Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি 2013

সহিষ্ণুতা আর ভালোবাসা ছাড়া গণতন্ত্র ও শান্তি মেলে না!

Jahanaraimam-shahbagh

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বিশ্ব স্কি প্রতিযোগিতায় নরওয়ের দুই যুবক প্রথম ও তৃতীয় স্থান দখল করেছেন। তারজন‍্য তাঁদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে একটা ছোট্র স্টাটাস লিখেছি ফেইসবুকে। ভাষাটা নরওয়েজিয়ান। এজন‍্য ফেইসবুকের তিন বন্ধু  শুভাশীষ, চন্দন ও তারিক কী ভাষায় লিখেছি বলে জানতে চেয়ে জবাবদিহি করেছেন। অন‍্যদিকে হাতে গোনা ক’জন যুদ্ধাপরাধীর প্রতীকী নয় সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে অভিমত প্রকাশ করে ব্লগ লেখার কারণে একজন আওয়ামী সমর্থক ফেইসবুকার আমাকে বন্ধু তালিকা থেকে বরখাস্ত করেছেন। নিউইয়র্কপ্রবাসী এই বন্ধুর স্বউক্তি হলো, আমি নাকি উনার অন‍্যতম খুবই আপনজন!

ইন্টারনেটের জাদুকরী উৎকষর্তা বিশাল পৃথিবীকে ছোট্র একটা বাড়িতে পরিণত করেছে। কাজেই কোন ভাষায় কে লিখলো, কী লিখলো তা জানার জন‍্য কোন বইও পড়তে হয় না, গবেষণারও প্রয়োজন পড়ে না। গুগল সবকিছুর সমাধান দিয়ে দিয়েছে! আর আমি এখানে একটা নতুন ভাষা শেখার জন‍্য সংগ্রাম চালাচ্ছি। এই ভাষাটা শিখতে পারলে আমার স্বপ্নের সাংবাদিকতা পেশাটা এখানেও চালিয়ে যেতে পারবো। তাই এই নয়া ভাষাটাই বেশি ব‍্যবহার করছি এখন, তার মানে এই নয় যে মায়ের ভাষা ভুলে গেলাম।

মা, মাটি আর মাতৃভূমিকে স্মরণ করি আমার বাংলা ব্লগে। শুধুমাত্র অভিমত প্রকাশের জন‍্য পাড় আওয়ামী লীগ ও পাড় বিএনপি মার্কা লোকজন বন্ধুর তালিকা থেকে আমার বাদ দিচ্ছেন, এটা দু:খের কোন বিষয় নয়। বরং আমি নিজেকে চিনছি প্রতিমূহুতর্ে। আর ওরা ঘাতক জামাত-শিবির, যুদ্ধাপরাধীরাতো আমার আজন্ম শত্রু। তার প্রমাণ আমার ইংরেজী ভাষায় প্রকাশিত বই Pain বা দু:খ তে (http://www.amazon.ca/Pain-Jahangir-Alam-Akash/dp/1456858025) সব পাওয়া যাবে।

আমি নিজেই আমার বন্ধুর তালিকাটাকে সংকুচিত করার উদ‍্যোগ নিয়েছি, কারণ যাদেরকে ব‍্যক্তিগতভাবে চিনি না তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখাটা অনেকটা বিড়ম্বনারও বটে! তবে যখন শুধুমাত্র মতপ্রকাশের কারণে বহু পুরনো ও জানাশোনা মানুষ বন্ধুর তালিকা থেকে আমাকে বাদ দিচ্ছেন তখন বোঝা যায় আমাদের সহিষ্ণুতার মাত্রাটা কোন পর্যায়ে আছে? আর অসহিষ্ণুতাকে হৃদয়ে ধারণ করে মানুষ কী করে গণতান্ত্রিক বলে নিজেকে দাবি করতে পারে তা আমার বোধে ধরা পড়ে না!

এই লেখাটি যখন লিখছি তখন প্রথম আলোর একটি রিপোর্টে চোখ পড়লো। একটি রিপোর্টের শিরোনাম হলো: “ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নয় জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ চাই: শাহবাগের ঘোষণা”। বঙ্গবন্ধুর বাহাত্তরের সংবিধানে ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কোন সুযোগ নেই। দেশেতো কেবল জামাত-শিবিরই সাম্প্রদায়িক দল নয়, আরও বহু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আছে। বাহাত্তরের মূল সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন বাংলাদেশে কোন ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বা রাজনৈতিক দল থাকতে পারে না।

এখানে অন‍্য একটি ভিন্ন প্রসঙ্গে সামান‍্য তথ‍্য তুলে ধরতে চাই। পুরো বিএনপি-জামাত জোট সরকার বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি বলে আবার বাংলা ভাই বাহিনীকে রসদ জুড়িয়েছিল মানুষ হত‍্যা নির্যাতন করার জন‍্য বিশেষ করে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদেরকে! আরেকটি কথা খালেদাই র‍্যাব সৃষ্টি করেছিল আর এখন খালেদা হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলে র‍্যাবের হত‍্যা-গুম ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড নিয়ে! অবশ‍্য হাসিনাও বিরোধীদলে থাকার সময় র‍্যাবের হত‍্যা-নির্যাতনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। আর ক্ষমতায় এসে র‍্যাবের কর্মকান্ড অব‍্যাহত রাখলেন! সংঘাতপূর্ণ ও বিপরীতমুখী রাজনীতি দেশে অশান্তি আর অবিচারের মূল কারণ।

পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বরতম গণহত‍্যা সংঘঠিত হয় বাংলাদেশে। ১৯৭১ সালে  পাখির মতো মানুষকে মারা হয়েছে। আর নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছে গণহারে। এই নৃশংসতা কী কেউ মেনে নিতে পারে, নাকি যায় ভোলা? সেই পাষন্ড, বর্বর, খুনি ও ধর্ষক সকলের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কী মনের জ্বালা মিটে?

স্বদেশের মাটি থেকে সকল আপদ, বিপদ আর সন্ত্রাসী, জঙ্গিপনা ও সাম্প্রদায়িকতা, ঘাতক, খুনিদের বিচারের মাধ‍্যমে শহীদের ও শহীদ স্বজনদের আত্মায় শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টাই হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন। হিংসা, সংঘাত, হানাহানি, প্রতিহিংসা কেবল অশান্তি বাড়ায়, সহিষ্ণুতা আর পরমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও ভালোবাসা ছাড়া শান্তি আসে না আর গণতন্ত্রও  চর্চা করা যায় না।

পরিশেষে বলবো, দেশের মাটিতে সতি‍্যকারের আলো পড়লে দূর প্রবাস থেকেও বুকটা গর্বে ভরে উঠবে। ছবি-গুগল থেকে সংগৃহীত।

Advertisements

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেয়াটাই কী জরুরি?

Bangladesh

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশ নামক ফুল ও বাগানটি যাদের হাত থেকে বাঁচানোর জন‍্য বাঙালি লড়েছিলেন সেইসব ঘাতকদের হাতেই পড়ছে বাগান ও ফুল পরিচচর্ার ভার। বিচার ছাড়া কিছু চাওয়ার নেই। তবে হাতেগোনা ক’জনের প্রতীকী বিচার নয় সব যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, ঘাতকের বিচার চাই যারা তিন মিলিয়ন বাঙালি হত‍্যা ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম লুট করেছিল এবং পাকিদের সহায়তা করেছিল তাদের বিচারের পাশাপাশি দেশ থেকে দুনীর্তি, দলীয়করণ ও পরিবারতন্ত্রের কবর রচিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলার আকাশে শান্তির পায়রা উড়বে না। সেইজন‍্য চাই চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের একটা স্বপ্ন জাগানিয়া জাগরণ শাহবাগে সূচিত হয়েছে। এই শুভ আলোয় যেন কেউ কালিমালেপনের সুযোগ না নেয় তারজন‍্য সরকারের দৃঢ়তা আশা করে জাতি। ইতোমধে‍্য ব্লগার শোভনকে হত‍্যা করেছে পুরনো শকুনরা। আমার, আমাদের বণর্মালায় আগুন দেয়া হয়েছে। অহংকারের পতাকার অবমাননা করছে ওরা।

ঘাতক যুদ্ধাপরাধীরা জগদ্দল পাথরের মতো মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও তাঁদের পরিবারের বুকে সবর্োপরি বাংলাদেশের বুকে চেপে বসে আছে দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে। একমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই পারে নির্যাতিত, নিগৃহীত মা-বোন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে। ফাঁসি বা মৃতু‍্যদন্ড (নৈতিকভাবে আমি মৃতু‍্যদন্ড সমর্থন করি না, সেটা গোলাম আজমের মৃতু‍্যদন্ড হোক, জিয়ার খুনিই হোক, বঙ্গবন্ধুর খুনিই হোক, একজন মানুষ হত‍্যার আসামিই হোক বা বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত রাষ্ট্রীয় কোন কর্মচারির মৃতু‍্যদন্ডই হোক না কেন)  প্রদান বড় কথা নয়, জরুরি হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। একইভাবে সমান জরুরি দেশ থেকে দুর্নীতি, দারিদ্র এবং রাজনৈতিক অসুস্থ‍্যতার অবসান। আশা করি জাগ্রত প্রজন্ম এসব বিষয়ও আন্দোলনের অন‍্যতম প্রধান ইসু‍্য হিসেবে সামনে নিয়ে আসবে।  ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

শাহবাগ জেগে আছে নিরন্তর, ঘুচে যাবে অন্ধকার!

rajib

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ। ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভনকেও খুন করলো ওরা। স্বদেশে মানুষ হত্যা এক মামুলি ব্যাপার। ওখানে সরকারি বাহিনী খুন করে অবলীলায়। কখনও কখনও গুম করে দেয়া হচ্ছে রাজনীতিক কিংবা সাধারণ মানুষকে। কিছুদিন আগে ব্লগার আসিফ মহউদ্দীনকেও হত্যাপ্রচেষ্টা চালিয়েছে শয়তানের দল। সেই হত্যাপ্রচেষ্টাকারিদের শনাক্ত করতে পারেনি সরকার। সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিরা ধরা পড়েনি আজও। কোন হত্যাকান্ডই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সকল হত্যাই নির্মম ও নিষ্ঠুর। হয়ত খুনিদের জিঘাংশার মাত্রা কারও ওপর প্রকাশিত  হয় বেশি।  যেমনটি ঘটেছিল সাগর-রুনির বেলাতেও।  মানুষ কতটা নিষ্ঠুর, অমানবিক ও নৃশংস হলে কাউকে খুন করা হয় আঘাতের পর আঘাতে। কতটা র্ববর হত্যার পর আবার জবাই করা হয়।

দেশে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটে আর আমাদের সচেতন নাগরিক সমাজ জেগে ওঠে মডিয়া, ব্লগ কিংবা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলিতে। ভাবখানা এমন যেন কাউকে খুন করার পর সবাই বিপ্লবে ঝাপিয়ে পড়ছে। শেষ পর্যন্ত সবাই নিরব হেয়ে যায়। স্বজন হারানোর বেদনা কেবল সংশ্লিষ্ট পরিবারই য়ে বেড়ায় অনন্তকাল।

প্রতিটি হত্যাকান্ডের পর একই কথা, একই হুংকার, একই বক্তব্য আসে সরকারে যারা থাকে তাদের কাছ থেকে। সহযোদ্ধারাও একেকজন বিপ্লবী হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষমেষ সব চুপচাপের মধ্যে চলে যায়। নিহত বন্ধুটিরে প্রতি লালসালাম জানানোর ধুম পড়ে। পাশাপাশি নিহত বন্ধুটির রক্ত বৃথা যেতে দেবোনা বলে মাতম তোলে অনেকে। কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান আসে না কোনবারই কখনও না।

ঘাতক রাজাকার যুদ্ধাপরাধীর দল গুপ্ত হত্যা চালাতে পারে- এই বিষয়ে সরকারে গোয়েন্দাসংস্থাগুলি কী করে? প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা শোভনের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর প্রধানমন্ত্রি বললেন জামাতের রাজনীতি করার অধিকার নেই। কিন্তু সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বা জামাতের রাজনীতি বন্ধ করা হচ্ছে না কেন, বিগত চার বছরের শাসনকালেও এটা করা হলো না কেন তার জবাব কী শেখ হাসিনার কাছে আছে?

ঘাতকগোষ্ঠী ছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সকলেই চান। ফাঁসি নাকি যাবজ্জীন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিচার করার জন্যইতো আন্তজার্তিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এবার কিছু বাস্তব প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই আজকের লেখায়। তার আগে একটু পেছন ফিরে দেখা যাক, কিভাবে জামাত-শিবির তথা যুদ্ধাপরাধীরা রাজনীতি-অর্থনীতি ও সমাজে যে শক্ত ভীত গড়ে তুলতে সক্ষম হলো তার জন্য কে দায়ী? শুধু কী সামরিক সেনা ছাউনিতে গড়ে ওঠা দলগুলিই দায়ী নাকি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদানকারি রাজনৈতিক দলগুলিরও দায় আছে বা ছিল এক্ষেত্রে?

জাতির  পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশে ছিল স্বৈরশাসন। ১৯৯১ সাল থেকে অবসান হলো স্বৈরশাসনের। কিন্তু বিগত দুই দশকের অধিক সময় ধরে দেশের মানুষ কী দেখতে পেয়েছেন গণতন্ত্রের প্রকৃত রুপটিকে বাস্তবে? শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে হড়ে ওঠা গণজাগরণকে কী ১৯৯৬ সালের পরের আওয়ামীলীগ সরকার যথাযথ সম্মান দেখাতে পেরেছিল? ২০০৮ এর জাতীয় নির্বাচনের জাতীয় গণরায় আওয়ামী লীগের মহাজোটকে দিলেন দেশবাসি। কিন্তু কিসের মোহে তারা বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে পারলো না? এজন্যও কী যুদ্ধাপরাধীরাই দায়ী নাকি আমরাও অনেকাংশে দায়ী? বাহাত্তরের মূল সংবিধানে পুরোপুরি ফিরে গেলেইতো ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার কোন সুযোগই থাকে না কারও। সেই পথে হাসিনার মহাজোট সরকার হাটলো না কেন?

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়াটা যেমন খুবই জরুরি তেমনিভাবে জরুরি চলমান দুর্নীতি, নিযার্তন, ধর্ষণ, বিচার বহিভূর্ত হত্যাকান্ড, সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধসহ রাজনৈতিক অসুস্থ্যতাকে সারিয়ে তোলা। রাজনীতিতে সহনশীলতার চর্চা এবং সকল মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ছাড়া কী গণতন্ত্রকে সামনের দিকে চালানো যায়? সমাজে দলবাজি ও ব্যক্তির নয়  আইনের শাসন না থাকলে কী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যাবে?

অনেকে হয়তো মনে করছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের একটা রায় বা ফাঁসির রায় এবং তা কাযর্কর করা গেলেই দেশে শান্তির সুবাতাস বইবে! সমাজ থেকে বৈষম্য, অনাচার, অবিচার, দুর্নীতি, হত্যা, গুম বন্ধ না হলে যুদ্ধাপরাধীদের হাজারবার ফাঁসি দিলেও মুক্তিযুদ্ধের যে আসল চেতনা, লক্ষ তার কাছে পৌছানো সম্ভব না।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতো একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ যেখানে ক্ষুধা, দুর্নীতি, দারিদ্র, বৈষম্য, অবিচার, নারী অবমাননার কোন চিহ্ন থাকার কথা ছিল না। দেশটা একটা সোনার বাংলাদেশ হবে।স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের সম্ভ্রম হারানোর জন্য কী দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন মহান মুক্তিযোদ্ধারা? মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করবেন বা রিকশা চালিয়ে সংসার চালাবেন তার জন্যই কী মুক্তিযুদ্ধ? সাংবাদিক-ব্লগার হত্যা হবেন তার জন্যই ৩০ লাখ মানুষের আত্মদান? মা-বোনেরা রাস্তা-ঘাটে বা নিজ বাড়িতে নিজের সম্ভ্রম হারাবেন তারজন্যই কী ১৯৭১ এর যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন বীর বাঙালি? পোশাক কারখানায় শতশত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার জন্যই কী বঙ্গবন্ধু দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন?

ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদেরকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করবার জন্য কিংবা রাজনীতিকে পারিবারিকীকরণ করার জন্যই কী একাত্তরে দুই লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন? রাষ্ট্রই বিনাবিচারে মানুষকে হত্যা করবে তারজন্যই কী দেশের মানুষ লড়েছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে?

সবার শেষে বলতে চাই, প্রজন্ম যে বাংলার বুক থেকে সকল অনাচার, হত্যা-যুদ্ধাপরাধ, সাম্প্রদায়িকতা ও অবিচার বিরোধী জাগরণী গানের সুরের ঝংকার তুলেছেনে সারা বাংলায় তার মুর্ছনায় দেশ, দেশের রাজনীতি ফিরে পাবে এক নতুন পথের দিশা। জয় বাঙলা, জয় প্রজন্ম। যত আসবে আঘাত বিপ্লবী কন্যা লাকিদের ওপর কিংবা মানবতাবাদী রাজীবদের ওপর ততই শাহবাগের চেতনা ছড়িয়ে পড়বে দেশ থেকে দেশান্তরে। শাহবাগ জেগে আছে নিরন্তর, ঘুচে যাবে অন্ধকার, বাংলার আকাশে উদিত হবে শুভ সকাল।  ছবি গুগল থেকে নেয়া।

এগিয়ে যাও লাকি, প্রজন্ম তোমার সাথে!

bdmovementagainstwarcriminals
এগিয়ে যাও লাকি, প্রজন্ম তোমার সাথে!
-জাহাঙ্গীর আলম আকাশ

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ তুমি আমার বাবার সম্পত্তি!
তাই তোমার চেতনা কেবল আমরাই ধারণ করি।
মুক্তযুদ্ধের চেতনায় শান দেবেন যারা
তারাই আমাদের র্টাগেট।
তাই বিপ্লবী কন্যা লাকির ওপর হামলা করি
পরক্ষণেই আবার বলি
আমারও মন যেতে চায় শাহবাগে।
শুধু কী তাই,
ঘাতক-যুদ্ধাপরাধীদের সাথে র্নিবাচনি আঁতাত করি
জামাতনেত্রীর সন্তানকে বানাই প্রতিমন্ত্রি,
র্নিবাচিত নেতাকে বাদ দিয়ে সুবিধাবাদিদের বানাই নেতা
নিজ কন্যাকে বধূ সাজে পাঠাই রাজাকারের বাড়ি
শহীদ জননীর কর্ষ্টাজিত আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলি
৩০ লাখ মানুষ হত্যা আর দু’লাখ নারীর সম্ভ্রমসহানির
চেয়েও বড় আমার পরিবার
তাইতো যুদ্ধাপরাধের আগে বাবা হত্যার বিচার করি।
যুদ্ধাপরাধের বিচার করবো প্রতিশ্রতির বিনিময়ে
প্রজন্মের ভোট ঘরে তুলি।
তাই বাধ্য হয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করি
কিন্তু ক্ষমতারোহণের চার বছরেও বিচার শেষ করিনি।
এখন সময় শেষ আসছে র্নিবাচন
যেতে হবে জনগণের কাছে আবার
চাইবো পুন:ক্ষমতারোহণের ভোট।
তাইতো চাই একটা রায়
সেটা হোক না কেন গুরু পাপে লঘু শাস্তি!
ঘাতক জামাত-শিবির ছাড়া
র্সবস্তরের মানুষ ও রাজনৈতিক দল যুদ্ধ করেছে বটে
কিন্তু নেতৃত্বটাতো এসেছে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি
জাতির পিতার কাছ থেকেই
আর উনিইতো আমার পিতা
সুতরাং মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে
আমার দলকেই বোঝায়
আর আমার দলের নেতাদেরই তোমরা বক্তব্য দিতে দেবে না
এটা কী মেনে নেয়া যায়?
সেজন্যইতো আমার সোনার ছেলেরা
ওকে আঘাত করেছে।
দেশে আর কেউ অগ্নিকন্যার খেতাব পাক
সেটাও মেনে নিতে পারবো না
স্বীকৃত অগ্নিকন্যাওতো আছেন আমারই দলে।
আবারও শ্বরণ করিয়ে দিই
আমার দল ছাড়লে রাজাকার
কিন্তু আমার দলে আসলে সবাই মুক্তিযোদ্ধা
এই হলো আমার মূলমন্ত্র।
কেউ আমার দলে সংস্কার চাইলে
তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন
তার কোন দাম নেই আমার কাছে।
সোনাতো তারাই যারা তোষামদি, চাটুকারিতা
আর সুবিধাবাদিতার জাদুবিদ্যায় বিমুগ্ধ করে আমায়
তাইতো ব্যবসায়ী, টাকাওয়ালারা পায়
আমার দলের মনোনয়ন।
আমি গণতন্ত্রের মানসকন্যা
তাই অর্নিবাচিত আর মনোনীতদের দিয়ে
চালাই দেশের র্সবোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি।
বুড়ো আর অছাত্রদের বানাই আমি
আমার দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা।
আমার সন্তান, বোন অন্য আত্মীয়
সবাই একে একে হবেন একেকজন নেতা
ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের
নেই কোন প্রয়োজন।
বাবাই আমার দেশটাকে করেছে স্বাধীন
তাইতো ছোট্র একটা ভবনের নামকরণ
বাবার নামেই করতে নেই কোন লজ্জা আমার
কারণ কোন ভবন বা সেতুর নামকরণতো
জাতির পিতার সম্মানের চেয়েও বড় মনে হয় আমার।
জনগণ চাইছে বাহাত্তরের সংবিধানের পুন:স্থাপন
সেই সংবিধানটাওতো আমার বাবাই করেছিলেন।
বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে গেলেতো
র্ধমভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে
সেটা করলে যদি সংখ্যাগরিষ্টের ভোট হারাই
তাইতো অর্ধসমাপ্ত করে রেখেছি
বাহাত্তরের সংবিধানে পুন:প্রর্বতনের উদ্যোগ।
যেখানে একটা সাধারণ খুনের ঘটনায়
র্সবোচ্চ শাস্তি মৃতু্যদন্ড দিতে র্কাপণ্য করে না আদালত
সেখানে এতগুলি খুন ও যুদ্ধাপরাধ করেও শুধু যাবজ্জীবন
তাইতো ফুঁসে উঠেছে প্রজন্ম ও জনতা
চেতনার আন্দোলন শুধু প্রজন্ম চত্বর শাহবাগেই থেমে নেই
মুক্তির মশাল জ্বলেছে জেলায় জেলায় দেশজুড়ে।
এটাইতো একটা মওকা জনতার আন্দোলন
প্রজন্মের আন্দোলনকে নিজের ঘরে তোলার।
তাই যেভাবেই হোক আন্দোলনের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব
আমার দলের হাতে আসা চাই, চাই-ই চাই।

বি.দ্র.: আমি কবি নই, এলোমেলো তথা নিজের মতো করে মনের ভাব প্রকাশ করি মাত্র। “এগিয়ে যাও লাকি, প্রজন্ম তোমার সাথে” লেখাটি (কবিতা কিনা জানি না) উতর্সগ করছি সময়ের সাহসী বিপ্লবী কন্যা লাকি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া প্রজন্মকে। ছবিটি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

স্নেহময়ী দেশমাতা ও যুদ্ধাপরাধী ঘাতকের বিচারের রাজনীতি!

deshmata
স্নেহময়ী দেশমাতা
-জাহাঙ্গীর আলম আকাশ

ভয় নেই মুক্তিসংগ্রামের শহীদ মাতা, ভাই, বোন, পিতা।
আশায় বুক বেঁধেছেন শহীদ স্বজনেরা।
প্রজন্ম জেগেছে আজ প্রহসনের নির্বাচনি রায়ের প্রতিবাদে।
রাজাকার-ঘাতক-খুনি কসাই-মইত‍্যা তোদের ক্ষমা নেই।
গো. আযম ভাবিস না যেন
বয়সটার জনে‍্য তুইও পাবি ছাড়া।
হৃদয়ে জ্বলেছে দ্রোহের আগুন।
মায়ের কোলে ঘুমোতে পারি না বলে কী,
কখনও ভোলা যায় স্নেহময়ী দেশমাতা।
পথে নামতে পারিনি বলে ভয় কিসে।
শাহবাগে আছে আমার ভাই-বোনেরা,
আরও আছেন চেনা-অচেনা গুরুজনেরা।
দেশজুড়ে ঝড় তুলেছে দামালসেনা।
গুরু পাপে লঘু শাস্তিপ্রদান আর বিব্রতবোধকারি
বিচারপতিদেরও বিচার করবে জাগ্রত জনতা।
শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি করে
ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন আছে যাদের বা যেসব রাজনৈতিক দলের,
তারাও সময় থাকতে সাবধান না হলে জনতার অস্ত্র
চলবে ভোটবাক্সের ব‍্যালটের মধ‍্য দিয়ে।
আর যুদ্ধাপরাধী তুই যেই হও শহীদ জননীর চেতনা মরে নাই, মরবে না।
জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হবে মাটি ও মানুষের।।
বি.দ্র. ছবিটি সুপ্রীতি ধর, দিদির ওয়াল থেকে নেয়া।