Daily Archives: 19/04/2013

পার্থ, মাহী ও তারেকরা চোর: জয় কী গরীব মানুষকে খাওয়ায় নাকি সরকার অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে?

Shahbagh-Bangladeshজাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সরকারের ইচ্ছে বা অভিলাষটা জানা দরকার! একদিকে তারা হেফাজত নামধারী জঙ্গিদের হেফাজত করছে বা তাদের কাছে নতি স্বীকার করছে, অপরদিকে বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছে। এভাবে দুই দিকে পা রেখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই শেষ করবে কখন আর জামাত-শিবিরকেই নিষিদ্ধ করবে কোনদিন? ব্রুটমেজরিটির সরকার থাকার পরও কাকে ভয়, জামাত-শিবির-যুদ্ধাপরাধী- জঙ্গিদের নাকি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে? দেশের সিংহভাগ মানুষই অসাম্প্রদায়িক, শুধুমাত্র ক্ষমতালোভীরাই সাম্প্রদায়িকতার কাছে সন্ত্রাসের কাছে মাথানত করে মতপ্রকাশ (সে মত যতই তীর্যক বা বিপক্ষে যাক না কেন, তাকে ধারণ করে রাজনৈতিকভাবে ভালো ভালো কাজের দ্বারা তাকে প্রতিহত করা যেতে পারে) এর স্বাধীনতাকে খবর্ ও সন্ত্রাসী কায়দায় মিডিয়া দমন করার প্রচেষ্টা যারা করছে তাদেরই আখেরে ক্ষতি হবে, মাহমুদুর রহমান, জামাত-যুদ্ধাপরাধ গংরা ঠিকই লাভবান হবে উল্টোপথে! দেশের সুবিধাভোগী ২০ বা ৩০ ভাগ মানুষের ভেতরে কে চুরি করে না বলুনতো? কেউ কম আর কেউ বেশি, কেউ ১০০ টাকা আবার কেউ ১০০ কোটি টাকা ফারাকটা এটুকুনই! কাজেই শুধু তারেক, মাহী আর পার্থ কেন, ডিজিটাল যুগের জয়রা কী বসে বসে নিরন্ন, বস্ত্রহীন, বাস্তুহারাদের মাঝে দুধ কলা খাওয়াচ্ছে আর তাদের দু:খ ঘোচাতে দরিদ্র মানুষের মাঝে টাকা বিলাচ্ছে?  মহাজোট সরকার কী অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে? কেউ কেউ বলেন জয়ের ওপরই নাকি মনোনয়নজয় নির্ভর করেছে বিগত জাতীয় নির্বাচনে। আর বিনিময়ে কত টাকা হাতিয়েছে “ডিজিটাল ও ফেরেশতা জয়” তার কী কোন হিসাব আছে কারও কাছে? দেশটাকে বাঁচাতে হলে একটা গণবিপ্লব ও পরিবর্তন জরুরি। পরিবর্তন একদিন আসতেই হবে, নইলে আমার স্বদেশ আফগানিস্তান নয়তো পাকিস্তান হয়ে যাবে! সেই দিনটি দেখার আগেই যেন প্রকৃতি আমায় টেনে নেয় আসল ঠিকানায়। দুর্নীতি আর দুবর্ৃত্ত রাজনীতি গোটা রাষ্ট্র ও সমাজ ব‍্যবস্থাটাকেই গ্রাস করে রেখেছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসাটা কঠিন ব‍্যাপার। সেই কঠিন কাজটিই করে চলেছেন দেশে হাজারো, লাখো, মানুষ।  কিন্তু চোরদের চোর বানাচ্ছে কে? দুর্নীতি আর দুবর্ৃত্ত রাজনীতি, নয় কী? আমরাতো সবাই দলবাজিতেই ব‍্যস্ত, হয় এই জোট নয়তো মহাজোট! কাজেই যা হবার তাই হচ্ছে, কিলার ও সন্ত্রাসী ধরা হয় না, খুনির রিমান্ড হয় না, মতপ্রকাশ করলেই বিপদ, কিংবা দুর্নীতি,  সন্ত্রাস ও মানবাধিকার লংঘণের রিপোর্ট করলেই আর যায় কোথায়? আর আমরাতো সবাই ব‍্যস্ত আছি দল আর জোট-মহাজোট নিয়ে, ফলে চোরদের আরও সুবিধা বাড়ে চুরি করায়। পৃথিবীর কোন দেশের মানুষ এত অশোভন ভাষা ব‍্যবহার করে না যেটা আমাদের দেশের কেউ কেউ করছি হরহামেশাই, ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগের জায়গাগুলিতে ঘোরাঘুরি করলেই তা টের পাওয়া যাবে। ভদ্র ভাষাতেই লিখেও দ্বিমত পোষণ বা কারও বিপক্ষে অবস্থান নেয়া যায়। আচ্ছা বলুনতো কোন মিডিয়ার মালিকের ব্যবসাপাতি নেই এবং সেই ব্যবসাপাতির ওপরে হাত পড়ে এমন রিপের্াট কী কেউ করতে পারে? হ্যাঁ, এক মিডিয়া পক্ষ আরেক মিডিয়াপক্ষের বিপক্ষে মাঝেমাঝে ফুসে ওঠে বটে! এটা শুধু একটা ক্ষেত্রের উদাহরণ। এমন অবস্থাটা সবখানেই সব পেশাতেই আছে। কাজেই সমস্যাটাতো রাজনৈতিক, কাঠামো বা পদ্ধতিগত। সেই কাঠামোটাকেই ভেঙ্গে একটা নতুন শক্ত কাঠামো দাঁড় করানো না গেলে কী আমাদের দেশের অন্ধকার ঘুচবে? তবু আমরা অন্ধকার শেষে একদিন ভোরের আলো বাংলার আকাশ-মাটিকে আলোকিত করবে, দূর হবে সব সংকট-এই আশা নিয়েই তো বেঁচে আছি আমরা, দেশের কোটি কোটি মানুষ। ছবি গুগল থেকে নেয়া।