কী হবে মানুষের স্বপ্ন, মানবতা আর জীবনের জয়গানের?

Jahangir Akash

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। “দুস্থ সাংবাদিক বনাম দোস্ত সাংবাদিক” শিরোনামের একটি আলোচনা-সমালোচনা চলছে ফেইসবুকে। সেখানেও আমিও আমার প্রতিক্রিয়া জানানোর চেষ্টা করছি। পরিচিতি কিন্তু আমাকে বাঁচাতে পারেনি, দু:দর্িনে পাশে ক’জনকেই বা পেয়েছি আমি সেই পুরনো কথাবাতর্া না তোলাই ভালো। আমি কিন্তু আমার কথা থেকে সরে আসতে পারবো না। এইরকম দলবাজি বা দলের পক্ষে থেকে সাংবাদিকতা করতে পারলে হয়ত ভালোই হতো, দেশের মাটি, জল, হাওয়া আর ভালোবাসায় ডুবে থাকার মজাই আলাদা। বিপদে পড়লে কেউ পাশে থাকে না, আপা। বিপদ কখনও আসেও না যদি না বিচার বহিভর্ূত মার্ডার বা ক্ষমতাবান রাজনীতিকদের মুখোশ উন্মোচন করার মতো কোন রিপোর্ট এড়িয়ে যাওয়ার কৌশলটা রপ্ত করা যায়! যাইহোক এটা আমার মত, আপনি একমত হবেন এটা আশা করি না। তবে আপনার কেন সবার মতকে শ্রদ্ধা করি আমি সবসময়ই। আমি কুন্তু বলিনি সবাই খারাপ, ব‍্যতিক্রমতো আছেই। আর শুধু কী রাজনীতি, মিডিয়ারতো আছে নিজ নিজ ব‍্যবসাপাতিও। সবমিলিয়েই সেলফসেন্সর, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, ক্ষমতাবানদের দাপটের ভীড়ে সুবিধাবাদই বিজয়ী হয়। এতে অন্ত:ত আমার কোন সংশয় নেই। দেশের রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন হবে, মানুষ মুক্তি পাবেন, মিডিয়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, পোশাক শ্রমক কেন সব শ্রমেরই ন‍্যায‍্য মজুরি, বেতন-ভাতা মিলবে, বন্ধ হবে মরণব‍্যধি দুর্নীতি এসবইতো আপনি, আমি আমরা সবাই চাই, তাই না? স্বদেশ ভালো থাকলে দূর থেকেও আনন্দটা ভাগ করে নেয়ার সুযোগটাতো থাকেই হাতে! সৎ বা সততা এটাও আপেক্ষিক! আয় আর ব্যয়ের অংকটার মধ্যে ফারাকটা চোখে দেখা যায়। সুতরাং সততা ও সৎ এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। ২০ বছরের সাংবাদিকতা জীবন কম নয়। এই সময়ে বহু ঘাত-প্রতিঘাত, জানা-অজানা, ভালো-মন্দ, সাধু-শয়তানির অনেক খেলাই নিজ চোখে দেখার সুযোগটা হয়েছে। কাছে থেকে দেখেছি অনেক বড় বড় সাংবাদিক, সম্পাদককে। সাংবাদিক সংগঠনের ছোট দায়িত্ব পালন করারও সুযোগ হয়েছিল আমার জীবনে। কাজেই এসব দিকে আর দৃষ্টি নিতে চাই না। তবে ধর্মচর্চা মানে যেমন জঙ্গিবাদকে সমর্থন বা ভাংচুর-জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা-নির্যাতন (ধর্ম এসব সমর্থন করে না) তেমনি প্রগতিশীলতা মানে মিথ্যাচার কিংবা হাসিনা ও খালেদার দলের পক্ষাবলম্বনসমৃদ্ধ সাংবাদিকতা করে নানান সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেয়া নয়। প্রগতিশীল সাংবাদিকতা বলতে জনসাংবাদিকতা, মানুষের সংগ্রাম, সংহতি, সম্প্রীতি, জীবনকে তুলে ধরাকে বুঝি। আর যারা তুলানিতে থেকে জীবন বাজি রেখে মানুষের তথ্য জানার অধিকারকে সমৃদ্ধ করার সংগ্রামে অবতীর্ণ তাদের ওপর পাড়া দিয়ে উপরতলার নেতৃত্ব কিভাবে নিজেদের আখের গোছানোর কাজটা সুচতুরভাবে করে থাকে তাও বুঝতে কোন গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না। আসল কথা হলো একটা সমাজে যখন আইনের শাসনের বালাই থাকে না, কিংবা বাস্তবে যখন গণতন্ত্রের কোন চর্চার নমুনা অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না তখন অন্যসব স্বাধীনতার আকাঙ্খা অমূলক! কোন আমলে রাজনীতির দুর্বৃত্তশ্রেণী ছাড়া মানুষ ভালো ছিলেন আমাদের বাংলায় সেটা আমার জানা নেই। তবে ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, হত্যা-নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি, অন্যায়-অরাজকতা, অন্যায্যতা, বৈষম্যের বিপক্ষে থাকলেই মানুষ, মানবতা ও জীবনের পক্ষে থাকা হয়। আবারও বলবো একটা সমাজ বা রাষ্ট্রে আইনের শাসন যখন কার্যকর থাকে, রাষ্ট্রের সব অঙ্গ বা প্রতিষ্ঠানগুলি যখন স্বাধীনভাবে চলতে পারে তখন সেই সমাজে বা রাষ্ট্রে অন্যসব সংকট মোকাবেলা করা যায়। কিন্তু আইনের শাসনহীনতা, গণতন্ত্রহীনতা জিইয়ে রেখে জোরজবরদস্তি করে হত্যা-নির্যাতনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ, হেফাজতনামধারী শয়তানবাদ কিংবা যুদ্ধাপরাধ-রাজাকারমুক্ত করা সহজ নয়, মুখে যতই স্লোগান তুলি না কেন, সেখানে ভবন ধ্বসে পড়বেই, পোশাকশ্রমিক মরবেই, সাংবাদিক মার খাবেই, বিনাবিচারে হত্যা-গুম চলবেই, দুর্নীতি থামবে না, জামা-শিবিরের রগকাটা অব্যাহত রবে আরও অন্য সব মানুষের অমর্যাদাকর কর্মগুলি চলতেই থাকবে, ভুলুন্ঠিত হবে মানুষের স্বপ্ন, মানবতা আর জীবনের জয়গান।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s