Category Archives: Human Rights

দুর্ভাগা স্বদেশ, কাপুরুষদের ঔদ্ধত্ত আর সংসদে প্লটরাজনীতি!

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। প্রতিজ্ঞ করেছিলাম জন্মভূমির রাজনীতি নিয়ে আর কখনও লিখবো না। আমি সাধারণত শপথ ভাঙতে অভ্যস্ত নই। কিন্তু এবার আমি নেহায়তই নিরুপায় হয়ে ওয়াদার বরখেলাপ করতে বাধ্য হচ্ছি। আমি জানি আমার এই লেখা কারও একটি পশমও নাড়াতে পারবে না। তবুও মনকে প্রবোধ দেবার জন্যই লিখছি। আমার মায়ের ভূমিতে একের পর এক নিষ্ঠুর ও র্ববরতম ঘটনাগুলি ঘটেই চলেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু শিক্ষককে দুর্বৃত্তরা কান ধরে ওঠবস ও নির্যাতন করা হলো। অনেক ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে নির্যাতন সইতে হচ্ছে, কাউকে কাউকে প্রাণেও মারা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে র্নিমমভাবে হত্যা করছে ওরা।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে সংঘটিত কয়েকজন বিদেশী হত্যা, লেখক-প্রকাশক ও উন্নয়নকর্মী হত্যা, একের পর এক ব্লগার হত্যাসহ নির্বিচারে ঘটে যাওয়া বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডগুলি নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা, তর্ক চলছে। দেশব্যাপি পুলিশের সাড়াঁশি অভিযানের মধ্যেই খুন-খারাবি, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। সরকার যখন যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে ওরা (একাত্তরের ঘাতক শক্তি) বসে থাকবে! ওরা পাল্টা মরণ ছোবল দেয়ার প্রচেষ্টা চালাবে, এটাই স্বাভাবিক নয় কী?

ধর্মীয় পুরোহিত, আউল-বাউল, আদিবাসী কেউ বাদ পড়ছে না, সব শ্রেণীর মানুষই খুন হচ্ছে। বেছে বেছে এমন সব হত্যাকান্ড ঘটানো হচ্ছে, যেগুলি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠে আন্তর্জাতিকমহলে।  “ধরি মাছ না ছুঁই পানি” এমন আচরণ কল্যাণ নয়, বরং সর্বনাশ ডেকে আনবে। বরং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান পরিস্কার থাকলেই সরকার জনগণের সমর্থন পাবে। কিন্ত সন্ত্রাস দমনের নামে যাকে তাকে ধরে গুলি করে হত্যা, তথাকথিত “বন্দুকযুদ্ধ” এসব ওষুধে সত্যিকারের সন্ত্রাস দমন হবে না। বরং সমালোচনার লাইনটাকেই বর্ধিত করতে সহায়তা করা হবে, যা নিজের পায়ে কুড়াল মারার শামিল।

বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের সমালোচনা ইতোমধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান, স্বৈরশাসক, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেস্টা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছ থেকে এসেছে। খোদ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানও এসব “আইন বহির্ভূত হত্যাকান্ডের সমালোচনায় মুখর।

সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের ধরা হলো না আজও। খুনিদের ধরার ব্যাপারে দ্বিধাবিভক্ত সাংবাদিক সমাজও আর নড়ে-চড়ে না। আসলে সবইতো হয় ব্যবসা নয় রাজনীতি, কোথায় পেশাদারিত্ব, কোথায় স্বচ্ছতা আর সততা, ঐক্য? রাজনীতির এমন ভয়াবহ দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছে যে, স্বার্থের বেলায় সবাই চুপ। মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে যে, প্লট এবং অ্যাপার্টমেন্ট পাবার আশ্বাসের পর সংসদ সদস্যগণ শান্ত হলেন সংসদে। কী দারুণ রাজনীতি আমাদের! দেশের মানুষের মাথায় ছাদ থাকুক আর নাই থাকুক সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি এবং সরকারি প্লট চাই-ই চাই।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি যদি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ থাকে আমাদের রাজনীতিকদের তাহলে তারা নিজের আরাম-আয়েশের কথা নয়, জনগণের নিরাপত্তা এবং সুখ-শান্তির চিন্তাটাকে আগে অগ্রাধিকার দিতো। কী দুর্ভাগা স্বদেশ আমার! আমি মহান সংসদের কাছে জনগণের পক্ষ নিয়ে জোর গলায় বলছি, অনুগ্রহ করে সংসদ সদস্যদেরকে প্লট বা অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেবার আগে নিশ্চিত করুন যে, ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যেকেই একটি করে প্লট পাবে। নইলে দুনিয়াতেই আপনাদের বিচার হবে একদিন, আর এই বিচার করবে প্রকৃতি!

লজ্জায় আমার মাথা নত হয়ে গেলো এই বিদেশভুমে থেকেও। কেন? বিডিনিউজ২৪ লিখেছে, “তনুর বাবা নজরবন্দি”। আর কত অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, জালিমতা, জাহেলিপনা চলবে আমার স্বদেশে! হে প্রকৃতি, দেখাও তুমি তোমার শক্তি, যাতে ওই ঘাতক, কাপুরুষের দল, খুনি-মদমায়েশ, দুর্বৃত্তদল পরাভূত হয়। সাগর-রুনির খুনের ঘটনায় যে নাটক তার ধারাবাহিকতায় আজ মঞ্চস্থ হচ্ছে আমার বোন তনুর খুনিদের রক্ষার নতুন নাটক। হে প্রকৃতি, ওঠাও তোমার মানবতার, ন্যায়বিচারের “তলোয়ার”, কেটে কুচি কুচি কর ওই জালেমদের শয়তানির প্রাসাদ! নইলে যে আমার স্বদেশ কাঁদবে চিরকাল!
আমি বিখ্যাত কোন মানুষ নই, একজন অতি নগন্য সাধারণ মানুষ। স্বদেশের জন্য মন কাঁদে, হ্রদয়জুড়ে বেদনা আর কষ্ট। তবুও আশা করি, স্বদেশ আমার একদিন মাথা তুলে দাঁড়াবে সব অপরাধ, অপরাধী, দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিবাজ আর কলংকটে পায়ের নিচে দলিত করে! আমি জানি এ এক কঠিন লড়াই, তবুও আশা নিয়ে বাঁচি আমি সারাক্ষণ। জয় হবে মানুষেরই।

 

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেয়াটাই কী জরুরি?

Bangladesh

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশ নামক ফুল ও বাগানটি যাদের হাত থেকে বাঁচানোর জন‍্য বাঙালি লড়েছিলেন সেইসব ঘাতকদের হাতেই পড়ছে বাগান ও ফুল পরিচচর্ার ভার। বিচার ছাড়া কিছু চাওয়ার নেই। তবে হাতেগোনা ক’জনের প্রতীকী বিচার নয় সব যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, ঘাতকের বিচার চাই যারা তিন মিলিয়ন বাঙালি হত‍্যা ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম লুট করেছিল এবং পাকিদের সহায়তা করেছিল তাদের বিচারের পাশাপাশি দেশ থেকে দুনীর্তি, দলীয়করণ ও পরিবারতন্ত্রের কবর রচিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলার আকাশে শান্তির পায়রা উড়বে না। সেইজন‍্য চাই চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের একটা স্বপ্ন জাগানিয়া জাগরণ শাহবাগে সূচিত হয়েছে। এই শুভ আলোয় যেন কেউ কালিমালেপনের সুযোগ না নেয় তারজন‍্য সরকারের দৃঢ়তা আশা করে জাতি। ইতোমধে‍্য ব্লগার শোভনকে হত‍্যা করেছে পুরনো শকুনরা। আমার, আমাদের বণর্মালায় আগুন দেয়া হয়েছে। অহংকারের পতাকার অবমাননা করছে ওরা।

ঘাতক যুদ্ধাপরাধীরা জগদ্দল পাথরের মতো মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও তাঁদের পরিবারের বুকে সবর্োপরি বাংলাদেশের বুকে চেপে বসে আছে দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে। একমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই পারে নির্যাতিত, নিগৃহীত মা-বোন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে। ফাঁসি বা মৃতু‍্যদন্ড (নৈতিকভাবে আমি মৃতু‍্যদন্ড সমর্থন করি না, সেটা গোলাম আজমের মৃতু‍্যদন্ড হোক, জিয়ার খুনিই হোক, বঙ্গবন্ধুর খুনিই হোক, একজন মানুষ হত‍্যার আসামিই হোক বা বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত রাষ্ট্রীয় কোন কর্মচারির মৃতু‍্যদন্ডই হোক না কেন)  প্রদান বড় কথা নয়, জরুরি হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। একইভাবে সমান জরুরি দেশ থেকে দুর্নীতি, দারিদ্র এবং রাজনৈতিক অসুস্থ‍্যতার অবসান। আশা করি জাগ্রত প্রজন্ম এসব বিষয়ও আন্দোলনের অন‍্যতম প্রধান ইসু‍্য হিসেবে সামনে নিয়ে আসবে।  ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

“পেপার স্প্রে”র প্রয়োগ আপনাদের ওপরও হতে পারে ।। ব্লগার আসিফের ওপর হামলাকারিদের ধরুন

paperspray
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। মানবাধিকার লংঘণের হাতিয়ার হিসেবে হাসিনার মহাজোট সরকার একের পর এক নতুন স্টাইলের প্রবর্তন করছে। আর আমাদের দলীয় স্তাবক বুদ্ধিজীবীরা বসে বসে আঙুল চুষছেন! খালেদা-নিজামির আমলে গণহারে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, এনকাউন্টার নামক ঘাতক বাহিনীর নৃশংসতা দেখেছেন দেশবাসি। ক্ষমতায় আরোহনের আগে হাসিনা বারংবার এই বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। মানুষ আশ্বস্ত হয়েছিলেন এই ভেবে যে হয়ত হাসিনা ও তার ক্ষমতায় গেলে নারকীয় এই রাষ্ট্রীয় হত‍্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে। কিন্তু ক্রসফায়ারতো বন্ধ হয়ইনি উল্টো এখন মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষকে গুম করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় হ‍্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় মানুষ রাস্তাঘাটে লাশ হয়ে পড়ে থাকছেন। আর বাকপটু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিরা মানবাধিকার লংঘণের ঘটনাগুলিকে ধামাচাপা দেবার জন‍্য একের পর এক খোঁড়া যুক্তি দেখাচ্ছেন দেশবাসির সামনে।
হাসিনা ও মহাজোট সরকারের সর্বশেষ আবিস্কার হলো “পেপার স্প্রে”। সরকারবিরোধী কিংবা জনকল‍্যাণে আহৃত আন্দোলন দমনের এই নতুন হাতিয়ার ইতোমধে‍্য এক শিক্ষকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে স্বদেশের মিডিয়ায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রি সরকারের শেষ সময়ে দেশের মানুষকে নিয়ে যে খেলা শুরু করলেন তা বন্ধ করুন। নইলে আখেরে আপনার ও আপনার দলের পুন:ক্ষমতায় যাবার স্বপ্নটা দু:স্বপ্ন হয়ে যাবে! আর হাওয়া তারেক-ও ঘাতক নিজামিরা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কী পরিণতি অপেক্ষা করছে তা কী আঁচ করতে পারছেন না মোটেও, নাকি ভাবছেন যেকোনপ্রকারেই হোক ক্ষমতায় আসবেনই!
এই মহাজোট সরকারের ভেতরে এবং বাইরে এতো মানুষ আছেন যারা দেশে-বিদেশে মানবাধিকার নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন সেইসব মুর্খ জ্ঞানপাপীরা একেবারেই ভেজাবেড়ালের ন‍্যায় চুপচাপ করে হালুয়া-রুটি খাবার বা পাবার আশায় লেজ গুটিয়ে সরিয়ে রাখছে নিজেদের, কিন্তু কেন? মনুষ‍্যত্ব, বিবেক বলে কী এসব মানুষের হৃদয়ে কিচ্ছু নেই? আর সরকারের অংশীদার অনেক বাম, প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতারা সরকারের ভেতরে থাকার পরও কারও মুখে শোনা গেলো না যে এসব মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড থেকে সরকার সরে না আসলে তারা সরকার থেকে সরে দাঁড়াবেন? সুবিধাবাদের স্রোতধারা এত প্রবল যে সেখানে আরাম-আয়েশ আর গদি-ক্ষমতার জাদুর পরশে মানুষের মৌলিক মানবতাবোধটুকু পর্যন্ত ভেসে যাচ্ছে!
কী নিলর্জ্জ বেহায়ার মতো পুলিশ কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ পেপার স্প্রের ক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন। তিনি বললেন, ‘পেপার স্প্রে লাঠিপেটার বিকল্প। সরকারের অনুমতি নিয়ে সাধারণ মানুষও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এই স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।” প্রশ্ন হলো বাস্তবে সাধারণ মানুষ কী এই অনুমতি পাবে রাজনৈতিক তদবির বা শক্তি ছাড়া? আর যদি হরতালকারি, আন্দোলনকারি বা সাধারণ মানুষও যদি এমন স্প্রে পুলিশের ওপর ব‍্যবহার শুরু করে তখন বেনজিররা কোথায় পালাবেন? সতি‍্য সতি‍্য যদি সাধারণ মানুষের হাতে এই অমানবিক স্প্রে অস্ত্রটি চলে যায় গোটা দেশটা এক অরাজক নৈরাজ‍্যকর পরিস্থিতির দিকে চলে যাবে, এতে কী সরকারের নীতিনির্ধারকদের মাঝে কোন সংশয় আছে?
শিক্ষকরা নিজেদের রুটি-রুজির জন‍্য রাস্তায় নেমেছিলেন। বামরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল, সমাবেশ ও আন্দোলন সংগ্রাম করে-এটা দেশবাসি জানেন। তারা কখনও রাস্তায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে না, বাসে আগুন দিয়েও মানুষ হত‍্যা করে না কিংবা বোমাও মারে না কারও ওপর। বরং পুলিশই বামদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সবসময় বাধা দিয়ে থাকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরাণ্বিত করা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সিপিবির নেতৃত্বে বামদলগুলির সাম্প্রতিক হরতালে দেশবাসির সমর্থন ছিল নজিরবিহীন এবং শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে দেশে। কিন্তু তাররও শিক্ষকদের ওপর ও বাম দলগুলির নেতা-কর্মীদের ওপর কেন স্প্রে করতে হলো সেটার জবাব হয়ত একমাত্র শেখ হাসিনা কিংবা তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিই জানেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি, তাঁর নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনী, র‍্যাব-চিতারা খুনি, অপহরণকারি, গুমকারি, ধর্ষকদের ওপর স্প্রে করতে পারে না কিন্তু জনগণের স্বার্থে ডাকা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর নতুন ধারার এক বর্বরতার প্রয়োগ ঘটালো! আন্দোলন যদি সহিংস রুপ নেয়, জ্বালাও-পোড়াওয়ের দিকে চলে যায় কিংবা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে সরকার বা সরকারি বাহিনী তারজন‍্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব‍্যবস্থা নিতে পারেন। সে অধিকার রকারের আছে। কিন্তু আন্দোলন দমনের নামে, সহিংসতা বন্ধের নামে কারও ওপর স্পে প্রয়োগ, নির্যাতন, লাঠিপেটা করার কোন অধিকার দেয়া হয়নি সংবিধানে। সংবিধানে সকল ধরণের নির্যাতনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও জ্ঞানপাপীর দল সংবিধান লংঘণ করেই চলেছে বিশেষ করে ক্ষমতাসীনরা পুলিশ-র‍্যাবকে নিজেদের ক‍্যাডার বাহিনীর ন‍্যায় ব‍্যবহার করছে জনগণের বিরুদ্ধে।
দেশে ধর্ষণের মহাউৎসব চলছে। ধর্ষণ ধামাতে পারছে না সরকার। খুন-হত‍্যা ও বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার সেখানে নিত‍্য-নৈমিত্তিক ব‍্যাপার। বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলিতে চলছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের রাম-রাজত্ব। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে চ‍্যাম্পিয়ন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী, ক‍্যাডার ও মস্তানদের দৌরাত্ব বেড়েই চলেছে। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের দ্বারা। ব্লগার, সাংবাদিক যারাই লিখছেন পক্ষপাতমূলকভাবে অন‍্যায়-অবিচার আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারাই হচ্ছেন সন্ত্রাসীদের টার্গেট। অতি সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় জনপ্রিয় ব্লগার আসিফ মহীউদ্দিন সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় মারাত্বক আহত হয়েছেন। হামলাকারিদের ধরতে পারেনি পুলিশ। ইডেন কলেজের অ্যাসিডদগ্ধ ছাত্রীটি এখনও হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। দেশে মুক্তমতের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জায়গা ক্রমশ:ই সংকুচিত হয়ে আসছে। সাংবাদিক, ফটো সাংবাদিকদের ওপর বহুমুখী আক্রমণের খবর মাধে-মধে‍্যই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে।
খুলনায় ক’দিন আগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়াউদ্দিনকে গুলি করে হত‍্যাপ্রচেষ্টার সঙ্গেও সরকারি যুব সংগঠনের এক নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে এক শিশু নিহত হয়েছেন। এই যোদ্ধাদের চোখে পুলিশ পেপার স্প্রে করে না! রাজধানীর একটি বাণিজি‍্যক ভবনে এক শিশুর গলিত লাশ মিললো। ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত‍্যা করা হয়েছে। অভ‍্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গুলি করে হত‍্যা করা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে দেশের মিডিয়ায়। নিহত ফারুক শুধু একজন রাজনীতিকই নন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও বটে। এছাড়া তিনি স্থানীয় একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদকও ছিলেন। রাজধানীর উত্তর মুগদাপাড়া থেকে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ধর্ষক-খুনি ও বন্দুকযোদ্ধার ওপর স্প্রে করে না পুলিশ, তারা শুধু রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারি বাম নেতা-কর্মী ও জাতির মেরুদন্ড রক্ষাকারি শিক্ষকদের ওপর স্প্রে করতে ভুলে না।
মহাজোট সরকারের হাতে এখনও সময় আছে মুক্তমত প্রকাশ ও মানবাধিকার রক্ষার পথে এগিয়ে যাবার। সকল প্রকারের হত‍্যা-নির্যাতন, গুম-খুন, বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড এবং সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথকে প্রশস্ত করে স্প্রে প্রয়োগের নামে আন্দোলনকারিদের ওপর বিষক্রিয়া নিক্ষেপ বন্ধ ও পুলিশি নিপীড়ন বন্ধ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত না করে সন্ত্রাসী, খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, বন্দুকধারি ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাই হবে মহাজোট সরকারের সফলতার চাবিকাঠি। নইলে আমও যাবে ছালাও যাবে,পাশাপাশি খালেদা-নিজামিদের হাতে ফের ক্ষমতা ফিরে গেলে পেপার স্প্রের প্রয়োগ নিজেদের চোখেই ছিটাবে একই পুলিশ। এতে হাসিনা ও তাঁর মহাজোট সরকারের নেতা-কর্মী ও পরামর্শদাতাদের সন্দেহ থাকলেও ইতিহাস যে তারও সাক্ষ‍্য দেয় তা বিগত দুই দশকের তথাকথিত নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রের শাসনামলই প্রমাণ দেয়। কাজেই সাধু সাবধান!!! ছবি বিডিনিউজ২৪

শ্রমিক বাঁচলে পোশাক কারখানা চলবে

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। চাই আরও দুর্নীতি, অনেক-অগণিত লাশ ও আগুন, হাজার তদন্ত কমিটি, প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে আসল সত‍্যটাকে ধামাচাপা দেয়ার অঙ্গিকার, দেশি-বিদেশি বিপুল অর্থের লুটপাট সর্বোপরি চাই আরও অনৈতিকতা, অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও গণতন্ত্রহীনতা! তাই পোশাক কারখানার মালিক ভাইয়েরা আপনারা শিল্পকারখানায় দুর্ঘটনা এড়াতে আরও বেশি সাবধান ও সতর্ক থাকুন।
প্রচন্ড মানসিক দহন ও পীড়ার প্রকাশ হিসেবে লেখার শুরুতেই হতাশামূলক কথাগুলি লিখেছি। কারণ সহজ-সরল কোমলমতি সোনার মানুষগুলির ঘামঝড়া শ্রমে যে হীরার ন‍্যায় বিবেচিত বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসেন যে সেক্টরটির মাধ‍্যমে সেই মণিমুক্তার মতো ক্ষেত্রটিকে শুধুমাত্র অবিচারে পূর্ণ দুবর্ৃত্ত শাসন ব‍্যবস্থা ও মুনাফালোভীদের অবহেলা-দায়িত্বহীনতার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই পোড়া মানুষগুলির কল্পিত ছবি মনের আয়নায় আঁকছি আর চোখের জল গড়ছে আমার অজান্তেই। ইন্টারনেটের বদৌলতে টিভিপর্দার মাধ‍্যমে স্বদেশ থেকে স্বজনহারা মা-বোন, ভাই-বাবাদের আহাজারিতে প্রচন্ড শীতের এই দেশটিতে যেখানে থেকে লিখছি তার বাতাসও যেন গরম হয়ে উঠছে। সবকিছুতেই “ষড়যন্ত্র” র ধোয়া তুলে রাষ্ট্রীয় ব‍্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা নতুন কিছু নয় আমার সোনার বাংলায়।
প্রিয় পাঠক উপরের প‍্যারাটির শেষ বাক‍্যটি বাংলাদেশের তথাকথিত গণতন্ত্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর “গণতান্ত্রিক” প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা পোশাক শিল্প মালিকদের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেছেন। সূত্র> এনটিভির দুপুর ১২টার সংবাদ (২৭ নভেম্বর ২০১২)। এটিএন বাংলার ২৭ নভেম্বরের এক রিপোটর্ মতে, ১৯৯০ সাল থেকে দেশের পোশাক কারখানায় বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকান্ডে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন অগনিত। প্রতে‍্যকটি ২৮ নভেম্বরের আমাদের সময় লিখেছে, দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার পোশাক কারখানা। হাসিনা এবং তাঁর সরকার ও সরকার সমর্থকদের ভাবখানা এমন যেন পোশাক কারখানায় এইবারই প্রথম আগুন লাগলো, আগে শ্রমিক মারা যায়নি একইভাবে! উনারা যেন অন্ধ, কিছুই দেখেন না, তাদের যেন জ্ঞান-বুদ্ধি কিছুই নেই। আসলে এরা জ্ঞানপাপী, মিথু‍্যক, ক্ষমতালোভী।
বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ। পোশাক কারখানাগুলিতে ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন। বৃহৎ এই পোশাক খাতই বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। আর এই সেক্টর আজ হুমকির মুখে। পোশাক শ্রমিকদের নেই জীবনের নিরাপত্তা, নেই কোন আর্থিক নিরাপত্তাও। কারখানাগুলিতে (অধিকাংশ) নেই কোন আগুন নেভানোর সুব‍্যবস্থা এমনকি জরুরি প্রয়োজনে নিরাপদ বহির্গমন ব‍্যবস্থাও। ফলে প্রতিবছরই আগুন লাগছে এবং কর্মজীবী মানুষ মারা যাচ্ছেন। মানুষ মারা গেলেই মাথাগুনে নামমাত্র ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ প্রদানের সেই প্রতিশ্রুতি পূরণও করা হয় না পুরোপুরি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেছেন যে, “আমাদের হাতে সব তথ‍্য উপাত্ত আছে কী করে এবং কারা পোশাক কারখানায় আগুন লাগিয়েছে”? উনি দেশে কোন ঘটনা ঘটলেই বিশেষত: আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট কোন ঘটনা ঘটামাত্রই এই “মখাআ” প্রায় একই বক্তব‍্য দিয়ে থাকেন মিডিয়ার সামনে। কিন্তু তাঁর বক্তবে‍্যর বাস্তবতা, সত‍্যতা কতটুকু, সাধারণ মানুষই বা কত শতাংশ বিশ্বাস করেন তাঁর বক্তব‍্য তা প্রশ্নসাপেক্ষ। সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকারিদের আজও জাতির সামনে তিনি হাজির করতে পারেননি। শ্রমিক নেতা আমিনুল হত‍্যাকান্ডেরও কোন কিনারা করতে পারেননি এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি। কিন্তু তারপরও তারা বলে চলেছেন, “সবকিছু বের করা হবে, অপরাধি শাস্তি পাবে, তদন্ত চলছে”। কিন্তু শেষতক খুনিদের নাগাল কখনই পায় না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি ও প্রশাসন!
নিশ্চিন্তপুরের পোশাক কারখানার গণহত‍্যার নায়কদের বাঁচাতে সুমি ও জাকির নামের দু’জনকে বলির পাঠা বানানোর নাটক মঞ্চায়ন ইতোমধে‍্য হয়ে গেছে। একশ্রেণীর মিডিয়া আবার সেটাকে ফলাও করে প্রচারও করছে। হায় সাংবাদিকতা! এই সাধারণ বিচারবুদ্ধি নেই যে সুমি এখানে ব‍্যবহৃত হয়েছে আগুন লাগানোর জন‍্য এবং ১১০ বা ১২৪ জন পোশাক শ্রমিকের গণহত‍্যার নায়কদের বাঁচাতে ও প্রকৃত ধামাচাপা দেবার জন‍্য। চাই অনুসন্ধানী ও এডভোকেসি সাংবাদিকতা মানুষের জন‍্য, সমাজে ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন‍্য এবং ঘাতকদের মুখোশ উন্মোচনের জন‍্য। সেই সাংবাদিকতা কোথায় পাবো? সব মিডিয়া মালিকও যে খালেদা নয়তো হাসিনা বা তাঁদের জোটভুক্তদের কট্রর সমর্থক কিংবা মিডিয়ামালিকদের আছে নিজ নিজ ব‍্যবসাপাতি ও স্বার্থ এবং কর ফাঁকির চেষ্টা, সাথে আরও আছে রাজনৈতিক দর্শন।
মিথ‍্যাবাদি, দুবৃত্ত শাসক, শোষক রাজনীতিক ও মিডিয়া নিপাত যাক, মানুষ জেগে ওঠুন নিজের মান-মর্যাদা, জীবন ও দেশ বাঁচাতে। দেশের মানুষ একদিন না একদিন জেগে ওঠবেনই, তখন কেউ কোন দিশা পাবে না পালানোর। সেই দিনটি না আসা পর্যন্ত নিশ্চিন্তপুরের মতো গণহত‍্যা ঘটতেই থাকবে! আমরা আমজনতা, হাসিনা-খালেদা বুঝি না। বুঝি দেশের স্বার্থ। শ্রমিক বাঁচলে, পোশাক কারখানা সচল থাকবে, বৈদেশিক মুদ্রা পাবে দেশ, সরকার। আর ঘুরবে অর্থনীতির চাকা। আর যাই হোক হাসিনা-খালেদারা অন্ত:ত এই সত‍্যটা বোঝার মতো বিবেক আছে। আর যদি নাই থাকে তবে দেশ শাসন করারও কোন অধিকার নেই তাঁদের।
কথা নয় কাজ দেখতে চাই আমরা। পোশাক কারখানাগুলিতে কাজের পরিবেশ, আট ঘন্টার বেশি সময়ের জন‍্য ওভারটাইম ভাতা প্রদান শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব‍্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন‍্যায‍্য মজুরি-ভাতা ও ছুটির ব‍্যবস্থাও করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে শ্রমিক যেন নিরাপদে কারখানার বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে তার ব‍্যবস্থা করাও অত‍্যন্ত জরুরি।
কাজেই ক্ষমতা, স্বার্থ ও পরিবারচিন্তা ভুলে মানুষ ও দেশকে বাঁচাতে এই দই নেত্রী সত‍্যচর্চা, গণতন্ত্রকে জিইয়ে রাখা ও বাস্তবে তার চর্চা এবং দেশে ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাবেন সেই প্রত‍্যাশাই করি সুদূর প্রবাস থেকে। জয় হোক মানুষ ও মানবতার, নিপাত যাক ষড়যন্ত্র, মিথ‍্যাচার আর স্বার্থপরতার সংস্কৃতি। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

এই পোড়া লাশের গন্ধ কী হাসিনা-খালেদার নাকে পৌঁছায়?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আগুনে পুড়ে ১১২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন ঢাকার সাভারের নিশ্চিন্তপুরের পোশাক কারখানা তাজরিন ফ্যাশনে। এমন অমানবিক মৃতু‍্য এর আগেও বহুবার ঘটেছে। কিন্তু কেন ঘটছে, কারা দায়ি এমনসব হৃদয়বিদারক মৃতু‍্যর জন‍্য তা জানা যাচ্ছে না। এমন সারি সারি লাশ শোকপ্রকাশের ঢল নামায়। এবারও কোন ব‍্যতর্‍্যয় ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রি, বিরোধীদলীয় নেত্রী ইতোমধে‍্যই শোক জানিয়েছেন। সরকার নাকি আবার জাতীয় শোক ঘোষণা করবে। ভাবখানা এমন যেন জাতীয় শোক ঘোষণা করলেই স্বজনহারা মানুষগুলি তাঁদের প্রিয়জনদের ফিরে পাবেন!
দেশের পোশাকশিল্প অর্থনীতিতে এক বিরাট ভূমিকা পালন করে। সেই সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকরা কী মানবেতর জীবন যাপন করে তা সবারই জানা। ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকার মাসিক বেতনে একটা পরিবার চলতে পারে না। পোশাক কারখানার মালিকদের বাড়ে জৌলুস, বাড়ে না দরিদ্র অসহায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা। একদিকে অর্থনৈতিক অনিরাপত্তা আরেকদিকে জীবনের অনিশ্চয়তা। পোশাক শ্রমিকদের জীবন আটকা পড়েছে এই দুই অনিশ্চয়তার জালে। কিন্তু তাতে হাসিনা বা খালেদার কী আসে যায়? উনারাতো শুধু ক্ষমতা চান, গদি রক্ষা আর গদিতে বসার লড়াই অটুট থাকলে কে মরলো, আর কে বাঁচলো ততে তাঁদের কোন আসে যায় কী?
পোশাক কারখানাগুলিতে আগুন লাগার মতো জরুরি সময়ে শ্রমিকদের বাইরে বেরিয়ে আসার মতো কোন সুব‍্যবস্থা আছে কিনা, আগুন নেভানোর মতো কোন ব‍্যবস্থা কিংবা কারখানার আশেপাশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বা জলাধার আছে কিনা এসব প্রশ্ন কখনও কী সরকার খতিয়ে দেখেছে বা দেখে? যেনতেন প্রকারে পোশাক কারখানা গড়ে তুলে সাধারণ শ্রমিকদের ঘামঝড়া পরিশ্রমের ফসলে মালিকরা বাহাদুরি করে, কিন্তু যাঁদের কারণে এই বাহাদুরি চলে তাঁদের জীবনের নিরাপত্তার ব‍্যবস্থা যারা করতে পারেনি বা পারে না তাদের বিরুদ্ধে কী কখনও সরকার ব‍্যবস্থা নেবে?
ফি-বছর পোশাক কারখানায় আগুন লাগে, মানুষ মরে। শ্রমিকদের আশা-ভরসা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিন্তু পোশাক কারখানার শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব‍্যবস্থা বাড়ে না। বাড়ে না অর্থনৈতিক অধিকারও। প্রতিবছর মানুষ পুড়বে আর আমরা শোকসভা ও শোকবাণী বা বিবৃতির মধ‍্য দিয়েই পোড়া মানুষগুলিকে সমাহিত করবো! আর কতো কান্না,যন্ত্রণা ও পোড়া লাশ পেলে ক্ষমতা ও গদিপ্রিয় মানুষগুলির হৃদয়ে ভালোবাসার জন্ম নেবে এইসব দরিদ্র মানুষগুলির জন‍্য?
এসব অভাগা, অসহায় ও দরিদ্র মানুষগুলির (প্রকৃতঅর্থে যাঁরা হাসিনা-খালেদাদের লাক্সারিয়াস জীবনের রসদ যোগান দেন) পোড়া লাশের গন্ধ কী হাসিনা-খালেদার নাক পর্যন্ত পৌঁছায়? নাকি উনাদের সেই অনুভূতিবোধ আছে? ছবি-বিডিনিউজ২৪ থেকে নেয়া।

রক্তাক্ত মায়ানমার: অমানবিক উক্তি নয় সাগরে ভাসা মানুষদেরকে আশ্রয় দিন!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সহিংসতাপূর্ণ রক্তাক্ত মায়ানমার থেকে মানুষ বাঁচার জন‍্য সীমান্ত ও নদী পেরিয়ে আসতে চাইছে বাংলাদেশের সবুজ মাটিতে। আর বাংলাদেশ সরকার সেই নি:স্ব ও বিপদাপন্ন মানুষদেরকে মৃতু‍্যর মুখে ঠেলে দিচ্ছে! নৌকাভর্তি মানুষ যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে তারজন‍্য বাংলাদেশ সরকার বডর্ার গার্ড বা বিজিবিকে সতর্কতা অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রি ডা. দীপু মনি সাফ জানিয়ে দিলেন “এটা আমাদের স্বার্থ নয় যে, মিয়ানমার থেকে নতুন করে শরনার্থী আসুক।” মায়ানমারে সহিংসতার প্রেক্ষিতে রাখাইন প্রদেশ থেকে জীবন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দিতে সরকারকে সরকারকে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। এরপরই দীপু মনির এই অমানবিক বক্তব‍্য প্রদান বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে কী বাড়িয়ে দেবে বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে? যেখানে সরকার ভাবমূর্তি নিয়ে সবসময় একটা জিহাদী মানসিকতা প্রদর্শন করে আসছে বরাবরই সেখানে সরকারের শরনার্থীবিরোধী, মানবাধিকারবিরোধী অবস্থান কিসের সাক্ষ‍্য বহন করে?
কোন মানবিক, গণতান্ত্রিক সরকার যারা মানবাধিকারে বিশ্বাস করে কখনও কোন সাহায‍্যপ্রার্থীকে এভাবে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে? আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশি ভারত আমাদের শরনার্থীদের স্থান না দিলে কী অবস্থা ঘটতো, এই ইতিহাস দীপুমণিরা ভুলে গেছেন বোধহয়! আসলে উনারা অন্তর্মুখী থাকতে চান, পেছনের দিকে যেতে চাইছেন, সামনে নয়। সর্বোপরি আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও রীতি-নীতিকে অস্বীকার করছেন উনারা। দীপু মণিরা পলিটিক্স বোঝেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ করার মতো কথা থেকেই যায়!
আমরা আশা করি সরকার এই কঠিন বিপদের মুহুর্তে মায়ানমার থেকে বিতাড়িত বা প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশের ভেতরে আসার এবং তাদের নিরাপত্তা ও অন‍্যান‍্য জরুরি প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলি মেটানোর উদে‍্যাগ নেবে। এটা সরকারের মানবিক ও আন্তর্জাতিক দায়ও বটে!
মায়ানমারে যে মানবহত‍্যাযজ্ঞ চলছে তা বন্ধে সেখানকার রাজনীতিক, সুশিল সমাজ ও প্রশাসন জরুরি ব‍্যবস্থা নেবে বলেও আমাদের দৃঢ় প্রত‍্যাশা। বিশ্ববিবেক জাগ্রত হোক মানুষ ও মানবতা রক্ষায়। জাতি, ধমর্, বিশ্বাস, বর্ণ নয় সকল মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখতে হবে সব পক্ষকেই। মানুষ হত‍্যা কোনভাবেই কোন অজুহাতেই গ্রহণযোগ‍্য নয়, হতে পারে না। মুসলমান, বৌদ্ধ, কিংবা হিন্দু ও খ্রিষ্টান বলে কোন পার্থক‍্য করার মানেই হলো সাম্প্রদায়িকতা, ধমর্ান্ধতা। এসবকিছুই পরিহার করে আলোচনা, সহনশীল পরিবেশ ও সমস‍্যা বা দ্বন্দ্ব সংঘাতের কারণগুলি চিহ্নিত করে তার একটা কার্যকর সমাধানে পৌঁছতে সবাইকে সমান ত‍্যাগ স্বীকার ও দায় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে মানবতা ও মানবমুক্তির পথে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা অন‍্য কোন ষড়যন্ত্র, উদ্দেশ‍্য বা প্রভোকেশন বরদাশত করার মতো নয়! কোথায় কথিত মানবাধিকারের সোল এজেন্টরা, কী করছেন নোবেলজয়ী গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সুচী? সকলধরণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ পরিহার করে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তথা বিশ্বসম্প্রদায়কে এই বিশ্বসভায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষভাবে একযোগে একসাথে কাজ করতে হবে। নইলে কোন এক বিশেষ দেশ বা অঞ্চলের সংকটের পাশ্বর্প্রতিক্রিয়া সবখানেই ছড়িয়ে পড়বে।
মানুষ সাগরে ভাসছে! তারা বৌদ্ধ কী মুসলমান সেটা বড় কথা নাকি জরুরি প্রয়োজনে মানুষের জীবন বাঁচানোটাই বড় কথা? মানুষের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন ও ভৌগোলিক সীমারেখার অজুহাত ভুলে যান। মানবিকতার, ভালবাসার জায়গাটাকে বড় করতে না পারলে কী আমরা কেউ কাউকে সভ্য বলে দাবি করতে পারি? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

সাংবাদিক নির্যাতনের মহাউৎসব: সবকিছুই ওই দুবর্ৃত্ত রাজনীতির হাতেই আটকা পড়েছে!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশে কী কোন যুদ্ধ চলছে? দেশে কী হচ্ছে? কী হতে যাচ্ছে? কী হবে দেশের ভবিষ‍্যৎ, কী আছে দেশের ভাগে‍্য? একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতন ও হত‍্যার ঘটনাগুলির সঙ্গে কী কোন বিশেষ শক্তি জড়িত? সেই শক্তি কী দেশের সরকারের চেয়েও ক্ষমতাধর? যা ঘটছে তা কী পরিকল্পিত কোন ঘটনার পূর্বমহড়া? দেশে কী বড়ধরণের কোন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে? বিরামহীনভাবে চলা সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাগুলি কী অনাগত সেই শক্ত কোন ষড়যন্ত্র বা ঘটনা ঘটানোর আলামত? চারিদিকে একটা আতংকাবস্থা। কেমন জানি একটা ভয়, আতংক, হতাশা, উদ্বেগ, নিরাপত্তাহীনতা ভর করছে দেশের মানুষের মনে। মহাজোট সরকারের ভেতরেই কী মোশতাকরুপী কোন মীরজাফরের আমদানি বা আবির্ভাব ঘটেছে? সরকার কী বুঝতে পারছে না যে সব ঘটনাই সরকারের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে? নাকি জ্বি-হুজুর, জ্বি নেত্রী, জ্বি-আপাদের খপ্পড়ে পড়েছে সরকার? সরকারের ভেতরের কোন অংশই কী তবে এসব ঘটনাকে জিইয়ে রেখে যুদ্ধাপরাধীদের চলমান আন্দোলনকে ভন্ডুল করতে চাইছে? নাকি যুদ্ধাপরাধীদের নানান প্রশ্ন আসছে মাথার মধে‍্য। এসব জটিল প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই। তবে দেশের পরিস্থিতি যে মোটেও ভালো নেই তা কেউ কী অস্বীকার করবেন?
সাংবাদিকরা বেডরুম, রাজপথ, নিজের অফিস কোথাও কী নিরাপদ আছেন? নাকি সরকার কোন নিরাপত্তা দিতে পারছে সাংবাদিকদের? সাংবাদিক হত‍্যা-নির্হযাতনের ঘটনাগুলির কী কোন কার্যকর তদন্ত করতে পেরেছে সরকার? অতীতের সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের কথা বাদই দিলাম। মহাজোট সরকারের আমলে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের কতগুলি ঘটনা ঘটলো! কোন ঘটনায় সঠিক ও সন্তোষজনক তদন্ত করতে পেরেছে সরকার? বরং তদন্তের নামে সরকার নাটক করছে। অন্ততপক্ষে সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ডের ঘটনা তারই প্রমাণ দেয়। প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলো, কিন্তু সাগর-রুনির খুনিরা ধরা পড়েনি।
হত‍্যার আগে সাংবাদিক সাগর-রুনি বিষ পান করেননি কিংবা তাদেরকে বিষপ্রয়োগ করা হয়নি। ভিসেরা রিপোর্টে একথা বলা হয়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি চাঞ্চল‍্যকর এই হত‍্যাকান্ড ঘটে রাজধানী ঢাকায়। এরপর নানান নাটকীয়তার পর পুলিশ তদন্ত কাযর্ক্রম বিষয়ে নিজেদের ব‍্যর্থতা স্বীকার করে আদালতে। এরপর আদালত (সর্বোচ্চ আদালত) সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব‍্যবহার করে সাগর-রুনি হত‍্যা মামলা তদন্তের ভার দেয় এলিট ফোর্স র‍্যাবকে। সেই বিশেষ বাহিনীও এখন পর্যন্ত কোন খুনিকে শনাক্ত করতে পারেনি। তদন্ত কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে তাও দেশবাসি জানতে পারেননি আজও। সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের “লোকদেখানো: আন্দোলন চলছে। সাংবাদিক ঐক‍্য নিয়ে ব‍্যাপক আলোচনা ও সুন্দর সুন্দর বক্তব‍্য দিলেও সাংবাদিক নেতারা আজ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নকে এক করতে পারেননি। জাতীয় প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, ফটো সাংবাদিক এসোসিয়েশন, বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নসহ অন‍্যান‍্য সাংবাদিক ও এনজিওসাংবাদিক সংগঠনগুলির ঐক‍্যবদ্ধ কোন স্টিয়ারিং কমিটি বা মোর্চাও গড়ে ওঠেনি।
হালআমলে সাংবাদিক নির্যাতনে পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুলিশ কেন সহিংস হয়ে উঠলো সাংবাদিকদের ওপর? এনিয়ে হয়ত কোন গবেষণা পরিচালনা করলে চাঞ্চল‍্যকর তথ‍্যও বেরিয়ে আসতে পারে! চলতি মাসে ধানমণ্ডিতে বাসচাপায় ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিভাস চন্দ্র সাহা নিহত হন। এরপর বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক ও স্থানীয় জনতাকে লাঠিপেটা করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোপালগঞ্জের হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আজও কোন ব‍্যবস্থা নেয়া হয়নি। যদিও সাংবাদিকদের “ভাসুরের নাম মুখে আনতে মানা” জাতীয় আন্দোলন কর্মসূচী চলছে! কিন্তু মনিরের খুঁটিতো প্রধানমন্ত্রির কার্যালয় পর্যন্ত পোতা আছে। কে নড়াতে পারে সেই খুঁটি?
আজ (২৯ মে) আবার পুলিশের আক্রমণের লক্পুষ‍্যবস্রাতু হলেন সাংবাদিক। পুরান ঢাকার আদালতপাড়াযর এ ঘটনায় আহত তিন সাংবাদিক হলেন প্রথম আলোর আদালত প্রতিবেদক প্রশান্ত কর্মকার, কালের কণ্ঠের আদালত প্রতিবেদক এম এ জলিল উজ্জ্বল ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের আদালত প্রতিবেদক তুহিন হাওলাদার। এর আগে গত ২৬ মে দায়িত্ব পালনের সময় আগারগাঁওয়ে পুলিশি পিটুনির শিকার হন প্রথম আলোর তিন আলোকচিত্র সাংবাদিক খালেদ সরকার, সাজিদ হোসেন ও জাহিদুল করিম। এই ঘটনায় হাইকোর্ট তিন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ব‍্যাখ‍্যা চেয়ে তলব করেছে। ব‍্যাখ‍্যা চাওয়ার কী আছে? সংবিধানতো স্পষ্ট বলে দিয়েছে কোন অবস্থাতেই কেউ কাউকে নির্যাতন করতে পারবে না। হাইকোর্টে এর আগেও পুলিশ সাগর-রুনির হত‍্যা মামলার তদন্ত বিষয়ে ব‍্যর্থতা স্বীকার করলেও আদালত সেই ব‍্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন ব‍্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা যায়নি। বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড বিষয়েও কোটর্ অসংখ‍্যবার রুল জারি করেছে, সংশ্লিষ্টদের আদালতে তলব করে ব‍্যাখ‍্যা দাবি করেছে। কিন্তু তাতে কী বিচার বহির্ূভত হত‍্যাকান্ড বন্ধ হয়েছে? বরং গুপ্ত হত‍্যা ও গুম বেড়েছে। যেগুলির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
২৮ মে বিডিনিউজ২৪ এর কার্যালয়ে ঘটলো সন্ত্রাসী হামলা ও সাংবাদিক-কর্মচারিদের ওপর আক্রমণ। এরপর কোথায় কে আক্রমণের শিকার হবে তা বলা মুশকিল! বিডিনিউজ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছুদিন আগে সাতক্ষীরায় এক সাংবাদিককে একটি রিপোর্টের জন্য মারধর করে হাত পা বেঁধে নদীর পাড়ে ফেলে আসা হয়েছে। দেশে সরকারের টার্গেট বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা! আর পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের আক্রমণের লক্ষ‍্যবস্তু হলেন সাংবাদিকরা। দেশে আইনের শাসন থাকলে, গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় বাস্তবে তার চর্চা থাকলে আজ দেশের অবস্থা এমনটা হতে পারতো না!
কিছুক্ষণ আগে ফেইসবুকের এক স্ট‍্যাটাস থেকে জানা গেলো যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি রেগে গেছেন! সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করার পরই তিনি নাকি বলেছেন যে, “কথা থাকলে অফিসে আসেন। এখানে একটি অনুষ্ঠানে এসেছি।” আসলে রেগে যাওয়ার বাইরে উনাদের আর কী-ই বা করার আছে বলুন? এই ব‍্যর্থদের কারণেইতো দেশ, দেশের মানুষের এতো কষ্ট। বিএনপি-জামাত আমলে আমরা শুনেছি আল্লাহর মাল আল্লায় নিয়ে গেছে। আর এখন শুনতে হচ্ছে ২৪ ঘন্টা, শিগগির ইত‍্যাদি।
বিডিনিউজ এর কার্যালয়ে হামলা ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া যুবক জাহেদুল ইসলাম সৌরভ নিজেকে সরকারি দল আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের কর্মী বলে দাবি করেছে। এই যুবক হামলার দায়ও নাকি স্বীকার করেছে! স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি শামসুল হক টুকু বলেছেন,”কোথাও সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি হলে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করার সময় সংবাদকর্মীরা নিরাপদ দূরত্বে থাকলে অনেক ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া যাবে।” বাহ্ চমৎকার পরামর্শ! শুনেছি এই প্রতিমন্ত্রির এক ছেলে শান্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের দেশ নরওয়েতে এসেছিলেন পড়ালেখা করতে। তিনি নাকি এখন সেই দেশেই থাকার প্রচেষ্টা করছেন। টুকু সাহেবকে বলবো প্লিজ আপনরার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করুন নরওয়েতে পুলিশ কী ধরণের ব‍্যবহার করে একজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে? ছেলের কাছ থেকে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক চর্চা, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও সভ‍্য সমাজ সম্পর্কে একটা ধারণা পেলেও যদি আপনাদের মতিভ্রম কাটে! তাতেও দেশের মানুষ লাভবান হবেন-নিশ্চয়ই।
প্রতীকি প্রতিবাদে জীবনেও সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ হবে না ওখানে! নিরাশাবাদী ভাইবেন না প্লিজ! মুখের কথা, প্রতীকি প্রতিবাদে, শোক প্রকাশ আর দু’একটি মানববন্ধন, ঘেরাও ও বিবৃতিতে কোন কাজ হবে না। চাই সাংবাদিকদের মাঝে একতা, ঐক‍্যবদ্ধ মহাঐক‍্য। যা কেবল সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন নয় দেশের আমূল পরবর্তনও ঘটাতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস এবং আশা। সেই জায়গাটাতে আমরা কী করে যাবো বা কী করে পাবো? শোক প্রকাশ বা নিন্দা জানানো কিংবা প্রকাশের সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। দরকার সাংবাদিকদের মহাঐক‍্য, পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক‍্য, এবং সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের বিপরীতে একটা ঐক‍্যবদ্ধ সাংবাদিক সংগঠনের পতাকাতলে দুর্বার আন্দোলন। সেই আন্দোলনের ফসল হিসেবে হয়ত দেশের মানুষ মুক্তিও পেতে পারেন দুর্নীতি, দু:শাসন, হত‍্যা, নির্যাতন, মানবাধিকার লংঘণ ও আইনের শাসনহীনতা থেকে!
ফেইসবুকে আমার কাছে একটি প্রশ্ন কতরেছেন একজন প্রিয় মানুষ। এই প্রশ্নের উত্তর দেবার ব‍্যর্থ চেষ্টা করেই লেখার উপসংহারে যাবো। প্রশ্নটি হলো এমন, “ভোর হবার আর কত দেরি (বাংলাদেশে)?
আমাদের স্বদেশের চলমান নিরাশ‍্যজনক অবস্থায় এই প্রশ্নের উত্তর বোধহয় প্রকৃতিও দিতে ভয় পাবে! আমার কাছে কোন জবাব নেই! নিজের জান-মাল, মান-সম্মান, মর্যাদা সবকিছুই ওই দুবর্ৃত্ত রাজনীতির হাতেই আটকা পড়েছে! দুবর্ৃত্ত রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার বা বার করে আনার উপায়টা দেখাবে কে? সেই উজ্জ্বল সময়ের অপেক্ষায় আমরা সবাই! ছবি বিডিনিউজ২৪ থেকে নেয়া।