অভিযান নিয়ে ধুম্রজাল।। হেফাজতে ইসলাম নাকি হেফাজতে শয়তান?

BD

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আমি বলবো হেফাজতে ইসলাম মূলত: হেফাজতে শয়তান এবং তারা ইসলামের শত্রু, অন্ত:ত তাদের জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর, লুট, হত্যা এবং ব্লাশফেমী আইন বাস্তবায়নসহ মধ্যযুগীয় ১৩ দফা দাবিই তার বড় প্রমাণ। অপরদিকে জামাত-শিবিরতো যুদ্ধাপরাধীর দল। আর বিএনপি সেই যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেই বা তাদের সঙ্গে নিয়েই রাজনীতিতে ক্রিয়াশীল। জামাত-শিবির, হেফাজত গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান যারা মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে তাদেরকে মৃত্যুমুখে ফেলে রেখে সব নিজের জান বাঁচানোর জন্য পালিয়ে গেছে। এই জঙ্গিবাদি তথাকথিত মোল্লারা দেশটাকে পিছিয়ে নিতে চায়, তারা স্বাধীন ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ পছন্দ করেনা। বরং ওদের ভালো লাগে পাকিস্তান! তাই তারা মুজাহিদ ও তালেবান হবার জন্য প্রায়শ:ই স্লোগান তুলে রাজপথে। এসবই সত্য।
এই হেফাজতি, বাংলাদেশ ও মানবতাবিরোধীরা গতকাল রাজধানী ঢাকাজুড়ে নারকীয় তান্ডবলীলা চালায়। সিপিবি ভবনে আগুন দেয়, ওরা ছোট ছোট দোকানদার হকার, ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন, সম্বল ধ্বংস করে ফেলে, স্বর্ণালংকার লুট করে, কোরান পুড়িয়ে দেয়। সরকারের নতজানুতাই হেফাজতিদের এই তান্ডবলীলার পালে ধীরে ধীরে হাওয়া লাগায়। এতেও আমার কোন সন্দেহ নেই। “আমি অধম তাই বলে তুমি কেন উত্তম হবে না, অন্যভাবে বলা যায়, তুমি অধম তাই বলে আমি উত্তম হবো না কেন?” অনলাইন মিডিয়া বিডিনিউজ২৪সহ অধিকাংশ গণমাধ্যমে ব্রেকিং খবর হিসেবে প্রচার/প্রকাশ করা হয় যে, রাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান, বিজিবি ও পুলিশের ১০ হাজার সদস্যের সম্মিলিত দল হেফাজতিদের শাপলা চত্বর থেকে সরানোর অভিযানে নামে। মিডিয়ার খবরে বলা হলো যে, অভিযান দল তিন দিক থেকে ঘিরে হেফাজতিদের বিরুদ্ধে গুলি করতে করতে শাপলা চত্বরের দিকে এগুচ্ছে। এও বলা হলো যে, মধ্যরাতের এই সাঁড়াশি অভিযানে মাত্র দশমিনিটেই শাপলাচত্বর হেফাজতমুক্ত! চ্যানেল একাত্তরে মডারেটর নবনীতার সঞ্চালনায় কিছুক্ষণ আগে “জার্নাল” নামে একটি টকশো দেখছিলাম। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে থাকা দুই সাংবাদিক প্রথম আলোর কামরুল হাসান ও একাত্তরের পারভেজ তাঁদের অভিযান সংক্রান্ত বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছিলেন। বুদ্ধিমান মডারেটর এই দুই সাংবাদিকের দেয়া নিহতের সংখ্যা বিষয়ক দেয়া তথ্যে গরমিল ধরে ফেলেন। এরপরই তিনি প্রশ্ন করেন সাংবাদিকদ্বয়কে নিহতের সংখ্যা দুইজনের সঙ্গে কেন অমিল হচ্ছে? যাহোক সরকার ইতোমধ্যে জামাতের মালিকানাধীন দুইটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে শর্ত লংঘণের অভিযোগে। বিগত বিএনপি-জামাত আমলে তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগে জনপ্রিয় টেরিস্টোরিয়ালসুবিধাপ্রাপ্ত টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই তথ্যও সবার জানা। ফখরুদ্দীন-মঈনের সেনা শাসনকালে বিএনপি নেতা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক সালাহউদ্দীন কাদের চৌধুরীর ২৪ ঘন্টার নিউজ চ্যানেলও বন্ধ করেছিল প্রায় একই অভিযোগে। আর বর্তমান মহাজোট সরকার বন্ধ করে আরেকটি টিভি চ্যানেল ওয়ান। কিছুদিন আগে বিরোধীদল সমর্থিত আমার দেশ এর প্রকাশনাও বন্ধ করে দেয় এই সরকার। তথাকথিতই বলি আর আসলই বলি এই পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক উত্তরা ষড়যন্ত্রের অন্যতম অনুঘটক মাহমুদুর রহমান এখনও জেলে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ ঘরে নৃশংসভাবে নিহত সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর ও রুনির হত্যার বিচার প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত সাংবাদিক সমাজ কিছুটা কাছাকাছি এসেছিল। ঘোষণাও দেয়া হয়েছিল সাংবাদি সমাজ এক হবে, হচ্ছে, হয়ে যাবে বলে। কিন্তু শেষ র্পযন্ত রাজনৈতিক পরিচয়ই বড় হয়ে দেখা দিলো। তাই সাংবাদিকরা আবারও রেললাইন হয়ে গেলেন! আমি অনেক আগেই লিখেছিলাম যে আমার স্বদেশের সাংবাদিক সমাজ এক হতে পারবে না, কারণ তারা রেললাইন হয়ে থাকতেই পছন্দ করে। নইলেতো হাসিনাপ্রিয় বা আওয়ামী লীগপ্রিয় কিংবা খালেদাপ্রিয় বা বিএনপিপ্রিয় হয়ে ওঠা যাবে না। পেশা, পেশাগত মর্যাদা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এই বিষয়গুলিতো খালেদা, হাসিনা বলে ছাড় দেয়ার কথা নয়, তবুও রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বনই সাংবাদিকতার প্রধান উপজীব্য হয়ে যায়। এরমধ্যেও অনেকেই আছেন যারা নিরপেক্ষভাবে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে উড্ডীন রাখার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেই আশা বেঁচে আছে আমার। হেফাজতবিরোধী অভিযান নিয়ে লিখতে গিয়ে প্রসঙ্গের দেয়ালটা টপকে ফেলেছি। যাহোক লেখার মূল বিষযবস্তুর দিকে আসা দরকার। আমার ধারণা সরকার হেফাজতিদের বিরুদ্ধে যে অভিযান চালিয়েছে তাতে হেফাজতি, জামাতি আর তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রাজনৈতিক দলটি যে দলটির জন্ম সেনাছাউনির ভেতর দিয়ে তারা ছাড়া দেশের অধিকাংশ মানুষই খুশি! অন্ত:ত অভযানটিকে যেভাবে মিডিয়া ও সাংবাদিকরা দেশ ও বিশ্ববাসির কাছে তুলে এনেছে বা তুলে ধরেছে সেটা যদি সত্যিই ঘটে থাকে বাস্তবে, তবে সরকার ও অভিযান পিরচালনার সাথে জড়িত সকলকেই ধন্যবাদ জানাতে কারোই কার্পণ্য থাকার কথা নয়, আমারও নেই। আর এই ফ্যাসিষ্ট, ধর্মব্যবসায়ী হেফাজত-জামাত-যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করা মানেইতো বাংলা, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ৩০ লাখ শহীদ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি সবকিছুর সাথেই বেঈমানি করা হয়, অসম্মান করা হয় একটি দেশের লড়াকু মুক্তি সেনা ও স্বাধীনতার সংগ্রামকে। প্যারামিলিটারি বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ গুলি করতে করতে গেলো আর মানুষ মরলো নয়জন, এটা কী বিশ্বাস করার মতো? যারা জ্বালাও-পোড়াও, পুলিশ হত্যা, বিজিবিসদস্য হত্যা, মানুষ হত্যা, মানুষের জানমালের ক্ষতি করে তাদের ছাড় দেয়ার কথা কী কেউ বলতে পারে? আর ছাড় না দেয়ার অর্থ কী গুলি করে মারা? প্রশ্ন হলো সরকার হেফাজতকে ঢাকা অবরোধের মতো কর্মসূচী পর্যন্ত আসতে দিলো কেন? অসাম্প্রদায়িক বলে দাবিদার এই সরকার কেন গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙ্গে দেয়? এটা কী হেফাজতিদের কাছে একধরণের আত্মসমর্পণ নয়? সত্য যত কঠিনই হোক, যতই নৃশংস, নির্মম, বর্বর ও ভয়াবহ হোক আমরা সত্য জানতে চাই। কী ঘটেছে, কারা মারা গেছে, কার কত টাকার সম্পদ লুঠ হলো, ফুটপাতের হকার ও ছোট ছোট ব্যবসায়িগুলির পরিবার এখন কিভাবে চলবে সবকিছুই মানুষের জানার অধিকারের মধ্যেই পড়ে। আর মাদ্রাসার দরিদ্র ছাত্রদের যেসব কথিত আল্লামা বা মওলানারা জোর করে কিংবা নির্দেশ দিয়ে বাধ্য করলো শাপলা চত্বরে আসতে সেইসব শফিদের গ্রেফতার না করে জামাই আদরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার মানে কী? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর গুলিতে যদি একজন, একশজন, এক হাজার বা তারও বেশি মানুষ হতাহত হয় তার সঠিক হিসাব প্রকাশ করে সরকার প্রেসনোট দিতে পারে। এতে ভয়ের কী আছে? ঝকাঝকিতে ভবন ধ্বস কিংবা সাভার গণহত্যা কোন বড় ব্যাপা র না, মন্ত্রিদের এমন উল্টা-পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসি যেভাবে বিভ্রান্ত হন মাঝেমধ্যে, তারচেয়ে প্রেসনোট দিয়ে ঘটনার পূর্বাপর ব্যাখ্যা প্রদান করে সত্য প্রকাশই শ্রেয়। লেখার শেষ প্যারাগ্যারাফে বলবো, শাপলাচত্বর অভিযান বিষয়ে মিডিয়া ও সরকারের বক্তব্যের মধ্যে যে সম্মিলন দেখতে পাচ্ছি আমরা তাতে একটা বিষয় বলা যায় যে, অভিযান পরিচালনাকারিরা অন্ধকারে বৃষ্টির মতো গুলি চালালেও মানুষ হতাহতের ক্ষতি তেমন ঘটেনি। যেখানে বিনাবিচারে মানুষকে প্রকাশ্যে হত্যা, রাজনীতিবিদ গুম হয়ে যায়, লিমনরা পঙ্গু হন, সাংবাদিক মাসুমরা নির্যাতিত হন সেখানে এতোবড় অভিযানে “মহান” ভূমিকা পালনকারি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিনন্দন জানাতেই হবে, ধন্যবাদ। কিন্তু প্রশ্নটা জাগলো তখন, যখন হেফাজত ও জামাতকে সমর্থনকারি দুইটি টিভি চ্যানেলকে সরকার বন্ধ করে দিলো। তাহলে কী অন্যসব মিডিয়া সরকারের “কবজাগত” হয়ে হতাহতের পরিসংখ্যান বিষয়ে এড়িয়ে যেতে চাইছে, নাকি বন্ধ করে দেয়া চ্যানেল দু`‌টির কাছে অন্য কোন ভিডিও ফুটেজ ছিল? যা প্রচার হলে সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা উঠবে ভেবে সরকার বিরোধীমতের ওপর “ছুরি” চালালো? কোনটা সত্য, এতোদূর থেকে সেটা বলা কঠিন। সরকার কী তবে জামাত-হেফাজতিদের টিভি চ্যানেল দু`‌টিকেই ভয় পাচ্ছিল, তাই তা বন্ধ করে দিলো? হেফাজত কী সত্যি সত্যি দমন হয়ে গেছে, নাকি এখন তারা সারাদেশেই ভাংচুর, আগুন লাগাচ্ছে না? এই ধর্মান্ধ উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী আর কোন পুলিশ হত্যা, বিজিবি হত্যা করবে না, মানুষ মারবে না, আগুন লাগাবে না, ভাংচুর-লুটতরাজ করবে না, তার কী নিশ্চয়তা দেশবাসি পেয়েছেন সরকারের কাছ থেকে?আবারও বলি, সত্য যত কঠিনই হোক তবুও সত্যটাই জানার আকুলতা। সত্য কখনও পরাজিত হয় না। বিপদ আসবে, সংকট থাকবে এরই মধ্যে সত্য প্রকাশিত হবে আপন রুপেই। আমরা অনেকেই বিশ্বাস করি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার সুবিধাপ্রাপ্ত জেনারেল জিয়া, আর জেনারেল জিয়াউর রহমান হত্যার সুবিধাপ্রাপ্ত হলেন জেনারেল হু. মু. এরশাদ। কাজেই আবেগ দিয়ে নয়, কথার ফুলঝুরি নয়, সত্যিকার অর্থেই  জঙ্গিপনার হাত থেকে বাংলাদেশ, আমার স্বদেশ ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত সোনার বাংলাদেশকে বাঁচাতেই হবে। কোন কিছু বন্ধ করে দিয়ে, কাউকে নির্যাতন করে নয় সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ বাঁচানো যাবে, অন্যভাবে নয়! ছবি-নিউজ এইজ থেকে নেয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s