Monthly Archives: মে 2013

কী হবে মানুষের স্বপ্ন, মানবতা আর জীবনের জয়গানের?

Jahangir Akash

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। “দুস্থ সাংবাদিক বনাম দোস্ত সাংবাদিক” শিরোনামের একটি আলোচনা-সমালোচনা চলছে ফেইসবুকে। সেখানেও আমিও আমার প্রতিক্রিয়া জানানোর চেষ্টা করছি। পরিচিতি কিন্তু আমাকে বাঁচাতে পারেনি, দু:দর্িনে পাশে ক’জনকেই বা পেয়েছি আমি সেই পুরনো কথাবাতর্া না তোলাই ভালো। আমি কিন্তু আমার কথা থেকে সরে আসতে পারবো না। এইরকম দলবাজি বা দলের পক্ষে থেকে সাংবাদিকতা করতে পারলে হয়ত ভালোই হতো, দেশের মাটি, জল, হাওয়া আর ভালোবাসায় ডুবে থাকার মজাই আলাদা। বিপদে পড়লে কেউ পাশে থাকে না, আপা। বিপদ কখনও আসেও না যদি না বিচার বহিভর্ূত মার্ডার বা ক্ষমতাবান রাজনীতিকদের মুখোশ উন্মোচন করার মতো কোন রিপোর্ট এড়িয়ে যাওয়ার কৌশলটা রপ্ত করা যায়! যাইহোক এটা আমার মত, আপনি একমত হবেন এটা আশা করি না। তবে আপনার কেন সবার মতকে শ্রদ্ধা করি আমি সবসময়ই। আমি কুন্তু বলিনি সবাই খারাপ, ব‍্যতিক্রমতো আছেই। আর শুধু কী রাজনীতি, মিডিয়ারতো আছে নিজ নিজ ব‍্যবসাপাতিও। সবমিলিয়েই সেলফসেন্সর, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, ক্ষমতাবানদের দাপটের ভীড়ে সুবিধাবাদই বিজয়ী হয়। এতে অন্ত:ত আমার কোন সংশয় নেই। দেশের রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন হবে, মানুষ মুক্তি পাবেন, মিডিয়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, পোশাক শ্রমক কেন সব শ্রমেরই ন‍্যায‍্য মজুরি, বেতন-ভাতা মিলবে, বন্ধ হবে মরণব‍্যধি দুর্নীতি এসবইতো আপনি, আমি আমরা সবাই চাই, তাই না? স্বদেশ ভালো থাকলে দূর থেকেও আনন্দটা ভাগ করে নেয়ার সুযোগটাতো থাকেই হাতে! সৎ বা সততা এটাও আপেক্ষিক! আয় আর ব্যয়ের অংকটার মধ্যে ফারাকটা চোখে দেখা যায়। সুতরাং সততা ও সৎ এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। ২০ বছরের সাংবাদিকতা জীবন কম নয়। এই সময়ে বহু ঘাত-প্রতিঘাত, জানা-অজানা, ভালো-মন্দ, সাধু-শয়তানির অনেক খেলাই নিজ চোখে দেখার সুযোগটা হয়েছে। কাছে থেকে দেখেছি অনেক বড় বড় সাংবাদিক, সম্পাদককে। সাংবাদিক সংগঠনের ছোট দায়িত্ব পালন করারও সুযোগ হয়েছিল আমার জীবনে। কাজেই এসব দিকে আর দৃষ্টি নিতে চাই না। তবে ধর্মচর্চা মানে যেমন জঙ্গিবাদকে সমর্থন বা ভাংচুর-জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা-নির্যাতন (ধর্ম এসব সমর্থন করে না) তেমনি প্রগতিশীলতা মানে মিথ্যাচার কিংবা হাসিনা ও খালেদার দলের পক্ষাবলম্বনসমৃদ্ধ সাংবাদিকতা করে নানান সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেয়া নয়। প্রগতিশীল সাংবাদিকতা বলতে জনসাংবাদিকতা, মানুষের সংগ্রাম, সংহতি, সম্প্রীতি, জীবনকে তুলে ধরাকে বুঝি। আর যারা তুলানিতে থেকে জীবন বাজি রেখে মানুষের তথ্য জানার অধিকারকে সমৃদ্ধ করার সংগ্রামে অবতীর্ণ তাদের ওপর পাড়া দিয়ে উপরতলার নেতৃত্ব কিভাবে নিজেদের আখের গোছানোর কাজটা সুচতুরভাবে করে থাকে তাও বুঝতে কোন গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না। আসল কথা হলো একটা সমাজে যখন আইনের শাসনের বালাই থাকে না, কিংবা বাস্তবে যখন গণতন্ত্রের কোন চর্চার নমুনা অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না তখন অন্যসব স্বাধীনতার আকাঙ্খা অমূলক! কোন আমলে রাজনীতির দুর্বৃত্তশ্রেণী ছাড়া মানুষ ভালো ছিলেন আমাদের বাংলায় সেটা আমার জানা নেই। তবে ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, হত্যা-নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি, অন্যায়-অরাজকতা, অন্যায্যতা, বৈষম্যের বিপক্ষে থাকলেই মানুষ, মানবতা ও জীবনের পক্ষে থাকা হয়। আবারও বলবো একটা সমাজ বা রাষ্ট্রে আইনের শাসন যখন কার্যকর থাকে, রাষ্ট্রের সব অঙ্গ বা প্রতিষ্ঠানগুলি যখন স্বাধীনভাবে চলতে পারে তখন সেই সমাজে বা রাষ্ট্রে অন্যসব সংকট মোকাবেলা করা যায়। কিন্তু আইনের শাসনহীনতা, গণতন্ত্রহীনতা জিইয়ে রেখে জোরজবরদস্তি করে হত্যা-নির্যাতনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ, হেফাজতনামধারী শয়তানবাদ কিংবা যুদ্ধাপরাধ-রাজাকারমুক্ত করা সহজ নয়, মুখে যতই স্লোগান তুলি না কেন, সেখানে ভবন ধ্বসে পড়বেই, পোশাকশ্রমিক মরবেই, সাংবাদিক মার খাবেই, বিনাবিচারে হত্যা-গুম চলবেই, দুর্নীতি থামবে না, জামা-শিবিরের রগকাটা অব্যাহত রবে আরও অন্য সব মানুষের অমর্যাদাকর কর্মগুলি চলতেই থাকবে, ভুলুন্ঠিত হবে মানুষের স্বপ্ন, মানবতা আর জীবনের জয়গান।

বিজিএমইএর মিথ্যাচার ও রেশমার জীবিত উদ্ধার!

Reshma

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। রেশমা, দিনাজপুরের মেয়ে। টানা ১৭ দিন রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের সঙ্গে লড়াই করেছেন। শেষপর্যন্ত উদ্ধাকর্মীরা তাঁকে জীবীত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। জীবনযুদ্ধে রেশমার বিজয়। নি:সন্দেহে আনন্দের খবর এটি। বিশেষ:ত রেশমার পরিবারের কাছে এই রেশমার জীবীত উদ্ধারখবরটি মহা আনন্দের।
নির্মাণ ক্রটি, অনিয়ম ও ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত লোড নেয়ার কারণে ২৪ এপ্রিল ধ্বসে পড়ে রানা প্লাজা। এই প্লাজার ভেতরে ছিল পাঁচটি পোশাক কারখানা। কারখানাগুলিতে পাঁচ হাজারের মতো পোশাককর্মী কাজ করছিলেন। আগেরদিন ভবনটিতে ফাটল ধরার পরও পরদিন মালিকপক্ষ শ্রমিকদের জোর করে কারখানায় প্রবেশ করায়। এরপর ভবনটি ধ্বসে পড়ে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১১০০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আহতের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। আর ঘটনার ১৭ দিন পর জীবীত উদ্ধার হলেন রেশমা।
বাংলাদেশে যখনই পোশাক কারখানায় আগুন লাগে, কিংবা ভবন ধ্বসে পড়ে তখনই একটা আওয়াজ ওঠে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা নিয়ে। সেই আওয়াজের উদ্যোক্তা মূলত: পোশাক কারখানাগুলির সংগঠন বিজিএমইএ এবং সরকার। বিজিএমইএ আজ পর্যন্ত কোন ঘটনায় সত্য কথা বলেছে বলে আমার জানা নেই। তারা সবসময় শ্রমিক সংখ্যা কম দেখানোর চেষ্টা করে থাকে। এবারও রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। তারা বলেছিল পাঁচটি কারখানায় তিন হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করতো। এখন দেখা যাচ্ছে তারা মিথ্যা তথ্য জানিয়েছে দেশবাসিকে। সরকারও বিজিএমইএর পক্ষেই সাফাই গেয়ে থাকে। এবারও তেমনটিই ঘটেছে। কিন্তু বাস্তবতা সরকার ও বিজিএমইএর বক্তব্যকে সবসময় মিথ্যা বলে পরিগণিত করেছে। এবারও তাই ঘটলো।
রেশমা প্রসঙ্গে ফিরতে চাই। ফেইসবুক ও ব্লগে রেশমার উদ্ধার নিয়েঝড় উঠেছে। বাংলাদেশে কোন ঘটনা ঘটলেই ফেইসবুক ও ব্লগে এমন ঝড় তোলা হয়, এ আর নতুন কিছু নয়। কেউ কেউ এই রেশমার জীবিত উদ্ধার হওয়ার সঙ্গে সম্মিলিত মানুষের বেঁচে থাকার কথা বলছে। আমি বলবো, প্রায় ১১০০ জনকে কিন্তু বাঁচানো যায়নি! লোভী পোশাক কারখানা মালিক, দুষ্ট রাজনৈতিক চক্র আর টাকাওয়ালাদের রক্ষাকবচ রাষ্ট্রযন্ত্র কিন্তু বদলায়নি, তার আশু পরিবর্তন হবে বলে কোন ভরসা বা আস্থার জন্ম নেয়নি। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। একজন রেশমার জীবন বাঁচলো বটে, তবে উচ্ছ্বসিত নই আমি অন্ত:ত যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজ, রাষ্ট্র ব‍্যবস্থাটার চরিত্রগত কোন পরিবর্তন না ঘটে ততক্ষণ!
পরিশেষে সাভার ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় অংশ নেয়া সকল উদ্ধারকর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করছি। জয় হোক মানুষ ও মানবতার। ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত।

অভিযান নিয়ে ধুম্রজাল।। হেফাজতে ইসলাম নাকি হেফাজতে শয়তান?

BD

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আমি বলবো হেফাজতে ইসলাম মূলত: হেফাজতে শয়তান এবং তারা ইসলামের শত্রু, অন্ত:ত তাদের জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর, লুট, হত্যা এবং ব্লাশফেমী আইন বাস্তবায়নসহ মধ্যযুগীয় ১৩ দফা দাবিই তার বড় প্রমাণ। অপরদিকে জামাত-শিবিরতো যুদ্ধাপরাধীর দল। আর বিএনপি সেই যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেই বা তাদের সঙ্গে নিয়েই রাজনীতিতে ক্রিয়াশীল। জামাত-শিবির, হেফাজত গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান যারা মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে তাদেরকে মৃত্যুমুখে ফেলে রেখে সব নিজের জান বাঁচানোর জন্য পালিয়ে গেছে। এই জঙ্গিবাদি তথাকথিত মোল্লারা দেশটাকে পিছিয়ে নিতে চায়, তারা স্বাধীন ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ পছন্দ করেনা। বরং ওদের ভালো লাগে পাকিস্তান! তাই তারা মুজাহিদ ও তালেবান হবার জন্য প্রায়শ:ই স্লোগান তুলে রাজপথে। এসবই সত্য।
এই হেফাজতি, বাংলাদেশ ও মানবতাবিরোধীরা গতকাল রাজধানী ঢাকাজুড়ে নারকীয় তান্ডবলীলা চালায়। সিপিবি ভবনে আগুন দেয়, ওরা ছোট ছোট দোকানদার হকার, ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন, সম্বল ধ্বংস করে ফেলে, স্বর্ণালংকার লুট করে, কোরান পুড়িয়ে দেয়। সরকারের নতজানুতাই হেফাজতিদের এই তান্ডবলীলার পালে ধীরে ধীরে হাওয়া লাগায়। এতেও আমার কোন সন্দেহ নেই। “আমি অধম তাই বলে তুমি কেন উত্তম হবে না, অন্যভাবে বলা যায়, তুমি অধম তাই বলে আমি উত্তম হবো না কেন?” অনলাইন মিডিয়া বিডিনিউজ২৪সহ অধিকাংশ গণমাধ্যমে ব্রেকিং খবর হিসেবে প্রচার/প্রকাশ করা হয় যে, রাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান, বিজিবি ও পুলিশের ১০ হাজার সদস্যের সম্মিলিত দল হেফাজতিদের শাপলা চত্বর থেকে সরানোর অভিযানে নামে। মিডিয়ার খবরে বলা হলো যে, অভিযান দল তিন দিক থেকে ঘিরে হেফাজতিদের বিরুদ্ধে গুলি করতে করতে শাপলা চত্বরের দিকে এগুচ্ছে। এও বলা হলো যে, মধ্যরাতের এই সাঁড়াশি অভিযানে মাত্র দশমিনিটেই শাপলাচত্বর হেফাজতমুক্ত! চ্যানেল একাত্তরে মডারেটর নবনীতার সঞ্চালনায় কিছুক্ষণ আগে “জার্নাল” নামে একটি টকশো দেখছিলাম। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে থাকা দুই সাংবাদিক প্রথম আলোর কামরুল হাসান ও একাত্তরের পারভেজ তাঁদের অভিযান সংক্রান্ত বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছিলেন। বুদ্ধিমান মডারেটর এই দুই সাংবাদিকের দেয়া নিহতের সংখ্যা বিষয়ক দেয়া তথ্যে গরমিল ধরে ফেলেন। এরপরই তিনি প্রশ্ন করেন সাংবাদিকদ্বয়কে নিহতের সংখ্যা দুইজনের সঙ্গে কেন অমিল হচ্ছে? যাহোক সরকার ইতোমধ্যে জামাতের মালিকানাধীন দুইটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে শর্ত লংঘণের অভিযোগে। বিগত বিএনপি-জামাত আমলে তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগে জনপ্রিয় টেরিস্টোরিয়ালসুবিধাপ্রাপ্ত টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই তথ্যও সবার জানা। ফখরুদ্দীন-মঈনের সেনা শাসনকালে বিএনপি নেতা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক সালাহউদ্দীন কাদের চৌধুরীর ২৪ ঘন্টার নিউজ চ্যানেলও বন্ধ করেছিল প্রায় একই অভিযোগে। আর বর্তমান মহাজোট সরকার বন্ধ করে আরেকটি টিভি চ্যানেল ওয়ান। কিছুদিন আগে বিরোধীদল সমর্থিত আমার দেশ এর প্রকাশনাও বন্ধ করে দেয় এই সরকার। তথাকথিতই বলি আর আসলই বলি এই পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক উত্তরা ষড়যন্ত্রের অন্যতম অনুঘটক মাহমুদুর রহমান এখনও জেলে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ ঘরে নৃশংসভাবে নিহত সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর ও রুনির হত্যার বিচার প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত সাংবাদিক সমাজ কিছুটা কাছাকাছি এসেছিল। ঘোষণাও দেয়া হয়েছিল সাংবাদি সমাজ এক হবে, হচ্ছে, হয়ে যাবে বলে। কিন্তু শেষ র্পযন্ত রাজনৈতিক পরিচয়ই বড় হয়ে দেখা দিলো। তাই সাংবাদিকরা আবারও রেললাইন হয়ে গেলেন! আমি অনেক আগেই লিখেছিলাম যে আমার স্বদেশের সাংবাদিক সমাজ এক হতে পারবে না, কারণ তারা রেললাইন হয়ে থাকতেই পছন্দ করে। নইলেতো হাসিনাপ্রিয় বা আওয়ামী লীগপ্রিয় কিংবা খালেদাপ্রিয় বা বিএনপিপ্রিয় হয়ে ওঠা যাবে না। পেশা, পেশাগত মর্যাদা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এই বিষয়গুলিতো খালেদা, হাসিনা বলে ছাড় দেয়ার কথা নয়, তবুও রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বনই সাংবাদিকতার প্রধান উপজীব্য হয়ে যায়। এরমধ্যেও অনেকেই আছেন যারা নিরপেক্ষভাবে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে উড্ডীন রাখার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেই আশা বেঁচে আছে আমার। হেফাজতবিরোধী অভিযান নিয়ে লিখতে গিয়ে প্রসঙ্গের দেয়ালটা টপকে ফেলেছি। যাহোক লেখার মূল বিষযবস্তুর দিকে আসা দরকার। আমার ধারণা সরকার হেফাজতিদের বিরুদ্ধে যে অভিযান চালিয়েছে তাতে হেফাজতি, জামাতি আর তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রাজনৈতিক দলটি যে দলটির জন্ম সেনাছাউনির ভেতর দিয়ে তারা ছাড়া দেশের অধিকাংশ মানুষই খুশি! অন্ত:ত অভযানটিকে যেভাবে মিডিয়া ও সাংবাদিকরা দেশ ও বিশ্ববাসির কাছে তুলে এনেছে বা তুলে ধরেছে সেটা যদি সত্যিই ঘটে থাকে বাস্তবে, তবে সরকার ও অভিযান পিরচালনার সাথে জড়িত সকলকেই ধন্যবাদ জানাতে কারোই কার্পণ্য থাকার কথা নয়, আমারও নেই। আর এই ফ্যাসিষ্ট, ধর্মব্যবসায়ী হেফাজত-জামাত-যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করা মানেইতো বাংলা, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ৩০ লাখ শহীদ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি সবকিছুর সাথেই বেঈমানি করা হয়, অসম্মান করা হয় একটি দেশের লড়াকু মুক্তি সেনা ও স্বাধীনতার সংগ্রামকে। প্যারামিলিটারি বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ গুলি করতে করতে গেলো আর মানুষ মরলো নয়জন, এটা কী বিশ্বাস করার মতো? যারা জ্বালাও-পোড়াও, পুলিশ হত্যা, বিজিবিসদস্য হত্যা, মানুষ হত্যা, মানুষের জানমালের ক্ষতি করে তাদের ছাড় দেয়ার কথা কী কেউ বলতে পারে? আর ছাড় না দেয়ার অর্থ কী গুলি করে মারা? প্রশ্ন হলো সরকার হেফাজতকে ঢাকা অবরোধের মতো কর্মসূচী পর্যন্ত আসতে দিলো কেন? অসাম্প্রদায়িক বলে দাবিদার এই সরকার কেন গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙ্গে দেয়? এটা কী হেফাজতিদের কাছে একধরণের আত্মসমর্পণ নয়? সত্য যত কঠিনই হোক, যতই নৃশংস, নির্মম, বর্বর ও ভয়াবহ হোক আমরা সত্য জানতে চাই। কী ঘটেছে, কারা মারা গেছে, কার কত টাকার সম্পদ লুঠ হলো, ফুটপাতের হকার ও ছোট ছোট ব্যবসায়িগুলির পরিবার এখন কিভাবে চলবে সবকিছুই মানুষের জানার অধিকারের মধ্যেই পড়ে। আর মাদ্রাসার দরিদ্র ছাত্রদের যেসব কথিত আল্লামা বা মওলানারা জোর করে কিংবা নির্দেশ দিয়ে বাধ্য করলো শাপলা চত্বরে আসতে সেইসব শফিদের গ্রেফতার না করে জামাই আদরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার মানে কী? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর গুলিতে যদি একজন, একশজন, এক হাজার বা তারও বেশি মানুষ হতাহত হয় তার সঠিক হিসাব প্রকাশ করে সরকার প্রেসনোট দিতে পারে। এতে ভয়ের কী আছে? ঝকাঝকিতে ভবন ধ্বস কিংবা সাভার গণহত্যা কোন বড় ব্যাপা র না, মন্ত্রিদের এমন উল্টা-পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসি যেভাবে বিভ্রান্ত হন মাঝেমধ্যে, তারচেয়ে প্রেসনোট দিয়ে ঘটনার পূর্বাপর ব্যাখ্যা প্রদান করে সত্য প্রকাশই শ্রেয়। লেখার শেষ প্যারাগ্যারাফে বলবো, শাপলাচত্বর অভিযান বিষয়ে মিডিয়া ও সরকারের বক্তব্যের মধ্যে যে সম্মিলন দেখতে পাচ্ছি আমরা তাতে একটা বিষয় বলা যায় যে, অভিযান পরিচালনাকারিরা অন্ধকারে বৃষ্টির মতো গুলি চালালেও মানুষ হতাহতের ক্ষতি তেমন ঘটেনি। যেখানে বিনাবিচারে মানুষকে প্রকাশ্যে হত্যা, রাজনীতিবিদ গুম হয়ে যায়, লিমনরা পঙ্গু হন, সাংবাদিক মাসুমরা নির্যাতিত হন সেখানে এতোবড় অভিযানে “মহান” ভূমিকা পালনকারি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিনন্দন জানাতেই হবে, ধন্যবাদ। কিন্তু প্রশ্নটা জাগলো তখন, যখন হেফাজত ও জামাতকে সমর্থনকারি দুইটি টিভি চ্যানেলকে সরকার বন্ধ করে দিলো। তাহলে কী অন্যসব মিডিয়া সরকারের “কবজাগত” হয়ে হতাহতের পরিসংখ্যান বিষয়ে এড়িয়ে যেতে চাইছে, নাকি বন্ধ করে দেয়া চ্যানেল দু`‌টির কাছে অন্য কোন ভিডিও ফুটেজ ছিল? যা প্রচার হলে সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা উঠবে ভেবে সরকার বিরোধীমতের ওপর “ছুরি” চালালো? কোনটা সত্য, এতোদূর থেকে সেটা বলা কঠিন। সরকার কী তবে জামাত-হেফাজতিদের টিভি চ্যানেল দু`‌টিকেই ভয় পাচ্ছিল, তাই তা বন্ধ করে দিলো? হেফাজত কী সত্যি সত্যি দমন হয়ে গেছে, নাকি এখন তারা সারাদেশেই ভাংচুর, আগুন লাগাচ্ছে না? এই ধর্মান্ধ উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী আর কোন পুলিশ হত্যা, বিজিবি হত্যা করবে না, মানুষ মারবে না, আগুন লাগাবে না, ভাংচুর-লুটতরাজ করবে না, তার কী নিশ্চয়তা দেশবাসি পেয়েছেন সরকারের কাছ থেকে?আবারও বলি, সত্য যত কঠিনই হোক তবুও সত্যটাই জানার আকুলতা। সত্য কখনও পরাজিত হয় না। বিপদ আসবে, সংকট থাকবে এরই মধ্যে সত্য প্রকাশিত হবে আপন রুপেই। আমরা অনেকেই বিশ্বাস করি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার সুবিধাপ্রাপ্ত জেনারেল জিয়া, আর জেনারেল জিয়াউর রহমান হত্যার সুবিধাপ্রাপ্ত হলেন জেনারেল হু. মু. এরশাদ। কাজেই আবেগ দিয়ে নয়, কথার ফুলঝুরি নয়, সত্যিকার অর্থেই  জঙ্গিপনার হাত থেকে বাংলাদেশ, আমার স্বদেশ ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত সোনার বাংলাদেশকে বাঁচাতেই হবে। কোন কিছু বন্ধ করে দিয়ে, কাউকে নির্যাতন করে নয় সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ বাঁচানো যাবে, অন্যভাবে নয়! ছবি-নিউজ এইজ থেকে নেয়া।

হেফাজতকে নিয়ে একজনের উস্কানি অন্যজনের বশচেষ্টা, জ্বলছে স্বদেশ!

hefajotesdemostasjon

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আমার স্বদেশ, বাংলাদেশ পুড়ছে এখন! হেফাজতকর্মীরা আক্রমণাত্ত্বক ভূমিকায়। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে চলছে ভাংচুর, আগুন দেয়া ও লুটপাট। হেফাজতকর্মীরা পল্টনে মুক্তিভবন ও সিপিবি কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। দেশজুড়ে এক চরম নিরাপত্তাহীনতা, উদ্বেগ ও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রধান বিরোধীদল বিএনপির সমথর্ন হেফাজতের প্রতি। আর যুদ্ধাপরাধী দল জামাততো হেফাজত সেজেই যুদ্ধাপরাধবিচার বানচাল করতে চায়! মাত্র একদিন আগে প্রধানমন্ত্রি সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফার ১২ দফা পড়ে এবং তার অধিকাংশই পূরণ করা হয়েছে বলে পরোক্ষভাবে হেফাজতকেই হেফাজত করতে চাইছিলেন। যদি হেফাজতের ১৩ দফা পূরণ করা হয় তবে বাংলাদেশ ফিরবে মধ্যযুগে। আমি উদ্বিঘ্ন এজন্যে যে আমার স্বদেশ হয়ত পরবতীর্ আফগানিস্তান হতে চলেছে পরিকল্পিতভাবে! আমরা যারা উদার অসাম্প্রদায়িক মানুষ তারা এটা মানতে পারছি না, কখনও মানতে পারবো না।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি বলেছেন জামাত-শিবিরের কর্মীরা হেফাজতের ভেতরে ঢুকে পড়ে নাশকতা চালাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রির কাছে আমার প্রশ্ন, তাহলে কী হেফাজত ভালো? প্রধানমন্ত্রি হেফাজতের ১৩ দফার মধ্যে ১২ দফা পড়ে শোনালেন সংবাদ সম্মেলন করে। তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন যে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার হেফাতের সঙ্গেই আছে, কারণ তাদের সরকার সংবিধানে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করেনি! অন্যদিকে খালেদা নির্দেশ দিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরকে হেফাজতকে হেফাজত করার!
খালেদা ও হাসিনা দুইজনের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা উভয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হেফাজতকে রক্ষা বা হেফাজত করতে চাইছেন নাতো? একটা কথা মনে রাখবেন মধ্যযুগীয় ১৩ দফা মেনে নিলে আপনারা কেউই রাজনীতিতে থাকতে পারবেন না, নারীদের বোরখা পরে ঘুরতে হবে নতুবা ঘরের মধ্যে বন্দি থাকতে হবে। এখানেই শেষ নয় ১৩ দফা মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও সংবিধানপরিপন্থি। হেফাজতের ১৩ দফা বাংলার নারীমুক্তির অগ্রযাত্রার বুকে কুঠারাঘাত। আরেকটি প্রশ্ন করি আপনাদের। হেফাজত কী ইসলামকে হেফাজত করতে চায়, নাকী নারীকে বন্দি করতে চায় ঘরে? আগুন দেয়া, ভাংচুর, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান জ্বালিয়ে দেয়া, মানুষ হত্যা, মিথ্যা বলা এগুলি কী ইসলাম সমর্থন করে?
সময় থাকতে আপনারা (হ্যাঁ, আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রি উভয় নেত্রীকে বলছি) সাবধান হোন, নইলে দেশটা যদি আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তান বানিয়ে বানিয়ে নিতে পারে জঙ্গি, ধর্মান্ধরা তাহলে কিন্তু কারোই ক্ষমতাস্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না!
এদিকে সাভার গণহত্যার তালিকা বাড়ছে, এখন পর্যন্ত ৬৩০ জন পোশাক শ্রমিকের লাশ উদ্দার হয়েছে। সেখানে হাজার হাজার মানুষ আহত হলেন, পঙ্গু (প্রতিবন্ধি) হয়ে গেলেন শত শত পোশাক শ্রমিক। নিখোঁজ এখনও কয়েকশ মানুষ। এই অবস্থায় মিডিয়া, রাজনীতি, সরকার সবার দৃষ্টি চলে গেলো হেফাজতিদের তান্ডবলীলার দিকে। পোশাক কারখানার ধ্বংসস্তূপে আহত নিহতদের পরিবারগুলির কী অবস্থা, তাঁরা কী খাবে, কী করে চলবে এই পরিবারগুলির সংসার তার খোঁজ কী নেবার সময় রইলো হাসিনার, কিংবা খালেদার?
এক নেত্রী হেফাজতকে (দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে হেফাজতের সঙ্গে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়ে) উস্কে দিলেন, আরেক নেত্রী হেফাজতকে বশে (১৩ দফার মধ্যে ১২ দফা সংবাদ সম্মেলনে পড়ে শুনিয়ে এবং অধিকাংশ দাবি মেনে নেয়া হয়েছে, হচ্ছে বলে) আনার চেষ্টা করলেন! ধর্ম হলো ব্যক্তিগত চিন্তা-বিশ্বাসের ব্যাপার, কিন্তু রাষ্ট্র সব মানুষের, সবার। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দেশকে সংঘাত, সহিংসতা ও সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো।
খালেদা-হাসিনার এখনও বোধদয় না হলে একদিন উভয়কেই রাজনীতির মাঠ থেকে হেফাজতিরা তাড়াবে এবং স্বদেশকে একটা তালেবানি জঙ্গিবাদি রাষ্ট্রে পরিণত করবে, তখন আপনাদের অনুশোচনা ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না। আজকের আক্রমণ, সংঘর্ষ ও হামলায় প্রায় ১৫ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, দুই শতাধিক আহত, চারজন নিহত (যদিও হতাহতের সঠিক তথ্য জানা মুশকিল)। জ্বলছে রাজধানী ঢাকা!

আমার মনে হয়, দেশের সমস্যা হেফাজত নয় মূল সংকট হাসিনা আর খালেদা। কারণ এই দুই নেত্রী চাইলেই দেশের সব সংকট নিরসন সম্ভব! এই দুই নারী ক্ষমতার মোহে একসময় বলে তত্ত্বাবধায়ক চাই আরেক সময় বলে তত্ত্বাবধায়ক মানি না। ক্ষমতাই যেন তাদের মূল বাসনা! দেশ, দেশের মানুষ, শান্তি, ন্যায়বিচার এসব যেন কোন বিষয়ই না তাদের কাছে!

আমি বলবো, এই উন্মত্ত জঙ্গিপনা থামান, দেশ বাঁচান।  খালেদা ও হাসিনা আপনারা দুইজনই পারেন এই আগুন নেভাতে। আমি মনে করি আপনারা দুইজনই পারেন দেশকে ডুবাতে, আপনারাই পারেন দেশকে রক্ষা করতে! আমার সন্দেহ হয় এজন্য যে আপনারা কী তবে এক এগারোর পুনরাবৃত্তি চাইছেন? সংঘাত-সংঘর্ষের মধ্যদিয়ে সমাজে শান্তি আনা যায় না, রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনাদের কী নু্যনতম দায়-দায়িত্ব নেই দেশটাকে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সোনার বাংলায় রুপান্তরিত করতে? ছবি-ইত্তেফাক থেকে নেয়া।

বিষধর সাপ নিয়ে খেলা করার পরিণাম ভয়াবহ!

Hamid-Hasina Khaleda

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাপের লেজে পা দিয়ে সাপকে আয়ত্তে আনতে চাওয়া বোকামি ছাড়া আর কী? প্রবাদ আছে সাপকে দুধ-কলা দিয়ে যতই পোষা হোক সাপ একদিন ফণা তুলবেই। হেফাজতের ১৩ দফা কেন ২৩ দফা মানলেও আখেরে হাসিনা ও আওয়ামী লীগের তথা মহাজোটেরই ক্ষতি!
প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্যের দুই-তৃতীয়াংশ জুড়েই ছিল হেফাজত ও তাদের দাবি এবং সরকার যেসব দাবি পূরণ করেছে এবং অন্যান্য দাবিগুলিও পুরণের পথে তা নিয়ে। একটি অনলাইন মিডিয়ায় শেখ হাসিনার বক্তব্যের শিরোনাম ‘হেফাজতের দাবি মানা হয়েছে, হচ্ছে’।
আগে শুনেছিলাম প্রধানমন্ত্রি সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনা নিয়ে কথা বলবেন। হয়ত প্রধানমন্ত্রির কাছে পোশাক শ্রমিকরা যতটা গুরুত্বপূর্ণ তার চেয়েও বেশি গুরুত্বর্পূ হেফাজত। কারণ হেফাজত খুশি থাকলে পুনরায় ক্ষমতারোহন নিশ্চিত! আর হয়তবা সেকারণেই তিনি হেফাজতের ১৩ এর ভৈতর ১২টা দাবিই পড়ে শুনিয়েছেন এবং তাঁর সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাদির বিশদ ব্যাখ্যা দিলেন।
প্রধানমন্ত্রির বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে এটা অনুমান করা যায় যে, তিনি জামায়াত-শিবির-হেফাজতিদের চেয়েও বেশি সাম্প্রদায়িক! তাই তিনি মূর্তি পূজার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতেও আঘাত দিলেন। অবশ্য আওয়ামীপন্থি সংখ্যালঘুদের মনে আঘাতের তীর বীদ্ধ করেছে কিনা তা জানতে মনোবিজ্ঞানি হতে হবে, নইলে তা বোঝার উপায় নেই। রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাও ধর্মীয় সংখ্যালঘু রবীন্দ্রনাথের জমি দখল করে তার ওপর ভবন নির্মাণ করেছিল। সেবিষয়েও হিন্দু-বৌদ্ধ-খি্রষ্টান ঐক্য পরিষদ নামে যে একটি সংগঠন আছে তার কোন নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়নি। হয়ত এই কারণে যে দখলকারি আওয়ামী লীগের যুবসংগঠনের নেতা!
এখন প্রশ্ন হলো, হেফাজতের ১৩ দফা দাবি মানার অর্থ হলো দেশে নারী সমাজকে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখতে হবে। কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের অধিকার ক্ষুন্ন হবে, সমাজটা মূলত: মধ্যযুগে ফিরবে।
প্রধানমন্ত্রির বক্তব্যে একটা ব্যাপার পরিস্কার হলো যে, মহাজোট সরকার জামাত-শিবির ও হেফাজতের চাইতেও বেশি সাম্প্রদায়িক! নইলে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দল হওয়া সত্ত্বেও কেন সরকার নিজেকে সাম্প্রদায়িক ও নিজেকে সাচ্চা মুসলমান প্রমাণ করতে চাইছে? তবে কী এই সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে, হেফাজতের কাছে সরকার মাথানত করে আগামিতে ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারায় শামিল হতে চায়? তাই তারা মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গলাটিপে ধরচে চাইছে, নইলে প্রধানমন্ত্রির সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে পোশাক শ্রমিকদের দুর্দিন ও জীবন+মান নিয়ে একটি কথাও বললেন না কেন?
জামাত-হেফাজতিদের মতো বিষধর সাপ নিয়ে খেলা বন্ধ না করলে আওয়ামী লীগকে আম ও ছালা দু´টোই হারাতে হবে!ছবি-গুগল থেকে সংগৃহীত।

অপরাধীর গ্রেফতারে স্বস্তির ঢেকুরে কী শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি মিলবে?

BD

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাভারের সাম্প্রতিক গণহত্যার মূল নায়ক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে সরকার ও সরকার সমর্থকরা যেন বিশ্ববিজয় করার মতো একটা স্বস্তির ও আনন্দের ঢেকুর তুললো! অমানবিক এই ঢেকুরের ঢেউ আছড়ে পড়লো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলিতে, বিশেষ:ত ফেইসবুকে। তারও হাওয়া দোলা দিলো সরকার সমর্থক অন্ধ ভক্ত, জ্ঞানপাপী মিডিয়াকর্মী, ব্লগার, কলামিষ্ট, টকশোকারিদের মাঝেও। হয়ত উনারা সকলেই মনে করছে যে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা মানেই বাংলাদেশের সব সমস্যার সমাধান!
স্বদেশে আর কোন ভবন ধ্বসে পড়বে না, কোন ভবনে আগুন লাগবে না, কেউ আর আইন অমান্য করবে না, পোশাক শ্রমিকরা পাবেন ন্যায্য মজুরি, বেতন-ভাতা ও জীবন, মান ও মর্যাদা রক্ষার ভরসা, কাউকে আর আগুনে পুড়িয়ে মারা হবে না, কাউকে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে নিজের দেহটাকে গলাতে হবে না, কাউকে আর স্বজন হারানোর জন্য কাঁদতে হবে না, কাউকে আর “লাশ চাই, লাশ চাই” বলে চেচাতে হবে না, কেউ আর লাশ নিয়ে বা লাশের আশায় বসে থেকে নৈরাশ্যবাদি রাজনীতির পথে পা বাড়াবে না, কারখানা মালিক ও শ্রমিকের মাঝে কোন বৈষম্য রেখা আর কোনদিন দেখা যাবে না, অপরাধি পাবে শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্তের সব দায় দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র!  
অনেকেই বলছে যে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থাকলে রানা হয়ত গ্রেফতারই হতো না। হাসিনার সরকার অন্ত:ত তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে! অপরাধীকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী গ্রেফতার করবে এটাইতো স্বাভাবিক। একজন অপরাধী, খুনিকে গ্রেফতারের জন্য প্রধানমন্ত্রিকে নির্দেশনা দিতে হয় এটা কী ন্যায়বিচার বা গণতান্ত্রিক সমাজের সাক্ষ্য বহন করে? তারেক-হাওয়া ভবন জামানায় খুন হতো, দুর্নীতি হয়েছে, লুটপাট চলেছে তাই হাসিনার আমলেও তার ধারাবাহিকতা চলবে কিংবা খালেদা-নিজামির আমলের চেয়ে হাসিনা-মেনন-ইনু-এরশাদ আমলে কম হচ্ছে বলে কী দায় এড়ানো যায়? “উনার/উনাদের আমলে অপরাধ বেশি হয়েছে, আর এখন কম হচ্ছে” বলার মধ্য দিয়ে এবং মানুষের সুবিধাবাদি ও আহাম্মকি চরিত্রটা প্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশের মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব না।

সাম্প্রতিক বিশ্বইতিহাসের ভয়াবহতম ভবন ধ্বসের ঘটনায় সাভার রানা প্লাজায় এ পর্যন্ত ৫১১ জনের লাশ মিলেছে, গুরুতর আহত আড়াই হাজারের অধিক মানুষ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন, আরও কত মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা আছেন তারও কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই আমাদের কারও কাছে। আমরা এমনই একটা সমাজের মানুষ ও রাষ্ট্রের নাগরিক। নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যাটি জানাতেও আমাদের অনেক কার্পণ্য! 

সরকার, মহাজোট, রাষ্ট্র, দলীয় বুদ্ধিজীবী, ব্লগার, সাংবাদিকগণ যারা রানাকে অন্ত:ত সরকার ধরেছে এমনটা ভেবে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন তারা কী উপরোক্ত প্রশ্নগুলিতে কোনরকমের নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না? নাকি সবকিছু আগের জায়গাতেই থাকবে? সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, মেহনতি মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হবে কী? শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি কিসে, কোথায়? ব্যক্তি, পরিবার, দল ও ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে, আজকের বাংলাদেশে কে এই মানব মুক্তিপথের রাজা বা রাণীর মুকুট পরতে আগ্রহি? ছবি: (Kevin Frayer, AP) আফটেন পোষ্ট অনলাইন সংস্করণ থেকে সংগৃহীত।