যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, মৃত্যুদন্ড এবং আমার অবস্থান

War Criminals campaign
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ফারজানা কবির খান স্নিগ্ধা থাকেন জার্মানিতে। আমার সঙ্গে উনার পরিচয়ের সূত্র সোশাল মাধ‍্যম ফেইসবুক। একইসূত্রে তিনি ফেইসবুকের একজন বন্ধু। ফেইসবুকে তিন হাজারেরও অনেক বেশি বন্ধু আমার তালিকায় আছেন যাদের অনেককেই আমি ব‍্যক্তিগতভাবে চিনি না। কে কিভাবে বন্ধু হলেন (হয়ত আমিই বন্ধুত্বের অনুমোদন করেছি নতুবা তালিকায় আসলো কিভাবে) তার আলোচনায় না গিয়েই বলি বন্ধু তালিকাটি আমি ছোট করে আনতে চাই। যার ক্রিয়া শুরু করেছি পুরনো বছরেই। বন্ধু তালিকা ছোট করার যুক্তি হলো বন্ধুদের অনেকেই যুদ্ধাপরাধির দল জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট (বুঝতে পারি তাদের লেখা, লিংক ও স্টাটাস থেকে) এবং অনেকেই আবার আওয়ামীপন্থি কিন্তু অন্ধ রাজনৈতিক বিবেবচনাসম্পন্ন। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি তালিকাটাকে ছোট করে চিন্তা চেতনায় এক কিংবা এক না হলেও অন্ত:ত যারা উগ্র নন তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা রাখবো। বিশষত: জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্টদের বাদ দেয়াটা অতিব জরুরি। সেই কাজ পুরো দমে চালিয়ে যাচ্ছি।
মূল আলোচনায় এবং আসল বিষয়ে আসা যাক। গত ৬ জানুয়ারি ফারজানা কবির খান স্নিগ্ধা একটা স্টাটাস লিখেছেন ফেইসবুকে। স্টাটাসটা হলো “রাজাকারদের ফাঁসি চায় না এমন লোকজন আমার লিষ্টে থাকলে, আপনাদের দোহাই লাগে আমাকে আপনাদের বন্ধুলিষ্ট থেকে বাদ দেন। আপনার ঘরের মা, বোনেদের ধর্ষণ করলে আর মুক্তিযুদ্ধে কেউ শহীদ হলে তখন বুঝতেন, রাজাকার আর ফেকস্তান কতটা ঘৃণিত।আর দয়া করে তত্ত্ব কথা বলতে আসবেন না যে, মৃত্যুদন্ড ছাড়া কি আর কোন শাস্তি নাই !! ৭১’এ আপনাদের রাজাকার ভাই-চাচারা এসব তত্ত্ব কথা বলে নাই। লক্ষ লক্ষ মানুষকে নির্দ্বিধায় হত্যাই করেছে। কার আত্মীয় আর কার শত্রু শুনতে চাই না। শুধু জানি, রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ চাই।” এরই প্রেক্ষিতে আমি ছোট্র একটা মত লিখি সেই স্টাটাসের ওপর। সেটা ছিল এমন, “একজন মানবাধিকার কমীর্ হিসেবে মৃতু‍্যদন্ডকে কখনও সমর্থন করি না, এটা আমার পরিস্কার অবস্থান। খুনি, ঘাতক, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, ধর্ষক, দখলদার, দুর্নীতিবাজ, জালিয়াত সবার বিচার চাই সমানভাবে। এরপরও যদি আপনার আপত্তি থাকে আপনার তালিকা থেকে আপনি নিজেই আমার নামটি কেটে দিন, কোন মন:কষ্ট থাকবে না! কিন্তু যারা যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের বিচার নানান অজুহাতে শেষ করতে চায় না বা ছুতো খুঁজছে বিচারটা যাতে ঝুলিয়ে দেয়া যায় তাদেরও ঘৃণা করি সমানভাবে। আর যারা বা যে দল যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের লালন করে আশ্রয় দেয় তারাতো বাঙালি জাতিরই শত্রু, যতই মুক্তিযোদ্ধা বা অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করুক, স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করুক না কেন?”
মেহেদী সাত্তার নামে আরেকজনের একটি মত আসে আমার মতের প্রেক্ষিতে। উনার মতটা হলো, “মানবাধিকার সংস্থাগুলো দুঃখ জনক ভাবে সোচ্চার হয় যখন সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসির হুকুম হয়, কিন্তু সাদ্দাম যখন কুর্দিদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যাবহার করে মেরে ফেলে তখন তাদের সোচ্চার হওয়া নিরবতার মত মনে হয়। এরকম অজস্র উদাহরন আছে। ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যার সময় কোন আইন মানা হয়নি, আত্মপক্ষ রক্ষার কোন সুযোগ দেয়া হয়নি, কারো কোন পার্থনা ভগবান, আল্লাহ শুনে নি, আর শুনে নি ঘাতকেরা। অথচ এই ঘাতকদের ন্যায় বিচার চাওয়ার নামে প্রতক্ষ্য আর পরোক্ষ্য ভাবে তাদের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়ছে বিভিন্ন রকম সংস্থা। মানবাধিকার সংস্থা গুলোর মানবাধিকারের সংজ্ঞা স্থান, কাল, পাত্র ভেদে কেমন যেন ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়ে যায়। জাহাংগির আলম আকাশ, আপনি মানবাধিকার কর্মী জেনে ভাল লাগলো। আমি জানি আপনি মানবাধিকার সমন্ধে ভাল জ্ঞান রাখেন। আমার যুক্তিকে আপনি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারবেন। কিন্তু আপনার মন্তব্য পড়ে বুঝতে পারলাম না আপনি আসলে কি চান। সব কুল রক্ষা করা যায় না। একটা লাইন আপনাকে টানতে হবে; পক্ষে অথবা বিপক্ষে। বিচার বিলম্বিত করার কুপ্রচেষ্টার আগাম অভিযোগে আপনি যুদ্ধাপরাধিদের পক্ষে যেতে পারেন না। এটা আমার একান্ত ভাবনা। ভুল মনে করলে ক্ষমা করে দিবেন। ধন্যবাদ! ভাল থাকবেন।”
ফের লিখি আমার মত, “ভাই মেহেদী সাত্তার, আমার ব‍্যক্তিগত কোন লাইন নেই, আদর্শ আছে বিশ্বাসও আছে আমি অরাজনৈতিক নই। তবে আমি আমার পেশা আর ব‍্যক্তিগত আদর্শকে কখনই একভাবে দেখি না। খুনি, ধর্ষক, রাজাকার, আলবদর, নিজামী (গং), যুদ্ধাপরাধী কারা কে কী করেছে একাত্তরে তার আর ঢোল বাজানোর কোন দরকার আছে বলে মনে করি না। কারণ সারাদেশ, বিশ্ব, দেশের মানুষ সবাই জানেন সবার কাছেই সেই খুনি-ঘাতকদের জবানি, লিখিত কথাবার্তা এমনকি রাজাকারদের নিজস্ব প্রকাশনাতেও তার প্রমাণ আছে। কাজেই বিচার বানচালের কোন অজুহাত কারওপক্ষে বিশষত মহাজোট সরকারের মুখে মানায় না। কারণ দেশের মানুষ সর্বোচ্চ এবং অভাবনীয় ম‍্যান্ডেট দিয়েছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিলম্বিত করানো বা স্কাইপি নামের তথাকথিত আলোচনার মাধ‍্যমে এবং ঘাতক ও তাদের আইনবিদদের সাক্ষাৎকার প্রচারের নামে জামাতিদেরই প্রগাগান্ডা তুলে ধরার নামে যেভাবেই হোক না কেন বিচার বন্ধ হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। আমি বলবো জামাত বা যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের আশ্রয়দাতারা বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে নানাভাবে বহু কৌশলে। কিন্তু সেই ফাঁদে সরকার পড়বে কেন, বা বিচারটাকে চার বছর পর্যন্ত টেনে আনা হলোই বা কেন, কার স্বার্থে বিলম্ব। যাহোক আপনি আমার মত জানিয়েছেন, সব মতকেই শ্রদ্ধা করি। আমি আমার মত লিখছি মাত্র। আমার কোন দল নেই, আমি কাউকে তেলও মারি না, কারও কাছ থেকে সুবিধাও নিতে চাই না। তবে তোষামদকারি, সুবিধাবাদি ও চাটার দলভুক্তরা হাসিনার পাশাপাশি আছে, থাকছে হয়ত থাকবে তারাই ভুলপথে নেয়ার চেষ্টা করবে। পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে যেভাবে মোশতাকরা হত‍্যা করিয়ে ক্ষমতা জিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিলেন! আমার অনুরোধ, কারও কাছে ক্ষমা চাইবেন না। মতপ্রকাশ করাটা সেটা যার পক্ষে বা যার বিরুদ্ধেই যাক না কেন তা আপনার অধিকার। ভালো থাকুন।”
এবার উনি লিখলেন এভাবে, “অনেক কথা বলেছেন। এত কথার পরিপেক্ষিতে আমার তেমন কিছুর বলার যোগ্যতা নাই। বিচার করতে চার বছর লেগে যাচ্ছে বলে প্রশ্ন তুলছেন, কিন্তু বিচারটা দু বছরে করলে তখন বিচারের মানদন্ড, সচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এরকম হাজার রকম অভিযোগ পৃথিবীর আকাশে বাতাসে উচ্চারিত হতো। আপনার ব্যক্তি চরিত্রের ব্যাপারে আমি কোন প্রশ্ন তুলিনি। নিজের সম্পর্কে এতকিছু না বললেও চলতো।”
কাজেই আমাকেও একটা জবাব লিখতে হয়েছিল। আমি এবার লিখলাম যে, “ওটা নতুন কিছু নয়। সেটা ১০ বছর ধরে করলেও ওঠবে যারা করার তারা সেরকম করেই যাবে। আসলে নিজের সম্পর্কে নয় আমার অবস্থানটা পরিস্কার করার চেষ্টা করছি মাত্র। জানি না পেরেছি কিনা। তবে আবারও বলি বিচার চাই আমরা সবাই। সেটা করতে না পারলে কী ভয়ানক দিন আসতে পারে সেকু‍্যলারমানসিকতাসম্পন্ন মানুষদের বা যাঁরা এই বিচার আন্দোলন চালিয় যাচ্ছেন তাঁদের জন‍্য কী ভয়ংকর দিন আসবে তা আমরা কল্পনা করছি কিনা তাও আমার জানা নেই!”
মুকুল কবিরাজের মন্তব‍্যটা এমন, ” চমৎকারভাবে আমার কথা গুলোই বলেছেন। তবু আমি লিখছি এ জন্য যে অনুরূপ একটি পোস্ট Farzana Kabir Khan Snigdha আমার পাতাতেও রেখেছেন। আপনার জ্ঞাতার্থে ফারজানা, ৭১ এর মার্চে পাকিস্থান আর্মি আমার ভাই, মামা, চাচা, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রিয় শিক্ষককে হত্যা করেছিল। আমি তখন ১৪ বছরের তরুন। আমি দেশের ভেতরেই ছিলাম। এবং সহজেই ৩০ লক্ষের পরিসংখ্যনে পরে যেতে পারতাম। সে সময়ে দেশের ভেতরে যারা ছিল তাদের প্রতিদিন বেঁচে থাকা অথবা নিহত হবার সম্ভাবনা ছিল ৫০%… অতএব, ‘মুক্তিযুদ্ধে কেউ শহীদ হলে তখন বুঝতেন’ এ কথাটা আমার জন্য অর্থবহ তেমন কিছু নয়। আমি কোন মানুষের জীবন জোর করে কেড়ে নেওয়ার বিপক্ষে। আমার এই ব্যক্তগত আদর্শ যদি আপনার বন্ধু লিস্টে থাকবার অন্তরায় হয়, তাহলে আপনি নিজেই ‘খরচা’ করবার কাজটি করুন না! ভালো থাকবেন।”
এরপর আরও অনেকে মন্তব‍্য করেন সেই স্টাটাসে।
দীর্ঘ বিরতির পর ফের জবাব মিললো ফারজানার কাছ থেকে। এবার তিনি বললেন, “সরি, ইন্টারনেটে ছিলাম না এবং কাজে ছিলাম বলে উত্তর দিতে দেরী হয়ে গেল। আমরা কি এখানে ইউরোপ আমেরিকা নিয়ে কথা বলছি নাকি বাংলাদেশ নিয়ে ঠিক বুঝতে পারলাম না। বাংলাদেশে যখন ৭১’এ নিরীহ মানুষদের খুন করেছিল তখন কোথায় ছিলো মানবাধিকার আইন।
পৃথিবীর সব দেশ থেকে মৃত্যুদন্ড উঠে যাক আমিও চাই। কিন্তু রাজাকারদের প্রশ্নে আমি বলি যেহুতু এখনও বাংলাদেশে মৃত্যুদন্ড বহাল আছে সেহুতু হত্যা, ধর্ষণের সাঁজা ফাঁসি ছাড়া আমি আর কোন কিছুই দেখি না। আর শেখ হাসিনা বা খালেদা রাজনীতি আমি করি না। আর তেল মারা বা চাটুকারী আমার দ্বারা হয় না। যা বলি খুব স্পষ্ট বলি। এই জন্য ডয়েচে ভেলে বাংলা ডিপার্টমেন্টে আমার চাকরী পার্মানেন্ট হয়নি। কিন্তু আমি ওদের একাডেমীতে জব করে আমার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছি। আর আকাশ সাহেব আমার লেখার মাঝে আপনার ব্লগের লিংক আমাকে না জিজ্ঞাসা করে দিলেন কেন? আপনি কী প্রমাণ করতে চাইছেন। কয়েকদিন আগেও বললেন আপনি সাঈদীর অডিওগুলো আসলে কি উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে কে জানে? আপনি আপনার মতামত আপনার স্ট্যাটাসে দিবেন। যদি বলেন, আমি গোড়া। হ্যা, এসব রাজাকারদের বেলায় আমি সত্যি গোড়া। আপনাদের চৈনিক পন্থীদের কথা আমার মাথায় ঢুকেনা। বাংলাদেশের কিছু মানুষ আছে যারা বলে, কার স্বার্থে ফেকস্তান থেকে বিভক্তি। শেখ মুজিব নিজে ক্ষমতা দখলের জন্য বাংলাদেশের মানুষকে ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামিয়েছিলেন। ইদানিং শুনছি, রাজাকার আসল মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো। আর যেসব কথা বলছেন, কার স্বার্থে রাজাকারদের বিচার। বাংলাদেশের স্বার্থে। আর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কখনোই হবে না। তাই মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের মত বলবো না, যে যুদ্ধাপরাধীদের প্রসঙ্গে সরকারের সংগে থাকতে হবে। বলতে হবে, সরকারকে বাধ্য করতে হবে এই বিচারের জন্য। সোজা নিয়ে রাজাকারদের ঝুলিয়ে দিলে আপনারাই বলতেন, এই সরকার একটি পশু সরকার। এই সরকারের মানবতা বলতে কিছুই নাই। উই হেট শেখ হাসিনা। বিচারপতির স্কাইপি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অথচ রাজাকারদের বেলায় মানবাধিকার আইন। সত্যি খুবই হাস্যকর।
আমরা অনেক মানবতাবাদী কথা বলি, কিন্তু বিশ্বাস থেকে বলি না। প্রথমে কিছু লোক বলছিল, আন্তর্জাতিক মান বহাল রাখা হবে না। আর এখন বলছে মানবাধিকার আইন অনুযায়ী ফাঁসি উঠে যাক। সত্যি, যুক্তির বলিহারি। আমার তালিকা থেকে আপনি বা আপনারা যারা যুদ্ধাপরাধীদের জন্য ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে তাদের পক্ষে কথা বলেন তাদের প্রতি আমার বন্ধুত্ব সংকীর্ণ হয়ে যায়। আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনি আমার এসব কথা নিয়ে আরো একটা ব্লগ লিখে আমাকে আপনার বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেন। আমার কোন আফসোস থাকবে না।
আর জাহাঙ্গীর আকাশ, আপনি নিজে বাংলাদেশে নাই। বাংলাদেশে যে মানবাধিকার আইন সম্ভব না তার প্রমাণ আপনি নিজে। নরওয়েতে অনেক পাকিস্তানী আছে যারা, মুক্তিযুদ্ধের সময় নরওয়েতে গিয়ে বলেছে, পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ বেধেছে? আমাদের নিরাপত্তা দরকার। এসব কথা বলে, আমাদের দেশের মানুষকে হত্যা করে, নিজেরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছে। কই কোনদিনতো এইসব মিথ্যাবাদীদের নিয়ে ব্লগ লেখেন নি।”
ভাবলাম একটা জবাব লিখা দরকার। অনেক ধৈয‍্য পুড়িয়ে কম্পোজ করলাম দীর্ঘ মন্তব‍্য। বিপত্তি দেখা দিলো আপলোড করাতে। ভাবলাম আমার ভুল। কিন্তু না শতবার চেষ্টা করেও আমার মন্তবে‍্যর জায়গা হলো না ফারজানার পাতায়। কোন কারণে এটা সেখানে উঠছে না সেটা আমি আমার ছোট্র জ্ঞানে বুঝতে পারছি না। তাই তাগিদ ও দায় থেকে একটা জবাব লেখার চেষ্টাটাকেতো আর মেরে ফেলতে পারি না। তবে প্রিয় পাঠক আপনারাই বিবেবচনা করুন আমাদের গণতন্ত্র, আমাদের পরমতের প্রতি সহিষ্ণুতা, সহনশীলতার মাত্রাটা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। ফারজানার মতো মানুষগুলি কিন্তু আমাদের ছলিমুদ্দি, কলিমুদ্দি বা আইজুদ্দিন (আমার বিবেবচনায় এরাই প্রকৃত মানুষ যাঁদের কোন স্বার্থ নেই আছে কেবল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এবং পরোপকারের মানসিকতা) নন। উনারা প্রাতিষ্ঠানিক শক্ষায় শিক্ষিত, থাকেন বিশ্বের অন‍্যতম উন্নত একটি দেশে।
আমি ফারজানার জবাবের পাল্টা জবাবটা লিখেছিলাম সেটা আপনাদের সামনে হুবহু তুলে দিলাম।
রাজাকারদের পক্ষে আর কে রাজাকারদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে করছে কিংবা কে কতটুকু কী করেছে তা এখানে বলতে বা লিখতে চাই না। সেটা লিখবো নিজের ব্লগে। তবে একটা কথা পরিস্কার করে আবারও বলতে চাই সেটা হলো, ব‍্যক্তিগতভাবে আমি কোন মৃতু‍্যদন্ডকে সমর্থন করি না। এবং আমি এও বিশ্বাস করে মানবাধিকার সনদের প্রতি সহানভুতি আছে যারা মানবতায় বিশ্বাস করে তারা কী কারও মৃতু‍্যদন্ড সমর্থন করতে পারেন? কতগুলি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করাতে চাই। মাওলানা মান্নান যে ডা. আলীম চৌধুরীকে হত‍্যা করিয়েছে সেতো পরে এরশাদের মন্ত্রি ছিল, ইনকিলাব বের করেছে। বেচারা মরে বেঁচেছে ২০০৬ সালে। শ্রদ্ধেয় শামলী নাসরিন চৌধুরী শত সহস্র হাজারোবার হৃদয়ের ক্ষরণের কথা বলেছেন। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালতের যে রায় সেই রায়তো ১৯৯৬-২০০১ সালের হাসিনা সরকার বাস্তবায়ন করেনি। রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ের অধ‍্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দারের স্ত্রী চম্পা সমাদ্দার (আমাদের মাসীমা) এর চোখের জলতো কেউ মুছে দেয়নি। গণকবর থেকে বেঁচে ফিরে আসা রাজশাহীর রুপচাঁন মন্ডলের সন্তান, নাতি-নাতনীরা কী করে বেঁচে আছেন কতজন মুক্তিযোদ্ধা দেশে রিকশা চালিয়ে বা ভিক্ষা করে জীবন সংসারের যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তারতো খোঁজ রাখছি কী আমরা বা রাষ্ট্র সোজা কথায় সরকার? একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমর্ূল কমিটি, সাহসী বিবেবকবান সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, প্রয়াত কবীর চৌধুরী, শ‍্যামলী নাসরিন চৌধুরী, বিচারপতি কে এম সোবহান, প্রয়াত আইনবিদ গাজীউল হকসহ যেসব মহান মানুষ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের আন্দোলনটাকে জীবন বাজি রেখে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তাঁদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়ে বলছি, একটা মানুষের নৈতিক অবস্থান, আদর্শ, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অর্থ এই নয় যে সেই মানুষটি একাত্তরের জানোয়ারদের বিচার চায় না। হয়তো অনেকেই বলবেন নিজের ঢোল নিজেই পেটাচ্ছি তাই বেশি কিছু না লিখেই জানাচ্ছি কেবল অনুগ্রহ করে আমার PAIN বইটি পড়বেন (যদি সম্ভব হয়)। অবিবেচকের মতো কাউকে হেনস্থা করা বা কারও অবস্থানকে কলংকিত করার হীনমানসিকতা কোনভাবেই সমর্থনযোগ‍্য হতে পারে না। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটকে ব্রুট মেজরিটি প্রদান করেছেন। এই ভালোবাসার সমর্থন কী জামাত-শিবিরের কোটি কোটি টাকার ব‍্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন‍্য? কার কোন দলের নেতা ছেলেমেয়েরা শিবিরের কোচিং সেন্টারে, হাসপাতালে, ব‍্যাংকে এনজিওতে যায়, সহযোগিতা করে দয়া করে একটু খোঁজ করুন। হাসিনা কেন একজন জামায়াতরোকনের সন্তানকে প্রতিমন্ত্রী বানান, তিনি কেন নির্বাচিত নেতাদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদিদের (যাদের অনেকই কোনদিন আওয়ামী লীগ করেনি, আন্দোলন-সংগ্রামে কোন ত‍্যাগ নেই) হঠাৎ করে নেতা বানিয়ে দিচ্ছেন? যারা বাংলা ভাইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন তারা বাদ পড়ে আর বাংলা ভাইকে সহায়তাকারীদের অনেকেই কেন বড় বড় পদ পায়? প্রসঙ্গ অন‍্যদিকে নিতে চাই না। Farzana Kabir Khan Snigdha আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ছোট্র একটা কথা। সেটা হলো মানবাধিকার, ন‍্যায়বিচার কোন পক্ষাবলম্বন করে হয় না। পক্ষটা হতে হবে মানবাধিকারের, ন‍্যায়বিচারের। অপরাধ, অপরাধী যেই হোক অপরাধ ও অপরাধীর শাস্তিটা বা বিচারটাই হলো আসল কথা। কী ধরণের বা কী পরিমাণ শাস্তি দেয়া হলো বা পেলো সেটা অন‍্য কথা। ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, হত‍্যা, গুম ইত‍্যাদি অপরাধের সবর্োচ্চ শাস্তি বাংলাদেশে বলবৎ বা বিদ‍্যমান আইনে কী তা আমরা সবাই জানি। কাজেই জানা বিষয় নিয়ে চিৎকার করার মতো সময় আমার নেই। যেটা জরুরি সেটা হলো যুদ্ধাপরাধের বিচার। “মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক আমিও চাই…ইত‍্যাদি কিন্তু ওদের জন‍্য নয়” এ ধরণের কথাবার্তার সারমর্ম আর যাইহোক মানবতার পক্ষে নয়। দেশ-বিদেশে বা বিশ্বসভায় শান্তির মডেল বিলি করে একটা দেশ ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না যদি না সেই সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে প্রকৃতঅর্থের গণতন্ত্র চর্চা না থাকে যদি ন‍্যায়বিচার না পায় মানুষ, যদি সমাজে দুর্নীতি, বৈষম‍্য ও দলবাজি, দখলদারিত্ব বজায় থাকে, যদি রাস্তায় প্রকাশে‍্য বিশ্বজিৎদের পিটিয়ে হত‍্যা করা হয়, যদি ঘরের বিছানায় সাংবাদিক দম্পত্ত সাগর-রুনিদের শিশু সন্তানের সামনে নৃশংসভাবে হত‍্যা হতে হয় (আর সেই হত‍্যাকারিদের বাঁচাতে নানানরকমের টালবাহানা, কথাবার্তা ও ফন্দি-ফিকির, কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়), যদি বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত‍্যা করা হয়, যদি ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে মেজরিটির সুবাদে অন‍্য ধর্মাবলম্বিদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে ও উপাসনালয় ভাংচুর করা হয়, যদি দলীয় নেতা নির্বাচন না করে মনোনীত করা হয়, যদি কোটি কোটি টাকা ব‍্যয় করে একজন ব‍্যবসায়ীকে সংসদ সদস‍্য নির্বাচিত হতে হয়, যদি সংসদ সদস‍্য নির্বাচিত হবার পর রাতারাতি ভাগে‍্যর বদল ঘটে আলাদিনের চেরাগ পাবার ন‍্যায়, যদি টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার রেজাল্ট বদলানো যায়, যদি টাকার বিনিময়ে পুলিশের কর্তা পদে চাকরি পাওয়া যায়, যদি দলীয় বিবেচনায় দেশের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হতে পারেন (….আরও লক্ষ কোটি উদাহরণ দেয়ার মতো লেখা যাবে সেই পথে পা বাড়ালাম না আজ) তবে কী শান্তি ধরা দেবে? আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সামান‍্য স্পর্শ করে পাল্টা মতের যবনিকাপাত ঘটাবো। রাজনৈতিক আশ্রয়ের কথা বলছেন ওটাতো একধরণের ব‍্যবসায় রুপ নিয়েছে। এখনও অনেকে সেটা করছেন ইউরোপ আমেরিকায়। আর তৎকালিন পশ্চিম পাকিস্তানীদের কেউ কেউ সেটা নরওয়েতে শুরু করেছে ১৯৭০-৭১ সালে। ওটা নতুন কিছু না আমার কাছে। মিথ‍্যা তথ‍্য, মিথ‍্যা ঘটনা সাজিয়ে (জার্মানি, অষ্ট্রিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ইটালি, লন্ডন, অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, গ্রীস, সুইজারল‍্যান্সডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়া বা পাওয়া অসংখ‍্য বাঙালি/বাংলাদেশি ব‍্যক্তির ইতিহাস জানি। বাঙালিরা (কতিপয়) ৭৫ পরবর্তী সময়ে এটা শুরু করেছে, যার ধারাবাহিকতা এখনও চলছে (এটা আপনিও জানেন বোধ করি) আর পশ্চিম পাকিস্তানীরা (কতিপয়) আমাদের ওপর আক্রমণ করে উল্টো তারা জীবনহানির মুখে আছে বলে নরওয়েতে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিল এবং তা মঞ্জুর হয়েছে। তাদের এখন তৃতীয় জেনারেশন চলছে এসব দেশে। মিথ‍্যা মিথ‍্যাই, তাই বলে মিথ‍্যা দিয়ে সত‍্য ঢাকা দেয়া যায় না। Farzana Kabir Khan Snigdha আপনি কী তাদের বিরুদ্ধে কলম ধরার পরামর্শ দিচ্ছেন আমাকে? যদি আ্প্নআ্র্ উত্তর হ‍্যাঁ হয় তবে বলবো সেটা আমার কাজ না। উত্তরে বলবো আপনি লিখছেন না কেন? বাংলা ভাইয়ের পক্ষে রিপোর্ট করেছে এমন ব‍্যক্তিওতো আপনি যেখানে আছেন সেখানকার সরকার নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় চাকরি পেয়েছে, কিভাবে কারা তাকে মনোনয়ন দিলো-লিখেন না কেন এসব নিয়ে? পরিশেষে আমি আপনাদের সকলের মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে ক্ষান্ত দিলাম। আপনাদের সকলের মতামতের প্রেক্ষিতে পাল্টা মত বা যুক্তি দাঁ করানোর মতো আমার সময় নেই। জীবন, সমাজ, সংসারের দায় যথাযথভাবে পালন করাটাই যেখানে একটা বড় চ‍্যালেঞ্জ সেখানে সময় নষ্ট করার মতো বাড়তি সময় নেই আমার। আমার আবেগ আছে কিন্তু আবেগের বশবর্তী হয়ে কিছু লিখি না, সত‍্যটা জানার এবং জানানোর চেষ্টা করি। তারজন‍্য আমার ব্লগ আছে, ইউটিউব আছে সেসব জায়গায় আমি কী কী আমার উদ্দশ‍্য কাদের জন‍্য লিখি তার বিস্তারিত পাওয়া যাবে। আর Farzana Kabir Khan Snigdha আপনার স্টাটাসে আমার লিংক দিয়েছি সেটা রিলেটেড তাই। অমন কাজ আপনিও করেছেন অতীতে আমার স্টাটাসে। তবে এখন থেকে সাবধান হলাম, আপনাকে বুঝলাম! আমি এটাও মনে করি যে, কোন অপরাধীকে মৃতু‍্যদন্ড দেয়ার অর্থ সেই অপরাধীকে বাঁচিয়ে দেয়া। বরং যদি একজন অপরাধী যাবজ্জীবন কারাভোগ করে, সেটা মৃতু‍্যদন্ডের চেয়েও কঠোর এবং কঠিন শাস্তি। তখনই কেবল একজন অপরাধী বা যুদ্ধাপরাধী টের পাবে যে যন্ত্রণাটা কী? কারণ শুধুমাত্র সাংবাদিকতার কারণে রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন এবং র‍্যাবের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমিও ২৮ দিনের অন্ধকার কারাজীবন (ওই সময়ে রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ‍্যাপক সাইদুর রহমান খান, রাবির বর্তমান উপাচার্য আবদুস সোবহান খান, গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু, সরোয়ার জাহান, মলয় ভৌমিক (নাট‍্যকার), বর্তমানে পিআইবির মহাপরিচালক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, রাবির শিক্ষক সেলিম রেজা নিউটন, আ. আ-মামুন, জনসংযোগ কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম, রাজশাহীর তৎকালিন মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ আরও অনেকে…ছিলেন একই কারাগারে) এর অনুভূতি থেকেই বলতে চাই, মৃতু‍্যদন্ডের যেয়েও যাবজ্জীবনের কারাদন্ড যন্ত্রণা ঢের বেশি! প্রত‍্যাশা করি নতুন বছরটি বাংলাদেশের জন‍্য যুদ্ধাপরাধীমুক্ত সমাজ পাবে বাংলার মানুষ। দেশে আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার ও সতি‍্যকারের গণতন্ত্র আসুক, মানুষ শান্তিতে থাকুক, যুদ্ধাপরাধী-খুনির শাস্তি হোক, বন্ধ হোক বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড, নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন। স্বদেশ ভালো থাকলে বিদেশের মাটিতে থেকেও মন আনন্দে ভরে ওঠবে। ছবি গুগল থেকে সংগ্রৃহীত।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s