Monthly Archives: এপ্রিল 2014

ফের সাংবাদিক নির্যাতন> নেপথ‍্যে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। রাজশাহী আমার জন্মস্থান নয়। মানুষ তার জন্মস্থানকে সম্ভবত ভুলতে পারে না। আমার জন্মস্থান পঞ্চগড়। পড়ালেখার জন‍্য আমি আমার জীবনের সেরা সময়টুকু কাটিয়েছি এই রাজশাহীতে।

দীঘর্ বিশ্ববিদ‍্যালয় জীবন এবং সাংবাদিকতা মিলিয়ে পুেরা ১৬ টি বছর কেটেছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই প্রাচীন বিভাগীয় শহরটিতে। রাজশাহীর অলি-গলি আমার চেনা। কী পেশাজীবী, রাজনীতিক, ব‍্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ সবই আমার চেনা-জানা। কেউ কেউ আবার খুবই ঘনিষ্ট। তাই রাজশাহীতে েকান কিছু ঘটলে বিশেষত েকান খারাপ খবর েচাখে পড়লে মনে ব‍্যাথা লাগে। কষ্ট পাই, দারুণভাবে ভেঙ্গে পড়ি রাজশাহীর েকান দু:সংবাদে।

আর যখন আমার সহকমীর্, সতীথর্ সাংবাদিক বন্ধুরা নিগৃহীত, লাঞ্ছিত, অপমানিত ও হামলার শিকার হন তখন আর দু:খের শেষ থাকে না। লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে আমার। কারণ আমি আমার সহকমর্ীদের দুদর্িনে কাছে থাকতে পারছি না, সহানুভুতি জানাতে পারি না, পারি না হামলাকারিদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে রাজপথের মিছিলে সমবেত হতে। তাই দূর থেকেই কেবল েচাখের জল আর আন্তরিক শুভ প্রত‍্যাশার মাধ‍্যমেই আমার মনের আকুতির প্রকাশ ঘটে।

ডিজিটাল যুগের কল‍্যাণে এখন েকান খবর আর বেশি সময় লাগে না পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে। রাজশাহী মেডিক‍্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ণী চিকিৎসকদের হামলায় ১০ জন সাংবাদিক বন্ধু আহত হয়েছেন। এদের মধ‍্যে একজনের অবস্থা খারাপ, তাকে উনাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এধরণের হামলা ওখানে নতুন কিছু নয়। আমি যখন রাজশাহীতে সাংবাদিকতা করি তখনও এমন অনেক হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের তৎকালিন কতর্ৃপক্ষ হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। জানি না, সেই ফরমান এখনও বলবৎ আছে কি না।

এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলে মন্ত্রি, এমপি ও মেয়ররা ঘটনাস্থলে ছুটে যান, প্রশাসন ঘটনা তদন্তের জন‍্য কমিটি গঠন করে, সন্ত্রাসী যেই েহাক তার কঠিন  শাস্তি হবে বলে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা ফাঁপা বুলি আওড়ায়। এবারও তার ব‍্যতিক্রম ঘটেনি। েখাদ হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস‍্য ঘটনাস্থলে গিয়ে দায়িদের বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বড়ই তেঁেতা। কারণ এধরণের বহু ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু অপরাধীরা শাস্তি পায়নি। হয়নি েকান সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতেনর বিচার। সারাদেশ ঝুড়ে এমন শত শত ঘটনার উদাহরণ দেয়া যাবে। বিশেষ করে রাজশাহীতে সাংবাদিক নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনাগুলির সাথে জড়িতদের সাথে পরবতর্ীতে সমেঝাতার নামে দায়িদের রক্ষা করার বহু নজির রয়েছে।

একটি ঘটনার উদাহরণ দিতে চাই, যদিও এই ঘটনাটি সাংবাদিক নিযর্াতেনর সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়। ২০০৭ সালের ১৮ মে রাজশাহীর বনগ্রামে ওয়াকর্াস পার্টির ওয়াডর্ নেতা মজনু শেখকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী পিটিয়ে হত‍্যা করে। তার ওপর অনুসন্ধানীয় রিেপাটর্ এবং মেয়র লিটন, উনার চাচা েলাটনের সন্ত্রাস ও দুনর্ীতির প্রতিবেদন করার মূল‍্য দিতে গিয়ে আমাকেও নিশ্চিত মৃতু‍্যর দুয়ার থেকে ঘুরে আসতে হয়েছে, আর এখন স্বদেশহারা। যােহাক সেই মজনু হত‍্যা মামলাটির ব‍্যাপারে আমাদের সংসদ সদস‍্য বাদশা সাহেব কী উেদ‍্যাগ নিয়েছেন তাও আজ আমার জানা নেই। তবে শুনেছি সদস‍্য বিদায় ক্ষমতাসীন দলের মেয়র নাকি সেই হত‍্যা মামলাটি আেপাষ করতে মজনুর পরিবারের সদস‍্যদের কাছে বারবার ধরণা দিয়েছিলেন। সেই মজনু হত‍্যা মামলার ভাগ‍্যে কী ঘটেছে তার জন‍্য আমাদের সংসদ সদস‍্য বাদশা সাহেব কী েকান ব‍্যবস্থা নিয়েছেন?

আমি এসব সন্ত্রাসী ঘটনা ও হামলার ঘটনার জন‍্য ওই ইন্টাণর্ীদের দায়ি করতে চাই না। কারণ আমি মনে করি স্বদেশে দুবর্ৃত্ত রাজনীতির কারণে এসব গুন্ডাপান্ডারা একটার পর একটা ঘটনা ঘটােনার সাহস পাচ্ছে। আর সমাজে ন‍্যায়বিচার না থাকলে, সবর্ত্র সবর্গ্রাসী দুর্নীতি জিইয়ে থাকলে, দলবাজি বন্ধ না হলে সন্ত্রাস, হামলা, নির্যাতন, অবিচার কী বন্ধ করা যাবে কখনও? না, কখনও সম্ভব নয়।

আমার প্রত‍্যাশা, সাংবাদিক বন্ধুরা দলমত ভুলে একতাবদ্ধ হবেন। সাংবাদিকরা অবিচার আর অন‍্যায়ের সঙ্গে আেপাষ বা সমেঝাতা নয় বরং দুবর্ৃত্তদের বিরুদ্ধে ক্ষুরধার লেখনির মাধ‍্যমে সমাজের মানুষকে জাগিয়ে তুলবেন এসব সন্ত্রাসী হামলা ও গুন্ডামির বিরুদ্ধে।

আমি আশা করি এবার সাংবাদিক হামলাকারিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব‍্যবস্থা হবে। এই ঘটনার পেছনে েতা আর রাষ্ট্রীয় এলিট বাহিনীর হাত নেই যে বাদশারা ভয় পাবেন!

পরিশেষে সাংবাদিক বন্ধু যারা পেশাগত কারণে নির্যািতত হলেন তাদের প্রতি সহানুভূতি জানাই। ধিক্কার দিচ্ছি হামলাকারি  সন্ত্রাসীদের। ধন‍্যবাদ জানাচ্ছি রাজশাহীর সংসদ সদস‍্য ফজলে েহাসেন বাদশা, আয়েনউদ্দিন ও মেয়র েমাসাদ্দেক েহাসেন বুলবুলকে যাঁরা সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন। আর আরেকদফায় উনাদের ধন‍্যবাদ জানােবা তখন, যেদিন হামলাকারিদের শাস্তি হবে।