বাংলাদেশে মানবিক বিপর্যয়: অমানবিক রাষ্ট্রযন্ত্র!

Savartragedie

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “পোশাক কারখানা মালিকদের একজন নাকি বলেছেন যেসমস্ত নারীকে গামর্েন্টসগুলিতে কাজের সুযোগ পেয়েছে তাঁরা এই কাজ না পেলে নাকি অনৈতিক কাজ করতে হতো।” এই তথ‍্যটি ফেইসবুকে একজন তার স্টাটাসে লিখে পোশাক মালিকদের ওপর আক্রমণের আহবান জানিয়েছে!  তারই প্রতিক্রিয়া জানাতে নিজের চিন্তাগুলি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করার চেষ্টা করবো এই লেখায়।  কুকুর কামড়ালে কী কুকুরকে মানুষ কামড়াবে? গোটা পোশাক শিল্পটাকেতো এই মা-বোনেরাই বাঁচিয়ে রেখেছে। আর ঔ মালিকরাতো পায়ের ঘাম মাথায় ফেলে দিন রাত কাজ করা সেই মা-বোনদের মজুরি লুট করে নিজেদের আরাম-আয়াশ বাড়ায়, সেই ভন্ডদের কথা শুনে লাভ নেই।

কুকুর কামড়ালে কী কুকুরকে মানুষ কামড়াবে। গোটা পোশাক শিল্পটাকেতো এই মা-বোনেরাই বাঁচিয়ে রেখেছে। আর ঔ মালিকরাতো পায়ের ঘাম মাথায় ফেলে দিন রাত কাজ করা সেই মা-বোনদের মজুরি লুট করে নিজেদের আরাম-আয়াশ বাড়ায়। এই ভন্ডদের কথা শুনে লাভ নেই।  আসলে সবকিছুর পেছনে আছে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি। আর এই দুবর্ৃত্ত রাজনীতিকে টেনে নিয়ে আসছে তথাকথিত দুই দলীয় জোট-মহাজোট।  আর মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নটাকে সামনে এনে আমরা অনেক বিপ্লবীও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একটা জোটকে সমর্থন করে চলেছি। কাজেই কেউই ধুয়া তুলশিপাতা কীনা তা নিয়েও তর্ক আছে! আর দেশে যে একটা প্রকৃতাথর্ে তৃতীয় ধারার রাজনীতি জরুরি, সেই কাজটি এগোচ্ছেনা কেন তার উত্তরও খুঁজি কী আমরা? গণমানুষের মনোকষ্ট, বেদনা আর চাওয়া-পাওয়ায় ভালোবাসার স্পর্শ দোলা দেয়ার মতো গণজাগরণী কমর্সূচী ছাড়া কী বিপ্লব সংঘটিত করা সহজ? আমি বিপ্লবী নই, তবে মানসিকভাবে লড়াকু একজন কমীর্ হিসেবে আমি বুঝি যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, জামায়াত-শিবির, সুদখোর, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, স্বৈরাচার, নারী নির্যাতনকারি, বৈষম্যকারি, মিথ্যাবাদি, বিচার মানি তবে তালগাছ আমার টাইপের মানুষ, সুবিধাবাদি, স্তাবক, জনগণের সম্পদ লুণ্ঠণকারি এরা সকলেই মানুষ, মানবতা আর দেশমাতৃকার শত্রু।
সাধারণ মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়দাতা খালেদা আর স্বৈরাচারকে সাথে নিয়ে ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদনকারি হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট-মহাজোটের অত্যাচার-নিষ্পেষণ থেকে বেরিয়ে এসে মুক্ত আকাশের খোলা বাতাসে প্রাণভরে নি:শ্বাস নেবার জন্য। অথচ কারণে হোক আর অকারণে হোক এই দুই জোট-মহাজোটকে আমাদের অনেক বিপ্লবীও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করে চলেছি নানাভাবে।
মানুষ চান বাঁচার পথ, আশার আলো, বিশুদ্ধ খাবার পানি, পরনের কাপড়, পেটে ভাত, সন্তানের পড়ালেখা, মাথা গুজার ঠাঁই, শ্রমের ন্যায্য মূল্য, স্বাভাবিক মৃতু্যর গ্যারান্টি, কিন্তু তাঁরা চান না অসহিষ্ণু রাজনীতি, মিথ্যাচার ও পরস্পরের ওপর দায় চাপানোর কৌশলী-দুর্বৃত্ত রাজনীতি, মানুষ চান একটা বিশুদ্ধ রাজনীতি। সমাজে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন থাকলে দলীয় পরিচয় গোপন করার জন্য মিথ্যা ভাষণ দিয়ে সোহেল রানাদের পক্ষ নিতে হতো না রাষ্ট্রপ্রধানকে! ইমারত নির্মাণ আইন লংঘণ রার কারণেই কেবল রানা প্লাজা নামের অবৈধ ভবনটি ধ্বসে পড়ে শত শত মানুষকে গণহত্যা করা হয়েছে। দেশে যুদ্ধ নেই, পাক সেনারাও গুলি করেনি, জামাত-শিবিরও পাক সেনাদের সহায়তা করে গণহত্যা করছে না (যেটা করেছিল ওরা একাত্তরে), তাহলে স্বাধীন বাংলায় কেন এই হণহত্যা?
দেশে ৯০ শতাংশ ইমারত ইমারত নির্মাণ আইন মেনে তৈরী হয়নি বলে প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা সংসদে জানিয়েছেন। রানা প্লাজা ভবনটিও অবৈধ, নিয়ম মেনে নির্মিত হয়নি। এসব ভবন যারা অনুমোদন দিলো তাদের শাস্তি বা বিচার করার কোন উদ্যোগ হাসিনা সরকারের আছে কিনা সেব্যাপারে অবশ্য প্রধানমন্ত্রি কিছু বলেননি। সংসদে প্রধানমন্ত্রি আরও জানান, ধ্বসে পড়া ভবনটির মালিক নাকি যুবলীগের কেউ না। অথচ যুবলীগ জানায়, সোহেল রানাকে যুবলীগ থেকে বহিস্কার করা হবে।
আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি বললেন ভবনটি নাকি হরতালকারি বিরোধীরা ঝকাঝকি করে ধ্বসিয়ে দিয়েছে! আবার ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে, যিনি তেমন কিছু ঘটবে না বলে ঘটনার কয়েক ঘন্টা আগে জানিয়েছিলেন যখন ভবনটি হেলে পড়েছিল। এই হলো আমার দেশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি আর দেশের প্রধানমন্ত্রি! একের পর এক হত‍্যাযজ্ঞ ঘটেই চলেছে কিন্তু দায়ীরা শাস্তি পাচ্ছে না। আর গতানুগতিকভাবে রাষ্ট্র নায়করা বলে যাচ্ছেন যারা দায়ি, যে দলেরই হোক কঠোর শাস্তি হবে!
মানুষের আশা জাগে, প্রাণ বাঁচে, মানুষ শান্তিতে ঘুমোতে পারেন, তাঁরা যাতে দু`‌বেলা দু´মুঠো ভাত খেতে পারেন, পাবেন স্বাস্থ্য সেবা,  নিজের র্মযাদা ও সম্পদ রক্ষা করতে পারেন সেরকম কোন রাজনৈতিক র্কমসূচী ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভালোবাসার হাওয়া ছাড়া বাংলার রাজনীতিতে কোন তৃতীয় ধারা কী সৃষ্টি করা সম্ভব?
দ্বিদলীয় পরিবারতান্ত্রিক জোট-মহাজোট ধারার বাইরে তৃতীয় কোন মানবিক রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টি করতে না পারলে (ওই মিথ্যাবাদি ক্ষমতালোভীদের হাতে যারা ক্ষমতার বাইরে থাকলে তত্ত্বাবধায়কের জন্য জিহাদ করে আর ক্ষমতায় থাকলে নিজস্ব মতাবলম্বিদের অধীনে র্নিবাচন করে পুননির্বাচিত হবার লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সভ্য ও গণতান্ত্রিক নয় বলে চিৎকার কর)  সোনার বাংলা জিম্মি হয়েই থাকবে চিরদিন। প্রত্যাশা করি-আমার স্বদেশে একদিন মানুষ, মানবতা, শ্রমিক-মেহনতি জনতার বিজয় হবেই হবে। দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ মানবিক বিপর্যয় ও মানুষের লাশের মিছিল দেখতে  এবং স্বজন হারানো মানুষের আর্তনাদ শুনতে চান না। জনআকাঙ্খা  হলো একটি মানবিক বাংলাদেশের।
উপসংহার: সাভারে চলমান মানবিক বিপর্যয়ে যাঁরা উদ্ধারকাজ এবং যাঁরা চিকিৎসা সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ এবং শ্রদ্ধা জানাই। ছবি ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত।
Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s