বিজিএমইএর মিথ্যাচার ও রেশমার জীবিত উদ্ধার!

Reshma

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। রেশমা, দিনাজপুরের মেয়ে। টানা ১৭ দিন রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের সঙ্গে লড়াই করেছেন। শেষপর্যন্ত উদ্ধাকর্মীরা তাঁকে জীবীত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। জীবনযুদ্ধে রেশমার বিজয়। নি:সন্দেহে আনন্দের খবর এটি। বিশেষ:ত রেশমার পরিবারের কাছে এই রেশমার জীবীত উদ্ধারখবরটি মহা আনন্দের।
নির্মাণ ক্রটি, অনিয়ম ও ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত লোড নেয়ার কারণে ২৪ এপ্রিল ধ্বসে পড়ে রানা প্লাজা। এই প্লাজার ভেতরে ছিল পাঁচটি পোশাক কারখানা। কারখানাগুলিতে পাঁচ হাজারের মতো পোশাককর্মী কাজ করছিলেন। আগেরদিন ভবনটিতে ফাটল ধরার পরও পরদিন মালিকপক্ষ শ্রমিকদের জোর করে কারখানায় প্রবেশ করায়। এরপর ভবনটি ধ্বসে পড়ে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১১০০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আহতের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। আর ঘটনার ১৭ দিন পর জীবীত উদ্ধার হলেন রেশমা।
বাংলাদেশে যখনই পোশাক কারখানায় আগুন লাগে, কিংবা ভবন ধ্বসে পড়ে তখনই একটা আওয়াজ ওঠে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা নিয়ে। সেই আওয়াজের উদ্যোক্তা মূলত: পোশাক কারখানাগুলির সংগঠন বিজিএমইএ এবং সরকার। বিজিএমইএ আজ পর্যন্ত কোন ঘটনায় সত্য কথা বলেছে বলে আমার জানা নেই। তারা সবসময় শ্রমিক সংখ্যা কম দেখানোর চেষ্টা করে থাকে। এবারও রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। তারা বলেছিল পাঁচটি কারখানায় তিন হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করতো। এখন দেখা যাচ্ছে তারা মিথ্যা তথ্য জানিয়েছে দেশবাসিকে। সরকারও বিজিএমইএর পক্ষেই সাফাই গেয়ে থাকে। এবারও তেমনটিই ঘটেছে। কিন্তু বাস্তবতা সরকার ও বিজিএমইএর বক্তব্যকে সবসময় মিথ্যা বলে পরিগণিত করেছে। এবারও তাই ঘটলো।
রেশমা প্রসঙ্গে ফিরতে চাই। ফেইসবুক ও ব্লগে রেশমার উদ্ধার নিয়েঝড় উঠেছে। বাংলাদেশে কোন ঘটনা ঘটলেই ফেইসবুক ও ব্লগে এমন ঝড় তোলা হয়, এ আর নতুন কিছু নয়। কেউ কেউ এই রেশমার জীবিত উদ্ধার হওয়ার সঙ্গে সম্মিলিত মানুষের বেঁচে থাকার কথা বলছে। আমি বলবো, প্রায় ১১০০ জনকে কিন্তু বাঁচানো যায়নি! লোভী পোশাক কারখানা মালিক, দুষ্ট রাজনৈতিক চক্র আর টাকাওয়ালাদের রক্ষাকবচ রাষ্ট্রযন্ত্র কিন্তু বদলায়নি, তার আশু পরিবর্তন হবে বলে কোন ভরসা বা আস্থার জন্ম নেয়নি। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। একজন রেশমার জীবন বাঁচলো বটে, তবে উচ্ছ্বসিত নই আমি অন্ত:ত যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজ, রাষ্ট্র ব‍্যবস্থাটার চরিত্রগত কোন পরিবর্তন না ঘটে ততক্ষণ!
পরিশেষে সাভার ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় অংশ নেয়া সকল উদ্ধারকর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করছি। জয় হোক মানুষ ও মানবতার। ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s