“আমার অহংকার, আমার অসহায়ত্ব”

২০০৯ সালের ২১ এর বইমেলায় “অন্ধকারে ১৫ ঘন্টা” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করছেন শিক্ষাবিদ আ স ম আরেফিন সিদ্দিক

মাকে মনে পড়ে। জন্মভূমিকে খুঁজে ফিরি। পরভাষাকে আপন করে দেখি। বাংলায় লিখি না, কথা বলি না। আমি ছাড়া অন্য সব বাঙালিই তো বাংলার চর্চা করে চলেছেন। বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতি আর একটা অসাম্প্রদায়িক দেশের জন্য যে লড়াই, সংগ্রাম ও ত্যাগ তার স্বাদ কি বাঙালি পেয়েছে, আজও যেখানে একদল ধর্মান্ধের কাছে রাষ্ট্র নতি স্বীকার করে শিল্প-সংস্কৃতিকে উপড়ে ফেলতে ঔদ্ধত্য দেখায়? বাঙালির ত্যাগ ও জীবনের বিনিময়েইতো আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আমার সমাজ, আমাদের রাজনীতি, যারা দেশ চালায় তারা কী কোনদিনও একজন স্বদেশহারা মানুষের মনোবেদনা বোঝার চেষ্টা করতে পারবে যেখানে তোষামদি, পরিবারতন্ত্র, স্বজনপ্রীতি আর দুর্নীতি বড় হয়ে ওঠে? যারা মিথ্যা অভিযোগ সাজায়, ভুয়া সাক্ষ্য দেয় একজন সৎ ও সাহসী মানুষকে শায়েস্তা করার জন্য আর রাষ্ট্রীয় সকল পদ্ধতি ওই দুষ্ট চক্রের পক্ষে দাঁডায় তখন কী কারও বলার অধিকার থাকে যে যারা ভীরু এবং দেশকে ভালোবাসেনা তাঁরাই দেশ ছেড়ে পালায়। আমি মনে করি, সকল দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রে আছে অনিয়ম, দুর্নীতি, ধর্ষণ আর ঘটে নানা অপরাধ, সেটা বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত কিংবা ধনী দেশই হোক না কেন? কিন্তু বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা (যদিও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছেমত করে আঘাত দেওয়াকে আমি মনে করি না যে এটা স্বাধীনতা কিন্তু দায়িত্বহীনতা। ধর্মকে কটাক্ষ না করে দারিদ্রতা, অশিক্ষা, অনিয়ম, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, বৈষম্য, ধর্মান্ধতা, অপরাধ, অরাজকতাসহ সমাজে শত সমস্যা আছে যেগুলো নিয়ে কথা বলা যায়, ব্যঙ্গ করা যায়, রাস্তায় নামা যায়, লেখালেখি করা যায়, মানুষকে একত্রিত করা যায়। ধর্মতো ব্যক্তিগত বিশ্বাস, কেউ বিশ্বাস করলে করবে, কেউ না করলে না করবে। মানুষইতো মূল কথা। একটা শিশু যখন জন্ম নেয় তখন কী সেই শিশু সব ঠিক করে জন্ম নেয় যে ও হিন্দু হবে, মুসলমান হবে, খ্রীষ্টান হবে, বৌদ্ধ ধর্ম পালন করবে, ইহুদি ধর্মে আস্থা রাখবে নাকি ও আদিবাসি পরিবারে বেড়ে উঠবে? শিশুটি যখন একটা পরিবারে বড় হতে থাকবে সে তো সেই পরিবারের বিশ্বাস, আচার, কানুন, সংস্কৃতি আর অভ্যাসগুলো রপ্ত করতে থাকবে। আর এটা ভাবাও বোকামি যে সবাই নাস্তিক হবে বা সবাই আস্তিক কিংবা সবাই আপনার মতো চিন্তা করতে বাধ্য।) আর রাষ্ট্রীয় কাঠামোগুলো কাজ করে ঠিক যেভাবে করার কথা। আমার অহংকার, আমি বাঙালি। আমার অসহায়ত্ব, আমি স্বদেশ হারিয়েছি। আমার ভালো লাগা আর বেঁচে থাকা এইজন্য যে আমি একটা নতুন দেশ পেয়েছি আর একটা নতুন ভাষা রপ্ত করতে পেরেছি। তাইতো আশা, ভালোবাসা আর ভরসা পাই এইভেবে যে ভবিষ্যতে মানুষের জন্য কিছু একটা করতে পারবো সেটা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, কারণ মানুষ তো মানুষেরই জন্য, ২১.০২.২০২১

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s