গণতন্ত্র, তুমি কী এখনও বেঁচে আছো?

জাহাঙ্গীর আকাশ ॥ স্বাধীনতার ৪৭ বছরে আমাদের গণতন্ত্র কতটুকু এগিয়েছে? আমাদের নাগরিক সমাজ কতখানি গণতন্ত্রকে এগুতে সহায়তা করতে পেরেছে? গণমাধ্যম কতটুকু স্বাধীন এবং জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে চাই না। হাতে গোনা দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ওখানে নাগরিক সমাজ ও মিডিয়া মুখে নিজে নিজেই টেপ মারলেও গণতন্ত্র আর নির্বাচনের কদর্য চেহারাটাকে শত প্রচেষ্টাতেও ঢেকে রাখা যায়নি। এখন সেই কদর্যতার দুর্গন্ধ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ছে।

স্বেচ্ছাপ্রণোদিত লজ্জা, ঘৃণায় তাড়িত হওয়ার বাইরে আর কিছু করার আছে বলে কোন বিকল্প পথ আমার জানা নেই। সত্তরের নির্বাচনের কথা মনে হলে গর্ভে বুকটা ফুলে ওঠে। আর আজকের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা জাতি হিসেবে কতটা সম্মান অর্জন করলাম তার উত্তর আমি দিতে চাই না।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ত্বে মহাজোট সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে শেখ হাসিনার আমলেই। জঙ্গিবাদের উত্থানও দমন হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতেই। তাহলে জনগণের প্রতি বিশ্বাসহারা হবার কী কোন কারণ ছিল?

আমি শুধু আমার ঢাকায় বসবাসকারি এক বন্ধুর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরছি। বন্ধু জানালো যে, “গণতন্ত্র ও নির্বাচনের এই কেলেংকারি না করেও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দলটি তাদের তাদের “স্বৈরাচারি ও অন্যান্য তথাকথিত বাম সুহৃদ”দের সাথে নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করতো।”

আমার তো মনে হয় যে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, নির্বাচনি প্রচারণায় সমান অধিকার পাওয়া, সংসদে শক্তিশালী বিরোধীদল, নাগরিক সমাজের কার্যকর ভূমিকা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা (দলবাজি বা আওয়ামীবাজ বা বিএনপিবাজ সাংবাদিকতা নয়), বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর স্বাধীনভাবে কাজ করা এবং সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারার মতো বিষয়গুলি নির্বাচন ও গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে জরুরি।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, সংসদে শক্তিশালী বিরোধীদল ছাড়া যেমন গণতন্ত্র তার পরিপূর্ণতা পায় না তেমনি কার্যকর গণতন্ত্র ছাড়া আইনের শাসন ও মানবাধিকারের কথা চিন্তাও করা যায় না।

আশা করি আমার লেখার শুরুতেই যেসব প্রশ্নর অবতারণা আমি করেছি সেই প্রশ্নগুলির উত্তর স্বদেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া যাবে বলেই আমার বিশ্বাস।

ইংরেজী নতুন বছরের (২০১৯) শুভেচ্ছা জানিয়ে গণতন্ত্র ও শান্তির প্রত্যাশা করছি।

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s