“পেপার স্প্রে”র প্রয়োগ আপনাদের ওপরও হতে পারে ।। ব্লগার আসিফের ওপর হামলাকারিদের ধরুন

paperspray
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। মানবাধিকার লংঘণের হাতিয়ার হিসেবে হাসিনার মহাজোট সরকার একের পর এক নতুন স্টাইলের প্রবর্তন করছে। আর আমাদের দলীয় স্তাবক বুদ্ধিজীবীরা বসে বসে আঙুল চুষছেন! খালেদা-নিজামির আমলে গণহারে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, এনকাউন্টার নামক ঘাতক বাহিনীর নৃশংসতা দেখেছেন দেশবাসি। ক্ষমতায় আরোহনের আগে হাসিনা বারংবার এই বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। মানুষ আশ্বস্ত হয়েছিলেন এই ভেবে যে হয়ত হাসিনা ও তার ক্ষমতায় গেলে নারকীয় এই রাষ্ট্রীয় হত‍্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে। কিন্তু ক্রসফায়ারতো বন্ধ হয়ইনি উল্টো এখন মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষকে গুম করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় হ‍্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় মানুষ রাস্তাঘাটে লাশ হয়ে পড়ে থাকছেন। আর বাকপটু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিরা মানবাধিকার লংঘণের ঘটনাগুলিকে ধামাচাপা দেবার জন‍্য একের পর এক খোঁড়া যুক্তি দেখাচ্ছেন দেশবাসির সামনে।
হাসিনা ও মহাজোট সরকারের সর্বশেষ আবিস্কার হলো “পেপার স্প্রে”। সরকারবিরোধী কিংবা জনকল‍্যাণে আহৃত আন্দোলন দমনের এই নতুন হাতিয়ার ইতোমধে‍্য এক শিক্ষকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে স্বদেশের মিডিয়ায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রি সরকারের শেষ সময়ে দেশের মানুষকে নিয়ে যে খেলা শুরু করলেন তা বন্ধ করুন। নইলে আখেরে আপনার ও আপনার দলের পুন:ক্ষমতায় যাবার স্বপ্নটা দু:স্বপ্ন হয়ে যাবে! আর হাওয়া তারেক-ও ঘাতক নিজামিরা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কী পরিণতি অপেক্ষা করছে তা কী আঁচ করতে পারছেন না মোটেও, নাকি ভাবছেন যেকোনপ্রকারেই হোক ক্ষমতায় আসবেনই!
এই মহাজোট সরকারের ভেতরে এবং বাইরে এতো মানুষ আছেন যারা দেশে-বিদেশে মানবাধিকার নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন সেইসব মুর্খ জ্ঞানপাপীরা একেবারেই ভেজাবেড়ালের ন‍্যায় চুপচাপ করে হালুয়া-রুটি খাবার বা পাবার আশায় লেজ গুটিয়ে সরিয়ে রাখছে নিজেদের, কিন্তু কেন? মনুষ‍্যত্ব, বিবেক বলে কী এসব মানুষের হৃদয়ে কিচ্ছু নেই? আর সরকারের অংশীদার অনেক বাম, প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতারা সরকারের ভেতরে থাকার পরও কারও মুখে শোনা গেলো না যে এসব মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড থেকে সরকার সরে না আসলে তারা সরকার থেকে সরে দাঁড়াবেন? সুবিধাবাদের স্রোতধারা এত প্রবল যে সেখানে আরাম-আয়েশ আর গদি-ক্ষমতার জাদুর পরশে মানুষের মৌলিক মানবতাবোধটুকু পর্যন্ত ভেসে যাচ্ছে!
কী নিলর্জ্জ বেহায়ার মতো পুলিশ কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ পেপার স্প্রের ক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন। তিনি বললেন, ‘পেপার স্প্রে লাঠিপেটার বিকল্প। সরকারের অনুমতি নিয়ে সাধারণ মানুষও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এই স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।” প্রশ্ন হলো বাস্তবে সাধারণ মানুষ কী এই অনুমতি পাবে রাজনৈতিক তদবির বা শক্তি ছাড়া? আর যদি হরতালকারি, আন্দোলনকারি বা সাধারণ মানুষও যদি এমন স্প্রে পুলিশের ওপর ব‍্যবহার শুরু করে তখন বেনজিররা কোথায় পালাবেন? সতি‍্য সতি‍্য যদি সাধারণ মানুষের হাতে এই অমানবিক স্প্রে অস্ত্রটি চলে যায় গোটা দেশটা এক অরাজক নৈরাজ‍্যকর পরিস্থিতির দিকে চলে যাবে, এতে কী সরকারের নীতিনির্ধারকদের মাঝে কোন সংশয় আছে?
শিক্ষকরা নিজেদের রুটি-রুজির জন‍্য রাস্তায় নেমেছিলেন। বামরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল, সমাবেশ ও আন্দোলন সংগ্রাম করে-এটা দেশবাসি জানেন। তারা কখনও রাস্তায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে না, বাসে আগুন দিয়েও মানুষ হত‍্যা করে না কিংবা বোমাও মারে না কারও ওপর। বরং পুলিশই বামদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সবসময় বাধা দিয়ে থাকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরাণ্বিত করা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সিপিবির নেতৃত্বে বামদলগুলির সাম্প্রতিক হরতালে দেশবাসির সমর্থন ছিল নজিরবিহীন এবং শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে দেশে। কিন্তু তাররও শিক্ষকদের ওপর ও বাম দলগুলির নেতা-কর্মীদের ওপর কেন স্প্রে করতে হলো সেটার জবাব হয়ত একমাত্র শেখ হাসিনা কিংবা তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিই জানেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি, তাঁর নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনী, র‍্যাব-চিতারা খুনি, অপহরণকারি, গুমকারি, ধর্ষকদের ওপর স্প্রে করতে পারে না কিন্তু জনগণের স্বার্থে ডাকা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর নতুন ধারার এক বর্বরতার প্রয়োগ ঘটালো! আন্দোলন যদি সহিংস রুপ নেয়, জ্বালাও-পোড়াওয়ের দিকে চলে যায় কিংবা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে সরকার বা সরকারি বাহিনী তারজন‍্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব‍্যবস্থা নিতে পারেন। সে অধিকার রকারের আছে। কিন্তু আন্দোলন দমনের নামে, সহিংসতা বন্ধের নামে কারও ওপর স্পে প্রয়োগ, নির্যাতন, লাঠিপেটা করার কোন অধিকার দেয়া হয়নি সংবিধানে। সংবিধানে সকল ধরণের নির্যাতনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও জ্ঞানপাপীর দল সংবিধান লংঘণ করেই চলেছে বিশেষ করে ক্ষমতাসীনরা পুলিশ-র‍্যাবকে নিজেদের ক‍্যাডার বাহিনীর ন‍্যায় ব‍্যবহার করছে জনগণের বিরুদ্ধে।
দেশে ধর্ষণের মহাউৎসব চলছে। ধর্ষণ ধামাতে পারছে না সরকার। খুন-হত‍্যা ও বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার সেখানে নিত‍্য-নৈমিত্তিক ব‍্যাপার। বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলিতে চলছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের রাম-রাজত্ব। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে চ‍্যাম্পিয়ন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী, ক‍্যাডার ও মস্তানদের দৌরাত্ব বেড়েই চলেছে। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের দ্বারা। ব্লগার, সাংবাদিক যারাই লিখছেন পক্ষপাতমূলকভাবে অন‍্যায়-অবিচার আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারাই হচ্ছেন সন্ত্রাসীদের টার্গেট। অতি সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় জনপ্রিয় ব্লগার আসিফ মহীউদ্দিন সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় মারাত্বক আহত হয়েছেন। হামলাকারিদের ধরতে পারেনি পুলিশ। ইডেন কলেজের অ্যাসিডদগ্ধ ছাত্রীটি এখনও হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। দেশে মুক্তমতের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জায়গা ক্রমশ:ই সংকুচিত হয়ে আসছে। সাংবাদিক, ফটো সাংবাদিকদের ওপর বহুমুখী আক্রমণের খবর মাধে-মধে‍্যই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে।
খুলনায় ক’দিন আগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়াউদ্দিনকে গুলি করে হত‍্যাপ্রচেষ্টার সঙ্গেও সরকারি যুব সংগঠনের এক নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে এক শিশু নিহত হয়েছেন। এই যোদ্ধাদের চোখে পুলিশ পেপার স্প্রে করে না! রাজধানীর একটি বাণিজি‍্যক ভবনে এক শিশুর গলিত লাশ মিললো। ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত‍্যা করা হয়েছে। অভ‍্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গুলি করে হত‍্যা করা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে দেশের মিডিয়ায়। নিহত ফারুক শুধু একজন রাজনীতিকই নন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও বটে। এছাড়া তিনি স্থানীয় একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদকও ছিলেন। রাজধানীর উত্তর মুগদাপাড়া থেকে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ধর্ষক-খুনি ও বন্দুকযোদ্ধার ওপর স্প্রে করে না পুলিশ, তারা শুধু রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারি বাম নেতা-কর্মী ও জাতির মেরুদন্ড রক্ষাকারি শিক্ষকদের ওপর স্প্রে করতে ভুলে না।
মহাজোট সরকারের হাতে এখনও সময় আছে মুক্তমত প্রকাশ ও মানবাধিকার রক্ষার পথে এগিয়ে যাবার। সকল প্রকারের হত‍্যা-নির্যাতন, গুম-খুন, বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড এবং সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথকে প্রশস্ত করে স্প্রে প্রয়োগের নামে আন্দোলনকারিদের ওপর বিষক্রিয়া নিক্ষেপ বন্ধ ও পুলিশি নিপীড়ন বন্ধ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত না করে সন্ত্রাসী, খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, বন্দুকধারি ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাই হবে মহাজোট সরকারের সফলতার চাবিকাঠি। নইলে আমও যাবে ছালাও যাবে,পাশাপাশি খালেদা-নিজামিদের হাতে ফের ক্ষমতা ফিরে গেলে পেপার স্প্রের প্রয়োগ নিজেদের চোখেই ছিটাবে একই পুলিশ। এতে হাসিনা ও তাঁর মহাজোট সরকারের নেতা-কর্মী ও পরামর্শদাতাদের সন্দেহ থাকলেও ইতিহাস যে তারও সাক্ষ‍্য দেয় তা বিগত দুই দশকের তথাকথিত নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রের শাসনামলই প্রমাণ দেয়। কাজেই সাধু সাবধান!!! ছবি বিডিনিউজ২৪

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s