Monthly Archives: জানুয়ারি 2013

কে ভারসাম‍্যহীন: সাংবাদিক এ বি এম মুসা নাকি মাহবুব উল আলম হানিফ?

abmmusa-hasina
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাংবাদিক এ বি এম মুসা। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কেউ কেউ হয়ত উনাকে চেনেন না। শুদ্ধ ও স্বচ্ছ চিন্তার প্রগতিশীল এই শ্রদ্ধেয় সাংবাদিকের ওপর মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। বাংলায় সাংবাদিকতার এই প্রাণ পুরুষকে আজ জীবন সায়াহ্নে এসে “স্বাধীনতাবিরোধী”র কু উপাধি দেয়া হচ্ছে। অথচ এই মানুষটির সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছিল ঘনিষ্ট হৃদ‍্যতা। ছি ছি ছি লজ্জায় মাথায় নূ‍্যয়ে পড়ছে এই কারণে যে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দলটির আজ কী অবস্থা!
১৯৯১ কী ১৯৯২ সালের কথা। সালটির কথা এখন আমার পুরো মনে নেই। এ বিএম মুসাকে পেয়েছিলাম সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কোর্সের শিক্ষক হিসেবে। ওই সময়ে আমি পঞ্চগড় থেকে দৈনিক বাংলা ও বাংলার বাণীতে কাজ করি। যাহোক তখন থেকেই উনাকে (এবিএম মুসা) আমি ব‍্যক্তিগতভাবে চিনি। নব্বইয়ের দশকে তিনি (এবিএম মুসা) “নিউজ ডে” নামে একটি ইংরেজী দৈনিকের সম্পাদকও হয়েছিলেন তিনি। সেই পত্রিকায় কিছুদিন পঞ্চগড় সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করি আমি। মেয়র লিটন, কতিপয় সংবাদকর্মীর্ ও র‍্যাবের যৌথ ষড়যন্ত্রের মাধ‍্যমে র‍্যাব ২০০৭ সালে বেআইনিভাবে আমাকে গ্রেফতার করে। প্রায় এক মাস পর নির্যাতন ও কারামুক্তির পর ঢাকায় চলে যাই। তখন এই প্রিয় সাংবাদিক শিক্ষক আমার ওপর নৃশংসতার ঘটনাটি শোনেন এবং খুব বিরক্ত প্রকাশ করেন যে শহীদ জাতীয় নেতা কামারুজ্জামানের ছেলে আমার ওপর অত‍্যাচার করার পেছনে মদদ দেয়ার কারণে। সেসময় উনি আমাকে ভয় না পাবার জন‍্য অনেক সাহস ও অনুপ্রেরণাও দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশে এখন একটা নতুন ট্রেন্ড চালু হয়েছে। সেটা হলো মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দলটির সমালোচনা করলেই মুক্তিযোদ্ধাও তাদের কাছে রাজাকার বনে যায়। সুতরাং আওয়ামী লীগ বা সরকারের বিপক্ষে কোন কথা বলা যাবে না যদিও বা সেইসব কথা সত‍্যও হয় তবুও না, নইলে আপনিও “রাজাকার” উপাধি পাবেন যেমনটি পেয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। অথচ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত‍্যার পর তিনিই প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করেছিলেন।
সাংবাদিক এবিএম মুসাকে স্বাধীনতাবিরোধী বলার প্রসঙ্গে আসি এবার। বঙ্গবন্ধুর আমলে ১৯৭৩ সালে এবিএম মুসা আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে জাতীয় সংসদের সদস‍্য নির্বাচিত হন। তিনি সংসদ সদস‍্য হয়েছিলেন ফেনি থেকে। সরকার নিয়ন্ত্রিত টিভি ষ্টেশন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক পদেও তাঁকে নিযুক্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধুই। অভিজ্ঞ এই সাংবাদিককে আওয়ামী লীগ সরকারই একুশে পদকে ভূষিত করেছিল।
সাংবাদিক এবিএম মুসার সাম্প্রতিক এক বক্তব‍্যকে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর প্রচন্ড নাখোশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগ। আর এই ক্ষুব্ধতার প্রকাশ ঘটেছে সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের মুখে। তিনি বলেন, “এবিএম মুসা মানসিক ভারসাম‍্যহীন এবং স্বাধীনতাবিরোধী”। হানিফ মাহেবের বক্তব‍্য প্রমাণ করে যে, এবিএম মুসা নন আওয়ামী লীগই সম্ভবত ভারসাম‍্য হারাচ্ছে! প্রশ্ন হলো, হানিফ কী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যে যাকে তাকে তিনি মানসিক ভারসাম‍্যহীন বলে দেবেন? আসলে এই হানিফমাকর্া আওয়ামী লীগারদের কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব‍্য আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিকে পায়ের তলে পিশিয়ে দিচ্ছে!
ব‍্যক্তিগতভাবে যুদ্ধাপরাধী বা রাজাকারদের সমর্থন করি না! তবে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলাই আমার ধর্ম। শ্রদ্ধেয় এবিএম মুসা কী মন্তব‍্য করেছিলেন তা আমি শুনিনি নিজ কানে। তবে আমার প্রচন্ড তাগিদ হচ্ছে এই জনে‍্য যে উনার পুরো বক্তব‍্যটি পড়া বা শোনা উচিত আমাদের সবার। কোন প্রেক্ষাপটে, কোন বিবেচনায় উনি কী মন্তব‍্য করেছেন? কারও কাছে যদি উনার বক্তব‍্য বা মন্তবে‍্যর কোন অনলাইন লিংক থাকে দয়া করে আমাকে দেবেন। আর দেশে যখন ছলিমুদ্দিন, কলিমুদ্দিন, জগাই, মঘা সকলেই টিভির লাইসেন্স পাচ্ছেন, মিডিয়ার মালিক বনে যাচ্ছেন সেখানে এবিএম মুসার মতো ব‍্যক্তিকে হাসিনার সরকার কোন যুক্তিতে টিভির লাইসেন্স পেলেন না বা পাবেন না সেটারও একটা পরিচ্ছন্ন ব‍্যাখ‍্যার প্রয়োজন। হানিফরা বঙ্গবন্ধু হত‍্যার পরে কী ধরণের প্রতিবাদ করেছিলেন নাকি মোশতাকদের তোষামদী করেছিলেন তাও আমি জানি না, তবে তোষামদি, জ্বিহুজুর বা জ্বি ম‍্যাডাম (হুজুর বা ম‍্যাডাম যা বলে করে তার সবই ১০০০০ গুণ সত‍্য!) করে যুগ্ম সম্পাদকের পদ লাভ করা যায় বটে (মনোনীত বা দলীয় প্রধানের পছন্দের তালিকাভুক্ত হিসেবে) কিন্তু গণতান্ত্রিক হওয়া যায় না! তারজন‍্য সহনশীলতা,কান্ডজ্ঞান, ধৈয‍্য আর সততা-স্বচ্ছতারও দরকার পড়ে। হানিফ সাহেবদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে জেলায় জেলায় নেতা বানিয়ে দেবারও অভিযোগ কানে আসে। আর এই হানিফদের তথাকথিত সাংগঠনিক রিপোর্টের কারণেই অনেক জেলায় নির্বাচিত নেতাদেরকেও বাদ দেয়া হয়েছে। এসব অভিযোগেরও চুলচেরা তদন্ত ও বিচার হওয়া দরকার।
বাংলাদেশনিউজ২৪x৭’র রিপোটর্ থেকে সাংবাদিক এবিএম মুসার সেদিনের বক্তব‍্য থেকে বোঝা যাবে আসলে তিনি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কী বলেছিলেন? জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ২৪ জানুয়ারি সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান দিবসে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশে এবিএম মূসা বলেন, আপনারা প্রতিবাদ করুন। আপনারা বলুন- ছাত্রলীগের নামটাকে তোমরা কলঙ্কিত করো না। প্রয়োজনে তোমরা একে ‘হাসিনা লীগ’-‘বাম লীগ’ নাম দাও। শেখ মুজিবের সময়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবিএম মূসা বলেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা ছাত্রদের সূচনা। আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ কর্তৃক সৃষ্টি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন তৃতীয় শ্রেণীর নেতা ছিলেন। নিজগুণে তিনি এগিয়ে এলেন এবং ছাত্রদের চেষ্টাতেই তিনি প্রথম শ্রেণীর নেতা হলেন। বঙ্গবন্ধু যতটা না উর্বর মস্তিষ্কের নেতা ছিলেন, তার চেয়েও বড় ছিল তার বিশাল আস্থা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের দিন ৭ মার্চই হচ্ছে- প্রকৃত স্বাধীনতা দিবস। সত্যিকারের স্বাধীনতা তিনি সে দিনই ঘোষণা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু জনগণের পালস (নাড়িস্পন্দন) বুঝতে পারতেন। পাঠ্যপুস্তক থেকে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাম বাদ দেয়ার কঠোর সমালোচনা করে এবিএম মূসা বলেন, ভাসানী আওয়ামী লীগের জন্মদাতা, তাকে বাদ দেয়া মানে জন্মদাতাকে অস্বীকার করা। আর যে জন্মদাতাকে অস্বীকার করে বা যার জন্মদাতা থাকেনা, তাকে আমরা কী বলি? জারজ বলি। ভাসানীকে বাদ দিলে আওয়ামী লীগ হয় জারজ। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এখনও এক বছর সময় আছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশুন, তাদের কথা শুনুন।
আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীকেও ‘উন্মাদ’ বলে আখ‍্যা দিয়েছেন। হানিফের ভাষায়, নূরে আলম ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনের ফ্লোরে গড়াগড়ি খেয়ে ছাত্রলীগের সভাপতির পদটি বাগিয়ে নিয়েছিলেন। সাংবাদিক মুসাকে ‘স্বঘোষিত বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগপ্রেমী’বলেও অভিহিত করেন হানিফ। সূত্র-বিডিনিউজ২৪।
ঢাকার রাজপথে বিশ্বজিৎকে নৃশংসভাবে হত‍্যা, ময়মনসিংহে শিশু রাব্বীকে গুলি করে হত‍্যাসহ প্রায় দেশজুড়েই ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, নির্যাতন, বন্দুকযুদ্ধে মানুষ অতিষ্ঠ। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রলীগের তান্ডবে শিক্ষার বারোটা বেজে যাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর দলের দ্বারা পরিচালিত সরকারের মঙ্গল চেয়ে যখন সরকারকে খারাপ দিকগুলি থেকে সরে আসার জন‍্য পরামর্শ দেন তখন সেটা হানিফদের মতো তোষামদকারি নেতারাই কেবল সাংবাদিক মুসাকে মানসিক ভারসাম‍্যহীন বা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নূরে আলমকে উন্মাদ বলতে পারেন!
ডাক্তারি কোন পরীক্ষা, নীরীক্ষা বা সনদপত্র ছাড়াই কাউকে উন্মাদ বা মানসিক ভারসাম‍্যহীন বলাটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্সও বটে। এধরণের বক্তব‍্য ব‍্যক্তি মানুষের মর্যাদার ওপর আঘাতও বটে। সেই বিচারে মাহবুব উল হানিফদের বিরুদ্ধে মামলাও হতে পারে। আর এ বিএম মুসাযদি স্বঘোষিত বঙ্গবন্ধুপ্রমিকই হতেন তবে তাঁকে বঙ্গবন্ধুই বা কেন তেহাত্তরের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিলেন? হানিফ সাহেবের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর আছে কী? জনাব হানিফের কথা অনুযায়ী নূরে আলম সিদ্দিকী নাকি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গড়াগড়ি করে ছাত্রলীগের সভাপতির পদটি বাগিয়ে নিয়েছিলেন! যদি হানিফের কথাই সত‍্য হয় তবে তো বলতেই হয় অগণতান্ত্রিক পন্থায় তোষামদি করে ছাত্রলীগের সভাপতি ও অন‍্যান‍্য পদে নেতা হওয়াটাও খুবই মামুলি ব‍্যাপার। আওয়ামী লীগ প্রধানও কী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বক্তবে‍্যর সঙ্গে একমত? হানিফের বক্তব‍্যতো কেবল ব‍্যক্তি হানিফের নয়, তাঁর বক্তব‍্য আওয়ামী লীগের, সরকারের এমনকি আওয়ামী লীগ ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনারও।
প্রিয় পাঠক এখন আপনারাই বলুন, কে ভারসাম‍্যহীন? আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ নাকি এই প্রবীন সাংবাদিক এ বি এম মুসা? ছবি গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

যুদ্ধাপরাধের বিচারও চলছে পাশাপাশি ঘটছে যুদ্ধাপরাধও!

women
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশে কেবল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই চলছে না, পাশাপাশি চলছে যুদ্ধাপরাধও। আর নব এই যুদ্ধাপরাধের শিকার হচ্ছেন মা-বোনেরা। নারকীয় নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শিশুরাও। দলবাজ বুদ্ধিজীবী ও তথাকথিত সুবিধাবাদি সুশিলরা মুখে কুলুপ এঁটেছে! মানবতাবিরোধী অপরাধ ও কর্মকান্ডের বিপক্ষে কথা বললে যদি পদ-পদবি হারাতে হয় কিংবা হালুয়া-রুটির ভাগ না পাওয়া যায় অথবা যদি ক্ষমতাবানদের বিরাগভাজন হতে হয় এমন যোগ-বিয়োগের অংকের খেলায় এই জ্ঞানপাপী বিবেকবন্ধক রাখাওয়ালারা কোন কথা বলছে না। আরও সহজ ভাষায় বলা যায় যে, এই গোষ্ঠীটি এখন ক্ষমতাসীনদের তোষামদকারির দলভুক্ত হয়ে পড়েছে। বিচারহীনতা, আইনের শাসনহীনতাই অপরাধ ও অপরাধীর আশপর্দা বাড়িয়ে দিচ্ছে দিন দিন। আর সহিংসতার কঠিন রুপটি গিয়ে পড়ছে মা-বোনদের ওপরে গিয়ে। যদিও দেশে প্রধানমন্ত্রি, বিরোধীদলীয় নেত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রি, কৃষিমন্ত্রিসহ আরও অনেক নারী মন্ত্রি কার্যকর আছে স্বদেশে। আজকের লেখাটি মূলত: বিশ্ববিদ‍্যালয়ের একজন অধ‍্যাপকের একটি স্টাটাসের প্রতিক্রিয়া।
শ্রদ্ধেয় এবং প্রিয় কাবেরি গায়েন’র ফেইসবুকে একটা স্টাটাস পডি। তিনি দ্বিমত পোষণ করেছেন জবাব আলী রীয়াজ এর একটি লেখার। স্টাটাসের সঙ্গে কাবেরী আপা জনাব রীয়াজের লেখাটির একটি অনলাইন লিংক দিয়েছেন। আগ্রহী হয়ে লিংকটাতে গিয়ে ঢুকলাম এবং আলী রীয়াজ’ র লেখাটি পড়লাম। আমি জানি না আমি কোন যুক্তিতে লেখাটির প্রতি নেতিবাচক বা দ্বিমত পোষণ করলেন, কাবেরী ম‍্যাডাম? আমি উনার লেখাটি দুবার পড়েছি।
আমি কাবেরী আপার যুক্তির পক্ষে বিপক্ষে না দাঁড়িয়েই বলতে চাইছি, আমাদের সুশিল সমাজের কাজটা তাহলে কী? এই সমাজভুক্তরা কী তবে হয় হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং খালেদার নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত হয়েই নিজেদের জোটকে চেতানো ঠিক হবে না, হালুয়া-রুটি পাবো না কিংবা পদ হারাতে হতে পারে এসব চিন্তা নিয়েই মনুষ‍্যত্ববোধ, বিবেক বন্দি করে রাখবে অন্ধ দলবাজির কাছে? ওই ঘাতক জামাত-শিবির, আলবদর, আল শামস, যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী তাদের বিচার হতেই হবে (যদিও জাতি আশা করেছিল অন্তত: গো. আজম, নিজামী, কসাই কাদের, মুজাহিদ গংদের বিচারটা আগে জানতে পারবে, কিন্তু আজাদ বা বাচ্চু রাজাকারকে বিদেশে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার পর তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা স্রেফ ফাজলামু ছাড়া আর কিছু নয় বলেই মনে করি আমি)। দেশে যেভাবে মা-বোনদের ওপর নৃশংতা চালানো হচ্ছে, হত‍্যা করা হচ্ছে, তাঁদের মর্যাদাহানি ঘটানো হচ্ছে (শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই বাদ যাচ্ছে না) তা কী যুদ্ধাপরাধের চেয়ে কোন অংশে কম? বিনা বিচারে মানুষ হত‍্যা, গুম, পুলিশের হাতকড়া পরা অবস্থায় মানুষের লাশ পড়ে থাকছে, একযোগে তিনজন, পাঁচজনকে হত‍্যা করা হচ্ছে, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কাজী অফিসে বোনদের ওপর যেভাবে এসিড নিক্ষেপ করা হচ্ছে, বিশ্বজিৎ দাশকে যে বর্বর কায়দায় প্রকাশে‍্য হত‍্যা করা হলো, ময়মনসিংহে একটি শিশুকে (রাব্বী) যেভাবে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রযোদ্ধারা হত‍্যা করলো, সাংবাদিক সাগর-রুনিদের খুনিদেরকে ধরতে টালবাহানা করা হচ্ছে, ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে হত‍্যাপ্রচেষ্টা, সাংবাদিক ও ফটো সাংবাদিকদের পেটানো হচ্ছে, এসব কী মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়?
১১৪ জন পোশাক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত‍্যা করা হলো, পোশাশ্রমিকরা হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও ন‍্যায‍্য মজুরি পাচ্ছেন না, অথচ মালিকরা আলীশান জীবন-যাপন করছে, দেশে বাড়ছে ধনী-গরিবের পার্থক‍্য। এমন জটিল অবস্থায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় বের হবার মতো পরিবেশ আছে কী, আর থাকলেও একটা সমাজে যখন র‍্যাব বা পুলিশ যখন তখন যাকে তাকে ধরে হত‍্যা বা গুম করে দেয়ার আইনগত অধিকার ভোগ করে (সুশিল ও রাজনীতিকরা কার্যকর কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছেন না বা আগ্রহী নয়) তখন কী কেউ রাস্তায় বের হতে পারে? অপকর্ম, নৃশংসতা, নিষ্ঠুরতা এবং অবিচারের ঘটনাগুলিতো ঘটছে তাদের ওপর যারা সমাজে সুবিধাভোগি নন, কিন্তু এইসব নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষদের সংখ‍্যাতাত্ত্বিক পরিসংখ‍্যান তুলে ধরে দেশি-বিদেশি প্রকল্প আর তহবিল নিয়ে যারা দিনরাত ব‍্যস্ত আমাদের সুশিলরাতো (সবাই নন, বহু শত সহস্র ব‍্যতিক্রমও আছে…) সেইসব প্রকল্প আর তহবিলের অংশ নিজের পকেটে তুলেন প্রত‍্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।
কাজেই স্বদেশে প্রতিনিয়ত যে যুদ্ধাপরাধ চলছে, ঘটানো হচ্ছে বিশেষত: নারী, মা-বোনদের ওপর তা থামানোর জন‍্য আমাদের সুশিলদের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল তা কী আছে বলে আপনি মনে করেন কাবেরি আপা? সেই জায়গা থেকেতো আমী জনাব আলী রীয়াজ’র লেখাটিকে খুবই সুন্দর এবং বাস্তসম্মত মনে হয়েছে। আমারতো মনে হয় দেশে যদি আজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট কষমতায় থাকতো তাহলে আমাদের দলবাজ বুদ্ধিজীবী, সুশিলরা ঠিক দেশ , রাজপথ কাপিয়ে ফেলতো, ঠিক যেমনটি আমরা দেখেছিলাম ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মেয়াদে! তাই নয় কী কাবেরী গায়েন আপা?
আমি অনেকগুলি মৌলিক প্রশ্ন তুলেছি আমার এই লেখার ভেতরে। এই প্রশ্নগুলির উত্তর কখনও পাওয়া যায় না আমাদের শিক্ষক, পথপ্রদর্শক, সুশিল সমাজের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে! এজন‍্য হতাশা বাসা বাধে বুকের ভেতরে। আর উপরোল্লিখিত কারণেই “আমাদের দেশের মানুষ- আমি, আমার ভূমিকা বা দায়িত্বটা” কাঁধে তুলে নিতে ভয় পাচ্ছেন! সমাজ ও দেশে আইনের শাসন না থাকলে এমন অবিচার চলতেই থাকবে, কেউ থামাতে পারবে না। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, সম্ভ্রমহারা মা-বোনের অশ্রু আমাদের কাউকে ক্ষমা করবে না যদি…!

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশে একজন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবু‍্যনাল। একাত্তরের কুখ‍্যাত রাজাকার আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার এখন পলাতক। অবশ‍্য এই তথাকথিত ইসলামী চিন্তাবিদটিকে বর্তমান মহাজোট সরকারের গোয়েন্দাজালে আটকা ছিল। সেই জাল ছিন্ন করে বাচ্চু রাজাকার ভারতে পালিয়ে যান ২০১২ সালের ৩০ মার্চ। ব‍্যর্থতার এই খবরটি আবার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীই গণমাধ‍্যমকে জানায়। কারা তাকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করলো তার সুরাহা এখনও হয়নি। র‍্যাব-পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোন যুদ্ধাপরাধীর নিরাপদে দেশত‍্যাগ করাটা সহজ কিনা তা নিয়েও রয়েছে নানান আলোচনা। সে যাইহোক এই রাজাকারের একাত্তরে গণহত‍্যা, ধর্ষণ লুটপাটের অভিযোগে ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত আজ ২১ জানুয়ারি। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন ও একাত্তরে ফরিদপুরের আলবদর বাহিনী প্রধান এই ঘাতক এখন কোথায় তা দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানে কিনা তাও স্পষ্ট নয়। বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আবদুল আলীমসহ আরো ১০ জনের বিচার চলছে বর্তমানে। একাত্তরে জামায়াত সাংগঠনিকভাবে যুদ্ধাপরাধ করে। জাতি আশা করেছিল গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদদের বিচারের রায় আগে দেয়া হবে, অন্ত:তপক্ষে পলাতক যুদ্ধাপরাধী বাচ্চুর বিচারের আগে। কিন্তু সেটা হয়নি। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ‍্যমগুলিতে নানান আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
এসব সমালোচনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের একজন সংবাদকর্মী সুলতানা রহমান ফেইসবুকে একটি স্টাটাস লিখেন। সুলতানার মন্তব‍্যটি ছিল এমন, “আমারা এমন এক জাতি যে সব কিছুতে-ই খালি সন্দেহ খুজি। বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় নিয়া কারো কারো ‘কপ-কপানি’ দেখে-শুনে রাগ উঠছে। এখন কয়, ‘হেতানের’ রায় আগে দিলো কেন? কেন গোলাম আযম এর রায় আগে হইলনা!! এর মধ্যে রাজনীতি আছে। সরকার মূলা ঝুলাইছে ‘যুদ্ধাপরাধীর বিচার করছি।‘ ভাইরে ভাই, যার বিচার প্রক্রিয়া আগে শেষ হবে তার রায় তো আগেই হবে। আর যদি বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় দিতে সরকারের সুবিধা হয়, তাতে আসুবিধার কি হইল? দেশে প্রতিদিন কত রায় হয়, তা নিয়ে তো কেউ কথা কয় না! যুদ্ধাপরাধিদের বিচার সঠিক হইল না বেঠিক হইল তা নিয়া যাদের অতিরিক্ত মাথা ব্যাথা তাদের মাথা ফেলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”
উৎসুক হয়ে আমি ছোট্র একটি মত দেই উনার স্টাটাসের মধে‍্য। আমি বলি, “একজন সচেতন নাগরিক বিশেষত: সচেতন নাগরিকটি যখন সংবাদকর্মী বা সাংবাদিক হন তাঁর কাছ থেকে “তাদের মাথা ফেলে দেয়ার ব‍্যবস্থা করা হোক” এমন অমানবিক, নৃশংস মন্তব‍্য আশা করি না। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সবসময় মাথার ওপরে রাখি তাই আপনার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও সমর্থন করি!”
এরপরে তিনি লিখলেন, “যুদ্ধাপরাধ ইসু‍্যতে আমি অমানবিক হতেও রাজি আছি”। পাল্টা জবাব দিতেই হয়। তবে পাল্টা জবাব লিখার আগে একটু পেছনের দিকে নিতে চাই আপনাদের। দেশের ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি একটি যুক্ত ঘোষণায় সই করেন। ওই ঘোষণার মধ‍্য দিয়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামাতসহ সকল ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের দাবিতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপরের ইতিহাস সবার জানান। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্ব দেশে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে ওঠে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে। গঠন করা হয় গণআদালত। একই বছরের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়াদর্ী উদ‍্যানে গণআদালত যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতীকি রায় ঘোষণা করে। এরই প্রেক্ষিতে তৎকালিন বিএনপি সরকার দেশের খ‍্যাতিমান বুদ্ধিজীবীদের (২৪ জনের নামে) নামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাও করেছিল। যুদ্ধাপরাধ ও ঘাতকবিরোধী আন্দোলনের ফসল হিসেবে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেনি।
এবার সুলতানা রহমানের মন্তবে‍্যর জবাবে যা লিখেছিলাম তা এখানে হুবহু তুলে ধরছি।
“মানবতা সবসময় সর্বজনীন, এখানে দলপ্রীতি বা ব‍্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ’র বিচার করলে চলে না! যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না কেবল যুদ্ধাপরাধী-জামায়াত-শিবির আর তাদের ভোটের অংক কষে যারা ক্ষমতায় যেতে চায় তারা। এমনকি বিএনপির তরুণ একটা অংশও যুদ্ধাপরাধী গো. আজম, মইত‍্যা রাজাকার নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী গংদের বিচার চায় (প্রকাশে‍্য না চাক মনে মনে ঠিকই চায়)। কিন্তু যে কুখ‍্যাত লোকটি (যারা তাকে তথাকথিত ইসলামী চিন্তাবিদ নামধারণের সুযোগ করে দিয়েছিল সেইসব মিডিয়া মালিকদের অনেকেই সরকারের কাছের মানুষও বটে) গোয়েন্দাজালের ভেতরে থাকল সে কী করে র‍্যাব, পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে বিদেশে চলে গেলো— এই প্রশ্নটি করা কী অসমীচিন? আর আগে ধৃত ও আগে শুরু হওয়া মামলাগুলির রায় দেয়ার আগে একজন পলাতকের বিরুদ্ধে বিচারের রায় প্রকাশ করা হলে কেউ যদি তাতে প্রশ্ন তোলে তারজন‍্য তার মাথাটাই কেটে ফেলার দাবি কতটুকু যৌক্তিক। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে বাংলা ভাইদের হত‍্যা-নির্যাতনের সময়কার দুবর্িষহ দিনগুলির কথা, রাজশাহী ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ‍্যালয়ে জামায়াত-শিবিরের ভয়ানক সব তান্ডবলীলা ও ধ্বংসযজ্ঞের ইতিহাস। আজ অনেকে যারা সুবর্ণ সময়ের সুযোগ নিয়ে হালুয়া-রুটি ও চাওয়া পাওয়ার হিসাব-নিকেশ কষে যুদ্ধাপরাধবিরোধী জিহাদী মনোভাব দেখাচ্ছে তাদের টিকিটিও দেখা যায়নি সেই দু:সময়গুলিতে। তখন রাস্তায় দেখিনি অনেককে যাদের মুখে এখন যুদ্ধাপরাধীবিরোধী কথাবার্তার ফেনা উড়তে দেখছি! ঘটনার এখানেই শেষ নয়, জামাতের এক নেত্রীর ছেলেকে (সদ‍্য আওয়ামী লীগার, ২০০১ সালের মে মাসে যোগদানকারী) প্রতিমন্ত্রী বানানো হয়েছে! জাতির মা, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যে বীর মহান মানুষগুলি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনকে গণ আন্দোলনে রুপ দিলেন সেই আন্দোলনের ফসলও ঘরে তুলেছি আমরা অনেকেই কিন্তু উনাদের সংগ্রামের সাথে বেঈমানি কী করি নি? মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম,ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস কমিটি, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল সমন্বয় কমিটি (বর্তমানের কমিটিসহ), কবি সুফিয়া কামাল, কবি শামসুর রাহমান, কাজী আরেফ আহমেদ, শওকত ওসমান, মাওলানা আবদুল আউয়াল, ব‍্যারিষ্টার শওকত আলী খান, জাতীয় অধ‍্যাপক কবীর চৌধুরী, বিচারপতি কে এম সোবহান, এ‍্যাডভোকেট গাজীউল হক, সৈয়দ হাসান ইমাম, শ‍্যামলী নাসরিন চৌধুরী, অধ‍্যাপক মুনতাসির মামুন, আবদুর রাজ্জাক, প্রখ‍্যাত সাংবাদিক-লেখক শাহরিয়ার কবিরদের (আরও অসংখ‍্য মানুষের নিরলস আন্দোলন) মতো মানুষদের হার না মানা আন্দোলনের ফসলটাকে জাতি পুরোপুরি ঘরে তুলতে চায়। তাই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক যখন একজন পলাতক রাজাকারের বিচার হয় ধৃত গোলাম আজম, নিজামী, সাঈদীদের বিচারের আগেই। এটা দোষের কিছু নয়, কিন্তু প্রশ্ন জাগাটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে কী? মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, সম্ভ্রমহারা মা-বোনের অশ্রু আমাদের কাউকে ক্ষমা করবে না যদি আমরা এই একাত্তরের সেই ঘাতক, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে ব‍্যর্থ হই।”
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এর নেতৃত্বে ১২ সদসে‍্যর গণ আদালত গোলাম আজমের মৃতু‍্যদন্ডাদেশ দিয়েছিল। একইসঙ্গে মতিউর রহমান নিজামী, মো. কামারুজ্জামান, আবদুল আলীম, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আনোয়ার জাহিদ, আবদুল কাদের মোল্লা, আব্বাস আলী খান ও মাওলানা আবদুল মান্নান এর নাম যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ঘোষণা করেছিল গণ আদালত। এইসব বাদ রেখে (যারা মারা গেছে তাদের মরণোত্তর বিচার হতে পারে বা শাস্তি হতে পারে) পলাতক কুখ‍্যাত বাচ্চু রাজাকারকে (তাকে পালাতে কারা সহায়তা করলো সেটাও একটা প্রশ্ন) আগে ফাঁসি দেয়ার ভেতরে কারো তরফে কোন হীন উদ্দেশ‍্য নেইতো? নির্বাচনের আগে নতুন করে কোন মূলা ঝূলবে নাতো? ছবি গুগল থেকে সংগ্রহীত।

“পেপার স্প্রে”র প্রয়োগ আপনাদের ওপরও হতে পারে ।। ব্লগার আসিফের ওপর হামলাকারিদের ধরুন

paperspray
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। মানবাধিকার লংঘণের হাতিয়ার হিসেবে হাসিনার মহাজোট সরকার একের পর এক নতুন স্টাইলের প্রবর্তন করছে। আর আমাদের দলীয় স্তাবক বুদ্ধিজীবীরা বসে বসে আঙুল চুষছেন! খালেদা-নিজামির আমলে গণহারে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, এনকাউন্টার নামক ঘাতক বাহিনীর নৃশংসতা দেখেছেন দেশবাসি। ক্ষমতায় আরোহনের আগে হাসিনা বারংবার এই বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। মানুষ আশ্বস্ত হয়েছিলেন এই ভেবে যে হয়ত হাসিনা ও তার ক্ষমতায় গেলে নারকীয় এই রাষ্ট্রীয় হত‍্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে। কিন্তু ক্রসফায়ারতো বন্ধ হয়ইনি উল্টো এখন মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষকে গুম করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় হ‍্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় মানুষ রাস্তাঘাটে লাশ হয়ে পড়ে থাকছেন। আর বাকপটু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিরা মানবাধিকার লংঘণের ঘটনাগুলিকে ধামাচাপা দেবার জন‍্য একের পর এক খোঁড়া যুক্তি দেখাচ্ছেন দেশবাসির সামনে।
হাসিনা ও মহাজোট সরকারের সর্বশেষ আবিস্কার হলো “পেপার স্প্রে”। সরকারবিরোধী কিংবা জনকল‍্যাণে আহৃত আন্দোলন দমনের এই নতুন হাতিয়ার ইতোমধে‍্য এক শিক্ষকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে স্বদেশের মিডিয়ায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রি সরকারের শেষ সময়ে দেশের মানুষকে নিয়ে যে খেলা শুরু করলেন তা বন্ধ করুন। নইলে আখেরে আপনার ও আপনার দলের পুন:ক্ষমতায় যাবার স্বপ্নটা দু:স্বপ্ন হয়ে যাবে! আর হাওয়া তারেক-ও ঘাতক নিজামিরা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কী পরিণতি অপেক্ষা করছে তা কী আঁচ করতে পারছেন না মোটেও, নাকি ভাবছেন যেকোনপ্রকারেই হোক ক্ষমতায় আসবেনই!
এই মহাজোট সরকারের ভেতরে এবং বাইরে এতো মানুষ আছেন যারা দেশে-বিদেশে মানবাধিকার নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন সেইসব মুর্খ জ্ঞানপাপীরা একেবারেই ভেজাবেড়ালের ন‍্যায় চুপচাপ করে হালুয়া-রুটি খাবার বা পাবার আশায় লেজ গুটিয়ে সরিয়ে রাখছে নিজেদের, কিন্তু কেন? মনুষ‍্যত্ব, বিবেক বলে কী এসব মানুষের হৃদয়ে কিচ্ছু নেই? আর সরকারের অংশীদার অনেক বাম, প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতারা সরকারের ভেতরে থাকার পরও কারও মুখে শোনা গেলো না যে এসব মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড থেকে সরকার সরে না আসলে তারা সরকার থেকে সরে দাঁড়াবেন? সুবিধাবাদের স্রোতধারা এত প্রবল যে সেখানে আরাম-আয়েশ আর গদি-ক্ষমতার জাদুর পরশে মানুষের মৌলিক মানবতাবোধটুকু পর্যন্ত ভেসে যাচ্ছে!
কী নিলর্জ্জ বেহায়ার মতো পুলিশ কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ পেপার স্প্রের ক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন। তিনি বললেন, ‘পেপার স্প্রে লাঠিপেটার বিকল্প। সরকারের অনুমতি নিয়ে সাধারণ মানুষও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এই স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।” প্রশ্ন হলো বাস্তবে সাধারণ মানুষ কী এই অনুমতি পাবে রাজনৈতিক তদবির বা শক্তি ছাড়া? আর যদি হরতালকারি, আন্দোলনকারি বা সাধারণ মানুষও যদি এমন স্প্রে পুলিশের ওপর ব‍্যবহার শুরু করে তখন বেনজিররা কোথায় পালাবেন? সতি‍্য সতি‍্য যদি সাধারণ মানুষের হাতে এই অমানবিক স্প্রে অস্ত্রটি চলে যায় গোটা দেশটা এক অরাজক নৈরাজ‍্যকর পরিস্থিতির দিকে চলে যাবে, এতে কী সরকারের নীতিনির্ধারকদের মাঝে কোন সংশয় আছে?
শিক্ষকরা নিজেদের রুটি-রুজির জন‍্য রাস্তায় নেমেছিলেন। বামরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল, সমাবেশ ও আন্দোলন সংগ্রাম করে-এটা দেশবাসি জানেন। তারা কখনও রাস্তায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে না, বাসে আগুন দিয়েও মানুষ হত‍্যা করে না কিংবা বোমাও মারে না কারও ওপর। বরং পুলিশই বামদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সবসময় বাধা দিয়ে থাকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরাণ্বিত করা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সিপিবির নেতৃত্বে বামদলগুলির সাম্প্রতিক হরতালে দেশবাসির সমর্থন ছিল নজিরবিহীন এবং শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে দেশে। কিন্তু তাররও শিক্ষকদের ওপর ও বাম দলগুলির নেতা-কর্মীদের ওপর কেন স্প্রে করতে হলো সেটার জবাব হয়ত একমাত্র শেখ হাসিনা কিংবা তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিই জানেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি, তাঁর নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনী, র‍্যাব-চিতারা খুনি, অপহরণকারি, গুমকারি, ধর্ষকদের ওপর স্প্রে করতে পারে না কিন্তু জনগণের স্বার্থে ডাকা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর নতুন ধারার এক বর্বরতার প্রয়োগ ঘটালো! আন্দোলন যদি সহিংস রুপ নেয়, জ্বালাও-পোড়াওয়ের দিকে চলে যায় কিংবা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে সরকার বা সরকারি বাহিনী তারজন‍্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব‍্যবস্থা নিতে পারেন। সে অধিকার রকারের আছে। কিন্তু আন্দোলন দমনের নামে, সহিংসতা বন্ধের নামে কারও ওপর স্পে প্রয়োগ, নির্যাতন, লাঠিপেটা করার কোন অধিকার দেয়া হয়নি সংবিধানে। সংবিধানে সকল ধরণের নির্যাতনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও জ্ঞানপাপীর দল সংবিধান লংঘণ করেই চলেছে বিশেষ করে ক্ষমতাসীনরা পুলিশ-র‍্যাবকে নিজেদের ক‍্যাডার বাহিনীর ন‍্যায় ব‍্যবহার করছে জনগণের বিরুদ্ধে।
দেশে ধর্ষণের মহাউৎসব চলছে। ধর্ষণ ধামাতে পারছে না সরকার। খুন-হত‍্যা ও বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার সেখানে নিত‍্য-নৈমিত্তিক ব‍্যাপার। বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলিতে চলছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের রাম-রাজত্ব। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে চ‍্যাম্পিয়ন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী, ক‍্যাডার ও মস্তানদের দৌরাত্ব বেড়েই চলেছে। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের দ্বারা। ব্লগার, সাংবাদিক যারাই লিখছেন পক্ষপাতমূলকভাবে অন‍্যায়-অবিচার আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারাই হচ্ছেন সন্ত্রাসীদের টার্গেট। অতি সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় জনপ্রিয় ব্লগার আসিফ মহীউদ্দিন সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় মারাত্বক আহত হয়েছেন। হামলাকারিদের ধরতে পারেনি পুলিশ। ইডেন কলেজের অ্যাসিডদগ্ধ ছাত্রীটি এখনও হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। দেশে মুক্তমতের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জায়গা ক্রমশ:ই সংকুচিত হয়ে আসছে। সাংবাদিক, ফটো সাংবাদিকদের ওপর বহুমুখী আক্রমণের খবর মাধে-মধে‍্যই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে।
খুলনায় ক’দিন আগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়াউদ্দিনকে গুলি করে হত‍্যাপ্রচেষ্টার সঙ্গেও সরকারি যুব সংগঠনের এক নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে এক শিশু নিহত হয়েছেন। এই যোদ্ধাদের চোখে পুলিশ পেপার স্প্রে করে না! রাজধানীর একটি বাণিজি‍্যক ভবনে এক শিশুর গলিত লাশ মিললো। ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত‍্যা করা হয়েছে। অভ‍্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গুলি করে হত‍্যা করা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে দেশের মিডিয়ায়। নিহত ফারুক শুধু একজন রাজনীতিকই নন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও বটে। এছাড়া তিনি স্থানীয় একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদকও ছিলেন। রাজধানীর উত্তর মুগদাপাড়া থেকে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ধর্ষক-খুনি ও বন্দুকযোদ্ধার ওপর স্প্রে করে না পুলিশ, তারা শুধু রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারি বাম নেতা-কর্মী ও জাতির মেরুদন্ড রক্ষাকারি শিক্ষকদের ওপর স্প্রে করতে ভুলে না।
মহাজোট সরকারের হাতে এখনও সময় আছে মুক্তমত প্রকাশ ও মানবাধিকার রক্ষার পথে এগিয়ে যাবার। সকল প্রকারের হত‍্যা-নির্যাতন, গুম-খুন, বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড এবং সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথকে প্রশস্ত করে স্প্রে প্রয়োগের নামে আন্দোলনকারিদের ওপর বিষক্রিয়া নিক্ষেপ বন্ধ ও পুলিশি নিপীড়ন বন্ধ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত না করে সন্ত্রাসী, খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, বন্দুকধারি ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাই হবে মহাজোট সরকারের সফলতার চাবিকাঠি। নইলে আমও যাবে ছালাও যাবে,পাশাপাশি খালেদা-নিজামিদের হাতে ফের ক্ষমতা ফিরে গেলে পেপার স্প্রের প্রয়োগ নিজেদের চোখেই ছিটাবে একই পুলিশ। এতে হাসিনা ও তাঁর মহাজোট সরকারের নেতা-কর্মী ও পরামর্শদাতাদের সন্দেহ থাকলেও ইতিহাস যে তারও সাক্ষ‍্য দেয় তা বিগত দুই দশকের তথাকথিত নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রের শাসনামলই প্রমাণ দেয়। কাজেই সাধু সাবধান!!! ছবি বিডিনিউজ২৪

পদ-পদবির লড়াইয়ে নৈরাজ‍্য ও সন্ত্রাসে ভরপুর বিশ্বিবদ‍্যালয়গুলি!

uni

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। দেশের বিশ্বিবদ‍্যালয়গুলিতে নৈরাজ‍্য ও সন্ত্রাস ভর করেছে। পদ ও পদবির লড়াই চালাতে গিয়ে সরকার সমর্থক শিক্ষক গ্রুপদের দলাদলি চরমে। শিক্ষকদের কেউ কেউ পদ পদবি ধরে রাখতে কিংবা পদ পাবার আশায় ব‍্যবহার করছে ছাত্রলীগকে। আর এসব নিয়েই একটি সুন্দর লেখা পেলাম। তাই নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে দু’একটি লাইন লিখতে বসা আর কী? আমার প্রিয় কলামিষ্টদের মধে‍্য একজন হলেন সোহরাব হাসান। তিনি একটি সুন্দর কলাম লিখেছেন দৈনিক প্রথম আলোতে। এই লেখাটির একটা লিংক ফেইসবুকে শেয়ার করেছেন আমার এক শিক্ষক আবুল কাশেম।
বিশ্ববিদ‍্যালয়ের প্রচলিত বিধান মতে পূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চা তথা নির্বাচনের মাধ‍্যমে উচাপার্য প‍্যানেল নির্বাচন করে প্রথমোক্ত ব‍্যক্তিকে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে, দ্বিতীয়জনকে উপ-উপাচার্য নিয়োগ করার উদে‍্যাগ গ্রহণ এবংক্ষমতাসীনদের অনৈতিক রাজনৈতিক চাপ ও দলীয়করণ বন্ধ না হলে বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলিতে এমন হযবরল অবস্থার পরিবর্তন অত সহজ হবে না। সবচেয়ে জরুরি যেটা সেটা হলো রাজনীতির মধে‍্য যে টাকা, ব‍্যবসা আর সুবিধাবাদ ও দুবর্ৃত্তপনা ঢুকে পড়েছে তার থেকে পরিত্রাণ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই দশা বদলানো যায় না। হয়ত সোহরাব ভাইদের কলম দিয়ে আরও ভালো লেখা পাওয়া যাবে বটে কিন্তু সমাজের চেহারাটা দিন দিন কদর্য রুপই ধারণ করবে! শ্রদ্ধেয় কাশেম স‍্যার আমি হতাশাবাদি না হলেও হতাশার অতল গহবরে আমার স্বদেশ। সর্বাংগে ব‍্যথা ওষুধ দিবো কথা এই অবস্থায় বাংলার মানুষের মনে আশার আলো জ্বালানোর মতো কোন নেতৃত্বও হয়ত খুব দ্রুত পাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই ওখানে। উপাচার্য, উপ উপাচার্য হবার জন‍্য বা অন‍্যান‍্য পদ পদবি পাবার আশায় গ্রুপিং, লড়াই, দ্বন্দ্ব, হানাহানি ও কাদা ছোড়াছুড়ি চলতেই থাকবে আমাদের বাংলায়। কারণ আমাদের রাজনীতির ভেতরে এখন দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, পারিবারিকীকরণের যুগ চলছে। ক্ষমতায় আওয়ামী লীগই থাকুক আর বিএনপিই থাকুক, অবস্থাটা একই। কাজেই শুধু কোন পদ থেকে মানুষ বদলিয়ে কোন ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করাটাও একধরণের বোকামি। ছবি ডেইলি সান (গুগল থেকে সংগ্রহ করা)।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, মৃত্যুদন্ড এবং আমার অবস্থান

War Criminals campaign
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ফারজানা কবির খান স্নিগ্ধা থাকেন জার্মানিতে। আমার সঙ্গে উনার পরিচয়ের সূত্র সোশাল মাধ‍্যম ফেইসবুক। একইসূত্রে তিনি ফেইসবুকের একজন বন্ধু। ফেইসবুকে তিন হাজারেরও অনেক বেশি বন্ধু আমার তালিকায় আছেন যাদের অনেককেই আমি ব‍্যক্তিগতভাবে চিনি না। কে কিভাবে বন্ধু হলেন (হয়ত আমিই বন্ধুত্বের অনুমোদন করেছি নতুবা তালিকায় আসলো কিভাবে) তার আলোচনায় না গিয়েই বলি বন্ধু তালিকাটি আমি ছোট করে আনতে চাই। যার ক্রিয়া শুরু করেছি পুরনো বছরেই। বন্ধু তালিকা ছোট করার যুক্তি হলো বন্ধুদের অনেকেই যুদ্ধাপরাধির দল জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট (বুঝতে পারি তাদের লেখা, লিংক ও স্টাটাস থেকে) এবং অনেকেই আবার আওয়ামীপন্থি কিন্তু অন্ধ রাজনৈতিক বিবেবচনাসম্পন্ন। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি তালিকাটাকে ছোট করে চিন্তা চেতনায় এক কিংবা এক না হলেও অন্ত:ত যারা উগ্র নন তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা রাখবো। বিশষত: জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্টদের বাদ দেয়াটা অতিব জরুরি। সেই কাজ পুরো দমে চালিয়ে যাচ্ছি।
মূল আলোচনায় এবং আসল বিষয়ে আসা যাক। গত ৬ জানুয়ারি ফারজানা কবির খান স্নিগ্ধা একটা স্টাটাস লিখেছেন ফেইসবুকে। স্টাটাসটা হলো “রাজাকারদের ফাঁসি চায় না এমন লোকজন আমার লিষ্টে থাকলে, আপনাদের দোহাই লাগে আমাকে আপনাদের বন্ধুলিষ্ট থেকে বাদ দেন। আপনার ঘরের মা, বোনেদের ধর্ষণ করলে আর মুক্তিযুদ্ধে কেউ শহীদ হলে তখন বুঝতেন, রাজাকার আর ফেকস্তান কতটা ঘৃণিত।আর দয়া করে তত্ত্ব কথা বলতে আসবেন না যে, মৃত্যুদন্ড ছাড়া কি আর কোন শাস্তি নাই !! ৭১’এ আপনাদের রাজাকার ভাই-চাচারা এসব তত্ত্ব কথা বলে নাই। লক্ষ লক্ষ মানুষকে নির্দ্বিধায় হত্যাই করেছে। কার আত্মীয় আর কার শত্রু শুনতে চাই না। শুধু জানি, রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ চাই।” এরই প্রেক্ষিতে আমি ছোট্র একটা মত লিখি সেই স্টাটাসের ওপর। সেটা ছিল এমন, “একজন মানবাধিকার কমীর্ হিসেবে মৃতু‍্যদন্ডকে কখনও সমর্থন করি না, এটা আমার পরিস্কার অবস্থান। খুনি, ঘাতক, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, ধর্ষক, দখলদার, দুর্নীতিবাজ, জালিয়াত সবার বিচার চাই সমানভাবে। এরপরও যদি আপনার আপত্তি থাকে আপনার তালিকা থেকে আপনি নিজেই আমার নামটি কেটে দিন, কোন মন:কষ্ট থাকবে না! কিন্তু যারা যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের বিচার নানান অজুহাতে শেষ করতে চায় না বা ছুতো খুঁজছে বিচারটা যাতে ঝুলিয়ে দেয়া যায় তাদেরও ঘৃণা করি সমানভাবে। আর যারা বা যে দল যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের লালন করে আশ্রয় দেয় তারাতো বাঙালি জাতিরই শত্রু, যতই মুক্তিযোদ্ধা বা অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করুক, স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করুক না কেন?”
মেহেদী সাত্তার নামে আরেকজনের একটি মত আসে আমার মতের প্রেক্ষিতে। উনার মতটা হলো, “মানবাধিকার সংস্থাগুলো দুঃখ জনক ভাবে সোচ্চার হয় যখন সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসির হুকুম হয়, কিন্তু সাদ্দাম যখন কুর্দিদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যাবহার করে মেরে ফেলে তখন তাদের সোচ্চার হওয়া নিরবতার মত মনে হয়। এরকম অজস্র উদাহরন আছে। ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যার সময় কোন আইন মানা হয়নি, আত্মপক্ষ রক্ষার কোন সুযোগ দেয়া হয়নি, কারো কোন পার্থনা ভগবান, আল্লাহ শুনে নি, আর শুনে নি ঘাতকেরা। অথচ এই ঘাতকদের ন্যায় বিচার চাওয়ার নামে প্রতক্ষ্য আর পরোক্ষ্য ভাবে তাদের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়ছে বিভিন্ন রকম সংস্থা। মানবাধিকার সংস্থা গুলোর মানবাধিকারের সংজ্ঞা স্থান, কাল, পাত্র ভেদে কেমন যেন ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়ে যায়। জাহাংগির আলম আকাশ, আপনি মানবাধিকার কর্মী জেনে ভাল লাগলো। আমি জানি আপনি মানবাধিকার সমন্ধে ভাল জ্ঞান রাখেন। আমার যুক্তিকে আপনি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারবেন। কিন্তু আপনার মন্তব্য পড়ে বুঝতে পারলাম না আপনি আসলে কি চান। সব কুল রক্ষা করা যায় না। একটা লাইন আপনাকে টানতে হবে; পক্ষে অথবা বিপক্ষে। বিচার বিলম্বিত করার কুপ্রচেষ্টার আগাম অভিযোগে আপনি যুদ্ধাপরাধিদের পক্ষে যেতে পারেন না। এটা আমার একান্ত ভাবনা। ভুল মনে করলে ক্ষমা করে দিবেন। ধন্যবাদ! ভাল থাকবেন।”
ফের লিখি আমার মত, “ভাই মেহেদী সাত্তার, আমার ব‍্যক্তিগত কোন লাইন নেই, আদর্শ আছে বিশ্বাসও আছে আমি অরাজনৈতিক নই। তবে আমি আমার পেশা আর ব‍্যক্তিগত আদর্শকে কখনই একভাবে দেখি না। খুনি, ধর্ষক, রাজাকার, আলবদর, নিজামী (গং), যুদ্ধাপরাধী কারা কে কী করেছে একাত্তরে তার আর ঢোল বাজানোর কোন দরকার আছে বলে মনে করি না। কারণ সারাদেশ, বিশ্ব, দেশের মানুষ সবাই জানেন সবার কাছেই সেই খুনি-ঘাতকদের জবানি, লিখিত কথাবার্তা এমনকি রাজাকারদের নিজস্ব প্রকাশনাতেও তার প্রমাণ আছে। কাজেই বিচার বানচালের কোন অজুহাত কারওপক্ষে বিশষত মহাজোট সরকারের মুখে মানায় না। কারণ দেশের মানুষ সর্বোচ্চ এবং অভাবনীয় ম‍্যান্ডেট দিয়েছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিলম্বিত করানো বা স্কাইপি নামের তথাকথিত আলোচনার মাধ‍্যমে এবং ঘাতক ও তাদের আইনবিদদের সাক্ষাৎকার প্রচারের নামে জামাতিদেরই প্রগাগান্ডা তুলে ধরার নামে যেভাবেই হোক না কেন বিচার বন্ধ হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। আমি বলবো জামাত বা যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের আশ্রয়দাতারা বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে নানাভাবে বহু কৌশলে। কিন্তু সেই ফাঁদে সরকার পড়বে কেন, বা বিচারটাকে চার বছর পর্যন্ত টেনে আনা হলোই বা কেন, কার স্বার্থে বিলম্ব। যাহোক আপনি আমার মত জানিয়েছেন, সব মতকেই শ্রদ্ধা করি। আমি আমার মত লিখছি মাত্র। আমার কোন দল নেই, আমি কাউকে তেলও মারি না, কারও কাছ থেকে সুবিধাও নিতে চাই না। তবে তোষামদকারি, সুবিধাবাদি ও চাটার দলভুক্তরা হাসিনার পাশাপাশি আছে, থাকছে হয়ত থাকবে তারাই ভুলপথে নেয়ার চেষ্টা করবে। পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে যেভাবে মোশতাকরা হত‍্যা করিয়ে ক্ষমতা জিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিলেন! আমার অনুরোধ, কারও কাছে ক্ষমা চাইবেন না। মতপ্রকাশ করাটা সেটা যার পক্ষে বা যার বিরুদ্ধেই যাক না কেন তা আপনার অধিকার। ভালো থাকুন।”
এবার উনি লিখলেন এভাবে, “অনেক কথা বলেছেন। এত কথার পরিপেক্ষিতে আমার তেমন কিছুর বলার যোগ্যতা নাই। বিচার করতে চার বছর লেগে যাচ্ছে বলে প্রশ্ন তুলছেন, কিন্তু বিচারটা দু বছরে করলে তখন বিচারের মানদন্ড, সচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এরকম হাজার রকম অভিযোগ পৃথিবীর আকাশে বাতাসে উচ্চারিত হতো। আপনার ব্যক্তি চরিত্রের ব্যাপারে আমি কোন প্রশ্ন তুলিনি। নিজের সম্পর্কে এতকিছু না বললেও চলতো।”
কাজেই আমাকেও একটা জবাব লিখতে হয়েছিল। আমি এবার লিখলাম যে, “ওটা নতুন কিছু নয়। সেটা ১০ বছর ধরে করলেও ওঠবে যারা করার তারা সেরকম করেই যাবে। আসলে নিজের সম্পর্কে নয় আমার অবস্থানটা পরিস্কার করার চেষ্টা করছি মাত্র। জানি না পেরেছি কিনা। তবে আবারও বলি বিচার চাই আমরা সবাই। সেটা করতে না পারলে কী ভয়ানক দিন আসতে পারে সেকু‍্যলারমানসিকতাসম্পন্ন মানুষদের বা যাঁরা এই বিচার আন্দোলন চালিয় যাচ্ছেন তাঁদের জন‍্য কী ভয়ংকর দিন আসবে তা আমরা কল্পনা করছি কিনা তাও আমার জানা নেই!”
মুকুল কবিরাজের মন্তব‍্যটা এমন, ” চমৎকারভাবে আমার কথা গুলোই বলেছেন। তবু আমি লিখছি এ জন্য যে অনুরূপ একটি পোস্ট Farzana Kabir Khan Snigdha আমার পাতাতেও রেখেছেন। আপনার জ্ঞাতার্থে ফারজানা, ৭১ এর মার্চে পাকিস্থান আর্মি আমার ভাই, মামা, চাচা, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রিয় শিক্ষককে হত্যা করেছিল। আমি তখন ১৪ বছরের তরুন। আমি দেশের ভেতরেই ছিলাম। এবং সহজেই ৩০ লক্ষের পরিসংখ্যনে পরে যেতে পারতাম। সে সময়ে দেশের ভেতরে যারা ছিল তাদের প্রতিদিন বেঁচে থাকা অথবা নিহত হবার সম্ভাবনা ছিল ৫০%… অতএব, ‘মুক্তিযুদ্ধে কেউ শহীদ হলে তখন বুঝতেন’ এ কথাটা আমার জন্য অর্থবহ তেমন কিছু নয়। আমি কোন মানুষের জীবন জোর করে কেড়ে নেওয়ার বিপক্ষে। আমার এই ব্যক্তগত আদর্শ যদি আপনার বন্ধু লিস্টে থাকবার অন্তরায় হয়, তাহলে আপনি নিজেই ‘খরচা’ করবার কাজটি করুন না! ভালো থাকবেন।”
এরপর আরও অনেকে মন্তব‍্য করেন সেই স্টাটাসে।
দীর্ঘ বিরতির পর ফের জবাব মিললো ফারজানার কাছ থেকে। এবার তিনি বললেন, “সরি, ইন্টারনেটে ছিলাম না এবং কাজে ছিলাম বলে উত্তর দিতে দেরী হয়ে গেল। আমরা কি এখানে ইউরোপ আমেরিকা নিয়ে কথা বলছি নাকি বাংলাদেশ নিয়ে ঠিক বুঝতে পারলাম না। বাংলাদেশে যখন ৭১’এ নিরীহ মানুষদের খুন করেছিল তখন কোথায় ছিলো মানবাধিকার আইন।
পৃথিবীর সব দেশ থেকে মৃত্যুদন্ড উঠে যাক আমিও চাই। কিন্তু রাজাকারদের প্রশ্নে আমি বলি যেহুতু এখনও বাংলাদেশে মৃত্যুদন্ড বহাল আছে সেহুতু হত্যা, ধর্ষণের সাঁজা ফাঁসি ছাড়া আমি আর কোন কিছুই দেখি না। আর শেখ হাসিনা বা খালেদা রাজনীতি আমি করি না। আর তেল মারা বা চাটুকারী আমার দ্বারা হয় না। যা বলি খুব স্পষ্ট বলি। এই জন্য ডয়েচে ভেলে বাংলা ডিপার্টমেন্টে আমার চাকরী পার্মানেন্ট হয়নি। কিন্তু আমি ওদের একাডেমীতে জব করে আমার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছি। আর আকাশ সাহেব আমার লেখার মাঝে আপনার ব্লগের লিংক আমাকে না জিজ্ঞাসা করে দিলেন কেন? আপনি কী প্রমাণ করতে চাইছেন। কয়েকদিন আগেও বললেন আপনি সাঈদীর অডিওগুলো আসলে কি উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে কে জানে? আপনি আপনার মতামত আপনার স্ট্যাটাসে দিবেন। যদি বলেন, আমি গোড়া। হ্যা, এসব রাজাকারদের বেলায় আমি সত্যি গোড়া। আপনাদের চৈনিক পন্থীদের কথা আমার মাথায় ঢুকেনা। বাংলাদেশের কিছু মানুষ আছে যারা বলে, কার স্বার্থে ফেকস্তান থেকে বিভক্তি। শেখ মুজিব নিজে ক্ষমতা দখলের জন্য বাংলাদেশের মানুষকে ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামিয়েছিলেন। ইদানিং শুনছি, রাজাকার আসল মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো। আর যেসব কথা বলছেন, কার স্বার্থে রাজাকারদের বিচার। বাংলাদেশের স্বার্থে। আর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কখনোই হবে না। তাই মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের মত বলবো না, যে যুদ্ধাপরাধীদের প্রসঙ্গে সরকারের সংগে থাকতে হবে। বলতে হবে, সরকারকে বাধ্য করতে হবে এই বিচারের জন্য। সোজা নিয়ে রাজাকারদের ঝুলিয়ে দিলে আপনারাই বলতেন, এই সরকার একটি পশু সরকার। এই সরকারের মানবতা বলতে কিছুই নাই। উই হেট শেখ হাসিনা। বিচারপতির স্কাইপি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অথচ রাজাকারদের বেলায় মানবাধিকার আইন। সত্যি খুবই হাস্যকর।
আমরা অনেক মানবতাবাদী কথা বলি, কিন্তু বিশ্বাস থেকে বলি না। প্রথমে কিছু লোক বলছিল, আন্তর্জাতিক মান বহাল রাখা হবে না। আর এখন বলছে মানবাধিকার আইন অনুযায়ী ফাঁসি উঠে যাক। সত্যি, যুক্তির বলিহারি। আমার তালিকা থেকে আপনি বা আপনারা যারা যুদ্ধাপরাধীদের জন্য ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে তাদের পক্ষে কথা বলেন তাদের প্রতি আমার বন্ধুত্ব সংকীর্ণ হয়ে যায়। আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনি আমার এসব কথা নিয়ে আরো একটা ব্লগ লিখে আমাকে আপনার বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেন। আমার কোন আফসোস থাকবে না।
আর জাহাঙ্গীর আকাশ, আপনি নিজে বাংলাদেশে নাই। বাংলাদেশে যে মানবাধিকার আইন সম্ভব না তার প্রমাণ আপনি নিজে। নরওয়েতে অনেক পাকিস্তানী আছে যারা, মুক্তিযুদ্ধের সময় নরওয়েতে গিয়ে বলেছে, পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ বেধেছে? আমাদের নিরাপত্তা দরকার। এসব কথা বলে, আমাদের দেশের মানুষকে হত্যা করে, নিজেরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছে। কই কোনদিনতো এইসব মিথ্যাবাদীদের নিয়ে ব্লগ লেখেন নি।”
ভাবলাম একটা জবাব লিখা দরকার। অনেক ধৈয‍্য পুড়িয়ে কম্পোজ করলাম দীর্ঘ মন্তব‍্য। বিপত্তি দেখা দিলো আপলোড করাতে। ভাবলাম আমার ভুল। কিন্তু না শতবার চেষ্টা করেও আমার মন্তবে‍্যর জায়গা হলো না ফারজানার পাতায়। কোন কারণে এটা সেখানে উঠছে না সেটা আমি আমার ছোট্র জ্ঞানে বুঝতে পারছি না। তাই তাগিদ ও দায় থেকে একটা জবাব লেখার চেষ্টাটাকেতো আর মেরে ফেলতে পারি না। তবে প্রিয় পাঠক আপনারাই বিবেবচনা করুন আমাদের গণতন্ত্র, আমাদের পরমতের প্রতি সহিষ্ণুতা, সহনশীলতার মাত্রাটা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। ফারজানার মতো মানুষগুলি কিন্তু আমাদের ছলিমুদ্দি, কলিমুদ্দি বা আইজুদ্দিন (আমার বিবেবচনায় এরাই প্রকৃত মানুষ যাঁদের কোন স্বার্থ নেই আছে কেবল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এবং পরোপকারের মানসিকতা) নন। উনারা প্রাতিষ্ঠানিক শক্ষায় শিক্ষিত, থাকেন বিশ্বের অন‍্যতম উন্নত একটি দেশে।
আমি ফারজানার জবাবের পাল্টা জবাবটা লিখেছিলাম সেটা আপনাদের সামনে হুবহু তুলে দিলাম।
রাজাকারদের পক্ষে আর কে রাজাকারদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে করছে কিংবা কে কতটুকু কী করেছে তা এখানে বলতে বা লিখতে চাই না। সেটা লিখবো নিজের ব্লগে। তবে একটা কথা পরিস্কার করে আবারও বলতে চাই সেটা হলো, ব‍্যক্তিগতভাবে আমি কোন মৃতু‍্যদন্ডকে সমর্থন করি না। এবং আমি এও বিশ্বাস করে মানবাধিকার সনদের প্রতি সহানভুতি আছে যারা মানবতায় বিশ্বাস করে তারা কী কারও মৃতু‍্যদন্ড সমর্থন করতে পারেন? কতগুলি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করাতে চাই। মাওলানা মান্নান যে ডা. আলীম চৌধুরীকে হত‍্যা করিয়েছে সেতো পরে এরশাদের মন্ত্রি ছিল, ইনকিলাব বের করেছে। বেচারা মরে বেঁচেছে ২০০৬ সালে। শ্রদ্ধেয় শামলী নাসরিন চৌধুরী শত সহস্র হাজারোবার হৃদয়ের ক্ষরণের কথা বলেছেন। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালতের যে রায় সেই রায়তো ১৯৯৬-২০০১ সালের হাসিনা সরকার বাস্তবায়ন করেনি। রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ের অধ‍্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দারের স্ত্রী চম্পা সমাদ্দার (আমাদের মাসীমা) এর চোখের জলতো কেউ মুছে দেয়নি। গণকবর থেকে বেঁচে ফিরে আসা রাজশাহীর রুপচাঁন মন্ডলের সন্তান, নাতি-নাতনীরা কী করে বেঁচে আছেন কতজন মুক্তিযোদ্ধা দেশে রিকশা চালিয়ে বা ভিক্ষা করে জীবন সংসারের যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তারতো খোঁজ রাখছি কী আমরা বা রাষ্ট্র সোজা কথায় সরকার? একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমর্ূল কমিটি, সাহসী বিবেবকবান সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, প্রয়াত কবীর চৌধুরী, শ‍্যামলী নাসরিন চৌধুরী, বিচারপতি কে এম সোবহান, প্রয়াত আইনবিদ গাজীউল হকসহ যেসব মহান মানুষ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের আন্দোলনটাকে জীবন বাজি রেখে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তাঁদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়ে বলছি, একটা মানুষের নৈতিক অবস্থান, আদর্শ, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অর্থ এই নয় যে সেই মানুষটি একাত্তরের জানোয়ারদের বিচার চায় না। হয়তো অনেকেই বলবেন নিজের ঢোল নিজেই পেটাচ্ছি তাই বেশি কিছু না লিখেই জানাচ্ছি কেবল অনুগ্রহ করে আমার PAIN বইটি পড়বেন (যদি সম্ভব হয়)। অবিবেচকের মতো কাউকে হেনস্থা করা বা কারও অবস্থানকে কলংকিত করার হীনমানসিকতা কোনভাবেই সমর্থনযোগ‍্য হতে পারে না। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটকে ব্রুট মেজরিটি প্রদান করেছেন। এই ভালোবাসার সমর্থন কী জামাত-শিবিরের কোটি কোটি টাকার ব‍্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন‍্য? কার কোন দলের নেতা ছেলেমেয়েরা শিবিরের কোচিং সেন্টারে, হাসপাতালে, ব‍্যাংকে এনজিওতে যায়, সহযোগিতা করে দয়া করে একটু খোঁজ করুন। হাসিনা কেন একজন জামায়াতরোকনের সন্তানকে প্রতিমন্ত্রী বানান, তিনি কেন নির্বাচিত নেতাদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদিদের (যাদের অনেকই কোনদিন আওয়ামী লীগ করেনি, আন্দোলন-সংগ্রামে কোন ত‍্যাগ নেই) হঠাৎ করে নেতা বানিয়ে দিচ্ছেন? যারা বাংলা ভাইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন তারা বাদ পড়ে আর বাংলা ভাইকে সহায়তাকারীদের অনেকেই কেন বড় বড় পদ পায়? প্রসঙ্গ অন‍্যদিকে নিতে চাই না। Farzana Kabir Khan Snigdha আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ছোট্র একটা কথা। সেটা হলো মানবাধিকার, ন‍্যায়বিচার কোন পক্ষাবলম্বন করে হয় না। পক্ষটা হতে হবে মানবাধিকারের, ন‍্যায়বিচারের। অপরাধ, অপরাধী যেই হোক অপরাধ ও অপরাধীর শাস্তিটা বা বিচারটাই হলো আসল কথা। কী ধরণের বা কী পরিমাণ শাস্তি দেয়া হলো বা পেলো সেটা অন‍্য কথা। ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, হত‍্যা, গুম ইত‍্যাদি অপরাধের সবর্োচ্চ শাস্তি বাংলাদেশে বলবৎ বা বিদ‍্যমান আইনে কী তা আমরা সবাই জানি। কাজেই জানা বিষয় নিয়ে চিৎকার করার মতো সময় আমার নেই। যেটা জরুরি সেটা হলো যুদ্ধাপরাধের বিচার। “মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক আমিও চাই…ইত‍্যাদি কিন্তু ওদের জন‍্য নয়” এ ধরণের কথাবার্তার সারমর্ম আর যাইহোক মানবতার পক্ষে নয়। দেশ-বিদেশে বা বিশ্বসভায় শান্তির মডেল বিলি করে একটা দেশ ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না যদি না সেই সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে প্রকৃতঅর্থের গণতন্ত্র চর্চা না থাকে যদি ন‍্যায়বিচার না পায় মানুষ, যদি সমাজে দুর্নীতি, বৈষম‍্য ও দলবাজি, দখলদারিত্ব বজায় থাকে, যদি রাস্তায় প্রকাশে‍্য বিশ্বজিৎদের পিটিয়ে হত‍্যা করা হয়, যদি ঘরের বিছানায় সাংবাদিক দম্পত্ত সাগর-রুনিদের শিশু সন্তানের সামনে নৃশংসভাবে হত‍্যা হতে হয় (আর সেই হত‍্যাকারিদের বাঁচাতে নানানরকমের টালবাহানা, কথাবার্তা ও ফন্দি-ফিকির, কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়), যদি বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত‍্যা করা হয়, যদি ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে মেজরিটির সুবাদে অন‍্য ধর্মাবলম্বিদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে ও উপাসনালয় ভাংচুর করা হয়, যদি দলীয় নেতা নির্বাচন না করে মনোনীত করা হয়, যদি কোটি কোটি টাকা ব‍্যয় করে একজন ব‍্যবসায়ীকে সংসদ সদস‍্য নির্বাচিত হতে হয়, যদি সংসদ সদস‍্য নির্বাচিত হবার পর রাতারাতি ভাগে‍্যর বদল ঘটে আলাদিনের চেরাগ পাবার ন‍্যায়, যদি টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার রেজাল্ট বদলানো যায়, যদি টাকার বিনিময়ে পুলিশের কর্তা পদে চাকরি পাওয়া যায়, যদি দলীয় বিবেচনায় দেশের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হতে পারেন (….আরও লক্ষ কোটি উদাহরণ দেয়ার মতো লেখা যাবে সেই পথে পা বাড়ালাম না আজ) তবে কী শান্তি ধরা দেবে? আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সামান‍্য স্পর্শ করে পাল্টা মতের যবনিকাপাত ঘটাবো। রাজনৈতিক আশ্রয়ের কথা বলছেন ওটাতো একধরণের ব‍্যবসায় রুপ নিয়েছে। এখনও অনেকে সেটা করছেন ইউরোপ আমেরিকায়। আর তৎকালিন পশ্চিম পাকিস্তানীদের কেউ কেউ সেটা নরওয়েতে শুরু করেছে ১৯৭০-৭১ সালে। ওটা নতুন কিছু না আমার কাছে। মিথ‍্যা তথ‍্য, মিথ‍্যা ঘটনা সাজিয়ে (জার্মানি, অষ্ট্রিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ইটালি, লন্ডন, অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, গ্রীস, সুইজারল‍্যান্সডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়া বা পাওয়া অসংখ‍্য বাঙালি/বাংলাদেশি ব‍্যক্তির ইতিহাস জানি। বাঙালিরা (কতিপয়) ৭৫ পরবর্তী সময়ে এটা শুরু করেছে, যার ধারাবাহিকতা এখনও চলছে (এটা আপনিও জানেন বোধ করি) আর পশ্চিম পাকিস্তানীরা (কতিপয়) আমাদের ওপর আক্রমণ করে উল্টো তারা জীবনহানির মুখে আছে বলে নরওয়েতে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিল এবং তা মঞ্জুর হয়েছে। তাদের এখন তৃতীয় জেনারেশন চলছে এসব দেশে। মিথ‍্যা মিথ‍্যাই, তাই বলে মিথ‍্যা দিয়ে সত‍্য ঢাকা দেয়া যায় না। Farzana Kabir Khan Snigdha আপনি কী তাদের বিরুদ্ধে কলম ধরার পরামর্শ দিচ্ছেন আমাকে? যদি আ্প্নআ্র্ উত্তর হ‍্যাঁ হয় তবে বলবো সেটা আমার কাজ না। উত্তরে বলবো আপনি লিখছেন না কেন? বাংলা ভাইয়ের পক্ষে রিপোর্ট করেছে এমন ব‍্যক্তিওতো আপনি যেখানে আছেন সেখানকার সরকার নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় চাকরি পেয়েছে, কিভাবে কারা তাকে মনোনয়ন দিলো-লিখেন না কেন এসব নিয়ে? পরিশেষে আমি আপনাদের সকলের মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে ক্ষান্ত দিলাম। আপনাদের সকলের মতামতের প্রেক্ষিতে পাল্টা মত বা যুক্তি দাঁ করানোর মতো আমার সময় নেই। জীবন, সমাজ, সংসারের দায় যথাযথভাবে পালন করাটাই যেখানে একটা বড় চ‍্যালেঞ্জ সেখানে সময় নষ্ট করার মতো বাড়তি সময় নেই আমার। আমার আবেগ আছে কিন্তু আবেগের বশবর্তী হয়ে কিছু লিখি না, সত‍্যটা জানার এবং জানানোর চেষ্টা করি। তারজন‍্য আমার ব্লগ আছে, ইউটিউব আছে সেসব জায়গায় আমি কী কী আমার উদ্দশ‍্য কাদের জন‍্য লিখি তার বিস্তারিত পাওয়া যাবে। আর Farzana Kabir Khan Snigdha আপনার স্টাটাসে আমার লিংক দিয়েছি সেটা রিলেটেড তাই। অমন কাজ আপনিও করেছেন অতীতে আমার স্টাটাসে। তবে এখন থেকে সাবধান হলাম, আপনাকে বুঝলাম! আমি এটাও মনে করি যে, কোন অপরাধীকে মৃতু‍্যদন্ড দেয়ার অর্থ সেই অপরাধীকে বাঁচিয়ে দেয়া। বরং যদি একজন অপরাধী যাবজ্জীবন কারাভোগ করে, সেটা মৃতু‍্যদন্ডের চেয়েও কঠোর এবং কঠিন শাস্তি। তখনই কেবল একজন অপরাধী বা যুদ্ধাপরাধী টের পাবে যে যন্ত্রণাটা কী? কারণ শুধুমাত্র সাংবাদিকতার কারণে রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন এবং র‍্যাবের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমিও ২৮ দিনের অন্ধকার কারাজীবন (ওই সময়ে রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ‍্যাপক সাইদুর রহমান খান, রাবির বর্তমান উপাচার্য আবদুস সোবহান খান, গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু, সরোয়ার জাহান, মলয় ভৌমিক (নাট‍্যকার), বর্তমানে পিআইবির মহাপরিচালক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, রাবির শিক্ষক সেলিম রেজা নিউটন, আ. আ-মামুন, জনসংযোগ কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম, রাজশাহীর তৎকালিন মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ আরও অনেকে…ছিলেন একই কারাগারে) এর অনুভূতি থেকেই বলতে চাই, মৃতু‍্যদন্ডের যেয়েও যাবজ্জীবনের কারাদন্ড যন্ত্রণা ঢের বেশি! প্রত‍্যাশা করি নতুন বছরটি বাংলাদেশের জন‍্য যুদ্ধাপরাধীমুক্ত সমাজ পাবে বাংলার মানুষ। দেশে আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার ও সতি‍্যকারের গণতন্ত্র আসুক, মানুষ শান্তিতে থাকুক, যুদ্ধাপরাধী-খুনির শাস্তি হোক, বন্ধ হোক বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড, নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন। স্বদেশ ভালো থাকলে বিদেশের মাটিতে থেকেও মন আনন্দে ভরে ওঠবে। ছবি গুগল থেকে সংগ্রৃহীত।

আপনিই আমার নামটি কেটে দিন না কেন?

সিপিবি
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আমার একজন ফেইসবুক বন্ধু একটা আহবান জানিয়েয়েছেন যে, যারা রাজাকারদের ফাঁসি চায় না তারা যেন তার বন্ধুর তালিকা থেকে নামটি কেটে দেয়। তারই প্রতিক্রিয়া হিসেবে কয়েক লাইনের এই লেখা।
আমার প্রতিক্রিয়া হলো- “যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বিচারের প্রশ্নে আমার অবস্থান একদম পরিস্কার। আমার অবস্থান নিয়ে অনেকেরই নানান জল্পনা-কল্পনা কুটিলতা, দুরভিসন্ধি থাকতে পারে তবে আমার কাছে আমির অবস্থান স্বচ্ছ, সোজা। একজন মানবাধিকার কমীর্ হিসেবে মৃতু‍্যদন্ডকে কখনও সমর্থন করি না, এটা আমার পরিস্কার অবস্থান। খুনি, ঘাতক, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, ধর্ষক, দখলদার, দুর্নীতিবাজ, জালিয়াত সবার বিচার চাই সমানভাবে। এরপরও যদি আপনার আপত্তি থাকে আপনার তালিকা থেকে আপনি নিজেই আমার নামটি কেটে দিন, কোন মন:কষ্ট থাকবে না।”
কিন্তু যারা যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের বিচার নানান অজুহাতে শেষ করতে চায় না বা ছুতো খুঁজছে বিচারটা যাতে ঝুলিয়ে দেয়া যায় তাদেরও ঘৃণা করি সমানভাবে। আর যারা বা যে দল যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের লালন করে আশ্রয় দেয় তারাতো বাঙালি জাতিরই শত্রু, যতই মুক্তিযোদ্ধা বা অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করুক, স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করুক না কেন? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।