পুরোপুরি শত্রুমুক্ত ও গ্লানিমুক্ত হোক স্বদেশ!

Bangladesh

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। হাসিনার মহাজোট সরকার কী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে “তামাশা” মনে করে? নাকি এই ইসু্যকে জিইয়ে রেখে আগামি র্নিবাচনে ভোটের রাজনীতি করতে চায়? যে পথেই যাক মহাজোট সরকার, আগামি র্নিবাচনে জয়লাভ করাটা কতটা সহজ তা কেবল সময়ই বলে দেবে! কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কোন ছিনিমিনি, ছলচাতুরি দেশের মানুষ (জামাত-শিবির, হেফাজত, যুদ্ধাপরাধী ও পাকিস্তানপন্থিরা ছাড়া) মেনে নেবেন না। হেফাজতকে ছাড় দিয়ে, যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবী ও সাম্রাজ্যবাদি প্রভুদের নিয়ে গোপন বৈঠক করে কিংবা সাপকে যতই দুধ-কলা দিয়ে পোষ মানানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, সাপ তার নিজ ধর্ম অনুযায়ী ফণা তুলবেই, তুলবে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা কিছুদিন আগে বলেছেন যে, তাঁর সরকারের মেয়াদেই যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের রায় কার্যকর করা হবে! আর এখন জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন মুনসুর আলীর সন্তান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে জয়ী করার মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় আনলে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর হবে।’ (সূত্র-ইত্তেফাক)। কিছু মন্ত্রি-এমপির লাগামহীন দুর্নীতি, সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের বাড়াবাড়ি, “নবীন ও নতুন” এমপিদের এলাকায় এমপিতন্ত্র আর দলীয় ত্যাগি নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ণসহ শাসন ব্যবস্থার নানান ত্রুটির কারণে ফ্লোটিং নেগেটিভ ভোটের সমর্থন কিন্তু মহাজোটের ঘরে আসবে না! বিএনপি-জামাতের আমলেও তাদের বিশেষ ভবন, দুর্নীতি, দলীয়করণ, জঙ্গিবাদ ও দু:শাসনের কারণে নেগেটিভ ভোটবিপ্লবের জোয়ারে মহাজোট বিজয়ী হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। ঠিক একই অবস্থা হয়তো আগামি নির্বাচনে বিরোধীপক্ষের ঘরে বিজয় এনে দেবে। এঅবস্থাই যুদ্ধাপরাধ ইসু্যর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসু্যতে সরকার প্রধান ও সরকারের ক্ষমতাবান নেতাদের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য বা বক্তব্য আখেরে সরকারি দলেরই ক্ষতি বৈ লাভ হবে না।
যাহোক এতোদিন জেনে এসেছি যে, অপরাধ, অপরাধের ধরণ ও মাত্রা দেখে অপরাধীর সাজা বা শাস্তি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এখন নতুন ধারণা দিলো আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইবু্যনাল নাকি রাজাকার শিরোমণি, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগেরই প্রতিটিই প্রমাণিত হবার পরও বয়স ও শারীরীক অবস্থা বিবেবচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে ৯০ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে এবং নীতিগত কারণে আমি সর্বোচ্চ শাস্তি তথা মৃতু্যদন্ডকে কখনই সমর্থন করি না। গোলাম আজমইতো মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানিদের পক্ষে তথা গণহত্যার বেসামরিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এটা সর্বজন স্বীকৃত একটা সত্য। যে গোলাম আজম মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত সেই কুখ্যাত ব্যক্তির বয়স ও শারীরীক অবস্থা বিবেবচনায় নেয়া হলো কোন আইনের বলে? এই প্রশ্নটি করা কী আদালত অবমাননার মধ্যে পড়ে? যদি পড়েও তবুও সেই অবমাননাটুকু করতে কোন দ্বিধা নেই এই কারণে যে, একাত্তরের শহীদ ৩০ লাখ আত্মা, দুই লাখ মা বোনের আত্ম মর্যাদার ওপর আঘাত এবং এসব মানুষের স্বজনদের মনোবেদনার চেয়েও কী একজন গনহত্যাকারির বয়স ও শারীরীক অবস্থা বড় হয়ে দেখা দিতে পারে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কী শুধু আওয়ামী লীগ বা হাসিনার সরকারের অভিলাষ নাকি এটা গোটা জাতির (হ্যাঁ, জামাত-শিবির-ঘাতক-যুদ্ধাপরাধী ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রাজনৈতিক দল ছাড়া সকলেই) দাবি?
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোন খেলা নয়, এটা জাতির জন্য একটা দায়। ৪২ বছর ধরে বাঙালি জাতি কলংক বয়ে বেড়াচ্ছে। সেই কলংক মোচনের একটা উদ্যোগ হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। জাতি সেদিনই কলংকমুক্ত হবে, জাতির দায় সেদিনই ঘুচবে যেদিন দেশে জীবীত সব রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে (সেটা যাবজ্জীবনই হোক, ৯০ বছরই হোক আর সর্বোচ্চ শাস্তিই হোক)। আর তখনই কেবল শহীদের আত্মা শাস্তি পাবে। শহীদদের স্বজনেরা যেদিন বলতে পারবেন যে আমরা বিচার পেয়েছি সেদিনই জাতি কলংকমুক্ত ও দায়মুক্ত হতে পারবে।
ট্রাইবু্যনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “জামাত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।” বাংলাদেশের সংবিধান মতে কোন সন্ত্রাসী সংগঠন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারে না। এখন দেখার বিষয় সরকার এই সন্ত্রাসী সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ কের কিনা? এই জামাত-শিবিরের সন্ত্রাস, তান্ডব এখনও চলছে।
বিএনপি যদি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায় তাহলে জামাত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে, নইলে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি একদিন পুরো বিএনপিকে গিলে খাবে- এতে কোন সন্দেহ নেই!
মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই (ঘাতক-যুদ্ধাপরাধী-জামাত-শিবির ছাড়া) পরিস্কার পথ বেছে নিতে হবে, যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে, নইলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ রক্ষা করা যাবে কিনা-সেই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই! সরকারকে বলবো জামাত-শিবিরকে এখনই নিষিদ্ধ করো, নইলে ওদের তান্ডবলীলা থামানো যাবে না। ওরা আরও মরিয়া হয়ে উঠবে!!! পুরোপুরি শত্রুমুক্ত ও গ্লানিমুক্ত হোক স্বদেশ-এটাই তো আমার প্রত্যাশা। ছবি-গুগল থেকে নেয়া।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s