কার স্বার্থে ধর্মান্ধদের কাছে পূর্ণ নতি স্বীকার?

sangbad-21-8-2009-democracy-peace1

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। মৌলবাদিদের কাছে হাসিনা এবং তাঁর মহাজোট সরকার আজকে যে নতজানু ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে তারজন্য বহুলাংশে আওয়ামীপন্থি বুদ্ধিজীবী ও সুশিলদের ভূমিকাও আছে। কারণ এই গোষ্ঠীটি (সবাই নয়) সামান্য কিছু পদ-পদবি বা সুবিধার আশায় কারণে অকারণে স্তুতি করে সরকারকে আকের র্পযায়ে নিয়ে গেছে। হাসিনা ও মহাজোট সরকারপন্থি মিডিয়াসহ এই গোষ্ঠীটি দেশে কিছু ঘটলেই প্রথমে হোঁচট খায় বিরোধীদের প্রতি অভিযোগের তীরটা খড়া করে দিয়ে। তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বিচারের আগেই রায় ঘোষণা করে দেয় এই সুবিধাবাদি-স্বার্থান্ধচক্র। আর যার কারণে হাসিনা ও তার মহাজোট সরকার আজ ধর্মান্ধদের (যারা প্রকৃত অর্থে ধার্মিকও নন, ইসলামিও নন, মূলত: ধর্ম ব্যবসায়ি এরা) কাছে পূর্ণ নতি স্বীকার করে ফেলেছে। তারা মনে করছে ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করার মধ্য দিয়েই পনরায় ক্ষমতারোহণ করা সহজ হবে! কিন্তু এমন ফালতু ধারণা যে হাসিনা ও মহাজোট সরকারের জন্য বুমেরাং হবে তা সময়ই বলে দেবে! হাসিনা ও মহাজোট সরকারের নতজানুতার কারণে আজ রাজপথে জামাত-শিবিরের হাতে পুলিশের কবজি উড়ছে, মাধা থেতলে যাচ্ছে, পুড়ছে গাড়ি-বাড়ি, জনসম্পদ, মরছে মানুষ (জামাত-শিবির, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, বাম, সাধারণ মানুষ, সবাই) সর্বোপরি বিনষ্ট হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। আর গণতন্ত্র নামে যেটুকু ছিল তার নিশানাটুকুও বোধহয় এবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার রাজনীতিতে যেভাবে ধর্মকে ব্যবহার করার পথে হাটতে শুরু করেছে তার মধ্য দিয়ে।
আর যারা নিজেকে নাস্তিক বলে দাবি করে এবং কোন ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করে তারাও কিন্তু আস্তিকই বটে। কারণ তারা একটা কিছুকে তো বিশ্বাস করছেই সেটা প্রকৃতিবাদি হোক আর অন্য যে নামেই হোক না কেন। কেউ যদি বস্তুকে, বাস্তববাদকে বিশ্বাস করে সেটাওতো একধরণের আস্তিক্যবাদ! আর মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে আক্রমণ করার কোন মানে হয় না। বরং মানুষের কর্মের সমালোচনা করাটাই হলো জ্ঞানী বা বুদ্ধিমানের কাজ। কে আস্তিক, কে নাস্তিক সেটার চেয়ে কে কী করছে তার মূল্যায়ণটাই মুখ্য বলে মনে করি আমি।
যাহোক মতপ্রকাশের কারণে আর শাহবাগ আন্দোলনে যুক্ততার কারণেই তিন ব্লগারকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে বলেই প্রতিভাত হচ্ছে। অথচ সরকার সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার করে না, নারায়ণগঞ্জে ত্বকীর খুনিদের আশ্রয় দেয়, বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করে। আর রাজপথে সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে সরকার দৃঢ় হতে ভয় পায়। কিন্তু কেন? কারণ সরকার হয়তো তলে তলে সেই স্বাধীনতা-বিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নির্বাচনি আঁতাত করে রেখেছে? আর বাইরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিচার খেলা খেলছে তাদের সরকারের মেয়াদের শেষ কিনারায় এসে। পরে হয়ত ধোয়া তুলবে এই বলে যে আমরা তো চেষ্টা করেছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার, কিন্তু তারা দেশটাকে জাহান্নাম বানিয়ে দিয়েছিল, তাই পারিনি। আমাদের আরেকবার ক্ষমতায় বসান, এবার বিচার করেই ছাড়বো! সতি্য যদি এমন কোন ষড়যন্ত্র বা গোপন সমঝোতা হয়ে থকে তবে তা জাতির জন্য একটা কলংকময় অধ্যায় রচিত হবার পথে স্বদেশ!
বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, সাম্প্রদায়িকতা হৃদয়ে লালন করে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে “রুখে দাঁড়াও” বললেই তাদের রোখা যায় না। এই বিষাক্ত শক্তিকে দমন বা প্রতিহত করতে চাইলে চাই রাজনৈতিক কমিটমেন্ট, যেখানে ভোটের অংক মাথায় রাখলে চলবে না। আর একটা কথা বলা দরকার, সেটা হলো বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। আর সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়ায় গুটিকতক জ্ঞানপাপী বা ধর্ম নিয়ে যাদের কোন জ্ঞান নেই তারাই, যাদের নৃশংসতা, বর্বরতা, হত্যা-খুন আর জ্বালাও-পোড়াওয়ের কারণে দেশের মানুষ আজ দিশেহারা।
মতপ্রকাশকারি ব্লগারদের নয় যারা হত্যা, খুন, জ্বালাও-পোড়াও ও দেশকে নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে তাদের গ্রেফতার করে বিরুদ্ধে এবং সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচার ও শাস্তি প্রদানই পারে বাংলাদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে! ব্লগারদের ছেড়ে দিন, যে উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর কাছে আত্মসমর্পণ করে দেশটাকে পাকিস্তান বা আফগানিস্তান বানানোর এক জঘন্য কৌশলের পথে সরকার হাঁটছে সেই পথ থেকে সরকারকে সরে দাঁড়াতে হবে, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারলেই কেবল আওয়ামী লীগ আগামিতে পুননির্বাচিত হতে পারবে অবলীলায়। কিন্তু জঙ্গিদের সঙ্গে কোন আঁতাত আর যাইহোক আওয়ামী লীগের জন্য কোন সুফল বয়ে আনতে পারবে না কোনদিনও। এই সত্যটা হাসিনা ও তাঁর সরকার এবং এই সরকারের সুবিধাভোগী সুশিল, মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীগং যত দ্রুত অনুধাবন করতে সক্ষম হবে ততই দেশের মঙ্গল।
যারা দেশটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ি ছাড়া করছে, মানূষ হত্যা করছে, পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিচ্ছে, পুলিশের হাতের কবজি উড়িয়ে দিচ্ছে কিংবা মাথা থেতলিয়ে দিচ্ছে তাদের গ্রেফতার করার চেয়ে কী যারা ব্লগ লিখছে তাদের গ্রেফতার করাটাই জরুরি?
এমন এক অরাজক পরিস্থিতিতে কে বাঁচাবে আমার স্বদেশভূমি, মাতৃভূমি বাংলাদেশকে?

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s