অপরাধীর গ্রেফতারে স্বস্তির ঢেকুরে কী শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি মিলবে?

BD

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাভারের সাম্প্রতিক গণহত্যার মূল নায়ক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে সরকার ও সরকার সমর্থকরা যেন বিশ্ববিজয় করার মতো একটা স্বস্তির ও আনন্দের ঢেকুর তুললো! অমানবিক এই ঢেকুরের ঢেউ আছড়ে পড়লো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলিতে, বিশেষ:ত ফেইসবুকে। তারও হাওয়া দোলা দিলো সরকার সমর্থক অন্ধ ভক্ত, জ্ঞানপাপী মিডিয়াকর্মী, ব্লগার, কলামিষ্ট, টকশোকারিদের মাঝেও। হয়ত উনারা সকলেই মনে করছে যে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা মানেই বাংলাদেশের সব সমস্যার সমাধান!
স্বদেশে আর কোন ভবন ধ্বসে পড়বে না, কোন ভবনে আগুন লাগবে না, কেউ আর আইন অমান্য করবে না, পোশাক শ্রমিকরা পাবেন ন্যায্য মজুরি, বেতন-ভাতা ও জীবন, মান ও মর্যাদা রক্ষার ভরসা, কাউকে আর আগুনে পুড়িয়ে মারা হবে না, কাউকে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে নিজের দেহটাকে গলাতে হবে না, কাউকে আর স্বজন হারানোর জন্য কাঁদতে হবে না, কাউকে আর “লাশ চাই, লাশ চাই” বলে চেচাতে হবে না, কেউ আর লাশ নিয়ে বা লাশের আশায় বসে থেকে নৈরাশ্যবাদি রাজনীতির পথে পা বাড়াবে না, কারখানা মালিক ও শ্রমিকের মাঝে কোন বৈষম্য রেখা আর কোনদিন দেখা যাবে না, অপরাধি পাবে শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্তের সব দায় দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র!  
অনেকেই বলছে যে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থাকলে রানা হয়ত গ্রেফতারই হতো না। হাসিনার সরকার অন্ত:ত তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে! অপরাধীকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী গ্রেফতার করবে এটাইতো স্বাভাবিক। একজন অপরাধী, খুনিকে গ্রেফতারের জন্য প্রধানমন্ত্রিকে নির্দেশনা দিতে হয় এটা কী ন্যায়বিচার বা গণতান্ত্রিক সমাজের সাক্ষ্য বহন করে? তারেক-হাওয়া ভবন জামানায় খুন হতো, দুর্নীতি হয়েছে, লুটপাট চলেছে তাই হাসিনার আমলেও তার ধারাবাহিকতা চলবে কিংবা খালেদা-নিজামির আমলের চেয়ে হাসিনা-মেনন-ইনু-এরশাদ আমলে কম হচ্ছে বলে কী দায় এড়ানো যায়? “উনার/উনাদের আমলে অপরাধ বেশি হয়েছে, আর এখন কম হচ্ছে” বলার মধ্য দিয়ে এবং মানুষের সুবিধাবাদি ও আহাম্মকি চরিত্রটা প্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশের মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব না।

সাম্প্রতিক বিশ্বইতিহাসের ভয়াবহতম ভবন ধ্বসের ঘটনায় সাভার রানা প্লাজায় এ পর্যন্ত ৫১১ জনের লাশ মিলেছে, গুরুতর আহত আড়াই হাজারের অধিক মানুষ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন, আরও কত মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা আছেন তারও কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই আমাদের কারও কাছে। আমরা এমনই একটা সমাজের মানুষ ও রাষ্ট্রের নাগরিক। নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যাটি জানাতেও আমাদের অনেক কার্পণ্য! 

সরকার, মহাজোট, রাষ্ট্র, দলীয় বুদ্ধিজীবী, ব্লগার, সাংবাদিকগণ যারা রানাকে অন্ত:ত সরকার ধরেছে এমনটা ভেবে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন তারা কী উপরোক্ত প্রশ্নগুলিতে কোনরকমের নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না? নাকি সবকিছু আগের জায়গাতেই থাকবে? সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, মেহনতি মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হবে কী? শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি কিসে, কোথায়? ব্যক্তি, পরিবার, দল ও ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে, আজকের বাংলাদেশে কে এই মানব মুক্তিপথের রাজা বা রাণীর মুকুট পরতে আগ্রহি? ছবি: (Kevin Frayer, AP) আফটেন পোষ্ট অনলাইন সংস্করণ থেকে সংগৃহীত।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s