Monthly Archives: এপ্রিল 2013

খুনির জন্য হেলিকপ্টার আর পোশাক শ্রমিকের জন্য মৃত্যু!

slektninger-savar tragedie

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। রানাকে কী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে বেনাপোলে নিয়ে গিয়ে আবার একটি ছোট্র নাটক সাজানো হলো বিশ্ববাসির কাছে সরকারের মুখ রক্ষায়? নইলে কেন হেলিকপ্টার নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করতে হবে? যশোরে কী পুলিশ, রেব নেই? হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আবারো গরীব জনগণের টাকাই খরচ করলো সরকার এই খুনি, মুনাফালোভী রানার পেছনে!
সবাই জানি, দেশবাসির কাছে পরিস্কার রানা গ্রেফতারে সরকার আরেক নতুন নাটক সাজালো। না, স্বেচ্ছায় এই নাটকের মঞ্চায়ন হয়নি। আন্তর্জাতিক চাপে সরকার এমনটা করতে বাধ্য হলো। নইলে মুখ রক্ষা হয় না আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে। তাইতো রানা যুবলীগের কেউ নয় তা প্রমাণের ব্যর্থ প্রচেষ্টার মহড়া হয়ে গেলো খোদ সংসদে। দেশের একটি মানুষও এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাননি, এটা হলফ করেই বলা যায়।
এটা এখন ওপেন সিক্রেট যে নানাভাবে রানার কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। যিনি ধর্মীয় সংখ্যালঘু রবীন্দ্রনাথের জমি দখল করে অবৈধ রানা প্লাজা নির্মাণ করেছিলেন। যে রানা সন্ত্রাসের রাজা। যার হাত গরীব মানুষ মারায় সিদ্ধহস্ত। যার পরিকল্পিত চাপে এবং লোভের কারণে আজ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারি দেশের পোশাক শিল্পের বারোটা বাজার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় চারশত নিরীহ শ্রমিক নিহত, প্রায় তিন হাজার গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও কত শত জন রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে আছেন কে জানে?
এতবড় একজন ক্রিমিনালকে ঘটনার পরপরই গ্রেফতার করার উদ্যোগ না নিয়ে সরকারদলীয় একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য তাকে বাঁচানোর প্রথম পদক্ষেপ নিলেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি বললেন ভবনটি নাকি মানুষের ঝাঁকুনির কারণে ধ্বসে পড়েছে। সর্বশেষে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রি সংসদে হাতে করে নিয়ে গেলেন যুবলীগের কমিটি। তিনি বললেন রানার নাম নেই যুবলীগের কমিটিতে। ব্যাপারটি এমন দাঁড়ালো যে রানা যুবলীগের না তা প্রমাণ করতে পারলেই সরকারের দায়ভারটা কমে যাবে!
ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে হাবুডুবু খাওয়া সাভারের ধ্বংসস্তূপে যখন স্যালাইন, অক্সিজেন, উদ্ধারযন্ত্রের অপ্রতুলতা তখন সরকার কোন হেলিকপ্টার বরাদ্দ করেনি, কিংবা ঘটনাস্থলের আশপাশে কোন অস্থায়ী হাসপাতালও চালু করেনি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এনাম মেডিক্যাল মানবতার টানে এগিয়ে এলো, ডাচ-বাংলা ব্যাংক সাহায্যের হাত বাড়ালো, সরকারি কোন এমপি, মন্ত্রি, কোটিপতি বা পোশাক কারখানার কোন মালিক হতে পারলো না ডাচ-বাংলা বা এনাম মেডিক্যালের মতো দরদি, মানবিক! সাধারণ মানুষ ঝাপিয়ে পড়লেন রানা প্লাজার নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের জন্য। অথচ একজন খুনিকে গ্রেফতার নাটক সাজাতে গিয়ে সরকার জনগণের কষ্টের টাকা বিনিয়োগ করে হেলিকপ্টার ব্যবহার করলো কোন স্বার্থে? সরকার কী বোঝাতে চাইছে যে হাজার অপরাধী হলেও রানাতো আমাদেরই লোক, যুবলীগের নেতা?

সরকার যতই নাটক সাজানোর চেষ্টা করুক না কেন, দেশের মানুষ তা বিশ্বাস করবেন না। একজন খুনির জন্য সরকার জনগণের টাকার শ্রাদ্ধ করে হেলিকপ্টার ব্যবহার করলো, আর পোশাক শ্রমিকদের জন্য কী? পোশাক কারখানার খুনি মালিককে যশোর থেকে আনার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। আর দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা পোশাক শ্রমিকদের জন্য কী ভবন ধ্বস ও আগুনে পুড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা এবং নিহত লাশপ্রতি মাত্র ২০ হাজার টাকার ভিক্ষা? কেন এই বৈষম্য, কার স্বার্থে?

সরকার বোধহয় মনে করে যে রানা একজন ভিআপি আসামি! তাই তাকে নতুন বোতলে ইনটেক্ট করা মিনারেল ওয়াটার খাওয়ায়ে দিচ্ছে। অথচ পোশাক শ্রমিকদের জন্য গরীব সাধারণ মানুষগুলি স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে মানবতার হাত বাড়িয়ে খাবার ও পানি সরবরাহ করছেন। এই হলো ধনিক শ্রেণীর পুঁজিবাদি রাষ্ট্র ব্যবস্থা! নির্যাতিত, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের যন্ত্রণা আর কষ্টের অভিশাপে একদিন এই ধনিক-বণিক লুটেরা রাষ্ট্র ব্যবস্থা ধ্বসে পড়বে! সেইদিন আর বেশি দূরে নয়।  ছবি-গুগল থেকে সংগৃহীত।

Advertisements

উপরওয়ালাও কী আসল মানুষদেরই মারার বন্দোবস্ত করেন!

Stephane Cartoon

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। এক বোনের দুই পা কেটে ফেলে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে। এই অমানবিক-নৃশংস ছবিটি এখন ফেইসবুক ব‍্যবহারকারি অনেককেই কষ্ট দিচ্ছে। স্বজনহারা মানুষগুলি আমার কেউ না, যারা নিহত বা আহত হয়েছেন তাদের কাউকেই আমি চিনি না। তারপরও কষ্ট পাচ্ছি, হাউমাউ করে কাঁদছি। না, শুধু আমিই নই, সারাদেশ আজ কাঁদছে, নিদারণ কষ্টে মানুষ। যাঁরা স্বজন হারিয়েছেন কী করে তাঁরা স্বজন হারানোর বেদনা ভুলবেন তাও জানা নেই। আর যাঁরা নিহত হয়েছেন তাঁরা নাহয় বেঁচেই গেছেন। কিন্তু যেসব মা-বোন-বাবা ও ভাইদের হাত-পা কেটে ফেলতে হচ্ছে, কিংবা যাঁরা বেঁচে আছেন কিন্তু উদ্ধার জটিলতায় হয়ত একসময় জীবনপ্রদীপ নিভে যাবে তাঁদের কষ্ট, যন্ত্রণা কী আমাদের রাষ্ট্র পরিচালকদের মনে ন্যূনতম দোলা দেয়? তারা পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক মজা নেবার জন্যই একে অপরকে দোষারোপ করছে নাকি?
বিএনপি নেতা এমকে আনোয়ার সাভার ট্রাজেডির বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইলেন। এমন দাবিতো স্বেদেশে ঘটনা ঘটলেই ওঠে। উনারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখনও বিচার বিভাগীয় বহু দাবি উঠেছিল। দেশে ঘটনা ঘটলেই প্রথমে ওঠে দোষারোপের পালা, পরবর্তী ধাপে আসে তদন্ত কমিটি গঠনের পালা। হরেক রকমের তদন্ত, বহু কমিটি। কাজের কাজ কিছুই না। সবই ফাপা এবং ফাকা। বহু ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি হয়েছে অতীতে সব জামানাতেই। কিন্তু তদন্ত কী আলোর মুখ দেখে, নাকি তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়?
বিএনপি নেতার ভাবখানা এমন যেন বিচার বিভাগ স্বাধীন, সব উদ্ধার হয়ে যাবে? দুবর্ৃত্ত রাজনীতির অবসান না হওয়া পর্যন্ত কোন কিছুতে লাভ হবে না সাধারণ মানুষের, মুষ্টিমেয় অর্থলোভী শয়তান ও দুবর্ৃত্ত রাজনীতিক ছাড়া!
সিস্টেমের পরিবর্তন, রাজনৈতিক (যারা দেশ চালায় পাঁচ বছর অন্তর) নেতা-নেত্রীদের মনোজগতের পরিবর্তন না হলে কী কোন ঝাঁড় ফুকই কাজে লাগবে সোনার বাংলায়। ওখানকার মাটি, বাতাস, জল, সবকিছুকেই পারলে ক্ষমতালোভীরা যেখানে লুট করে সেখানে যতই ভবন ধসুক, মানুষ মরুক তাতে তাদের কী কিছু আসে যায়? মোটেই না।
ঘটনার প্রায় তিনদিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলেন সেই আলোচিত রানা প্লাজার মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানাকে গ্রেফতারের! কিন্তু কেন এত ঘন্টা পরে এই নির্দেশ, যাতে উনি ভালোভাবেই নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারে তার জন্য? প্রধানমন্ত্রি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের ধরারওতো নির্দেশনা দিয়েছিলেন, কিন্তু কই সেই নির্দেশতো আজও কার্যকর হয়নি। তাহলে এমন লোক দেখানো নির্দেশনা দিয়ে লাভ কী, সস্তা ও হালকা বাহবা নেবার তামাশা? সাধারণ মানুষ কী বোকা! যে তাঁরা কিছুই বোঝেন না? আগের দিন সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন যে এই রানার নাম নেই যুবলীগের কমিটিতে, যখন সারাদেশের মিডিয়া বলছেন যে উনি যুবলীগের নেতা এবং বহু দখল, লুট ও অপকর্মের হোতা।
আর কোন অপরাধীকে গ্রেফতার করার জন্য সরকার প্রধানকে নির্দেশনাই বা দিতে হবে কেন? পুলিশ, কালো বাহিনী রেব তাহলে জনগণ পুষবেই বা কেন? তারা কী এতদিন ধরে ঘোড়ার ঘাস কাটলো, নাকি প্রধানমন্ত্রির নির্দেশনার অপেক্ষা করছিল তারা? সোহেল রানাকে ধরার ইচ্ছে থাকলে কী প্রধানমন্ত্রি সংসদে মিথ্যা ভাষণ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি ভবনঝাঁকুনিতত্ত্ব দিয়ে দেশবাসির সঙ্গে রসিকতা করতে পারতেন?আমরা ঘর পোড়া গরু, তাই জে্যাসনার আলোতেই ডরাই কিনা। তাই সন্দেহ হয়  “গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছি, তবে ধরবেন না” এমন নির্দেশনা দেননিতো আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী?
আসল কথা হলো অসহনশীলতা, পরমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অভাব, গণতন্ত্রহীনতা, দুর্নীতি, অবিচার আর আইন না মানা, আইনের শাসন না থাকা। এসবের ফলাফল গিয়ে পড়ে হরতাল, ভবনধ্বস, ভাংচুর, আগুন দেয়া, শ্রমের দাম না দেয়া, বিনা বিচারে মানুষ মারা, নিরপরাধ মানুষকে যখন তখন গ্রেফতার করা কিন্তু খুনিদের নয় এবং গণহারে মানুষ মারার সব আয়োজন পাকাপোক্ত করা! এসবে তাল দেই সবাই আমরা, যারা হয় হাসিনা নয়তো খালেদাকে ও তাঁদের রাজনীতিকে ভালোবাসি, পছন্দ করি এবং তাঁদের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করি! আর আগুনে পুড়ে, ভবন ধ্বসে মারা পড়েন মানুষ। ওরা কখনও মরেনা, যারা মানুষ মারে, মানুষের অধিকার লুণ্ঠন করে যারা সংসদে মিথ্যা বলে, একে অপরকে গালিগালাজ করে। গরীব-সাধারণ মানুষকে ধনবান ও ক্ষমতাবানরা যেভাবে খেলার পুতুল মনে করে ঠিক তেমনিভাবে উনি মানে উপরওয়ালাও শুধু আসল মানুষদেরই মারার বন্দোবস্ত করেন! ক্ষমতাবান, লুটেরা, দুর্বৃত্ত, র্দুনীতিবাজদের ওপর কোন ভবন ধ্বসে পড়ে না কারণ তারাতো গরীবের অধিকার ও সম্পদ লুট করে নিজেদের ঘর ও খুঁটি মজবুত করেই তৈরী করেছে।  কাটর্ুনটি (Stephane Cartoon)আরবনিউজ এর ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।

রেডিও ডয়েচেভেলের স্টাটাসের প্রতিক্রিয়া: মানুষের নিয়তি মিথ্যুক-ভন্ডদের হাতে জিম্মি!

redningsmannskap

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আমার প্রিয় রেডিও ডয়েচেভেলের একটি রিপোর্টের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ে গেলো ফেইসবুকের কল্যাণে। জীবন বাস্তবতার কারণে এখন আর নিয়মিত রেডিও শোনা হয়ে ওঠে না। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুক এখন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আর এই বন্ধুত্বের সুবাদে বিশ্বের প্রায় সব খবরই ভেসে ওঠে চোখের পর্দায়। ডয়েচেভেলের স্টাটাসটা এমন ” যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলী রিয়াজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে সার্বিক বিচারেই ‘আপত্তিকর এবং অপমানজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন৷ আপনি কি তাঁর সঙ্গে একমত?”
আজকের লেখাটি এই স্টাটাসের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া হিসেবেই নেবেন প্রিয় পাঠক আমার।
গালগপ্প, বিশেষজ্ঞ মত শোনা জরুরি কী? নাকি কী করলে পোশাক কারখানাগুলি বাঁচবে, শ্রমিক ন্যায্য মজুরি ও জীবনের নিরাপত্তা পাবেন,আর কোন ভবন অবৈধভাবে নির্মিত হবে না, আর কোন কারখানায় আগুন লাগবে না, ধ্বসে পড়বে না, কেউ গাড়ি ভাংচুর, গাড়িতে আগুন বা কারখানায় আগুন ও ভাংচুর করবে না, কিভাবে হাসিনা-খালেদারা সত্য বলার অভ্যাস, সহনশীল হবার শক্তি অর্জন করতে পারেন, কিভাবে গণতান্ত্রিক রাজনীতি, জনআকাঙ্খার পরিসর বাড়ানো যায়- বিষয়গুলি নিয়ে কার্যকর অনুসন্ধান, দলনিরপেক্ষ (নয় হাসিনা, নয় খালেদা, শুধু সত্য, মানুষ, মানবতার পক্ষে) মতামত-বিশ্লেষণ দরকার?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রির বক্তব্য যে কান্ডজ্ঞানহীন তা নিরুপণের জন্যও নামজাদা অধ্যাপক, এক্সপার্ট হবারও লাগে না, এটা দেশের সব মানুষেই বুঝতে পেরেছেন, কারণ একদল মানুষের ঝকাঝকিতে অতবড় একটা ভবন ভাঙে পড়ার মত ফালতু ও আজগুবি গল্প কেবল বাংলাদেশের ক্ষমতালোভী, শয়তান রাজনীতিক, ভন্ড, জ্ঞানপাপীরাই ছড়াতে পারে! আর নিজ দলের কেউ কোন অপরাধ করলে কেবল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রি পর্যায়ের মিথ্যুকরাই সংসদে গিয়ে বিরোধীদলকে গালমন্দ, তাদের ওপর দোষারোপ আর ও আমার দলের নয় যে দলেরই হোক তার শাস্তি হবে এমন বেহায়াপনা বক্তব্য দিতে কোন রকমের লজ্জাবোধও করে না।

বাঙালি/বাংলাদেশী বা বাংলার মানুষের নিয়তি যেন এমন মিথ্যুক-ভন্ডদের হাতেই জিম্মি হয়ে গেছে। প্রকৃতি যেন এই জিম্মিদশাকেই ভালোবাসার জন্য সোনার বাংলার সহজ-সরল খেটে খাওয়া মানুষগুলিকে বাধ্য করেই চলবে নিরন্তর!

আর মুনাফালোভী, গরীবের শ্রমের মূল্য হরণকারি খুনিরা সরকারের কালো পোশাক আর কালো চশমার নিচে লুকিয়ে থাকে চিরকাল! ১৬ কোটি বলেন, ৩২ কোটি বলেন আর গোটা পৃথিবীর সব চোখ এক হলেও এইসব খুনিকে ধরা যাবে না, কারণ রাষ্ট্র এই খুনিদের লালনকর্তা, আশ্রয়দাতা! ছবিটা গুগল থেকে নেয়া।

বাংলাদেশে মানবিক বিপর্যয়: অমানবিক রাষ্ট্রযন্ত্র!

Savartragedie

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “পোশাক কারখানা মালিকদের একজন নাকি বলেছেন যেসমস্ত নারীকে গামর্েন্টসগুলিতে কাজের সুযোগ পেয়েছে তাঁরা এই কাজ না পেলে নাকি অনৈতিক কাজ করতে হতো।” এই তথ‍্যটি ফেইসবুকে একজন তার স্টাটাসে লিখে পোশাক মালিকদের ওপর আক্রমণের আহবান জানিয়েছে!  তারই প্রতিক্রিয়া জানাতে নিজের চিন্তাগুলি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করার চেষ্টা করবো এই লেখায়।  কুকুর কামড়ালে কী কুকুরকে মানুষ কামড়াবে? গোটা পোশাক শিল্পটাকেতো এই মা-বোনেরাই বাঁচিয়ে রেখেছে। আর ঔ মালিকরাতো পায়ের ঘাম মাথায় ফেলে দিন রাত কাজ করা সেই মা-বোনদের মজুরি লুট করে নিজেদের আরাম-আয়াশ বাড়ায়, সেই ভন্ডদের কথা শুনে লাভ নেই।

কুকুর কামড়ালে কী কুকুরকে মানুষ কামড়াবে। গোটা পোশাক শিল্পটাকেতো এই মা-বোনেরাই বাঁচিয়ে রেখেছে। আর ঔ মালিকরাতো পায়ের ঘাম মাথায় ফেলে দিন রাত কাজ করা সেই মা-বোনদের মজুরি লুট করে নিজেদের আরাম-আয়াশ বাড়ায়। এই ভন্ডদের কথা শুনে লাভ নেই।  আসলে সবকিছুর পেছনে আছে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি। আর এই দুবর্ৃত্ত রাজনীতিকে টেনে নিয়ে আসছে তথাকথিত দুই দলীয় জোট-মহাজোট।  আর মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নটাকে সামনে এনে আমরা অনেক বিপ্লবীও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একটা জোটকে সমর্থন করে চলেছি। কাজেই কেউই ধুয়া তুলশিপাতা কীনা তা নিয়েও তর্ক আছে! আর দেশে যে একটা প্রকৃতাথর্ে তৃতীয় ধারার রাজনীতি জরুরি, সেই কাজটি এগোচ্ছেনা কেন তার উত্তরও খুঁজি কী আমরা? গণমানুষের মনোকষ্ট, বেদনা আর চাওয়া-পাওয়ায় ভালোবাসার স্পর্শ দোলা দেয়ার মতো গণজাগরণী কমর্সূচী ছাড়া কী বিপ্লব সংঘটিত করা সহজ? আমি বিপ্লবী নই, তবে মানসিকভাবে লড়াকু একজন কমীর্ হিসেবে আমি বুঝি যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, জামায়াত-শিবির, সুদখোর, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, স্বৈরাচার, নারী নির্যাতনকারি, বৈষম্যকারি, মিথ্যাবাদি, বিচার মানি তবে তালগাছ আমার টাইপের মানুষ, সুবিধাবাদি, স্তাবক, জনগণের সম্পদ লুণ্ঠণকারি এরা সকলেই মানুষ, মানবতা আর দেশমাতৃকার শত্রু।
সাধারণ মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়দাতা খালেদা আর স্বৈরাচারকে সাথে নিয়ে ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদনকারি হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট-মহাজোটের অত্যাচার-নিষ্পেষণ থেকে বেরিয়ে এসে মুক্ত আকাশের খোলা বাতাসে প্রাণভরে নি:শ্বাস নেবার জন্য। অথচ কারণে হোক আর অকারণে হোক এই দুই জোট-মহাজোটকে আমাদের অনেক বিপ্লবীও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করে চলেছি নানাভাবে।
মানুষ চান বাঁচার পথ, আশার আলো, বিশুদ্ধ খাবার পানি, পরনের কাপড়, পেটে ভাত, সন্তানের পড়ালেখা, মাথা গুজার ঠাঁই, শ্রমের ন্যায্য মূল্য, স্বাভাবিক মৃতু্যর গ্যারান্টি, কিন্তু তাঁরা চান না অসহিষ্ণু রাজনীতি, মিথ্যাচার ও পরস্পরের ওপর দায় চাপানোর কৌশলী-দুর্বৃত্ত রাজনীতি, মানুষ চান একটা বিশুদ্ধ রাজনীতি। সমাজে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন থাকলে দলীয় পরিচয় গোপন করার জন্য মিথ্যা ভাষণ দিয়ে সোহেল রানাদের পক্ষ নিতে হতো না রাষ্ট্রপ্রধানকে! ইমারত নির্মাণ আইন লংঘণ রার কারণেই কেবল রানা প্লাজা নামের অবৈধ ভবনটি ধ্বসে পড়ে শত শত মানুষকে গণহত্যা করা হয়েছে। দেশে যুদ্ধ নেই, পাক সেনারাও গুলি করেনি, জামাত-শিবিরও পাক সেনাদের সহায়তা করে গণহত্যা করছে না (যেটা করেছিল ওরা একাত্তরে), তাহলে স্বাধীন বাংলায় কেন এই হণহত্যা?
দেশে ৯০ শতাংশ ইমারত ইমারত নির্মাণ আইন মেনে তৈরী হয়নি বলে প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা সংসদে জানিয়েছেন। রানা প্লাজা ভবনটিও অবৈধ, নিয়ম মেনে নির্মিত হয়নি। এসব ভবন যারা অনুমোদন দিলো তাদের শাস্তি বা বিচার করার কোন উদ্যোগ হাসিনা সরকারের আছে কিনা সেব্যাপারে অবশ্য প্রধানমন্ত্রি কিছু বলেননি। সংসদে প্রধানমন্ত্রি আরও জানান, ধ্বসে পড়া ভবনটির মালিক নাকি যুবলীগের কেউ না। অথচ যুবলীগ জানায়, সোহেল রানাকে যুবলীগ থেকে বহিস্কার করা হবে।
আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি বললেন ভবনটি নাকি হরতালকারি বিরোধীরা ঝকাঝকি করে ধ্বসিয়ে দিয়েছে! আবার ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে, যিনি তেমন কিছু ঘটবে না বলে ঘটনার কয়েক ঘন্টা আগে জানিয়েছিলেন যখন ভবনটি হেলে পড়েছিল। এই হলো আমার দেশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি আর দেশের প্রধানমন্ত্রি! একের পর এক হত‍্যাযজ্ঞ ঘটেই চলেছে কিন্তু দায়ীরা শাস্তি পাচ্ছে না। আর গতানুগতিকভাবে রাষ্ট্র নায়করা বলে যাচ্ছেন যারা দায়ি, যে দলেরই হোক কঠোর শাস্তি হবে!
মানুষের আশা জাগে, প্রাণ বাঁচে, মানুষ শান্তিতে ঘুমোতে পারেন, তাঁরা যাতে দু`‌বেলা দু´মুঠো ভাত খেতে পারেন, পাবেন স্বাস্থ্য সেবা,  নিজের র্মযাদা ও সম্পদ রক্ষা করতে পারেন সেরকম কোন রাজনৈতিক র্কমসূচী ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভালোবাসার হাওয়া ছাড়া বাংলার রাজনীতিতে কোন তৃতীয় ধারা কী সৃষ্টি করা সম্ভব?
দ্বিদলীয় পরিবারতান্ত্রিক জোট-মহাজোট ধারার বাইরে তৃতীয় কোন মানবিক রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টি করতে না পারলে (ওই মিথ্যাবাদি ক্ষমতালোভীদের হাতে যারা ক্ষমতার বাইরে থাকলে তত্ত্বাবধায়কের জন্য জিহাদ করে আর ক্ষমতায় থাকলে নিজস্ব মতাবলম্বিদের অধীনে র্নিবাচন করে পুননির্বাচিত হবার লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সভ্য ও গণতান্ত্রিক নয় বলে চিৎকার কর)  সোনার বাংলা জিম্মি হয়েই থাকবে চিরদিন। প্রত্যাশা করি-আমার স্বদেশে একদিন মানুষ, মানবতা, শ্রমিক-মেহনতি জনতার বিজয় হবেই হবে। দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ মানবিক বিপর্যয় ও মানুষের লাশের মিছিল দেখতে  এবং স্বজন হারানো মানুষের আর্তনাদ শুনতে চান না। জনআকাঙ্খা  হলো একটি মানবিক বাংলাদেশের।
উপসংহার: সাভারে চলমান মানবিক বিপর্যয়ে যাঁরা উদ্ধারকাজ এবং যাঁরা চিকিৎসা সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ এবং শ্রদ্ধা জানাই। ছবি ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত।

বিচার বন্দি অবিচারের হাতে: দুবর্ৃত্ত রাজনীতি জিইয়ে রেখে এমন গণহত্যা বন্ধ করা যাবে না!

BD

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। গরীব পোশাক শ্রমিক মরলে কী শপথ অনুষ্ঠান বন্ধ হয়? না, কখনও না! শতাধিক শ্রমিকের লাশ আর ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে পড়া (মরে গেছেন নাকি বেঁচে আছেন জানি না, আশা করি তাঁরা সবাই যেন বেঁচে থাকেন) শত শত শ্রমিকের আর্তনাদ মাড়িয়ে নয়া রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান শেষ হলো। এই কামটি আজ না হলে হয়তো বিরোধিরা রাষ্ট্রপতির পদটি কেড়ে নিতো তাই তর সয়নি! সরকার আবারও গতানুগতিক শোক ঘোষণা করেছে, যে কাজটাতে খুব পারর্দশী সরকার! মানুষতো শোক চান না, চান স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার আর ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা। বাহবা নেয়ার জন্য শোক প্রকাশ করে লাভ কী? পোশাকখাতের শ্রমিকদের যারা গণহত্যায় জড়িত, যেসব মালিক শ্রমিকের রক্ত চুষছে করাতের ন্যায় (জীবনে কেড়ে নিয়ে এবং ন্যায্য মজুরি না দিয়ে) সেইসব অমানুষদের শাস্তি হচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নটির উত্তর কী দেবেন আমাদের রাষ্ট্রনায়কেরা? নাকি মখারা বিরোধী ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে নিজের অযোগ্যতা আর বালখিল্যতার প্রকাশ ঘটাবেন?

চার/পাঁচ বছর আগে নির্মিত ভবনটির মালিক যুদ্ধাপরাধীও নন, জামাত-শিবিরও নন, মাহমুদুর রহমানও নন, খোদ সরকারি দলের যুবসংগঠনের নেতা! বারবার, শতবার ভবন ধ্বস, পোশাক কারখানায় আগুন, এভাবে মারা যাচ্ছেন শত হাজারো মানুষ। তাতে কার কী, মালিকপক্ষ আর দুবর্ৃত্ত রাজনীতি ঠিক থাকলেই সব স্বাভাবিক? অবিচারের হাতে বিচার আজ বন্দি। কাঁদে মানুষ, কষ্টে স্বদেশ। হাসে হিংসুক-লুটেরা। মজা মারে ক্ষমতাবানরা। বিপর্যস্ত মানবতা!

ভবনটি হেলে পড়েছিল একদিন আগে। প্রশাসন ভবনটিতে কাজ না চালানোর নির্দেশনাও দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের যুবসংগঠনের নেতা ভবনটির মালিক। অভিযোগ উঠেছে, একজন ধর্মীয় সংখ্যালঘু রবীন্দ্রনাথের জায়গা দখল করে সোহেল রানা এই ভবন বানিয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মালিক জোর করে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে। মিডিয়াগুলি বলছে ভবনটির ভেতরে চারটি পোশাক কারখানায় কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করছিল। এখন র্পযন্ত ১৩৮টি লাশ মিলেছে। প্রায় হাজারখানেক শ্রমিক আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। এই ভবন ধ্বসের ঘটনা নতুন নয়। সেখানে এমন আরও অসংখ্য ট্রাজেডি ঘটেছে। এর আগে তাজরীন ফ্যাশনেও শতাধিক শ্রমিক নিহত হন। মালিকের কিছুই হয়নি। এ কী কেবল অবহেলা-দায়িত্বহীনতা, না এটি একটি পরিকল্পিত গণহত্যা। রানা প্লাজা নামের এই ভবনটি নিমর্াণে ভবন নির্মাণ আইনও মানা হয়নি। ছয়তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে বানানো হয় দশতলা!

স্বদেশে জবাব দেয়ার কেউ নেই যারা আছেন ক্ষমতার নেশায় বিভোর তারা। আর মা-বোন আর ভাইদের লাশের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে নিরন্তর! জীবন নিয়ে ওদের এমন নির্মম-নৃশংস খেলা বন্ধ হবে না কোনদিনও যতদিন না দেশের দুবর্ৃত্ত রাজনীতির কবর রচিত হয়? নইলে বন্ধ হবে না মানুষের কান্না, বাড়বে লাশ আর আতর্নাদ-আহাজারি!  ছবি>মানবজমিন থেকে নেয়া।

পার্থ, মাহী ও তারেকরা চোর: জয় কী গরীব মানুষকে খাওয়ায় নাকি সরকার অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে?

Shahbagh-Bangladeshজাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সরকারের ইচ্ছে বা অভিলাষটা জানা দরকার! একদিকে তারা হেফাজত নামধারী জঙ্গিদের হেফাজত করছে বা তাদের কাছে নতি স্বীকার করছে, অপরদিকে বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছে। এভাবে দুই দিকে পা রেখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই শেষ করবে কখন আর জামাত-শিবিরকেই নিষিদ্ধ করবে কোনদিন? ব্রুটমেজরিটির সরকার থাকার পরও কাকে ভয়, জামাত-শিবির-যুদ্ধাপরাধী- জঙ্গিদের নাকি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে? দেশের সিংহভাগ মানুষই অসাম্প্রদায়িক, শুধুমাত্র ক্ষমতালোভীরাই সাম্প্রদায়িকতার কাছে সন্ত্রাসের কাছে মাথানত করে মতপ্রকাশ (সে মত যতই তীর্যক বা বিপক্ষে যাক না কেন, তাকে ধারণ করে রাজনৈতিকভাবে ভালো ভালো কাজের দ্বারা তাকে প্রতিহত করা যেতে পারে) এর স্বাধীনতাকে খবর্ ও সন্ত্রাসী কায়দায় মিডিয়া দমন করার প্রচেষ্টা যারা করছে তাদেরই আখেরে ক্ষতি হবে, মাহমুদুর রহমান, জামাত-যুদ্ধাপরাধ গংরা ঠিকই লাভবান হবে উল্টোপথে! দেশের সুবিধাভোগী ২০ বা ৩০ ভাগ মানুষের ভেতরে কে চুরি করে না বলুনতো? কেউ কম আর কেউ বেশি, কেউ ১০০ টাকা আবার কেউ ১০০ কোটি টাকা ফারাকটা এটুকুনই! কাজেই শুধু তারেক, মাহী আর পার্থ কেন, ডিজিটাল যুগের জয়রা কী বসে বসে নিরন্ন, বস্ত্রহীন, বাস্তুহারাদের মাঝে দুধ কলা খাওয়াচ্ছে আর তাদের দু:খ ঘোচাতে দরিদ্র মানুষের মাঝে টাকা বিলাচ্ছে?  মহাজোট সরকার কী অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে? কেউ কেউ বলেন জয়ের ওপরই নাকি মনোনয়নজয় নির্ভর করেছে বিগত জাতীয় নির্বাচনে। আর বিনিময়ে কত টাকা হাতিয়েছে “ডিজিটাল ও ফেরেশতা জয়” তার কী কোন হিসাব আছে কারও কাছে? দেশটাকে বাঁচাতে হলে একটা গণবিপ্লব ও পরিবর্তন জরুরি। পরিবর্তন একদিন আসতেই হবে, নইলে আমার স্বদেশ আফগানিস্তান নয়তো পাকিস্তান হয়ে যাবে! সেই দিনটি দেখার আগেই যেন প্রকৃতি আমায় টেনে নেয় আসল ঠিকানায়। দুর্নীতি আর দুবর্ৃত্ত রাজনীতি গোটা রাষ্ট্র ও সমাজ ব‍্যবস্থাটাকেই গ্রাস করে রেখেছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসাটা কঠিন ব‍্যাপার। সেই কঠিন কাজটিই করে চলেছেন দেশে হাজারো, লাখো, মানুষ।  কিন্তু চোরদের চোর বানাচ্ছে কে? দুর্নীতি আর দুবর্ৃত্ত রাজনীতি, নয় কী? আমরাতো সবাই দলবাজিতেই ব‍্যস্ত, হয় এই জোট নয়তো মহাজোট! কাজেই যা হবার তাই হচ্ছে, কিলার ও সন্ত্রাসী ধরা হয় না, খুনির রিমান্ড হয় না, মতপ্রকাশ করলেই বিপদ, কিংবা দুর্নীতি,  সন্ত্রাস ও মানবাধিকার লংঘণের রিপোর্ট করলেই আর যায় কোথায়? আর আমরাতো সবাই ব‍্যস্ত আছি দল আর জোট-মহাজোট নিয়ে, ফলে চোরদের আরও সুবিধা বাড়ে চুরি করায়। পৃথিবীর কোন দেশের মানুষ এত অশোভন ভাষা ব‍্যবহার করে না যেটা আমাদের দেশের কেউ কেউ করছি হরহামেশাই, ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগের জায়গাগুলিতে ঘোরাঘুরি করলেই তা টের পাওয়া যাবে। ভদ্র ভাষাতেই লিখেও দ্বিমত পোষণ বা কারও বিপক্ষে অবস্থান নেয়া যায়। আচ্ছা বলুনতো কোন মিডিয়ার মালিকের ব্যবসাপাতি নেই এবং সেই ব্যবসাপাতির ওপরে হাত পড়ে এমন রিপের্াট কী কেউ করতে পারে? হ্যাঁ, এক মিডিয়া পক্ষ আরেক মিডিয়াপক্ষের বিপক্ষে মাঝেমাঝে ফুসে ওঠে বটে! এটা শুধু একটা ক্ষেত্রের উদাহরণ। এমন অবস্থাটা সবখানেই সব পেশাতেই আছে। কাজেই সমস্যাটাতো রাজনৈতিক, কাঠামো বা পদ্ধতিগত। সেই কাঠামোটাকেই ভেঙ্গে একটা নতুন শক্ত কাঠামো দাঁড় করানো না গেলে কী আমাদের দেশের অন্ধকার ঘুচবে? তবু আমরা অন্ধকার শেষে একদিন ভোরের আলো বাংলার আকাশ-মাটিকে আলোকিত করবে, দূর হবে সব সংকট-এই আশা নিয়েই তো বেঁচে আছি আমরা, দেশের কোটি কোটি মানুষ। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

উনি কী স্বদেশ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাচ্ছেন?

Dr-Yunus-US-Congress

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। দেশ এক গভীর সংকটে! স্বদেশের রাজনীতিতে এক অশুভ অশংনিসংকেত। ক্ষমতার জন্য দুই জোটের কামড়াকামড়ি। উভয় জোটই ধর্মকে রাজনীতিতে ব‍্যবহার করেই চলেছে।  দেশজুড়ে মৌলবাদিদের হুংকার, তান্ডব। গণতান্ত্রিক অধিকার হরতালের নামে বিরোধীদলের জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর, জনসম্পদের ওপর আক্রমণ। ব্লগারদের ওপর সরকারি খড়ক, চার ব্লগার গ্রেফতার ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ। জামাত-শিবির মারছে পুলিশ, পুলিশ করছে গুলি। বিনাবিচারে মানুষ হত্যা বন্ধ হয়নি। গুম হয়ে যাওয়া মানুষগুলিও ফিরে আসেনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে (সবার নয়, গুটিকতকের)। গামর্েন্টস কারাখানাগুলিতে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বেরুনোর সুব্যবস্থা নেই, তাই পোশাক শ্রমিকরা মরছেন আগুনে পুড়ে। হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও পোশাক শ্রমিকরা আজকের বাজারমূল্য অনুযায়ী শ্রমের ন্যায্য মজুরি। বিরোধীমতের সমর্থক এক সম্পাদককে (অনেকের মতে তিনি পেশাদার সাংবাদিক নন, তিনি জামাত বা বিএনপি, সে যাই হোক এমন সম্পাদক আরও অনেকে আছেন) গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে সরকার। নারী নির্যাতন থামেনি। সাংবাদিক হত্যাকারিদের ধরা হচ্ছে না। সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিরা আজও পর্দার অন্তরালে!

দেশের এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস একেবারেই চুপচাপ। উনি এখন দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর পুরস্কার, মেডেল ও সম্মান নিচ্ছেন। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশের কাছ থেকে তিনি সম্মানিত হলেন আরেক দফায়। এর আগে তিনি পেয়েছেন নোবেল। তাও আবার শান্তিতে! তিনি নাকি দারিদ্রতাকে জাদুঘরে পাঠাবেন! দেশের সবচেয়ে দরিদ্রতর নারীদের কাছ থেকে তিনি সুদ নিচ্ছেন অস্বাভাবিকহারে। আর সেই দরিদ্রদের সঞ্চিত টাকায় তিনি আরাম-আয়েশে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি পাচ্ছেন বাহবা, পুরস্কার, গোল্ড মেডেল আরও কত কী? আর গ্রামের সহজ-সরল, অধর্শিক্ষিত বা স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন নারীরা দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে ঘটি-বাটি এমনকি বসতভিটেও হারাচ্ছেন। এই নোবেলজয়ী ব‍্যক্তি ও তার সুদখোর কারখানা দরিদ্রদের কাছ থেকে চড়াহারে সুদ নিলেও দরিদ্র নারীরা যে টাকা গচ্ছিত রাখছেন, আমানত রাখছেন এই কারখানায় তারা কত শতাংশ সুদ পাচ্ছেন নোবেলজয়ীর কারখানা থেকে তার হিসাব কী কেউ রাখি?

স্বদেশের সমসাময়িক সংকট ও পরিস্থিতির নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনুস চুপচাপ, কিছুই বলছেন না। নাকি উনি এমন পরিস্থিতিরই সুযোগ নিতে চাচ্ছেন প্রভূদের দ্বারা কিছু করায়ে? ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত।

পৃথিবীর ধনী দেশগুলির শীর্ষ তালিকায় আছে নরওয়ে। আর আমাদের স্বদেশ পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলির  মধ্যে  অন্যতম। অথচ ড. ইউনুসের গ্রামীণ ফোন বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে শুরুতে যে কলচাজর্ নিয়েছেন তা নরওয়েতে টেলিনর ব‍্যবহারকারী মোবাইল গ্রাহকদের কলচাজর্ের সমান। তাহলে এখন বুঝুন পুরস্কারটা কিসের ভিত্তিতে নিধর্ারিত হয়? আসলে সবই বাণিজ্য!

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোন সুযোগ নিতে চাচ্ছেন কী এই নোবেলবিজেতা? এমন প্রশ্ন এখন অনেকের মুখেই উচ্চারিত হচ্ছে। তাই নাকি উনাকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটি সবর্োচ্চ সম্মানে ভূষিত করলো!