“চ” এর পরে এলো পরিবার ও ব্যক্তিগত বিষয়ে বাড়াবাড়ি।। কোথায় যাচ্ছে স্বদেশ?

Cartoon-fra google

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। স্বদেশে এখন শুরু হয়েছে নতুন খেলা। সংসদে “চ” অক্ষরের ব্যবহার নিয়ে তুলকালাম, মনে হয় যেন সিডর উঠেছে বাংলার ব্লগার, ফেসবুকারদের মাঝে! হেলাল হাফজ, ইমদাদুল হক মিলনসহ অনেক লেখকের রচনাতেও ওই “চ” শব্দ নিয়ে বহু শব্দ যেগুলিকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হয়, যদিও গ্রাম-বাংলার ঘরে ঘরে এমনকি তথাকথিত অনেক শিক্ষিত ভদ্রলোকের মুখেও এমন শব্দ শোনা যায়। এই “চ”ফোবিয়া শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেলো কে কোন ধর্মের মেয়েকে বা ছেলেকে বিয়ে করেছে, কার মা কোথা থেকে এসেছে-এমনসব বাজে আলোচনা, কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা চলছে পরস্পরের বিরুদ্ধে।

আমার প্রশ্ন হলো পরস্পরবিরোধী গালিগালাজ, দোষারোপের পালা আর অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি ছাড়া আমাদের ক্ষমতাপিপাসু দলগুলি বা তাদের সমর্থকেরা কী আর কোন ভালো ও মুক্ত, সাদা চিন্তা করতে পারে না, নাকি এরা সবাই জ্ঞানপাপী হয়ে গেছে? ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাস একেবারেই মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, পরোপকার আর দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার চেয়ে জয় কাকে কোন ধর্মের মানুষকে বিয়ে করলেন, কিংবা খালেদার মা কোন পারিবারিক ইতাহাস থেকে উঠে এসেছেন সেগুলি বড়! আসলে দেশের মানুষের নূ্যনতম মঙ্গল চাইলে কেউ এভাবে মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন-যাপন নিয়ে এভাবে নগ্ন আলোচনা বা সমালোচনার পথে অগ্রসর হতো বলে আমার মনে হয় না। আসলে এরাতো দেশকে, দেশের মানুষকে কেউ ভালো বাসে কিনা সেটা নিয়েই সন্দেহ আমার!

দেশে এখন কে কতবড় আস্তিক কিংবা নাস্তিক কিংবা কে কতবড় মুসলমান আর ইসলামিক তাই নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ! কিন্তু দেশের মানুষের জন্য কে কত বেশি কল্যাণ করতে পেরেছে বা পারবে বা পারছে কিংবা কে কত বেশি দুর্নীতি করেছে, মানুষের টাকা লুটপাট করে নিজেদের স্বর্গ গড়ে তুলেছে তা নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করে না আমাদের দলবাজ  তথাকথিত শিক্ষিতরা। কেউ কেউ আবার বিশেষ বছর ও রেজিমের হত্যা-নির্যাতনের খতিয়ানতুলে ধরে লেখালেখি করছে। কিন্তু দেশে র্মীয় সংখ্যালঘুরা যে সবসময় সব আমলেই মার খাচ্ছেন নির্বিচারে, অন্যায়ভাবে তার কোন সর্বজনীন চিত্র কারও লেখায় পাওয়া যায় না। শত্রুসম্পত্তি বা অর্পিত সম্পত্তি বলে বা দেখিয়ে শত্রুরা যখন তা দখল করে থাকে সেই শত্রু সম্পত্তি আসল মানুষ বা মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে “চ” (“চ” দিয়ে সংসদে প্রথম পর্যায়ে যে শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের মুখে তার মানে হলো, টালবাহানা) করছে সরকার তাদের মেয়াদের প্রায় পুরোটা সময়জুড়েই তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। আবার তিন ধর্মের নাম দিয়ে গড়ে তোলা একটা ঐক্যবদ্ধ সংগঠন আছে তারাও এখন মুখে কুলুপ এঁটেছে! বিশ্বজিতকেই মারা হোক, বা পুলিশের মাথাই থেতলে দেয়া হোক কিংবা জামাত-শিবিরই কারও হাত-পায়ের রগ কাটুক অথবা হেফাজতের কৌশলী কোন ষড়যন্ত্রের কারণে মাদ্রাসায় পড়ুয়া গরীবঘরের বা এতিম কোন সন্তানই নিহত হোক বা এলিটফোর্সের মিথ্যা ক্রসফায়ারে পড়ে নিহত হোক, হত্যা-নির্যাতনকে কোনভাবেই বরদাশত করা মানেই তা মানবতার বিপক্ষেই যায়। সেটা যে অজুহাতেই করা হোক না কেন হত্যা হত্যাই। এটাকে সমর্থন করা মানে সেটা বুঝতে আর কোন সমস্যা নেই যে যে বা যিনি সমর্থন করছেন সে বা তিনি আসলে খুনি বা নির্যাতনকারির পক্ষেই সাফাই গাইছেন। হত্যা-নির্যাতনের পক্ষাবলম্বন করামানেই অসভ্যতা, বর্বরতা।

সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের ধরা হচ্ছে না সেটা নিয়েও কেউ কথা বলে না (ব্যতিক্রম আছে, সেটা উদাহরণ হিসেবে দিতে পারবো না)। মানুষ গুম হয়ে যাবার পর আর কোন হদিস পাওয়া যায় না এমনকি লাশটারও সন্ধান পাবে না তার পরিবার তা নিয়ে কথা বলছে না কেউ, না হেফাজত, না আওয়ামী লীগ, না ব্লগার, না গণজাগরণ মঞ্চ এমনকি বিএনপিও না! কেউ খুনি বা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই কী তাকে মেরে ফেলতে হবে বা গুম করে দিতে পারে রাষ্ট্র? এটা একমাত্র জংলি সমাজেই করা সম্ভব। নরওয়েতে আনডেয়ার্স বে্রইভিক নামে এক যুবক ৭৭ জন নরওয়েজিয়ানকে হত্যা করেছে, কিন্তু তাকে খুন করেনি নরওয়ের পুলিশ, তার পরিবারের ওপরও কোন আক্রমণ করেনি কেউ, তার বাড়িঢ়রেও কেউ আগুন দেয়নি। তবে সরকার তার বিচার করেছে, তাও মৃত্যুদন্ড নয় (মৃতু্যদন্ড অমানবিক তাই এই সমাজে এটা চলবে না), ব্রেইভিক এখন কারাগারে। কারও মুখে ব্রেইভিক বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোন কথা শুনতে পারবেন না। কিন্তু এমনটা যদি আমার স্বদেশে কেউ ঘটাতে, ভাবুনতো একবার কী ম্যাসাকারটাই না ঘটে যেতো তার পরিবারের ওপর, বাড়িঘরের ওপর যে এমন হত্যাকান্ড ঘটাতো! আসলে আইনের শাসনের কার্যকারিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারা, মিডিয়া তার স্বাধীনতা নিয়ে জেগে আছে এমনটা যে সমাজ ও রাষ্ট্র দেখা যায় না সেই সমাজ ও রাষ্ট্র কে কী সভ্য, গণতান্ত্রিক বলা যায় কখনও?

মানুষ, মানবতা আর মানবসেবার চেয়ে ইহুদি, খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান, আদিবাসির পরিচয় কী কখনও বড় হতে পারে? আসলে যারা এই ধর্ম, পরিবার আর ব্যক্তিগত বিষয়গুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পছন্দ করি তারা আসলে মানুষের কোন পর্যায়ে পড়ি কিনা সেই প্রশ্নটা আমার নিজেকেই করতে ইচ্ছে হচ্ছে? কাটর্ুন এই ছবিটি গুগল থেকে সংগৃহীত।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s