Daily Archives: 28/04/2013

খুনির জন্য হেলিকপ্টার আর পোশাক শ্রমিকের জন্য মৃত্যু!

slektninger-savar tragedie

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। রানাকে কী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে বেনাপোলে নিয়ে গিয়ে আবার একটি ছোট্র নাটক সাজানো হলো বিশ্ববাসির কাছে সরকারের মুখ রক্ষায়? নইলে কেন হেলিকপ্টার নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করতে হবে? যশোরে কী পুলিশ, রেব নেই? হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আবারো গরীব জনগণের টাকাই খরচ করলো সরকার এই খুনি, মুনাফালোভী রানার পেছনে!
সবাই জানি, দেশবাসির কাছে পরিস্কার রানা গ্রেফতারে সরকার আরেক নতুন নাটক সাজালো। না, স্বেচ্ছায় এই নাটকের মঞ্চায়ন হয়নি। আন্তর্জাতিক চাপে সরকার এমনটা করতে বাধ্য হলো। নইলে মুখ রক্ষা হয় না আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে। তাইতো রানা যুবলীগের কেউ নয় তা প্রমাণের ব্যর্থ প্রচেষ্টার মহড়া হয়ে গেলো খোদ সংসদে। দেশের একটি মানুষও এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাননি, এটা হলফ করেই বলা যায়।
এটা এখন ওপেন সিক্রেট যে নানাভাবে রানার কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। যিনি ধর্মীয় সংখ্যালঘু রবীন্দ্রনাথের জমি দখল করে অবৈধ রানা প্লাজা নির্মাণ করেছিলেন। যে রানা সন্ত্রাসের রাজা। যার হাত গরীব মানুষ মারায় সিদ্ধহস্ত। যার পরিকল্পিত চাপে এবং লোভের কারণে আজ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারি দেশের পোশাক শিল্পের বারোটা বাজার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় চারশত নিরীহ শ্রমিক নিহত, প্রায় তিন হাজার গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও কত শত জন রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে আছেন কে জানে?
এতবড় একজন ক্রিমিনালকে ঘটনার পরপরই গ্রেফতার করার উদ্যোগ না নিয়ে সরকারদলীয় একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য তাকে বাঁচানোর প্রথম পদক্ষেপ নিলেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি বললেন ভবনটি নাকি মানুষের ঝাঁকুনির কারণে ধ্বসে পড়েছে। সর্বশেষে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রি সংসদে হাতে করে নিয়ে গেলেন যুবলীগের কমিটি। তিনি বললেন রানার নাম নেই যুবলীগের কমিটিতে। ব্যাপারটি এমন দাঁড়ালো যে রানা যুবলীগের না তা প্রমাণ করতে পারলেই সরকারের দায়ভারটা কমে যাবে!
ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে হাবুডুবু খাওয়া সাভারের ধ্বংসস্তূপে যখন স্যালাইন, অক্সিজেন, উদ্ধারযন্ত্রের অপ্রতুলতা তখন সরকার কোন হেলিকপ্টার বরাদ্দ করেনি, কিংবা ঘটনাস্থলের আশপাশে কোন অস্থায়ী হাসপাতালও চালু করেনি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এনাম মেডিক্যাল মানবতার টানে এগিয়ে এলো, ডাচ-বাংলা ব্যাংক সাহায্যের হাত বাড়ালো, সরকারি কোন এমপি, মন্ত্রি, কোটিপতি বা পোশাক কারখানার কোন মালিক হতে পারলো না ডাচ-বাংলা বা এনাম মেডিক্যালের মতো দরদি, মানবিক! সাধারণ মানুষ ঝাপিয়ে পড়লেন রানা প্লাজার নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের জন্য। অথচ একজন খুনিকে গ্রেফতার নাটক সাজাতে গিয়ে সরকার জনগণের কষ্টের টাকা বিনিয়োগ করে হেলিকপ্টার ব্যবহার করলো কোন স্বার্থে? সরকার কী বোঝাতে চাইছে যে হাজার অপরাধী হলেও রানাতো আমাদেরই লোক, যুবলীগের নেতা?

সরকার যতই নাটক সাজানোর চেষ্টা করুক না কেন, দেশের মানুষ তা বিশ্বাস করবেন না। একজন খুনির জন্য সরকার জনগণের টাকার শ্রাদ্ধ করে হেলিকপ্টার ব্যবহার করলো, আর পোশাক শ্রমিকদের জন্য কী? পোশাক কারখানার খুনি মালিককে যশোর থেকে আনার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। আর দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা পোশাক শ্রমিকদের জন্য কী ভবন ধ্বস ও আগুনে পুড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা এবং নিহত লাশপ্রতি মাত্র ২০ হাজার টাকার ভিক্ষা? কেন এই বৈষম্য, কার স্বার্থে?

সরকার বোধহয় মনে করে যে রানা একজন ভিআপি আসামি! তাই তাকে নতুন বোতলে ইনটেক্ট করা মিনারেল ওয়াটার খাওয়ায়ে দিচ্ছে। অথচ পোশাক শ্রমিকদের জন্য গরীব সাধারণ মানুষগুলি স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে মানবতার হাত বাড়িয়ে খাবার ও পানি সরবরাহ করছেন। এই হলো ধনিক শ্রেণীর পুঁজিবাদি রাষ্ট্র ব্যবস্থা! নির্যাতিত, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের যন্ত্রণা আর কষ্টের অভিশাপে একদিন এই ধনিক-বণিক লুটেরা রাষ্ট্র ব্যবস্থা ধ্বসে পড়বে! সেইদিন আর বেশি দূরে নয়।  ছবি-গুগল থেকে সংগৃহীত।