Category Archives: Free Column

সরকারের পিঠে রনির চাবুক!

GMRoni

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। একজন নিপীড়িত সংবাদকর্মী হিসেবে আমি দারুণ খুশি এই জন্যে যে সরকার একজন সাংবাদিক নির্যাতনকারিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত নির্যাতনকারি আবার খোদ সরকারদলীয় সংসদ সদস্য। কিন্তু তারপরও কতগুলি প্রশ্নের উদয় হলো আমার মনে। তাই এই লেখাটা আমার  ছোট্র একটা প্রতিক্রিয়া।
দেখলেন তো টাকার কত জোর? বিশেষত: স্বদেশে সবার উপরে টাকা সত্য, তাহার উপরে এলিট ফোর্স। এক দরবেশের ক্ষমতার দাপটে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মাওলার জেলগমন! আহা, কী সুন্দর দেশ, মাগো জন্মেছিলাম তোমার কোলে! সব খুনি, সব নির্যাতনকারিই যদি এমনিভাবে হতো আটক, দেশে আইনের শাসন আছে বলা যেতো! সাগর-রুনির খুনিরা যদি দরবেশ বাবার অপোনেন্ড হতো, আহ! হয়ত সরকার এখন বলার সুযোগ পাবে এই বলে যে, দেখুন আমাদের সময়ে আমরা দলের সংসদ সদস্যকেও গ্রেফতার করছি! অনেক দলীয় মিডিয়াকর্মী এই প্রচারণা এখনই চালাতে শুরু করেছে স্যোশালমিডিয়ায়। আহ! কী দারুণ আইনের শাসন, অন্য খুনিরা, অন্য নির্যাতনকারিদের ধরা হয় না। মিডিয়া মালিক আর টাকাওয়ালার দাপট কত দেখছেন তো! সাগর-রুনির খুনি ধরা হলো না। পরিশেষে সরকার ও সরকার সমর্থকদের বলছি একটি কথা। সেটি হলো-সংসদ সদস্য রিনির ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি ভালো করে পড়ুন। সেই স্ট্যাটাসের মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করুন। যদি বুঝতে পারেন তবে দেখবেন সরকারের পিঠে কী কঠিন চাবুক ঠুকে দিয়েছেন রনি গ্রেফতার হতে যাবার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে? সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনিসহ সব সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনকারিকে গ্রেফতার করে প্রমাণ করুন যে আপনারা কোন দরবেশের টাকা ও দাপটের কাছে নতজানু নন!!! ছবি-মানবজমিনের ওয়েবপাতা থকে নেয়া।

জয় এখন জ্যোতিষী!

SWJ

জাহাঙ্গীর আকাশ ।।মা প্রধানমন্ত্রি ও দলীয় প্রধান, নানা জাতির পিতা। আর এসুবাদেই তিনি আকস্মিকভাবেই আওয়ামী লীগের নেতা তথা মুথপাত্র বনে গেলেন! না উনি আর কেউ নন, সজিব ওয়াজেদ জয়। উনার কাছে নাকি তথ্য আছে, আওয়ামী লীগ আবারও দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে! এই তথ্যটা উনাকে কে দিলো, কিসের ভিত্তিতে উনি এমন আগাম বার্তা পেলেন, দেশে কী সাধারণ নির্বাচন হয়ে গেছে, যার ফলাফলের ভিত্তিতে তিনি এই তথ্যটা জাতিকে জানালেন? গায়েবি এই তথ্যতো কেবল দেশের মানুষেরই জানার কথা, অন্য কেউ না। জয় এখন জ্যোতিষীর ন্যায় আগাম সবকিছু বলে দিতে পারেন! অন্ত:ত উনার সাম্প্রতিক এক মন্তব্য তাই প্রমাণ করে!

হ‍্যাঁ, যদি ৫১ শতাংশ ভোটার উনাকে এমন দস্তখত লিখে দিয়ে থাকেন তাহলে কোন কথা নেই! তবে “নবীন ও তরুণ” এমপিদের কর্মতৎপরতা আর পুরনো ও দলে যাঁদের অবদান সেইসব তৃণমূল মানুষরা যেভাবে অভিমান করে আছেন আর সংগঠনগতভাবে দলের আজকের যে অবস্থা তাতে এমন আগবাড়িয়ে দম্ভ প্রকাশ করাকে সাধারণ ভোটাররা কিভাবে নেবেন তা বলতে পারছি না। তবে হেফাজতি ও যুদ্ধাপরাধীদের কোনপক্ষের সাথে কোনপ্রকারের নতি স্বীকার স্বাধীনতাকামি, অসাম্প্রদায়িক, মুক্তচিন্তার মানুষ বরদাশত করবে বলে আমার মনে হয় না।

সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হতে চললো আজ অবধি একি পাবলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপাচার্য নির্বাচন করার মতো সরকার সাহস দেখায়নি! আর সিটি নির্বাচনে যা ঘটলো তাতো আর পর্যালোচনা করে বলার দরকার আছে বলে মনে করি না। যদি আমাদের বঙ্গবন্ধুর মেয়ের ভাষণ অনুযায়ী “দুর্নীতিবাজ”রাই সিটি করপোরশেনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু পরাজিতরা যে ধুয়া তুলসিপাতা, অন্ত:ত দুর্নীতির ক্ষেত্রে তার প্রমাণ আমার কাছে নেই, হয়ত জনগণের কাছেই আছে। যে জাতির পিতা বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়ন করতে পারেন সেই পিতার মেয়ে ব্রুট মেজরিটির জনমত পেয়েও বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে ভয় করেন এবং নিজেদের “সাম্প্্রদায়িকতা”র মানসিকতাটুকুর প্রকাশ ঘটান!

খালেদা-নিজামির গর্ভে জন্ম হওয়া এলিটবাহিনীর তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ আজও থামালো না মহাজোট সরকার, উপরন্তু মানুষ, রাজনীতক গুম হয়ে যাচ্ছে, কোন হদিস মিলছে না! দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এমন কাউকে আজও বরখাস্ত করার মতো সৎ মানসিকতার পরিচয় দতে পারেনি মহাজোট সরকার, বিশেষত: বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, সরকারপ্রধান।

যত অভিযোগ, অনুরাগ, অভিমানই থাকুক, দূর থেকে সারাক্ষণের কামনা আমার স্বদেশে যেন আর কোন যুদ্ধাপরাধীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা না উড়ায়, হেফাজতিরা যাতে দেশে শরিয়া আইনের মতো কোন অমানবিক আইন দেশের মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে না পারে। তবেই ৩০ লাখ শহীদের আত্মা, মর্যাদা হারানো দুই লাখ মা-বোনের সম্মান রক্ষা হবে।  ছবি গুগল থেকে নেয়া।

স্বদেশে সততা, অসাম্প্রদায়িকতা আর প্রগতিশীলতা এখন মুখের ও লেখনির অলংকার!

indeginous-boraigram

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। সততা, অসাম্প্রদায়িকতা আর প্রগতিশীলতা এখন মুখের ও লেখনির অলংকার! সোশাল মিডিয়া, ব্লগ, টকশো, হার্ডশো, সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয় আর কলামপাড়ায় ধুম পড়ে যায় এসব নিয়ে অকাজের চেচামেচিতে, যেন মনে হয় ফাঁপা বাঁশ!!! আমার স্বদেশে বাস্তবে এসবের প্রাকটিস দুরবীণ দিয়ে বা মাইক্রোসকোপ দিয়েও দেখা যাবে না বলেই আমার বিশ্বাস! তবে ব‍্যতিক্রম তো আছেই, সেটা উদাহরণ দেয়াটাও একধরণের বোকামি। শয়তানরা নিজের মা, খালা, চাচি, বোন, মেয়ে আর স্ত্রীকেও “তেঁতুল” বলতে দ্বিধা করে না! যারা বলে এসব বাজে কথা তারা কী কোন মায়ের গর্ভে ছিল না নাকি? আমি এসব ভন্ডদের বলবো, নিজের নফছ যদি ঠিক থাকে, ঈমানে যদি জোর থাকে তবে কেউ কাপড় ছাড়াই ঘুরে বেড়ালেও কোন কামনা-বাসনা জাগার কথা নয়, জাগলেও তা দমন করাই তো মনুষত্ব। সরকার মেয়াদের পুরোটা নিয়েও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে পারে না! বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে কষ্ট হয় ওদের! শত্রু সম্পত্তি বা অর্পিত সম্পত্তিগুলিও আসল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে চায় না ওরা! একটা সমাজ ও রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচারের প্রাকটিস না থাকলে, দুর্নীতি ও বৈষম্য যদি সমাজ ও রাষ্ট্রকে কুরে কুরে খায়, তখন সেই সমাজকে বা রাষ্ট্রকে সভ্য, গণতান্ত্রিক বলা যায় কী? প্রগতিশীল, দেশদরদী, গণতান্ত্রিক, ক্ষমতাকেন্দ্রিক বুর্জোয়াবাম সকলেই স্বৈরাচারের ইফতার পার্টিতে গিয়ে “ছওয়াব” কামাই করছে! আসল কতথা হলো ক্ষমতা, ক্ষমতা আর ক্ষমতা। এক্ষেত্রে মহাজোট বলি আর ১৮/১৯ দলীয় জোট বলি কেউ কম কিসে? যাহোক ওরা আমার ভাষা, সংস্কৃতি, শিল্পকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে, ভেঙ্গে ফেলছে তবুও ব্রুট মেজরিটির মহাজোট সরকার ওদের দমনে শক্ত হতে ভয় পায়, এটাই বড় আশ্চযর্ের ব‍্যাপার! শক্ত হওয়া মানে কিন্তু গুলি করা নয়, সমাজে আইনের শাসনের একটা কাঠামো দাঁড় করানোর কথা বলছি আমি!

হাসিনার সরকার কী আমেরিকার প্রতি নতজানু নাকি ইউনুসের কথায় চলে ওবামার সরকার?

Hasina-Yunus

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। ড. মুহাম্মদ ইউনুস নাকি দারিদ্র বিমোচনে কাজ করছেন! নোবেল জয় করছেন। অবশ্য নোবেল প্রদান নাকি এখন একটা রাজনৈতিক খেলা! এমন আলোচনা প্রায়ই চলছে সামাজিক মিডিয়ায়। প্রসঙ্গ এটা নয়। কথা বলতে চাই অন্য বিষয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছে আমেরিকার সরকার।

২০০৯ সালে জার্মানিতে আসার পর থেকেই আমি বাংলাদেশের তৈরী পোশাক বিশেষত: শার্ট ও প্যান্ট এবং গেঞ্জি কেনার চেষ্টা করছি। আর রানা প্লাজার ঘটনার পর এই প্রচেষ্টা আরও বেড়েছে। নরওয়েতে ব্যাপক আলোচনা বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে। অনেকে এমনও মন্তব্য করেছেন যে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক দেখলেই শত শত শ্রমিকের লাশ, কান্না ও তাদের দূরবস্থার কথা মনে পড়ে যায়! তাই তারা বাংলাদেশের পোশাক এখন থেকে কিনবেন কি কিনবেন না সে বিষয়ে ব্যাপক ভাবনা তাদের। এমন অনেক মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। আমি তাদের বলার চেষ্টা করেছি যে এখন আপনাদের উচি‌ত হবে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক আরও বেশি বেশি করে কেনা। পাশাপাশি সেখানে পোশাক শিল্পের অবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের সরকারের ওপর একটা চাপ অব্যাহত রাখা। তাহলে বাংলাদেশের শ্রমিক বাঁচবে, অর্থনীতির উন্নতি হবে এবং আপনারাও (যারা কমদানে সস্তায় পোশাক কিনে পরতে পারেন) কম দামে ভালো মানের পোশাক কিনতে পারবেন। সামাজিক গণমাধ্যম ফেইসবুকেও আমি এসব নিয়ে লেখালেখি করেছি। কিন্তু আজ আকস্মিকভাবে একটা খবর মিডিয়ায় এলো যে আমেরিকা বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছে। এই খবরে আর কেউ না হোক বাংলাদেশের দুই ক্ষমতালোভী খুশি হবেন! আর সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সেই দুইজনের ওপর দোষ চাপিয়ে গোটা দেশের মানুষের সহানুভুতি পাবার চেষ্টা করবে আগামি নির্বাচনি যুদ্ধে!
ওবামা সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্বদেশের অর্থনীতি ও পোশাক শিল্পের ওপর এক দারুণ আঘাত বলে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মত দিয়েছে। আমেরিকা কেন এমন শক্ত সিদ্ধান্ত নিলো তা কী বাংলাদেশের সরকার বিবেচনায় নিয়েছে? এমন একটা সিদ্ধান্ত আসতে পারে বা আসবে বলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। মহাজোট সরকারের একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রি আছেন যিনি বিদেশ ভ্রমণে বেশ স্বাচ্ছন্দবোধ করেন, কিন্তু তাঁর এই ভ্রমণে দেশের ও দেশের মানুষের কী কল্যাণ বয়ে আসে তার কোন ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি কী কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে?

 

বাংলাদেশে শ্রমিক হত্যা ও তার বিচার না হওয়া, পোশাক কারখানাগুলিতে নিরাপত্তার অব্যবস্থা, শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা তথা মজুরি না দেয়া ছাড়াও কারখানাগুলিতে একের পর এক আগুন আর ভবন ধ্বসের কারণে শ্রমিক গণহত্যার ঘটনাগুলিতে আমেরিকা ছাড়া সারা ইউরোপজুড়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেয়া নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থে এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলেন নোবেলজয়ী ও আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ড. ইউনুস এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া।

হাসিনার মহাজোট সরকার টিকফা চুক্তি করেও ওবাসা সরকারের সমর্থন আদায় করতে পারলো না। এক্ষেত্রে বলা যায় ইউনুসই জয়ী হলেন, দীপুমণিদের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো গুরুত্বর্পূণ পদে বসিয়ে রেখে লাভ কী তবে?

মুনাফালোভী মানুষটি বলে বেড়াচ্ছেন যে অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের দারিদ্রতাকে জাদুঘরে দেখা যাবে, বাস্তবে কেবল শান্তি আর দুধের নহর বইয়ে যাবে! বোকার স্বর্গে বাস আর কী? বরং গরীব মানুষ ঋণের জালে আটকা পড়ছে। এক সংস্থার ঋণ শোধ করতে আরেক সংস্থার কাছে ঋণ করতে হচ্ছে। অনেকে ঋণ পরিশোধ করতে ভিটেমাটি বিক্রি করছেন। দারিদ্রতা জাদুঘরে নয় ঘরে ঘরে মিলবে। ৪০ থেকে ১২৫ শতাংশ সুদ নজিরবিহীন! অথচ দরিদ্র নারীরা যে সঞ্চয় করেন প্রতি সপ্তাহে নোবেলজয়ীর প্রতিষ্ঠানে তার ক্ষেত্রে কত শতাংশ সুদ দেয়া হয় তার হিসাব আজও কোন মিডিয়ায় এলো না।

জিএসপি স্থগিত একধরণের মানবাধিকার লংঘণ, আমরা স্থগিত নয় চাই অবস্থার পরিবর্তন। শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও ভাত-কাপড়ের নিরাপত্তা এবং কারখানার পরিবেশের উন্নয়ন জরুরি। জিএসপি সুবিধা বন্ধ/স্থগিত বা কাপড় কেনা বন্ধ করে দেয়াতে দারিদ্রতা বাড়বে, ড. ইউনুসরা কী সেটাই চাইছেন নাকি?

ড. ইউনুসের জন্মদিনে তিনি আমেরিকার সরকারের কাছ থেকে পুরস্কার পেলেন তাও আবার বাংলাদেশের অর্থনীতির বারো বাজানোর মতো পুরস্কার, ৪০ লাখ পোশাক শ্রমিকের পেটে লাথি মারার পুরস্কার! আর উনি নাকি দারিদ্র বিমোচন করছেন, নাকি দারিদ্রতাকে বাঁচিয়ে রেখে নিজের তথাকথিত সুদখোরি সামাজিক ব্যবসা জিইয়ে রাখা ও   জনসমর্থন ছাড়াই দেশের প্রধান হবার রাজনৈতিক খায়েশকে পূরণ করার এক সাম্রাজ্যবাদি দর্শন প্রচার করে চলেছেন?

হাসিনার সরকার যদি আমেরিকার প্রতি নতজানু না হয়ে থাকেতো পাল্টা ক্ষমতা দেখিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশ এখন টিকফা চুক্তি বাতিল করে দিলে বুঝবো হাসিনার সরকার নতজানু সরকার নয়, এই সরকার জনগণের সরকার এবং দেশের মাটি, মানুষ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শক্ত অবস্থানও নিতে পারে! ছবি-গুগল থেকে নেয়া।

কী হবে মানুষের স্বপ্ন, মানবতা আর জীবনের জয়গানের?

Jahangir Akash

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। “দুস্থ সাংবাদিক বনাম দোস্ত সাংবাদিক” শিরোনামের একটি আলোচনা-সমালোচনা চলছে ফেইসবুকে। সেখানেও আমিও আমার প্রতিক্রিয়া জানানোর চেষ্টা করছি। পরিচিতি কিন্তু আমাকে বাঁচাতে পারেনি, দু:দর্িনে পাশে ক’জনকেই বা পেয়েছি আমি সেই পুরনো কথাবাতর্া না তোলাই ভালো। আমি কিন্তু আমার কথা থেকে সরে আসতে পারবো না। এইরকম দলবাজি বা দলের পক্ষে থেকে সাংবাদিকতা করতে পারলে হয়ত ভালোই হতো, দেশের মাটি, জল, হাওয়া আর ভালোবাসায় ডুবে থাকার মজাই আলাদা। বিপদে পড়লে কেউ পাশে থাকে না, আপা। বিপদ কখনও আসেও না যদি না বিচার বহিভর্ূত মার্ডার বা ক্ষমতাবান রাজনীতিকদের মুখোশ উন্মোচন করার মতো কোন রিপোর্ট এড়িয়ে যাওয়ার কৌশলটা রপ্ত করা যায়! যাইহোক এটা আমার মত, আপনি একমত হবেন এটা আশা করি না। তবে আপনার কেন সবার মতকে শ্রদ্ধা করি আমি সবসময়ই। আমি কুন্তু বলিনি সবাই খারাপ, ব‍্যতিক্রমতো আছেই। আর শুধু কী রাজনীতি, মিডিয়ারতো আছে নিজ নিজ ব‍্যবসাপাতিও। সবমিলিয়েই সেলফসেন্সর, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, ক্ষমতাবানদের দাপটের ভীড়ে সুবিধাবাদই বিজয়ী হয়। এতে অন্ত:ত আমার কোন সংশয় নেই। দেশের রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন হবে, মানুষ মুক্তি পাবেন, মিডিয়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, পোশাক শ্রমক কেন সব শ্রমেরই ন‍্যায‍্য মজুরি, বেতন-ভাতা মিলবে, বন্ধ হবে মরণব‍্যধি দুর্নীতি এসবইতো আপনি, আমি আমরা সবাই চাই, তাই না? স্বদেশ ভালো থাকলে দূর থেকেও আনন্দটা ভাগ করে নেয়ার সুযোগটাতো থাকেই হাতে! সৎ বা সততা এটাও আপেক্ষিক! আয় আর ব্যয়ের অংকটার মধ্যে ফারাকটা চোখে দেখা যায়। সুতরাং সততা ও সৎ এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। ২০ বছরের সাংবাদিকতা জীবন কম নয়। এই সময়ে বহু ঘাত-প্রতিঘাত, জানা-অজানা, ভালো-মন্দ, সাধু-শয়তানির অনেক খেলাই নিজ চোখে দেখার সুযোগটা হয়েছে। কাছে থেকে দেখেছি অনেক বড় বড় সাংবাদিক, সম্পাদককে। সাংবাদিক সংগঠনের ছোট দায়িত্ব পালন করারও সুযোগ হয়েছিল আমার জীবনে। কাজেই এসব দিকে আর দৃষ্টি নিতে চাই না। তবে ধর্মচর্চা মানে যেমন জঙ্গিবাদকে সমর্থন বা ভাংচুর-জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা-নির্যাতন (ধর্ম এসব সমর্থন করে না) তেমনি প্রগতিশীলতা মানে মিথ্যাচার কিংবা হাসিনা ও খালেদার দলের পক্ষাবলম্বনসমৃদ্ধ সাংবাদিকতা করে নানান সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেয়া নয়। প্রগতিশীল সাংবাদিকতা বলতে জনসাংবাদিকতা, মানুষের সংগ্রাম, সংহতি, সম্প্রীতি, জীবনকে তুলে ধরাকে বুঝি। আর যারা তুলানিতে থেকে জীবন বাজি রেখে মানুষের তথ্য জানার অধিকারকে সমৃদ্ধ করার সংগ্রামে অবতীর্ণ তাদের ওপর পাড়া দিয়ে উপরতলার নেতৃত্ব কিভাবে নিজেদের আখের গোছানোর কাজটা সুচতুরভাবে করে থাকে তাও বুঝতে কোন গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না। আসল কথা হলো একটা সমাজে যখন আইনের শাসনের বালাই থাকে না, কিংবা বাস্তবে যখন গণতন্ত্রের কোন চর্চার নমুনা অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না তখন অন্যসব স্বাধীনতার আকাঙ্খা অমূলক! কোন আমলে রাজনীতির দুর্বৃত্তশ্রেণী ছাড়া মানুষ ভালো ছিলেন আমাদের বাংলায় সেটা আমার জানা নেই। তবে ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, হত্যা-নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি, অন্যায়-অরাজকতা, অন্যায্যতা, বৈষম্যের বিপক্ষে থাকলেই মানুষ, মানবতা ও জীবনের পক্ষে থাকা হয়। আবারও বলবো একটা সমাজ বা রাষ্ট্রে আইনের শাসন যখন কার্যকর থাকে, রাষ্ট্রের সব অঙ্গ বা প্রতিষ্ঠানগুলি যখন স্বাধীনভাবে চলতে পারে তখন সেই সমাজে বা রাষ্ট্রে অন্যসব সংকট মোকাবেলা করা যায়। কিন্তু আইনের শাসনহীনতা, গণতন্ত্রহীনতা জিইয়ে রেখে জোরজবরদস্তি করে হত্যা-নির্যাতনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ, হেফাজতনামধারী শয়তানবাদ কিংবা যুদ্ধাপরাধ-রাজাকারমুক্ত করা সহজ নয়, মুখে যতই স্লোগান তুলি না কেন, সেখানে ভবন ধ্বসে পড়বেই, পোশাকশ্রমিক মরবেই, সাংবাদিক মার খাবেই, বিনাবিচারে হত্যা-গুম চলবেই, দুর্নীতি থামবে না, জামা-শিবিরের রগকাটা অব্যাহত রবে আরও অন্য সব মানুষের অমর্যাদাকর কর্মগুলি চলতেই থাকবে, ভুলুন্ঠিত হবে মানুষের স্বপ্ন, মানবতা আর জীবনের জয়গান।

বিজিএমইএর মিথ্যাচার ও রেশমার জীবিত উদ্ধার!

Reshma

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। রেশমা, দিনাজপুরের মেয়ে। টানা ১৭ দিন রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের সঙ্গে লড়াই করেছেন। শেষপর্যন্ত উদ্ধাকর্মীরা তাঁকে জীবীত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। জীবনযুদ্ধে রেশমার বিজয়। নি:সন্দেহে আনন্দের খবর এটি। বিশেষ:ত রেশমার পরিবারের কাছে এই রেশমার জীবীত উদ্ধারখবরটি মহা আনন্দের।
নির্মাণ ক্রটি, অনিয়ম ও ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত লোড নেয়ার কারণে ২৪ এপ্রিল ধ্বসে পড়ে রানা প্লাজা। এই প্লাজার ভেতরে ছিল পাঁচটি পোশাক কারখানা। কারখানাগুলিতে পাঁচ হাজারের মতো পোশাককর্মী কাজ করছিলেন। আগেরদিন ভবনটিতে ফাটল ধরার পরও পরদিন মালিকপক্ষ শ্রমিকদের জোর করে কারখানায় প্রবেশ করায়। এরপর ভবনটি ধ্বসে পড়ে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১১০০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আহতের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। আর ঘটনার ১৭ দিন পর জীবীত উদ্ধার হলেন রেশমা।
বাংলাদেশে যখনই পোশাক কারখানায় আগুন লাগে, কিংবা ভবন ধ্বসে পড়ে তখনই একটা আওয়াজ ওঠে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা নিয়ে। সেই আওয়াজের উদ্যোক্তা মূলত: পোশাক কারখানাগুলির সংগঠন বিজিএমইএ এবং সরকার। বিজিএমইএ আজ পর্যন্ত কোন ঘটনায় সত্য কথা বলেছে বলে আমার জানা নেই। তারা সবসময় শ্রমিক সংখ্যা কম দেখানোর চেষ্টা করে থাকে। এবারও রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। তারা বলেছিল পাঁচটি কারখানায় তিন হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করতো। এখন দেখা যাচ্ছে তারা মিথ্যা তথ্য জানিয়েছে দেশবাসিকে। সরকারও বিজিএমইএর পক্ষেই সাফাই গেয়ে থাকে। এবারও তেমনটিই ঘটেছে। কিন্তু বাস্তবতা সরকার ও বিজিএমইএর বক্তব্যকে সবসময় মিথ্যা বলে পরিগণিত করেছে। এবারও তাই ঘটলো।
রেশমা প্রসঙ্গে ফিরতে চাই। ফেইসবুক ও ব্লগে রেশমার উদ্ধার নিয়েঝড় উঠেছে। বাংলাদেশে কোন ঘটনা ঘটলেই ফেইসবুক ও ব্লগে এমন ঝড় তোলা হয়, এ আর নতুন কিছু নয়। কেউ কেউ এই রেশমার জীবিত উদ্ধার হওয়ার সঙ্গে সম্মিলিত মানুষের বেঁচে থাকার কথা বলছে। আমি বলবো, প্রায় ১১০০ জনকে কিন্তু বাঁচানো যায়নি! লোভী পোশাক কারখানা মালিক, দুষ্ট রাজনৈতিক চক্র আর টাকাওয়ালাদের রক্ষাকবচ রাষ্ট্রযন্ত্র কিন্তু বদলায়নি, তার আশু পরিবর্তন হবে বলে কোন ভরসা বা আস্থার জন্ম নেয়নি। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। একজন রেশমার জীবন বাঁচলো বটে, তবে উচ্ছ্বসিত নই আমি অন্ত:ত যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজ, রাষ্ট্র ব‍্যবস্থাটার চরিত্রগত কোন পরিবর্তন না ঘটে ততক্ষণ!
পরিশেষে সাভার ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় অংশ নেয়া সকল উদ্ধারকর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করছি। জয় হোক মানুষ ও মানবতার। ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত।

অভিযান নিয়ে ধুম্রজাল।। হেফাজতে ইসলাম নাকি হেফাজতে শয়তান?

BD

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আমি বলবো হেফাজতে ইসলাম মূলত: হেফাজতে শয়তান এবং তারা ইসলামের শত্রু, অন্ত:ত তাদের জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর, লুট, হত্যা এবং ব্লাশফেমী আইন বাস্তবায়নসহ মধ্যযুগীয় ১৩ দফা দাবিই তার বড় প্রমাণ। অপরদিকে জামাত-শিবিরতো যুদ্ধাপরাধীর দল। আর বিএনপি সেই যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেই বা তাদের সঙ্গে নিয়েই রাজনীতিতে ক্রিয়াশীল। জামাত-শিবির, হেফাজত গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান যারা মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে তাদেরকে মৃত্যুমুখে ফেলে রেখে সব নিজের জান বাঁচানোর জন্য পালিয়ে গেছে। এই জঙ্গিবাদি তথাকথিত মোল্লারা দেশটাকে পিছিয়ে নিতে চায়, তারা স্বাধীন ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ পছন্দ করেনা। বরং ওদের ভালো লাগে পাকিস্তান! তাই তারা মুজাহিদ ও তালেবান হবার জন্য প্রায়শ:ই স্লোগান তুলে রাজপথে। এসবই সত্য।
এই হেফাজতি, বাংলাদেশ ও মানবতাবিরোধীরা গতকাল রাজধানী ঢাকাজুড়ে নারকীয় তান্ডবলীলা চালায়। সিপিবি ভবনে আগুন দেয়, ওরা ছোট ছোট দোকানদার হকার, ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন, সম্বল ধ্বংস করে ফেলে, স্বর্ণালংকার লুট করে, কোরান পুড়িয়ে দেয়। সরকারের নতজানুতাই হেফাজতিদের এই তান্ডবলীলার পালে ধীরে ধীরে হাওয়া লাগায়। এতেও আমার কোন সন্দেহ নেই। “আমি অধম তাই বলে তুমি কেন উত্তম হবে না, অন্যভাবে বলা যায়, তুমি অধম তাই বলে আমি উত্তম হবো না কেন?” অনলাইন মিডিয়া বিডিনিউজ২৪সহ অধিকাংশ গণমাধ্যমে ব্রেকিং খবর হিসেবে প্রচার/প্রকাশ করা হয় যে, রাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান, বিজিবি ও পুলিশের ১০ হাজার সদস্যের সম্মিলিত দল হেফাজতিদের শাপলা চত্বর থেকে সরানোর অভিযানে নামে। মিডিয়ার খবরে বলা হলো যে, অভিযান দল তিন দিক থেকে ঘিরে হেফাজতিদের বিরুদ্ধে গুলি করতে করতে শাপলা চত্বরের দিকে এগুচ্ছে। এও বলা হলো যে, মধ্যরাতের এই সাঁড়াশি অভিযানে মাত্র দশমিনিটেই শাপলাচত্বর হেফাজতমুক্ত! চ্যানেল একাত্তরে মডারেটর নবনীতার সঞ্চালনায় কিছুক্ষণ আগে “জার্নাল” নামে একটি টকশো দেখছিলাম। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে থাকা দুই সাংবাদিক প্রথম আলোর কামরুল হাসান ও একাত্তরের পারভেজ তাঁদের অভিযান সংক্রান্ত বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছিলেন। বুদ্ধিমান মডারেটর এই দুই সাংবাদিকের দেয়া নিহতের সংখ্যা বিষয়ক দেয়া তথ্যে গরমিল ধরে ফেলেন। এরপরই তিনি প্রশ্ন করেন সাংবাদিকদ্বয়কে নিহতের সংখ্যা দুইজনের সঙ্গে কেন অমিল হচ্ছে? যাহোক সরকার ইতোমধ্যে জামাতের মালিকানাধীন দুইটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে শর্ত লংঘণের অভিযোগে। বিগত বিএনপি-জামাত আমলে তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগে জনপ্রিয় টেরিস্টোরিয়ালসুবিধাপ্রাপ্ত টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই তথ্যও সবার জানা। ফখরুদ্দীন-মঈনের সেনা শাসনকালে বিএনপি নেতা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক সালাহউদ্দীন কাদের চৌধুরীর ২৪ ঘন্টার নিউজ চ্যানেলও বন্ধ করেছিল প্রায় একই অভিযোগে। আর বর্তমান মহাজোট সরকার বন্ধ করে আরেকটি টিভি চ্যানেল ওয়ান। কিছুদিন আগে বিরোধীদল সমর্থিত আমার দেশ এর প্রকাশনাও বন্ধ করে দেয় এই সরকার। তথাকথিতই বলি আর আসলই বলি এই পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক উত্তরা ষড়যন্ত্রের অন্যতম অনুঘটক মাহমুদুর রহমান এখনও জেলে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ ঘরে নৃশংসভাবে নিহত সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর ও রুনির হত্যার বিচার প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত সাংবাদিক সমাজ কিছুটা কাছাকাছি এসেছিল। ঘোষণাও দেয়া হয়েছিল সাংবাদি সমাজ এক হবে, হচ্ছে, হয়ে যাবে বলে। কিন্তু শেষ র্পযন্ত রাজনৈতিক পরিচয়ই বড় হয়ে দেখা দিলো। তাই সাংবাদিকরা আবারও রেললাইন হয়ে গেলেন! আমি অনেক আগেই লিখেছিলাম যে আমার স্বদেশের সাংবাদিক সমাজ এক হতে পারবে না, কারণ তারা রেললাইন হয়ে থাকতেই পছন্দ করে। নইলেতো হাসিনাপ্রিয় বা আওয়ামী লীগপ্রিয় কিংবা খালেদাপ্রিয় বা বিএনপিপ্রিয় হয়ে ওঠা যাবে না। পেশা, পেশাগত মর্যাদা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এই বিষয়গুলিতো খালেদা, হাসিনা বলে ছাড় দেয়ার কথা নয়, তবুও রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বনই সাংবাদিকতার প্রধান উপজীব্য হয়ে যায়। এরমধ্যেও অনেকেই আছেন যারা নিরপেক্ষভাবে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে উড্ডীন রাখার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেই আশা বেঁচে আছে আমার। হেফাজতবিরোধী অভিযান নিয়ে লিখতে গিয়ে প্রসঙ্গের দেয়ালটা টপকে ফেলেছি। যাহোক লেখার মূল বিষযবস্তুর দিকে আসা দরকার। আমার ধারণা সরকার হেফাজতিদের বিরুদ্ধে যে অভিযান চালিয়েছে তাতে হেফাজতি, জামাতি আর তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রাজনৈতিক দলটি যে দলটির জন্ম সেনাছাউনির ভেতর দিয়ে তারা ছাড়া দেশের অধিকাংশ মানুষই খুশি! অন্ত:ত অভযানটিকে যেভাবে মিডিয়া ও সাংবাদিকরা দেশ ও বিশ্ববাসির কাছে তুলে এনেছে বা তুলে ধরেছে সেটা যদি সত্যিই ঘটে থাকে বাস্তবে, তবে সরকার ও অভিযান পিরচালনার সাথে জড়িত সকলকেই ধন্যবাদ জানাতে কারোই কার্পণ্য থাকার কথা নয়, আমারও নেই। আর এই ফ্যাসিষ্ট, ধর্মব্যবসায়ী হেফাজত-জামাত-যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করা মানেইতো বাংলা, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ৩০ লাখ শহীদ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি সবকিছুর সাথেই বেঈমানি করা হয়, অসম্মান করা হয় একটি দেশের লড়াকু মুক্তি সেনা ও স্বাধীনতার সংগ্রামকে। প্যারামিলিটারি বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ গুলি করতে করতে গেলো আর মানুষ মরলো নয়জন, এটা কী বিশ্বাস করার মতো? যারা জ্বালাও-পোড়াও, পুলিশ হত্যা, বিজিবিসদস্য হত্যা, মানুষ হত্যা, মানুষের জানমালের ক্ষতি করে তাদের ছাড় দেয়ার কথা কী কেউ বলতে পারে? আর ছাড় না দেয়ার অর্থ কী গুলি করে মারা? প্রশ্ন হলো সরকার হেফাজতকে ঢাকা অবরোধের মতো কর্মসূচী পর্যন্ত আসতে দিলো কেন? অসাম্প্রদায়িক বলে দাবিদার এই সরকার কেন গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙ্গে দেয়? এটা কী হেফাজতিদের কাছে একধরণের আত্মসমর্পণ নয়? সত্য যত কঠিনই হোক, যতই নৃশংস, নির্মম, বর্বর ও ভয়াবহ হোক আমরা সত্য জানতে চাই। কী ঘটেছে, কারা মারা গেছে, কার কত টাকার সম্পদ লুঠ হলো, ফুটপাতের হকার ও ছোট ছোট ব্যবসায়িগুলির পরিবার এখন কিভাবে চলবে সবকিছুই মানুষের জানার অধিকারের মধ্যেই পড়ে। আর মাদ্রাসার দরিদ্র ছাত্রদের যেসব কথিত আল্লামা বা মওলানারা জোর করে কিংবা নির্দেশ দিয়ে বাধ্য করলো শাপলা চত্বরে আসতে সেইসব শফিদের গ্রেফতার না করে জামাই আদরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার মানে কী? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর গুলিতে যদি একজন, একশজন, এক হাজার বা তারও বেশি মানুষ হতাহত হয় তার সঠিক হিসাব প্রকাশ করে সরকার প্রেসনোট দিতে পারে। এতে ভয়ের কী আছে? ঝকাঝকিতে ভবন ধ্বস কিংবা সাভার গণহত্যা কোন বড় ব্যাপা র না, মন্ত্রিদের এমন উল্টা-পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসি যেভাবে বিভ্রান্ত হন মাঝেমধ্যে, তারচেয়ে প্রেসনোট দিয়ে ঘটনার পূর্বাপর ব্যাখ্যা প্রদান করে সত্য প্রকাশই শ্রেয়। লেখার শেষ প্যারাগ্যারাফে বলবো, শাপলাচত্বর অভিযান বিষয়ে মিডিয়া ও সরকারের বক্তব্যের মধ্যে যে সম্মিলন দেখতে পাচ্ছি আমরা তাতে একটা বিষয় বলা যায় যে, অভিযান পরিচালনাকারিরা অন্ধকারে বৃষ্টির মতো গুলি চালালেও মানুষ হতাহতের ক্ষতি তেমন ঘটেনি। যেখানে বিনাবিচারে মানুষকে প্রকাশ্যে হত্যা, রাজনীতিবিদ গুম হয়ে যায়, লিমনরা পঙ্গু হন, সাংবাদিক মাসুমরা নির্যাতিত হন সেখানে এতোবড় অভিযানে “মহান” ভূমিকা পালনকারি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিনন্দন জানাতেই হবে, ধন্যবাদ। কিন্তু প্রশ্নটা জাগলো তখন, যখন হেফাজত ও জামাতকে সমর্থনকারি দুইটি টিভি চ্যানেলকে সরকার বন্ধ করে দিলো। তাহলে কী অন্যসব মিডিয়া সরকারের “কবজাগত” হয়ে হতাহতের পরিসংখ্যান বিষয়ে এড়িয়ে যেতে চাইছে, নাকি বন্ধ করে দেয়া চ্যানেল দু`‌টির কাছে অন্য কোন ভিডিও ফুটেজ ছিল? যা প্রচার হলে সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা উঠবে ভেবে সরকার বিরোধীমতের ওপর “ছুরি” চালালো? কোনটা সত্য, এতোদূর থেকে সেটা বলা কঠিন। সরকার কী তবে জামাত-হেফাজতিদের টিভি চ্যানেল দু`‌টিকেই ভয় পাচ্ছিল, তাই তা বন্ধ করে দিলো? হেফাজত কী সত্যি সত্যি দমন হয়ে গেছে, নাকি এখন তারা সারাদেশেই ভাংচুর, আগুন লাগাচ্ছে না? এই ধর্মান্ধ উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী আর কোন পুলিশ হত্যা, বিজিবি হত্যা করবে না, মানুষ মারবে না, আগুন লাগাবে না, ভাংচুর-লুটতরাজ করবে না, তার কী নিশ্চয়তা দেশবাসি পেয়েছেন সরকারের কাছ থেকে?আবারও বলি, সত্য যত কঠিনই হোক তবুও সত্যটাই জানার আকুলতা। সত্য কখনও পরাজিত হয় না। বিপদ আসবে, সংকট থাকবে এরই মধ্যে সত্য প্রকাশিত হবে আপন রুপেই। আমরা অনেকেই বিশ্বাস করি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার সুবিধাপ্রাপ্ত জেনারেল জিয়া, আর জেনারেল জিয়াউর রহমান হত্যার সুবিধাপ্রাপ্ত হলেন জেনারেল হু. মু. এরশাদ। কাজেই আবেগ দিয়ে নয়, কথার ফুলঝুরি নয়, সত্যিকার অর্থেই  জঙ্গিপনার হাত থেকে বাংলাদেশ, আমার স্বদেশ ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত সোনার বাংলাদেশকে বাঁচাতেই হবে। কোন কিছু বন্ধ করে দিয়ে, কাউকে নির্যাতন করে নয় সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ বাঁচানো যাবে, অন্যভাবে নয়! ছবি-নিউজ এইজ থেকে নেয়া।