বিচার বন্দি অবিচারের হাতে: দুবর্ৃত্ত রাজনীতি জিইয়ে রেখে এমন গণহত্যা বন্ধ করা যাবে না!

BD

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। গরীব পোশাক শ্রমিক মরলে কী শপথ অনুষ্ঠান বন্ধ হয়? না, কখনও না! শতাধিক শ্রমিকের লাশ আর ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে পড়া (মরে গেছেন নাকি বেঁচে আছেন জানি না, আশা করি তাঁরা সবাই যেন বেঁচে থাকেন) শত শত শ্রমিকের আর্তনাদ মাড়িয়ে নয়া রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান শেষ হলো। এই কামটি আজ না হলে হয়তো বিরোধিরা রাষ্ট্রপতির পদটি কেড়ে নিতো তাই তর সয়নি! সরকার আবারও গতানুগতিক শোক ঘোষণা করেছে, যে কাজটাতে খুব পারর্দশী সরকার! মানুষতো শোক চান না, চান স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার আর ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা। বাহবা নেয়ার জন্য শোক প্রকাশ করে লাভ কী? পোশাকখাতের শ্রমিকদের যারা গণহত্যায় জড়িত, যেসব মালিক শ্রমিকের রক্ত চুষছে করাতের ন্যায় (জীবনে কেড়ে নিয়ে এবং ন্যায্য মজুরি না দিয়ে) সেইসব অমানুষদের শাস্তি হচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নটির উত্তর কী দেবেন আমাদের রাষ্ট্রনায়কেরা? নাকি মখারা বিরোধী ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে নিজের অযোগ্যতা আর বালখিল্যতার প্রকাশ ঘটাবেন?

চার/পাঁচ বছর আগে নির্মিত ভবনটির মালিক যুদ্ধাপরাধীও নন, জামাত-শিবিরও নন, মাহমুদুর রহমানও নন, খোদ সরকারি দলের যুবসংগঠনের নেতা! বারবার, শতবার ভবন ধ্বস, পোশাক কারখানায় আগুন, এভাবে মারা যাচ্ছেন শত হাজারো মানুষ। তাতে কার কী, মালিকপক্ষ আর দুবর্ৃত্ত রাজনীতি ঠিক থাকলেই সব স্বাভাবিক? অবিচারের হাতে বিচার আজ বন্দি। কাঁদে মানুষ, কষ্টে স্বদেশ। হাসে হিংসুক-লুটেরা। মজা মারে ক্ষমতাবানরা। বিপর্যস্ত মানবতা!

ভবনটি হেলে পড়েছিল একদিন আগে। প্রশাসন ভবনটিতে কাজ না চালানোর নির্দেশনাও দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের যুবসংগঠনের নেতা ভবনটির মালিক। অভিযোগ উঠেছে, একজন ধর্মীয় সংখ্যালঘু রবীন্দ্রনাথের জায়গা দখল করে সোহেল রানা এই ভবন বানিয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মালিক জোর করে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে। মিডিয়াগুলি বলছে ভবনটির ভেতরে চারটি পোশাক কারখানায় কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করছিল। এখন র্পযন্ত ১৩৮টি লাশ মিলেছে। প্রায় হাজারখানেক শ্রমিক আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। এই ভবন ধ্বসের ঘটনা নতুন নয়। সেখানে এমন আরও অসংখ্য ট্রাজেডি ঘটেছে। এর আগে তাজরীন ফ্যাশনেও শতাধিক শ্রমিক নিহত হন। মালিকের কিছুই হয়নি। এ কী কেবল অবহেলা-দায়িত্বহীনতা, না এটি একটি পরিকল্পিত গণহত্যা। রানা প্লাজা নামের এই ভবনটি নিমর্াণে ভবন নির্মাণ আইনও মানা হয়নি। ছয়তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে বানানো হয় দশতলা!

স্বদেশে জবাব দেয়ার কেউ নেই যারা আছেন ক্ষমতার নেশায় বিভোর তারা। আর মা-বোন আর ভাইদের লাশের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে নিরন্তর! জীবন নিয়ে ওদের এমন নির্মম-নৃশংস খেলা বন্ধ হবে না কোনদিনও যতদিন না দেশের দুবর্ৃত্ত রাজনীতির কবর রচিত হয়? নইলে বন্ধ হবে না মানুষের কান্না, বাড়বে লাশ আর আতর্নাদ-আহাজারি!  ছবি>মানবজমিন থেকে নেয়া।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s