যুদ্ধাপরাধের বিচারও চলছে পাশাপাশি ঘটছে যুদ্ধাপরাধও!

women
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশে কেবল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই চলছে না, পাশাপাশি চলছে যুদ্ধাপরাধও। আর নব এই যুদ্ধাপরাধের শিকার হচ্ছেন মা-বোনেরা। নারকীয় নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শিশুরাও। দলবাজ বুদ্ধিজীবী ও তথাকথিত সুবিধাবাদি সুশিলরা মুখে কুলুপ এঁটেছে! মানবতাবিরোধী অপরাধ ও কর্মকান্ডের বিপক্ষে কথা বললে যদি পদ-পদবি হারাতে হয় কিংবা হালুয়া-রুটির ভাগ না পাওয়া যায় অথবা যদি ক্ষমতাবানদের বিরাগভাজন হতে হয় এমন যোগ-বিয়োগের অংকের খেলায় এই জ্ঞানপাপী বিবেকবন্ধক রাখাওয়ালারা কোন কথা বলছে না। আরও সহজ ভাষায় বলা যায় যে, এই গোষ্ঠীটি এখন ক্ষমতাসীনদের তোষামদকারির দলভুক্ত হয়ে পড়েছে। বিচারহীনতা, আইনের শাসনহীনতাই অপরাধ ও অপরাধীর আশপর্দা বাড়িয়ে দিচ্ছে দিন দিন। আর সহিংসতার কঠিন রুপটি গিয়ে পড়ছে মা-বোনদের ওপরে গিয়ে। যদিও দেশে প্রধানমন্ত্রি, বিরোধীদলীয় নেত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রি, কৃষিমন্ত্রিসহ আরও অনেক নারী মন্ত্রি কার্যকর আছে স্বদেশে। আজকের লেখাটি মূলত: বিশ্ববিদ‍্যালয়ের একজন অধ‍্যাপকের একটি স্টাটাসের প্রতিক্রিয়া।
শ্রদ্ধেয় এবং প্রিয় কাবেরি গায়েন’র ফেইসবুকে একটা স্টাটাস পডি। তিনি দ্বিমত পোষণ করেছেন জবাব আলী রীয়াজ এর একটি লেখার। স্টাটাসের সঙ্গে কাবেরী আপা জনাব রীয়াজের লেখাটির একটি অনলাইন লিংক দিয়েছেন। আগ্রহী হয়ে লিংকটাতে গিয়ে ঢুকলাম এবং আলী রীয়াজ’ র লেখাটি পড়লাম। আমি জানি না আমি কোন যুক্তিতে লেখাটির প্রতি নেতিবাচক বা দ্বিমত পোষণ করলেন, কাবেরী ম‍্যাডাম? আমি উনার লেখাটি দুবার পড়েছি।
আমি কাবেরী আপার যুক্তির পক্ষে বিপক্ষে না দাঁড়িয়েই বলতে চাইছি, আমাদের সুশিল সমাজের কাজটা তাহলে কী? এই সমাজভুক্তরা কী তবে হয় হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং খালেদার নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত হয়েই নিজেদের জোটকে চেতানো ঠিক হবে না, হালুয়া-রুটি পাবো না কিংবা পদ হারাতে হতে পারে এসব চিন্তা নিয়েই মনুষ‍্যত্ববোধ, বিবেক বন্দি করে রাখবে অন্ধ দলবাজির কাছে? ওই ঘাতক জামাত-শিবির, আলবদর, আল শামস, যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী তাদের বিচার হতেই হবে (যদিও জাতি আশা করেছিল অন্তত: গো. আজম, নিজামী, কসাই কাদের, মুজাহিদ গংদের বিচারটা আগে জানতে পারবে, কিন্তু আজাদ বা বাচ্চু রাজাকারকে বিদেশে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার পর তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা স্রেফ ফাজলামু ছাড়া আর কিছু নয় বলেই মনে করি আমি)। দেশে যেভাবে মা-বোনদের ওপর নৃশংতা চালানো হচ্ছে, হত‍্যা করা হচ্ছে, তাঁদের মর্যাদাহানি ঘটানো হচ্ছে (শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই বাদ যাচ্ছে না) তা কী যুদ্ধাপরাধের চেয়ে কোন অংশে কম? বিনা বিচারে মানুষ হত‍্যা, গুম, পুলিশের হাতকড়া পরা অবস্থায় মানুষের লাশ পড়ে থাকছে, একযোগে তিনজন, পাঁচজনকে হত‍্যা করা হচ্ছে, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কাজী অফিসে বোনদের ওপর যেভাবে এসিড নিক্ষেপ করা হচ্ছে, বিশ্বজিৎ দাশকে যে বর্বর কায়দায় প্রকাশে‍্য হত‍্যা করা হলো, ময়মনসিংহে একটি শিশুকে (রাব্বী) যেভাবে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রযোদ্ধারা হত‍্যা করলো, সাংবাদিক সাগর-রুনিদের খুনিদেরকে ধরতে টালবাহানা করা হচ্ছে, ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে হত‍্যাপ্রচেষ্টা, সাংবাদিক ও ফটো সাংবাদিকদের পেটানো হচ্ছে, এসব কী মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়?
১১৪ জন পোশাক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত‍্যা করা হলো, পোশাশ্রমিকরা হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও ন‍্যায‍্য মজুরি পাচ্ছেন না, অথচ মালিকরা আলীশান জীবন-যাপন করছে, দেশে বাড়ছে ধনী-গরিবের পার্থক‍্য। এমন জটিল অবস্থায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় বের হবার মতো পরিবেশ আছে কী, আর থাকলেও একটা সমাজে যখন র‍্যাব বা পুলিশ যখন তখন যাকে তাকে ধরে হত‍্যা বা গুম করে দেয়ার আইনগত অধিকার ভোগ করে (সুশিল ও রাজনীতিকরা কার্যকর কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছেন না বা আগ্রহী নয়) তখন কী কেউ রাস্তায় বের হতে পারে? অপকর্ম, নৃশংসতা, নিষ্ঠুরতা এবং অবিচারের ঘটনাগুলিতো ঘটছে তাদের ওপর যারা সমাজে সুবিধাভোগি নন, কিন্তু এইসব নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষদের সংখ‍্যাতাত্ত্বিক পরিসংখ‍্যান তুলে ধরে দেশি-বিদেশি প্রকল্প আর তহবিল নিয়ে যারা দিনরাত ব‍্যস্ত আমাদের সুশিলরাতো (সবাই নন, বহু শত সহস্র ব‍্যতিক্রমও আছে…) সেইসব প্রকল্প আর তহবিলের অংশ নিজের পকেটে তুলেন প্রত‍্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।
কাজেই স্বদেশে প্রতিনিয়ত যে যুদ্ধাপরাধ চলছে, ঘটানো হচ্ছে বিশেষত: নারী, মা-বোনদের ওপর তা থামানোর জন‍্য আমাদের সুশিলদের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল তা কী আছে বলে আপনি মনে করেন কাবেরি আপা? সেই জায়গা থেকেতো আমী জনাব আলী রীয়াজ’র লেখাটিকে খুবই সুন্দর এবং বাস্তসম্মত মনে হয়েছে। আমারতো মনে হয় দেশে যদি আজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট কষমতায় থাকতো তাহলে আমাদের দলবাজ বুদ্ধিজীবী, সুশিলরা ঠিক দেশ , রাজপথ কাপিয়ে ফেলতো, ঠিক যেমনটি আমরা দেখেছিলাম ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মেয়াদে! তাই নয় কী কাবেরী গায়েন আপা?
আমি অনেকগুলি মৌলিক প্রশ্ন তুলেছি আমার এই লেখার ভেতরে। এই প্রশ্নগুলির উত্তর কখনও পাওয়া যায় না আমাদের শিক্ষক, পথপ্রদর্শক, সুশিল সমাজের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে! এজন‍্য হতাশা বাসা বাধে বুকের ভেতরে। আর উপরোল্লিখিত কারণেই “আমাদের দেশের মানুষ- আমি, আমার ভূমিকা বা দায়িত্বটা” কাঁধে তুলে নিতে ভয় পাচ্ছেন! সমাজ ও দেশে আইনের শাসন না থাকলে এমন অবিচার চলতেই থাকবে, কেউ থামাতে পারবে না। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

One response to “যুদ্ধাপরাধের বিচারও চলছে পাশাপাশি ঘটছে যুদ্ধাপরাধও!

  1. Akas vi apne j kotha gul bolachan chorom sotto abong bustob amara jara sadharon nagorik amra na parchi protirodh korta na parchi protirod korta amara sotti osohai.Vi apni akjon porikheto kolom joddha hesaba apnar onak daeto otita apnar upor onak gut potighut asacha kintu apnar kolom cholacha asa kori ahakhon kolom er goti aro gotimoy hoba.Vi valo thak ben sutho thak ben a potasai.Sumon,Rajshahi.

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s