হেফাজতকে নিয়ে একজনের উস্কানি অন্যজনের বশচেষ্টা, জ্বলছে স্বদেশ!

hefajotesdemostasjon

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আমার স্বদেশ, বাংলাদেশ পুড়ছে এখন! হেফাজতকর্মীরা আক্রমণাত্ত্বক ভূমিকায়। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে চলছে ভাংচুর, আগুন দেয়া ও লুটপাট। হেফাজতকর্মীরা পল্টনে মুক্তিভবন ও সিপিবি কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। দেশজুড়ে এক চরম নিরাপত্তাহীনতা, উদ্বেগ ও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রধান বিরোধীদল বিএনপির সমথর্ন হেফাজতের প্রতি। আর যুদ্ধাপরাধী দল জামাততো হেফাজত সেজেই যুদ্ধাপরাধবিচার বানচাল করতে চায়! মাত্র একদিন আগে প্রধানমন্ত্রি সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফার ১২ দফা পড়ে এবং তার অধিকাংশই পূরণ করা হয়েছে বলে পরোক্ষভাবে হেফাজতকেই হেফাজত করতে চাইছিলেন। যদি হেফাজতের ১৩ দফা পূরণ করা হয় তবে বাংলাদেশ ফিরবে মধ্যযুগে। আমি উদ্বিঘ্ন এজন্যে যে আমার স্বদেশ হয়ত পরবতীর্ আফগানিস্তান হতে চলেছে পরিকল্পিতভাবে! আমরা যারা উদার অসাম্প্রদায়িক মানুষ তারা এটা মানতে পারছি না, কখনও মানতে পারবো না।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি বলেছেন জামাত-শিবিরের কর্মীরা হেফাজতের ভেতরে ঢুকে পড়ে নাশকতা চালাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রির কাছে আমার প্রশ্ন, তাহলে কী হেফাজত ভালো? প্রধানমন্ত্রি হেফাজতের ১৩ দফার মধ্যে ১২ দফা পড়ে শোনালেন সংবাদ সম্মেলন করে। তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন যে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার হেফাতের সঙ্গেই আছে, কারণ তাদের সরকার সংবিধানে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করেনি! অন্যদিকে খালেদা নির্দেশ দিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরকে হেফাজতকে হেফাজত করার!
খালেদা ও হাসিনা দুইজনের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা উভয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হেফাজতকে রক্ষা বা হেফাজত করতে চাইছেন নাতো? একটা কথা মনে রাখবেন মধ্যযুগীয় ১৩ দফা মেনে নিলে আপনারা কেউই রাজনীতিতে থাকতে পারবেন না, নারীদের বোরখা পরে ঘুরতে হবে নতুবা ঘরের মধ্যে বন্দি থাকতে হবে। এখানেই শেষ নয় ১৩ দফা মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও সংবিধানপরিপন্থি। হেফাজতের ১৩ দফা বাংলার নারীমুক্তির অগ্রযাত্রার বুকে কুঠারাঘাত। আরেকটি প্রশ্ন করি আপনাদের। হেফাজত কী ইসলামকে হেফাজত করতে চায়, নাকী নারীকে বন্দি করতে চায় ঘরে? আগুন দেয়া, ভাংচুর, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান জ্বালিয়ে দেয়া, মানুষ হত্যা, মিথ্যা বলা এগুলি কী ইসলাম সমর্থন করে?
সময় থাকতে আপনারা (হ্যাঁ, আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রি উভয় নেত্রীকে বলছি) সাবধান হোন, নইলে দেশটা যদি আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তান বানিয়ে বানিয়ে নিতে পারে জঙ্গি, ধর্মান্ধরা তাহলে কিন্তু কারোই ক্ষমতাস্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না!
এদিকে সাভার গণহত্যার তালিকা বাড়ছে, এখন পর্যন্ত ৬৩০ জন পোশাক শ্রমিকের লাশ উদ্দার হয়েছে। সেখানে হাজার হাজার মানুষ আহত হলেন, পঙ্গু (প্রতিবন্ধি) হয়ে গেলেন শত শত পোশাক শ্রমিক। নিখোঁজ এখনও কয়েকশ মানুষ। এই অবস্থায় মিডিয়া, রাজনীতি, সরকার সবার দৃষ্টি চলে গেলো হেফাজতিদের তান্ডবলীলার দিকে। পোশাক কারখানার ধ্বংসস্তূপে আহত নিহতদের পরিবারগুলির কী অবস্থা, তাঁরা কী খাবে, কী করে চলবে এই পরিবারগুলির সংসার তার খোঁজ কী নেবার সময় রইলো হাসিনার, কিংবা খালেদার?
এক নেত্রী হেফাজতকে (দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে হেফাজতের সঙ্গে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়ে) উস্কে দিলেন, আরেক নেত্রী হেফাজতকে বশে (১৩ দফার মধ্যে ১২ দফা সংবাদ সম্মেলনে পড়ে শুনিয়ে এবং অধিকাংশ দাবি মেনে নেয়া হয়েছে, হচ্ছে বলে) আনার চেষ্টা করলেন! ধর্ম হলো ব্যক্তিগত চিন্তা-বিশ্বাসের ব্যাপার, কিন্তু রাষ্ট্র সব মানুষের, সবার। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দেশকে সংঘাত, সহিংসতা ও সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো।
খালেদা-হাসিনার এখনও বোধদয় না হলে একদিন উভয়কেই রাজনীতির মাঠ থেকে হেফাজতিরা তাড়াবে এবং স্বদেশকে একটা তালেবানি জঙ্গিবাদি রাষ্ট্রে পরিণত করবে, তখন আপনাদের অনুশোচনা ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না। আজকের আক্রমণ, সংঘর্ষ ও হামলায় প্রায় ১৫ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, দুই শতাধিক আহত, চারজন নিহত (যদিও হতাহতের সঠিক তথ্য জানা মুশকিল)। জ্বলছে রাজধানী ঢাকা!

আমার মনে হয়, দেশের সমস্যা হেফাজত নয় মূল সংকট হাসিনা আর খালেদা। কারণ এই দুই নেত্রী চাইলেই দেশের সব সংকট নিরসন সম্ভব! এই দুই নারী ক্ষমতার মোহে একসময় বলে তত্ত্বাবধায়ক চাই আরেক সময় বলে তত্ত্বাবধায়ক মানি না। ক্ষমতাই যেন তাদের মূল বাসনা! দেশ, দেশের মানুষ, শান্তি, ন্যায়বিচার এসব যেন কোন বিষয়ই না তাদের কাছে!

আমি বলবো, এই উন্মত্ত জঙ্গিপনা থামান, দেশ বাঁচান।  খালেদা ও হাসিনা আপনারা দুইজনই পারেন এই আগুন নেভাতে। আমি মনে করি আপনারা দুইজনই পারেন দেশকে ডুবাতে, আপনারাই পারেন দেশকে রক্ষা করতে! আমার সন্দেহ হয় এজন্য যে আপনারা কী তবে এক এগারোর পুনরাবৃত্তি চাইছেন? সংঘাত-সংঘর্ষের মধ্যদিয়ে সমাজে শান্তি আনা যায় না, রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনাদের কী নু্যনতম দায়-দায়িত্ব নেই দেশটাকে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সোনার বাংলায় রুপান্তরিত করতে? ছবি-ইত্তেফাক থেকে নেয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s