বিষধর সাপ নিয়ে খেলা করার পরিণাম ভয়াবহ!

Hamid-Hasina Khaleda

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাপের লেজে পা দিয়ে সাপকে আয়ত্তে আনতে চাওয়া বোকামি ছাড়া আর কী? প্রবাদ আছে সাপকে দুধ-কলা দিয়ে যতই পোষা হোক সাপ একদিন ফণা তুলবেই। হেফাজতের ১৩ দফা কেন ২৩ দফা মানলেও আখেরে হাসিনা ও আওয়ামী লীগের তথা মহাজোটেরই ক্ষতি!
প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্যের দুই-তৃতীয়াংশ জুড়েই ছিল হেফাজত ও তাদের দাবি এবং সরকার যেসব দাবি পূরণ করেছে এবং অন্যান্য দাবিগুলিও পুরণের পথে তা নিয়ে। একটি অনলাইন মিডিয়ায় শেখ হাসিনার বক্তব্যের শিরোনাম ‘হেফাজতের দাবি মানা হয়েছে, হচ্ছে’।
আগে শুনেছিলাম প্রধানমন্ত্রি সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনা নিয়ে কথা বলবেন। হয়ত প্রধানমন্ত্রির কাছে পোশাক শ্রমিকরা যতটা গুরুত্বপূর্ণ তার চেয়েও বেশি গুরুত্বর্পূ হেফাজত। কারণ হেফাজত খুশি থাকলে পুনরায় ক্ষমতারোহন নিশ্চিত! আর হয়তবা সেকারণেই তিনি হেফাজতের ১৩ এর ভৈতর ১২টা দাবিই পড়ে শুনিয়েছেন এবং তাঁর সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাদির বিশদ ব্যাখ্যা দিলেন।
প্রধানমন্ত্রির বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে এটা অনুমান করা যায় যে, তিনি জামায়াত-শিবির-হেফাজতিদের চেয়েও বেশি সাম্প্রদায়িক! তাই তিনি মূর্তি পূজার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতেও আঘাত দিলেন। অবশ্য আওয়ামীপন্থি সংখ্যালঘুদের মনে আঘাতের তীর বীদ্ধ করেছে কিনা তা জানতে মনোবিজ্ঞানি হতে হবে, নইলে তা বোঝার উপায় নেই। রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাও ধর্মীয় সংখ্যালঘু রবীন্দ্রনাথের জমি দখল করে তার ওপর ভবন নির্মাণ করেছিল। সেবিষয়েও হিন্দু-বৌদ্ধ-খি্রষ্টান ঐক্য পরিষদ নামে যে একটি সংগঠন আছে তার কোন নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়নি। হয়ত এই কারণে যে দখলকারি আওয়ামী লীগের যুবসংগঠনের নেতা!
এখন প্রশ্ন হলো, হেফাজতের ১৩ দফা দাবি মানার অর্থ হলো দেশে নারী সমাজকে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখতে হবে। কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের অধিকার ক্ষুন্ন হবে, সমাজটা মূলত: মধ্যযুগে ফিরবে।
প্রধানমন্ত্রির বক্তব্যে একটা ব্যাপার পরিস্কার হলো যে, মহাজোট সরকার জামাত-শিবির ও হেফাজতের চাইতেও বেশি সাম্প্রদায়িক! নইলে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দল হওয়া সত্ত্বেও কেন সরকার নিজেকে সাম্প্রদায়িক ও নিজেকে সাচ্চা মুসলমান প্রমাণ করতে চাইছে? তবে কী এই সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে, হেফাজতের কাছে সরকার মাথানত করে আগামিতে ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারায় শামিল হতে চায়? তাই তারা মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গলাটিপে ধরচে চাইছে, নইলে প্রধানমন্ত্রির সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে পোশাক শ্রমিকদের দুর্দিন ও জীবন+মান নিয়ে একটি কথাও বললেন না কেন?
জামাত-হেফাজতিদের মতো বিষধর সাপ নিয়ে খেলা বন্ধ না করলে আওয়ামী লীগকে আম ও ছালা দু´টোই হারাতে হবে!ছবি-গুগল থেকে সংগৃহীত।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s