ওরা কী আঙুল চুষছে?

warcriminalsin bd

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ
।। এক সিনিয়র সাংবাদিক বন্ধু বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দলের মধে‍্য ঐক‍্য কামনা করেছেন। পরোক্ষভাবে তিনি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে আওয়ামী লীগ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিশ্বাসী রাজনৈতিক দলের কোন গত‍্যন্তর নেই। তাই সিপিবি ও বাসদকেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মেলানো উচিৎ। ফেইসবুকে এমনই একটি স্ট‍্যাটাস দিয়েছেন সাংবাদিক প্রবীর শিকদার। এপ্রসঙ্গে নিজের অগোছালো চিন্তাগুলি নিয়ে একটা ছোট লেখা লিখতে চাইছি।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধীদের ঘরটাতে কারা বাস করে তা আমাদের চেনা এবং জানা। কিন্তু আমরা জানি না বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগে কতজন জামায়াত-শিবির আছে (যারা বিশ্বজিৎ দাশদের প্রকাশে‍্য নৃশংসভাবে হত‍্যা করছে) কিংবা কিভাবে জামাতি পরিবারের সন্তান প্রতিমন্ত্রি হন হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শেষবেলায়, কিভাবে ত‍্যাগি ও নির্বাচিতদের বাদ দেয়া হচ্ছে আওয়ামী লীগ থেকে, খোদ হাসিনাই কানকথায় বিশ্বাস করেন বেশি বেশি!!! এরকম একটি অবস্থায় কতজন খোন্দকার মোশতাক জাতির জনকের কন‍্যার প্রিয় হয়ে আছেন আর কতজন সুবিধাবাদি, ব‍্যবসায়ী যারা কোনদিন আওয়ামী লীগ করেননি বিএনপি জামাতের দুর্নীতি, দু:শাসন আর নির্যাতন-নিপীড়নে অতিষ্ঠ বাংলার সহজ সরল মানুষ বিরক্ত হয়ে থাকার কারণেই “ঝড়ে বক মরার” মতো করে যেই মনোনয়ন পেলেন সেই জিতে এলেন গত নির্বাচনে।
সময়ের ডাক অসময়ে দিলে আর আসল নকল চিনতে ভুল করলে কী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা সম্ভব হবে? বিএনপি-জামায়াতের গুটিকতক অন্ধ সমর্থক ছাড়া গোটা জাতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষেই আছে। তারপরও সরকার কেন এত বিলম্ব করছে বিচার ত্বরাণ্বিত করতে সেটাই বোঝা মুশকিল, কেনই বা তারা বাহাত্তরের মূল সংবিধানে পুরোপুরি ফিরে যেতে চাইছে না সেটাও অনেক প্রশ্ন জন্ম দিচ্ছে! মুক্তযুদ্ধ বা যুদ্ধাপরাধ ইসু‍্যতে জাতি যতটা (জামায়াত-শিবির ও বিএনপির জামায়াতপন্থিরা ছাড়া) ঐক‍্যবদ্ধ সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ ততটা ঐক‍্যবদ্ধ আছে কী? জামায়াত-শিবির লবিষ্ট নিয়োগ করছে যুদ্ধাপরাধের বিচার ভন্ডুল করতে, সরকার করে কী সরকারের বা হাসিনার উপদেষ্টা ও বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত এ‍্যাম্বাসেডররা কী আঙুল চুষছে?
ঢাকা থেকে কানসাট, টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়া সবখানে সকল জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগ কতটা ঐক‍্যবদ্ধ কতটা সংঘঠিত তার কী তথ‍্য জানা নেই শ্রদ্ধেয় প্রবীর শিকদারের তা বিশ্বাস করি না? কাজেই হাসিনা আগে ঘর সামলাক, দলের ভেতর থেকে সুবিধাবাদি, তোষামদকারিদের কাছ থেকে স্ব-দলকে বিমুক্ত করতে পারলে সাংগঠনিকভাবে জামায়াত-শিবিরকে মোকাবেলা করা ও যুদ্ধাপরাধের বিচার দ্রুত করতে কোন বাধা থাকবে না, ১০০ ভাগ নিশ্চিত! কারণ দেশে এখনও মুক্তিযুদ্ধপ্রেমিক এবং অসাম্প্রদায়িক মানুষের সংখ‍্যাই বেশি। আমি আশাবাদি, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সামনে, পেছনে নয়! তবে এজন‍্য কিছুটা শুদ্ধি অভিযান চালানো দরকার আমাদের মন, মগজ ও কাজে বিশেষত: মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি প্রধান ও বড় রাজনৈতিক দলটির দলনেতাকে সকলপ্রকারের তোষামদকারি ও সুবিধাবাদিদের কাছ থেকে সরে আসতে হবে, দলের ভেতরের ত‍্যাগি মানুষগুলিকে পদ দিয়ে না হয় নাই বা ভালোবাসলেন তিনি, কিন্তু আন্তরিকতার প্রকাশ যদি থাকে তাতেই সন্তুষ্ট উনারা কারণ যারা বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করেন তারা কখনও বিশ্বাসঘাতক হতে পারেন না। আর বঙ্গবন্ধু যেমন মোশতাককে চিনতে পারেননি (যদিও তাঁকে মোশতাক প্রশ্নে সতর্ক করেছিলেন সুহৃদদের কেউ কেউ কিন্তু বঙ্গবন্ধু তা শোনেননি বা বিশ্বাস করেননি) তেমন ভুলেরই যদি পুনরাবৃত্তি ঘটে তবে আখেরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশই। ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s