হাসিনার সরকার কী আমেরিকার প্রতি নতজানু নাকি ইউনুসের কথায় চলে ওবামার সরকার?

Hasina-Yunus

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। ড. মুহাম্মদ ইউনুস নাকি দারিদ্র বিমোচনে কাজ করছেন! নোবেল জয় করছেন। অবশ্য নোবেল প্রদান নাকি এখন একটা রাজনৈতিক খেলা! এমন আলোচনা প্রায়ই চলছে সামাজিক মিডিয়ায়। প্রসঙ্গ এটা নয়। কথা বলতে চাই অন্য বিষয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছে আমেরিকার সরকার।

২০০৯ সালে জার্মানিতে আসার পর থেকেই আমি বাংলাদেশের তৈরী পোশাক বিশেষত: শার্ট ও প্যান্ট এবং গেঞ্জি কেনার চেষ্টা করছি। আর রানা প্লাজার ঘটনার পর এই প্রচেষ্টা আরও বেড়েছে। নরওয়েতে ব্যাপক আলোচনা বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে। অনেকে এমনও মন্তব্য করেছেন যে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক দেখলেই শত শত শ্রমিকের লাশ, কান্না ও তাদের দূরবস্থার কথা মনে পড়ে যায়! তাই তারা বাংলাদেশের পোশাক এখন থেকে কিনবেন কি কিনবেন না সে বিষয়ে ব্যাপক ভাবনা তাদের। এমন অনেক মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। আমি তাদের বলার চেষ্টা করেছি যে এখন আপনাদের উচি‌ত হবে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক আরও বেশি বেশি করে কেনা। পাশাপাশি সেখানে পোশাক শিল্পের অবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের সরকারের ওপর একটা চাপ অব্যাহত রাখা। তাহলে বাংলাদেশের শ্রমিক বাঁচবে, অর্থনীতির উন্নতি হবে এবং আপনারাও (যারা কমদানে সস্তায় পোশাক কিনে পরতে পারেন) কম দামে ভালো মানের পোশাক কিনতে পারবেন। সামাজিক গণমাধ্যম ফেইসবুকেও আমি এসব নিয়ে লেখালেখি করেছি। কিন্তু আজ আকস্মিকভাবে একটা খবর মিডিয়ায় এলো যে আমেরিকা বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছে। এই খবরে আর কেউ না হোক বাংলাদেশের দুই ক্ষমতালোভী খুশি হবেন! আর সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সেই দুইজনের ওপর দোষ চাপিয়ে গোটা দেশের মানুষের সহানুভুতি পাবার চেষ্টা করবে আগামি নির্বাচনি যুদ্ধে!
ওবামা সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্বদেশের অর্থনীতি ও পোশাক শিল্পের ওপর এক দারুণ আঘাত বলে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মত দিয়েছে। আমেরিকা কেন এমন শক্ত সিদ্ধান্ত নিলো তা কী বাংলাদেশের সরকার বিবেচনায় নিয়েছে? এমন একটা সিদ্ধান্ত আসতে পারে বা আসবে বলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। মহাজোট সরকারের একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রি আছেন যিনি বিদেশ ভ্রমণে বেশ স্বাচ্ছন্দবোধ করেন, কিন্তু তাঁর এই ভ্রমণে দেশের ও দেশের মানুষের কী কল্যাণ বয়ে আসে তার কোন ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি কী কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে?

 

বাংলাদেশে শ্রমিক হত্যা ও তার বিচার না হওয়া, পোশাক কারখানাগুলিতে নিরাপত্তার অব্যবস্থা, শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা তথা মজুরি না দেয়া ছাড়াও কারখানাগুলিতে একের পর এক আগুন আর ভবন ধ্বসের কারণে শ্রমিক গণহত্যার ঘটনাগুলিতে আমেরিকা ছাড়া সারা ইউরোপজুড়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেয়া নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থে এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলেন নোবেলজয়ী ও আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ড. ইউনুস এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া।

হাসিনার মহাজোট সরকার টিকফা চুক্তি করেও ওবাসা সরকারের সমর্থন আদায় করতে পারলো না। এক্ষেত্রে বলা যায় ইউনুসই জয়ী হলেন, দীপুমণিদের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো গুরুত্বর্পূণ পদে বসিয়ে রেখে লাভ কী তবে?

মুনাফালোভী মানুষটি বলে বেড়াচ্ছেন যে অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের দারিদ্রতাকে জাদুঘরে দেখা যাবে, বাস্তবে কেবল শান্তি আর দুধের নহর বইয়ে যাবে! বোকার স্বর্গে বাস আর কী? বরং গরীব মানুষ ঋণের জালে আটকা পড়ছে। এক সংস্থার ঋণ শোধ করতে আরেক সংস্থার কাছে ঋণ করতে হচ্ছে। অনেকে ঋণ পরিশোধ করতে ভিটেমাটি বিক্রি করছেন। দারিদ্রতা জাদুঘরে নয় ঘরে ঘরে মিলবে। ৪০ থেকে ১২৫ শতাংশ সুদ নজিরবিহীন! অথচ দরিদ্র নারীরা যে সঞ্চয় করেন প্রতি সপ্তাহে নোবেলজয়ীর প্রতিষ্ঠানে তার ক্ষেত্রে কত শতাংশ সুদ দেয়া হয় তার হিসাব আজও কোন মিডিয়ায় এলো না।

জিএসপি স্থগিত একধরণের মানবাধিকার লংঘণ, আমরা স্থগিত নয় চাই অবস্থার পরিবর্তন। শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও ভাত-কাপড়ের নিরাপত্তা এবং কারখানার পরিবেশের উন্নয়ন জরুরি। জিএসপি সুবিধা বন্ধ/স্থগিত বা কাপড় কেনা বন্ধ করে দেয়াতে দারিদ্রতা বাড়বে, ড. ইউনুসরা কী সেটাই চাইছেন নাকি?

ড. ইউনুসের জন্মদিনে তিনি আমেরিকার সরকারের কাছ থেকে পুরস্কার পেলেন তাও আবার বাংলাদেশের অর্থনীতির বারো বাজানোর মতো পুরস্কার, ৪০ লাখ পোশাক শ্রমিকের পেটে লাথি মারার পুরস্কার! আর উনি নাকি দারিদ্র বিমোচন করছেন, নাকি দারিদ্রতাকে বাঁচিয়ে রেখে নিজের তথাকথিত সুদখোরি সামাজিক ব্যবসা জিইয়ে রাখা ও   জনসমর্থন ছাড়াই দেশের প্রধান হবার রাজনৈতিক খায়েশকে পূরণ করার এক সাম্রাজ্যবাদি দর্শন প্রচার করে চলেছেন?

হাসিনার সরকার যদি আমেরিকার প্রতি নতজানু না হয়ে থাকেতো পাল্টা ক্ষমতা দেখিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশ এখন টিকফা চুক্তি বাতিল করে দিলে বুঝবো হাসিনার সরকার নতজানু সরকার নয়, এই সরকার জনগণের সরকার এবং দেশের মাটি, মানুষ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শক্ত অবস্থানও নিতে পারে! ছবি-গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s