Category Archives: Humanity and Women

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেয়াটাই কী জরুরি?

Bangladesh

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশ নামক ফুল ও বাগানটি যাদের হাত থেকে বাঁচানোর জন‍্য বাঙালি লড়েছিলেন সেইসব ঘাতকদের হাতেই পড়ছে বাগান ও ফুল পরিচচর্ার ভার। বিচার ছাড়া কিছু চাওয়ার নেই। তবে হাতেগোনা ক’জনের প্রতীকী বিচার নয় সব যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, ঘাতকের বিচার চাই যারা তিন মিলিয়ন বাঙালি হত‍্যা ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম লুট করেছিল এবং পাকিদের সহায়তা করেছিল তাদের বিচারের পাশাপাশি দেশ থেকে দুনীর্তি, দলীয়করণ ও পরিবারতন্ত্রের কবর রচিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলার আকাশে শান্তির পায়রা উড়বে না। সেইজন‍্য চাই চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের একটা স্বপ্ন জাগানিয়া জাগরণ শাহবাগে সূচিত হয়েছে। এই শুভ আলোয় যেন কেউ কালিমালেপনের সুযোগ না নেয় তারজন‍্য সরকারের দৃঢ়তা আশা করে জাতি। ইতোমধে‍্য ব্লগার শোভনকে হত‍্যা করেছে পুরনো শকুনরা। আমার, আমাদের বণর্মালায় আগুন দেয়া হয়েছে। অহংকারের পতাকার অবমাননা করছে ওরা।

ঘাতক যুদ্ধাপরাধীরা জগদ্দল পাথরের মতো মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও তাঁদের পরিবারের বুকে সবর্োপরি বাংলাদেশের বুকে চেপে বসে আছে দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে। একমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই পারে নির্যাতিত, নিগৃহীত মা-বোন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে। ফাঁসি বা মৃতু‍্যদন্ড (নৈতিকভাবে আমি মৃতু‍্যদন্ড সমর্থন করি না, সেটা গোলাম আজমের মৃতু‍্যদন্ড হোক, জিয়ার খুনিই হোক, বঙ্গবন্ধুর খুনিই হোক, একজন মানুষ হত‍্যার আসামিই হোক বা বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত রাষ্ট্রীয় কোন কর্মচারির মৃতু‍্যদন্ডই হোক না কেন)  প্রদান বড় কথা নয়, জরুরি হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। একইভাবে সমান জরুরি দেশ থেকে দুর্নীতি, দারিদ্র এবং রাজনৈতিক অসুস্থ‍্যতার অবসান। আশা করি জাগ্রত প্রজন্ম এসব বিষয়ও আন্দোলনের অন‍্যতম প্রধান ইসু‍্য হিসেবে সামনে নিয়ে আসবে।  ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

হাসিনা-খালেদারা কবে কল্পনা ভৌমিক হবেন?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। কল্পনা রায় ভৌমিক, একজন মানবতাবাদি, সংগ্রামী ও সাহসী নারী। আদর্শ পরিবারের আদর্শ সন্তান। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। ভালবাসা, মানবতা, দেশপ্রেম আর মহানুভবতার এক অনন‍্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বা প্রতিক এই মহিয়সী নারী। কল্পনা ভৌমিকের স্বামী কানাই লাল রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ‍্যালয়ের অধ‍্যাপক। তাঁর ছোট ভাই মলয় ভৌমিক একই বিশ্বিবদ‍্যালয়ের শিক্ষক এবং দেশের একজন নামকরা এবং প্রধাবিরোধী নাট‍্যকার, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব‍্যক্তিত্ব। কানাই লাল ও মলয় ভৌমিকও সৎ এবং আদর্শবান পুরুষ। সততা আর আদর্শকে উড্ডীন রাখার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মলয় ভৌমিককে জীবনে বহু ঘাত-প্রতিঘাত সইতে হয়েছে। চির হাসে‍্যাজ্জল কল্পনা রায় বাংলাদেশে এক আদর্শ ও অনুসরণীয় নারীর প্রতিকৃতি। কল্পনা ভৌমিককে এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কীর্তিমতী সম্মাননা ২০১১ প্রদান করা হয়েছে। ধন‍্যবাদ সম্মাননা প্রদানকারি প্রতিষ্ঠান আর নির্বাচকমন্ডলিকে যাঁরা এই গুণি নারীকে এই সম্মানটুকু জানানোর পেছনে আছেন। কল্পনা রায়ের দুই সন্তান কৌশিক রায় ও শৌভিক রায়, উভয়ই মেধাবি।
শ্রদ্ধেয় এবং প্রিয় মলয় ভৌমিকের মাধ‍্যমেই কল্পনা ভৌমিকের সঙ্গে পরিচয় আমার। তখন আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ‍্যালয়ের ছাত্র এবং একাধারে একজন রিপোর্টার। সেই দু:সহ সময়গুলির কথা এখনও জ্বল জ্বল করে ভেসে ওঠে স্মৃতির মণিকোঠায়। যাহোক আজকের লেখার মূল বিষয়ে ফেরা যাক। কল্পনা ভৌমিক এক নামেই যিনি গোটা রাজশাহীতে পরিচিত। রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ের আরেক শিক্ষক আ ন ম সালেহ। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। শ্রদ্ধেয় সালেহ এবং কল্পনা দিদি আমাকে একবার রাজশাহীর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি স্কুলটি পরিদর্শন করতে বলেছিলেন। এই দুই দেশপ্রেমিকের কথাকে আদেশ মনে করে সতি‍্যই একদিন গিয়েছিলাম কল্পনা দিদির সন্তানতুল‍্য স্কুলে। কী পরম মমতায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি শিশুগুলিকে আগলে রেখেছেন কল্পনা ভৌমিক তা সেদিনই স্বচোখে দেখেছি। তখনই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম স্কুলটি নিয়ে একটি রিপোর্ট করার জন‍্য। মানবতার আলো আর জ্ঞানের দু‍্যতি ছড়ানো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত বেহাল দশা দেখে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আমাদের রাজনীতিবিদরা (সবাই নয়) গরীব-দু:খী মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে নিজের আখের গোছায়। আর রাজপথের সভা-সমাবেশে মানুষকে শোনানোর জন‍্য দেশদরদী বক্তব‍্য দেয়। কিন্তু আসল কাজ কিছুই করে না।
যাহোক অনেক আশা ছিল কল্পনা দিদির এই স্কুলটিকে নিয়ে একটি টিভি রিপোর্ট তৈরী করার। সেই প্রত‍্যাশায় ছুরিকাঘাত করেছে একটি দুবর্ৃত্ত চক্র। ফলে স্বদেশভূমি ছেড়ে পালিয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে হলো। আর কোনদিনই সে আকাঙ্খা পূরণ হবে না আমার। এই লজ্জ্বা আর যন্ত্রণা থেকে কোনদিন মুক্তি মিলবে না। হাসিনা-খালেদারা কী পারেন না শুধুমাত্র ক্ষমতার জন‍্য ঝগড়া বিবাদ না করে কল্পনা ভৌমিকের মতো মানুষকে ভালোবাসতে? হাসিনা, খালেদারা কেন কল্পনা ভৌমিক হতে পারেন না এই প্রশ্নটি উঁকি দিচ্ছে আমার হৃদয়মানসপটে। দিদি আপনাকে নমস্কার, শুভেচ্ছা। এই প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের ছেলে-মেয়েদেরকে আপনি যে নিজ সন্তানের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন তা আর কেউ না জানুক আমি জানি। আমাদের স্বদেশভূমে যদি প্রতিটি পাড়ায় একজন করে কল্পনা ভৌমিক জন্মে তবেই নারীমুক্তি, মানবমুক্তি এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা পাবে। একদিন হয়ত সেই জায়গায় আমাদের স্বদেশ যাবে নিশ্চয়ই। এমনটাই প্রত‍্যাশা আপনার, আমার, আমাদের সবার। ছবিটি ফেইসবুক থেকে নেয়া হয়েছে। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/