আর নয় জেদাজেদি-অসহিষ্ণুতা-অহমিকা ।। জয় হোক মানুষের, বেঁচে থাক স্বদেশ

Bangladesh

জাহাঙ্গীর আকাশ ॥ আমার, আমাদের ভাগ্য ভালো যে স্বদেশের প্রধানমন্ত্রি ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর এই অসহিষ্ণু ঝগড়াটে “গণতন্ত্র”র মুখোশটা ইংরেজী, জার্মান কিংবা নরওয়েজিয়ান ভাষাভাষিরা কেউই বুঝবেন না। নইলে একজন প্রবাসি বাঙালি হিসেবে আমার মাথা লজ্জায় নূয়ে যেতো। বিরোধী নেত্রী উপর্যূপুরি কথা বলছেন, আর প্রধানমন্ত্রি অন্ত:ত কিছুটা ধৈর্য্যের সাথে জবাব দেবার প্রচেষ্টা করছিলেন। আসলে শিক্ষার গুণই আলাদা। এখন বলুন টেলিফোনেই কী মারমুখী আচরণ তাহলে মুখোমুখি সংলাপে বসলে কী অবস্থা হতে পারে?

যত বড়ই শত্রুতা থাকুক যখন কেউ কারও বাসায় আমন্ত্রণ জানান তার মর্যাদা দেয়াটা ব্যক্তি মানুষের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে।অন্ত:তপক্ষে বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যেতো সৌজন্যতাবোধ এখনও উবে যায়নি! সেই সামান্য সৌজন্যতাটুকু অন্ত:ত বেগম জিয়া দেখাতে পারতেন। খালেদা জিয়া, আমন্ত্রণ নাও গ্রহণ করতে পারেন, বা পারতেন, কিন্তু ঝগড়া লাগানোর মধ্য দিয়ে উনার ব্যক্তিমানসিকতাটাও ফুটে উঠলো জাতির সামনে।

রাজনীতিতো আর সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে ঘর করলেই পরীশীলত হয় না। রাজনীতির জন্য দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ আর শিক্ষার দরকার। সেটা কার আছে তা ফোনালাপের ভেতরেই ফুটে উঠেছে, তা আর পরিস্কার করে বলার দরকার পড়ে না।
কে কতবড় গণতান্ত্রিক বা কে কত বেশি ঝগড়া করতে পারলেন অন্যের বিপক্ষে, কার কণ্ঠ রুঢ় আর কার ভাষা মার্জিত বোঝার জন্য কোন গবেষণার দরকার হয় না আর কোন পড়াশোনাও লাগে না। এই অডিও কণ্ঠ যিনিই শুনবেন বা শুনেছেন তিনিই বুঝবেন বা বুঝেছেন যে হাসিনা সহনশীল নাকি খালেদা সহনশীল?
প্রশ্নটা হলো-রাজনীতিটা কার জন্য? রাজনীতি কী মানুষের জন্য, দেশের জন্য নাকি কোন ব্যক্তি বা দলের জন্য? সত্যিই যদি কেউ বা কোন দল দেশের মঙ্গল ও মানুষের কল্যাণ চায় তাহলে হরতাল প্রত্যাহার করার জন্য সময় কোন অজুহাত হতে পারে না। ফোনালাপের ৩৭ মিনিট চলে গেলো পুরনো কাসুন্দি, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই। উনারা অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করলেন। উনারা বর্তমানের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্নপথ, মানুষের মুক্তি আর দেশের স্বার্থচিন্তা করার ফুসরতই পেলেন না।
এই সংলাপ, সংলাপ খেলাটাতো আর নতুন কিছু নয় বাংলার মানুষের কাছে। সংলাপ, আলোচনা, পরমত সহিষ্ণুতা আর মিলেমিশে কাজ করার সংস্কৃতি কী আর বাংলাদেশের নেতৃত্ব (অন্ত:ত ভোট ও ক্ষমতার রাজনীতিতে) প্রদানকারি বড় দুইটি রাজনৈতিক দলে দেখা যায়, নাকি এই দল দু`‌টির শীর্ষ নেতারা এই সংস্কৃতিকে ধারণ করেন?
উনারা কী নিজেদের দলের ভেতরেই গণতন্ত্র চর্চা করেন? নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে উনারা কী তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামতের গুরুত্ব প্রদান করেন নাকি কোটিপতি আর ব্যবসায়ীদের “অর্থ”র কাছে নতি স্বীকার করে দলের ত্যাগি ও পুরনো নেতাদের বাদ দিয়ে নব্যদের মনোনয়ন প্রদান করেন?
যাহোক, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় উনারা অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে পছন্দ করলেও অতীত থেকে শিক্ষা নিতে চান না। এখানে উল্লেখ্য যে ২০০৬ সালেও দেশে একটা চরম অশান্তিকর অবস্থা তৈরী করা হয়েছিল কেবলমাত্র ক্ষমতার লোভ-মোহ আর পরস্পরবিরোধী অবিশ্বাস ও অসহিষ্ণু মানসিতার কারণে। আজ ঠিক আবার বাংলার আকাশ-বাতাস পেরিয়ে বিদেশভূমে বসেও স্বদেশের মাটিতে ২০০৬ সালের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে ২০১৩ তে এসে।
পরিশেষে বলবো আমাদের বাংলার রাজনীতিতে এই দুই “অত্যাবশ্যকীয়” নেতা যদি অন্ধকার, অসহিষ্ণুতা আর বিষোদগার পছন্দ করেন তবে তো কোন কথাই নেই! কিন্তু উনারা যদি কালো নয় আলোর স্বদেশ দেখতে চান তবে অবশ্যই তাঁদের উভয়কে “তালগাছ” ছেড়ে সংলাপে বসতে হবে, নইলে ভালো দিন কারো জন্যই আসবে না! সেটা তো উনারা উভয়ই টের পেয়েছেন “ড. ফখরুদ্দীন-মঈন উ.”র শাসনকালের দুই বছরে।
আশা করবো উনারা আর পেছনে হাটবেন না, সামনে চলবেন, সহজ ও মসৃণ পথে। খালেদা স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী-হেফাজতিদের রক্ষায় হরতাল না দিয়ে গণতন্ত্রচর্চার জন্য, সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য, মানুষকে, দেশকে বাঁচানোর লক্ষ্যে শত হরতাল দেবেন! তবে বোমাবাজি-জ্বালাও-পোড়াও-ভাংচুর ও মানুষ মারার হরতাল বন্ধ করবেন।
আর গোটা বাংলাদেশ যে দলটির নেতৃত্ব স্বাধীনতা অর্জন করেছে সেই দলের নেত্রীও স্বৈরাচারের সঙ্গ ত্যাগ করে দলের ত্যাগি নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ণ করবেন, কোন কোটিপতি ব্যবসায়ীকে তার ব্যবসা রক্ষা করার জন্য আগামি নির্বাচনে মনোনয়ন দেবেন না এমন প্রত্যাশা করেই লেখার সমাপ্তি টানছি।
অবসান হোক জেদাজেদি আর অহমিকা-অসহিষ্ণুতার, জয় হোক মানুষের। পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাক মোদের স্বদেশ, রবি ঠাকুর, নজরুল আর বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ। ছবি> গুগল থেকে সংগৃহিত।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s