সহিষ্ণুতা আর ভালোবাসা ছাড়া গণতন্ত্র ও শান্তি মেলে না!

Jahanaraimam-shahbagh

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বিশ্ব স্কি প্রতিযোগিতায় নরওয়ের দুই যুবক প্রথম ও তৃতীয় স্থান দখল করেছেন। তারজন‍্য তাঁদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে একটা ছোট্র স্টাটাস লিখেছি ফেইসবুকে। ভাষাটা নরওয়েজিয়ান। এজন‍্য ফেইসবুকের তিন বন্ধু  শুভাশীষ, চন্দন ও তারিক কী ভাষায় লিখেছি বলে জানতে চেয়ে জবাবদিহি করেছেন। অন‍্যদিকে হাতে গোনা ক’জন যুদ্ধাপরাধীর প্রতীকী নয় সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে অভিমত প্রকাশ করে ব্লগ লেখার কারণে একজন আওয়ামী সমর্থক ফেইসবুকার আমাকে বন্ধু তালিকা থেকে বরখাস্ত করেছেন। নিউইয়র্কপ্রবাসী এই বন্ধুর স্বউক্তি হলো, আমি নাকি উনার অন‍্যতম খুবই আপনজন!

ইন্টারনেটের জাদুকরী উৎকষর্তা বিশাল পৃথিবীকে ছোট্র একটা বাড়িতে পরিণত করেছে। কাজেই কোন ভাষায় কে লিখলো, কী লিখলো তা জানার জন‍্য কোন বইও পড়তে হয় না, গবেষণারও প্রয়োজন পড়ে না। গুগল সবকিছুর সমাধান দিয়ে দিয়েছে! আর আমি এখানে একটা নতুন ভাষা শেখার জন‍্য সংগ্রাম চালাচ্ছি। এই ভাষাটা শিখতে পারলে আমার স্বপ্নের সাংবাদিকতা পেশাটা এখানেও চালিয়ে যেতে পারবো। তাই এই নয়া ভাষাটাই বেশি ব‍্যবহার করছি এখন, তার মানে এই নয় যে মায়ের ভাষা ভুলে গেলাম।

মা, মাটি আর মাতৃভূমিকে স্মরণ করি আমার বাংলা ব্লগে। শুধুমাত্র অভিমত প্রকাশের জন‍্য পাড় আওয়ামী লীগ ও পাড় বিএনপি মার্কা লোকজন বন্ধুর তালিকা থেকে আমার বাদ দিচ্ছেন, এটা দু:খের কোন বিষয় নয়। বরং আমি নিজেকে চিনছি প্রতিমূহুতর্ে। আর ওরা ঘাতক জামাত-শিবির, যুদ্ধাপরাধীরাতো আমার আজন্ম শত্রু। তার প্রমাণ আমার ইংরেজী ভাষায় প্রকাশিত বই Pain বা দু:খ তে (http://www.amazon.ca/Pain-Jahangir-Alam-Akash/dp/1456858025) সব পাওয়া যাবে।

আমি নিজেই আমার বন্ধুর তালিকাটাকে সংকুচিত করার উদ‍্যোগ নিয়েছি, কারণ যাদেরকে ব‍্যক্তিগতভাবে চিনি না তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখাটা অনেকটা বিড়ম্বনারও বটে! তবে যখন শুধুমাত্র মতপ্রকাশের কারণে বহু পুরনো ও জানাশোনা মানুষ বন্ধুর তালিকা থেকে আমাকে বাদ দিচ্ছেন তখন বোঝা যায় আমাদের সহিষ্ণুতার মাত্রাটা কোন পর্যায়ে আছে? আর অসহিষ্ণুতাকে হৃদয়ে ধারণ করে মানুষ কী করে গণতান্ত্রিক বলে নিজেকে দাবি করতে পারে তা আমার বোধে ধরা পড়ে না!

এই লেখাটি যখন লিখছি তখন প্রথম আলোর একটি রিপোর্টে চোখ পড়লো। একটি রিপোর্টের শিরোনাম হলো: “ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নয় জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ চাই: শাহবাগের ঘোষণা”। বঙ্গবন্ধুর বাহাত্তরের সংবিধানে ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কোন সুযোগ নেই। দেশেতো কেবল জামাত-শিবিরই সাম্প্রদায়িক দল নয়, আরও বহু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আছে। বাহাত্তরের মূল সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন বাংলাদেশে কোন ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বা রাজনৈতিক দল থাকতে পারে না।

এখানে অন‍্য একটি ভিন্ন প্রসঙ্গে সামান‍্য তথ‍্য তুলে ধরতে চাই। পুরো বিএনপি-জামাত জোট সরকার বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি বলে আবার বাংলা ভাই বাহিনীকে রসদ জুড়িয়েছিল মানুষ হত‍্যা নির্যাতন করার জন‍্য বিশেষ করে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদেরকে! আরেকটি কথা খালেদাই র‍্যাব সৃষ্টি করেছিল আর এখন খালেদা হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলে র‍্যাবের হত‍্যা-গুম ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড নিয়ে! অবশ‍্য হাসিনাও বিরোধীদলে থাকার সময় র‍্যাবের হত‍্যা-নির্যাতনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। আর ক্ষমতায় এসে র‍্যাবের কর্মকান্ড অব‍্যাহত রাখলেন! সংঘাতপূর্ণ ও বিপরীতমুখী রাজনীতি দেশে অশান্তি আর অবিচারের মূল কারণ।

পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বরতম গণহত‍্যা সংঘঠিত হয় বাংলাদেশে। ১৯৭১ সালে  পাখির মতো মানুষকে মারা হয়েছে। আর নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছে গণহারে। এই নৃশংসতা কী কেউ মেনে নিতে পারে, নাকি যায় ভোলা? সেই পাষন্ড, বর্বর, খুনি ও ধর্ষক সকলের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কী মনের জ্বালা মিটে?

স্বদেশের মাটি থেকে সকল আপদ, বিপদ আর সন্ত্রাসী, জঙ্গিপনা ও সাম্প্রদায়িকতা, ঘাতক, খুনিদের বিচারের মাধ‍্যমে শহীদের ও শহীদ স্বজনদের আত্মায় শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টাই হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন। হিংসা, সংঘাত, হানাহানি, প্রতিহিংসা কেবল অশান্তি বাড়ায়, সহিষ্ণুতা আর পরমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও ভালোবাসা ছাড়া শান্তি আসে না আর গণতন্ত্রও  চর্চা করা যায় না।

পরিশেষে বলবো, দেশের মাটিতে সতি‍্যকারের আলো পড়লে দূর প্রবাস থেকেও বুকটা গর্বে ভরে উঠবে। ছবি-গুগল থেকে সংগৃহীত।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s