জামায়াত-শিবির: কয়লা ধুলে ময়লা যায় না!

ics-ji

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। এই প্রবাদটি যেমন খাঁটি সত‍্য তেমনি জামাত ও শিবিরের চরিত্র বদল হবে না কোনদিনও। মহাজোট সরকার জামায়াত-শিবিরকে কিসের লোভে কোন স্বার্থে এখনও নিষিদ্ধ কেরনি সেটাই বড় আশ্চর্যের ব‍্যাপার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত বাহাত্তরের মূল সংবিধানে মহাজোট সরকারের নূ‍্যনতম বিশ্বাস থাকলে তারা এতদিনে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতো। কিন্তু তা না করে সরকার নির্বাচন কমিশনের মাধ‍্যমে এই যুদ্ধাপরাধী স্বাধীনতাবিরোধী দলটিকে রাজনৈতিকভাবে “জায়েজ” করার উদে‍্যাগ নিয়েছে।
যে দলটির প্রত‍্যক্ষ সহায়তায় ১৯৭১ সালে পাক সেনাবাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে হত‍্যা করলো, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নিলো সেই দলটির প্রতি নির্বাচন কমিশনের বা মহাজোট সরকারের এতো মায়া কেন সেটা বুঝতে কষ্ট হয়! শিবিরের গুন্ডারা স্বাধীনতার পর থেকে কেবলমাত্র রাজশাহী ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ‍্যালয়েই শত শত ছাত্রের হাত-পায়ের রগ কেটেছে নয়তো হামলা করে পঙ্গু করে দিয়েছে। শিবিরের হামলায় নিহতের সংখ‍্যাও কম না।
যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার লক্ষে‍্য ৪ ডিসেম্বর, ২০১২ জামায়াত-শিবির গোটা বাংলাদেশজুড়ে এক তান্ডবলীলা চালালো। মুড়ি-মুরকির মতো যানবাহন ভাংচুর ও তাতে আগুন লাগালো। এর আগে থেকেই এই নরপশুর দল পুলিশবাহিনীর ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালালো। জামায়াতে ইসলামী দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ‘ইসলামী জীবনবিধান’ বাদ দিয়ে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ’ প্রতিষ্ঠা শব্দটি লাগানোর সুযোগ করে দিলো নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, ‘ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম’-এর পরিবর্তে ‘সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম’ শব্দটিও এই ঘাতক রাজনৈতিক দলটির গঠনতন্ত্রে বসানোর ব‍্যবস্থাও করে দিলো সরকার। নির্বাচন কমিশন কেন এই যুদ্ধাপরাধী দলটিকে নানান কায়দা-কানুনের আশ্রয় নিয়ে জায়েজ করতে চাইছে? সংবিধান মতে কোন ধমর্ীয় ও সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত হবার কোন সুযোগই যেখানে নেই সেখানে নির্বাচন কমিশন জামায়াতকে তাদের গঠনতন্ত্রের গুটিকতক শব্দ বা বাক‍্য পরিবর্তন করার ব‍্যবস্থা করে দিলেই কী দলটির সাম্প্রদায়িক চরিত্র বা যুদ্ধাপরাধের গন্ধ দূর হয়ে যাবে?
জামায়াতের সঙ্গে মার্কিন সাম্রাজ‍্যবাদের সম্পকর্ তো আর নতুন কোন ঘটনা নয়। সেই একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাদের দহরম মহরম দেখেছেন বাংলার মানুষ। আর ৪ ডিসেম্বরের হরতালকালে জামায়াত-শিবিরের গুন্ডারা “ভুলবশত” মার্কিন দুতাবাসের একটি গাড়ি ভাংচুর করে। এরই প্রেক্ষিতে ক্ষমতালোভী জামায়াত দ্রুত তাদের মুরুব্বি মার্কিন দুতাবাসের কাছে কড়জোড়ে ক্ষমা চেয়ে দু:খপ্রকাশ করেছে। এটাই শেষ নয় প্রয়োজনে জামায়াত মাকর্িন দুতাবাসকে ক্ষতিপূরণও দিতে প্রস্তুত আছে বলে বাংলাদেশের মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে। কিন্তু যেদেশের মাটিতে বসে রাজনীতিকরছে এই কাপুরুষের দল সেই দেশের জনগণের কাছে তারা ক্ষমা চায়নি। জামায়াত ক্ষমা চায়নি তাদের একাত্তরের কৃতকর্মের জন‍্য কিংবা গণহারে যানবাহন ভাংচুর ও জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির জন‍্য। যেখানে এই মৌলবাদি দলটি দেশের মানুষের প্রতি নূ‍্যনতম ভালোবাসা নেই, দেশের প্রতি আনুগত‍্য নেই সেখানে কেন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করছে না সরকার সেটাই মহাবিস্ময়কর!কেন সরকার একটা ব্রুট মেজরিটি থাকা সত্ত্বেও বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরছে না? কেন তারা একদিকে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম এবং অন‍্যদিকে নিজেদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করছে?
মহাজোট সরকার যে সতি‍্য সতি‍্য ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে তার প্রমাণ দিতে হবে বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে গিয়ে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার মধ‍্য দিয়েই। পাশাপাশি দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর উদে‍্যাগ ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই কেবল দেশ থেকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব। সরকার সেই পথে হাটবে নাকি জামায়াত-শিবির-যুদ্ধাপরাধীদের হাতে দেশটাকে তুলে দেবে তা সময়ই বলে দেবে? ছবি ডেইলি স্টার, গুগল থেকে নেয়া।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s