Category Archives: Media

হৃদয় কাঁদে প্রবাসে, মানুষ পুড়ে স্বদেশে

জাহাঙ্গীর আকাশ ॥ মানুষের জীবনের চেয়ে ৫০ হাজার টাকার সাহায্যপ্রদান বড় হয়ে ওঠেছে সংবাদমাধ্যমের কাছে। এটা আমার মায়ের দেশের খবর। বিশ্বাস না হলে, গত সোমবারে (১৭.১২.২০১৮) ঢাকার শ্যামপুরের কদমতলী স্টিল মিলের ভেতরে যে “হত্যাকান্ড” ঘটেছে তার অনুসন্ধান করুন।

এই চুল্লিবিস্ফোরণের মর্মান্তিক ঘটনাকে আমি হত্যাকান্ডই বলবো। কারণ এসব স্টিলমিলে কি পরিবেশে মানুষ কাজ করে, শ্রম আইনগুলি কী যথাযথভাবে কার্যকর হয় এসব কারখানায়? যেসব মানুষ এমন কারখানায় কাজ করে তারা কী তাদের ন্যায্য শ্রমমূল্য পায়? কেন এমন বিস্ফোরণ ঘটছে বারংবার? কারা এসব কারখানার মালিক?

বারবার মানুষ নিহত, আহত হচ্ছে। মালিকের কিছু হয় না কেন?  প্রায় দুই দশক ধরে মানুষের মুক্তির জন্য দেশে সাংবাদিকতা করেছি। বিনিময়ে দেশহারা হয়েছি। তাই একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি লজ্জা, ঘৃণা আর আত্মযন্ত্রণাবোধ নিয়ে আমার অনুভূতি প্রকাশ করছি মাত্র। বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আমার একটা প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে! যেখানে তিন তিনটা তরতাজা মানুষের জীবন পুড়ে ছাই হয়ে গেলো।

১৪ জন শ্রমজীবী মানুষ আগুনে পুড়ে দগ্ধ হলো। কেন বিস্ফোরণ ঘটলো, কী পরিবেশে সেখানে মানুষ কাজ করে? শ্রমআইনের কতটুকু কার্যকারিতা আছে? কত পুরনো মেশিনে সেখানে কাজ চলে? এসব প্রশ্নের কোন উত্তর দেখলাম না বাংলাদেশের কোন মিডিয়ায়! কোন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চোখে পড়লো না আমার।

কোন মিডিয়ায় দেখলাম না যে, কে এই কারখানার মালিক? কারখানার মালিকের কোন বক্তব্য নেই গণমাধ্যমে! কিন্তু গণমাধ্যমে খবর এলো যে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে সাতজন মানুষের প্রত্যেককে মাত্র ৫০ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। মালিকপক্ষ কি করলেন এই হতাহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য তার কোন কিছু উল্লেখ নেই গণমাধ্যমের খবরে!

গনমাধ্যমে এই ৫০ হাজার টাকার সহায়তা খবরের হেডিং হয়ে গেলো! একজন সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে দারুণ অপরাধী মনে হয় গণমাধ্যমের এমন আচরণে। যখন একটি প্রধান জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক দু’জন প্রতথিতযশা সাংবাদিকের (একজন রাজশাহীতে, অন্যজন পঞ্চগড়ে) চাকরি কেড়ে নেন কলমের এক খোঁচায় তথাকথিত অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে, তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না যে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা কতটুকু স্বাধীন?

সংবাদমাধ্যমগুলিতে কদমতলী স্টিল মিলে নিহত একজন, আফছার হোসেন এর বয়স লেখা হলো ৪০, বছর কেউ কেউ লিখলো ৩৫ বছর, অথচ এই যুবকটির বয়স ২৪ বছর। তাহলে বুঝুন, সাংবাদিকতা কোথায় নেমে গেছে!

ঢাকা থেকে এক বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারলাম যে, কদমতলী স্টিলমিলের ভেতরে হতাহতদের পরিবারের (সাত জনের পরিবার পেয়েছে এই টাকা) হাতে ৫০ হাজার করে টাকা তুলে দেবার আগে “না-দাবি” লিখে নেয়া হয়েছে। যখন সন্তানহারা মা-বাবা বাধ্য হয়ে কাগজে না-দাবির সই করেছেন তখন নাকি সেখানে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকও ছিল। এসব কথা কিন্তু কোন সংবাদমাধ্যমে আসেনি। কিন্তু কেন? কারণটা বুঝতে কারও বাকি থাকার কথা কী?

বেশ কিছুদিন আগে একজন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আমাকে বলেছিলেন যে, “এখানে (মানে আমার স্বদেশে) আর সাংবাদিকতা নেই। কোন কোন সাংবাদিক নাকি এক কাপ চা পান করার সুযোগ পেলেই নাকি যে কারও পক্ষে লিখে দেয়”!

আমি জানি না, মানুষ, মানুষের জীবন নাকি ৫০ হাজার টাকার সহায়তা গণমাধ্যমের কাছে বড়?

 

 

ফের সাংবাদিক নির্যাতন> নেপথ‍্যে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। রাজশাহী আমার জন্মস্থান নয়। মানুষ তার জন্মস্থানকে সম্ভবত ভুলতে পারে না। আমার জন্মস্থান পঞ্চগড়। পড়ালেখার জন‍্য আমি আমার জীবনের সেরা সময়টুকু কাটিয়েছি এই রাজশাহীতে।

দীঘর্ বিশ্ববিদ‍্যালয় জীবন এবং সাংবাদিকতা মিলিয়ে পুেরা ১৬ টি বছর কেটেছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই প্রাচীন বিভাগীয় শহরটিতে। রাজশাহীর অলি-গলি আমার চেনা। কী পেশাজীবী, রাজনীতিক, ব‍্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ সবই আমার চেনা-জানা। কেউ কেউ আবার খুবই ঘনিষ্ট। তাই রাজশাহীতে েকান কিছু ঘটলে বিশেষত েকান খারাপ খবর েচাখে পড়লে মনে ব‍্যাথা লাগে। কষ্ট পাই, দারুণভাবে ভেঙ্গে পড়ি রাজশাহীর েকান দু:সংবাদে।

আর যখন আমার সহকমীর্, সতীথর্ সাংবাদিক বন্ধুরা নিগৃহীত, লাঞ্ছিত, অপমানিত ও হামলার শিকার হন তখন আর দু:খের শেষ থাকে না। লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে আমার। কারণ আমি আমার সহকমর্ীদের দুদর্িনে কাছে থাকতে পারছি না, সহানুভুতি জানাতে পারি না, পারি না হামলাকারিদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে রাজপথের মিছিলে সমবেত হতে। তাই দূর থেকেই কেবল েচাখের জল আর আন্তরিক শুভ প্রত‍্যাশার মাধ‍্যমেই আমার মনের আকুতির প্রকাশ ঘটে।

ডিজিটাল যুগের কল‍্যাণে এখন েকান খবর আর বেশি সময় লাগে না পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে। রাজশাহী মেডিক‍্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ণী চিকিৎসকদের হামলায় ১০ জন সাংবাদিক বন্ধু আহত হয়েছেন। এদের মধ‍্যে একজনের অবস্থা খারাপ, তাকে উনাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এধরণের হামলা ওখানে নতুন কিছু নয়। আমি যখন রাজশাহীতে সাংবাদিকতা করি তখনও এমন অনেক হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের তৎকালিন কতর্ৃপক্ষ হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। জানি না, সেই ফরমান এখনও বলবৎ আছে কি না।

এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলে মন্ত্রি, এমপি ও মেয়ররা ঘটনাস্থলে ছুটে যান, প্রশাসন ঘটনা তদন্তের জন‍্য কমিটি গঠন করে, সন্ত্রাসী যেই েহাক তার কঠিন  শাস্তি হবে বলে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা ফাঁপা বুলি আওড়ায়। এবারও তার ব‍্যতিক্রম ঘটেনি। েখাদ হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস‍্য ঘটনাস্থলে গিয়ে দায়িদের বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বড়ই তেঁেতা। কারণ এধরণের বহু ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু অপরাধীরা শাস্তি পায়নি। হয়নি েকান সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতেনর বিচার। সারাদেশ ঝুড়ে এমন শত শত ঘটনার উদাহরণ দেয়া যাবে। বিশেষ করে রাজশাহীতে সাংবাদিক নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনাগুলির সাথে জড়িতদের সাথে পরবতর্ীতে সমেঝাতার নামে দায়িদের রক্ষা করার বহু নজির রয়েছে।

একটি ঘটনার উদাহরণ দিতে চাই, যদিও এই ঘটনাটি সাংবাদিক নিযর্াতেনর সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়। ২০০৭ সালের ১৮ মে রাজশাহীর বনগ্রামে ওয়াকর্াস পার্টির ওয়াডর্ নেতা মজনু শেখকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী পিটিয়ে হত‍্যা করে। তার ওপর অনুসন্ধানীয় রিেপাটর্ এবং মেয়র লিটন, উনার চাচা েলাটনের সন্ত্রাস ও দুনর্ীতির প্রতিবেদন করার মূল‍্য দিতে গিয়ে আমাকেও নিশ্চিত মৃতু‍্যর দুয়ার থেকে ঘুরে আসতে হয়েছে, আর এখন স্বদেশহারা। যােহাক সেই মজনু হত‍্যা মামলাটির ব‍্যাপারে আমাদের সংসদ সদস‍্য বাদশা সাহেব কী উেদ‍্যাগ নিয়েছেন তাও আজ আমার জানা নেই। তবে শুনেছি সদস‍্য বিদায় ক্ষমতাসীন দলের মেয়র নাকি সেই হত‍্যা মামলাটি আেপাষ করতে মজনুর পরিবারের সদস‍্যদের কাছে বারবার ধরণা দিয়েছিলেন। সেই মজনু হত‍্যা মামলার ভাগ‍্যে কী ঘটেছে তার জন‍্য আমাদের সংসদ সদস‍্য বাদশা সাহেব কী েকান ব‍্যবস্থা নিয়েছেন?

আমি এসব সন্ত্রাসী ঘটনা ও হামলার ঘটনার জন‍্য ওই ইন্টাণর্ীদের দায়ি করতে চাই না। কারণ আমি মনে করি স্বদেশে দুবর্ৃত্ত রাজনীতির কারণে এসব গুন্ডাপান্ডারা একটার পর একটা ঘটনা ঘটােনার সাহস পাচ্ছে। আর সমাজে ন‍্যায়বিচার না থাকলে, সবর্ত্র সবর্গ্রাসী দুর্নীতি জিইয়ে থাকলে, দলবাজি বন্ধ না হলে সন্ত্রাস, হামলা, নির্যাতন, অবিচার কী বন্ধ করা যাবে কখনও? না, কখনও সম্ভব নয়।

আমার প্রত‍্যাশা, সাংবাদিক বন্ধুরা দলমত ভুলে একতাবদ্ধ হবেন। সাংবাদিকরা অবিচার আর অন‍্যায়ের সঙ্গে আেপাষ বা সমেঝাতা নয় বরং দুবর্ৃত্তদের বিরুদ্ধে ক্ষুরধার লেখনির মাধ‍্যমে সমাজের মানুষকে জাগিয়ে তুলবেন এসব সন্ত্রাসী হামলা ও গুন্ডামির বিরুদ্ধে।

আমি আশা করি এবার সাংবাদিক হামলাকারিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব‍্যবস্থা হবে। এই ঘটনার পেছনে েতা আর রাষ্ট্রীয় এলিট বাহিনীর হাত নেই যে বাদশারা ভয় পাবেন!

পরিশেষে সাংবাদিক বন্ধু যারা পেশাগত কারণে নির্যািতত হলেন তাদের প্রতি সহানুভূতি জানাই। ধিক্কার দিচ্ছি হামলাকারি  সন্ত্রাসীদের। ধন‍্যবাদ জানাচ্ছি রাজশাহীর সংসদ সদস‍্য ফজলে েহাসেন বাদশা, আয়েনউদ্দিন ও মেয়র েমাসাদ্দেক েহাসেন বুলবুলকে যাঁরা সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন। আর আরেকদফায় উনাদের ধন‍্যবাদ জানােবা তখন, যেদিন হামলাকারিদের শাস্তি হবে।

 

সংসদে আরও কত মাওলা রনি আছেন?

Jahangir Akash

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। সাংবাদিক একের পর এক মার খাবে। এতে কার কী আসে যায়? সাংবাদিক মারলে কী হয়? কিচ্ছু না! সাংবাদিক নির্যাতন আর হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটবে। একের পর এক এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে এবং তা অব্যাহত রবে। অতীতে এমন অমানিবক নির্যাতন হত্যাকান্ড ঘটেছে। আজও ঘটছে। আগামিতেও ঘটবে। সাংবাদিকরা কী শুধু “সন্ত্রাসী” এমপি কিংবা অনৈতিক “ক্ষমতাবান” রাজনীতিকদের হাতে মার খাচ্ছে? নাকি সাংবাদিকদের পুলিশও মারে, প্যারামিলিটারি ফোর্সের সদস্যরাও মারে। সন্ত্রাসী, গুন্ডা, মাদক ব্যবসায়ি, কে মারে না মিডিয়াকর্মীদের? উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম সব দিক থেকেই আঘাত আসছে সংবাদকর্মীদের ওপর। সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যাকান্ড ঘটবে, সাংবাদিক নেতারা গলাবাজি করবে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী বলবে তদন্ত হচ্ছে, রাজনীতিকরা বা মন্ত্রি-এমপিরা বলবে অপরাধি যেই হোক তার শাস্তি হবেই হবে! সরকারি পক্ষকে সমর্থন করে এমন সংবাদকর্মী যদি সরকারিপক্ষের কারও দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে সরকার সমর্থক সাংবাদিক নেতা, ইউনিয়ন ব্যাপারটি আপোষ করার চেষ্টা করবে। আর আঘাত যদি সরকারবিরোধিদের কাছ থেকে আসে তবে সরকার সমর্থক সংবাদকর্মী ও নেতৃত্ব জোর গলায় কথা বলবে, রাজপথে নেমে হামলাকারির তুলোধুনো করবে এবং বিচার ও শাস্তি চাইবে। আবার কিছুদিন যেতে না যেতেই সব ফিঁকে হয়ে যাবে। সবকিছু আবার আগের জায়গায় আসবে। সরকারসমর্থক মিডিয়াকর্মী সরকার সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হলে সরকারবিরোধী মিডিয়াপল্লী ডুগডুগি বাজাতে শুরু করবে। আর সরকারবিরোধী মিডিয়াকর্মী সরকার সমর্থকদের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হলে ঠিক একইভাবে ডুগডুগি বাজাবে সরকার সমর্থনকারি মিডিয়াপরিবার। এইতো পাল্টাপাল্টি খেলা আর আঙুল চুষার মধ্যেই হামলাকারি, আঘাতকারির পার পেয়ে যাওয়ার পথ সহজতর হওয়া। আবার যদি প্যারামিলিটারি ফোর্সের দ্বারা কোন সাংবাদিক নিযাতিত হয় তবে মিডিয়াপল্লীর সবপক্ষ তথা ডান কিংবা বাম সকলেই চুপসে পড়বে। কেউ কেউ আবার নির্যানকারিদের পক্ষ নিয়ে দালালিতেও নেমে পড়বে। কারণ বাঘের খাঁচায় পড়েও বাঁচার পথ খোঁজা যায়। কিন্তু এই এলিটফোর্সের ছোঁয়া পড়া মানে জীবন বরবাদ। কারণ অবশ্য একটা আছে সেটা হলো ওরা যে কাউকে যে কোন অজুহাতে প্রকাশ্যে খুন, গুম এমনকি লাশটিকেও গায়েব করে দিতে পারে। জীবনের এই রিস্ক মোকাবেলা করতে কে ওতো ঝুঁকি নেবে, আর নেবেই বা কেন? যেখানে খোদ হাসিনা এবং খালেদাও এই ফোর্সকে এগিয়ে নিতে চাইছেন, নিচ্ছেন সেখানে সুবিধাবাদ ও তোষামোদির এই বাংলায় কে অন্যায়-অবিচার আর নির্যাতনের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে একটা খুনি বাহিনীর বিপরীতে পেশা, পেশার মর্যাদা ও সহকর্মীদের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস দেখাতে পারে? এমন আশা করাটাও এক ধরণের বাড়াবাড়িই বটে! সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাংবাদিক নির্যাতনের সর্বশেষ ঘটনায় সরকার দলের এক সংসদ সদস্য সরাসরি জড়িত। আমরা জানি বর্তমান সংসদে এমন বহু রনি আছেন যারা সাংবাদিক নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। কোন নির্যাতনেরই বিচার হয়নি। তবে হামলাকালে ক্ষতি হওয়া ক্যামেরা, মানিব্যাগ কিংবা মোটরসাইকেল ভাঙচুর বাবদ ক্ষতিপূরণের টাকার পরিমাণ নিয়ে দরকষাকষিতে পারঙ্গম কতিপয় সাংবাদিক নেতা ও ক্ষতিগ্রস্ত মিডিয়াকর্মী ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েই যেন বেজায় খুশি! ঘটনা ঘটলেই শালিশ বা সমঝোতার নামে ক্ষতিগ্রস্তপক্ষ ও হামলাকারি পক্ষকে এক টেবিলে বসনো হবে। সেই টেবিলে উভয়পক্ষের মুরুব্বিরাও থাকবে। এরপর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের রাগ-অভিমানি বক্তব্য শেষে সববাই মিলে চা-চক্র কখনও কখনও “ভূড়িভোজ” চলে। আর ১০০ টাকার ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণের অংকটা ১০০০ টাকায় গিয়ে পৌঁছে। ব্যস, হামলাকারিও বাঁচে, নির্যাতনভোগকারিও খুশি মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ পেয়ে। ফলে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বারংবার। স্বাধীনতার ৪২ বছরেও দেশে সাংবাদিকতার একটা কার্যকর নীতিমালা গড়ে তোলা যায়নি। আমি যে দেশে এখন থাকি সেই দেশে সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনেই মিডিয়া তার দায়িত্ব পালন করে। সাংবাদিক, মিডিয়া সকলেই স্বাধীন। নীতিমালা অনুসরণ করে স্বাধীনভাবে সবাই যার যার দায়িত্ব পালন করে। পেশা, পেশাগত মর্যাদা ও পেশার স্বাধীনতার প্রশ্নে সাংবাদিক ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলি দলমতের উর্দ্ধে ওঠে ঔক্যবদ্ধভাবে কাজ করে। ফলে গণতন্ত্র শাণিত হয়, জনসমস্যা-সংকট ও আকাঙ্খারও প্রতিফলন ওঠে আসে মিডিয়ায়। কিন্তু আমার স্বদেশ।  কী হয় সেখানে? কুড়ি বছরের সাংবাদিকতা জীবনে সেখানে দেখে এলাম শুধু ল্যাং মারামারি আর রাজনৈতিক দলবাজির সাংবাদিকতা! হয় আওয়ামীলিগ বা তার মহাজোটের হয়ে সাংবাদিকতা করা নতুবা বিএনপি বা তার ১৮ দলীয় জোটের পক্ষে নতজানু সাংবাদিকতা! সেখানে তৃতীয় ধারার কথা বলা হয় মাঝেমধ্যেই। এই তৃতীয় ধারাও কখনও কখনও বিলীন হয়ে যায় উপরোল্লিখিত জোট বা মহাজোটের আঁচলে। স্বাধীন ও সৎ সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয় পেশার রাজনীতিকীকরণের মধ্য দিয়ে। কাজেই এমন মার খাওয়া আর সমঝোতার আলোচনা ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের খেলা চলতেই থাকবে আমার স্বদেশে। তাইতো সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের বিপরীতেও সাংবাদিক সমাজ এক হতে পারে না, পারবেও না কেয়ামতের পরেও না! সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিদের আজও ধরা হলো না, বিচারতো প্রশ্নই ওঠে না! ক্ষমা চাইলে আর বয়কট কললেই কী সমাধান মিলে? দূর প্রবাসে থেকে দেশমাতার জন্য মন কাঁদে, কষ্ট জাগে। হতাশ হবো না, আমি আশাবাদি এসব  মুখে বললেই কী হতাশাকে জালে পুরে রাখা যায় নাকি আশার আলো দেখা যায় দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির অবসান না হওয়া পর্যন্ত???

কে ভারসাম‍্যহীন: সাংবাদিক এ বি এম মুসা নাকি মাহবুব উল আলম হানিফ?

abmmusa-hasina
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাংবাদিক এ বি এম মুসা। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কেউ কেউ হয়ত উনাকে চেনেন না। শুদ্ধ ও স্বচ্ছ চিন্তার প্রগতিশীল এই শ্রদ্ধেয় সাংবাদিকের ওপর মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। বাংলায় সাংবাদিকতার এই প্রাণ পুরুষকে আজ জীবন সায়াহ্নে এসে “স্বাধীনতাবিরোধী”র কু উপাধি দেয়া হচ্ছে। অথচ এই মানুষটির সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছিল ঘনিষ্ট হৃদ‍্যতা। ছি ছি ছি লজ্জায় মাথায় নূ‍্যয়ে পড়ছে এই কারণে যে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দলটির আজ কী অবস্থা!
১৯৯১ কী ১৯৯২ সালের কথা। সালটির কথা এখন আমার পুরো মনে নেই। এ বিএম মুসাকে পেয়েছিলাম সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কোর্সের শিক্ষক হিসেবে। ওই সময়ে আমি পঞ্চগড় থেকে দৈনিক বাংলা ও বাংলার বাণীতে কাজ করি। যাহোক তখন থেকেই উনাকে (এবিএম মুসা) আমি ব‍্যক্তিগতভাবে চিনি। নব্বইয়ের দশকে তিনি (এবিএম মুসা) “নিউজ ডে” নামে একটি ইংরেজী দৈনিকের সম্পাদকও হয়েছিলেন তিনি। সেই পত্রিকায় কিছুদিন পঞ্চগড় সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করি আমি। মেয়র লিটন, কতিপয় সংবাদকর্মীর্ ও র‍্যাবের যৌথ ষড়যন্ত্রের মাধ‍্যমে র‍্যাব ২০০৭ সালে বেআইনিভাবে আমাকে গ্রেফতার করে। প্রায় এক মাস পর নির্যাতন ও কারামুক্তির পর ঢাকায় চলে যাই। তখন এই প্রিয় সাংবাদিক শিক্ষক আমার ওপর নৃশংসতার ঘটনাটি শোনেন এবং খুব বিরক্ত প্রকাশ করেন যে শহীদ জাতীয় নেতা কামারুজ্জামানের ছেলে আমার ওপর অত‍্যাচার করার পেছনে মদদ দেয়ার কারণে। সেসময় উনি আমাকে ভয় না পাবার জন‍্য অনেক সাহস ও অনুপ্রেরণাও দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশে এখন একটা নতুন ট্রেন্ড চালু হয়েছে। সেটা হলো মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দলটির সমালোচনা করলেই মুক্তিযোদ্ধাও তাদের কাছে রাজাকার বনে যায়। সুতরাং আওয়ামী লীগ বা সরকারের বিপক্ষে কোন কথা বলা যাবে না যদিও বা সেইসব কথা সত‍্যও হয় তবুও না, নইলে আপনিও “রাজাকার” উপাধি পাবেন যেমনটি পেয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। অথচ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত‍্যার পর তিনিই প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করেছিলেন।
সাংবাদিক এবিএম মুসাকে স্বাধীনতাবিরোধী বলার প্রসঙ্গে আসি এবার। বঙ্গবন্ধুর আমলে ১৯৭৩ সালে এবিএম মুসা আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে জাতীয় সংসদের সদস‍্য নির্বাচিত হন। তিনি সংসদ সদস‍্য হয়েছিলেন ফেনি থেকে। সরকার নিয়ন্ত্রিত টিভি ষ্টেশন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক পদেও তাঁকে নিযুক্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধুই। অভিজ্ঞ এই সাংবাদিককে আওয়ামী লীগ সরকারই একুশে পদকে ভূষিত করেছিল।
সাংবাদিক এবিএম মুসার সাম্প্রতিক এক বক্তব‍্যকে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর প্রচন্ড নাখোশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগ। আর এই ক্ষুব্ধতার প্রকাশ ঘটেছে সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের মুখে। তিনি বলেন, “এবিএম মুসা মানসিক ভারসাম‍্যহীন এবং স্বাধীনতাবিরোধী”। হানিফ মাহেবের বক্তব‍্য প্রমাণ করে যে, এবিএম মুসা নন আওয়ামী লীগই সম্ভবত ভারসাম‍্য হারাচ্ছে! প্রশ্ন হলো, হানিফ কী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যে যাকে তাকে তিনি মানসিক ভারসাম‍্যহীন বলে দেবেন? আসলে এই হানিফমাকর্া আওয়ামী লীগারদের কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব‍্য আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিকে পায়ের তলে পিশিয়ে দিচ্ছে!
ব‍্যক্তিগতভাবে যুদ্ধাপরাধী বা রাজাকারদের সমর্থন করি না! তবে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলাই আমার ধর্ম। শ্রদ্ধেয় এবিএম মুসা কী মন্তব‍্য করেছিলেন তা আমি শুনিনি নিজ কানে। তবে আমার প্রচন্ড তাগিদ হচ্ছে এই জনে‍্য যে উনার পুরো বক্তব‍্যটি পড়া বা শোনা উচিত আমাদের সবার। কোন প্রেক্ষাপটে, কোন বিবেচনায় উনি কী মন্তব‍্য করেছেন? কারও কাছে যদি উনার বক্তব‍্য বা মন্তবে‍্যর কোন অনলাইন লিংক থাকে দয়া করে আমাকে দেবেন। আর দেশে যখন ছলিমুদ্দিন, কলিমুদ্দিন, জগাই, মঘা সকলেই টিভির লাইসেন্স পাচ্ছেন, মিডিয়ার মালিক বনে যাচ্ছেন সেখানে এবিএম মুসার মতো ব‍্যক্তিকে হাসিনার সরকার কোন যুক্তিতে টিভির লাইসেন্স পেলেন না বা পাবেন না সেটারও একটা পরিচ্ছন্ন ব‍্যাখ‍্যার প্রয়োজন। হানিফরা বঙ্গবন্ধু হত‍্যার পরে কী ধরণের প্রতিবাদ করেছিলেন নাকি মোশতাকদের তোষামদী করেছিলেন তাও আমি জানি না, তবে তোষামদি, জ্বিহুজুর বা জ্বি ম‍্যাডাম (হুজুর বা ম‍্যাডাম যা বলে করে তার সবই ১০০০০ গুণ সত‍্য!) করে যুগ্ম সম্পাদকের পদ লাভ করা যায় বটে (মনোনীত বা দলীয় প্রধানের পছন্দের তালিকাভুক্ত হিসেবে) কিন্তু গণতান্ত্রিক হওয়া যায় না! তারজন‍্য সহনশীলতা,কান্ডজ্ঞান, ধৈয‍্য আর সততা-স্বচ্ছতারও দরকার পড়ে। হানিফ সাহেবদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে জেলায় জেলায় নেতা বানিয়ে দেবারও অভিযোগ কানে আসে। আর এই হানিফদের তথাকথিত সাংগঠনিক রিপোর্টের কারণেই অনেক জেলায় নির্বাচিত নেতাদেরকেও বাদ দেয়া হয়েছে। এসব অভিযোগেরও চুলচেরা তদন্ত ও বিচার হওয়া দরকার।
বাংলাদেশনিউজ২৪x৭’র রিপোটর্ থেকে সাংবাদিক এবিএম মুসার সেদিনের বক্তব‍্য থেকে বোঝা যাবে আসলে তিনি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কী বলেছিলেন? জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ২৪ জানুয়ারি সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান দিবসে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশে এবিএম মূসা বলেন, আপনারা প্রতিবাদ করুন। আপনারা বলুন- ছাত্রলীগের নামটাকে তোমরা কলঙ্কিত করো না। প্রয়োজনে তোমরা একে ‘হাসিনা লীগ’-‘বাম লীগ’ নাম দাও। শেখ মুজিবের সময়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবিএম মূসা বলেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা ছাত্রদের সূচনা। আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ কর্তৃক সৃষ্টি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন তৃতীয় শ্রেণীর নেতা ছিলেন। নিজগুণে তিনি এগিয়ে এলেন এবং ছাত্রদের চেষ্টাতেই তিনি প্রথম শ্রেণীর নেতা হলেন। বঙ্গবন্ধু যতটা না উর্বর মস্তিষ্কের নেতা ছিলেন, তার চেয়েও বড় ছিল তার বিশাল আস্থা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের দিন ৭ মার্চই হচ্ছে- প্রকৃত স্বাধীনতা দিবস। সত্যিকারের স্বাধীনতা তিনি সে দিনই ঘোষণা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু জনগণের পালস (নাড়িস্পন্দন) বুঝতে পারতেন। পাঠ্যপুস্তক থেকে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাম বাদ দেয়ার কঠোর সমালোচনা করে এবিএম মূসা বলেন, ভাসানী আওয়ামী লীগের জন্মদাতা, তাকে বাদ দেয়া মানে জন্মদাতাকে অস্বীকার করা। আর যে জন্মদাতাকে অস্বীকার করে বা যার জন্মদাতা থাকেনা, তাকে আমরা কী বলি? জারজ বলি। ভাসানীকে বাদ দিলে আওয়ামী লীগ হয় জারজ। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এখনও এক বছর সময় আছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশুন, তাদের কথা শুনুন।
আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীকেও ‘উন্মাদ’ বলে আখ‍্যা দিয়েছেন। হানিফের ভাষায়, নূরে আলম ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনের ফ্লোরে গড়াগড়ি খেয়ে ছাত্রলীগের সভাপতির পদটি বাগিয়ে নিয়েছিলেন। সাংবাদিক মুসাকে ‘স্বঘোষিত বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগপ্রেমী’বলেও অভিহিত করেন হানিফ। সূত্র-বিডিনিউজ২৪।
ঢাকার রাজপথে বিশ্বজিৎকে নৃশংসভাবে হত‍্যা, ময়মনসিংহে শিশু রাব্বীকে গুলি করে হত‍্যাসহ প্রায় দেশজুড়েই ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, নির্যাতন, বন্দুকযুদ্ধে মানুষ অতিষ্ঠ। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রলীগের তান্ডবে শিক্ষার বারোটা বেজে যাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর দলের দ্বারা পরিচালিত সরকারের মঙ্গল চেয়ে যখন সরকারকে খারাপ দিকগুলি থেকে সরে আসার জন‍্য পরামর্শ দেন তখন সেটা হানিফদের মতো তোষামদকারি নেতারাই কেবল সাংবাদিক মুসাকে মানসিক ভারসাম‍্যহীন বা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নূরে আলমকে উন্মাদ বলতে পারেন!
ডাক্তারি কোন পরীক্ষা, নীরীক্ষা বা সনদপত্র ছাড়াই কাউকে উন্মাদ বা মানসিক ভারসাম‍্যহীন বলাটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্সও বটে। এধরণের বক্তব‍্য ব‍্যক্তি মানুষের মর্যাদার ওপর আঘাতও বটে। সেই বিচারে মাহবুব উল হানিফদের বিরুদ্ধে মামলাও হতে পারে। আর এ বিএম মুসাযদি স্বঘোষিত বঙ্গবন্ধুপ্রমিকই হতেন তবে তাঁকে বঙ্গবন্ধুই বা কেন তেহাত্তরের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিলেন? হানিফ সাহেবের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর আছে কী? জনাব হানিফের কথা অনুযায়ী নূরে আলম সিদ্দিকী নাকি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গড়াগড়ি করে ছাত্রলীগের সভাপতির পদটি বাগিয়ে নিয়েছিলেন! যদি হানিফের কথাই সত‍্য হয় তবে তো বলতেই হয় অগণতান্ত্রিক পন্থায় তোষামদি করে ছাত্রলীগের সভাপতি ও অন‍্যান‍্য পদে নেতা হওয়াটাও খুবই মামুলি ব‍্যাপার। আওয়ামী লীগ প্রধানও কী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বক্তবে‍্যর সঙ্গে একমত? হানিফের বক্তব‍্যতো কেবল ব‍্যক্তি হানিফের নয়, তাঁর বক্তব‍্য আওয়ামী লীগের, সরকারের এমনকি আওয়ামী লীগ ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনারও।
প্রিয় পাঠক এখন আপনারাই বলুন, কে ভারসাম‍্যহীন? আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ নাকি এই প্রবীন সাংবাদিক এ বি এম মুসা? ছবি গুগল থেকে নেয়া।

“পেপার স্প্রে”র প্রয়োগ আপনাদের ওপরও হতে পারে ।। ব্লগার আসিফের ওপর হামলাকারিদের ধরুন

paperspray
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। মানবাধিকার লংঘণের হাতিয়ার হিসেবে হাসিনার মহাজোট সরকার একের পর এক নতুন স্টাইলের প্রবর্তন করছে। আর আমাদের দলীয় স্তাবক বুদ্ধিজীবীরা বসে বসে আঙুল চুষছেন! খালেদা-নিজামির আমলে গণহারে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, এনকাউন্টার নামক ঘাতক বাহিনীর নৃশংসতা দেখেছেন দেশবাসি। ক্ষমতায় আরোহনের আগে হাসিনা বারংবার এই বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। মানুষ আশ্বস্ত হয়েছিলেন এই ভেবে যে হয়ত হাসিনা ও তার ক্ষমতায় গেলে নারকীয় এই রাষ্ট্রীয় হত‍্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে। কিন্তু ক্রসফায়ারতো বন্ধ হয়ইনি উল্টো এখন মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষকে গুম করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় হ‍্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় মানুষ রাস্তাঘাটে লাশ হয়ে পড়ে থাকছেন। আর বাকপটু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিরা মানবাধিকার লংঘণের ঘটনাগুলিকে ধামাচাপা দেবার জন‍্য একের পর এক খোঁড়া যুক্তি দেখাচ্ছেন দেশবাসির সামনে।
হাসিনা ও মহাজোট সরকারের সর্বশেষ আবিস্কার হলো “পেপার স্প্রে”। সরকারবিরোধী কিংবা জনকল‍্যাণে আহৃত আন্দোলন দমনের এই নতুন হাতিয়ার ইতোমধে‍্য এক শিক্ষকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে স্বদেশের মিডিয়ায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রি সরকারের শেষ সময়ে দেশের মানুষকে নিয়ে যে খেলা শুরু করলেন তা বন্ধ করুন। নইলে আখেরে আপনার ও আপনার দলের পুন:ক্ষমতায় যাবার স্বপ্নটা দু:স্বপ্ন হয়ে যাবে! আর হাওয়া তারেক-ও ঘাতক নিজামিরা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কী পরিণতি অপেক্ষা করছে তা কী আঁচ করতে পারছেন না মোটেও, নাকি ভাবছেন যেকোনপ্রকারেই হোক ক্ষমতায় আসবেনই!
এই মহাজোট সরকারের ভেতরে এবং বাইরে এতো মানুষ আছেন যারা দেশে-বিদেশে মানবাধিকার নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন সেইসব মুর্খ জ্ঞানপাপীরা একেবারেই ভেজাবেড়ালের ন‍্যায় চুপচাপ করে হালুয়া-রুটি খাবার বা পাবার আশায় লেজ গুটিয়ে সরিয়ে রাখছে নিজেদের, কিন্তু কেন? মনুষ‍্যত্ব, বিবেক বলে কী এসব মানুষের হৃদয়ে কিচ্ছু নেই? আর সরকারের অংশীদার অনেক বাম, প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতারা সরকারের ভেতরে থাকার পরও কারও মুখে শোনা গেলো না যে এসব মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড থেকে সরকার সরে না আসলে তারা সরকার থেকে সরে দাঁড়াবেন? সুবিধাবাদের স্রোতধারা এত প্রবল যে সেখানে আরাম-আয়েশ আর গদি-ক্ষমতার জাদুর পরশে মানুষের মৌলিক মানবতাবোধটুকু পর্যন্ত ভেসে যাচ্ছে!
কী নিলর্জ্জ বেহায়ার মতো পুলিশ কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ পেপার স্প্রের ক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন। তিনি বললেন, ‘পেপার স্প্রে লাঠিপেটার বিকল্প। সরকারের অনুমতি নিয়ে সাধারণ মানুষও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এই স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।” প্রশ্ন হলো বাস্তবে সাধারণ মানুষ কী এই অনুমতি পাবে রাজনৈতিক তদবির বা শক্তি ছাড়া? আর যদি হরতালকারি, আন্দোলনকারি বা সাধারণ মানুষও যদি এমন স্প্রে পুলিশের ওপর ব‍্যবহার শুরু করে তখন বেনজিররা কোথায় পালাবেন? সতি‍্য সতি‍্য যদি সাধারণ মানুষের হাতে এই অমানবিক স্প্রে অস্ত্রটি চলে যায় গোটা দেশটা এক অরাজক নৈরাজ‍্যকর পরিস্থিতির দিকে চলে যাবে, এতে কী সরকারের নীতিনির্ধারকদের মাঝে কোন সংশয় আছে?
শিক্ষকরা নিজেদের রুটি-রুজির জন‍্য রাস্তায় নেমেছিলেন। বামরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল, সমাবেশ ও আন্দোলন সংগ্রাম করে-এটা দেশবাসি জানেন। তারা কখনও রাস্তায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে না, বাসে আগুন দিয়েও মানুষ হত‍্যা করে না কিংবা বোমাও মারে না কারও ওপর। বরং পুলিশই বামদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সবসময় বাধা দিয়ে থাকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরাণ্বিত করা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সিপিবির নেতৃত্বে বামদলগুলির সাম্প্রতিক হরতালে দেশবাসির সমর্থন ছিল নজিরবিহীন এবং শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে দেশে। কিন্তু তাররও শিক্ষকদের ওপর ও বাম দলগুলির নেতা-কর্মীদের ওপর কেন স্প্রে করতে হলো সেটার জবাব হয়ত একমাত্র শেখ হাসিনা কিংবা তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিই জানেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি, তাঁর নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনী, র‍্যাব-চিতারা খুনি, অপহরণকারি, গুমকারি, ধর্ষকদের ওপর স্প্রে করতে পারে না কিন্তু জনগণের স্বার্থে ডাকা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর নতুন ধারার এক বর্বরতার প্রয়োগ ঘটালো! আন্দোলন যদি সহিংস রুপ নেয়, জ্বালাও-পোড়াওয়ের দিকে চলে যায় কিংবা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে সরকার বা সরকারি বাহিনী তারজন‍্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব‍্যবস্থা নিতে পারেন। সে অধিকার রকারের আছে। কিন্তু আন্দোলন দমনের নামে, সহিংসতা বন্ধের নামে কারও ওপর স্পে প্রয়োগ, নির্যাতন, লাঠিপেটা করার কোন অধিকার দেয়া হয়নি সংবিধানে। সংবিধানে সকল ধরণের নির্যাতনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও জ্ঞানপাপীর দল সংবিধান লংঘণ করেই চলেছে বিশেষ করে ক্ষমতাসীনরা পুলিশ-র‍্যাবকে নিজেদের ক‍্যাডার বাহিনীর ন‍্যায় ব‍্যবহার করছে জনগণের বিরুদ্ধে।
দেশে ধর্ষণের মহাউৎসব চলছে। ধর্ষণ ধামাতে পারছে না সরকার। খুন-হত‍্যা ও বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার সেখানে নিত‍্য-নৈমিত্তিক ব‍্যাপার। বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলিতে চলছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের রাম-রাজত্ব। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে চ‍্যাম্পিয়ন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী, ক‍্যাডার ও মস্তানদের দৌরাত্ব বেড়েই চলেছে। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের দ্বারা। ব্লগার, সাংবাদিক যারাই লিখছেন পক্ষপাতমূলকভাবে অন‍্যায়-অবিচার আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারাই হচ্ছেন সন্ত্রাসীদের টার্গেট। অতি সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় জনপ্রিয় ব্লগার আসিফ মহীউদ্দিন সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় মারাত্বক আহত হয়েছেন। হামলাকারিদের ধরতে পারেনি পুলিশ। ইডেন কলেজের অ্যাসিডদগ্ধ ছাত্রীটি এখনও হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। দেশে মুক্তমতের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জায়গা ক্রমশ:ই সংকুচিত হয়ে আসছে। সাংবাদিক, ফটো সাংবাদিকদের ওপর বহুমুখী আক্রমণের খবর মাধে-মধে‍্যই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে।
খুলনায় ক’দিন আগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়াউদ্দিনকে গুলি করে হত‍্যাপ্রচেষ্টার সঙ্গেও সরকারি যুব সংগঠনের এক নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে এক শিশু নিহত হয়েছেন। এই যোদ্ধাদের চোখে পুলিশ পেপার স্প্রে করে না! রাজধানীর একটি বাণিজি‍্যক ভবনে এক শিশুর গলিত লাশ মিললো। ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত‍্যা করা হয়েছে। অভ‍্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গুলি করে হত‍্যা করা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে দেশের মিডিয়ায়। নিহত ফারুক শুধু একজন রাজনীতিকই নন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও বটে। এছাড়া তিনি স্থানীয় একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদকও ছিলেন। রাজধানীর উত্তর মুগদাপাড়া থেকে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ধর্ষক-খুনি ও বন্দুকযোদ্ধার ওপর স্প্রে করে না পুলিশ, তারা শুধু রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারি বাম নেতা-কর্মী ও জাতির মেরুদন্ড রক্ষাকারি শিক্ষকদের ওপর স্প্রে করতে ভুলে না।
মহাজোট সরকারের হাতে এখনও সময় আছে মুক্তমত প্রকাশ ও মানবাধিকার রক্ষার পথে এগিয়ে যাবার। সকল প্রকারের হত‍্যা-নির্যাতন, গুম-খুন, বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড এবং সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথকে প্রশস্ত করে স্প্রে প্রয়োগের নামে আন্দোলনকারিদের ওপর বিষক্রিয়া নিক্ষেপ বন্ধ ও পুলিশি নিপীড়ন বন্ধ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত না করে সন্ত্রাসী, খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, বন্দুকধারি ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাই হবে মহাজোট সরকারের সফলতার চাবিকাঠি। নইলে আমও যাবে ছালাও যাবে,পাশাপাশি খালেদা-নিজামিদের হাতে ফের ক্ষমতা ফিরে গেলে পেপার স্প্রের প্রয়োগ নিজেদের চোখেই ছিটাবে একই পুলিশ। এতে হাসিনা ও তাঁর মহাজোট সরকারের নেতা-কর্মী ও পরামর্শদাতাদের সন্দেহ থাকলেও ইতিহাস যে তারও সাক্ষ‍্য দেয় তা বিগত দুই দশকের তথাকথিত নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রের শাসনামলই প্রমাণ দেয়। কাজেই সাধু সাবধান!!! ছবি বিডিনিউজ২৪

সাংবাদিক বন্ধুদের জন‍্য শুভেচ্ছা এবং স্বদেশ প্রত‍্যাশা

FRA TORTUR TIL TRYGGHET-OMSLAG
প্রিয়/শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
ইংরেজী নতুন বছরের শুভেচ্ছা।
ডিসেবম্বরের ৩১ তারিখ দিবাগত রাতে অর্থাৎ ১ জানুয়ারির প্রথম প্রহরে এই শুভেচ্ছা ও প্রত‍্যাশা অনুভূতি লিখতে চাইছিলাম। কিন্তু অনেকগুলি কারণ এই পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল। তাই হৃদয় নিংড়ানো বিলম্বিত ভালবাসার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি আপনাদের।

নতুন বছরে ব‍্যক্তিগত একটি নতুন খবর দিচ্ছি আপনাদের। আমার একটি নতুন বই নরওয়েজিয়ান ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকার বিখ‍্যাত একসলিবরিস প্রকাশনা থেকে। বইটির নাম ” নির্যাতন থেকে নিরাপত্তা” (“FRA TORTUR TIL TRYGGHET”)। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে, সাংবাদিকতা পেশার কারণে রাষ্ট্রীয় তথা র‍্যাব এবং রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের ব‍্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে আমি দেশ ছেড়ে চলে আসি জার্মানিতে ২০০৯ সালে। ২০১১ সালে একই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে ইংংরেজী ভাষায় “দু:খ” (PAIN) নামে আরেকটি বই প্রকাশিত হয়েছিল। স্বদেশে থাকতে না পারার যন্ত্রণা আমাকে নিরন্তর তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ালেও আমি দেশ, দেশের মানুষ, মানবাধিকার এবং সাংবাদিকদের জীবন ও পেশার নিরাপত্তা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন‍্য লড়ে যাচ্ছি বিদেশের মাটিতে থেকেও।

আমার বিশ্বাস, আগের চেয়ে এখন আমার কাজ আরও কার্যকর হবে বা হচ্ছে। স্বদেশের প্রকৃত রুপটি আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছি। আর এই সুযোগটির শতভাগ সদ্ব‍্যবহার করতে চাই আমার বাংলার মানুষ যাতে সমান অধিকার পান, শান্তিতে ঘুমোতে পারেন, ক্ষুধার হাত থেকে মুক্তি লাভ করেন, দুর্নীতি নামক ক‍্যান্সার থেকে সেরে উঠতে পারেন, সমাজে যাতে ন‍্যায়বিচার ও প্রকৃত গণতন্ত্রের পরশ লাগে, মানুষ যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন এবং সাংবাদিক বন্ধু ও মিডিয়া যেন সত‍্য তুলে ধরতে পারেন স্বাধীনভাবে। এও প্রত‍্যাশা করি নতুন বছরে যেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হয়, সাংবাদিক সাগর রুনিসহ সকল হত‍্যা-নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার (কোন জজ মিয়া নাটক দেখতে চাই না আমরা) করা হয়। দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আমার বাঙালি তথা বাংলা ভাষা-ভাষী বন্ধু-শুভাকাঙ্খীদের জন‍্য বাংলায় ব্লগ লিখছি (https://penakash.wordpress.com/)। যদিও আমার দু’টি ওয়েবসাইট তথা অনলাইন সংবাদপত্র পরিকলপিতভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তবুও দুবর্ৃত্ত আমার কলম ভাঙতে বা থামাতে পারেনি। এজন‍্য আমি নিজেকে ভাগ‍্যবান ভাবি।
সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই, দেশের রাজনীতির পথটাকে স্বচ্ছে করতে পারলে আমাদের বাংলার যে অমিত সম্ভাবনা আছে তাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন‍্যতম সম্পদশালী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা সম্ভব। পাশাপাশি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, বন্ধ হবে বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড-নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিসংতা, কমবে অপরাধ-অরাজকতা, সমাজে ফিরবে শান্তি ও নিরাপত্তা।
সবসময় ভিনদেশি ভাষা, সংস্কৃতি আর আবহাওয়ায় নিজেকে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করে গেলেও আমি আমার মায়ের মাটি, ভাষা, সংস্কৃতি, বাংলার মানুষ, বন্ধু-সহকর্মী, আপনি-আপনারা সবাইকে মিস করি সারাক্ষণ। আমার প্রত‍্যাশা, এই নতুন বছরটি সবার জন‍্য একটি সুন্দর, শান্তির এবং ভ্রাতৃত্বের বছর হোক।

বিনয়াবনত-
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ

বুকে হাত দিয়ে বলুন আপনারা নাকি টিআইবি সঠিক!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)’র সাম্প্রতিক একটি জনমত জরিপ রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সংসদ সদস‍্যরা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। সংসদের স্পীকারও সংসদ সদস‍্যদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে টিআইবির প্রতি খেদোক্তি প্রকাশ করেছেন। বিক্ষুব্ধ সংসদ সদস‍্যদের কেউ কেউ টিআইবির বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। টিআইবির সমালোচনায় মুখর এসব সংসদ সদস‍্য। এমনকি তথ‍্যমন্ত্রি, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুও টিআইবির প্রতিবেদনকে প্রত‍্যাখ‍্যান করে জানান, সরকার এই সিদ্ধান্ত টিআইবির সদর দপ্তরে পাঠাবে।
এখন দেখা যাক রিপোর্টটির মূল বক্তব‍্যটা কী ছিল? টিআইবির রিপোর্টে বলা হয়, “সংসদ সদস্যদের ৯৭ শতাংশই বিভিন্ন ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত। প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন বরাদ্দের অপব্যবহার, অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত হওয়ায় সমর্থন, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্লট বরাদ্দ নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আসে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে।”
মাননীয় তথ‍্যমন্ত্রি ও সংসদ সদস‍্যরা যারা এই প্রতিবেদনের ওপর নাখোশ হয়েছেন তারা কী বুকে হাত দিয়ে বলার সাহস পাবেন যে টিআইবির রিপোর্ট ‘মিথ‍্যা’? আমার মনে হয় টিআইবির রিপোর্ট শত নয় হাজার নয় কোটি ভাগ সত‍্য। ওখানে জনগণের শাসন চলে না, চলে এমপিদের ব‍্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার শাসন। ৩০০ প্লাজ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস‍্যরা ছাড়া দেশে একটি মানুষও খঁজে পাওয়া যাবে না যিনি টিআইবির রিপোর্টকে মিথ‍্যা বলবেন! যারা এই বাস্তবসম্মত রিপোর্টটিকে মিথ‍্যা বলছেন তাদের কাছে প্রশ্ন-নির্বাচনে কত টাকা ব‍্যয় করেছেন এবং সেই টাকার উৎস কী? আল্লাহ-ভগবানে বিশ্বাস থাকলে বুকে হাত দিয়ে এই প্রশ্নটির উত্তর দিন এবং নিজেদের সততা ও স্বচ্ছতা প্রমাণ করুন, প্লিজ! তারপরে টিআইবির রিপোর্টকে সমালোচনা করুন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে টিআইবির চলমান সংগ্রামে সংহতি জানাই। একই সাথে ধিক্কার জানাই তাদের যারা জ্ঞানপাপীর ন‍্যায় সত‍্যকে মেনে নিতে ভয় পায়।
সংসদ সদস‍্যরা বিশেষ করে সরকার দলীয় সংসদ সদস‍্যরা টিআইবির রিপোর্ট নিয়ে ব‍্যস্ত। সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনের রহস‍্য উন্মোচন হয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করতে মন্থরগতি। এরই সুযোগে দেশে সাম্প্রদায়িকতার ডালপালা গজাতে শুরু করেছে। শক্ত হাতে সন্ত্রাস-মৌলবাদী তৎপরতাকে দমন করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করে দেশে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ও সমাজ ব‍্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে ঘাতক জামাত-শিবির চক্র যে কঠিন আঘাত হানবে প্রগতিশীল শক্তির ওপর তার মহড়া দেশবাসি ইতোমধে‍্য দেখতে শুরু করেছেন। রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ে এক ছাত্রের পায়ের রগ কাটা হয়েছে। কাজেই টিআইবির রিপোর্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা না করে সংসদ সদস‍‍্যরা নেতিবাচক কর্মকান্ড থেকে নিজেদের নিবৃত করে দেশ ও মানুষের কল‍্যাণে কাজ করবে এমনটাই আশা করি।
রাষ্ট্রযন্ত্রটাকে একটা লাঠিয়াল ও জঙ্গি রুপ দিয়েছে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি। রাষ্ট্র ও সমাজ ব‍্যস্থা এমপিতন্ত্র আর সুবিধাবাদ-তোষামদকারি-চাটুকারদের দখলে। আর সৎ ওসব আপেক্ষিক! সৎ আর ভালো মানুষ সেখানে বড় অসহায়। চার চারটা দশক চলে গেছে স্বাধীনতার পরে। কিন্তু রাজনীতি মানে শয়তানি রাজনীতি যা শুধু ক্ষমতা, গদি, দল ও পরিবারকেই ভালোবাসে দেশ ও মানুষকে নয় তার কারণে শত সহস্র সম্ভাবনার সোনার বাংলাদেশ হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। দেশের সিংহভাগ মানুষই ভালো এবং সৎ। কিন্তু অবিচার, অন‍্যায়, দুর্নীতি আর ক্ষুধার কাছে পরাজিত হচ্ছে মানুষ ও মানবতা। আর গুটিকতক দুবর্ৃত্ত, সুদখোর ও মুনাফালোভীরা অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে। এই রাষ্ট্র, দেশ কী চেয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ৩০লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোন যাঁরা নিজেদের সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন।
ঢাকায় তাহের মেলার আয়োজন। ফেইসবুকে সেই মেলায় আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নিজের অসহায়ত্ব ঢাকার পাশাপাশি আয়োজকদের প্রতি ধন‍্যবাদ ও উৎসাহ জানানোর মধ‍্য দিয়ে লেখার সমাপ্তি টানবো। জীবন মানে কী তা উপলব্ধি করার প্রচেষ্টায় আছি! থাকি অনেক দূরে। আয়োজন স্বদেশকোলে। সাধ থাকলেও উপায় নেই দেশমাতার কোলে ঘুমিয়ে পড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার। তাই মানসিক উপস্থিতির বাইরে অন‍্য কোন গত‍্যন্তর নেই ঠিক এই মুহুতর্ে প্রাচে‍্যর অক্সফোডর্ খ‍্যাত ঢাবির টিএসসিতে শারীরীক উপস্থিতির জানান দেবার। আয়োজন সফল হোক। দুই নেত্রীর কামড়াকামড়ি মনটা যেন ভালবাসায় ভরে উঠে। ক্ষমতা, গদি, পরিবারের জন‍্য নয় দেশ, মাটি, মা ও মানুষের জন‍্য এই দুই “মহান” নেত্রীকে প্রকৃতি যেন হেদায়েত করার শক্তি অর্জন করে! জয় হোক দেশপ্রেমিক তাহেরদের। নিপাত যাক দুর্নীতি, মিথ‍্যাচার, সুবিধাবাদ, লোভ-লালসা আর লুটপাটতন্ত্র। ছবি/নিউএইজ-গুগল থেকে সংগৃহীত।

সাগর-রুনির খুনিদের ‘রক্ষা’র বিপক্ষে জেগে ওঠার সময়!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। শেষ পর্যন্ত “একটা গোজামিল” গ্রেফতার নাটকের বাহ‍্য রুপ এলো প্রায় আট মাস পর। ‘চোর-ডাকাতরা’ই সাংবাদিক সাগর-রুনিকে হত‍্যা করেছে এমন একটা ধারণা আগাগোড়াই দেবার চেষ্টা করেছে তদন্তসংম্লিষ্ট সংস্থাগুলো। তারই সফল পরিণতির দিকে হাঁটতে শুরু করেছেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি। বাহ্, শাবাশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি, শাবাশ স্বদেশভূমি! বহু বক্তৃতা, তদন্ত খেলা, প্রতিশ্রুতি আর নাটকীয়তার পর প্রকৃত খুনিদের আঁড়াল করার এক নয়া খেলার হুইসেল বাঁজিয়ে দিলেন সাহারার উত্তরসুরী। চালাকি, ভন্ডামি, নাটক, খেলা, যাকে তাকে ধরে খুনি বানিয়ে বাহবা নেয়ার চিরায়ত অভ‍্যাস পরিহার করে আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার তথা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করার পথে হাঁটা শুরু না করলে একদিন অবিচারের কুঠার নিজের পায়েই আঘাত করবে। কাজেই সাধু সাবধান!
এখন সন্দেহ জাগে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ নেতা ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাই হত্যাকান্ডের প্রকৃত খুনিরাও কী তবে রেহাই পেয়ে গেছে যেভাবে সাগর-রুনির খুনিদের আঁড়াল করার নানান পাঁয়তারা চালানো হয়েছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রির বক্তবে‍্য এটা পরিস্কার যে সাংবাদিক সাগর-রুনির হত‍্যা মামলার তদন্ত কাজে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, আমেরিকা এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি যেন খুবই গৌরবান্বিত এই জনে‍্য যে আমেরিকার মতো দেশকেও সাগর-রুনি হত‍্যা মামলার তদন্তে কাজে লাগানো হয়েছে! সবই হাস‍্যকর ব‍্যাপার ছাড়া কিছুই না। আসল খুনি ধরা পড়বে না, ব‍্যস! এটাই হলো সত‍্য।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধু সাগর-রুনি শুধু একটিবারের জন‍্য জীবীত হয়ে আসুন এবং কারা কী কারণে আপনাদের হত‍্যা করলো তাদেরকে দেশবাসির কাছে চিহ্নিত করুন! এছাড়া আপনাদের খুনি শনাক্ত ও খুনের রহস‍্য বের হওয়া আগামি সহস‍্য বছরেও সম্ভব নয়।
আর আমার প্রিয় সাংবাদিক বন্ধু, নেতা, ভাই, বোন, সাংবাদিকতার গুরু থেকে শিক্ষক আপনাদের সবার কাছে আমার বিনম্র নিবেদন অনুগ্রহ করে জেগে ওঠুন অবিচারের বিরুদ্ধে, অন্তত: সাগর-রুনির হত‍্যাকারি, প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করার লক্ষে‍্য। প্লিজ, আসুন আমরা সবাই দলমতের উদ্ধর্ে উঠে দলীয় প্রেম পরিহার করে হাসিনা কিংবা খালেদার জোটভুক্ত না হয়ে সাংবাদিকতা পেশা, সাংবাদিক ও জনগণের জানমাল রক্ষা সর্বোপরি আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার ও গণতন্ত্র (প্রকৃতার্থের কার্যকর গণতন্ত্র) ফিরিয়ে আনার লড়াই করি। সকলরকমের ভন্ডামি, মিথ‍্যাচার, অবিচার, অন‍্যায় ও গাজাখুরি জোড়াতালির তদন্ত ও গ্রেফতার খেলা বন্ধ করতে না পারলে সাংবাদিকতা পেশার স্বাধীনতা ও মানুষের মর্যাদা কোনটাই রক্ষা করা যাবে না। আমরা যে যেখানে আছি (দেশে কিংবা বিদেশে) আসুন আমাদের সোনার বাংলাকে রক্ষায় একসাথে আওয়াজ তুলি। তবেই ভন্ডামি, মিথ‍্যাচার ও সাজানো নাটক বন্ধ হবে এবং সাংবাদিক সাগর-রুনির প্রকৃত খুনিরা ধরা পড়বে। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

প্রধানমন্ত্রি কী জানেন?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাধারণ জালিয়াতি-প্রতারণা কিংবা চাঁদাবাজি। এটার সাথে সাধারণত: রাষ্ট্র বা সরকারের কোন সংশ্রব বা যোগসূত্র থাকে না। বরং রাষ্ট্র ও সরকার এসব দুবর্ৃত্তপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব‍্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে কঠোর হস্তে। মানুষের একটা আস্থা থাকে যে এসব অনৈতিক ও অ-আইনসম্মত বা বেআইনি কারবার বন্ধে সরকারের কাছে প্রতকার চাওয়ার। কিন্তু যখন রাষ্ট্র বা সরকারের ভেতর থেকেই এসব ঘটে তখন সাধারণ জনগণের কোন উপায় থাকে না কোথাও গিয়ে নালিশ করার। তারপরে যদি কোন সমাজে আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার কিংবা গণতন্ত্র এসব কিছু বাস্তবতার থেকে অনেক দূরে থাকে সেই সমাজে ভুক্তভোগী মানুষ একেবারেই অসহায়। “গণমাধ‍্যম” ও সেখানে হাত-পা ল‍্যাংড়া করে থাকে স্ব-উদ‍্যোগেই। এমন অবস্থায় চোখ বন্ধ করে, কানে তুলো দিয়ে সবকিছু মেনে নেয়া ছাড়া কোন বিকল্প থাকে না মানুষের।
আমি ভালো লিখি না। আমার লেখা পড়েন খুব অল্প সংখ‍্যক মানুষ। যা ভাবি তাই লিখি। কার পক্ষে গেলো আর কে অখুশি হলেন এমন কোন চিন্তা-ভাবনা থেকে কোন কিছু লিখি না আমি। আমি কখনই কোনদিনও ভালো কিছু লিখিনি বা লিখতে পারি না। আমার না আছে কোন সাহিত‍্য জ্ঞান, না আছে ভালো জানা-শোনা কিংবা পড়ালেখা। আমার ধর্ম মানবতা। রাজনৈতিক আদর্শ আমার সত‍্যবাদিতা, স্বচ্ছতা। কোন ব‍্যক্তি বা দলের প্রতি নেই কোন মোহ। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার, স্বপ্নের সোনার বাংলা আমার প্রত‍্যাশা। ঘৃণা করি রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী আর ধর্মান্ধ-উগ্রবাদকে। ধর্ম, মত, লিঙ্গ, জাতি, বর্ণ, গোষ্ঠী এসব কিছুর উদ্ধর্ে রাখি মানুষ আর মানবতাকে। সকল প্রকার অনাচার, বৈষম‍্য, অবিচার, হত‍্যা-নির্যাতন ও অমানবিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধেই আমার লড়াই। “জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো” এই নীতি আর “সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা” এই দর্শন যার শিক্ষাটা পেয়েছি পরিবার, সমাজ আর শিক্ষালয় থেকে। দারিদ্র‍্যতা কোন সমস‍্যা নয়। অনৈতিকতা আর অবিচারের জালটা বাড়ছে ক্রমশ”। সমাজে সংকট বাড়াচ্ছে দুর্নীতি আর দুবর্ৃত্তায়ন। এই বৃত্তকে ভাঙতে চাইলে রাজনীতির ভেতরে দুবর্ৃত্তপনার যে জাল বুনেছি আমরা, তাকে ছিন্ন করা চাই-ই চাই! নইলে যত কাজই করি, যে যাই বলি না কেন কোনই লাভ নেই।
পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির তথাকথিত অভিযোগ নিয়ে দেশ-বিদেশে ব‍্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশ্বব‍্যাংক এই গুরুতর অভিযোগ আনে। বিশ্বব‍্যাংক ঋণচুক্তি নবায়ন করবে না বলে বাংলাদেশকে জানিয়ে দিলো। ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও গ্রামীণ ব‍্যাংক এর মুহাম্মদ ইউনুস এর মধে‍্য স্নায়ুযুদ্ধ এর আগে থেকেই চলে আসছে। অনেকে মনে করেন, শেখ হাসিনা গ্রামীণ ব‍্যাংকের ইউনুসকে ভবিষ‍্যতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি মনে করছেন। তাছাড়া ইউনুসের সঙ্গে আমেরিকার ভালো সম্পর্ক। এর থেকেই প্রতিহিংসার বশে হাসিনার সরকার ইউনুসকে গ্রামীণ ব‍্যাংকের নির্বাহী প্রধানের পদ থেকে সরানোর উদ‍্যোগ নেয়। তবে সরকার এধরণের অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, ইউনুস ব‍্যাংকের গঠনতন্ত্র লংঘণ করে ওই পদে ছিলেন। এই নিয়ে ইউনুস-হাসিনার দ্বন্দ্ব অনেকটা চাউর হয়ে যায় দেশে এবং বিদেশে! তবে হাসিনার সঙ্গে যে ঝামেলা বা মনোমালিণ‍্যই থাক না কেন ইউনুস সাহেব যে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও শিক্ষার অধিকারহারা নারীদের কাছে অস্বাভাবিক উচ্চহারের ঋণ ব‍্যবসা করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন তা কেউই অস্বীকার করবে না বলে বিশ্বাস করি! কোন কোন ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব‍্যাংকের সুদের হার ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত (সূত্র দৈনিক সংবাদ)। ঋণগ্রহিতা নারীদের কেউ ঋণের কোন কিস্তি পরিশোধে ব‍্যর্থ হলে তার বাড়ির ঘরের টিন খুলে নেয়া, গরু নিয়ে যাওয়ার মতো অমানবিক ঘটনাগুলিও দেশবাসি পরখ করেছেন বিভিন্ন সময়ে মিডিয়ার বদৌলতে। আবার অনেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে ব‍্যর্থ হয়ে আত্মহত‍্যার পথও বেছে নিয়েছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে দারিদ্র‍্য বিমোচনের মাধ‍্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার তথাকথিক যুক্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় ২০০৬ সালে। আসলে বাঙালি সমাজে কতটুকু দারিদ্র নিরসন সম্ভব হয়েছে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পগুলির মাধ‍্যমে সেটাই একটা বড় প্রশ্ন?
ড. ইউনুস কিংবা গ্রামীণ ব‍্যাংক লেখার বিষয়বস্তু নয়। তাই মূলবিষয়ের দিকে নজর দেয়া যাক। গত জুনের শেষে মানবাধিকারবিষয়ক অনলাইন সংবাদপত্র ইউরো বাংলা নিজেদের দখলে নেয় হ‍্যাকাররা। এর একদিন পরে সপরিবারে চলে গিয়েছিলাম গ্রীস্মকালীন অবকাশ যাপনে। অবকাশের শেষ দিনগুলিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রি তাঁর ব‍্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল গণমাধ‍্যমে প্রকাশ করেন। উদ্দেশ‍্য দেশের মানুষ যাতে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। নি:সন্দেহে একটা ভালো ও যুগোপযোগি সিদ্ধান্ত। অনেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন। আমিও চেষ্টা করি ফোনে কথা বলার। কিন্তু কয়েকদিন যাবৎ চেষ্টা করেও আমি কানেক্ট করতে পারিনি। সবসময় ব‍্যস্ত, নতুবা রিং হয় কেউ রিসিফ করেন না…! পরে একটি ই-মেইল পাঠাই প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার ই-মেইলে। এর কয়েকদিন পর যে জবাব এলো তা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতেই আজকের লেখার অবতারণা।
গত ১৩ জুলাই বিডিনিউজ২৪ এ প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার টেলিফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশিত হয়। একইদিন আমি একটা মেইল পাঠাই উনার ই-মেইলে (sheikhhasina@hotmail.com)। এখন আমি আপনাদের সঙ্গে হুবহু শেয়ার করছি সেই মেইলটা যেটা আমি উনাকে পাঠিয়েছিলাম। Honorable Prime

Minister, Sheikh Hasina, Bangladesh,
I am Jahangir Alam Akash from Europe. I worked as a journalist for the daily Sangbad from Rajshahi. Just now I am living in exile in Europe only for the Mayor Liton, Rajshahi and RAB. But I am happy that I can write freely without any fear and I am living with security. I support your decision which you took to the Padma bridge. I have a proposal to build the Padma bridge, if you or your government could execute my proposal then it would be so easy to collect the money that need to build the bridge.
My proposal is that “Every Bengali” those living in abroad should donate at least 100 US Dollar to build the Padma bridge. You should urges to them on it. I think that it would be nice to develop or run Bangladesh by own herself.
I tried to call you, but I couldnt reached you. So I am writing you. I wish you and your government´s success!
Sincerely Yours,
Jahangir Alam Akash
Editor
Euro Bangla
Norway
Mobile: 004796989335
E-mail: jahangiralamakash@gmail.com
https://penakash.wordpress.com/
http://www.amazon.ca/Pain-Jahangir-Alam-Akash/dp/1456858025

অনেকে মনে করেন বিশ্বব‍্যাংক সাম্রাজ‍্যবাদি আমেরিকার কথায় উঠে আর বসে। মুহাম্মদ ইউনুস পেছনে থেকে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রি হিলারিকে দিয়ে বাংলাদেশের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করিয়েছেন বলেও অনেকের মনে একটা ধারণা জন্মেছে! আর বিশ্বব‍্যাংকতো হিলারিদেরই হাতের পুতুল। আমেরিকা যা চাইবে সেটাই ওরা করবে। সেই নিরিখে আমার মনে হয়েছে প্রধানমন্ত্রি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ করার তার সাথে আমি একমত। আমি এও মনে করি এরকম একটা দু’টা সেতু কা কোন ব‍্যাপারেই না, যদি দেশে বিদেশের সব বাঙালি একজোট হতে পারি এবং যার যা সামথর্‍্য আছে তা নিয়েই ঝাপিয়ে পড়তে পারি।
২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রির ই-মেইল থেকে একটি জবাব এলো। নিচে তা হুবহু আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি।
Asssala mu alakum,
Dear,
Thanks for your email.
I feel so much proud on you. You have taken a remarkable decision for the people of Bangladesh.
Today I am writing to you for a important task of Padma Bridge.

You know that Padma Bridge is my first choice, I can do anything for Padma Bridge, This project is a dream of mine and all Bangladeshi.
But some people working opposite of mine and they are creating lots of problem to get loan, donation and help from Banks and general people of Bangladesh.

Now the main reason of writhing this email is that:
I have a special and personal project to construct Padma Bridge successfully. I and two of my private investigation officer ( Mahabubr Rahma & Shahinur Rahman) working with me for this project. For the betterment of this project I didn’t share with others ( My members, Media ) about this project. I am just collecting fund personally people like you. I have already collected 70% fund for this project from the people like you. I have to finish this project within next 15 days. I have a important meeting in London for this project today.

I want that you will participate in this project by donating your donation as you have told in your email. This will be very much helpful for this project If you can send your donation within this week.
I am requesting you to send your first donation to the accounts given below

1. Dutch Bangla Bank Ltd.
Account Name: MD. SHAHINUR RAHMAN
Account Number: 108101185347
Shanti nagar Branch

2. Prime Bank.Limited.
A/c name: MD.MAHABUBUR RAHMAN
A/C NO: 18621010000510
JATRABARI BRANCH
If you need any help for funding just send email given below. If you help me to complete this great project Insallah I will help you personally.
After sending your donation just send me your contact details and National Id card number to pmsheikhhasina@ymail.com
Because I will include your details to padmabridge.org ( If you want) This website will be published after finishing this project.
So, I am just waiting for your urgent response.
May Allah Bless you.
P.M. Sk. Hasina
People’s Republication of Bangladesh

এই মেইলটি পাবার পর আমি ফেইসবুকে একটা স্টাটাস লিখেছিলাম যাতে কোন সাংবাদিক বিশেষত যারা সাহসী নৈতিক শক্তি যাদের পেশার ভিত্তি তারা যোগাযোগ করবেন খবরের তথ‍্য-প্রমাণ নেবার জন‍্য। কিন্তু আমার সে আশা ব‍্যর্থ। কেউ যোগাযোগ করেনি। ফেইসবুকে যা লিখেছিলাম সেটা এখন আপনাদের সামনে হুবহু তুলে ধরছি, “প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার ই-মেইল থেকে পদ্মা সেতু র্নিমাণের জন্য প্রবাসী বাঙালিদের কাছ থেকে টাকা পাঠাতে বলা হয়েছে দু’টি ব্যক্তিগত হিসাবে। এই চাঞ্চল্যকর খবরটি ফেইসবুকে স্টাটাস করে দিয়েছিলাম, আহবান করেছিলাম বাংলাদেশের সাহসী সাংবাদিক যাঁরা এই গুরুতর অনৈতিক কর্মটির তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে আগ্রহী চাইলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ধারণা ছিল অনেকেই হয়ত চাইবেন প্রমাণটি। কিন্তু আমার আশা নিরাশার চোরাবালিতে হারিয়ে গেলো! ডান-বাম, সরকারি-বেসরকারি, ভালো-মন্দ, চাঁদাবাজ (যারা করেন, সবাইন করেন না!) কেউই বা কারও আগ্রহ নেই। কারণ বিষয়টি দেশের সরকারপ্রধানের দপ্তর থেকে হচ্ছে। ভয় আছে না! চাকরি, জান সবকিছুই চলে যেতে পারে? তাই কেউই এক টুকরো রিপোর্ট করার মতোও ইচ্ছে প্রকাশ করলো না। তাছাড়া যাদের হাতে মিডিয়া তাদের যে নিজ নিজ ব্যবসাপাতি আছে তার পাশে আছে হয় হাসিনা নয়তো খালেদার প্রতি অনুরাগ! তাই যে যা পারছেন সুবিধাবাদি, তেলবাজি, ফটকাবাজি, চাঁদাবাজি আরও যত অনাচার-অনিয়ম-দুর্নীতি আছে সবই চালিয়ে যাচ্ছে বীর বিক্রমে! তাই ভাবছি শনিবার ও রোববারের সাপ্তাহিক ছুটিতে নিজেই লিখতে বসবো। কোন মিডিয়া ছাপুক আর না ছাপুক, তাতে কার কী, অন্তত: আমার কিচ্ছু আসে যায় না? আমি আমার ব্লগে ছাপবো, বাংলা, ইংরেজী দুই ভাষাই ব্যবহার করবো। আমার কোন স্বার্থ নেই, নেই হাসিনা বা খালেদা কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর কোন ফন্দি-ফিকির। দেশমাতা, জননীকে রক্ষায় প্রতিটি নাগরিকেরই কিছু না কিছু দায়-দায়িত্ব থাকে, সেই দায়ের যন্ত্রণা থেকেই আমি এটা করবো। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কাছে মিডিয়ার কাছে হয়ত এটা কোন খবরই নয়! তবে এমন কোন ঘটনা যদি ইউরোপের কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দপ্তর থেকে ঘটতো তাহলে বড় বড় হেডিং হতো মিডিয়ায়-এতে কোন সন্দেহ নেই। আর এমনটি হবার কোন সম্ভাবনাও নেই। কারণ এসব দেশে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার সবই আছে এবং বাস্তবেও তার চর্চা হয়। আর স্বদেশে এসবের অনুপস্থিতিরই প্রকাশ এমন সব চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকান্ডের।”
আমার মনে হয়েছে প্রধানমন্ত্রির দফতরের কোন একটি চক্র এমন জালিয়াতি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। যারা প্রধানমন্ত্রির নাম ভাঙিয়ে প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা তোলার একটা পাঁয়তারা করছে। আমি জানি না এমন চিঠি কী আমিই পেয়েছি নাকি অন‍্য আরও অনেকে পেয়েছেন? আমার এই সন্দেহের কথাটি বাংলদেশের প্রায় সব সংবাদপত্রে জানিয়েছি। কিন্তু কেউই বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়নি। তাদের কাছে হয়ত এটা কোন খবরই না! আবার খবর হলেও হয়ত নানাজনের বহুরুপী স্বার্থের কাছে হারিয়েছে এর খবরত্ব! কেউ ভয়ে ছাপবে না, কেউ স্বার্থের কারণে ছাপবে না, কেউ ছাপবে না রাজনৈতিক দলবাজির কারণে। এমন আরও কত কারণ জড়িয়ে আছে এই খবর বা অখবরের পেছনে।
এখন প্রশ্ন হলো কে বা কারা প্রধানমন্ত্রির এই ই-মেইলটি ব‍্যবহার করছেন বা করে থাকেন? এটা নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা জানেন। প্রধানমন্ত্রির ই-মেইল থেকে একজন ্রবাসীর কাছ থেকে টাকা পাঠাতে বলা হচ্ছে ব‍্যক্তিগত দু’টি ব‍্যাংক হিসাবে। কতবড় ধাপ্পাবাজি, প্রতারণা! মো. শাহিনুর রহমান ও মো. মাহবুবুর রহমান, এরা কারা? এই দুই ব‍্যক্তির ব‍্যাংক হিসাবে কেন টাকা পাঠাতে বলা হবে প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার ই-মেইল থেকে? প্রধানমন্ত্রির ই-মেইল যেটি এখন পাবলিকলি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই ই-মেইল থেকে কাউকে মেইল করার অর্থ হলো শেখ হাসিনা তথা প্রধানমন্ত্রির সায় আছে এবং কাকে-কেন মেইল করা হচ্ছে তা প্রধানমন্ত্রি জানবেন। এটাই স্বাভাবিক? আর দি নাও জেনে থাকেন, তবে কারা এই ই-মেইলটি ব‍্যবহার করেন বা করছেন প্রধানমন্ত্রির নামে সেটি নিশ্চয়ই উনি জানবেন। আশা করবো লেখাটি ছাপা হবার পর এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব‍্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির ব‍্যবস্থা করবেন প্রধানমন্ত্রি। নতুবা এটা ধরে নেয়া যায় যে প্রধানমন্ত্রি স্বয়ং প্রতারণা ও প্রতারকদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রির দফতর থেকে এই মেইলের বিষয়ে একটা স্বচ্ছ ব‍্যাখ‍্যা পাবো বলে প্রত‍্যাশা করি। সেই আশায় রইলাম। জবাবদিহিতায় নূ‍্যনতম বিশ্বাস বা চর্চা থাকলে নিশ্চয়ই উত্তর দেবেন প্রধানমন্ত্রির দফতর। ছবি-দ‍্য হিন্দু (গুগল থেকে নেয়া)।

পুরস্কারের গ্লোবাল রাজনীতি আর স্বদেশে সাংবাদিক নির্যাতন!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশে এবার বুঝি পরিবেশ-সুশাসন নিশ্চিত হলো! তাইতো এক আইনজীবীকে মেগসেসে পুরস্কার দেয়া হলো। দেশে এখন পরিবেশ রক্ষা একশ’ভাগ নিশ্চিত হয়ে গেলো! যেন আর কোন পরিবেশ দূষণ হবে না, বিনষ্ট হবে না পরিবেশ, কেউ পরিবেশ ধ্বংসও করবে না! একেবারে সবজাতে উঠে গেলো আর কী? স্বাভাবিক কোন সুশাসন যেখানে সুদূর পরাহত ব‍্যাপার, সোনার হরিণ সেখানে পরিবেশ-সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে, ভাবখানা এমনই! পুরস্কার পাওয়া মানে স্বীকৃতি নাকি পুরস্কার পাওয়া বা দেয়ার ক্ষেত্রেও ইদানিংকালে গ্লোবাল রাজনীতির নানান ফ‍্যাক্টর যুক্ত হয়ে গেছে?
বিদেশি যত সংগঠন, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কোন পুরস্কার দেয় তার জন‍্য তারা মাঠপর্যায়ে কোন অনুসন্ধান করে কী? আর এসব পুরস্কারের জন‍্য রীতিমতো আবেদন-নিবদেন ও কাগুজে তথ‍্য-প্রমাণ হাজির করতে হয় বা দাখিল করতে হয় নাকি? আর কি বাঙ্গিটাই ফাটিয়েছে বাস্তবে বা কী পরিবর্তনই করেছে ওরা যারা পুরস্কার পাচ্ছে? এসবকিছুরই চুলচেরা বিশ্লেষণ হলে দেখা যাবে সবই ফাঁপা! প্রকল্প আর ফান্ড নির্ভর কর্ম কোন মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে কি? আর প্রকল্প ও ফান্ড মানেই যে দুর্নীতি তা কী কেউ অস্বীকার করতে পারি? দেশে পরিবেশের কী অবস্থা তাতো বাংলার প্রতিটি মানুষই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন, সেখানে আবার বিচার! হাসি পাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আমাদের দেশে শিক্ষা, চিকিৎসার উন্নয়ন ও দারিদ্রমুক্তির লক্ষে‍্য বহু সাধারণ মানুষ যাঁদের হাতে কোন প্রকল্প বা ফান্ড কোনদিনও পড়ে না বা যায় না তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন আপন মনে কোন পুরস্কার পাবার নু‍্যনতম প্রত‍্যাশা ছাড়াই। ওসব মানুষের গল্প মাঝে মাঝে দেশের বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা তুলে ধরছেন। সেইসব মহান মানুষদেরকে কোন দেশ, সংস্থা বা সংগঠন পুরস্কার দেয় না। পুরস্কারের জন‍্য তাঁদের পক্ষে মনোনয়ন বা আবেদন করার মতো কেউ নেই বলে! আর যেখানে প্রকল্প, ফান্ড, সুবিধা আর মিডিয়ার অতিশয় মাতামাতি (মানুষ ও কল‍্যাণের জন‍্য নয় বরং স্ব-স্ব ব‍্যবসাপাতি, আদর্শ, পছন্দ আর রাজনীতির হয়ে) তারাই দরখাস্ত আর মনোনয়ন দিয়ে, করে বা জানিয়ে পুরস্কার পাচ্ছে! যারা পুরস্কার দিচ্ছে তাদের স্বার্থতো আছেই! পুরস্কারতো পায় তারাই যাদের প্রচার আছে যারা নয়-ছয় করে প্রকল্প আর ফান্ডের কাগজপত্রে তারাইতো কামিয়াব হবে, তারা নয়তো কী ছলিমুদ্দি কলিমুদ্দি বা সকিনারা পুরস্কার পাবে?
আমি জানি কেউ কেউ বলতে পারে যে এধরণের লেখা ভূমিদু‍্যদের পক্ষাবলম্বন! আমার সাফ কথা, এমন সরলীকরণ করাটা কতটা সমীচীন তা বুঝতে পারি না আমি। তবে একটা প্রশ্ন রাখাই যেতে পারে, দেশে কী ভূমিদসু‍্যতা, পরিবেশ ধ্বংস বন্ধ হয়েছে নাকি অদূর ভবিষ‍্যতে হবে? নাকি সেখানে পরিবেশ-সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে প্রকৃত অর্থে? আর মতপ্রকাশ কারও পক্ষে বা কারও বিপক্ষে যেতেই পারে এবং যাবে, এমনটাই স্বাভাবিক। এর মানে কী কোন ভূমিদসু‍্যর পক্ষাবলম্বন করা বোঝায়? আমাকে মাফ করবেন, আমি অজ্ঞানী মানুষ, আমি আমজনতার কাতারেরর একজন ক্ষুদ্র মানুষ! আমার চিন্তার স্তর অতটা পাকাপোক্ত নয়, ছোট জ্ঞান, বুঝি কম। যা ভাবি, মাথায় আসে তাই লিখি। কে খুশি হলো, কে দু:খ পেলো তার পরোয়া করিনা।
এই লেখাটি যখন লিখছি তখন হঠাৎ টিভিপর্দায় আবার সাংবাদিক নির্খযাতনের খবর ভেসে এলো। ঢাকা মেডক‍্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক নামধারি দুবর্ৃত্ত-সন্ত্রাসীরা ফের হামলে পড়েছে সাংবাদিকদের ওপর। দেশে যেন সেনা শাসন চলছে! স্বদেশে কী কোন সরকার, রাজনীতি আছে নাকি সেখানে সেনাশাসন চলছে? নইলে একের পর এক সাংবাদিকরা মার খাচ্ছেন, বন্ধ হবার কোন পদক্ষেপই নেই কারও তরফে! সবকিছুই যেন নিন্দা প্রকাশ, উদ্বেগ জানানো, তদন্ত কমিটি গঠন, ব‍্যবস্থা নেয়া হবে আর সুমধুর চটকদার ও কৌশলী কথামালার ভেতরেই হারিয়ে যাচ্ছে ন‍্যায়বিচার, আইনের শাসন। এতো অসহিষ্ণুতা, এতো নির্যাতন, এতো হত‍্যা-খুন-গুম আর এতো মিথ‍্যাচার, চারিদিকে কেবল অন্ধকার, হাহাকার আর গভীর শূণ‍্যতা! কোথাও থেকে কোন আশা বা আলোর দেখা মিলছে না। ঢাকা মেডিক‍্যাল কেলজ হাসপাতালে চিকিৎসক নামধারী দুবর্ৃত্তরা একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করে যাচ্ছে বীরদর্পে আর আমাদের রাষ্ট্রনায়করা তা উপভোগ করছে! আবার হাসপাতালের ইন্টার্ণিরা সাংবাদিকদের ওপর বেপরোয়া নির্যাতন, হামলা চালাচ্ছে, সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন‍্য কী হাসপাতাল পরিচালক দায়ি নন? তার কী কোন নৈতিক দায় নেই এসব দুবর্ৃত্ত হামলার ঘটনায়? অথচ সাংবাদিকরা সেই মাথাটাকে বাদ রেখেই মামলা করলেন!
কেউ কেউ আবার নির্যাতকদের “জুতামারা” উচিত বলে মন্তব‍্য করছে। আমি বলবো, উনাদের মেরে লাভ কীরে ভাই? যত অনাচার-অনিয়ম, নির্যাতন, হত‍্যা-খুন বা গুম সবকিছুইতো আসছে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি-শাসন আর দুনর্ীতি থেকে যেখানে নেই কোন আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার, সহনশীলতা আর গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় প্রকৃতার্থে তার কোন চর্চা। সমাজের এই হ-য-ব-র-ল চেহারাটা বদলানোর জন‍্য চাই একটা আমূল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের জন‍্য অনেকে কাজ করছেন। আশা ছাড়িনি আমরা, পরিবর্তন একদিন আসতেই হবে, হয়ত আমার বা আপনার প্রজন্ম দেখবে না, পরের প্রজন্ম নিশ্চয়ই তা দেখতে পাবে এবং দেশটাকে এগিয়ে নেবে স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে যেই স্বপ্নটা নিয়ে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিলো আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হারালাম আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে! ছবি আমাদের সময় থেকে নেয়া।