Category Archives: Democracy

গণতন্ত্র, তুমি কী এখনও বেঁচে আছো?

জাহাঙ্গীর আকাশ ॥ স্বাধীনতার ৪৭ বছরে আমাদের গণতন্ত্র কতটুকু এগিয়েছে? আমাদের নাগরিক সমাজ কতখানি গণতন্ত্রকে এগুতে সহায়তা করতে পেরেছে? গণমাধ্যম কতটুকু স্বাধীন এবং জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে চাই না। হাতে গোনা দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ওখানে নাগরিক সমাজ ও মিডিয়া মুখে নিজে নিজেই টেপ মারলেও গণতন্ত্র আর নির্বাচনের কদর্য চেহারাটাকে শত প্রচেষ্টাতেও ঢেকে রাখা যায়নি। এখন সেই কদর্যতার দুর্গন্ধ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ছে।

স্বেচ্ছাপ্রণোদিত লজ্জা, ঘৃণায় তাড়িত হওয়ার বাইরে আর কিছু করার আছে বলে কোন বিকল্প পথ আমার জানা নেই। সত্তরের নির্বাচনের কথা মনে হলে গর্ভে বুকটা ফুলে ওঠে। আর আজকের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা জাতি হিসেবে কতটা সম্মান অর্জন করলাম তার উত্তর আমি দিতে চাই না।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ত্বে মহাজোট সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে শেখ হাসিনার আমলেই। জঙ্গিবাদের উত্থানও দমন হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতেই। তাহলে জনগণের প্রতি বিশ্বাসহারা হবার কী কোন কারণ ছিল?

আমি শুধু আমার ঢাকায় বসবাসকারি এক বন্ধুর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরছি। বন্ধু জানালো যে, “গণতন্ত্র ও নির্বাচনের এই কেলেংকারি না করেও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দলটি তাদের তাদের “স্বৈরাচারি ও অন্যান্য তথাকথিত বাম সুহৃদ”দের সাথে নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করতো।”

আমার তো মনে হয় যে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, নির্বাচনি প্রচারণায় সমান অধিকার পাওয়া, সংসদে শক্তিশালী বিরোধীদল, নাগরিক সমাজের কার্যকর ভূমিকা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা (দলবাজি বা আওয়ামীবাজ বা বিএনপিবাজ সাংবাদিকতা নয়), বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর স্বাধীনভাবে কাজ করা এবং সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারার মতো বিষয়গুলি নির্বাচন ও গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে জরুরি।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, সংসদে শক্তিশালী বিরোধীদল ছাড়া যেমন গণতন্ত্র তার পরিপূর্ণতা পায় না তেমনি কার্যকর গণতন্ত্র ছাড়া আইনের শাসন ও মানবাধিকারের কথা চিন্তাও করা যায় না।

আশা করি আমার লেখার শুরুতেই যেসব প্রশ্নর অবতারণা আমি করেছি সেই প্রশ্নগুলির উত্তর স্বদেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া যাবে বলেই আমার বিশ্বাস।

ইংরেজী নতুন বছরের (২০১৯) শুভেচ্ছা জানিয়ে গণতন্ত্র ও শান্তির প্রত্যাশা করছি।

কোন দলে গণতন্ত্র?

sangbad-21-8-2009-democracy-peace5

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আমার এক শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় মানুষ ফেইসবুকে একটা স্টাটাস লিখেছেন। স্টাটাস পড়ে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে যেন একমাত্র আওয়ামী লীগই গণতান্ত্রিক দল? তাই ছোট্র একটা প্রতিক্রিয়া লিখতে বসলাম।
কোন দলে গণতন্ত্র চর্চা আছে সেটা বুঝতে পারি না! বিএনপির জন্ম সেনাছাউনিতে আর দলছুট সুবিধাভোগীদের নিয়ে গড়ে ওঠা দল এটি। সেখানে গণতন্ত্র র্চচা আশা করাটাও একধরণের বাড়াবাড়ি। আর জামাত-শিবির, হেফাজত, যুদ্ধাপরাধী ওরাতো কোন মাপকাঠিতেই পড়ে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বা জাতির পিতার দল আওয়ামী লীগেই কী গণতন্ত্র র্চচা আছে?

শেখ হাসিনার পছন্দ আর অপছন্দ এর মধ্যেই কী গণতন্ত্র র্চচা সীমিত হয়ে যায়নি এই দলের অভ্যন্তরে? আর গণতন্ত্র মানেতো টাকার খেলা, ব্যবসায়িদের মিলনমেলা, সন্ত্রাসীদের লালন-পালন কিংবা পছন্দ না হলেই র্নিবাচিত নেতাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া বোঝায় না।
গণতন্ত্র মানেতো সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা, এসব কী সোনার হরিণ নয় আমার স্বদেশে? আমি অবশ্য দাদার মতো রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র বা গবেষক নই, আমি একটা আগাছা বা শ্যাওলার ন্যায় নাগরিকমাত্র তাও এখন পরবাসে!

এগিয়ে যাও লাকি, প্রজন্ম তোমার সাথে!

bdmovementagainstwarcriminals
এগিয়ে যাও লাকি, প্রজন্ম তোমার সাথে!
-জাহাঙ্গীর আলম আকাশ

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ তুমি আমার বাবার সম্পত্তি!
তাই তোমার চেতনা কেবল আমরাই ধারণ করি।
মুক্তযুদ্ধের চেতনায় শান দেবেন যারা
তারাই আমাদের র্টাগেট।
তাই বিপ্লবী কন্যা লাকির ওপর হামলা করি
পরক্ষণেই আবার বলি
আমারও মন যেতে চায় শাহবাগে।
শুধু কী তাই,
ঘাতক-যুদ্ধাপরাধীদের সাথে র্নিবাচনি আঁতাত করি
জামাতনেত্রীর সন্তানকে বানাই প্রতিমন্ত্রি,
র্নিবাচিত নেতাকে বাদ দিয়ে সুবিধাবাদিদের বানাই নেতা
নিজ কন্যাকে বধূ সাজে পাঠাই রাজাকারের বাড়ি
শহীদ জননীর কর্ষ্টাজিত আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলি
৩০ লাখ মানুষ হত্যা আর দু’লাখ নারীর সম্ভ্রমসহানির
চেয়েও বড় আমার পরিবার
তাইতো যুদ্ধাপরাধের আগে বাবা হত্যার বিচার করি।
যুদ্ধাপরাধের বিচার করবো প্রতিশ্রতির বিনিময়ে
প্রজন্মের ভোট ঘরে তুলি।
তাই বাধ্য হয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করি
কিন্তু ক্ষমতারোহণের চার বছরেও বিচার শেষ করিনি।
এখন সময় শেষ আসছে র্নিবাচন
যেতে হবে জনগণের কাছে আবার
চাইবো পুন:ক্ষমতারোহণের ভোট।
তাইতো চাই একটা রায়
সেটা হোক না কেন গুরু পাপে লঘু শাস্তি!
ঘাতক জামাত-শিবির ছাড়া
র্সবস্তরের মানুষ ও রাজনৈতিক দল যুদ্ধ করেছে বটে
কিন্তু নেতৃত্বটাতো এসেছে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি
জাতির পিতার কাছ থেকেই
আর উনিইতো আমার পিতা
সুতরাং মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে
আমার দলকেই বোঝায়
আর আমার দলের নেতাদেরই তোমরা বক্তব্য দিতে দেবে না
এটা কী মেনে নেয়া যায়?
সেজন্যইতো আমার সোনার ছেলেরা
ওকে আঘাত করেছে।
দেশে আর কেউ অগ্নিকন্যার খেতাব পাক
সেটাও মেনে নিতে পারবো না
স্বীকৃত অগ্নিকন্যাওতো আছেন আমারই দলে।
আবারও শ্বরণ করিয়ে দিই
আমার দল ছাড়লে রাজাকার
কিন্তু আমার দলে আসলে সবাই মুক্তিযোদ্ধা
এই হলো আমার মূলমন্ত্র।
কেউ আমার দলে সংস্কার চাইলে
তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন
তার কোন দাম নেই আমার কাছে।
সোনাতো তারাই যারা তোষামদি, চাটুকারিতা
আর সুবিধাবাদিতার জাদুবিদ্যায় বিমুগ্ধ করে আমায়
তাইতো ব্যবসায়ী, টাকাওয়ালারা পায়
আমার দলের মনোনয়ন।
আমি গণতন্ত্রের মানসকন্যা
তাই অর্নিবাচিত আর মনোনীতদের দিয়ে
চালাই দেশের র্সবোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি।
বুড়ো আর অছাত্রদের বানাই আমি
আমার দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা।
আমার সন্তান, বোন অন্য আত্মীয়
সবাই একে একে হবেন একেকজন নেতা
ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের
নেই কোন প্রয়োজন।
বাবাই আমার দেশটাকে করেছে স্বাধীন
তাইতো ছোট্র একটা ভবনের নামকরণ
বাবার নামেই করতে নেই কোন লজ্জা আমার
কারণ কোন ভবন বা সেতুর নামকরণতো
জাতির পিতার সম্মানের চেয়েও বড় মনে হয় আমার।
জনগণ চাইছে বাহাত্তরের সংবিধানের পুন:স্থাপন
সেই সংবিধানটাওতো আমার বাবাই করেছিলেন।
বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে গেলেতো
র্ধমভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে
সেটা করলে যদি সংখ্যাগরিষ্টের ভোট হারাই
তাইতো অর্ধসমাপ্ত করে রেখেছি
বাহাত্তরের সংবিধানে পুন:প্রর্বতনের উদ্যোগ।
যেখানে একটা সাধারণ খুনের ঘটনায়
র্সবোচ্চ শাস্তি মৃতু্যদন্ড দিতে র্কাপণ্য করে না আদালত
সেখানে এতগুলি খুন ও যুদ্ধাপরাধ করেও শুধু যাবজ্জীবন
তাইতো ফুঁসে উঠেছে প্রজন্ম ও জনতা
চেতনার আন্দোলন শুধু প্রজন্ম চত্বর শাহবাগেই থেমে নেই
মুক্তির মশাল জ্বলেছে জেলায় জেলায় দেশজুড়ে।
এটাইতো একটা মওকা জনতার আন্দোলন
প্রজন্মের আন্দোলনকে নিজের ঘরে তোলার।
তাই যেভাবেই হোক আন্দোলনের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব
আমার দলের হাতে আসা চাই, চাই-ই চাই।

বি.দ্র.: আমি কবি নই, এলোমেলো তথা নিজের মতো করে মনের ভাব প্রকাশ করি মাত্র। “এগিয়ে যাও লাকি, প্রজন্ম তোমার সাথে” লেখাটি (কবিতা কিনা জানি না) উতর্সগ করছি সময়ের সাহসী বিপ্লবী কন্যা লাকি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া প্রজন্মকে। ছবিটি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

“পেপার স্প্রে”র প্রয়োগ আপনাদের ওপরও হতে পারে ।। ব্লগার আসিফের ওপর হামলাকারিদের ধরুন

paperspray
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। মানবাধিকার লংঘণের হাতিয়ার হিসেবে হাসিনার মহাজোট সরকার একের পর এক নতুন স্টাইলের প্রবর্তন করছে। আর আমাদের দলীয় স্তাবক বুদ্ধিজীবীরা বসে বসে আঙুল চুষছেন! খালেদা-নিজামির আমলে গণহারে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, এনকাউন্টার নামক ঘাতক বাহিনীর নৃশংসতা দেখেছেন দেশবাসি। ক্ষমতায় আরোহনের আগে হাসিনা বারংবার এই বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। মানুষ আশ্বস্ত হয়েছিলেন এই ভেবে যে হয়ত হাসিনা ও তার ক্ষমতায় গেলে নারকীয় এই রাষ্ট্রীয় হত‍্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে। কিন্তু ক্রসফায়ারতো বন্ধ হয়ইনি উল্টো এখন মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষকে গুম করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় হ‍্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় মানুষ রাস্তাঘাটে লাশ হয়ে পড়ে থাকছেন। আর বাকপটু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিরা মানবাধিকার লংঘণের ঘটনাগুলিকে ধামাচাপা দেবার জন‍্য একের পর এক খোঁড়া যুক্তি দেখাচ্ছেন দেশবাসির সামনে।
হাসিনা ও মহাজোট সরকারের সর্বশেষ আবিস্কার হলো “পেপার স্প্রে”। সরকারবিরোধী কিংবা জনকল‍্যাণে আহৃত আন্দোলন দমনের এই নতুন হাতিয়ার ইতোমধে‍্য এক শিক্ষকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে স্বদেশের মিডিয়ায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রি সরকারের শেষ সময়ে দেশের মানুষকে নিয়ে যে খেলা শুরু করলেন তা বন্ধ করুন। নইলে আখেরে আপনার ও আপনার দলের পুন:ক্ষমতায় যাবার স্বপ্নটা দু:স্বপ্ন হয়ে যাবে! আর হাওয়া তারেক-ও ঘাতক নিজামিরা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কী পরিণতি অপেক্ষা করছে তা কী আঁচ করতে পারছেন না মোটেও, নাকি ভাবছেন যেকোনপ্রকারেই হোক ক্ষমতায় আসবেনই!
এই মহাজোট সরকারের ভেতরে এবং বাইরে এতো মানুষ আছেন যারা দেশে-বিদেশে মানবাধিকার নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন সেইসব মুর্খ জ্ঞানপাপীরা একেবারেই ভেজাবেড়ালের ন‍্যায় চুপচাপ করে হালুয়া-রুটি খাবার বা পাবার আশায় লেজ গুটিয়ে সরিয়ে রাখছে নিজেদের, কিন্তু কেন? মনুষ‍্যত্ব, বিবেক বলে কী এসব মানুষের হৃদয়ে কিচ্ছু নেই? আর সরকারের অংশীদার অনেক বাম, প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতারা সরকারের ভেতরে থাকার পরও কারও মুখে শোনা গেলো না যে এসব মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড থেকে সরকার সরে না আসলে তারা সরকার থেকে সরে দাঁড়াবেন? সুবিধাবাদের স্রোতধারা এত প্রবল যে সেখানে আরাম-আয়েশ আর গদি-ক্ষমতার জাদুর পরশে মানুষের মৌলিক মানবতাবোধটুকু পর্যন্ত ভেসে যাচ্ছে!
কী নিলর্জ্জ বেহায়ার মতো পুলিশ কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ পেপার স্প্রের ক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন। তিনি বললেন, ‘পেপার স্প্রে লাঠিপেটার বিকল্প। সরকারের অনুমতি নিয়ে সাধারণ মানুষও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এই স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।” প্রশ্ন হলো বাস্তবে সাধারণ মানুষ কী এই অনুমতি পাবে রাজনৈতিক তদবির বা শক্তি ছাড়া? আর যদি হরতালকারি, আন্দোলনকারি বা সাধারণ মানুষও যদি এমন স্প্রে পুলিশের ওপর ব‍্যবহার শুরু করে তখন বেনজিররা কোথায় পালাবেন? সতি‍্য সতি‍্য যদি সাধারণ মানুষের হাতে এই অমানবিক স্প্রে অস্ত্রটি চলে যায় গোটা দেশটা এক অরাজক নৈরাজ‍্যকর পরিস্থিতির দিকে চলে যাবে, এতে কী সরকারের নীতিনির্ধারকদের মাঝে কোন সংশয় আছে?
শিক্ষকরা নিজেদের রুটি-রুজির জন‍্য রাস্তায় নেমেছিলেন। বামরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল, সমাবেশ ও আন্দোলন সংগ্রাম করে-এটা দেশবাসি জানেন। তারা কখনও রাস্তায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে না, বাসে আগুন দিয়েও মানুষ হত‍্যা করে না কিংবা বোমাও মারে না কারও ওপর। বরং পুলিশই বামদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সবসময় বাধা দিয়ে থাকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরাণ্বিত করা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সিপিবির নেতৃত্বে বামদলগুলির সাম্প্রতিক হরতালে দেশবাসির সমর্থন ছিল নজিরবিহীন এবং শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে দেশে। কিন্তু তাররও শিক্ষকদের ওপর ও বাম দলগুলির নেতা-কর্মীদের ওপর কেন স্প্রে করতে হলো সেটার জবাব হয়ত একমাত্র শেখ হাসিনা কিংবা তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিই জানেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি, তাঁর নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনী, র‍্যাব-চিতারা খুনি, অপহরণকারি, গুমকারি, ধর্ষকদের ওপর স্প্রে করতে পারে না কিন্তু জনগণের স্বার্থে ডাকা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর নতুন ধারার এক বর্বরতার প্রয়োগ ঘটালো! আন্দোলন যদি সহিংস রুপ নেয়, জ্বালাও-পোড়াওয়ের দিকে চলে যায় কিংবা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে সরকার বা সরকারি বাহিনী তারজন‍্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব‍্যবস্থা নিতে পারেন। সে অধিকার রকারের আছে। কিন্তু আন্দোলন দমনের নামে, সহিংসতা বন্ধের নামে কারও ওপর স্পে প্রয়োগ, নির্যাতন, লাঠিপেটা করার কোন অধিকার দেয়া হয়নি সংবিধানে। সংবিধানে সকল ধরণের নির্যাতনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও জ্ঞানপাপীর দল সংবিধান লংঘণ করেই চলেছে বিশেষ করে ক্ষমতাসীনরা পুলিশ-র‍্যাবকে নিজেদের ক‍্যাডার বাহিনীর ন‍্যায় ব‍্যবহার করছে জনগণের বিরুদ্ধে।
দেশে ধর্ষণের মহাউৎসব চলছে। ধর্ষণ ধামাতে পারছে না সরকার। খুন-হত‍্যা ও বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার সেখানে নিত‍্য-নৈমিত্তিক ব‍্যাপার। বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলিতে চলছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের রাম-রাজত্ব। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে চ‍্যাম্পিয়ন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী, ক‍্যাডার ও মস্তানদের দৌরাত্ব বেড়েই চলেছে। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের দ্বারা। ব্লগার, সাংবাদিক যারাই লিখছেন পক্ষপাতমূলকভাবে অন‍্যায়-অবিচার আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারাই হচ্ছেন সন্ত্রাসীদের টার্গেট। অতি সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় জনপ্রিয় ব্লগার আসিফ মহীউদ্দিন সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় মারাত্বক আহত হয়েছেন। হামলাকারিদের ধরতে পারেনি পুলিশ। ইডেন কলেজের অ্যাসিডদগ্ধ ছাত্রীটি এখনও হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। দেশে মুক্তমতের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জায়গা ক্রমশ:ই সংকুচিত হয়ে আসছে। সাংবাদিক, ফটো সাংবাদিকদের ওপর বহুমুখী আক্রমণের খবর মাধে-মধে‍্যই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে।
খুলনায় ক’দিন আগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়াউদ্দিনকে গুলি করে হত‍্যাপ্রচেষ্টার সঙ্গেও সরকারি যুব সংগঠনের এক নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে এক শিশু নিহত হয়েছেন। এই যোদ্ধাদের চোখে পুলিশ পেপার স্প্রে করে না! রাজধানীর একটি বাণিজি‍্যক ভবনে এক শিশুর গলিত লাশ মিললো। ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত‍্যা করা হয়েছে। অভ‍্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গুলি করে হত‍্যা করা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে দেশের মিডিয়ায়। নিহত ফারুক শুধু একজন রাজনীতিকই নন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও বটে। এছাড়া তিনি স্থানীয় একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদকও ছিলেন। রাজধানীর উত্তর মুগদাপাড়া থেকে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ধর্ষক-খুনি ও বন্দুকযোদ্ধার ওপর স্প্রে করে না পুলিশ, তারা শুধু রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারি বাম নেতা-কর্মী ও জাতির মেরুদন্ড রক্ষাকারি শিক্ষকদের ওপর স্প্রে করতে ভুলে না।
মহাজোট সরকারের হাতে এখনও সময় আছে মুক্তমত প্রকাশ ও মানবাধিকার রক্ষার পথে এগিয়ে যাবার। সকল প্রকারের হত‍্যা-নির্যাতন, গুম-খুন, বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড এবং সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথকে প্রশস্ত করে স্প্রে প্রয়োগের নামে আন্দোলনকারিদের ওপর বিষক্রিয়া নিক্ষেপ বন্ধ ও পুলিশি নিপীড়ন বন্ধ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত না করে সন্ত্রাসী, খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, বন্দুকধারি ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাই হবে মহাজোট সরকারের সফলতার চাবিকাঠি। নইলে আমও যাবে ছালাও যাবে,পাশাপাশি খালেদা-নিজামিদের হাতে ফের ক্ষমতা ফিরে গেলে পেপার স্প্রের প্রয়োগ নিজেদের চোখেই ছিটাবে একই পুলিশ। এতে হাসিনা ও তাঁর মহাজোট সরকারের নেতা-কর্মী ও পরামর্শদাতাদের সন্দেহ থাকলেও ইতিহাস যে তারও সাক্ষ‍্য দেয় তা বিগত দুই দশকের তথাকথিত নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রের শাসনামলই প্রমাণ দেয়। কাজেই সাধু সাবধান!!! ছবি বিডিনিউজ২৪

গণতন্ত্র: আওয়ামী লীগ স্টাইল!

al
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও নেতা নির্বাচন নিয়ে এক নেতার মন্তব‍্য হলো “কী হবে, কী হবে না- তা আগেই নির্ধারিত ছিল। এ নিয়ে প্রত্যাশা নেই।” সূত্র বিডিনিউজ২৪। সূত্র লিখেছে, “কাউন্সিলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। তা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে।” এই হলো বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের গণতন্ত্রের মডেল বা স্টাইল। সবকিছু পছন্দ, অপছন্দের ওপর মনোনীত করার গণতন্ত্র! নির্বাচন দিয়ে সরাসরি কাউন্সিলরদের ভোটে নেতা নির্বাচন করার সাহস নেই এমন এক গণতন্ত্র দেশের ১৬ কোটি মানুষের ভাগ‍্য নির্ধারণ করছে!
দেশটাকেতো বাবা নয়তো স্বামীর তালুকে পরিণত করা হয়েছে। গণতন্ত্রের নূ‍্যনতম চর্চাও সেখানে হয় না। জার্মানি, নরওয়ে বা ইউরোপ, আমেরিকার গণতন্ত্রচর্চার সঙ্গে কিঞ্চিৎ পরিচয় যাঁদের আছে তাঁরা নিশ্চয়ই আমার কথার সাথে একমত হবেন যে এই দেশগুলির গণতন্ত্রের সাথে তুলনা করলে বোঝা যায় দেখা যায় যে বাংলাদেশে কোন গণতন্ত্রই নেই! এই যে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে (সেটা বিএনপির বেলায়ও একইরকম) যেভাবে নেতা নির্বাচন করা হলো বা হবে ঠিক সেরকমই একটা গণতন্ত্র গণতন্ত্র পাতানো খেলাই দেশবাসি দেখে আসছে স্বাধীনতার পর থেকেই। দুর্নীতি, দল, নেত্রী আর ক্ষমতাই যার প্রধান নিয়ামক সেখানে গণতন্ত্র আশা করাটাও বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। অবিচার, অন‍্যায‍্যতার জালে দেশবাসি আটকা পড়েছে।
অন্ধ রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বমূলক কর্মকান্ড ছড়িয়ে পড়েছে বিচারালয় থেকে মিডিয়াপাড়া, জনপ্রশাসন থেকে শায়ত্বশাসিত ও আধাশায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী থেকে চিকিৎসক, সাংবাদিক থেকে শিক্ষক সেখানে এমন কোন পেশা নেই যে পেশা হয় আওয়ামী বা তাদের এলায়ান্স নয়তো বিএনপি বা তাদের এলায়ান্সে বিভক্ত নয়। পাখির মতো বিনাবিচারে মানুষ হত‍্যা-নির্যাতন সেখানে এখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। দুর্নীতি সেখানে এখন রাষ্ট্রীয় নীতি! রাষ্ট্রীয় সমস্ত প্রতিষ্ঠান সেখানে পরাধীন, রাজনৈতিক দল যারা শাসন করে তাদের লাঠিয়াল বাহিনীর মতো কাজ করে। সমাজটাকে সততাই সবর্োৎকৃষ্ট সমস‍্যা এমনভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে প্রতিদিন। মানুষের সেবা নয় ক্ষমতায় যাওয়া বা ক্ষমতাকে আঁকড়ে থাকাই যেখানে রাজনীতির মূল মর্ম সেখানে ন‍্যায়বিচার নির্বাসিত। রাজনৈতিক দুবর্ৃত্তপনার কারণেই বাড়ছে দলাদলি, সংঘাত, সহিংসতা, সাম্প্রদায়িকতা, অস্থিরতা।
গণতন্ত্রের মূল কথাই যেখানে অনে‍্যর মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটুকু তা প্রশ্নসাপেক্ষ। যেই যায় লংকায় সেই হয় রাবণ এই হলো রাজনীতির দর্শন। ওখানে টাকা ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির কাছে পরাজিত সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতি। একমাত্র অসুস্থ‍্য রাজনীতির কারণেই সোনা বাংলা পৃথিবীতে বন‍্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও দুর্নীতির দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। অথচ বাংলাদেশের যে অমিত সম্ভাবনা অপ্রস্ফুটিত অবস্থায় আছে তাকে আলোতে নিয়ে আসার মতো কোন রাজনীতি সেখানে কী আছে বিশেষত যারা দেশটাকে চালাচ্ছে বিগত সাড়ে তিন দশক ধরে?
সকল সর্বনাশের মাঝেও আমি আশার আলো দেখি। এই বাংলাদেশ নয় যে বাংলাদেশের জন‍্য ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন দুই লাখ মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন সেই বাংলাদেশ আজ না হোক, কাল নয়তো পরশু একদিন ঠিকই পাবেন বাংলার মানুষ। ক্ষমতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কবর একদিন রচিত হবেই হবে। সেটা হয়ত আমি বা আমার প্রজন্ম নয় পরবর্তী প্রজন্ম ঠিকই অবলোকন করবেন কোন এক দিন। ছবি/ডেইলি স্টার এবং গুগল থেকে সংগৃহীত।

বুকে হাত দিয়ে বলুন আপনারা নাকি টিআইবি সঠিক!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)’র সাম্প্রতিক একটি জনমত জরিপ রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সংসদ সদস‍্যরা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। সংসদের স্পীকারও সংসদ সদস‍্যদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে টিআইবির প্রতি খেদোক্তি প্রকাশ করেছেন। বিক্ষুব্ধ সংসদ সদস‍্যদের কেউ কেউ টিআইবির বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। টিআইবির সমালোচনায় মুখর এসব সংসদ সদস‍্য। এমনকি তথ‍্যমন্ত্রি, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুও টিআইবির প্রতিবেদনকে প্রত‍্যাখ‍্যান করে জানান, সরকার এই সিদ্ধান্ত টিআইবির সদর দপ্তরে পাঠাবে।
এখন দেখা যাক রিপোর্টটির মূল বক্তব‍্যটা কী ছিল? টিআইবির রিপোর্টে বলা হয়, “সংসদ সদস্যদের ৯৭ শতাংশই বিভিন্ন ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত। প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন বরাদ্দের অপব্যবহার, অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত হওয়ায় সমর্থন, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্লট বরাদ্দ নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আসে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে।”
মাননীয় তথ‍্যমন্ত্রি ও সংসদ সদস‍্যরা যারা এই প্রতিবেদনের ওপর নাখোশ হয়েছেন তারা কী বুকে হাত দিয়ে বলার সাহস পাবেন যে টিআইবির রিপোর্ট ‘মিথ‍্যা’? আমার মনে হয় টিআইবির রিপোর্ট শত নয় হাজার নয় কোটি ভাগ সত‍্য। ওখানে জনগণের শাসন চলে না, চলে এমপিদের ব‍্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার শাসন। ৩০০ প্লাজ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস‍্যরা ছাড়া দেশে একটি মানুষও খঁজে পাওয়া যাবে না যিনি টিআইবির রিপোর্টকে মিথ‍্যা বলবেন! যারা এই বাস্তবসম্মত রিপোর্টটিকে মিথ‍্যা বলছেন তাদের কাছে প্রশ্ন-নির্বাচনে কত টাকা ব‍্যয় করেছেন এবং সেই টাকার উৎস কী? আল্লাহ-ভগবানে বিশ্বাস থাকলে বুকে হাত দিয়ে এই প্রশ্নটির উত্তর দিন এবং নিজেদের সততা ও স্বচ্ছতা প্রমাণ করুন, প্লিজ! তারপরে টিআইবির রিপোর্টকে সমালোচনা করুন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে টিআইবির চলমান সংগ্রামে সংহতি জানাই। একই সাথে ধিক্কার জানাই তাদের যারা জ্ঞানপাপীর ন‍্যায় সত‍্যকে মেনে নিতে ভয় পায়।
সংসদ সদস‍্যরা বিশেষ করে সরকার দলীয় সংসদ সদস‍্যরা টিআইবির রিপোর্ট নিয়ে ব‍্যস্ত। সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনের রহস‍্য উন্মোচন হয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করতে মন্থরগতি। এরই সুযোগে দেশে সাম্প্রদায়িকতার ডালপালা গজাতে শুরু করেছে। শক্ত হাতে সন্ত্রাস-মৌলবাদী তৎপরতাকে দমন করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করে দেশে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ও সমাজ ব‍্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে ঘাতক জামাত-শিবির চক্র যে কঠিন আঘাত হানবে প্রগতিশীল শক্তির ওপর তার মহড়া দেশবাসি ইতোমধে‍্য দেখতে শুরু করেছেন। রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ে এক ছাত্রের পায়ের রগ কাটা হয়েছে। কাজেই টিআইবির রিপোর্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা না করে সংসদ সদস‍‍্যরা নেতিবাচক কর্মকান্ড থেকে নিজেদের নিবৃত করে দেশ ও মানুষের কল‍্যাণে কাজ করবে এমনটাই আশা করি।
রাষ্ট্রযন্ত্রটাকে একটা লাঠিয়াল ও জঙ্গি রুপ দিয়েছে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি। রাষ্ট্র ও সমাজ ব‍্যস্থা এমপিতন্ত্র আর সুবিধাবাদ-তোষামদকারি-চাটুকারদের দখলে। আর সৎ ওসব আপেক্ষিক! সৎ আর ভালো মানুষ সেখানে বড় অসহায়। চার চারটা দশক চলে গেছে স্বাধীনতার পরে। কিন্তু রাজনীতি মানে শয়তানি রাজনীতি যা শুধু ক্ষমতা, গদি, দল ও পরিবারকেই ভালোবাসে দেশ ও মানুষকে নয় তার কারণে শত সহস্র সম্ভাবনার সোনার বাংলাদেশ হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। দেশের সিংহভাগ মানুষই ভালো এবং সৎ। কিন্তু অবিচার, অন‍্যায়, দুর্নীতি আর ক্ষুধার কাছে পরাজিত হচ্ছে মানুষ ও মানবতা। আর গুটিকতক দুবর্ৃত্ত, সুদখোর ও মুনাফালোভীরা অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে। এই রাষ্ট্র, দেশ কী চেয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ৩০লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোন যাঁরা নিজেদের সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন।
ঢাকায় তাহের মেলার আয়োজন। ফেইসবুকে সেই মেলায় আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নিজের অসহায়ত্ব ঢাকার পাশাপাশি আয়োজকদের প্রতি ধন‍্যবাদ ও উৎসাহ জানানোর মধ‍্য দিয়ে লেখার সমাপ্তি টানবো। জীবন মানে কী তা উপলব্ধি করার প্রচেষ্টায় আছি! থাকি অনেক দূরে। আয়োজন স্বদেশকোলে। সাধ থাকলেও উপায় নেই দেশমাতার কোলে ঘুমিয়ে পড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার। তাই মানসিক উপস্থিতির বাইরে অন‍্য কোন গত‍্যন্তর নেই ঠিক এই মুহুতর্ে প্রাচে‍্যর অক্সফোডর্ খ‍্যাত ঢাবির টিএসসিতে শারীরীক উপস্থিতির জানান দেবার। আয়োজন সফল হোক। দুই নেত্রীর কামড়াকামড়ি মনটা যেন ভালবাসায় ভরে উঠে। ক্ষমতা, গদি, পরিবারের জন‍্য নয় দেশ, মাটি, মা ও মানুষের জন‍্য এই দুই “মহান” নেত্রীকে প্রকৃতি যেন হেদায়েত করার শক্তি অর্জন করে! জয় হোক দেশপ্রেমিক তাহেরদের। নিপাত যাক দুর্নীতি, মিথ‍্যাচার, সুবিধাবাদ, লোভ-লালসা আর লুটপাটতন্ত্র। ছবি/নিউএইজ-গুগল থেকে সংগৃহীত।

সাংবাদিক নির্যাতনের মহাউৎসব: সবকিছুই ওই দুবর্ৃত্ত রাজনীতির হাতেই আটকা পড়েছে!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশে কী কোন যুদ্ধ চলছে? দেশে কী হচ্ছে? কী হতে যাচ্ছে? কী হবে দেশের ভবিষ‍্যৎ, কী আছে দেশের ভাগে‍্য? একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতন ও হত‍্যার ঘটনাগুলির সঙ্গে কী কোন বিশেষ শক্তি জড়িত? সেই শক্তি কী দেশের সরকারের চেয়েও ক্ষমতাধর? যা ঘটছে তা কী পরিকল্পিত কোন ঘটনার পূর্বমহড়া? দেশে কী বড়ধরণের কোন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে? বিরামহীনভাবে চলা সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাগুলি কী অনাগত সেই শক্ত কোন ষড়যন্ত্র বা ঘটনা ঘটানোর আলামত? চারিদিকে একটা আতংকাবস্থা। কেমন জানি একটা ভয়, আতংক, হতাশা, উদ্বেগ, নিরাপত্তাহীনতা ভর করছে দেশের মানুষের মনে। মহাজোট সরকারের ভেতরেই কী মোশতাকরুপী কোন মীরজাফরের আমদানি বা আবির্ভাব ঘটেছে? সরকার কী বুঝতে পারছে না যে সব ঘটনাই সরকারের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে? নাকি জ্বি-হুজুর, জ্বি নেত্রী, জ্বি-আপাদের খপ্পড়ে পড়েছে সরকার? সরকারের ভেতরের কোন অংশই কী তবে এসব ঘটনাকে জিইয়ে রেখে যুদ্ধাপরাধীদের চলমান আন্দোলনকে ভন্ডুল করতে চাইছে? নাকি যুদ্ধাপরাধীদের নানান প্রশ্ন আসছে মাথার মধে‍্য। এসব জটিল প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই। তবে দেশের পরিস্থিতি যে মোটেও ভালো নেই তা কেউ কী অস্বীকার করবেন?
সাংবাদিকরা বেডরুম, রাজপথ, নিজের অফিস কোথাও কী নিরাপদ আছেন? নাকি সরকার কোন নিরাপত্তা দিতে পারছে সাংবাদিকদের? সাংবাদিক হত‍্যা-নির্হযাতনের ঘটনাগুলির কী কোন কার্যকর তদন্ত করতে পেরেছে সরকার? অতীতের সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের কথা বাদই দিলাম। মহাজোট সরকারের আমলে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের কতগুলি ঘটনা ঘটলো! কোন ঘটনায় সঠিক ও সন্তোষজনক তদন্ত করতে পেরেছে সরকার? বরং তদন্তের নামে সরকার নাটক করছে। অন্ততপক্ষে সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ডের ঘটনা তারই প্রমাণ দেয়। প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলো, কিন্তু সাগর-রুনির খুনিরা ধরা পড়েনি।
হত‍্যার আগে সাংবাদিক সাগর-রুনি বিষ পান করেননি কিংবা তাদেরকে বিষপ্রয়োগ করা হয়নি। ভিসেরা রিপোর্টে একথা বলা হয়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি চাঞ্চল‍্যকর এই হত‍্যাকান্ড ঘটে রাজধানী ঢাকায়। এরপর নানান নাটকীয়তার পর পুলিশ তদন্ত কাযর্ক্রম বিষয়ে নিজেদের ব‍্যর্থতা স্বীকার করে আদালতে। এরপর আদালত (সর্বোচ্চ আদালত) সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব‍্যবহার করে সাগর-রুনি হত‍্যা মামলা তদন্তের ভার দেয় এলিট ফোর্স র‍্যাবকে। সেই বিশেষ বাহিনীও এখন পর্যন্ত কোন খুনিকে শনাক্ত করতে পারেনি। তদন্ত কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে তাও দেশবাসি জানতে পারেননি আজও। সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের “লোকদেখানো: আন্দোলন চলছে। সাংবাদিক ঐক‍্য নিয়ে ব‍্যাপক আলোচনা ও সুন্দর সুন্দর বক্তব‍্য দিলেও সাংবাদিক নেতারা আজ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নকে এক করতে পারেননি। জাতীয় প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, ফটো সাংবাদিক এসোসিয়েশন, বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নসহ অন‍্যান‍্য সাংবাদিক ও এনজিওসাংবাদিক সংগঠনগুলির ঐক‍্যবদ্ধ কোন স্টিয়ারিং কমিটি বা মোর্চাও গড়ে ওঠেনি।
হালআমলে সাংবাদিক নির্যাতনে পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুলিশ কেন সহিংস হয়ে উঠলো সাংবাদিকদের ওপর? এনিয়ে হয়ত কোন গবেষণা পরিচালনা করলে চাঞ্চল‍্যকর তথ‍্যও বেরিয়ে আসতে পারে! চলতি মাসে ধানমণ্ডিতে বাসচাপায় ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিভাস চন্দ্র সাহা নিহত হন। এরপর বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক ও স্থানীয় জনতাকে লাঠিপেটা করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোপালগঞ্জের হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আজও কোন ব‍্যবস্থা নেয়া হয়নি। যদিও সাংবাদিকদের “ভাসুরের নাম মুখে আনতে মানা” জাতীয় আন্দোলন কর্মসূচী চলছে! কিন্তু মনিরের খুঁটিতো প্রধানমন্ত্রির কার্যালয় পর্যন্ত পোতা আছে। কে নড়াতে পারে সেই খুঁটি?
আজ (২৯ মে) আবার পুলিশের আক্রমণের লক্পুষ‍্যবস্রাতু হলেন সাংবাদিক। পুরান ঢাকার আদালতপাড়াযর এ ঘটনায় আহত তিন সাংবাদিক হলেন প্রথম আলোর আদালত প্রতিবেদক প্রশান্ত কর্মকার, কালের কণ্ঠের আদালত প্রতিবেদক এম এ জলিল উজ্জ্বল ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের আদালত প্রতিবেদক তুহিন হাওলাদার। এর আগে গত ২৬ মে দায়িত্ব পালনের সময় আগারগাঁওয়ে পুলিশি পিটুনির শিকার হন প্রথম আলোর তিন আলোকচিত্র সাংবাদিক খালেদ সরকার, সাজিদ হোসেন ও জাহিদুল করিম। এই ঘটনায় হাইকোর্ট তিন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ব‍্যাখ‍্যা চেয়ে তলব করেছে। ব‍্যাখ‍্যা চাওয়ার কী আছে? সংবিধানতো স্পষ্ট বলে দিয়েছে কোন অবস্থাতেই কেউ কাউকে নির্যাতন করতে পারবে না। হাইকোর্টে এর আগেও পুলিশ সাগর-রুনির হত‍্যা মামলার তদন্ত বিষয়ে ব‍্যর্থতা স্বীকার করলেও আদালত সেই ব‍্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন ব‍্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা যায়নি। বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড বিষয়েও কোটর্ অসংখ‍্যবার রুল জারি করেছে, সংশ্লিষ্টদের আদালতে তলব করে ব‍্যাখ‍্যা দাবি করেছে। কিন্তু তাতে কী বিচার বহির্ূভত হত‍্যাকান্ড বন্ধ হয়েছে? বরং গুপ্ত হত‍্যা ও গুম বেড়েছে। যেগুলির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
২৮ মে বিডিনিউজ২৪ এর কার্যালয়ে ঘটলো সন্ত্রাসী হামলা ও সাংবাদিক-কর্মচারিদের ওপর আক্রমণ। এরপর কোথায় কে আক্রমণের শিকার হবে তা বলা মুশকিল! বিডিনিউজ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছুদিন আগে সাতক্ষীরায় এক সাংবাদিককে একটি রিপোর্টের জন্য মারধর করে হাত পা বেঁধে নদীর পাড়ে ফেলে আসা হয়েছে। দেশে সরকারের টার্গেট বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা! আর পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের আক্রমণের লক্ষ‍্যবস্তু হলেন সাংবাদিকরা। দেশে আইনের শাসন থাকলে, গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় বাস্তবে তার চর্চা থাকলে আজ দেশের অবস্থা এমনটা হতে পারতো না!
কিছুক্ষণ আগে ফেইসবুকের এক স্ট‍্যাটাস থেকে জানা গেলো যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি রেগে গেছেন! সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করার পরই তিনি নাকি বলেছেন যে, “কথা থাকলে অফিসে আসেন। এখানে একটি অনুষ্ঠানে এসেছি।” আসলে রেগে যাওয়ার বাইরে উনাদের আর কী-ই বা করার আছে বলুন? এই ব‍্যর্থদের কারণেইতো দেশ, দেশের মানুষের এতো কষ্ট। বিএনপি-জামাত আমলে আমরা শুনেছি আল্লাহর মাল আল্লায় নিয়ে গেছে। আর এখন শুনতে হচ্ছে ২৪ ঘন্টা, শিগগির ইত‍্যাদি।
বিডিনিউজ এর কার্যালয়ে হামলা ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া যুবক জাহেদুল ইসলাম সৌরভ নিজেকে সরকারি দল আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের কর্মী বলে দাবি করেছে। এই যুবক হামলার দায়ও নাকি স্বীকার করেছে! স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি শামসুল হক টুকু বলেছেন,”কোথাও সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি হলে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করার সময় সংবাদকর্মীরা নিরাপদ দূরত্বে থাকলে অনেক ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া যাবে।” বাহ্ চমৎকার পরামর্শ! শুনেছি এই প্রতিমন্ত্রির এক ছেলে শান্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের দেশ নরওয়েতে এসেছিলেন পড়ালেখা করতে। তিনি নাকি এখন সেই দেশেই থাকার প্রচেষ্টা করছেন। টুকু সাহেবকে বলবো প্লিজ আপনরার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করুন নরওয়েতে পুলিশ কী ধরণের ব‍্যবহার করে একজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে? ছেলের কাছ থেকে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক চর্চা, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও সভ‍্য সমাজ সম্পর্কে একটা ধারণা পেলেও যদি আপনাদের মতিভ্রম কাটে! তাতেও দেশের মানুষ লাভবান হবেন-নিশ্চয়ই।
প্রতীকি প্রতিবাদে জীবনেও সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ হবে না ওখানে! নিরাশাবাদী ভাইবেন না প্লিজ! মুখের কথা, প্রতীকি প্রতিবাদে, শোক প্রকাশ আর দু’একটি মানববন্ধন, ঘেরাও ও বিবৃতিতে কোন কাজ হবে না। চাই সাংবাদিকদের মাঝে একতা, ঐক‍্যবদ্ধ মহাঐক‍্য। যা কেবল সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন নয় দেশের আমূল পরবর্তনও ঘটাতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস এবং আশা। সেই জায়গাটাতে আমরা কী করে যাবো বা কী করে পাবো? শোক প্রকাশ বা নিন্দা জানানো কিংবা প্রকাশের সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। দরকার সাংবাদিকদের মহাঐক‍্য, পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক‍্য, এবং সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের বিপরীতে একটা ঐক‍্যবদ্ধ সাংবাদিক সংগঠনের পতাকাতলে দুর্বার আন্দোলন। সেই আন্দোলনের ফসল হিসেবে হয়ত দেশের মানুষ মুক্তিও পেতে পারেন দুর্নীতি, দু:শাসন, হত‍্যা, নির্যাতন, মানবাধিকার লংঘণ ও আইনের শাসনহীনতা থেকে!
ফেইসবুকে আমার কাছে একটি প্রশ্ন কতরেছেন একজন প্রিয় মানুষ। এই প্রশ্নের উত্তর দেবার ব‍্যর্থ চেষ্টা করেই লেখার উপসংহারে যাবো। প্রশ্নটি হলো এমন, “ভোর হবার আর কত দেরি (বাংলাদেশে)?
আমাদের স্বদেশের চলমান নিরাশ‍্যজনক অবস্থায় এই প্রশ্নের উত্তর বোধহয় প্রকৃতিও দিতে ভয় পাবে! আমার কাছে কোন জবাব নেই! নিজের জান-মাল, মান-সম্মান, মর্যাদা সবকিছুই ওই দুবর্ৃত্ত রাজনীতির হাতেই আটকা পড়েছে! দুবর্ৃত্ত রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার বা বার করে আনার উপায়টা দেখাবে কে? সেই উজ্জ্বল সময়ের অপেক্ষায় আমরা সবাই! ছবি বিডিনিউজ২৪ থেকে নেয়া।