামড়াকামড়ি মনটা যেন ভালবাসায় ভরে উঠে। ক্ষমতা, গদি, পরিবারের জন‍্য নয় দেশ, মাটি, মা ও মানুষের জন‍্য এই দুই “মহান” নেত্রীকে প্রকৃতি যেন হেদায়েত করার শক্তি অর্জন করে! জয় হোক দেশপ্রেমিক তাহেরদের। নিপাত যাক দুর্নীতি, মিথ‍্যাচার, সুবিধাবাদ, লোভ-লালসা আর লুটপাটতন্ত্র। ছবি/নিউএইজ-গুগল থেকে সংগৃহীত।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s